সত্যিই ভালোবাসিতো ?

Now Reading
সত্যিই ভালোবাসিতো ?

শক্ত করে হাতটা ধরতে না পারলে, হাতটা না ধরাই ভালো।  প্রেম এবং তথাকথিত ভালোবাসার প্রতি আমার বরাবরই কিছুটা অনাগ্রহ ছিল এবং এখনো আছে। ওনারা বলেন একটা সম্পর্ক গড়তে সময় দিতে হয়, ভালোবাসতে হয়। আমার কাছে সবকিছুই আবেগের অপচয় মনে হয়। ৭-৮ টা বছর একজনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখলাম আর তারপর বিয়ে হলো আরেকজনের সাথে। আর বিয়ের ঠিক পরেই তার সাথে আবেগ আর অনুভূতির বাণিজ্যে বড় একটা ভাটা পড়লো। ব্যতিক্রমও আছে কিন্তু সেটা শুধুই ব্যতিক্রম। হ্যাঁ , ব্যতিক্রম। সবারই একটা গল্প থাকে। কেউ প্রকাশ করে আর কেউ করে না। কেউ পুরোনো গল্পের চরিত্রের নানা রঙে আটকে থাকে, কেউ সামনে এগিয়ে যায়। প্রায় ৬-৭ মাস লাগে একজনকে বুঝতে , তার পছন্দ- অপছন্দ জানতে। তার পরে কারো কারো বোধোদয় হয় এটা আসলে একটা “মেয়ার ক্রাশ” ছিল তার! ভালবাসাটাকে আমরা বেশ সস্তা করে ফেলেছি এই ফোন আর ইন্টারনেট এর যুগে। রাতকে ভোর করে দিয়ে ফোনে যার সাথে কথা বলতে ভালো লাগতো তাকেই আর কিছুদিন পর ভালো লাগছে না ! সহজ করেই বলে দিচ্ছি, “আমার আর তোমার প্রতি ইন্টারেস্ট নেই। মুভ অন” আসলে ভালো না লাগারই কথা কারণ তাদের মধ্যেতো নতুন করে  খুঁজে পাওয়ার  কিছু থাকে না একটা সময় পরে। তারা খুব সহজেই বোরড হয়ে যায়। অনুভূতি আর আবেগের ব্যবচ্ছেদ হয়ে যায় মেসেঞ্জার, হোয়াটস্যাপ আর মিনিট কেনার মধ্যে ! ওয়েট…বলছিনা যারা ফেস টু  ফেস ডেটিং এ যাচ্ছে তাদের মধ্যে সমস্যা নেই। এতো জায়গায় যায় তারা যে একটা সময় এ চেক ইন দেয়ার আর কোনো প্লেস থাকে না।

আবার কেউ নিজের ব্যক্তিস্বাধীনতা কে বিকিয়ে দেয়া শুরু করে ফেইসবুক এর পাসওয়ার্ড দেয়া থেকে শুরু করে, নিজের সর্বস্ব বিলীন(!) করে দিয়ে। ভালোবাসলে কি সত্যিই নিজের পছন্দের আর ভালো লাগার জায়গায় ভাটা পরে? কখনোই না। তাহলে সেই সম্পর্কে মনের মিল নেই।আর এমন সম্পর্কে  ভাটা পরে চোখের পলকে। তারপর এক সময় বহুদিনের যোগাযোগ এর ফসল “মায়া” কাওকেই এমন দূষিত সম্পর্ক থেকে মুক্ত হতে দেয় না! এই মায়া বারবার সব ঠিক হয়ে যাবার এক মিথ্যা আশ্বাস দেয়। এই মায়ার জাল বন্ধু প্রেমিক জুটিকেও ছাড় দেয় না। ধীরে ধীরে একসময় এই মায়ার জাল বন্ধুত্ব থেকে সৃষ্টি হওয়া প্রেমের সম্পর্কটাকেও  বিষিয়ে তোলে যার শেষ হয় ঘৃণা আর বিদ্বেষ দিয়ে। আর এভাবে অপমৃত্যু ঘটে দুইজনের মানুষের ব্যক্তিত্বের মিষ্ট সৌজন্যতাবোধেরও! হুটহাট ব্লকিং আর সিম পরিবর্তন এর হিড়িক লেগে যায়। আফসোস! স্মৃতি থেকেও কি আপনি এভাবেই সব মুছে ফেলতে পারবেন? যদি সেটা করতে না পারেন তবে কেন এই বিদ্বেষ আর ঘৃণা পোষণ? আমরা কি পারি না একটু ধীরস্থির হয়ে, আরেকটু ম্যাচিউর আচরণ করতে? জানি, কষ্ট লাগে অন্য কারো সাথে তাকে হাসতে দেখলে অথবা নিউজ ফিড এ অন্য কারো সাথে চেকইন দেখলে। …কিন্তু ওই যে সময়, সময়ের সাথে সাথে মায়াও ও সৌজন্যতাবোধে রূপ নেয়। তবে কেন এতো ফরম্যাটিং এর আয়োজন? আপনার শত চেষ্টার পরও সে “মুভ অন” করতে চাইলে তাকে মুক্ত করে দিন এবং সেটা হাসিমুখেই করুন।

আর যারা লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করে তারাতো “মহাচোর !” আমি তোমাকে চিৎকার করে “ভালোবাসি” বলতে চাই কিন্তু কে জানি দেখে ফেলে ?! হাহ ! শুধুই একটা দীর্ঘশ্বাস! হ্যাঁ, চিৎকার করে জানান দিতে না পারলে তাকে হাতটা ধরতে দিয়েন না ! লুকুচুরি খেলতে নামিনি আমরা কেউ। আমার মতো রোবটিক মেয়ে অনেক বেশি চিন্তা  করে কারণ সে “মহাচোর” হওয়ার চেয়ে “মহারিসার্ভ” হয়ে থাকাকে প্রাধান্য দেয়। “ভালোবাসি” বলার আগে হাজারোবার চিন্তা করে। কেন করে ? সে আবেগের অপচয়ে বিশ্বাসী না তাই !

“চলো, আমরা বড় একটা পথে হাঁটতে শুরু করি।”

-“আমরা হাঁটতে শুরু করেছিলাম হঠাৎ ওর বাসায় একটা বিয়ের প্রস্তাব আসলো। …বাকিটা শুধুই ইতিহাস। ”

“আমি প্রতিদিনই কেঁদে কেঁদে বালিশ ভিজিয়ে ফেলি।…আমার হাজব্যান্ড এর সাথে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না । ” কিভাবে ভালো যাবে সম্পর্ক? স্বপ্নতো দেখেছিলো অন্যকাউকে নিয়ে!

“কিরে তুই সিগারেট ধরলি কবে ?”

-“ওকে ভুলতে পারিনা, দোস্ত। জীবনটাকে শেষ করে দিতে ইচ্ছা হয় !”

সংলাপগুলো জীবন থেকেই নেয়া। তাই শুনতে এতো সুপরিচিত লাগছে।

হয়তো ভাবছেন, “মেয়েটা বলছে কি আবোল তাবোল ? এই মেয়ে, চিন্তা করে কেউ কি
‘আই লাভ ইউ ‘ বলে ? নিশ্চয়ই তুমি অনেক বড় ধাক্কা পেয়েছো!” ঠিকই ধরেছেন অনেক বড় ধাক্কা পেয়েছি জীবন থেকে শিখতে গিয়ে। ভালোবাসাটা ‘বিষ’ না। আমরা যে কেউ যেকোনো সময় কাওকে ভালোবাসতে পারি কিন্তু একবার ভেবে দেখা উচিত যাতে আবেগের অবক্ষয় না হয়, যাতে মোহগ্রস্ত হয়ে নিজেকে গভীর সমুদ্রে হারিয়ে না ফেলি।

“তুমি প্রিন্স / প্রিন্সেস না যে আমাকে এসে জয় করে নিতে হবে। যার পাঁজরের হাড্ডি থেকে তোমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে , সে এসে তোমাকে নিয়ে যাবে। তোমাকে শুধু করতে হবে অপেক্ষা আর সবর। কি লাভ হবে একটা ভাঙা বিশ্বাসকে জোড়া লাগানোর জন্য “সিইং” করা? তার চেয়ে ঢের ভালো তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো একদিন তুমি যার হবে। নিজের ভালোবাসাটাকে সস্তা করো না। নিজের আত্মবিশ্বাসকে অন্যের হাতে তুলে দিয়ো না। নিজের পায়ের নিচের মাটিকে শক্ত করো। আত্মবিশ্বাসী হও! সঠিক সময় এবং সঠিক মানুষের  জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করো! ভালো কিছুই হবে!”- এই কথাগুলো আমাকে আমি নিজেই বলেছি। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে, কেঁদে চোখ ভিজিয়ে যখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়েছি; তখন নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করেছি, “কি চাই এবং কেন চাই?” তখন মনের গভীর থেকে কে যেনো এই কথাগুলো বলে উঠলো!  বিবেকের শব্দের কম্পনে কেঁপে উঠলো ভঙ্গুর আত্মবিশ্বাস…..আমিও নিজেকে প্রতিদিন প্রস্তুত করি পায়ের নিচের মাটি শক্ত করার জন্য যেন প্রয়োজনে সেই প্রতীক্ষিত মানুষটার হাত শক্ত করে ধরে উঁড়তেও পারি!

আমার ভালোবাসার রাজকন্যা : পর্ব- ০১

Now Reading
আমার ভালোবাসার রাজকন্যা : পর্ব- ০১

অনেকদিন কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না। ক্লাস, পরীক্ষা দিতে দিতে রীতিমত হাঁপিয়ে উঠেছি। কোন জায়গা থেকে যদি ঘুরে আসতে পারতাম। একদিনের জন্য হলেও এই ব্যস্ত ঢাকা শহর ছেড়ে একটু শান্তির পরশ পাওয়ার জন্য ছুটি পেতে মন খুব ছটফট করছিল। সেমিস্টারের শেষ ফাইনাল পরীক্ষা আজ। শেষ হলেই বাঁচি। কয়েকদিন ধরে পড়ার যেই চাপ চলছে, পড়তে পড়তে আবার পাগল না হয়ে যাই। পরীক্ষার পড়া শেষ করতে করতেই দেখি সকাল ১০ টা বেজে গেছে।

১০.৩০ থেকে তো পরীক্ষা শুরু……………

ওহ, আজকেও দেরী হয়ে গেল। নাহ আমাকে দিয়ে আর হবে না। নিজেকে গালমন্দ করতে করতে কোনরকম গোসল করে, নাকমুখ বুজে কিছু খেয়ে ছুটলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে। কপালটা ভাল যে বিশ্ববিদ্যালয়টা কাছেই আছে বাসার, নাহলে আজকে আর পরীক্ষা দেয়া লাগত না। ক্যাম্পাসে গিয়েই দেখি বন্ধুরা সব বই নিয়ে যেই ভাবে পড়ছে, সারা বছর যদি এমন ভাবে পড়ত, তাহলে কে যে প্রথম হত সেটা শিক্ষকদের বাছাই করতে ঘাম বের হয়ে যেত।

যাই হোক, শিক্ষকদের আর না এখন  জ্বালাই।

আমাকে দেখেই আকাশ বলে উঠল, “কিরে বিজয়, আজকেও দেরী করে এসেছিস। একটু আগে রওয়ানা দিলেই তো পারিস। কোনদিন এভাবে দৌড়াতে দৌড়াতে দম না শেষ হয়ে যায় তোর?”  আমিও তবে রে, বলে ধাওয়া দিলাম ওকে।

আকাশ আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। সেই ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছি। এখনো বন্ধুত্বটা কিন্তু আগের মতই আছে।

হঠাৎ মিলির সাথে দেখা…………………

মিলি হচ্ছে সেই মেয়ে, যার উপর পুরো ক্যাম্পাসের সব ছেলেরাই ক্রাশ। আর আমি তো একটু বেশি ক্রাশ। শুধু ভয়েই কিছু বলতে পারি না। আমার সাথে মিলি কথা বলতে এলেই আমার হাত পা কাঁপতে থাকে। এটা ভয়ে নাকি নার্ভাসে তা জানি না। এত মিষ্টি একটা মেয়ে, ভয় পাওয়ার তো কথা না। তাহলে, নার্ভাস হবে হয়ত। এসেই জিজ্ঞাসা করল, “হাই বিজয়, কেমন আছো? পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন?” শুনেই তো আমার বুক দুরুদুরু করা শুরু হল। তাও সাহস নিয়ে বললাম, “এই তো ভাল আছি। তুমি কেমন আছো?” মাথা নেড়ে জানালো যে ভালই আছে। এরপর পরীক্ষা নিয়ে টুকটাক কথা বলতে বলতে, পরীক্ষা শুরুর সময় হয়ে যাওয়ায় সবাই যে যার সিটে গিয়ে বসলাম।

এরপর কোন রকম পরীক্ষা দিয়েই ক্যাম্পাসে আড্ডা শুরু আমাদের। অনেকদিন পর আজকে একটু ছুটি পেলাম। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, দুষ্টুমির ফাঁকেই, মিলিকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছিলাম। মাঝ মাঝে হাসছিল। হাসলে ওকে অনেক সুন্দর লাগে। একটু পরেই মিলির চোখে ধরা পড়ে গেলাম। আমার দিকে জিজ্ঞাসু ভঙ্গীতে তাকাতেই, আমি শুধু মুচকি হেসে মাথা নেড়ে অন্যদিকে তাকালাম। কেন জানি মিলির চোখে চোখ রাখতে লজ্জা লাগে। কিন্তু অন্য মেয়েদের বেলায় এটা হয় না। শুধু মিলির বেলায় কেন হয়, বুঝি না আমি।

আড্ডার এক ফাঁকে হঠাৎ রিয়াদ প্রস্তাব করল, “দোস্তরা, পরীক্ষা তো শেষ। চলো না, কোথাও থেকে ঘুরে আসি।” কথাটা শুনেই তো আমি এক পায়ে রাজি। এটাই তো চাইছিলাম।

সবাই প্লান করা শুরু করলাম, যে কোথায় যাওয়া যায়। কেউ বান্দরবান, কেউ সিলেট বা কক্সবাজার প্রস্তাব করলেও, এই গরমে এত দূরে যেতে মন চাইছিল না। আর সাথে মেয়েরাও আছে। তাই ১ দিনে গিয়ে আবার ফেরত আসা যায়, এমন কোথাও যেতে হবে। এর ভিতর মিলি প্রস্তাব করল,  “আমরা ফরিদপুর যেতে পারি।” শুনেই তো কেউ হাসে, কেউবা নাক সিটকায়, যে বাংলাদেশে এত জায়গা থাকতে এই মেয়ের ফরিদপুরে যাওয়ার কথা কেন মনে হল।

রিয়াদ মিলিকে বলল, “আচ্ছা মিলি, ফরিদপুর যে যেতে চাও সেখানে কি কিছু আছে ঘুরে দেখার মত?”

মিলি বলল, “অনেক কিছুই আছে দেখার মত। আসলে আমার বাবা সরকারি কর্মকর্তা হবার কারণে, বাবার প্রায়ই বিভিন্ন জেলায় বদলী হওয়া লাগে। আর আমাদেরও ছোটবেলা থেকে একেক সময় একেক জেলাতে যেতে হত। অনেক জেলাতেই গিয়েছি, থেকেছি, কিন্তু ফরিদপুর শহরটা একটু অন্য রকম ভাল লেগেছে। ছোট শহর। কোন কোলাহল নাই। গাড়ির আধিক্য নেই, কালো ধোঁয়া নেই। শান্তিতে ১ টা দিন ঘুরে বেড়ানো যাবে। আর সবচেয়ে বড় কথা ওখানে আমাদের পল্লীকবি জসীম উদ্ দীনের বাড়িও রয়েছে। যেখানে কবি তার জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন, অনেক কবিতা লিখেছেন।

যাই হোক, অনেকে রাজি না হলেও, কি আর করা, মিলির কথা বলে কথা। শেষ পর্যন্ত সবাই রাজি। আর আমি তো এক পায়ে রাজি।

প্লান করা হল, আগামী পরশু দিন সকালে আমরা ফরিদপুর যাচ্ছি পল্লীকবির বাড়ি দেখতে। দেখতে দেখতে দিন কেটে যেতে লাগল। কিন্তু যাওয়ার আগের রাতটা আর শেষ হতে চায় না। কখন সকাল হবে আর কখন যে যাব। হঠাৎ ঘুমানোর মাঝে স্বপ্ন দেখলাম বাসে আমরা যাচ্ছি। আমি মিলির পাশের সিটে বসে আছি। বাসের খোলা জানালা দিয়ে বাতাস আসছে, আর তাতে মিলির চুল আমার মুখের উপর বার বার চলে আসছে। সে যে কি রকম ভাল লাগার মুহূর্ত বলে বোঝানো যাবে না। যার সাথে এমন ঘটে শুধু  সেই বুঝে।  হঠাৎ দেখলাম, বাস আঁকা বাঁকা দুলছে। ভাবলাম এমন হচ্ছে কেন। ড্রাইভার কি ঘুমায় ঘুমায় গাড়ি চালাচ্ছে নাকি।

এমন মুহূর্তে হঠাৎ কানে এলো যে মা বলছে, “এই বিজু , উঠিস না কেন। তুই না পিকনিকে যাবি? ( মা আমাকে আদর করে বিজু বলে ডাকে। মানে মায়ের অতি আদর ভালোবাসায় বিজয় নামটা সংক্ষেপে বিজু হয়ে গিয়েছে )। চোখ খুলে দেখি, মা আমাকে ধরে ধাক্কা দিচ্ছে। আর আমি কিনা ঘুমের মধ্যে ভাবছিলাম বাস ঝাঁকি খাচ্ছে। হা হা।

ঘড়িতে দেখি ৫.৩০ বাজে…………………………

আমাদের গাবতলীতে থাকার কথা সকাল ৬.৩০ এ। তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে, নাশতা করে, বাবা মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চললাম পল্লীকবির গ্রামে। যার কবিতা এত পড়েছি আজ কিনা তার বাড়ি দেখতে যাচ্ছি আমরা। অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছিল। এত সকালে  ঢাকার রাস্তা পুরো ফাঁকা। যদি এমন ঢাকা শহর থাকত সবসময়।

গাবতলী গিয়ে দেখি আমাদের ২-৩ জন এরই মধ্যে চলে এসেছে। রিয়াদ আগেই আমাদের সবার বাসের টিকেট কেটে রেখে ছিল। আস্তে আস্তে বাকী সবাই চলে এসেছে। কিন্তু আমার চোখ যে খুঁজছে অন্য কাউকে। বাস ছাড়তে আর মাত্র ৫ মিনিট বাকি।

 

কিন্তু আমার রাজকন্যা কোথায়?

 

সবাই এসেছে কিন্তু মিলি যে এখনও আসে নাই। মনে মনে ভেবে সিদ্ধান্ত নিলাম যে মিলি না আসলে, আমিও যাব না।

এটা ভেবেই যেই বাস থেকে নামলাম, অমনি দেখি বাসের একটু দূরে, লাল-কালো সালোয়ার কামিজ পরিহিতা এক যুবতী বাসের দিকে আসছে। দেখেই মনটা খুশিতে ভরে গেল। কারণ সে তো আর কেউ নয়, সে যে আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যাটি। মিলিকে আজ দেখতে পুরো স্বর্গের অপ্সরী লাগছে। যদিও কোনদিন স্বর্গের অপ্সরী দেখি নাই। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে মিলির সৌন্দর্যের কাছে স্বর্গের অপ্সরীরা তো কিছুই না। দৌড়ে গেলাম তার কাছে। আমাকে দেখেই হাই বলে উঠল। বলল, “কোথায় যাও?”

বললাম, “কোথাও না। সবাই এসেছে কিনা তাই খোঁজ নিচ্ছিলাম।”

মিলি বলল, “সবাই চলে এসেছে?”

আমি বললাম, “সবাই এসেছে, শুধু তুমি বাদে। তাড়াতাড়ি চলো, বাস ছেড়ে দিবে।”

তাড়াতাড়ি হেঁটে বাসে উঠতেই মিলিকে দেখে সবাই হই হই করে উঠল। মিলি সবার সাথে কুশল বিনিময় করতে করতে সবাই যে যার মত সীট নিয়ে বসে পড়ল। আর ছেলেরা সবাই মিলিকে অনুরোধ করছিল তাদের পাশে বসতে। মিলি শুধু অল্প হেসে তাদের ধন্যবাদ দিয়ে সেঁজুতির সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। এর মধ্যে বাস ছেড়ে দিল। আমার সীট আবার শেষের দিকে পড়েছে, ভাবলাম মিলি তো আর এত পিছনে বসতে আসবে না । তাই কিছুটা হতাশ হয়েই কানে হেড-ফোন লাগিয়ে বাসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রাস্তার পাশের দৃশ্য দেখছিলাম।

এভাবে কিছুক্ষণ থাকার পর হঠাৎ দেখি মিলি পিছনে আমার দিকে আসছে। ভাবলাম, “কাহিনী কি আবার?” কান থেকে হেড ফোন টা নামাতেই, রাজকন্যাটি  আমার সিটের পাশে এসে মিষ্টি করে হেসে বলল, “কি করছ একা একা? ওদিকে সবাই বাসে হই-হুল্লোড় করছে।”

বললাম, “আমার হই-হুল্লোড় ভাল লাগে না। নিরিবিলিকেই উপভোগ করতে বেশী পছন্দ করি।”

মিলি মুচকি হেসে বলল, “তুমি তো দেখছি আমার মত। আমিও কোলাহল খুব একটা পছন্দ করি না। আচ্ছা, আমি কি তোমার পাশে একটু বসতে পারি?”

কথাটা শুনতেই আমার হার্ট বিট গেল বেড়ে। আরে, মনে মনে যার পাশে বসতে চাইছিলাম, এখন সে কিনা আমার পাশেই বসতে চাইছে। যদিও আমি কিছু বলার আগেই, মিলি আমার অনুমতির তোয়াক্কা না করেই বসে পড়ল। আশেপাশে তাকিয়ে দেখি বাসের বেশ কয়েকজন আমাদের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে দেখছে। যা হোক, আমি ওদের গুরুত্ব দিলাম না। কিন্তু মনে মনে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান ভাবছিলাম। যেই মেয়ের উপর সবাই ক্রাশ, আর সেই সুন্দরী মিষ্টি মেয়েটি কিনা আমার পাশে বসে আছে। এরপর দুইজনের টুকিটাকি কথা, বন্ধুদের হই-হুল্লোড় আর বাসের অন্য যাত্রীদের উঁকিঝুঁকির ভিতর দিয়েই আমাদের বাস  চলতে লাগল ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে ।

( চলবে )……………………