Cyclone, Typhoon, Tornado কি ? কিভাবে কাজ করে ?

Now Reading
Cyclone, Typhoon, Tornado কি ? কিভাবে কাজ করে ?

আমরা সবাই ঘূর্ণিঝড় শব্দটার সাথে পরিচিত | আবার, Typhoon, Cyclone, Hurricane শব্দও শুনেছি | প্রথমটা বাংলা আর পরেরগুলো ইংরেজি শব্দ হিসেবেই ব্যবহার করা হয় | এসকল শব্দ শুনলেই আমাদের চোখে কল্পনায় চলে আসে এলোপাতাড়ি বাতাস যা আশেপাশের সবকিছু উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে | যদিও আমরা হয়ত খুব বেশি মানুষ স্বচক্ষে ঘূর্ণিঝড় প্রতক্ষ্য করেনি | বেশিরভাগ যা জেনেছি তা হয়ত খবর কাগজ পড়ে কিংবা টেলিভশন দেখেই হয়েছে | কাজেই, এইবারও হয়ত তার খুব বেশি ব্যতিক্রম হবেনা !

আজকে, আমরা ঘুর্নিঝড় কি ? কিভাবে কাজ করে ? Typhoon, Cyclone কিংবা Hurricane কি ? আর হ্যা, এখানে ইংরেজি এবং বাংলা উভয় নামই সুবিধা অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে |

Cyclone কি ? Cyclone, Typhoon আর Hurricane এর মধ্যে পার্থক্য কি ?

যখন, কিছু বায়ুভড় (air mass) একটি নিম্নচাপীয় এলাকা কে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে তখন যা সৃষ্টি হয় তাই মূলত ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন |

তাহলে, টাইফুন, কিংবা হ্যারিকেন কি ? এগুলোর মধ্যে পার্থক্যই বা কি ? এর এক কথায় উত্তর হলো “পার্থক্য নেই” ! এগুলো আসলে, সবই এক ! একইভাবে উত্পন্ন হয়, ঘোরার দিকও উত্তর এবং দক্ষিন মেরু ভেদে একইরকম | তাহলে, নাম ভিন্ন হবার কারণ কি ? এর কারণ, হলো উত্পত্তিস্থল | অর্থাত, কোথায় এগুলো উত্পন্ন হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করেই মূলত এদের নামকরণ করা হয় |

এই বিষয়ে NOAA র বক্তব্য হচ্ছে-

“Hurricanes, cyclones, and typhoons are all the same weather phenomenon; we just use different names for these storms in different places. In the Atlantic and Northeast Pacific, the term “hurricane” is used. The same type of disturbance in the Northwest Pacific is called a “typhoon” and “cyclones” occur in the South Pacific and Indian Ocean.”

 

যেমন- আটলান্টিক এবং নর্থইস্ট প্যাসিফিক ওশান এ যা উত্পন্ন হয় সেইটা হলো হ্যারিকেন | মানে, আমেরিকা কিংবা আশেপাশের অঞ্চলে হ্যারিকেন হয় | আবার, নর্থওয়েস্ট প্যাসিফিক ওশান এ যা উত্পন্ন হয় তাহলো টাইফুন; অর্থাত, এশিয়া এর পাশের অঞ্চল নিয়ে টাইফুন হয়ে থাকে | আর সাইক্লোন বলতে মূলত, ইন্ডিয়ান ওশান এবং সাউথ প্যাসিফিক ওশান রিলেটেড অঞ্চলগুলোকে বোঝানো হয় |

তবে, এসব কিছুর ক্ষেত্রে একটা কমন নাম রয়েছে তাহলো- “Tropical Cyclone”. শুধুমাত্র, অঞ্চলভেদে এই ট্রপিকাল সাইক্লোন এর নামকরণ ভিন্ন হয় |

Cyclone vs typhoon vs Tornedo.jpg

 

Cyclone কিভাবে কাজ করে ?

আমরা যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখব সব Cyclone ই কোনো না কোনো সমুদ্র থেকে শুরু হয় আর ডাঙায় এসে শেষ হয় | ভূমি থেকে শুরু হয়ে ভূমিতেই বা ভূমি থেকে শুরু হয়ে পানিতে শেষ হয় এরকম হয়না | এর পিছনে কারণ, হলো এই ঘটনার জন্য পানি খুবই অপরিহার্য একটা বিষয় | আর একটা হচ্ছে তাপমাত্রা | এর জন্য মোটামুটি ৮০° ফারেনহাইট বা ২৬.৫° তাপমাত্রার দরকার | এই তাপমাত্রার নিচে থাকলে কিন্তু, আবার হবেনা | (এই কারণেই আমরা গরমকালেই সাধারণত এই Cyclone দেখে থাকি | আবার ঠিক এই কারণেই, আলাস্কাতে ঘুর্নিঝর হয়না !) যদি সবকিছু অনুকূলে থাকে তারপরেই হয় ঘুর্নিঝর শুরু হবার পালা |

তবে, পুরোপুরি শুরু করার আগে একটু বিজ্ঞান ঝালিয়ে নেই | যেমন- আমরা জানি বাতাস যখন গরম হয় তখন তার ডেনসিটি কমে গিয়ে বায়ুমন্ডলের উপরে যেতে থাকে; আর ঠিক ঠান্ডা বাতাসগুলো সেই জায়গা দখল করে | আর এই মুভমেন্টকে বলা হয় “Pressure gradient force” | আরেকটা হলো, যখন কোনো বস্তু তাপ গ্রহণ করে তখন তা উত্তপ্ত হয় আবার বিপরীতভাবে যখন উত্তপ্ত বস্তু ঠান্ডা হয় তখন কিছু তাপ সে হারায় |

মূলত, এইখানেও একই ঘটনা ঘটছে | যখন, সমুদ্রের পানি উতপ্ত হয়ে জলীয়বাষ্প হয় এবং তখন তা হালকা হয়ে উপরে উঠে যেতে থাকে | আর, অপরদিকে সমুদ্রের উপরের অংশে একটা নিম্নচাপ সৃষ্টি হয় যা তখন পূরণের জন্য উপরের ঠান্ডা বায়ু নিচে নেমে আসে | আবার, তা উত্তপ্ত হয়ে উপরে যায় এবং উপর থেকে ঠান্ডা বায়ু নিচের অংশ ভরাট করে | এভাবেই চলতে থাকে | এখন প্রশ্ন আসতে পারে এইটার জন্য এত এনার্জি পায় কোথা থেকে ? এর উত্তর হলো, যখন, জলীয়বাষ্প উপরে উঠে তখন তা ঘনীভূত হয়ে পানিতে পরিনত হয় এবং হবার সাথেসাথেই কিছু তাপ ছেড়ে দেয় যাকে বলা হয় “latent heat of condensation” | আর আমরা জানি তাপ একপ্রকার শক্তি ! কাজেই, যত দ্রুত উপরে গরম বায়ু যাচ্ছে তত তাড়াতাড়ি তা তাপ ছেড়ে দিচ্ছে তারমানে তত তারাতারি উপর থেকে বায়ু নিচের অংশ ভরাট করছে | এভাবে, গতি ক্রমাগ্রত বাড়তে এবং একটা সময় যা ধারণ করে তাকে আমরা বলি- Cyclone কেউবা, Typhoon কিংবা কেউ Hurricane !

hurricane_diagram_large.en.jpg

তবে, এই ঘুর্নিঝড়ের চমকপ্রদ বিষয়টা হলো এইটা এত প্রলয়ংকর হলেও এর কেন্দ্র যাকে বলা হয় “eye” তা থাকে অসম্ভবরকম শান্ত | আর এর ঠিক পাশের অঞ্চল যাকে বলা হয় “eye wall” তা আবার ঠিক ততটাই প্রলয়ংকারী |

আরেকটা বিষয়, হলো ঘুর্নিঝর একেক অঞ্চলে একেকদিকে ঘুরতে থাকে | যেমন equator এর উত্তর দিকে (Northern hemisphere) এটি ঘুরে Counterclockwise কিন্তু, equator এর নিচের দিকে (Southern hemisphere) এর ঘূর্ণন হয় Clockwise ! এর জন্য দায়ী মূলত “Coriolis effect” এখন এই ইফেক্টটা কি তা নিয়ে আর আলোচনা করবনা তবে, পরে কোনো একসময় হয়ত করা যেতে পারে |

 

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই, আশা করি সবার ভালো লেগেছে | সবাইকে ধন্যবাদ |

 


 

References:

  1. https://spaceplace.nasa.gov/hurricanes/en/
  2. http://science.howstuffworks.com/nature/natural-disasters/hurricane2.htm
  3. http://science.howstuffworks.com/nature/natural-disasters/hurricane1.htm
  4. http://oceanservice.noaa.gov/facts/cyclone.html
  5. https://en.wikipedia.org/wiki/Cyclone
  6. http://timesofindia.indiatimes.com/What-is-the-difference-between-cyclone-hurricane-tornado-and-twister
  7. http://www.weatherwizkids.com/weather-hurricane.htm/articleshow/1317404.cms?
  8. http://blog.cyclonecenter.org/2012/10/10/how-do-tropical-cyclones-form/