ডার্ক ওয়েব: ইন্টারনেট এর নিষিদ্ধ জগত ( পর্ব- ৪) জীবন্ত মানুষের উপর অমানবিক গবেষণা!!

Now Reading
ডার্ক ওয়েব: ইন্টারনেট এর নিষিদ্ধ জগত ( পর্ব- ৪) জীবন্ত মানুষের উপর অমানবিক গবেষণা!!

ডার্ক ওয়েবের গত কয়েকটি পর্বে আপনারা ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে মৌলিক কিছু ধারনা পেয়েছেন। সেই সাথে জানতে পেরেছেন ডার্ক ওয়েবের এক দুর্ধর্ষ সাইট সিল্ক রোড সম্পর্কে।
পূর্বেই বলা হয়েছে ডার্ক ওয়েব হচ্ছে ইন্টারনেটের এমন একটা জায়গা, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারে না। এখানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধী , মানসিক বিকৃত মানুষ, উঁচু মানের হ্যাকার দের চলাফেরা। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সরকারের অতি গোপনীয় তথ্য , মানব ইতিহাসের গোপন খবর লুকানো আছে এখানে। এই জগতে এমন কিছু কার্যক্রম হয় যা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। আজকে এমনি একটি কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করব যা জানতে পারলে আপনার পিলে চমকে যাবে।

সেটা হচ্ছে জীবিত মানুষের উপর অমানবিক গবেষণা । হ্যাঁ ঠিক শুনছেন ,ডার্ক ওয়েবে এমন একটি ওয়েব সাইট রয়েছে যেখানে মানুষের উপর বিভিন্ন অনৈতিক এবং অমানবিক গবেষণা গুলো করা হয় । আর এই গবেষণা করে নাম গোপন রাখা ডাক্তার এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীদের একটা দল। এদের গোপনীয় গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। এখানে বিভিন্ন মানুষকে ধরে এনে তাদের উপর মেডিকেল গবেষণা গুলো করা হয় এবং এই সকল গবেষণার রিপোর্ট, বর্ণনা, তথ্য- তথ্য উপাত্ত প্রকাশ করা হয় এই সাইটটিতে ।

the-human-experiment.21.4820PM.png

এই অমানবিক মানব গবেষণায় ্জড়িত আছে কিছু ডাক্তার। ছবি-কাল্পনিক।

 

এই সাইটের ট্যাগ লাইনে লেখা আছে, Not all humens are equal, some of them were born superior to others। অর্থাৎ, পৃথিবীর সব মানুষ সমান নয়, কেও কেও জন্মই নেয় আরেক জনের চাইতে বেশি মূল্যবান হিসেবে ‘। এই সাইটটি যারা পরিচালনা করে তারা এই কাজটাকে মোটেও অমানবিক মনে করে না। তার মনে করে গবেষণার জন্য যদি কিছু মানুষের জীবন যায় তাতে দোষের কিছু নেই। যাদের উপর এই অমানবিক গবেষণা গুলো করা হয় তারা বেশিরভাগই হচ্ছে ছিন্নমূল মানুষ।

 

আপনি যদি তাদের ‘about us’ পেজটিতে যান তবে দেখতে পাবেন সেখানে সরাসরি লেখা আছে, এই ওয়েব পেজে আমরা যে গবেষণা গুলো দেখিয়েছি তা করা হয়েছে কিছু মানুষ সাবজেক্ট এর উপর। এরা যাদের কে গবেষণার জন্য নিয়ে আসে তাদের কে উল্লেখ করা হয় ‘সাবজেক্ট’ হিসেবে। সাবজেক্ট হিসেবে যে মানুষগুলো কে এখানে বেছে নেওয়া হয়েছে এরা সবাই গৃহ হীন মানুষ এবং যাদের সরকারি খাতায় এদের কোন নিবন্ধন নেই । অনেকেই বলে মানব পাচার এবং কিডন্যাপ করেও এরকম সাবজেক্ট সংগ্রহ করা হয়। সাইটটির কোন জায়গায় সাবজেক্ট দের আসল নাম ব্যাবহার করা হয় না । নামের জায়গায় দেওয়া হয় একটি করে সিরিয়াল নম্বর।

জানা যায় গবেষক দের এইদলটিতে রয়েছে ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল স্টুডেন্ট।  তথ্য অনুসারে গবেষণার জন্য এদের কমপক্ষে চারটা গবেষণাগার বা warehouse রয়েছে। যেখানে মানুষদের কে রাখা হয় এবং গবেষণা করা হয়।

 

print-3.png

 

 

এখানে বিভিন্ন প্রাণঘাতী মেডিকেল গবেষণা করা হয়। এরকম কিছু ভয়ংকর গবেষণার গুলোর বর্ণনা নিচে দেওয়া হল –

১। খুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয় –
এই গবেষণায় সাবজেক্টদের খাবার বা পানি ছাড়া রাখা হয়। এই অমানবিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় মানুষ খাবার বা পানি ছাড়া কতদিন বাঁচতে পারে। খাদ্যের অভাবে একে একে সাবজেক্টগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। কোন সাবজেক্ট কতটা সময় ধরে টিকে ছিল , এই তথ্য গুলো ওয়েবসাইট টিতে পাবলিশ করা হয়।
খাবার ছাড়াও না ঘুমিয়ে মানুষ কতদিন বাচতে পারে এমন ধরনের পরীক্ষাও করা হয় এখানে।

২। ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়
বিভিন্ন বয়সের, লিঙ্গের মানুষের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা কি পরিমাণ তা পরীক্ষা করা হয় এখানে। গরম পানি- ঠাণ্ডা পানি , বৈদ্যুতিক শক, বিভিন্ন আঘাতে মানুষ কি পরিমাণ ব্যথা সহ্য করতে পারে এধরনের পরীক্ষাও করা হয়। তাহলে বুঝতেই পারছেন বিভিন্ন বয়সের সাবজেক্ট দের ধরে এনে তাদের গরম পানি ঢেলে, বা বৈদ্যুতিক শক দিয়ে অথবা ইচ্ছাকৃত ভাবে আঘাত করে এই পরীক্ষাগুলো করা হয়। যা খুবই অমানবিক।

৩। ইনফেকশন  সমূহ পরীক্ষা এবং কোন অঙ্গ কিরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়
আমরা জানি আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ সমূহ বিভিন্ন ভাবে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়। ডাক্তারদের এই দলটি সাবজেক্ট দের শরীরে ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয় । এরপর বিভিন্ন অঙ্গের ইনফেকশন পর্যবেক্ষণ করে । কোন অঙ্গটি কত দ্রুত তম উপায়ে আক্রান্ত হয় তা পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে কিছু কিছু সাবজেক্ট সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায় । অনেক সময় ইনফেকশন এই পরিমাণ ছড়িয়ে যায় যে সাবজেক্ট এর মৃত্যু পর্যন্ত হয়।

 

৪। ওষুধ ট্রায়াল

বিভিন্ন রোগের বিভিন্ন ওষুধ আবিষ্কার করা হয়। তবে সেই ওষুধ আসলেই মানুষের দেহে কতটা কার্যকর তা সাবজেক্ট দের উপর পরীক্ষা করা হয়। অনেক সময় গরীব মানুষেরা ইচ্ছাকৃত ভাবে টাকার বিনিময়ে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

৫। বড় বড় সার্জারি
সাবজেক্ট দের উপর বড় বড় সার্জারি প্রাকটিস করা হয়। যেমন অঙ্গ প্রতিস্থাপন। এমনকি বিভিন্ন পশুর অঙ্গ মানুষের দেহে প্রতিস্থাপন করা যায় নাকি এমন ভয়ঙ্কর পরীক্ষা গুলোও করা হয় বলে জানা যায় ।

৬। নবজাতক রা কতটা এক্স রে রশ্মি,গরম সহ্য করতে পারে তার পরীক্ষা
এর চাইতে লোমহর্ষক আর কি হতে পারে যে , এখানে শিশু এবং নবজাতক দের উপর ও পরীক্ষা করা হয়। দেখা হয় যে শিশু রা কি পরিমাণ গরম বা এক্স রে রশ্মি সহ্য করতে পারে ।

৭। Bleaching ইনজেকশন ইফেক্ট পরীক্ষা

এই ওয়েবসাইট টি খুব গোপনে পরিচালনা করা হয়। কিন্তু প্রকাশ পাওয়া ওয়েব সাইটটির একটি পেজে দেখা যায় বিভিন্ন প্রেগন্যান্ট মহিলাদেরকে বিভিন্ন পরিমাণ Bleaching ইনজেকশন পুষ করা হয়। এবং দেখা হয় গর্ভের ভ্রূণ কি পরিমাণ Bleaching সহ্য করতে পারে ।এর পর লিপিবদ্ধ করা হয়েছে কতদিনে গর্ভপাত হয়েছে তার ফলাফল ।

print-2.png

 

এসকল অমানবিক গবেষণার পর অনেকে হয়ত বেচে ফিরে। কিন্তু বেশির ভাগ হতভাগ্য মানুষই সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায়, বা মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। এই ওয়েবসাইট টিতে দাবি করেছে যে তারা তাদের সাবজেক্টদের কে নিয়মিত খাবার দেয় এবং মানুষ গুলো নিজের ইচ্ছায় নিজেদের কে এই গবেষণায় সপে দেয়। তারা বলে তারা ওয়ার হাউস গুলোতে সাবজেক্ট দের আটকে রাখে না। তবে এটা সহজেই বোঝা যায় এটা একটি খোঁড়া দাবি। কারণ কোন মানুষই নিজের ইচ্ছায় এমন অমানবিক গবেষণায় রাজি হবে না তা বোঝাই যায়।

কিন্তু মৃত্যুর পর কি হয় এই লাশগুলোর? গুজব রয়েছে পরীক্ষার পর এই লাশ গুলোকে টুকরো টুকর করে ফেলা হয়। এদের বডি পার্ট গুলো বিক্রি করা হয়। বডি পার্ট বিক্রির জন্য ও কিন্তু আলাদা ওয়েবসাইট আছে ডার্ক ওয়েবে। শুনলে আরও অবাক হবেন এই লাশগুলোকে বিভিন্ন মাংসের দোকানে বিক্রি করা হয়।সেখান থেকে তা পৌঁছে যায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে। ফলে এই হতভাগ্য ব্যক্তিদের আর কোন অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না।

যেহেতু, ডার্ক ওয়েবের সাইট গুলো এতই গোপন থাকে যে মানবাধিকার সংস্থা গুলোর পক্ষে সম্ভব নয় এই সাইটের সম্পর্কে জানা। অনেকেই বলে এগুলো আসলে গুজব। এরকম কোন সাইট আদতে নেই। অনেকেই আবার মনে করে এর সাথে আসলে অনেক বড় বড় সংস্থা এমন কি সরকার ও জড়িত ।

অবশ্য বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে এই অমানবিক সাইট টির অস্তিত্ব সম্পর্কে। যা মানব ইতিহাসে এক কলঙ্ক জনক অধ্যায় হিসেবেই বলা যায়। আমরা জানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হোল কাস্টের সময় নাৎসিরা জীবন্ত মানুষের উপর গবেষণা চালাত। কিন্তু বর্তমান পৃথিবীতে এরকম কাজ কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কারণ, পৃথিবীর প্রতিটা মানুষই জন্মায় সমান অধিকার নিয়ে। বিশেষ করে শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের উপর গবেষণা তো এক কথায় অমানবিক ।

 

n14.jpg

ইহুদী শিশুদের উপর চালান নাৎসিদের মেডিকেল গবেষণা। ছবি- গুগল।

এরকম অনেক নৃশংস গোপন কাজের এক আখড়া হয়ে আছে কুখ্যাত ডার্ক ওয়েব ।।

(চলবে)

ডার্ক ওয়েব: ইন্টারনেট এর নিষিদ্ধ জগত! (পর্ব-৩) সিল্ক রোড: মাদক এর এক গোপন রাজ্য!

Now Reading
ডার্ক ওয়েব: ইন্টারনেট এর নিষিদ্ধ জগত! (পর্ব-৩) সিল্ক রোড: মাদক এর এক গোপন রাজ্য!

গত পর্ব গুলোতে আমরা ডার্ক নেট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এখানে সংক্ষেপে ডার্ক নেট সম্পর্কে একটু বলে নেই। ইন্টারনেট হচ্ছে এক বিশাল তথ্যের ভাণ্ডার। আমরা ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে যত তথ্য পাই তা হচ্ছে ইন্টারনেট এর মোট তথ্যের ১ % মাত্র।তথ্যের বিশাল অংশ থাকে আমাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ইন্টারনেটের এই অংশটাকে বলা হয় ডিপ ওয়েবে।এখানে থাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য , বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেস, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ইত্যাদি।
ডিপ ওয়েবের নিচে একটি ছোট অংশ আছে। তাকে বলা হয় ডার্ক ওয়েব। আর এখানে সকল অপরাধী, হ্যাকার,গোপন সোসাইটি , মাদক ব্যবসায়ী, অসুস্থ মানসিকতার মানুষদের বিচরণ।এখানে এমন সব অবৈধ কাজ হয় যা সাধারণ মানুষের চিন্তার ও বাইরে। যাইহোক এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আমরা গত পর্ব গুলোতে আলোচনা করেছি।

আজকে আমরা আলোচনা করব ডার্ক নেটের একটি গোপন ওয়েব সাইট সম্পর্কে। যার নাম হচ্ছে সিল্ক রোড। বলা হয় এটা ডার্ক নেটের সবচেয়ে শক্তিশালী ওয়েবসাইটগুলোর একটা ।

আমরা সবাই ইতিহাসের বইতে সিল্ক রোড সম্পর্কে পড়েছি। রেশম কাপড় আমদানি রপ্তানি তে ব্যবহার করা হত এই রাস্তা। তবে আজকে আমরা যে সিল্ক রোড নিয়ে আলোচনা করব সেটা হচ্ছে ডার্ক নেটের একটা ওয়েব সাইটের নাম । এটি একটি অনলাইন মার্কেটিং ওয়েবসাইট। সিল্ক রোড নামের এই সাইট টি কুখ্যাত মাদক, নেশা জাতীয় দ্রব্য , নিষিদ্ধ রাসায়নিক দ্রব্য ক্রয়- বিক্রয়ের জন্য । মাদক ক্রয়-বিক্রয় ছাড়াও অবৈধ অস্ত্র বিক্রয়, জাল আইডি কার্ড, পাসপোর্ট তৈরি এবং হ্যাকিং সার্ভিসও প্রদান করে এই ওয়েব সাইটটি ।

0220silkroad09.jpg

সিল্ক রোড ওয়েবসাইট । ছবি- গুগল ।

এই ওয়েবসাইট টির ডিজাইন খুবই আকর্ষণীয়। এই সাইট টিতে ব্যবহার কারীরা Rank এবং রিভিউ করতে পারে , ফলে নতুন ব্যবহার কারী সহজেই তাদের পছন্দের মাদকটি খুঁজে বের করতে পারে। নতুন ব্যবহারকারীদের প্রথমে এখানে রেজিস্টার করতে হয়। নতুন একাউন্ট রেজিস্টার করতে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয়। ইউজার দের আইডি এখানে গোপন রাখা হয়। আর যেহেতু বিট কয়েন এর মাধ্যমে লেনদেন হয়, সেজন্য ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিচয় সম্পূর্ণ রূপে গোপন থাকে। বিট কয়েন হচ্ছে একধরনের ইন্টারনেট ভিত্তিক মুদ্রা। এতে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না এবং এর লেনদেন সম্পর্কেও সরকারের কাছে কোন তথ্য থাকে না। এজন্য বিট কয়েনের মাধ্যমে যে কোন অবৈধ লেনদেন খুব সহজেই করা যায়।

এছাড়া এই সাইটের মাধ্যমে যারা মাদক বিক্রি করে তাদেরকেও টাকা দিয়ে একাউন্ট খুলতে হয় । তবে টাকা থাকলেই এখানে একাউন্ট খোলা যায় না। একাউন্ট নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয় এবং যে নিলামে একাউন্ট জেতে সেই এই সাইটে মাদক বিক্রি করার অনুমতি পায়। এমন বিক্রেতাদেরই নির্বাচন করা হয় যারা নিয়মিত এবং বেশি পরিমাণ মাদক ও অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্য সরবরাহ করতে পারে। এসকল নির্বাচিত বিক্রেতাদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি ও দিতে হয়।
মজার বিষয় হচ্ছে এদের একটি বুক ক্লাব ও রয়েছে। যেখানে পৃথিবীর বড় বড় ষড়যন্ত্র, হ্যাকিং ইত্যাদির উপর দুর্লভ এবং উঁচু মানের বই পাওয়া যায়। এমন কি যে কোন বই বাজারে প্রকাশের আগেই তা এই ক্লাব মেম্বারদের হাতে চলে আসে।

 

২০১১ সালে সর্ব প্রথম এই ওয়েব সাইটি সম্পর্কে জানা যায়। তার আগ পর্যন্ত এটা সম্পর্কে কিছু জানা যায় নি।এই ওয়েবসাইট টির প্রতিষ্ঠাতা ‘ড্রেড পাইরেট রবার্ট’ নামে সাইটটি পরিচালনা করত।
২০১৩ সালে এফ বি আই ওয়েবসাইট টি বন্ধ করে দেয়। এর পিছনে আছে এক মজার ঘটনা। সিল্ক রোড ওয়েবসাইট টি অল্প সময়ের মধ্যেই মাদকসেবীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ফলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও নজরে পড়তে এর সময় লাগে নি। অনেকদিন ধরেই এফ বি আই চেষ্টা করছিল সিল্ক রোড ওয়েব সাইট টি বন্ধ করার জন্য। তবে ডার্ক নেটের যে কোন ওয়েবসাইট বন্ধ করা বা এর পেছনের ব্যক্তিদের ধরা অনেক কঠিন। তার মধ্যে এই সাইটের নিয়ন্ত্রণকারীরা খুবই দক্ষ এবং এরা ব্যবহার করত খুব উচ্চ মানের সাইবার প্রযুক্তি । এজন্য গোয়েন্দাদের পক্ষে কাজটা হয়ে পরেছিল আরও কঠিন। অনেক ডকুমেন্ট, নেটওয়ার্ক ট্রেস করে গোয়েন্দারা রোস আলব্রিচ নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহ করে । ধারনা করে এই ব্যক্তিটিই আসলে সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা, যে ড্রেড পাইরেট রবার্ট ছদ্মনামে ওয়েবসাইট টি পরিচালনা করত। কিন্তু গোয়েন্দাদের কাছে শক্ত কোন প্রমাণ ছিল না।

DSC_3560.jpg

রোস আলব্রিচ। কুখ্যাত ওয়েবসাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। 

 

গোয়েন্দা সংস্থা গুলো সব সময় হ্যাকার অথবা সাইবার অপরাধীদের এমন সময় ধরার চেষ্টা করে যখন তারা কম্পিউটার চালাচ্ছে বা ঐ নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট টি নিয়ন্ত্রণ করছে। কারণ অপরাধী যদি একবার কম্পিউটার লক করে ফেলে তখন এ ধরনের অপরাধী দের অপরাধ প্রমাণ করা খুবই কঠিন। বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে গোয়েন্দারা আগেই রোসের অবস্থান ট্রেস করেছিল। এর পর অপেক্ষায় ছিল সুযোগের। অনেকদিন অপেক্ষার পর আসে সেই সুযোগ। সেইদিন রোস আমেরিকার পাবলিক লাইব্রেরী তে বসে তার কম্পিউটারে সিল্ক রোড ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করছিল। সে অবস্থায় এফবিআই এর অফিসাররা উদয় হয় এবং তাকে হাতে নাতে ধরে। এমন ভাবে ধরে যে রোস এ সময় কম্পিউটার বন্ধ করার ও সময় পায় নি। আর অফিসারদের এসব বিসয়ে ট্রেনিং থাকে! তারাও চলন্ত ওয়েবসাইট তাদের দখলে নিয়ে নেয়, এবং বন্ধ করে দেয়।
এটি ছিল ডার্ক নেটের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হাই প্রোফাইল গ্রেফতার । কারণ তাকে একেবারে হাতে নাতে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় সিল্ক রোড ওয়েব সাইট টির প্রায় ৩৪.৫ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা ছিল এবং এর প্রায় ১0 লক্ষ ব্যবহারকারী ছিল। বলা হয় জব্দ করার সাথে সাথেই গোয়েন্দারা প্রচুর পরিমাণ বিট কয়েনও দ্রুত সরিয়ে ফেলে।

অপরাধ প্রমাণের পর আমেরিকার আদালত রোস আলব্রিচকে আজীবন কারাগারে থাকার শাস্তি দেয়। বর্তমানে সে আমেরিকার একটি কারাগারে রয়েছে। তদন্ত কালে রোস আলব্রিচের আরেকটি ভয়ংকর কাজ গোয়েন্দাদের সামনে আসে।গ্রেপ্তারের কিছুদিন আগেই সে ডার্ক নেট থেকে প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার দিয়ে খুনি ভাড়া করে এবং খুনিটি ভাড়া করে ওয়েব সাইট টির আরেক কন্ট্রোলার কে খুন করার জন্য!!

ধারনা করা হয় হাতে নাতে ধরার কারণে এফবি আই ওয়েবসাইটটির প্রচুর পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। তবে বহুদিন পর্যন্ত আমেরিকার এই গোয়েন্দা সংস্থাটি অর্থের পরিমাণের কথা প্রকাশ করতে চায় নি। অনেক পড়ে তারা স্বীকার করে তারা প্রায় ৪৮ মিলিয়ন ডলার ওয়েব সাইট টির সিজ করতে পেরেছে। ফলে রাতারাতি আমেরিকার সরকার অনেক বড় অংকের মালিক হয়ে যায়।

তবে দুখের বিষয় এত কিছুর পরও সিল্ক রোড ওয়েবসাইট টি কিন্তু আবার ফিরে এসেছে। ২০১৩ সালের অক্টোবরে রোস আলব্রিচকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ওয়েবসাইট টি বন্ধ করা হয়। কিন্তু নভেম্বরেই এটি silk road 2.0 নামে আবার চালু করা হয়। প্রধান প্রতিষ্ঠাতাকে গ্রেপ্তার করা হলেও এর অন্যান্য কন্ট্রোলাররা এই সাইট টি চালু করে। ২০১৪ সালে এটি আবার বন্ধ করা হয়। কিন্তু এটি আবার ফিরে আসে। শোনা যায় এবার এটির নাম silk road 3.1 ।

এই কুখ্যাত ওয়েবসাইটটি এখন আরও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং সিকিউরিটি ব্যবহার করছে এবং মহা পরিক্রমায় ডার্ক নেটে বিস্তার করে আছে মাদকের এক বিরাট রাজ্য ।

 

(চলবে)

 

ডার্ক ওয়েব : ইন্টারনেট এর নিষিদ্ধ জগত!(পর্ব-২) মারিয়ানাস ওয়েব !!

Now Reading
ডার্ক ওয়েব : ইন্টারনেট এর নিষিদ্ধ জগত!(পর্ব-২) মারিয়ানাস ওয়েব !!

গত পর্বে আলোচনা করা হয়েছিল ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে। সেখানে ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে খুব সাধারণ কিছু আলোচনা করা হয়েছিল। তবে ইন্টারনেটের এই জগত টি কিন্তু আরও অনেক বিশাল, গোপনীয় এবং রহস্যময় ।
গত পর্বেই বলা হয়েছে ডার্ক নেট হচ্ছে ইন্টারনেট এর এমন সব তথ্য বা সাইট যা সাধারণ সার্চ ইঞ্জিন যেমন গুগল, ইয়াহু, বিং এগুলোতে ইনডেক্স করা হয় না। ফলে স্বাভাবিক নিয়মে তা খুঁজেও পাওয়া যায় না। অবৈধ, অন্যায় , নিষিদ্ধ কাজের এক গোপন জগত হচ্ছে ডার্ক নেট। কিন্তু, ডার্ক নেটের সবচেয়ে রহস্যময় স্তর সম্পর্কে জানেন কি?

ডার্ক নেট এ কিন্তু অনেক গুলো ধাপ রয়েছে। অর্থাৎ, এটি অনেকটা পিয়াজের মত। আপনি যদি একটি পিয়াজ কাটতে যান তবে দেখবেন পিয়াজটিতে অনেক গুলো লেয়ার একটির পর একটি সাজানো। ডার্ক ওয়েবেও রয়েছে অনেক গুলো লেয়ার। উপরের লেয়ার গুলোতে কিছুটা প্রবেশ করা সম্ভব। কিন্তু লেয়ার যত নিচের দিকে আসতে থাকে ততই তার প্রবেশ হয়ে উঠে কঠিন।আর, ডার্ক ওয়েবের সবচেয়ে গভীরতম লেয়ার টিকেই বলা হয় ‘মারিয়ানাস ওয়েব’।

ইন্টারনেট এর যে পাঁচটি লেভেল আছে তার মধ্যে মারিয়ানাস ওয়েব হচ্ছে সবচেয়ে গভীরতম জায়গা। ১ ও২ নম্বর লেভেল হচ্ছে সার্ফেস ওয়েব। যা আমরা সবাই ব্যবহার করতে পারি। ৩ ও ৪ নম্বর লেভেল হচ্ছে ডিপ ওয়েব ও ডার্ক ওয়েব। এবং সর্বশেষ অর্থাৎ ৫ নম্বর লেভেল হচ্ছে মারিয়ানাস ওয়েব।

আজকে আমরা আলোচনা করব ‘মারিয়ানাস ওয়েব’ নিয়ে ।

Marianas-Web-Deceit-and-Manipulation-as-Told-by-N3URO.jpg

Marianas Web 

 

মারিয়ানাস ওয়েব বা Marianas Web কি?

কেন এই গভীরতম লেয়ারটির নামকরণ করা হয়েছে মারিয়ানাস ওয়েব? আপনি হয়তো জানেন, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে গভীরতম জায়গার নাম হচ্ছে মারিয়ানা ট্রেঞ্চ।সে হিসেবে পৃথিবীর গভীরতম জায়গা হচ্ছে মারিয়ানা ট্রেঞ্চ। এই জায়গাটি এত গভীর যে এর নিচে কি আছে তা বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও অজানা। এই বৈশিষ্ট্য র কারণেই ওয়েবের এই গভীরতম জায়গাটির নাম করন করা হয়েছে মারিয়ানা ওয়েব বা ‘Marianas web’।

Screenshot_6.png

পৃথিবীর গভীরতম জায়গা ঃ মারিয়ানা ট্রেঞ্চ

যেখানে, ডার্ক নেট জগত টাতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ করা কঠিন। শুধু মাত্র হ্যাকার বা ওয়েব ঠিকানা জানে এমন ব্যক্তিরাই প্রবেশ করতে পারে ডার্ক নেটে । সেখানে বুঝতেই পারছেন মারিয়ানাস ওয়েব জায়গাটিতে প্রবেশ কতটা কঠিন! সাধারণ হ্যাকাররাও এখানে প্রবেশ করতে পারে না। অনেক উঁচু লেভেল অপরাধী এবং ইলিউমিনিদের চলাফেরা এই জগতে।ধরা যায় পৃথিবীর খুব অল্প সংখ্যক মানুষই পারে এই ‘মারিয়ানাস ওয়েব ‘ ব্যবহার করতে।
এই ওয়েবের সাইটগুলোতে ঢুকতে হলে শুধু মাত্র এগুলোর ওয়েব ঠিকানা গুলো জানলেই চলবে না। সেখানে আপনার একসেস পারমিশন ও থাকতে হবে। অর্থাৎ এসকল ইউজার কে একটা key দেওয়া হয়। এই key এবং পারমিশন থাকলেই একমাত্র এই সাইটগুলো খুঁজে পাওয়া যায়।

 

কি আছে মারিয়ানাস ওয়েবে?

-মারিয়ানাস ওয়েবে আছে বিভিন্ন দেশের সরকারের টপ সিক্রেট ইনফরমেশন। এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে সরকার এই গোপন জায়গায় কি করে? এখানে সরকারের উঁচু লেভেল এর গোয়েন্দা, মিলিটারি তথ্য থাকে যা খুবই গোপনীয়। দেশের স্বার্থে এগুলো গোপন রাখা খুবই প্রয়োজন। আর মনে রাখবেন বিভিন্ন দেশের সরকার ও কিন্তু এমন কিছু মানবতা বিরোধী কাজ করে যা তারা চায় না পৃথিবী তা জানুক। যেমন অস্ত্র বিক্রয়, অবৈধ চুক্তি, অন্য দেশের উপর নজরদার রাখা, দেশে দেশে সংঘাত সৃষ্টি এছাড়াও এমন অনেক ষড়যন্ত্র মূলক কাজ যা জানলে মানবতার কথা বলা দেশ গুলো সম্পর্কে আপনার ধারনাই বদলে যাবে।এমন অনেক গোপনীয় দলিল, চুক্তির তথ্য রয়েছে এই মারিয়ানাস ওয়েবে। এছাড়া বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন গুলোর মধ্যে বা বিভিন্ন দেশের সাথে জঙ্গি সংগঠন গুলোর যোগাযোগ হয় এখানে।

shutterstock_65213782.jpg

২.ইলিউমিনিদের কাজকর্ম ও যোগাযোগের জায়গা

আপনি কি পৃথিবী র সবচেয়ে সিক্রেট সোসাইটি সম্পর্কে জানেন? এই সোসাইটির নাম হচ্ছে Illuminati. যারা গোপনে নিয়ন্ত্রণ করছে পুরো পৃথিবী। বিশেষ করে ব্যাংক এবং মিডিয়া। তাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে সমগ্র পৃথিবীকে নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আসা। পরবর্তী পর্বে ইলিউমিনি দের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। এরা এতটাই গোপন যে এদের সদস্যরা কখনই নিজেদের প্রকাশ্যে পরিচয় দেয় না। এরা ব্যবহার করে অনেক উঁচু লেভেল এর প্রযুক্তি। এই সোসাইটির সদস্য রা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে এই মারিয়ানাস ওয়েবে। অর্থাৎ তাদের নেটওয়ার্ক টি এতই শক্তিশালী এবং গোপন যে তা খুঁজে পাওয়া এক প্রকার অসম্ভব। তাদের কাছে আছে পৃথিবীর প্রাচীনতম ইতিহাস, রহস্যময় ঘটনা এবং গোপন ষড়যন্ত্র সমূহ।

 

৩.মানুষের উপর গোপন গবেষণা এবং তার ডাটাবেস
বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর লোকচক্ষুর আড়ালে জীবিত মানুষের উপর অমানবিক গবেষণাগুলো করা এখানে। এসকল গোপন গবেষণার তথ্যগুলো ডাটাবেস আকারে মজুদ করা আছে মারিয়ানা ওয়েব এ।

৪. আটলান্টিস দ্বীপের গোপন তথ্য
মানব ইতিহাসের এক রহস্যের নাম হচ্ছে আটলান্টিস দ্বীপ।বলা হয় খুব প্রাচীনকালে এক উন্নত শহর ছিল আটলান্টিস। সবচেয়ে গোপন বিষয় হচ্ছে তারা প্রযুক্তিগত দিকে এমন কিছু আবিষ্কার করেছিল যা বর্তমান আবিষ্কারকেও হার মানায় । অনেকে বলে এটা শুধুই কল্পনা। আবার অনেকে বলে ইচ্ছে করেই এই উন্নত জাতিটির তথ্য পৃথিবীর কাছে গোপন রাখা হয়েছে। যেসকল তথ্য হয়ত মানবতার ইতিহাসই বদলে দিবে। খুব গোপনে এই দ্বীপে গবেষণা চালান হচ্ছে, যার তথ্য মজুদ করা আছে মারিয়ানাস ওয়েবে।

t1larg.mythical.islands.gi.jpg

 

মারিয়ানা ওয়েব কি হ্যাক করা সম্ভব?

বলা হয়ে থাকে মারিয়ানা ওয়েবের সাইটগুলো ব্রেক করা বা হ্যাক করা একধরনের অসাধ্য কাজ। এর সিকিউরিটি হচ্ছে ইম্পেরিটিবল।
সাধারণ মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দিয়ে এটি হ্যাক করা সম্ভব নয়। এই সাইটগুলো হ্যাক করতে একজন হ্যাকারের প্রয়োজন হবে কোয়ান্টাম কম্পিউটার। কোয়ান্টাম কম্পিউটার হচ্ছে এক ধরনের সুপার কম্পিউটার। বলা হয়ে থাকে এই কম্পিউটার গুলো এতই শক্তিশালী যে এরকম চারটা কম্পিউটার দিয়ে আমেরিকাকে লিড করা যাবে। তাহলে বুঝতেই পারছেন সাধারণ মানুষ দূরে থাক অনেক দেশের পক্ষেও অসম্ভব এই গোপন জায়গায় প্রবেশ করা।

p0193ctw.jpg

quantum computing

মারিয়ানাস ওয়েব সম্পর্কে কোন অফিসিয়াল তথ্য কোথাও পাওয়া যায় না। তাই বলে বলা যাবে না এর কোন অস্তিত্ব নেই। কারণ বড় বড় দেশ, গোপন সংস্থা বা অপরাধী প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের সাধারণ জনগণের চোখের আড়ালে নেয় অনেক মানব বিধ্বংসী সিদ্ধান্ত , গোপন চুক্তি, এমন কি করে অনেক অমানবিক গবেষণা। লোকচক্ষুর আড়ালে আছে অনেক সিক্রেট সোসাইটি, আছে অনেক গোপন ষড়যন্ত্র।লুকিয়ে রাখা হয়েছে প্রাচীন ঐতিহাসিক তথ্য। হয়ত একদিন সব প্রকাশ পাবে ।তবে ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে পৃথিবীর মানুষকে।

(চলবে)

 

 

ডার্ক ওয়েব: ইন্টারনেটের নিষিদ্ধ জগত!! (পর্ব-১) ডার্ক ওয়েব কি?

Now Reading
ডার্ক ওয়েব: ইন্টারনেটের নিষিদ্ধ জগত!! (পর্ব-১) ডার্ক ওয়েব কি?

Blue Whale  গেমস বর্তমানে খুবই আলোচিত একটি বিষয়। এটি এমন একটি গেমস যার ফলে সারা বিশ্বের প্রায় কয়েক শ তরুণ তরুণী আত্মহত্যা করেছে। সম্প্রতি গুজব উঠে , বাংলাদেশেও বলে এই গেমস এর কারণে আত্মহত্যা ঘটেছে। এরপরই সোশিয়াল মিডিয়া থেকে শুরু করে পত্র -পত্রিকা গুলোতে শুরু হয় এই গেমস নিয়ে আলোচনা।

স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের মধ্যে এই খেলাটি খেলার জন্য আগ্রহ তৈরি হয়। ফল স্বরূপ শুরু হয় সার্চিং। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায় না এই গেমস এর লিংক । কিন্তু কেন? তখন জানা যায়, এটা একটি ডার্ক ওয়েব গেম। যার কারণে এই খেলাটির লিংক কোন ইউটিউব, গুগল, ফেসবুক এ সার্চ দিয়ে পাওয়া যাবে না।

আর তখনি আলোচনায় উঠে আসে ডার্ক ওয়েব শব্দটি। আসলে, কি এই ডার্ক ওয়েব ?
ডার্ক ওয়েব হচ্ছে ইন্টারনেট এর একটি ভয়ংকর অন্ধকার জগত। এটি এমন একটি জগত যা সাধারণ মানুষের ধরা-ছোঁয়া, এমন কি জ্ঞানেরও বাইরে!!

 

গুগলে যখন আমরা কোন তথ্যের জন্য সার্চ দেই তখন আমরা অবাক হয়ে যাই। যেকোনো বিষয়ে লাখ লাখ তথ্য পাওয়া যায় ইন্টারনেটে। কিন্তু, আপনি জানলে অবাক হবেন, আপনি নেটের পুরো তথ্যের মাত্র ১০% দেখছেন। বাকি ৯০% তথ্য যা থাকে আমাদের দৃষ্টির বাইরে। আর এই ৯০% তথ্য গুলো আমরা চাইলেই সার্চ করে খুঁজে পেতে পারি না । যেমন, পাসওয়ার্ড, সোর্স কোড, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য, সরকারি গোপন তথ্য ইত্যাদি। ওয়েব এর এই অংশ টাকে বলা হয় ডিপ ওয়েব বা Deep web। আর এই দুই টি ছাড়া আরেক টি যে অংশ আছে সেটাই হচ্ছে ভয়ানক ডার্ক ওয়েব । এই অন্ধকার জগতের কোন তথ্য আপনি সাধারণ সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে পাবেন না।

 

 

main-qimg-714dd751dbb8eeea86c93310cd5e1a8c-c.jpg

 

সুতরাং, আমরা যদি ইন্টারনেট এর দুনিয়াকে একটি সাগরের সাথে তুলনা করি। তবে দেখতে পাব-
এর সবচেয়ে উপরের অংশ হচ্ছে surface web অর্থাৎ সেই অংশ যে জায়গার তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত।যে কেও এখান থেকে তথ্য খুঁজে পেতে পারবে। আর, তার নিচের বিশাল অংশটি হচ্ছে ডিপ ওয়েব। যেখানে কার তথ্য সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রোগ্রামার, প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা এখানে বিচরণ করে। আর, ডিপ ওয়েব এর সবচেয়ে নিচে যে অন্ধকার জগত রয়েছে তাই হচ্ছে ডার্ক নেট। যেখানে বিচরণ করে বিভিন্ন হ্যাকার, অপরাধী, মাদক-অস্ত্র বিক্রেতা এবং মানসিক ভাবে অসুস্থ ও বিকৃত রুচির মানুষেরা।

 

কি করা হয় এই এই ডার্ক ওয়েবে :

ডার্ক ওয়েবে বা ডার্ক নেটে এত ভয়ংকর কাজ হয়, যা আপনার ধারনার বাইরে। এখানে যে কাজ গুলো হয়, সেগুলো হচ্ছে-

 

১. অবৈধ অস্ত্র লেনদেন-

যেকোনো ধনের অস্ত্র , একে ৪৭ থেকে শুরু করে রকেট লাঞ্চার, মর্টার ইত্যাদি যেকোনো ধরনের অবৈধ অস্ত্র এখানে পাওয়া যায়। বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এখান থেকে অস্ত্র কেনা বেচা করে। এমন কি অস্ত্র বানানো থেকে শুরু করে অস্ত্র চালানোর ট্রেনিং ও দেওয়া হয় এখানে। বিভিন্ন জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এখান থেকেই অস্ত্র কেনা বেচা করে।

Armory-Website.jpg

 

২. অবৈধ ড্রাগস লেন দেন-

যেকোনো ধরনের অবৈধ ড্রাগস, ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ কেনা বেচা করা হয় ডার্ক নেট এ। এরকম একটি সাইট হচ্ছে সিল্ক রোড। ২০১৩ সালে যার প্রধানকে ধরার পর প্রথম এই বিশাল জগত টি সাধারণ মানুষের আলোচনায় আসে। কত কম দামে কত বেশি ড্রাগস পাওয়া যায় এরকম সব ধরনের তথ্য আছে এখানে।

Silk-Road-website-007.jpg

৩. দুর্ধর্ষ হ্যাকিং-

ডার্ক নেটের এই অংশে একমাত্র উঁচু লেভেল এর হ্যাকার রাই প্রবেশ করতে পারে। সরকারি বিভিন্ন তথ্য চুরি করাতে এদের জুড়ি নেই। বলা হয়, উইকিলিকে যে তথ্য ফাঁস করে হইচই ফেলে দিয়েছে, তা অনেক বছর আগেই ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ পেয়েছিল।

মানব ইতিহাসের অতি গোপন তথ্য,যা সাধারণ মানুষ জানে না। এরকম গোপন তথ্য গুলো পাওয়া যায় ডার্ক নেটে। তবে উঁচুমাত্রার হ্যাকার রাই একমাত্র এই লেভেলে প্রবেশ করতে পারে।

hacker-1952027_1920.jpg

 

 

৪. পেশাদার খুনি –
পেশাদার খুনিও ভাড়া করা যায় ডার্ক নেটে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, যে কাওকে খুন করার জন্য বিপুল অর্থের বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করা যায় এখানে।

killer-820017_1920.jpg

৬. টর্চার, রেপ – বিকৃত রুচির মানুষের বিচরণ রয়েছে এ সকল সাইটে। যারা টাকার বিনিময়ে লাইভে অন্য মানুষদেরকে টর্চার হতে দেখে। বিভিন্ন মানুষ কে জোর করে ধরে এনে নির্যাতন করা হয়। এবং তা লাইভে দেখান হয় যা এতই ভয়াবহ যে সাধারণ মানুষ তা সহ্য করতে পারবে না।

৭. এমনকি, মানুষ এর উপর মেডিকেল গবেষণা করার জন্য জ্যান্ত মানুষ ও পাওয়া যায়। অর্থাৎ , বিভিন্ন ছিন্নমূল মানুষ যাদের মৃত্যু হলেও কেও জানবে না, এমন মানুষ দের ধরে নিয়ে এসে, তাদের উপর অমানবিক গবেষণা গুলো করা হয়।

৮। জাল পাসপোর্ট

৯। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ,পর্নগ্রাফি।

 

এছাড়াও আপনার চিন্তারও বাইরে , এমন সব অপরাধ মূলক কাজ করা হয় এ জগতে। সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হবে পরবর্তী পর্ব গুলোতে।

কেন এই সাইট গুলো সাধারণ ব্রাউজারে পাওয়া যায় না?

আগেই যেমন বলেছি এইসকল অবৈধ তথ্য, ওয়েবসাইট আপনি আপনার সাধারণ ব্রাউজার যেমন – গুগল, ইয়াহু বা বিং এ খুঁজে পাবেন না। এই ডার্ক নেট ব্যাবহারের জন্য একটি স্পেশাল ব্রাউজার ব্যাবহার করা হয়। যার নাম হচ্ছে TOR ব্রাউজার।
তবে কৌতূহল বশেও কখন TOR ব্রাউজার ব্যাবহার করবেন না। কারণ এর মাধ্যমে আপনার কম্পিউটার এ ভাইরাস এটাক হতে পারে। সেই সাথে এরা এমন সব সফটওয়্যার ইন্সটল করতে বলে, যা কম্পিউটারের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

 

TOR-BROWSER-6.0.5.jpg

ডার্ক নেটের সাইটগুলোর নামও থাকে খুব উদ্ভট ধরনের। মনে হয় কেও যেন ভুলে উলটা পালটা টিপাটিপি করেছে।
যেমন- http://nzfbqc6hd3.onion । পড়ার অযোগ্য থাকে এই সাইটগুলোর নাম এরা .com .net এই ধরনের ডোমেইন এক্সটেনশন ব্যাবহার করে না। এদের থাকে .onion এরকম ধরনের অপরিচিত ডোমেইন এক্সটেনশন।

কিভাবে হয় এ জগতের লেনদেন?

এখান কার লেনদেন হয় মূলত বিট-কয়েন এর মাধ্যমে। এটি একটি অনলাইন কারেন্সি । এই কারেন্সিটিতে সরকারের হিসাব থাকে না।

আর এভাবেই চলতে থাকে ডার্ক ওয়েবের লেনদেন।।

(চলবে)