নারী ছলনাময়ী না সাবধানীঃ নারী দিবস ২০১৮

Now Reading
নারী ছলনাময়ী না সাবধানীঃ নারী দিবস ২০১৮

টাইটানিক সিনেমার শেষের দিকে বৃদ্ধা রোজের একটা ডায়লগ আমার মনে পড়ে – “A women heart is deep ocean of secrets.” । মেয়েরা অনেক গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারে – এটা বুঝানো হয়ম্নি এই বাক্যের মাধ্যমে। বরং এই বাক্যের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে – মেয়েরা খুব সহনশীল। প্রকৃতিগত কারনে আমরা পুরুষরা শারীরিক শক্তি বলে বেশি সক্ষম, ব্রেন খাটানোর জায়গা ও সুযোগ হয়ত আমাদের বেশী। কিন্তু সহনশীলতা – এই জায়গাটাতে তারা আমাদের থেকে বহু বহু গুনে এগিয়ে।

নারী শ্রেষ্ঠ নাকি পুরুষ – এ নিয়ে বিতর্ক চিরদিনের। কবি নজরুল ইসলাম অবশ্য বলে গেছে দুই সাইডেই সমান । উনার ভাষ্যে –

“বিশ্বে যা কিছু মহার সৃষ্টির চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধের তার নর।”

এত উলটো টাও কিন্তু হয়।

“বিশ্বে যা কিছু মহার ধ্বংসের চির অকল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধের তার নর।”

গোলডা মেইর , একজন শিক্ষিকা যিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বলেছেন – “” Weather women are better than men i cant say but they are certainly no worse.” এর মানে মেয়েরা কখনোই ছেলেদের থেকে খারাপ না।

নারী নিয়ে অনেক গান আছে। আইয়ুব বাচ্চু বলেছেন – মেয়ে তুমি কি দুঃখ চিন , চিন না তবে চিনবে কেমন করে এই আমাকে? তপু ভাই বলেছেন – মেয়ে , তুমি এখনো আমায় গে ভাব কি?

দুঃখিত গে না, শব্দটা বন্ধু হবে। বন্ধুতের পরবর্তী পদ ভালবাসা আর সে ভালবাসায় দিনে দিনে মনের মিল না হলেই আমাদের কাছে নারী ছলনাময়ী। আসলে মেয়েরা ছলনাময়ী/হঠকারী না। শব্দ গুলো কেমন যেন ঘৃনা ধরায়। আসলে নারী খুব সাবধানী, এরা প্রকৃতিগত ভাবেই এমন।নিজেদের নিরাপত্তার কথা সবার আগে তাদের চিন্তা করতে হয়।

ভাল খারাপ দুটি দিক নিয়েই মানুষ। দুনিয়াতে খারাপ নারী পুরুষের অনুপাত তা সমান সমান বৈকি। কে যেন বলেছিল – “দুনিয়াতে খারাপ মহিলা অনেক আছে, কিন্তু খারাপ মা একটিও নাই।” বিপরীতে আবার পুরুষ লাগাবেন না, দুনিয়ায় খারাপ পুরুষ তো আছেই, খারাপ বাবাও আছে। অনেক বাবা আছে, উনাদের নস্টামির সিড়ি নিজের মেয়েকে জোর পুর্বক বিছানায় নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত হয়।
ইমদাদুল হক মিলনের একটা বই ছোটকালে উপহার পেয়েছিলাম জেঠির কাছ থেকে। সেখানে এক মা নিজের সন্তান এর ভাল থাকা ও নিজের ভালবসার জন্য জেলে থেকে মাছ ব্যাবসায়ী, তার থেকে ভাড়াটে গুন্ডা এবং ঐ গুন্ডার সি এন জি ওয়ালার ঘর পর্যন্ত করে।

মেয়েরা মায়ের জাত। কাজেই তারা শ্রদ্ধার পাত্রী। আজকের নারী দিবসে পৃথিবীর সকল মা – বোনকে জানাই অন্তরের গভীর থেকে শত সম্মান ও সালাম।

দিবস | প্রয়োজনীয় নাকি অপ্রয়োজনীয়?

Now Reading
দিবস | প্রয়োজনীয় নাকি অপ্রয়োজনীয়?

ইদানীং সোস্যাল মিডিয়ার কারণে আমাদের দেশে বিভিন্ন দিবস অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তন্মধ্যে কয়েকটি হলো ভ্যালেন্টাইনস ডে, মাদার’স ডে, ফাদার’স ডে এবং আজ চলছে ফ্রেন্ডশিপ ডে। অবশ্য ফ্রেন্ডশিপ ডের তারিখ নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে। উইকিপিডিয়াতে দুইটা ভিন্ন তারিখই দেওয়া আছে। একটা হচ্ছে ৩০ জুলাই, আরেকটা হচ্ছে আগস্টের প্রথম রবিবার যেটা কিনা আজ চলছে। থাক এই বিষয়ে আর যাব না, আজ এই লেখার প্রসঙ্গ এটা না।

প্রতিটা দিবস ঘিরেই দু ধরনের দলের উৎপত্তি হতে দেখা যায়। একটা দল প্রতিটা দিবসেই অন্যকে শুভেচ্ছা জানায়, সেই দিবস সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে স্মৃতিচারণ করে। আরেকটা দল সেটার সমালোচনা করে। যেমন মা দিবসে অনেকে তাদের মাকে শুভেচ্ছা জানায়, বিভিন্ন সারপ্রাইজ দেয়। মাকে নিয়ে তাদের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়। আর অন্য দলটা সেটার সমালোচনা করে বলে যে মাকে নিয়ে আবার দিবস কিসের! প্রতিটা দিবসই মা দিবস, প্রতিটা দিনই মাকে ভালোবাসার দিন। হ্যাঁ, তাদের কথা একেবারে ভুল নয়। তবে আমি মনে করি দিবসেরও প্রয়োজনীয়তা আছে। মাকে যেমন আমরা প্রতিদিনই ভালোবাসলেও সেটা আসলে সেভাবে কখনো প্রকাশ করা হয় না। মাকে নিয়ে দিবস থাকায় সেদিন একটু বিশেষভাবে সেটা প্রকাশ করতে পারি। তাদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে পারি, বিভিন্নজনের স্মৃতি কিংবা বিভিন্ন মধুর ঘটনা জানতে পারি। এতে করে মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধাটাও অনেকটা বেড়ে যায়। মাকে হুট করে গিয়ে ভালোবাসার কথাটা বলা যায় কিংবা কোনো একটা সারপ্রাইজ দিয়ে খুশি করা যায় যা এমনিতে প্রতিদিন সম্ভব নয়। সুতরাং মা দিবস উদযাপন করাতে আমি খারাপ কিছু দেখি না।
এছাড়াও আজকের ফ্রেন্ডশিপ ডে নিয়ে বলতে গেলেও এমন অনেক কিছু বলা যায়। আমাদের সকলেরই এমন অনেক ভালো ফ্রেন্ড আছে যাদের সাথে এক সময় দিনের বেশিরভাগ সময় কাটানো হলেও এখন কালের পরিক্রমায় তারা একেকজন একেক জায়গায় চলে গিয়েছে। যোগাযোগও হয় না তেমন একটা। কিন্তু এই ফ্রেন্ডশিপ ডে তে তাদের কথা সবারই একটু বিশেষভাবে মনে হবে। অনেকে তাদের শুভেচ্ছা জানাবে এতে করে পুরাতন বন্ধুত্বটা আরো সুহৃদ হবে, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব বাড়বে। শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে হয়তো অনেকে কথোপকথনও জুড়ে দিবে। উঠে আসবে না বলা অনেক কথা। সব মিলিয়ে এই দিবস পালন করাকে আমার কাছে অপ্রয়োজনীয় কিছু মনে হয় না। বরং এটা প্রয়োজনীয়, অনেক বেশিই প্রয়োজনীয়, অন্তত আমার কাছে তাই মনে হয়। যদি অপ্রয়োজনীয়ই হতো তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বে এতো এতো দিবসের উৎপত্তি হতো না। সুতরাং আসুন আলোচনা সমালোচনা বাদ দিয়ে প্রতিটা দিবস থেকেই ভালো কিছু বের করে আনার চেষ্টা করি। ভালোবাসা দিবসে গার্লফ্রেন্ডের সাথে ভালোবাসা দিবসেরই অযুহাতে সারাদিন ডেট করে বাসায় এসে সেই ভালোবাসা দিবসেরই সমালোচনা বন্ধ করি।

আসলে দুনিয়াটা এমনই যে এখানে যে কেউ যত ভালো কিছুই করুক না কেন তার বিপক্ষে কেউ না কেউ থাকবেই। আপনি কিছু করছেন, আপনার বিবেকই বলে দিবে সেটা ভালো নাকি খারাপ। সুতরাং ভালো কিছু করতে গিয়ে দুই-একজনের সমালোচনায় কখনো দমে যাবেন না। তাছাড়া তাদের সমালোচনা কানে নেওয়াই দরকার নেই যারা কখনো আপনার ভালো কাজেরও প্রশংসা করেনি।

আজকে যেহেতু বন্ধুত্ব দিবস তাই বন্ধুত্ব নিয়েই একটা নীতিগল্প শেয়ার করি।

একদিন দুই বন্ধু মরুভূমি দিয়ে হাটছিল। হঠাৎ তাদের মাঝে কোনো কারণে বাকবিতন্ডা হওয়ায় একবন্ধু আরেক বন্ধুকে থাপ্পর মারে। এরপর থাপ্পর খাওয়া বন্ধুটি বালির মধ্যে লিখে- আজ আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু আমাকে থাপ্পর মেরেছে। এরপর তারা আবার হাঁটতে থাকে একটা সমুদ্র না পাওয়া পর্যন্ত যেখানে তারা গোসল করতে পারে। সমুদ্র পাওয়ার পর গোসল করার সময় থাপ্পর খাওয়া বন্ধুটি হঠাৎ ঢেউ আসায় ডুবতে শুরে করে এবং তার থাপ্পর মারা বন্ধুটি তাকে বাঁচায়। এরপর সে পাথরে খোদাই করে লিখে রাখে- আজ আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু আমাকে বাঁচিয়েছে। তো এটা দেখে যে বন্ধুটি থাপ্পর মেরেছিল এবং বাঁচিয়েছিল সে জিজ্ঞেস করে, “তোকে মারার পর সেটা তুই বালিতে লিখে রাখলি আর এখন বাঁচানোর পর পাথরে কেন?” অন্যজন উত্তর দেয়, ” কেউ আমাদের আঘাত করলে সেটা বালিতে লিখে রাখা উচিৎ যাতে ক্ষমার বাতাস এসে তা মুছে দিতে পারে। কিন্তু, কেউ আমাদের ভালো কিছু করলে সেটা খোদাই করে লিখে রাখা উচিৎ যাতে কোনোকিছুই সেটাকে মুছতে না পারে।”

এই গল্পটার মোরালটা এমনই যে আমাদের কেবল কারো ভালো কিছুকেই মনে রাখা উচিৎ এবং খারাপটাকে ক্ষমা করে দিয়ে ভুলে যাওয়া উচিৎ। সেদিন সে বন্ধুটি থাপ্পর খাওয়ার পর যদি সেটা মনে রাখতে গিয়ে তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিত এবং একা একাই যদি সমুদ্রে গোসল করতে যেত তবে তার কিন্তু ঢেউয়ে ডুবে মরার একটা সমূহ সম্ভাবনা থাকতো। আসলে বিপদে কখন কাকে প্রয়োজন হয় তা আমরা কেউ জানি না। তাই কারো খারাপ কিছুকে মনে না রেখে সেটা ভুলে গিয়ে সবার সাথে সবসময় মিলে মিশেই থাকা উচিৎ।

যাহোক, সবাইকে ফ্রেন্ডশিপ ডের শুভেচ্ছা- হ্যাপি ফ্রেন্ডশিপ ডে। ফ্রেন্ডকে নিয়ে আপনাদের কারো কোনো মজার ঘটনা থাকলে কমেন্টে বা আমার ফেসবুকের ইনবক্সে শেয়ার করতে পারেন। আমার ফেসবুক আইডি লিংক এখানে খুঁজলেই পাবেন। না পেলে কমেন্ট করুন, আমি পরে রিপ্লাই দেবো। ভালো ও সুন্দর কিছু ঘটনা পেলে ঘটনা বর্ণনাকারীকে মেনশন করে সেসব ঘটনা কোনো একদিন কোনো একটা লেখার মাধ্যমে সবার সাথে শেয়ার করবো। ভালো থাকুন, সবাইকে ভালো রাখুন।