বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং নিয়ে নানা কথা

Now Reading
বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং নিয়ে নানা কথা

world-university-rankings-2013-2014d.jpgএকটা শিক্ষার্থীকে শিক্ষার কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার কল্যাণে বোর্ড পরীক্ষার পরিমাণ বেড়েছে। তবে একটা শিক্ষার্থীর জীবন গড়ে দেওয়ার ধাপ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হয়ে থাকে। তবে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার আগে অবশ্যই জানা দরকার বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর অবস্থান। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না যে কি পড়বে বা কোনটা নিয়ে পড়া তাদের ভালো হবে। এগুলো চিন্তা করতে করতেই তাদের অর্ধেক চুল সাদা হয়ে যায়। আবার বেশিরভাগই জানে না তারা কোন বিষয়কে পছন্দ করে? তাই অনেকে ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় বাবা-মায়ের চেপে দেওয়া মতের সাথে একাত্ন ঘোষণা করে সারাজীবন অপছন্দের বিষয়ে বা অপছন্দের ইউনিতে মুখ বুঝে পড়াশুনা শেষ করে।

যাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে তারা নিজের পছন্দ মত বিষয়ে পড়তে পারে না বা তারা কি করবে সিদ্ধান্ত নিতে পার না তাদেরকে ছাত্র হিসেবেই সারাজীবন পার করে দিতে হয়। সিস্টেমের গোলযোগ আর তথ্যের ঘাটতির কারণে এভাবে বহু ছাত্র তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে কোনদিন পৌঁছুতে পারে না। আর এভাবে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা গানিতিক হারে বেড়ে চলেছে।

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান জানার প্রতি আগ্রহ সব সময়ই থাকে ছাত্র এবং অভিবাবকদের মাঝে। আবার অনেকেই এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত নন।পৃথিবী বিখ্যাত র‍্যাঙ্কিংগুলো করে থাকে যেমনঃ টাইমস (মিডিয়া হাউস); হুরুন, কিউএস ইত্যাদি। ভারতে যেমন করে সরকার নিজে; ইন্ডিয়া টুডে ইত্যাদি।  বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং এর মাধ্যমে ছাত্র ও অভিবাবক জানতে পারে যে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান কেমন বা বিশ্বে এর অবস্থান কিভাবে দেখা হয়। এটা জানা তাদের খুবই দরকার।

বৈশ্বিক অবস্থান বিবেচনায় বর্তমানে চার-পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং চালু আছে। এগুলো হচ্ছে  QS “World University Ranking”; Times Higher Education World University Ranking; Academic Ranking of World Universities (ARWU); the CWTS Leiden Ranking and the Webometrics Ranking. ওয়েবোমেট্রিক্স ওয়েবভিত্তিক র‍্যাঙ্কিং। এখানে দেখা হয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর কতগুলো প্রতিষ্ঠানের সাথে লিংক রয়েছে। তাদের ওয়েভপেইজ এ কি পরিমাণ তথ্য রয়েছে ইত্যাদি। এটা তেমন কার্যকরী র‍্যাঙ্কিং নয়।
এগুলো আবার বিভিন্ন মাপকাঠিতে ‍র‍্যাঙ্কিংগুলো করে থাকে। যেমন, ARWU’ র অন্যতম মাপকাঠি হল তাদের একাডেমিক কোয়ালিটি মানে তাদের কতসংখ্যাক অ্যালামনাই ও ফ্যাকাল্টি নোবেল প্রাইস পেয়েছে; ভালো মানের জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশ ইত্যাদি। অন্যপক্ষে, কিউএস ও টাইমস দেখে ছাত্র-শিক্ষক সংখ্যা; ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিংক, রিসার্স ইত্যাদি। লেইডেন বিজ্ঞানকে প্রাধান্য দেয়।

 

 

ভারতে সরকারীভাবে র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয় যা অত্যন্ত বিশ্বস্ত স্থান থেকে বানানো হয়। বিদেশী ছাত্রদের টানার জন্য তারা এমন কাজ করে থাকেন। তারা এর মাধ্যমে দ্বিধাতে ভুগে না। একজন বাংলাদেশী ছাত্র দেখবে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় রেঙ্কিং এ টপ টেন-এ আছে, তখন সহজেই তিনি বাড়ির পাশে হওয়াতে ভালো মানের শিক্ষা পেতে আগ্রহ বোধ করবেন। এতে দুইটি উপকার হচ্ছে দেশগুলোর তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান বাড়িয়ে নিতে পারছে; ভাল শিক্ষার্থীকে ভাল অফারের মাধ্যমে নিজ দেশ চাকরি দিয়ে ব্রেন গেইন করছে। আর আমাদের মতো দেশ যাদের এই বিষয়ে কোনো নীতিমালা বা দূরদর্শীতা নেই তারা প্রতিনিয়ত হারাচ্ছি জাতির কিছু মেধাবী সন্তানদের।

ওভারওল র‍্যাঙ্কিং যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমও হয়, এর মানে এই নয় ঢাবির সব বিষয়ই সেরা। এক্ষেত্রে বুয়েট ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে সেরার আসন দখল করবে। আবার যদি সাবজেক্ট বিবেচনায় নেওয়া হয় তাহলে হয়তবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় শাহাজালাল বিশ্ববিদ্যালয় সেরা হবে তাদের আলামনাই ও ঐতিহ্যগত কারণে। কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয় বুয়েটের পরেই অনেকে শাহাজালালকে বেছে নিবে। আবার আইন বিষয়ে অনেকে চট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেবে। এগ্রি বিষয়ে বাংলাদেশ এগ্রি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিষয় টপে থাকবে। আবার বিদেশী ছাত্র আধিক্য ও সেশনজট সমস্যা না থাকার কারণে অনেকে হাজি দানেশ কিংবা নতুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নিবে। এতে দেখা যাবে কোন ছাত্র আগে থেকেই পছন্দ করে রাখতে পারবে সে কি বিষয়ে পড়তে চায়, কোথায় পড়তে চায়? এতে বিশ্ববিদ্যালয় সাথে সাবজেক্টও ভূমিকা পালন করছে। আবার চাকরীদাতারাও সচেতন থাকবে কোন ছাত্র কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিষয়ে পড়াশুনা করেছে। সেই অনুযায়ী তারা ছাত্রকে চাকরীর বাজারে মূল্যায়ন করতে পারবে।

কী কী বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এই র‍্যাঙ্কিং হতে পারে? সেটা আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিং  যেভাবে হয় সেই বিবেচনার সাথে দেশী কোনো কোনো জিনিস যোগ করা যেতে পারেঃ

১। ছাত্র শিক্ষক অনুপাত

২। পরিবেশ

৩। শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে তাদের বাজেট

৪। কারিকুলাম হালনাগাদ

৫। এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটি

৬। রিসোর্স

৭। সেশনজট

৮। শিক্ষাবৃত্তি

৯। অবস্থান

১০। বিদেশী শিক্ষার্থী

১১। উচ্চশিক্ষিত শিক্ষক

১২। শিক্ষকদের কতজনের আন্তর্জাতিকমানের জার্নালে কতটি পাবলিকেশন আছে

এর মাধ্যমে অভিবাবকরা জানতে পারবে যে সকল বিষয়েঃ

১। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে কোন বিষয় গুলো ভালো হবে এবং কোনগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এবং ভর্তি হওয়া কি ভুল হবে কিনা।

২। অভিভাবকদের মধ্যেও জানা থাকবে ইউনি বা সাবজেক্টের সর্বশেষ অবস্থা। এতে তারা নিশ্চিত হতে পারবেন যে তাদের সন্তানেরা সঠিক জায়গাতে গিয়েছেন।

৩। খারাপ র‍্যাঙ্কিং এর কারণে খারাপ ইউনিগুলোর বা ভালো ইউনির দুর্বল র‍্যাঙ্কিং এর বিষয়গুলোর উপর ভীষণ চাপ বাড়বে। ছাড়া প্রাইভেট ভার্সিটিগুলোও খারাপ অবস্থার কারণে সরকারের নজরদারীতে আসবে। ছাত্র না পেলে মালিকপক্ষেরও ভাবতে হবে ভার্সিটি টাকা কামানোর মেশিন নয়।