বাংলাদেশের রহস্যময় গা ছমছমে ভুতুড়ে জায়গা

Now Reading
বাংলাদেশের রহস্যময় গা ছমছমে ভুতুড়ে জায়গা

ঢাকার তেঁজগাও এর মনিপুরীপাড়া এলাকায় একটি পুরানো খ্রিষ্টান বাড়ি আছে এই বাড়িটিতে ভাড়াথাকা প্রায় সব ভাড়াটিয়াই ভুতুড়ে ও অদ্ভুত কান্ড দেখতে পান। অনেকসময় গভীর রাতে বাড়িটির নিচে দোলনায় কাউকে দুলতে দেখা যায়। এছাড়াও গভীর রাতে বাড়ির ছাদে কাউকে হৈচৈ করতে দেখা যায়। কিন্তু ছাদে গেলে কাউকে দেখা যায় না। শোনাযায় ঐ বাড়িটির বাড়িয়ালার মেয়ে প্রায় ১৬ বছর আগে গলায় ফাঁশ দিয়ে মারা যান। মেয়েটি মানুষিক ভাবে অসুস্থ ছিল। এই আত্বহত্যার পর থেকেই নাকি ঐ সব ভুতুরে কান্ড দেখতে পাওয়া যায়।

পুরান ঢাকার মিষ্টির দোকানে কিছু লোক প্রায় সময়ই রাত ৮ টার দিকে এসে ১০ থেকে ১২ রকমের মিষ্টি কিনে নিয়ে যায়।তারা যেই দোকনে ঢুকে সেই দোকানের মালিককে লাইট নিভিয়ে দিতে বলে। অন্ধকারে তারা আসে আর অন্ধকারেই তারা চলে যায়। এই লোকগুলো আকারে অনেক লম্বা এবং তাদের চেহারাও আজ পর্যন্ত ঠিকমত কেউ দেখেনি। ধারনা করা হয় তারা জীন প্রজাতী এবং তারা এই রকম প্রায়ই এসে মিষ্টি নিয়ে যায় । পুরানো ঢাকার স্থানীয় লোকেরাও তাদের কথা জানেন।

ঢাকার এয়ারপোর্ট রোডে গভীর রাতে গাড়ি চালাতে চালাতে হঠাৎ করে চালক দেখে সামনের রাস্তায় সাদা পোষাক পড়া একটি মেয়েকে সে যেন দৌড়ে আসছে গাড়ির কাছাকাছি ।মেয়েটি অবিশ্বাস্য গতিতে গাড়ির দিকে এগিয়ে আসে। ভয়পেয়ে চালক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেললেই ঘটে দুর্ঘটনা।এই অশ্বরিরী মানুষের স্পর্ষ বা আঘাত করেনা বরং ভয় দেখানোই তার উদ্যেশ্য । এরপর মেয়েটি আর তাকে দেখা যায় না।সে উধাও হয়ে যায়। শোনা যায় অনেক আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারসহ মেয়েটি সেখানে মারা যায়। এরপর থেকে এই ঘটনা ঘটায় কারন সে যেন প্রতিশোধ নিতে চায়। সে চায় সে যেমন তার পরিবার সহ মারা গিয়েছে অন্য পরিবার বা পরিবারের লোকজনও যেন ঠিক সেই রকম ভাবে ভয়পেয়ে যেন সেখানে মারা যায়। ভয় পেয়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রন না হারালে ঘটবেনা কোন দুর্ঘটনা। চলন্ত গাড়িতে চালক একাকী গাড়ি চালালেই নাকি বেশিরভাগ সময় এই রকম ঘটনা দেখা যায়। নিয়ন্ত্রন হারিয়ে এই পর্যন্ত অনেক সড়ক দূর্যটনা ও প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে, আহত হয়েছে অনেকে। কেউ কেউ বলেন যে, জসীম উদ্দিন ও বিমান অফিসের মাঝামাঝি সড়কে এই ঘটনা দেখা যায়। আবার অনেকে বলে নিকুঞ্জ ও বিমান অফিসের মধ্যবর্তী সড়ক এলাকায় দেখা পাওয়া যায় এই অশ্বরিরীর। তবে দিনের বেলায় এই রকম রহস্যময় কিছু দেখতে পাওয়া যায় না।

লালবাগ কেল্লা অন্যতম আকর্ষনীয় এবং বাংলাদেশে পুরান ঢাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক একটি স্থান যা মুঘল আমলে নির্মিত হয়েছিল। লালবাগ কেল্লাও ভুতরে স্থান হিসাবে বেশ পরিচিত। কেউ কেউ বলে লালবাগ কেল্লায় সুবেদার শাহেস্থাখানের কন্যা পরিবিবির আত্বাকে রাতের বেলায় ঘুরতে দেখা যায়।সেখানের স্থানীয় মসজিদে রাত তিনটার সময় নাকি কিছু লোককে নামাজ পড়তে দেখাযায়। যদিও ফজর নামাজের আসল সময় ৪:০০ টা থেকে ৫:০০ টা বা তার আশেপাশে হয়ে থাকে। নামাজপড়ার শব্দে সেখানে উপস্থিত হলে দেখা যায় সেখানে দেখা যায় কক্ষটি ফাঁকা। সেখানে রক্ষিরা রাতের বেলায় কেমন যেন ভয় পেয়ে অসস্তি অনুভব করেন। লালবাগ কেল্লার আরো একটি ভুতুড়ে জিনিস হলো এর তলদেশে একটি সুরঙ্গ আছে। কথিত আছে এর ভিতরে একবার গেলে আর ফেরত আসে না।কেউ বলে সুরঙ্গটি এখান থেকে দিল্লী পর্যন্ত বিস্তৃত আবার অনেকে বলে এটি টঙ্গি নদীতে গিয়ে পড়েছে।কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কেউ যানে না এর গহীনে কি রহস্য লুকিয়ে আছে। বৃটিশ আমলে একটি অনুসন্ধানী দল দুটি কুকুরের গলায় চেইন বেঁধে এই গুহায় পাঠানো হয় কিন্তু পরে ফেরত আনার জন্য সেই চেইন ধরে টান দিলে শুধু চেইনই ফেরত আসে কিন্তু কুকুরদুটির আর কোন হদিস পাওয়া যায় নাই। এরপর একটি হাতীকে সেখানে পাঠানো হয় কিন্তু সেই হাতীকের আর ফেরত পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার পর বৃটিশ সরকারের পক্ষথেকে এই সুরঙ্গপথ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং আজ পর্যন্ত সেই সুরঙ্গ বন্ধই আছে। কি রহস্য লুকিয়ে আছে সেই রহস্য আজও সকলের কাছে অজানাই রয়েগেছে।

মিরপুর ইন্ডোর স্টেডিয়ামের জায়গায় আগে অনেক বড় একটি পুকুর ছিল। সেই পুকুরে প্রায় সময়ই একজন দুইজন করে মানুষ মারা যেত।পরবর্তী সময়ে ষ্টেডিয়াম বানানোর পরে এই সমস্যার সমাধান হয়। একদিন দুপুরবেলায় ৬ নম্বর সেক্টরে নান্টু নামের একটি ছেলে পানিতে গোসল করতে নামে। কিন্তু সে আর উঠে আসেনা সেই দিন। পুকুরপাড়ে তার সেন্ডেল, লুঙ্গি আর গামছা সব পড়ে থাকতে দেখা যায়। তারপর কত ডুবুরী, কত মানুষ তন্নতন্ন করে নান্টুমিয়াকে খুজে কিন্তু তার আর হদিস পাওয়া যায় না। তার ২৪ ঘন্টা পর তার লাস ভেসে ওঠে। ষ্টেডিয়াম বানানোর সময়ও নাকি অনেক রহস্যের সন্মুখিত হতে হয়েছিল।

বান্দরবনের রুমা সদর এলাকাথেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে বগালেকের কথা আনেক আগে কেউ শুনে থাকবেন। বগা মানে হলো ড্রাগন। শোনা যায় অনেক আগে সেই এলাকায় ড্রাগন ছিল এবং এই ড্রাগন ছোট ছোট বাচ্চাদের ধরে খেয়ে ফেলত। গ্রামের লোকেরা বিরক্ত হয়ে সেই ড্রাগনকে হত্যা করলে তার মুখ থেকে আগুন বের হতে থাকে এবং প্রচন্ড শব্দে পাহাড়ে বিস্ফরিত হয় যা দেখে মনে হতে পারে এটা কোন আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত । উপজেলা পরিষদ সাইনবোর্ডে এই রহস্যের কথা লিখে রেখেছে। এখানে যে নদী আছে তা এতো গভীর যে তার গভীরতা

এখনো মাপা যায়নি ।Lalbagh_Kella_Lalbagh_Fort_Dhaka_Bangladesh_2011_28.jpg

 

ডিজিটাল দেশের নতুন যানবাহন নৌকা!

Now Reading
ডিজিটাল দেশের নতুন যানবাহন নৌকা!

শিরোনাম পড়ে হয়তো ভুরু কুচকে থমকে যাবেন। দামি দামি গাড়ি, মোটরবাইক না কিনে, এখন নৌকা কিনার চিন্তা ভাবনা করেন। ভাবনা আসতেই পারে তাহলে কিভাবে চলবো আমরা তো বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র ঢাকায় বসবাস করি। যদি আপনে ঢাকায় বসবাস করে থাকেন, তাহলে আর দেরি করবেন না, কারন দেরি করলেই স্টোক ফুরিয়ে যাবে। তখন আবার নৌকা পাবেন কই?
দুঃখিত নাটকীয় তার জন্য,
কিন্তু আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিগত কয়দিনের ভারীবর্ষণ এর কারনে যন্ত্রণাময় নগরে রুপ নিয়েছে রাজধানী ঢাকা। ভারী বৃষ্টি রাজধানীকে বানিয়ে দিয়েছে জলাবদ্ধতার নগরী। এই জলাবদ্ধতা এর কারনে রাজধানী ঢাকার নগর জীবন হয়ে উঠেছে অসহনীয়। মহা সড়ক থেকে শুরু করে ওলি-গলি হয়ে আছে জলাবদ্ধ পানিতে পরিপূর্ণ।
আর এই জলাবদ্ধতা থমকে দিচ্ছে কর্মব্যস্ততার নগরীর কর্মজীবনকে।
অপরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন জন্য ভূগর্ভস্থ সেফটি ট্যাংক এর কালো ময়লা রেখে দেওয়া হচ্ছে রাস্তাঘাট এ, যার কারণে এই কালো ময়লা সাথে মিশে যাচ্ছে জলাবদ্ধ পানি এবং এই দূষিত পানির দিয়ে ই যাতায়াত করতে হচ্ছে নগরবাসীর। এই কালো পানি একদিকে দূষিত করছে পানি, বায়ু এবং অন্যদিকে দূষিত করে দিচ্ছে নগর জীবন কে।
যানজট এর সাথে এই নগরবাসী বেশ অপরিচিত ও নয় বটে, কিন্তু এই জলাবদ্ধতা এখন এই যানজট কে করেছে দ্বিগুণ। অবশ্যই যান চলাচলের ও এখন বেহাল দশা। কারন পানি যেনো উপচে পড়ছে যানবাহনের উপরে।
এই বেহাল পরিস্থিতি পার করেই যখন বের হচ্ছে কর্মজীবী মানুষ, তখনি পড়তে হচ্ছে আরো খারাপ অবস্থায়। কারন, জলাবদ্ধতার কারনে এখন রিকশাচালক ২০ টাকার ভাড়া চাচ্ছে ৫০ টাকা। বেহাল অবস্থায় করার ও কিছু নাই, এই গলাকাটা দাম দিয়েই পার হতে হচ্ছে জলাবদ্ধ ৫-৬ মিনিটের রাস্তা। কিন্তু, তাও যদি ভালো করে যাওয়া যেতো, রিকশা সিট পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে সেই ময়লা কালো পানি। কখনো কখনো এই ময়লা কালো পানি দিয়েই অফিসে যাচ্ছে অনেকেই, কারণ, রিকশা ও পাওয়া যাচ্ছে না।

বাসায় সাধের বিএমডাব্লিউ গাড়ি থাকলেও লাভ হচ্ছে না, রাস্তার জলাবদ্ধ কালো পানি সাথে তাল মিলাচ্ছে ম্যান হোল এর খোলা ঢাকনা।
গাড়ি নিয়ে বের ঠিক ই হতে পারেন কিন্তু সেই ভালো গাড়ি আর আপনার সুস্থ শরীর নিয়ে বাসায় ঠিক আসতে পারবেন কিনা? সেই দায় ভার আপনার।
এই দিকে হতে পারে আপনি অনেক দিন ধরেই একটি চাকরির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন, আজ আপনার একটা ইন্টার্ভিউ আছে, একটু ফিট হয়েই বের হতে হবে। কিন্তু, অপরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থা আর জলাবদ্ধ কালো পানি আপনাকে হাতছানি দিয়ে বলছে না থাক! ফিট হওয়ার দরকার কি?

আপনার ই বাসার একজন খুব অসুস্থ তাকে এখনি হাসপাতালে নিতে হবে? কিন্তু, কি? অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থা আর জলাবদ্ধ কালো পানির অন্তরালে ম্যান হোলের খোলা ঢাকনা তা থমকে দিচ্ছে? এম্বুলেন্স আসতে পারছে না।
রিকশা দিয়ে যাবেন কিন্তু জলাবদ্ধ পানির কারণে ও জানেন না কোথায় রয়েছে ম্যান হোল খোলা , পরে দেখা যাবে ‘হিতে বিপরীত’।

সামনেই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা তো আপনি ভর্তি কোচিং করছেন। কিন্তু কি? আজ ইকবাল স্যারের গুরুত্বপূর্ণ লেকচার ক্লাস। না, গেলে অনেক বড় ক্ষতি হবে। কি করবেন? বাহিরের জলাবদ্ধ কালো পানি আর সুন্দর নগর ব্যবস্থা আপনার জীবন অগ্রগতি কে থমকে দিতে চায়!

আপনার আজকে মিটিং একটি প্রেজেন্টেশন দেখাতে হবে? ল্যাপটপ এর কাজ শেষ, এখন সকালে শুধু যাবেন, দেখাবেন, প্রোজেক্ট ফাইনাল! সকালে ওঠে দেখেন বাহিরের হাটু থেকে কোমর পর্যন্ত জলাবদ্ধ কালো পানি। কি করবেন বের হলেন, কষ্ট করেই হোক একটা রিকশা ও নিলেন, হাতে ল্যাপটপের ব্যাগ।মনে ভয় ও আছে কোথায় না জানি ম্যান হোল,এর ঢাকনা টা খোলা, বাংলায় একটা কথা আছে, “যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধে হয়” যাচ্ছিলেন হঠ্যাৎ করে ম্যান হোল এ রিকশা পড়ে গেলো সাথে সাথে আপনি আর আপনার প্রেজেন্টেশন ফাইল সেভ করা ল্যাপটপ। ম্যান হোলের খোলা ঢাকনা থমকে দিলো আপনার ভবিষ্যৎ!

এই সকল সমস্যা আর নতুন কি? প্রতি বছর ই এই রকম হাজার হাজার খবর হয়, এই সমস্যা ঘিরে, তারপর দেখি কিছুদিন কি যেন রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি করে। তখন রাস্তার যানজট আরো বাড়ে সাথে সাথে ভোগান্তি তো আছেই। পরে কাজ শেষ হওয়ার কয়দিন পর দেখি, যেই ছিলো সেই রকম ই।

বিগত কয়দিনের বৃষ্টিতে রাজধানী এর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থান মতিঝিলের কাছেই মুগদায়, কারওয়ান বাজার, মগবাজার, মেরুল বাড্ডা এবং আবাসিক এলাকা বসুন্ধরায় প্রচুর পানির জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। এবং এই সকল গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ার কারণে হচ্ছে দীর্ঘ যানজট । এই যানজট এর রেশ পড়ছে পুরো নগরীতে।

এই অবস্থায় রাজধানীবাসী এখন অধীর আগ্রহে খুজচ্ছেন সমাধান! হ্যাঁ সমাধান তা অবশ্যই আছে। তা হলো ডিজিটাল দেশের যানবাহন নৌকা। অদ্ভুত হলেও এটাই সমাধান।
যদি নৌকা হয় আপনার যানবাহন তাহলে আর আপনাকে জলাবদ্ধ কালো পানির ভয়ে, ম্যান হোলের খোলা ঢাকনার ভয়ে, কোচিং এর গুরুত্বপূর্ণ লেকচার, মিটিং এর প্রেজেন্টেশন, মুমূর্ষু রোগীর হাসপাতালে যাওয়া বন্ধ হবে না ।

ডিজিটাল বাহন হিসেবে যদি নৌকা হয় আপনার যানবাহন তাহলে, এই রকম দূর অবস্থায় আপনাকে অসহায় হয়ে চেয়ে থাকতে হবে না, সড়ক উন্নয়নের জন্য, আপনাকে চেয়ে থাকতে হবে না সিটি কর্পোরেশনের লোক, ম্যান হোলের ঢাকনা কবে ঠিক করে লাগানো হবে, সেই দিনের আশায়।

তাই তো বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র ঢাকার ডিজিটাল বাহন একমাএ নৌকা।
লিখতে চাই নি,কিন্তু, পরিস্থিতি দেখে আর পারলাম না।।

রেস্টুরেন্ট এর ইফতার আয়োজন

Now Reading
রেস্টুরেন্ট এর ইফতার আয়োজন

আমরা বাঙ্গালিরা অত্যান্ত ভোজন রসিক।আর এই ভোজন রসিকতার পেছনে আছে অনেক ইতিহাস।তবে আজ সেই ইতিহাস নিয়ে কিছু বলছি না।পবিত্র রমজান মাস চলছে ।আর আই রমজান মাসে অনেকেই চায় বন্ধু বান্ধব আত্তিয় স্বজন নিয়ে কোন ভালো রেস্টুরেন্ট এ ইফতারি করতে।তবে সমস্যা হলো যে এতো এত রেসটুরেন্ট কোনটায় গেলে আপনি পাবেন ভাল খাবার এবং সুন্দর পরিবেশ।আর তাই আপনাদের এই সমস্যা দূর করতে আমি আপনাদের কিছু রেস্টুরেন্ট এর কথা বলবো যেখানে আপনি আপনার স্বজন দের নিয়ে মনের আনন্দে ইফতারি কোরতে পারবেন। তবে চলুন দেখে নেয়া যাক।

১. ক্যাফে রিও

18766431_1464000920341396_8263307955491941191_o.jpg

 

ইফতারির মেনু :

মেনু ১:ফ্রাইড রাইস,আম স্লাইস ,তান্দুরি চিকেন ২ পিস,মালটা স্লাইস ,ক্রিস্পি উইংস ৪ পিস্,আপেল স্লাইস,চিংড়ি মাসালা,খেজুর, মিক্স ভেজিটেবলেস,শশা ,ডিম্ চপ ,টমেটো ,আলুর চপ,রূহ আফজা ২ গ্লাস

পরিবেশন ২ জনের জন্য

মূল্য : ৳৪৯০/-

মেনু ২: ফ্রাইড রাইস,তরমুজ ,চিকেন মাসালা,আম,চিকেন সাসলিক ২ পিস,মালটা ,ক্রিস্পি উইংস ৪পিস,আপেল,মিক্স ভেজিটেবলেস,খেজুর,ডিম্ চপ,লেমোনাইড ২ গ্লাস,কোলেসলাও,গ্রীন সালাদ

পরিবেশন ২ জনের জন্য

মূল্য : ৳৫৫০/-

বিশেষ মেনু: কোকোনাট আইসক্রাম

মূল্য : ৳১২৫/-

ঠিকানা :The Cafe Rio,ফুড ক্লাব এর ভিতর (কাজী ফুড আইল্যান্ড এর পাশে ),৩০০ ফুট পূর্বাচল রোড ,বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির থেকে ২ মিনিট এর পথ।

২. রেড টমেটো রেস্টুরেন্ট

18623510_1508278312579538_5329734500591521638_o.jpg

ইফতারির মেনু :

মেনু ১:খেজুর (২ পিছ),জিলাপি (১ পিছ) ,পিঁয়াজু (১ পিছ) ,মুড়ি , ছোলা , অনথন (২ পিছ ), ফ্রাইড রাইস , ফ্রাইড চিকেন (১ পিছ) ,মিক্সড ভেজিটেবল,চিকেন সুইট কর্ণ ,সফট ড্রিঙ্ক (১ টি), মিনারেল ওয়াটার (১ টি)

পরিবেশন ১ জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৩৯৫/-

মেনু ২:খেজুর (২ পিছ) ,জিলাপি (১ পিছ) , পিঁয়াজু (১ পিছ) , মুড়ি , ছোলা , অনথন (২ পিছ) , থাই সুপ , ফ্রাইড রাইস , ফ্রাইড চিকেন (১ পিছ) , মিক্সড ভেজিটেবল, চিকেন সুইট কর্ণ , সফট ড্রিঙ্ক (১ টি) , মিনারেল ওয়াটার (১ টি)

পরিবেশন ১ জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৪৫৫/-

ঠিকানা : হাউজ ৫০, রোড ১৬ (নতুন)/ ২৭(পুরাতন), ধানমন্ডি  ১২০৭, ঢাকা, বাংলাদেশ

৩. আলফ্রেস্কো

18698319_1508366452570724_5437970132084242225_n.jpg

ইফতারির মেনু :

মেনু ১: চিকেন কাটলেট ,জালি কাবাব ,ডিম্ চপ ,চিকেন সাসলিক ,৬” পিজা অথবা পাস্তা ,অন্থন ,জিলাপি ,মিনারেল ওয়াটার

পরিবেশন ১/২ জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৫৯৯/-

মেনু ২: চিকেন কাটলেট ,জালি কাবাব ,ডিম্ চপ ,চিকেন সাসলিক ,ফ্রাইড রাইস ,আলফ্রেস্কো স্পেশাল চিকেন ফ্রাই,সালাদ ,অন্থন ,জিলাপি ,মিনারেল ওয়াটার

পরিবেশন ১/২ জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৪৯৯/-

ঠিকানা : শহীদ বাকী রোড,ঢাকা, বাংলাদেশ /

প্লট-৮৪, রোড -১১, বনানী, লেভেল -১৯,  ১২১৩ ঢাকা, বাংলাদেশ  /

র্যাঙ্গস নাসিম স্কয়ার (২ য় তলা), হাউস: ২৭৫ / ডি (পুরাতন) ৪৬ খ (নতুন), সড়ক -৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন) ১২২৯ ঢাকা, বাংলাদেশ

৪. ইন্সট্যা বাইটস

18672876_1509762382431131_8418358115171343717_o.jpg

ইফতারির মেনু :

মেনু ১: চিকেন চীজ ডিলাইট বার্গার ,প্যান পাস্তা  (১ জনের জন্য ), ফ্রাইড  চিকেন  ১/৪, চকলেট / স্ট্রবেরি /ম্যাংগো শেক এবং মিনারেল ওয়াটার

পরিবেশন ১জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৩২০/-

মেনু ২: বীফ চীজ ডিলাইট বার্গার ,প্যান পাস্তা  (১ জনের জন্য ), ফ্রাইড  চিকেন  ১/৪, চকলেট / স্ট্রবেরি /ম্যাংগো শেক এবং মিনারেল ওয়াটার

পরিবেশন ১জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৩৫০/-

ঠিকানা : 373 / বি, শতদল রোজ হাইটস, খিলগাঁও তালতলা।

৫. দাওয়াত-এ-মেজবান

18698160_1510006405740062_5138273789788894221_n.jpg

ইফতারির মেনু :

মেনু ১: ফ্রাইড রাইস ,চিকেন উইথ মাশরুম ,স্প্রিং চিকেন ,থাই মিক্সড ভেজিটেবলেস ,চিকেন  ফিঙ্গার ,চিকেন সসেজ ,ফ্রাইড  অন্থন,ওনিয়ন  রিংস ,মিন্ট  লেমনেড ,খেজুর ,মৌসুমী ফল, স্পেশাল  কুলফি

পরিবেশন ১জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৫৪৯/-

মেনু ২: বাটার নান,রেশমি বাটার মশলা ,চিকেন  বল ,চিকেন  শাসলিক ,চিকেন  ফিঙ্গার ,তান্দুরি  চিকেন ,লাজাজ কাবাব ,মিন্ট লেমনেড ,মিক্সড সালাদ , খেজুর ,মৌসুমী ফল, স্পেশাল  কুলফি

পরিবেশন ১জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৫৮৯/-

 

ঠিকানা : বিকল্প টাওয়ার , হাউস ৭৪ , রোড  ৫এ, লেভেল  ৩, ধানমন্ডি

ঢাকা , বাংলাদেশ  ১২০৯.

৬. ডি স্মাক ক্যাফে

18673317_1867091013614181_266148321264042554_o.jpg

ইফতারির মেনু :

মেনু ১: থাই ফ্রাইড রাইস,BBQ চিকেন ড্রামস্টিক,বেগুনী,মিশ্র সালাদ, মিন্ট দই

পরিবেশন ১জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৪১০/-

মেনু ২: চিকেন তান্দুরি, ফ্রাইড রাইস, মিক্স সালাদ, চাইনিজ ভেজিটেবল, মিন্ট দই

পরিবেশন ১জনের জন্য

মূল্য : ৳ ৩৭৫/-

মেনু ৩: ফ্রাইড রাইস, সুইট এন্ড সর চিকেন, ড্রাই চিলি চিকেন, মিক্স সালাদ, মিন্ট দই

মূল্য : ৳ ৩৪০/-

ঠিকানা : ৭৩৬ কে.বি স্কোয়ার, ৯ তলা, সাতমসজিদ  রোড , ধানমন্ডি ৯/এ

১২০৯ ঢাকা

এছাড়াও কিছু কিছু রেসুরেন্ট দিচ্ছে যত খুশি তত খাবার সুযোগ আর সেগুলো হলো :

১. কোফিলিসিয়াস:unlimited পিজা মূল্য : ৳ ৬৯৯/-

18698342_1510694639004572_4715738363621491969_n.jpg

 

২.এ এন্ড ডব্লিউ: unlimited গোল্ডেন আরোমা চিকেন  মূল্য : ৳৬৫০/-

18699473_1510662312341138_3516549388817000058_o.jpg

 

৩. পিমিয়েন্ট: unlimited পিজা  মূল্য : ৳ ৫৯৯/-

18765610_1511016888972347_1249347248574853344_n.jpg

 

৪. কেএফসি: unlimited বার্গার  মূল্য : ৳ ৬৯৯/-

18767591_1510658752341494_6961558500096590517_n.jpg

 

৫. পিজা গায়: unlimited পিজা  মূল্য : ৳ ৮৯৯/-

18670751_1509713102436059_6933400949740987381_n.jpg

ত আর দেরি না করে আপনার স্বজনদের নিয়ে উপভোগ করে আসুন। আশা করি আপনারা নিরাশ হবেন না।

ধন্যবাদ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

নদী দূষণ

Now Reading
নদী দূষণ

ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানি । এই শহরে বসবাস করে প্রায় ১৫ মিলিয়ন মাণুষ এবং প্রতিদিন পানি লাগে প্রায় ২.২ বিলিয়ন লিটার । কিন্তু আমাদের ই পানি আসে কোথা থেকে? যদি আপনার মনে এই প্রশ্ন আসে তার উত্তর হচ্ছে ভূগর্ভস্থ এবং নদী থেকে । ঢাকার পাশে দিয়ে চলে গেছি কিছু বড় নদী সেগুলো হচ্ছে: তুরাগ, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, লখনিয়া এবং টঙ্গী খাল । কিন্তু মজার বেপার কি জানেন আমারা প্রতিদিন যেই ভাবে নদী দূষণ করছি একদিন দেখা যাবে আমাদের দেশে নদী আছে ঠিকি কিন্তু নদীর পানি নাই আছে শুধু ময়লা আর রাসায়নিক আর কিছু পাওয়া যাবে না । এক সময় আমাদের এক মাএ চলাচলের ব্যবস্থা ছিল নদী পথ আর আমাদের দেশের প্রথম দিকের বাণিজ্য গুলিও হয়েছে এই নদীর উপর দিয়েই । আর আজ আমরা আমাদের এই নদী কে দূষিত করে ময়লার আর রাসায়নিক দিয়ে শেষ করে দিচ্ছি । এই নদী দূষণের ফলে দূষিত হচ্ছে আমাদের ভূগর্ভস্থ এর পানি আর সেই দূসিত পানি পান করছি আমরা । আমি যদি ঢাকার সেই চিরচেনা নদী বুড়িগঙ্গার কথাবলি তাহলে আমি শুনতে পাই সেই দিন গুলির কথা,যেই দিনে বুড়িগঙ্গা ছিল এক মাএ জায়গা যা আমাদের এই রাজধানির সাথে জুরে রাখত দেশের প্রতিটি প্রান্তকে। আর এখন এমন এক অবস্থা হয়েছে যে “বুড়িগঙ্গার পানি এখন এত দূষিত যে সমস্ত মাছ মারা গিয়েছে, মানুষের বর্জ্য বর্ধন করে এটি একটি কালো পানিতে পরিণত হয়েছে। সুতরাং এই সমস্যাটি বাংলাদেশের এখন একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি সমাধান করা উচিত। না হলে দেখা যাবে এক সময় ভুলেই যাব আমাদের দেশটি নদীমাতৃক দেশ ছিল । বিশ্বজুড়ে যখন পানি বাচাও আন্দোলন চলছে তখন আমরা পানি দূষণ করেই যাচ্ছি । যাইহোক, বাংলাদেশের রাজধানী হচ্ছে – বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্রতম এবং কম উন্নত দেশগুলির মধ্যে একটি – এটির শারীরিক ও সামাজিক অবনতির কথা বিবেচনা করে শহরটি কে উন্নত করা কাজ হয়েছে। ফলস্বরূপ, জনসংখ্যার দ্রুত বর্ধন এবং শিল্প থেকে দূষণকারীর বৃদ্ধি, এবং পৌরসম্পর্কিত বর্জ্যসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত পরিণতিগুলি ঢাকা শহরের চারপাশের নদীগুলির ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

River Pollution-59.jpg

চলুন তাহলে জেনে নেই কি ভাবে নদীর পানি দূষণ হচ্ছে এবং এর প্রভাব।

নদী দূষণ :

বাংলাদেশের নদী দূষণের শিকার, বিশেষতঃ ঢাকার আশেপাশের নদীগুলি দূষিত হয়ে পড়েছে।

কারণ সমূহ:

১.দ্রুত ও অনির্বাচিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন, ইটভাটা উন্নয়ন, ডাইনিং কারখানা, ট্যানারিরী ও নদী দখল ।

২.অপ্রয়োজনীয় বর্জ্যগুলি নদীতে ফেলে দেওয়া হয় কারণ বেশীরভাগ শিল্পেরই কোনো শোধানাগার নেই ।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ (বিসিএএস) কর্তৃক পরিচালিত একটি শিল্প জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৪০% শিল্পই ইপিএস রয়েছে। ১০% শিল্পের মধ্যে, ইপিএস নির্মাণাধীন রয়েছে এবং প্রায় ৫০% শিল্পের কোন ইপিএস নেই। তাই আমাদের শিল্পের ৫০% বর্জ্যগুলি নদীতে চলে যাচ্ছে ।

৪. কিছু নদী কৃষকদের দ্বারা পাট গাছ পচা ব্যবহার করা হয় যার ফলে দূষিত হচ্ছে নদী ।

৫.নৌকা এবং বিভিন্ন জলবাহী জাহাজের তেল ছিটকে দূষিত হচ্ছে নদী ।

৬.কৃষি জমিতে কৃষি রাসায়নিক ব্যবহারে দূষিত হচ্ছে নদী ।

75507.story_x_large.jpg

নদী দূষণের প্রভাব:

১.অনেকগুলি নদীর পানি ভর্তি অক্সিজেন স্তর মারাত্মক খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে যার ফলে কোনো জীব বসবাস করতে পারছে না ।

২.বর্ষা মৌসুমে দূষিত পানি ছড়িয়ে পড়ার কারণে কৃষিজমি দূষিত হয় এবং তার ফলে ফসল উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে ।

৩. কখনও কখনও দূষিত পানি খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করে অবশেষে পাখি, মাছ এবং স্তন্যপায়ী প্রাণনাশ করে।

৪.কর্ণফুলীতে সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা মাটির উপর ‘ঝুঁকি স্তরের খুব কাছাকাছি’ তেজস্ক্রিয়তা খুঁজে পেয়েছে। যদি নদীর তীরে তেজস্ক্রিয়তা বৃদ্ধি পায় তবে এটি মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন এবং মাছের বৃদ্ধি হ্রাস করবে। যদি লোকেরা ক্ষতিগ্রস্ত মাছ খায় তাহলে পারে তাদের দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই তেজস্ক্রিয়তা । ২০০০ সালের পারমাণবিক বিকিরণের প্রভাব সম্পর্কে জাতিসংঘের বৈজ্ঞানিক কমিটির মতে, তেজস্ক্রিয়তার কারণে রেডিয়েশন বিপদের মাত্রা ০.৫। তাদের গবেষণা বিজ্ঞানীদের অভ্যন্তরীণ বিকিরণ বিপত্তি যেখানে ঝুঁকি স্তর ১ এবং বাহ্যিক বিকিরণ বিপত্তি জন্য ০.৬৫০৭ এবং ০.৮২ পেয়েছেন ।

৫.নদীতে পাট জমতে থাকার কারণেই নদীর পানির গুণমান খারাপ হচ্ছে এই অবস্থার থাকে কারণ জলজ প্রাণী অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে।

৬.দূষণ এত তীব্র যে খুব কমই জল-জীবগুলি তা সহ্য করতে পারে এবং অবশেষে, অনেক প্রজাতির মাছ নদীতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই মৃত মাছ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায় এবং নদীর পানি আরও দূষিত করে তোলে ।

৭.নদী দূষণের ফলে স্থানীয় জেলেদেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তারা তাদের আয় উৎস হারিয়ে ফেলছে এবং তাদের জীবন আরো কঠিন হয়ে উঠছে ।

৮.এটি ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলির পরিবর্তনও করে যার ফলে নদী চ্যানেল, বন্যা, সমভূমি বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করতে পারে।

৯. লিড, ক্যাডমিয়াম, লোহা, তামা ও জৈবিক বর্জ্য দূষণ করে নদী কে।

এই নদী দূষণ থেকে নদী কে রকা করতে বাংলাদেশ সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। তার মাঝে উল্লেখযোগ একটি হল: হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত ।

আসুন আমরা সচেতন হই এবং অন্য কেউ সচেতন করে তুলি।

ভয়াবহ ট্র্যাফিক জ্যাম

Now Reading
ভয়াবহ ট্র্যাফিক জ্যাম

বাংলাদেশ বিশ্বের একটি সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ট্র্যাফিক জ্যাম দেশের প্রধান সমস্যা, বিশেষত ঢাকা এবং চট্টগ্রাম জেলা এই সমস্যা অনেক বেশি। ঢাকা একটি মেগা সিটি এবং ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। ঢাকায় ১২ লাখেরও বেশি মানুষ বাস করে এবং ঢাকার জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে । সুতরাং, এই বিশাল জনসংখ্যার দ্বারা তৈরি হচ্ছে অনেক সমস্যা। প্রতিদিন সাত লাখ রিক্সা ঢাকার রাস্তায় চলাচল করে এবং এই বিপুল সংখ্যক রিক্সা শহরে ভিতরে একটি ট্র্যাফিক জ্যাম তৈরি করছে কিন্তু মাত্র ৭৫ হাজার রিক্সার রয়েছে আইনি নম্বর বা সরকারি নথি ভুক্ত । সময়ে সময়ে অনেক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে এই সংখ্যা কমাতে কিন্তু উদ্যোগ সাধারণত কোন ফলাফল নিয়ে আসেনি ।

ট্রাফিক জ্যাম ঢাকা শহরের একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। ট্র্যাফিক জ্যাম আমাদের বাণিজ্য ও বাণিজ্য বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত। অফিস বা স্কুলে যাওয়ার জন্য যদি আমরা বাড়ি থেকে বের হই তাহলে আমরা জ্যামের মুখোমুখি হতে পারি এবং জ্যামের কারণে কেবল মাত্র ২০ মিনিটের পথ দুটি ঘন্টা লাগতে পারে।

আমি ঢাকায় বাস করছি, আমার বাসা থেকে মাত্র ২0 মিনিট দূরে আমার বিশ্ববিদ্যালয়, কিন্তু প্রতিদিন ক্লাস শুরু হওয়ার ২ ঘন্টা আগে আমি আমার বাসা থেকে বের হই কারন ভয়াবহ  ট্র্যাফিক জ্যাম । এই  ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যামের কারণে, বেশিরভাগ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে প্রায় ২ ঘন্টা সময় লাগে । তাই আমরা আমাদের গন্তব্য পৌঁছাতে আরো সময় প্রয়োজন হয় এবং আমরা আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে থাকি।

ট্র্যাফিক জ্যামের জন্য আমরা আমাদের কাজ সময় মত শেষ করতে পারি না তাতে আমাদের শিল্প-বাণিজ্য অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, যার কারনে আমরা যথাসময়ে পণ্য ও সামগ্রী সরবরাহ করতে পারি না। যদি আমরা শহরের অন্য কোথাও যেতে চাই তবে রাস্তায় দিনের অর্ধেক সময় ব্যয় করতে হবে। একই সাথে এটি আমাদের পরিবেশ দূষিত করেছে কারণ অনেক যানবাহন একসঙ্গে জড়ো হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে শব্দ ও বায়ু দূষণ ।

5-20140712RajibDhar85983_0.jpg

কেন তৈরি হচ্ছে এই ট্র্যাফিক জ্যাম???

ঢাকা শহরের ভেতর ঘন ঘন জ্যাম সৃষ্টি করার জন্য রয়েছে অনেক কারণ। অবৈধ পার্কিং ট্রাফিক জ্যাম এর জন্য একটি প্রধান কারণ । আমরা প্রায় সময় দেখি যেকানে সেখানে গাড়ি,সিএনজি, রিক্সা, বাস ইত্যাদি পার্কিং করে রেখেছে আর এই পার্কিং এর কারনে তৈরি হচ্ছে ট্র্যাফিক জ্যাম । ভুল ট্রাফিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত জনশক্তি ,সংকীর্ণ রাস্তার, এবং ড্রাইভারের ওভারটেক করার মানসিকতা তৈরি করেছে যানজট এবং পাশাপাশি জনসাধারণকে নিমজ্জিত করে ভ্রমণকারীদের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দেয়। বাস ড্রাইভার বেশিরভাগই এই ট্র্যাফিক জ্যামের জন্য দায়ী এবং তারা ট্র্যাফিক নিয়ম এবং সিগন্যালগুলির ব্যাপারে বেশির ভাগ সময় নিয়ম মানছে না। ভিআইপি প্রোটোকল রক্ষণাবেক্ষণ রাস্তায় ঘন ঘন ট্রাফিক জ্যামের আরেকটি কারণ এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলির বিভাজক সমস্যা কারনেও ট্র্যাফিক জ্যাম হয়ে থাকে । এছাড়া, ওয়াক্স অ্যান্ড সিউর অথরিটি (ওয়াসা), ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই অথরিটি (ডিইএসএ), টেলিফোন এবং টেলিগ্রাফ সংস্থার কোনও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া একই রাস্তায় অবৈধ গাড়ি পার্কিং এবং অপরিকল্পিত সড়ক খনন করা অসম্ভব ট্রাফিক জ্যামের জন্য দায়ী। ঢাকায় যে কোনও রাস্তাঘাট সিএনজি, রিকশা, বাস, ইত্যাদি একাধিক লাইন তৈরি করে কারন সবাই আগে যেতে চায়, কিন্তু একটি  ক্ষুদ্র স্থান দখল করার জন্য নিদারুণ হতাশা হয়ে পরে এবং সেই কারনেই যানযট আরো বেড়ে যায় ।

Behavioral বিজ্ঞানীরা একটি পরিক্ষায় দেখেছেন যে একজন মাণুষ কোন ভিড়ের মধ্যে অবস্থান করে তখন সে যদি তার কাজ করতে না পারে তাহলে সে আক্রমনাত্মক আচরণ প্রদর্শন করে। ঠিক একি রকম ভাবে একজন চালক যখন রাস্তায় গাড়ি চালায় কিন্তু যানযটের কারনে কোন দিকে যাওয়া সম্ভব না তখন চালকরা রাস্তার মাজে একাধিক লেন বা একটি ক্ষুদ্র স্থান দখল করার জন্য নিদারুণ হতাশা হয়ে পরবে । অতএব, ঢাকার পথচারীরা,রিক্সাচালক, সিএনজি ড্রাইভার, ভ্যান চালক এবং বাস / ট্রাক ড্রাইভারদের সব লক্ষণীয় আগ্রাসন এবং অন্যের অধিকার কে উপেক্ষা করে কোন নিয়ম না মেনে একটি ছোট ফাঁকা স্থানের জন্য প্রতিযোগিতা নেমে যাওয়াটা কোন বিস্ময়কর ঘটনা নয় ।

 

ট্রাফিক জ্যাম কমাতে আমরা যা যা করতে পারি

কিছু পদক্ষেপ অনুসরণ করলে আমরা একরকম ট্র্যাফিক জ্যাম হ্রাস করতে পারি, তবে আমরা স্থায়ীভাবে এটি সমাধান করতে পারব না ।

  • যদি আমরা সত্যিই এই সমস্যার সমাধান করতে চাই, তাহলে বিকেন্দ্রীকরণ সবকিছুই আবশ্যক। আমাদের শিল্পোন্নতির উপজেলা ভিত্তিক হওয়া উচিত এটা মহানগরী শহরগুলির উপর নির্ভর করা উচিত নয়। কারন সব কলকারখান যদি একটা মহানগরী শহর গুলোতে হয় তাহলে সে খানে মাণুষ সেশি থাকবেই আর যেখানে মাণুষ বেশি সেখানে গাড়িও বেশি। তাই আমাদের উচ্চিত সব শিল্প-কারখানা গুলো মহানগরীতে না হয়ে উপজেলা ভিত্তিক হওয়া উচিত ।
  • একটি ভাল গণপরিবহন ব্যবস্থা যা মানুষ সহজে পেতে পারে তাহলে ট্রাফিক জ্যাম কমে যাবে ।
  • যদি সম্ভব হয় শহরের প্রধান রাস্তার পাশে একটি রিক্সা এবং সাইকেলর রাস্তা তৈরি করা এবং ঢাকা শহরের প্রধান সড়ক থেকে রিক্সা প্রত্যাহার করা ।
  • একটি ভাল ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন গাড়ির জন্য লেন তৈরি করা এবং কঠোরভাবে এটা বজায় রাখা।
  • জিব্রা ক্রস এবং ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার করুন।
  • আইন মেনে চলা

মসজিদ নাকি প্রাসাদ?

Now Reading
মসজিদ নাকি প্রাসাদ?

সুন্দর্যে ঘেরা আমাদের এই বাংলাদেশ। বাংলার অনেক কবি সাহিত্যিক এই সুন্দর্য নিয়ে অনেক গল্প, কবিতা লিখেছে। কিছু কিছু যায়গা এতটাই সুন্দর যে, এর সুন্দর্য বর্ণনা করার ভাষা সকলের থাকে না।

দূর থেকে দেখলে যায়গাটা যেনো স্বর্গের কোন প্রাসাদ বা কোন রাজা বা জমিদার এর সদ্য তৈরি করা কোণ অট্টালিকা এর মতন দেখায়। যায়গাটা সবাইকে মুগ্ধ করার জন্য যথেষ্ঠ। তাইতো আমি এর নাম দিয়েছি “জান্নাত এর দরজা”। এইটা দেখতে একটা প্রাসাদ, তবে মানুষের না “আল্লাহ” এর।

হ্যাঁ, বলছিলাম ঢাকার কেরানীগঞ্জের সাউথ টাউন জামে মসজিদ এর কথা। অপরূপ সুন্দর্যে ঘেরা আর চোখ ধাধানো ডিজাইন এর মিশ্রনে যেনো অপার্থিব সুন্দর চোখে পরে। একটা মসজিদ এত সুন্দর করে ডিজাইন এর হতে পারে আপনি না দেখলে বিশ্বাস করবেন না কখনো।

মনে হবে যেনো Disney World এ চলে এসেছেন। মসজিদ টা এরকম ই দেখতে। দূর থেকে দেখেই মনে হয় নিজের সুন্দর জানান দিচ্ছে। তবে যায়গাটার আশে পাশে ইট ভাটা। তাই ধুলা ইকটু বেশী। আপনি যাওয়ার সময় কিভাবে ইট তৈরি হয় বা ইট ভাটার কর্মজীবি শ্রমীকদের সামাজিক অবস্থাও দেখে নিতে পারবেন। তবে আমার মতে  তাদের সাথে বেশী কথা না বলাই ভালো। কারন তারা এইসব ততটা পছন্দ করে না। এমনকি আপনাকে ভালো মন্দ দুই এক কথা শুনিয়ে ও দিতে পারে।

তবে হ্যাঁ কোন খাবার দোকান কিন্তু নেই সেখানে।দুইটা চায়ের দোকান আছে জেল গেট এর অপর পাশে, তবে ততটা স্বাস্থ্যকর না।

আরেকটা কথা। আপনারা চাইলে কেরানীগঞ্জ সেন্ট্রাল জেলখানা ও পরিদর্শন করতে পারবেন। তবে জেলখানা পরিদর্শন করতে হলে আপনাকে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ৩ টা এর মধ্যে জেলখানায় যেতে হবে। আর মসজিদ দেখার উপযুক্ত সময় বিকাল আর সন্ধায়। তাই, দুপরে জেলখানা ঘুরে বিকালে মসজিদ দেখাটা অনেকটাই এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতন হবে। তাছাড়া সন্ধায়, মসজিদ এর চারিপাশে যখন লাইট গুলো জ্বলে উঠে তখন দেখলে অনেকটা মুভিতে দেখানো ভৌতিক বাড়িগুলোর মতন দেখায়। সব মিলিয়ে অসম্ভব সুন্দর একটা যায়গা ঢাকার মধ্যে।

যেভাবে যাবেনঃ

ঢাকার যে কোন যায়গা থেকে গুলিস্তান চলে আসবেন। সেখান থেকে লেগুনা বা সিএনজি করে যাত্রাবাড়ী। যাত্রাবাড়ী থেকে লেগুনা তে পোস্তগোলা ব্রিজ এ। আপনি চাইলে গুলিস্তান থেকে সরাসরি সিএনজি তে করে পোস্তগোলা ব্রিজে চলে আসতে পারেন। পোস্তগোলা ব্রিজ পাড় হওয়ার জন্য সিএনজি আছে। সিএনজি তে পোস্তগোলা ব্রিজের ওপার চলে আসার পর সেখান থেকে লেগুনা আছে। লেগুনায় কেরানীগঞ্জ সেন্ট্রাল জেল গেট এ নেমে যাবেন। তারপর সেখান থেকে ৪/৫ মিনিট হাটলেই পেয়ে যাবেন সাউথ টাউন জামে মসজিদ টি। জেল গেট থেকে যে কাওকে জিজ্ঞা্সা করলেই দেখিয়ে দিবে মসজিদ টি।

যে কোন এক বিকেলে সময় করে ঘুরে আসতে পারেন সকলে মিলে। মসজিদ টা সম্পর্কে এখনো তত মানুষ জানে না। যদি প্রাইভেট গাড়ি থাকে, তাহলে সব থেকে ভালো হবে সকলে মিলে ঘুরে আসার জন্য। আর অবশ্যই মসজিদে নামাজ পড়ে নিবেন এক ওয়াক্ত।