আইটি ফেয়ার নাকি প্রহসন?

Now Reading
আইটি ফেয়ার নাকি প্রহসন?

তৃতীয় বিশ্বের দেশ হবার কারনে আমরা জ্ঞান বিজ্ঞানের অনেক শাখায় এখনো পিছিয়ে রয়েছি।  বিশ্বের উন্নত দেশ গুলোর সাথে তালে তাল মিলিয়ে হাটার জন্য আমাদের দেশে সরকারী ভাবে বিশাল পরিসরে আইটি – সম্পর্কিত সেশন , মেলা  এর আয়োজন করা হয়।  এতে দেশের সকল সারির আইটি প্রতিষ্ঠান গুলো অংশগ্রহণ করে এবং নিজেদের পণ্য গুলো সকলের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করে। আবার এইসব অনুষ্ঠান গুলোতে দেশের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত থাকেন।

একজন আইটি সেক্টরের ছাত্র এবং টেক-গীক হিসেবে আমি সর্বাত্মক চেস্টা করি এই সকল অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থিত থাকার।  নতুন নতুন টেকনোলজি এর ব্যাপারে জানার আগ্রহ থেকেই আমি প্রতিবার এ সমস্ত অনুষ্ঠানে যাই। তবে বরাবরই আমাকে হতাশ হতে হয়।  আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেস্টা থাকা সত্বেও কোন না কোন কারনে প্রতিবারই টেক লাভাররা মোটামুটি হতাশ বোধ করেন।  এর পিছনে নানাবিধ কারন কাজ করে।

আমি প্রতিবার এসব ফাংশনে যাই নতুন জিনিস দেখার আশা নিয়ে, ফিরে আসি এদের মুর্খতার কারনে দেশ কতটা পিছিয়ে যাচ্ছে সেটা দেখে দুঃখ মনে নিয়ে।  বিগত বছরগুলোর মত এই বছর ও ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭ তে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে আর সেটা হলো আমাদের আইটি কোম্পানীগুলো।  এরাই মুলত আমাদের এই হতাশার কারন।  এরা প্রতিবার অনেক আন- ডেভেলপড বা ডেভেলপমেন্ট পর্যায় থাকা প্রজেক্ট নিয়ে আসেন যা মোটেই কাম্য নয়।  এদের মতে কোনমতে একটা প্রজেক্ট ধরে এনে জনতার সামনে ছেড়ে দিলেই হলো। বাঙ্গালী বোকা তো তাই বুঝবেনা যথাযথ যার ফলে রাম-সাম-যদু-মধু একটা বুঝ দিলেই হবে।  কিন্তু দেশ এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের মানুষের মাঝে জানার আগ্রহ বাড়ছে সেটা তারা এড়িয়ে তো যেতে পারেনা।  আমি বুঝিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী – আইসিটি মন্ত্রী – আইসিটি এডভাইজর এর মত হেভিওয়েট মানুষগুলোর সামনে এসব প্রোজেক্ট নিয়ে বসার সাহস কিভাবে হয়?

আরো একটা ব্যাপার যেটা হয় সেটা হলো নিজের প্রোডাক্ট এবং কোম্পানী এর ব্যাপারে স্বল্প জ্ঞান।  এসব মেলা উপলক্ষ্যে এরা মেলার কিছুদিন আগে ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে কিছু সুন্দরী নির্বাচন করে এবং মেলার স্টলে তাদের এনে বসিয়ে রেখে পাবলিক এট্রাকশন এর চেষ্টা করে।  সব মানলাম, কিন্তু যাদের বসায় আর যা সামনে দিয়ে বসায়, এই দুটোর মাঝে কোন যোগসুত্র থাকেনা। মানে স্টলে যারা বসে থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রোডাক্ট এর ব্যাপারে তাদের কোন আইডিয়া থাকেনা।  প্রোডাক্ট এর ব্যাপারে জানার উদ্দেশ্যে কোন প্রশ্ন করলে বোকার মত তাকিয়ে থাকে।  এইটা কেন রে ভাই? আমরা টেক লাভাররা মেয়ে দেখতে নিশ্চয়ই যাইনা, যা দেখতে যাই সেটাই যদি ভালভাবে প্রদর্শন করতে না পারেন তাইলে আইটি বিষয়ক ফাংশন বাদ দিয়ে বিউটি কম্পিটিশন গুলোতে স্টল নিন, সেটাই কি ভাল না?

 

আমি কোন ডিসিশনে যাবো না।  শেষ করার আগে একটা সাম্প্রতিক ঘটনা দিয়ে শেষ করি।  সাম্প্রতিক চলাকালীন ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭ তে গিয়েছিলাম। সবাই যখন সোফিয়া নিয়ে ব্যাস্ত আমি তখন স্টল ঘুরে দেখছিলাম। হটাৎ “পাঠাও” এর স্টল নজরে এলো। আমি পাঠাও ব্যাবহারকারী হিসেবে তাদের স্টল এ গিয়ে হালকা কিছু জিজ্ঞাসা করলাম যে  তাদের এপস এর কিছু সমস্যা আছে সেগুলো নিরসনে তারা কি কি ব্যাবস্থা নিচ্ছে এবং তা কত দ্রুত? সন্তোষজনক উত্তর পেলাম না।  তারপর তাদের উচ্চপদস্থ এক কর্তাব্যাক্তি এর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম যে উনি কি এসেছেন বা আসার কোন সম্ভাবনা আছে? তারা বলল – ঐ নামে তারা কাউকে চিনেই না। আমি তো পুরা থ!!! কাদের এনে স্টলে বসাইছে যারা এত স্বল্প জ্ঞান রাখে?

“ডিজিটাল বাংলাদেশ” ২০২১

Now Reading
“ডিজিটাল বাংলাদেশ” ২০২১

“ডিজিটাল বাংলাদেশ” অর্থ একটি আইসিটি ভিত্তিক আধুনিক দেশ যেখানে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ, ভাল নেটওয়ার্ক স্থাপনা, ইন্টারনেট ব্যবহার, ওপেন সোর্স সফটওয়্যার, ই-ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং ই-গভর্নেন্স ব্যবহার করা হবে। দেরীকালীন “ডিজিটাল বাংলাদেশ” শব্দটি বিশেষতঃ নবম সংসদীয় নির্বাচনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারণার সময় অনেক কথা বলে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে, পরবর্তী দশকে বাংলাদেশকে একটি ডিজিটাল দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঘোষনা করে ২০২১ সালের ভিতরে বাংলাদেশ কে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গেড়ে তুলবে । তারপর থেকে আজ পযন্ত আমরা অল্প অল্প করে এগিয়ে যাচ্ছি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশে ।

কিছু আগে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের “মেকানিক্যাল ডিজিটাল বাংলাদেশ” থিম সহ একটি কম্পিউটার মেলা আয়োজন করে। এটি একটি ই-রাষ্ট্রকে নির্দেশ করে যেখানে শাসন, বাণিজ্য, শিক্ষা, কৃষি ইত্যাদির সমস্ত কার্যক্রম কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে চালিত করা হবে।

এই ধরনের স্বপ্নকে লালন করা সহজ, কিন্তু এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন। প্রথমত দেশের টেলিফোন ফোন, মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ই-ম্যাগাজিন ,ইবুক রিডার এবং তথ্য প্রযুক্তির আরও অনেক সরঞ্জাম দেশের প্রতিটি কোণে কোণে পাওয়া যাবে তা নিশ্চিত করা।  বিস্ততভাবে বলতে গেলে, একটি ডিজিটাল সমাজ বা আইসিটি চালিত জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজ নিশ্চিত করেতে হবে যেখানে তথ্য সহজেই অনলাইনে পাওয়া যাবে এবং যেখানে সরকারী, আধা-সরকারী এবং বেসরকারী ক্ষেত্রের সমস্ত সম্ভাব্য কাজগুলি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রক্রিয়াভুক্ত করা হবে।  তাই, “সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে” ডিজিটাল বাংলাদেশ “সমাজের সকল স্তরের মডেলে আইসিটি’র কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

কেন ডিজিটাল বাংলাদেশ:

বিশ্বায়নের কারণে, বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই বাইরের বিশ্বের সাথে সংযুক্ত রয়েছে । তথাপি আইসিটি ক্ষেত্রে, আমাদের একমাত্র মহৎ সাফল্য মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন-এর মধ্যে রয়েছে, যা দেশের টেলিযোগাযোগ পরিস্থিতিতে আকস্মিক পরিবর্তন এসেছে । যাইহোক, আইসিটি-র অন্যান্য ক্ষেত্রগুলিতে, আমাদের অর্জন খুবই কম এবং আমরা এখনও জ্ঞানভিত্তিক সমাজে তৈরি করতে পারিনি । আশা করা যায় আমরা খুবি তারাতারি অন্যান্য ক্ষেএ গুলিতেও অনেক বড় কিছু নিয়ে আসব । তারই ধারাবাহিকতায় আমরা কিছু দিন পর পাব আমাদের নিজেদের স্যাটেলাইট ।

শক্তিশালী আইসিটি অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ এবং ডিজিটাল করার জন্য যে কাজ গুগো করতে হবে ;

১. বিদ্যুৎ ঘাটতি: সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে বাংলাদেশ দৈনন্দিন ৫০০০ মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে মাএ ২০০০ মেগাওয়াট একটি ঘাটতি সম্মুখীন হয়। এটা উল্লেখ করা যেতে পারে যে সঠিক আইসিটি উন্নয়নের জন্য একটি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ একটি আবশ্যক।

২. নেটওয়ার্ক অবকাঠামো : ঢাকার বাইরের কিছু কম্পিউটার নেটওয়ার্ক অবকাঠামোগুলি এখন পর্যন্ত উন্নত হয়েছে।এছাড়াও একটি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে বেশ কয়কটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যে গুলো ঢাকার বাহিরে আছে সে গুলো তে এখন কোন প্রকার ইন্টারনটে নেই । শুদো মাএ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় এখন অমন অনেক জায়গা আছে যেখানে আজ পযন্ত ইন্টারনটে বা LAN নেই ।

৩. ইন্টারনেট ব্যবহার: দেশের আইসিটি উন্নয়নের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়ানো উচিত। এই ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে আমাদের অবস্থান দক্ষিণ এশীয় দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে । সর্বশেষ পরিসংখ্যান (২০১৬) প্রকাশিত হয় যে, আমাদের দেশে ইন্টারনেটের অনুপ্রবেশ কেবলমাত্র ১৩.২ % শতাংশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে যথাক্রমে ১৭.৮% এবং ভারতে ৩৪.৮%।

৪.ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ব্যবহার: অনেক দেশ যেমন ফ্রান্স ও মালয়েশিয়ার খরচ কার্যকারিতা জন্য আইসিটি উন্নয়ন প্রকল্পে ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করেছে। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আইসিটি উন্নয়ন ডোমেনে, ওপেন সোর্সের সাহায্যে সংস্কৃতি এখন চালু হলেও এখন তেমন কোন উন্নতি করতে পারেনি ।

৫. ইংরেজী-শিক্ষার হার: বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় যে, বাংলাদেশে ইংরেজি শিক্ষার হার এক শতাংশেরও কম । আইসিটি ইংরেজির আঙ্গিনায় ইংরেজী ভাষাভাষায় পরিণত হয়েছে দুর্ভাগ্যক্রমে, এই ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান উপ মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। ২০২১ সালের মধ্যে একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য, সরকারের উচিত এই বিষয়গুলির উপর স্বচ্ছ স্বার্থে কার্যকর ও দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করা। তাছাড়া, একটি ডিজিটাল দেশের দিকে যাত্রা করা এবং টেকনোলজিক্যাল দ্রাবক উদ্ভাবনকারী তরুণ প্রজন্মের অন্তর্ভুক্তি করা প্রয়োজন। যদি আমাদের দেশের নেতারা এই প্রজন্মকে যথাযথভাবে নির্দেশ করতে পারে, তাহলে তারা দেশটিকে মৌলিকভাবে পরিবর্তিত করতে পারে।

৬. উন্নত কৃষি : কৃষকদের তাদের জমি চাষের জন্য ঐতিহ্যগত উপকরণের পরিবর্তে আধুনিক মোটর সহায়ক সরঞ্জাম ও তাদের হাতে চালিত সরঞ্জাম সব ধরনের ব্যবহার করতে হবে । তাদের আরো উন্নত  ফসল উৎপাদন সম্পর্কে যথেষ্ট অনলাইন সাহায্য পেতে হবে।

৭. আধুনিক চিকিৎসা: অডিও এবং ভিডিও কনফারেন্সিং ভিত্তিক নেট ব্যবহার করে রোগীদের টেলিমসিসিন ও টেলিসার সার্জারি সুবিধা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি, ২৪ ঘন্টা অনলাইন সহায়তা এবং মৌলিক চিকিৎসা সেবা দিতে হবে ।

৮. ই-লার্নিং এবং ই-কমার্স: সকল শিক্ষা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান একটি ভাল নেটওয়ার্ক সিস্টেমের আওতায় থাকবে হবে এবং এই প্রতিষ্ঠান এবং তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে বিস্তারিত ওয়েবসাইটগুলিতে পাওয়া যাবে । ই-কাগজ, ডিজিটালজনিত কলম, ই-বই, পেন ড্রাইভ এবং স্ক্রিন-টাচ টুলগুলি বিভিন্ন প্রকারের প্রচলিত সরঞ্জামগুলির জন্য প্রতিস্থাপিত করতে হবে।

পরিশেষে বলা যায় বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি উন্নয়নে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ চালু করার জন্য সময় এসেছে । আমাদের উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর দিকে নজর দেওয়া উচিত যাতে আমরা আমাদের আইসিটি ভিত্তিক সমাজের জন্য বিপ্লব আনতে এবং তাদের আধুনিক উপায় ও কৌশলগুলি রপ্ত করতে পারি ।