ফরেস্ট গাম্প(২য় পর্ব)

Now Reading
ফরেস্ট গাম্প(২য় পর্ব)

সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণের সময় ফরেস্ট অনেক ভালো ফলাফল করছিল।যেমন এম১৪ রাইফেল সন্নিবেশিত করার সময় সে নতুন কোম্পানি রেকর্ড করে। তার ড্রিল সার্জেন্ট তাকে প্রায় বলত যে সে একদিন আর্মি জেনারেল হবে। এদিকে স্কুল ইউনিফর্ম পরে প্লেবয় পত্রিকার মডেল হওয়ার কারণে জেনিকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়। সে এরপর মেমফিস এর একটি স্ট্রিপ ক্লাবে গান গাইতে শুরু করে। ফরেস্ট একদিন সেই ক্লাবে যায়। সেখানকার কিছু লোক গান গাওয়ার সময় জেনিকে অস্মমান করছিল। তাদের সাথে ফরেস্টের মারামারি হয়। এর কিছুক্ষন পরে জেনির সাথে ফরেস্টের তর্ক হয়। এক সময় ফরেস্ট জেনিকে বলে যে সে তাকে ভালবাসে। জেনি অনেক রেগে ছিল। সে তাকে বলে যে ভালবাসা কি তা ফরেস্ট জানে না। ফরেস্ট তাকে জানায় যে সে ভিয়েতনাম যুদ্ধে যাচ্ছে। এতে জেনি কিছুটা শান্ত হয়। সে বলে ফরেস্ট যেন বেশি সাহস না দেখায়। আর যখন কোন বিপদ হবে তখন যেন শুধু দৌড়াতে থাকে।

th.jpg ভিয়েতনামে গিয়ে তাদের প্লাটুন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ড্যান টেইলর এর সাথে দেখা হয়। পেট্রল এ থাকাকালীন সময় বুব্বা আর ফরেস্ট সিদ্ধান্ত নেয় যে সেনাবাহিনীতে তাদের কাজ শেষ হয়ে গেলে তারা একসাথে চিংড়ি মাছের ব্যবসা করবে। বেশ কিছু মাস তারা নির্বিঘ্নে ছিল। এরপর একদিন ‘ভিএত কোং’ তাদের আক্রমণ করে। এতে অনেক সৈনিক মারা যায় ও আহত হয়। ফরেস্ট প্রথমে পালিয়ে যায়। কিন্তু পরক্ষণে তার বুব্বার কথা মনে পরে। সে তাকে খোঁজার জন্য ফিরে যায়। সে লেফটেন্যান্ট ড্যান, বুব্বা ও আরও অনেক আহত সৈন্যদের উদ্ধার করে।

th.jpg

কিন্তু বুব্বা মারা যায়। মারা যাওয়ার আগে সে বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। ফরেস্ট ও লেফটেন্যান্ট ড্যান আহত অবস্থায় একই হাসপাতালের পাশাপাশি বিছানায় থাকত। লেফটেন্যান্ট ড্যান এর পা দুইটি মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এজন্য সেগুলো কেটে ফেলতে হয়। ফরেস্ট তাকে মৃত্যুর মুখ ফিরিয়ে আনায় তিনি রেগে যান। কেননা বিকলাঙ্গ হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে যুদ্ধে মারা যাওয়া তার কাছে বেশি সম্মানজনক ছিল।পরে ফরেস্ট ভিয়েতনাম যুদ্ধে সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য ‘মেডেল অব অনার’ পায়। ওয়াশিংটন ডিসিতে বেড়াতে গিয়ে যুদ্ধবিরোধী এক দলের সাথে তার দেখা হয় যার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন অ্যাবি হফম্যান। সমাবেশে তাকে কিছু বলতে বলা হয়। কিন্তু এক পুলিশ কর্মকর্তা সাউনড সিস্টেমের তার কেটে দেয়। তাই তার কথা কেউ শুনতে পায় না। এখানে আবার জেনির সাথে তার দেখা হয়। জেনি ততদিনে হিপ্পি হয়ে গেছে। জেনির নতুন বয়ফ্রেন্ড ওইয়েজলির সাথে ফরেস্টের দেখা হয় যে কিনা বারক্লির এসডিএস আন্দোলনের প্রেসিডেন্ট। তারা ব্ল্যাক প্যান্থার পার্টিতে যায়। সেখানে জেনিকে ওইয়েজলি চড় মারে। এতে ফরেস্ট ক্ষিপ্ত হয়ে ওইয়েজলিকে অনেক মারধর করে। জেনি আর ফরেস্ট সারারাত রাস্তায় হেঁটে হেঁটে গল্প করে। যাওয়ার আগে সে জেনিকে তার মেডেলটি দিয়ে দেয়। সে বলে যে জেনি তাকে যা করতে বলেছিল সেটা করেই এই মেডেলটি সে পেয়েছে। তাই এটি জেনির প্রাপ্য।

১৯৬৯ সালে ফরেস্ট আর্মি স্পেশাল সার্ভিসে যোগ দেয়। সেখনে সে পিং পং বল খেলে আহত সৈনিকদের আনন্দ দিত।দক্ষতার কারণে সে অল আমেরিকান পিং পং দলে ডাক পায়। ১৯৭০ সালে পিং পং ডিপ্লোম্যাসির সময় সে এই দলের সাথে চীন এ যায়। সেখান থেকে ফিরে আসার পরে ফরেস্ট বিখ্যাত ব্যক্তি হয়ে যায়। তাকে এবং জন লেননকে এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে ফরেস্ট চীনাদের সম্পর্কে কিছু তথ্য দেয় যা জন লেননকে তার ‘ইম্যাজিন’ গানটি লিখতে অনুপ্রাণিত করে। এক শীতের দিনে ফরেস্টের সাথে লেফটেন্যান্ট ড্যান এর দেখা হয়। তারা একসাথে থাকতে শুরু করে। লেফটেন্যান্ট ড্যান তখন মাদকাসক্ত। সৃষ্টিকর্তার উপর থেকে তিনি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন।১৯৭১ সালে নববর্ষ উদযাপনের শুরুতে ফরেস্ট লেফটেন্যান্ট ড্যানকে তার সাথে চিংড়ি মাছের ব্যবসা করার প্রস্তাব দেয়। লেফটেন্যান্ট ড্যান দুইজন মহিলাকে তার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু পরে দুইজনকেই বের করে দেয় কেননা তারা ফরেস্টকে অপমান করেছিল। লেফটেন্যান্ট ড্যান এর পার্টি নষ্ট হয়ে যাএয়ার জন্য ফরেস্ট নিজেকে দায়ী করে ও ক্ষমা চায়। ড্যান উত্তরে তাকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানায়। ১৯৭২ সালের জুন মাসে ফরেস্টকে ইউ এস পিং পং দলের সাথে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে প্রেসিডেন্ট রিচারড নিক্সন এর সাথে তার দেখা হয়। প্রেসিডেন্ট ফরেস্টকে ওয়াটারগেইট হোটেলের একটা ঘরে থাকার আমন্ত্রণ জানান। সেই রাতে হটাত করে ফরেস্টের ঘুম ভেংগে যায়। সে দেখে যে একদল মানুষ ফ্ল্যাশলাইট নিয়ে একটি অন্ধকার অফিসে প্রবেশ করছে। সে ভেবেছিল যে বৈদ্যুতিক কোন সমস্যা হয়েছে। তাই সে নিরাপত্তারক্ষী ফ্র্যাংক উইলসকে বিষয়টি জানায়। আসলে সে ভুল ভেবেছিল। এর ফলে ওয়াটারগেইট কেলেংকারির বিষয়টি সামনে চলে আসে। প্রেসিডেন্ট রিচারড নিক্সন ১৯৭৪ সালের আগস্ট মাসে পদত্যাগ করেন। সেই বছর ফরেস্টকে সার্জেন্ট পদে থাকা অবস্থায় সম্মানের সাথে পদচ্যুত করা হয়।

ফরেস্ট তার গ্রিনবোর বাসায় ফিরে আসে। বাসায় এসে সে অনেক স্মারক দেখতে পায়। এগুলো চীনে থাকাকালীন সময়ে পিং পং খেলোয়াড় হিসেবে তার খ্যাতিকে প্রকাশ করছিল। মায়ের উপদেশে সে ২৫০০০ ডলার একটা পিং পং প্যাডেল কোম্পানিকে অনুমোদন করে। সে তার বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় করেছিল বুব্বার বাড়ি ব্যয়ু লা বাতরে তে যেতে এবং একটা নৌকা কিনতে। কেউ একজন তাকে বলেছিল যে নৌকার নাম না থাকলে তা দুর্ভাগ্যের কারণ হয়। তাই ফরেস্ট তার নৌকার নাম রাখে জেনি।

th.jpg

এদিকে জেনি প্রবেশ করেছে এক নিষিদ্ধ জীবনে। সে তখন মাদকাসক্ত। এমনকি আত্মহত্যা করার চেষ্টাও করেছে।

jenny-forrest-gump-hairstyle-07.jpg

লেফটেন্যান্ট ড্যান এর সাথে ফরেস্টের আবার দেখা হয়। তারা দুইজন মিলে চিংড়ি মাছ ধরার চেষ্টা করে। বেশ কয়েক সপ্তাহ তারা কিছুই পায় নি। এরপর সেই এলাকায় আঘাত হানে ‘হারিকেন কারমেন’। এর ফলে দেখা যায় যে একমাত্র তাদের নৌকা ছাড়া বাকি সব নৌকার ক্ষতি হয়েছে। এরপর তারা অনেক চিংড়ি মাছ ধরে। তারা ‘বুব্বা গাম্প কোম্পানি’ নামে একটা কোম্পানি করে। তারা অনেক সম্পদশালী হয়। লেফটেন্যান্ট ড্যান তার জীবন বাঁচানোর জন্য ফরেস্টকে ধন্যবাদ দেয়। এরপর সে নৌকা থেকে পানিতে নেমে পরে। ফরেস্ট ধারণা করে যে ড্যান গড এর মাঝে শান্তি পেয়েছে……………………।(চলবে)