জেগে উঠছে ঘুমন্ত ভাইরাসেরা !

Now Reading
জেগে উঠছে ঘুমন্ত ভাইরাসেরা !

ভাইরাস আমাদের খুব পরিচিত একটা শব্দ । এইটার সাথে আমরা হয়ত “ভাইরাল ফিভার” এর মাধ্যমেই অনেকে পরিচিত । কিন্তু, এর মাধ্যমে মানুষের যেমন কেবল ফিভার হয় ঠিক তেমনি এইডস কিংবা র‍্যাবিসের মত ভয়ংকর কিছুও হতে পারে । আবার এমনও হতে পারে যে মানুষের আসলে কিছুই হয়নি ! আজকে তাই, এরকম কিছু বৃহাদাকার ভাইরাস নিয়েই আলোচনা করব যা তাদের দীর্ঘ দিনের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জেগে উঠলেও সত্যিকার অর্থে তেমন ভয়ের কিছু নেই কারন, এগুলো মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় !

 

ভাইরাস গুলোর উৎপত্তিস্থল   

এইসব ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল সংক্রান্ত সাধারন বৈশিষ্ঠ্য হল এগুলো কোন ভুগর্ভস্থ বরফের মধ্যে অবস্থিত । প্রায় ৩০,০০০ বছরের মত ঘুমন্ত অবস্থায় থাকার পর তারা আবার জেগে উঠছে । বিজ্ঞানীদের কাছে এই বিষয়টা বিস্ময়কর যে এতদিন ধরে কিভাবে তারা সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে ।

প্রথমেই যার কথা বলব তার নাম– “Pithovirus Sibericum” এই ভাইরাসটা প্রথম ২০১৪ সালের দিকে একটা পেপারে পাবলিশড হয় । যার ফলে, মানুষ এর কথা সর্বপ্রথম জানতে পারে । আর এইটা আবিষ্কার হয় রাশিয়ার সাইবেরিয়াতে বিদ্যমান  গভীর বরফ অঞ্চলগুলোতে  । যদিও, এই “Pithovirus” genus এর ভাইরাস প্রথম আবিষ্কার হয় ২০০০ সালের দিকে রাশিয়ার “Chukotka” নামক অঞ্চলে । যা কিনা “Anui River” থেকে ২৩ মিটার উপরে অবস্থিত ছিল । পরে রেডিও কার্বন টেস্টের মাধ্যমে জানা যায় এইটা ৩০ হাজার বছর আগের !**

 

Pithovirus_sibericum_sketch.jpg

 

তবে, শুধু এই পিথোভাইরাসই নয় এর আগেও আর কিছু এরকম বিশাল সাইজের ঘুমন্ত ভাইরাস আবিষ্কার হয়েছিল এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল Acanthamoeba polyphagamimivirus (APMV), যা কিনা ২০০৩ সালের দিকে প্রথম পেপার হিসেবে পাবলিশড হয় যদিও, এই ভাইরাস ১৯৯০ দিকেই বিজ্ঞানীরা খুজে পান । আর এই ভাইরাস ইংল্যান্ডের একটি ওয়াটার কুলিং টাওয়ার এ খুজে পাওয়া যায় ।

APMV প্রথম আবিষ্কৃত জায়ান্ট ভাইরাস হলেও এর ধারা তখনও বজায় থাকে । কারন, ঠিক এরপরেই ২০১৩ সালে আলোচনায় উঠে আসে আরেক জায়ান্ট ভাইরাস যার নাম হল “Pandoravirus Salinas” যেইটা কিনা চিলির উপকূলে আবিষ্কৃত হয় | আর, “Pandoravirus” genus এর আরেকটি ভাইরাস “Pandoravirus dulcis”  আবিষ্কার হয় অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে |**

আর ঠিক এরপরেই আবিষ্কার হয় আমাদের আলোচিত ভাইরাস “Pithovirus Sibericum”

তবে, মজার ব্যাপার হলো এরকম জায়ান্ট ভাইরাস আবিষ্কার কিন্তু এখানেই শেষ নয় | এরপরেও ২০১৫ এর দিকে আরেক টা ভাইরাস আলোচনায় চলে যা কিনা আগেগুলোর চেয়েও ক্ষেত্র বিশেষে বড় আর তার নাম হলো- “Mollivirus sibericum” যার উৎপত্তিস্থল সেই আগের জায়গাতেই যেখানে কিনা সেই পিথোভাইরাস পাওয়া গিয়ে ছিল ।

 

mollivirus.jpg

 

ভাইরাসের পরিচয়  

সাধারনত, একটা ভাইরাস কত বড় হতে পারে ? বড়জোর 20 nm থেকে 100 nm পর্যন্ত । কিন্তু, এইসব জায়ান্ট ভাইরাসগুলো হয় এসব সাধারন ভাইরাস থেকে বহুগুনে বড় । একটা মাইক্রোস্কোপ এর নিচেই এদের খুব সহজে দেখা যায়; যেগুলো, অন্য সাধারন ভাইরাসের ক্ষেত্রে হয়ত কল্পনা করা যায়না । যাইহোক, পিথোভাইরাস গুলো যখন আবিষ্কার হয় তখন এর সাইজ ছিল সবচেয়ে বড় । দৈর্ঘ্যে প্রায় 1500 nm এবং এর ডায়ামিটার হল প্রায় 500 nm । এই ভাইরাসগুল তখন ল্যাব টেস্ট করতে নিয়ে যাওয়া হয় যে কোনো ক্ষতিকারক কিছু আছে কিনা । এজন্য তারা কিছু অ্যামিবা নিয়ে পরীক্ষা করে এবং অবাক হয়ে আবিষ্কার যে অ্যামিবাগুলো সেই পরিবেশে টিকতে পারছেনা । পরে পরীক্ষা করে দেখা হয় অ্যামিবার শরীরে ভাইরাসগুলো দ্রুত বংশবৃদ্ধি করছে আর এর ফলেই, ইনফেকশনের কারনে, একটা সময় অ্যামিবাগুলো মারা পরছে ।

এরপর ঠিক একইরকম পরীক্ষা সেই মলিভাইরাস গুলোর উপরও পরীক্ষা করে দেখা হয় এবং সেখানেও দেখা যায় অ্যামিবাগুলো মারা পরছে ।

তবে, সর্বপ্রথম যখন APMV আবিষ্কৃত হয় তখন বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন সকল জায়ান্ট ভাইরাসগুলো হয়ত এই ভাইরাসটির ফ্যামিলির অন্তর্ভুক্ত হবে । কিন্তু, বিজ্ঞানীদের সেই ধারণা ভুল করে এরপরে যখন Pandora ভাইরাসের আগমন হল তখন দেখা গেল এই ভাইরাস টি আগের সেই APMV এর চেয়ে একেবারেই আলাদা । আর, এই ঘটনার পরই বিজ্ঞানীদের বাধ্য করে যে জায়ান্ট এইসব ভাইরাসগুলোকে তারা যে ভেবেছিল তার চেয়ে অনেক বেশি ডাইভার্স ! আর ঠিক তারপরেই আবিষ্কার হয় পিথোভাইরাস যা আগেরগুলোর থেকেও আলাদা । এখানেই হয়ত, শেষ হওয়া উচিত ছিল কিন্তু, আবারও আরেকটি জায়ান্ট ভাইরাস আবিষ্কার হয় যা হল সেই মলিভাইরাস । বলাই বাহুল্য, এইটাও আগেরগুলোর থেকে আলাদা । আর এভাবেই বিজ্ঞানীরা ৪টি ভিন্ন প্রজাতির জায়ান্ট ভাইরাসের দেখা পেল ।

 

ভাইরাসগুলোর হঠাৎ জেগে ওঠার কারণ কি ?   

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল হঠাৎ কি হল যার কারনে, ভাইরাস গুলো এরকম জেগে উঠছে ? এর সহজ এবং এক কথায় উত্তর হল “ক্লাইমেট চেঞ্জ” । আমরা সবাই জানি পৃথিবী ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হচ্ছে । আর এই উত্তপ্ত হবার ফলেই বরফগুলো আস্তে আস্তে গলতে শুরু করেছে । NOAA র মাধ্যমে জানা যায় যে, ২০১৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১২ মাসের মধ্যে প্রায় ৯ মাসই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ওয়ার্মেস্ট সময়গুলোর মধ্যে একটি ।

এছারাও, আরো কিছু গবেষনায় দেখা যায়, গত ১০০ বছরে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.৩ ডিগ্রী ফারেনহাইট (০.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস) বৃদ্ধি পেয়েছে । এছারাও ভূগর্ভস্থ বরফের (permafrost) তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট (৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস) এবং বরফের গভীরতা প্রায় ৭% হ্রাস করেছে । 2

এইসব, তাপমাত্রা আমাদের কাছে তেমন মনে হবেনা কিন্তু, এইটুকু পার্থক্যই যথেষ্ট পুরো পৃথিবীর মধ্যে প্রলয়ংকারি কিছু ঘটানোর জন্য !

শেষের দিকে এটাই বলতে হয় আর বেশিদিন হয়ত বাকি নেই যখন এই ভাইরাসগুলো পুরোপুরি জেগে উঠবে । এখন পর্যন্ত যেই ভাইরাসগুলো পাওয়া গিয়েছে তা আসলেই, মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় । কিন্তু, সমস্যা হল বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা সেই বরফের নিচে আরো অনেক ঘুমন্ত ভাইরাস থাকতে পারে তবে, সেগুলো মানুষের জন্য ক্ষতিকর কিনা তারা সেই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয় !

 

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই | আশা করি সবার ভালো লেগেছে | সবাইকে ধন্যবাদ |

 


 

References:

  1. http://science.howstuffworks.com/life/cellular-microscopic/are-extinct-viruses-coming-back-thanks-to-climate-change.htm
  2. https://www.ncdc.noaa.gov/sotc/global/201502
  3. http://www.bbc.com/news/science-environment-26387276
  4. http://www.pnas.org/content/111/11/4274
  5. https://www.livescience.com/52175-ancient-giant-virus-revived-siberia.html
  6. https://www.livescience.com/43800-giant-virus-found-permafrost.html

মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া !

Now Reading
মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া !

প্রায় প্রতিটা সময়েই কোনো না কোনো খুব জনপ্রিয় রোগশোক আমাদের সামনে ঘুরঘুর করতে দেখা যায় | এর মধ্যে ছিল ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ,জিকা কিংবা ফাইলেরিয়া | এই সবগুলোর জন্যই কোনো না কোনো মশা দায়ী থাকত | ঠিক সেরকম বর্তমান সময়েও আমাদের সামনে এরকম একটা জনপ্রিয় অসুখ রয়েছে যার নাম হলো “চিকুনগুনিয়া” | বলাই বাহুল্য ,এই রোগটার জন্যও মশা দায়ী !

চিকুনগুনিয়া কি ?

চিকুনগুনিয়া শব্দটা এসেছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী কিমাকন্দ ভাষা থেকে | যার আক্ষরিক অর্থ হলো বাকা হয়ে যাওয়া | আর বাংলাদেশে একে বলে “ল্যাংড়া জ্বর” ! এতসব ভয়ংকর নাম হবার একটা যৌক্তিক কারণ ও রয়েছে | কারণ এই রোগ হলে আক্ষরিক অর্থেই সারা শরীরে এত বেশি ব্যথা করে যার ফলে মনে হতে পারে কেউ যেন হার বাকিয়ে দিয়েছে ! তবে, যাইহোক আমরা চিকুনগুনিয়া শব্দটি দ্বারা একটা রোগ হিসেবেই জানব | যা মূলত, মশার মাধ্যমে ভাইরাস হিসেবে আমাদের শরীরে আক্রমন করে | এর জন্য সাধারণত ২ টা মশা দায়ী | প্রথমটা হলো Aedes aegypti  আর দ্বিতীয়টার নাম  Aedes albopictus. এছাড়াও পাখি কিংবা রোডেন্ট এর মাধ্যমে এর ভাইরাস সার্কুলেট করতে পারে | তবে, মানুষের ক্ষেত্রে এই মশার কামড়ের মাধ্যমেই হয়ে থাকে |

চিকুনগুনিয়ার অঞ্চল

ভৌগলিক অঞ্চল বলতে আফ্রিকা ,এশিয়ার মধ্যে এর প্রকোপ বেশি | এছাড়াও , সেন্ট্রাল এবং সাউথ আমেরিকা, ইন্ডিয়ান ওশান, প্যাসিফিক ওশান এবং ক্যারিবিয়ান ও এর ঝুকিযুক্ত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত |

তবে, আঞ্চলিক অঞ্চল বলতে চিকুন্গুনিয়ার মশা আমাদের বাড়ির আশেপাশেই ডোবা ,নালা-নর্দমা, জমে থাকা পানি ,ইত্যাদির মধ্যেই বিস্তার করে থাকে | এছাড়া বাইরে  ভোর কিংবা সন্ধার দিকে এই মশা সবচেয়ে বেশি কামরায় | এজন্য বাড়ির আশেপাশের অঞ্চল পরিষ্কার রাখাটা খুব জরুরি !

চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ

প্রশ্ন আস্তে পারে চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলো কি কি ? কি কি বৈশিষ্ট হলে আমরা বলতে পারি এইটা একটা চিকুনগুনিয়া ? এর সহজ উত্তর হলো -অসুখটার  ট্রেন্ড থাকা অবস্থায় কারো কোনো জ্বর হলেই মনে করতে হবে এইটা চিকুনগুনিয়া !!

সত্যিকার অর্থে চিকুনগুনিয়া আর ডেঙ্গু দুটোর ক্ষেত্রেই বৈশিষ্ঠ প্রায় একইরকম থাকে | যার ফলে দুটোর মধ্যে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার কাজটা কঠিন | তবে, পার্থক্য হলো ডেঙ্গু জ্বরে চোখ ,মাথা, মাংসপেশী ,হাড়ে প্রচন্ড ব্যথা হয় | চিকুন্গুনিয়ার এইসব বৈশিষ্ট কম বেশি থাকলেও এর উল্লেখযোগ্য লক্ষণ জ্বরের সাথে জয়েন্টে প্রচন্ড ব্যথা, বমি ,ডায়রিয়া আর ত্বকে লাল রঙের র‍্যাশ | ব্যথাটাও এতই মারাত্বক যে অনেকের ভাষ্যমতে এর বর্ণনা হলো “কেউ পিডায়লেও মনেও হয় এত ব্যথা করেনা !!” কাজেই, বোঝায় যাচ্ছে এই অসুখে খুব ব্যথা আর জ্বর হয় !

ডায়াগনস করার উপায়

ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়া ডায়াগনস প্রায় একই পদ্ধতিতে করে থাকে | আরটি-পিসিআর , কালচার বা এন্টিবডি পরীক্ষা করে এই রোগ নির্ণয় করা হয় |

 

চিকুনগুনিয়া থেকে বাচার উপায়

চিকুনগুনিয়া থেকে বাচার অর্থ হলো মশাকে প্রিভেন্ট করা | সাধারণত নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে এই কাজটা করা হয়ে থাকে |

  •  পুরো শরীর কে যতখানি সম্ভব ঢেকে রাখা |
  •  মশার ঔষুধ ব্যবহার করা |
  •  সবসময় রিপেলেন্ট কেনার ক্ষেত্রে ইনগ্রেডিয়েন্ট চেক করে নিতে হবে | যাদের মধ্যে – DEET, Picaridin, PMD, IR3535 উক্ত আইটেমগুলো বিদ্যমান |
  •  যদি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হয় তাহলে, প্রথমে সানস্ক্রিন এবং এর উপর রিপেলেন্ট প্রয়োগ করতে হবে |
  •  পার্মিথরিন ট্রিটেড জামা পড়তে হবে | (পার্মিথরিন সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করা যাবেনা )
  •  এসি রুমে ঘুমালে ভালো হয় !
  •  এছাড়াও ঘরে নেট ব্যবহার করা যেতে পারে |

 

রোগ মুক্তির উপায় 

প্রথমেই বলি হতাশ হতে হবে কারণ, চিকুনগুনিয়া থেকে আক্ষরিক অর্থে মুক্তি লাভ করা যায়না ! কারণ, এখন পর্যন্ত এর কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি | এইটা এমনিতেই ৭-১০ দিনের মধ্যে সেরে যায় | যদি সত্যিই কিছু করতে হয় তাহলে প্রিভেনশনই সবচেয়ে ভালো | তবে, তাও বেশ কিছু পদ্ধতি যা অনুসরণ করে এই অসুখের সময় নিজেকে কিছুটা ভালো রাখা যায় | এর মধ্যে হলো –

  • জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ গ্রহণ|
  • প্রচুর পরিমানে পানি পান |
  • আর বেড রেস্টে থাকা |

 

কখন হাসপাতালে যাবেন ?

চিকুনগুনিয়া সাধারণত ষাটর্ধ ব্যক্তি ,অন্তসত্ব নারী ,ছোট শিশু এদের ক্ষেত্রে ঝুকি তুলনামূলক বেশি থাকে | এছাড়াও, যাদের কিডনি, যকৃত বা হৃদযন্ত্রে অসুখ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এর ঝুকি বেশি থাকে | যদি রক্ত চাপ কমে যায় কিংবা প্রসবের পরিমান ৫০০ মিলিলিটারের কম হয় ,তিন দিনের অধিক সময় জ্বর থাকে তাহলে বুঝতে হবে এখন হাসপাতালে যাবার সময় হয়েছে |

 

চিকুনগুনিয়া বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত

এই বিষয়ে বাংলাদেশের ঢাকা মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় অধাপক মো: শহিদুল বাশার বলেন  -“প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবেনা | এছাড়াও প্রচুর পরিমান পানি পান করতে হবে | আর চিকুনগুনিয়ার মৃত্যুঝুকি প্রায় নেই বললেই চলে |” এছাড়াও তিনি দুর্বলতা কাটাতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার প্রতিও জোরদান করেন |

প্রফেসর আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য মতে -“এই রোগের উপসর্গ দেখা দিলে এক সপ্তাহের মধ্যেই সেরলোজি এবং আরসি-পিসিআর টেস্ট করে শনাক্ত করা যায় |”

মোট কথা, বিশেষজ্ঞদের আলাপ থেকে একটা বিষয় বোঝা যায় চিকুনগুনিয়া নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হবার কোনো প্রয়োজন আসলে নেই |

 

আজকে এই পর্যন্তই | পরবর্তিতে হয়ত নতুন কোনো টপিক নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব | সবাইকে ধন্যবাদ |

 


 

References :

  1. http://www.who.int/mediacentre/factsheets/fs327/en/
  2. https://wwwnc.cdc.gov/travel/diseases/chikungunya
  3. http://www.webmd.com/a-to-z-guides/tc/chikungunya-fever-topic-overview
  4. https://en.wikipedia.org/wiki/Chikungunya
  5. http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1190166/%E0%A6%8F%E0%A6%A4-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A5%E0%A6%BE