ভয়ংকর পুতুল দ্বীপ

Now Reading
ভয়ংকর পুতুল দ্বীপ

পুতুল! পুতুলের নাম শুনলেই মনে হয় বাচ্চা মেয়েরা ঘরে বসে পুতুল দিয়ে যে খেলা খেলে, তাকে। তারা মাটি দিয়ে পুতুল বানায়, তারপর তার জন্য ভালো কাপড় তৈরি করে আবার সেই পুতুল এর সাথে অন্য কারো পুতুলের বিবাহ ও দেয়। অনেক মেয়েদের ই এরকম শখ থাকে নিজের পুতুলের সাথে তার কোন বান্ধবির পুতুলের বিবাহ দেয়া। বহুযুগ আগেও এই পুতুল খেলার কদর ছিলো, আজো আছে, সামনেও থাকবে আশা করি।

প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ বছর আগে, মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে ১৭ মাইল দক্ষিণে জোকিমিলকো জেলার এক দ্বীপে তিন মেক্সিকান শিশু এই দ্বীপে খেলা করছিলো। খেলাচ্ছলে তারা তাদের পুতুলের বিয়ে দেয়। তারপর একটা শিশু হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। একটি খালে তার লাশ পাওয়া যায়। তারপর থেকে তার নাম হয় মেক্সিকোর পুতুল  দ্বীপ।স্থানীয়দের ভাষায় দ্বীপটির নাম “ইলসা ডে লাস মিউনিকাস” বা পুতুলের দ্বীপ। সেই থেকে সাধারণ মানুষের কাছে এই দ্বীপটি হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর এক দ্বীপ এবং লোকমুখে কালক্রমে প্রচলিত হয়ে আসছে নানা কাহিনী।

লোকমুখে শোনা যায়, ডন জুলিয়ান সানতানা নামের এক যাজক ১৯৫০ সালের দিকে এই দ্বীপে চলে আসেন। তাকে নাকি সেই পুতুল গুলো স্বপ্নে দেখাতো এখানে আশার জন্য। তাই তিনি এখানে চলে আসেন এবং এই যায়গাটা বেঁছে নেন তপস্যা করার জন্য।

মাঝে মাঝে সেই পুতুল গুলা তাকে স্বপ্নে দেখাতো আর প্রায় প্রায় ই তিনি সেই নদীর ধারে পুতুল ভেসে থাকতে দেখতেন। তিনি সেইগুলোকে পানি থেকে তুলে গাছে ঝুলিয়ে দিতেন। মনে হতো যেনো কেও গাছে পুতুল চাষ করছে।

অনেকে বলে তিনি নাকি নিজের জীবনের কর্মের প্রায়শ্চিত্তের জন্য ই এখানে এসেছিলেন। তিনি নদীর পানিতে ভেসে আশা পুতুল ছাড়াও নিজে মানুষের বাসা থেকে ফেলে দেওয়া নষ্ট পুতুল সংগ্রহ করে ঝুলিয়ে দিতো গাছে। এভাবে কিছুদিনের মধ্যে পুরো দ্বীপ ভরে গেলো পুতুলে।

জুলিয়ান বলতো পুতুল গুলো নাকি একে অপরের সাথে কথা বলতো। মাঝে মাঝে নাকি কান্নাও করতো আর চোখ থেকেও নাকি পানি বের হতো। কখনো কখনো লাল পানিও বের হতো চোখ দিয়ে। তবে যত যা ই আশ্চর্য হউক সব ই রাতে দেখা যেতো, দিনে না। এই পুতুল গুলোর মধ্যেই নাকি ঐ মৃত বালিকার আত্না আছে। রাতেল বেলা তাই পুতুলের শরীর থেকে বালিকার কন্ঠস্বর শোনা যায়।

নিজের সারাটা জীবন এই দ্বীপেই কাটিয়ে যেন জুলিয়ান।এই পুতুলদের নিয়েই তার জীবন চলে যায়। তবে সব থেকে আশ্চর্যের কথা হলো, সেখানে ঐ মেয়েটার লাশ পাওয়া গিয়েছিলো, যেখান থেকে পুতুল পাওয়া যেতো, ঠিক ঐ যায়গাটাতেই অবশেষে জুলিয়ান এর লাশ পাওয়া যায়।

তারপর জুলিয়ান আর ঐ বালিকার নামে এই দ্বীপ উৎসর্গ করা হয়। এই দ্বীপ হয়ে উঠেছে মেক্সিকোর অন্যতম পর্যটন ক্ষেত্র। সারা পৃথিবী থেকে মানুষ এখানে আসেন জুলিয়ান আর ওই মৃত বালিকার আত্মাকে শ্রদ্ধা জানাতে। তাঁদের আত্মার শান্তিকামনায় গাছের ডালে পর্যটকরা ঝুলিয়ে দিয়ে যান পুতুল। কিন্তু পর্যটকরা পুতুল দেখে রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে এই অযুহাতে এখানে আসতে ভয় পায়। বছরে ১৫-২৫ জন এর বেশী পর্যটক দেখা যায় না। ১৯৯০ সালে মেক্সিকান সরকার এই জোকিমিলকো জেলার এই দ্বীপটিকে National Heritage  ঘোষণা করে।

পৃথিবীতে অনেক রহস্য আছে যার সমাধান হয় নি এখনো। মাঝে মাঝে অনেক কিছু সভ্য সমাজ এ থেকেও যেনো কোন যুক্তির ধারের কাছে থাকে না।