3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

যুদ্ধে রাশিয়াকে প্রস্তুত থাকার চ্যালেঞ্জ আমেরিকার

Now Reading
যুদ্ধে রাশিয়াকে প্রস্তুত থাকার চ্যালেঞ্জ আমেরিকার

গতকয়েকদিনের বিশ্ব পরিস্থিতি  বেশ উত্তাপ ছড়িয়েছে। সিরিয়ার বর্তমান গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিরতা ক্রমশই জোরালো হচ্ছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন দিয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে রাশিয়া। অন্যদিকে আসাদ বিরোধী গ্রুপকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে – তবে কি পৃথিবী তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? এমন ভাবাটা অমূলক  নয়। বিগত বিশ্ব যুদ্ধগুলির প্রেক্ষাপট খেয়াল করলেই এ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বৃহৎ শক্তিগুলো পরস্পরের প্রতি বৈরিভাব এবং ক্ষমতার ধন্ধে নানা ধরনের হুমকি থেকেই যুদ্ধের উৎপত্তি। ঠিক তেমনি এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বর্তমান সময়। পৃথিবীতে এখন নানা ধরনের দ্বন্দ্ব কিংবা সংঘাত চলছে এবং এর সাথে নানা দেশ জড়িত। পৃথিবীর রাজনৈতিক শক্তি বলয় কার্যত এখন দুইভাগে বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরেক পক্ষের নেতৃত্বে রাশিয়া। এ পর্যন্ত এমন কোন উল্ল্যেখযোগ্য কিছুই উদাহরণ হয়ে দাঁড়াতে পারেনি যেখানে এই দুই পক্ষই একই সুরে কথা বলেছেন কিংবা কাজ করেছেন। বরং এর উল্টোটাই দেখেছি আর তা হল যেখানে আমেরিকা কোন পক্ষকে সমর্থন বা সহযোগিতা করেছে ঠিক তার বিপরীত পক্ষকে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে শক্তিশালী করেছে রাশিয়া।

সিরিয়ার গৃহ যুদ্ধ তেমনি একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে যার সংঘাত এরই মধ্যে বৈশ্বিক রূপ লাভ করেছে। বাশার আল আসাদের সামরিক ক্ষমতার পেছনে রাশিয়া ও ইরানের ভুমিকাকে যুক্তরাষ্ট্র কোনভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না। তাই প্রেসিডেন্ট আসাদ এর বিরোধীদের নানাভাবে সমর্থন ও অস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী করছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট আসাদকে সমর্থন দিয়ে তার বিরোধীদের ঘাঁটিতে রাশিয়া নিজেই আক্রমণ চালিয়েছে। এসব কিছু আমেরিকা ভালভাবে নেয়নি তারা সুযোগ এর অপেক্ষা করছিল কিভাবে প্রেসিডেন্ট আসাদকে ঘায়েল করা যায় এবং রাশিয়াকে উচিৎ জবাব দেয়া যায়। সেই সুযোগটি সম্ভবত পেয়ে গেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাশিয়া এবং আমেরিকা পরস্পর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দলটি চেষ্টা চালাচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক টিম গঠনের যারা রাসায়নিক অস্ত্র আক্রমণের বিষয়ে তদন্ত করবেন। তবে শঙ্কা দেখা দিয়েছে রাশিয়া এরকম সকল প্রস্তাব আটকে দেবে। তারা চাইবেনা এই প্যানেল কাউকে দোষী বলে চিহ্নিত করুক। রাশিয়ার বক্তব্য হচ্ছে, তাদের সামরিক বিশেষজ্ঞরা দুমায় বেসামরিক লোকদের ওপর কোন ক্লোরিন বা রাসায়নিক অস্ত্র হামলার প্রমাণ এখনো পর্যন্ত পায়নি। এদিকে নিরাপত্তা পরিষদ এর বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তদন্তকারীরা যদি সিরিয়ান শাসকদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েও থাকেন তবে আদৌ তারা কোন কিছু করতে পারবে বলে মনে হচ্ছেনা। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র সবকিছু একা সামলে নেয়ার প্রতিজ্ঞা ব্যাক্ত করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে, তিনি এ বিষয়ে সামরিক বাহিনীর সাথে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার জন্য সিরিয়াকে কড়া জবাব দেয়া হবে। সাথে সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সর্বশেষ টুইটারে উস্কানি মূলক টুইট করে বলেছে-  ‘রাশিয়া প্রস্তুত হও’ – কারণ যে মিসাইল আসবে আসবে তা হবে ‘সুন্দর, নতুন এবং বুদ্ধিমান।”

সুতরাং ধরেই নেয়া যায় যে, এক ধরনের শীতল যুদ্ধ এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। অনেকে বলছে সংঘাতে জড়ানো ছাড়াও যদি যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো কোন পদক্ষেপ যদি নেয় তাহলে শুধু সিরিয়া নয় রাশিয়া ও ইরানও এর আওতায় পড়তে পারে। অন্যদিকে আমেরিকার কাছে একটি বড় মাথা ব্যাথার কারণ হচ্ছে উত্তর কোরিয়া। কেননা উত্তর কোরিয়া পারমানবিক সক্ষমতা অর্জনের বেশ কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ইতিমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়াকে শান্ত রাখতে নতুন কৌশল হিসেবে আলোচনার দিকে এগুচ্ছেন। কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে উত্তর কোরিয়ার দাবীর প্রেক্ষিতে আমেরিকা যদি কোরিয়া উপদ্বীপ থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে সেটা হবে খুবই ভয়ঙ্কর একটি বার্তা। ফলশ্রুতিতে সে অঞ্চলে একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার  সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। সবমিলিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষরা পূর্বের চেয়ে বেশ শক্তিশালী হয়ে নিজেদের সংগঠিত করেছে। রাশিয়া সেই বলয়টাকে প্রতিনিয়ত সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে শক্তিশালী করেছে তাই সেসব দেশ তাদের শতভাগ নিয়ন্ত্রণে আছে।

এদিকে যদি যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার মত কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তবে বৃহৎ শক্তিগুলোর পরস্পরের মাঝে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পরস্পরের স্যাটেলাইটে সাইবার আক্রমণের মত সম্ভাবনা কেউ উড়িয়ে দিচ্ছেন না। মধ্য প্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে যদিও উত্তেজনা বাড়ছে কিন্তু একই সাথে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে অনেকেই কাজ শুরু করেছেন। আর এ পরিস্থিতিতে যে কোন ধরনের বড় যুদ্ধ থামাতে হাতিয়ার হিসেবে জাতিসংঘ একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাঘ আর কুমির এক ঘাটেই!

Now Reading
বাঘ আর কুমির এক ঘাটেই!

শেষ পর্যন্ত সব কিছুকে মিথ্যে প্রমাণ করে দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন পরস্পরের প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া। সম্ভাব্য মে মাসেই ট্রাম্প-কিম বৈঠকের বিষয়ে প্রাক প্রস্তুতি হিসেবে এর মধ্যেই উত্তর কোরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মধ্যে গোপনে আলোচনা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের চোখ এখন তাদের এই বৈঠক নিয়ে, আদৌ তা ফলপ্রসূ হবে কিনা? সবকিছু ঠিক থাকলে পৃথিবীর ইতিহাসের এই নজিরবিহীন ঘটনা দেখবে বিশ্ববাসি। কেননা এটিই হবে উত্তর কোরিয়ার কোন নেতার সাথে ক্ষমতাসীন কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম বৈঠক। এই বৈঠক বা সম্মেলন কোথায় হবে – তা এখনো অস্পষ্ট। তবে শুনা যাচ্ছে তৃতীয় অন্য কোন দেশে তাদের মধ্যে এই বৈঠক হতে পারে। বৈরি দুদেশের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে মার্কিন প্রশাসন বলছে, ট্রাম্প-কিম এর এই বৈঠকে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়াকে জানিয়েছে যে তারা কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে ইচ্ছুক এবং এ নিয়ে তারা কথা বলতে রাজী। আর তারা এই প্রথম পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে বা  ‘ডি-নিউক্লিয়ারাইজেশন” এ ওয়াশিংটনকেও সরাসরি আশ্বাস দিলো।

যুক্তরাষ্ট্র চায়, উত্তর কোরিয়া তার সকল পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করুক। আর উত্তর কোরিয়ারও স্পষ্ট দাবী, কোরিয়া উপদ্বীপ থেকে মার্কিন সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানকে রক্ষায় কোন অস্ত্র ব্যাবহার করবেনা যুক্তরাষ্ট্র।

তবে বিগত এক বছর ধরে দুই দেশের রাষ্ট্র প্রধানরা পরস্পরকে যখন নানান হুমকি ও বিদ্রুপ করেছেন তখন পরিস্থিতি অনেকটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠে। কিন্তু পরবর্তীতে যখন মার্চ মাসে হঠাৎ বৈঠকের খবর চাউর হয় তখন সবাই বিস্মিত হয়ে যায়। আপাতদৃষ্টে সুখের সংবাদ হচ্ছে পরস্পর বৈরি দুই শত্রু নিজেদের মধ্যেই ঠিক করে নিতে যাচ্ছেন তারা কি করবে। ভাল কিছু হওয়ার প্রত্যাশায় গোটা বিশ্ব। এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কিংবা পরিস্থিতির অবণতি ঘটলে তার মাশুল যে সারা পৃথিবী গুনবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

আমেরিকাকেও চ্যালেঞ্জ জানাল রাশিয়া

Now Reading
আমেরিকাকেও চ্যালেঞ্জ জানাল রাশিয়া

আমেরিকায় রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের সম সংখ্যক কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে তার দেশ থেকে। ৬০জন কূটনীতিক বহিস্কারসহ সেন্ট পিটার্সবার্গে আমেরিকান কনসুলেট বন্ধ করে দিয়েছে তারা। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেন। গত ৪ মার্চ ব্রিটেনের সেলসব্যারীর উইল্টশায়ারে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়ে ইউলিয়াকে নোভিচক গ্রুপের একটি নার্ভ এজেন্ট দিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনে ব্রিটেন। এবং তারা ২৩জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে, আর তাদের সমর্থন ও  সংহতি জানিয়ে আমেরিকাসহ ২০টিরও অধিক দেশ রুশ কুটনিতিকদের বহিষ্কার করে তাদের দেশ থেকে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আদেশে ৬০ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করার পাশাপাশি সিয়াটলে রাশিয়ার কনসুলেট বন্ধের নির্দেশ দেন।

কয়েকদিনের ব্যবধানেই এর পাল্টা জবাব হিসেবে রাশিয়াও সমসংখ্যক যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে তার দেশ থেকে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এই সংক্রান্ত এক আদেশ ইউএস কনস্যুলেটে পৌঁছে দিয়ে তা বন্ধের ও নির্দেশ দেন। তিনি জানান- সমান সংখ্যক কূটনীতিক বহিষ্কার এবং সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউএস কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যক্রমের অনুমতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। এর পূর্বে রাশিয়া থেকে ব্রিটিশ কূটনীতিকদেরও বের করে দেয় রুশ প্রশাসন।

পুতিন কোন অবস্থাতেই ছেড়ে কথা বলছেন না। যদিও তারা মারাত্মক এই নার্ভ এজেন্ট দিয়ে সের্গেই স্ক্রিপালকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।  কিন্তু যুক্তরাজ্য সহ তাদের মিত্র অন্যান্য দেশ এর অনুমান সত্তর ও আশির দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন এর আমলে এ সিরিজের নার্ভ এজেন্টগুলো তৈরি করেছে রাশিয়া যা অতিমাত্রায় উচ্চক্ষমতা  সম্পন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক। যেহেতু এমন নমুনা কেবল তাদের সংগ্রহে আছে আর এতেই প্রমাণ মেলে তাদের সম্পৃক্ততার।

বিশ্বের অনেক দেশ মনে করেছে যুক্তরাজ্যকে সমর্থন দিয়ে আমেরিকা যেহেতু একই পথ অবলম্বন করেছে সুতরাং রাশিয়া কোণঠাসা হবেই। কিন্তু সকলকে হতবাক করে তাদের সেই ধারণাকে মিথ্যে প্রমাণ করে দিয়েছেন পুতিন। তিনি পাল্টা ব্যাবস্থা নিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁকে ঘাঁটাঘাঁটি করাটা মোটেও শুভ হবেনা। এখন দেখার বাকি অন্য  দেশগুলোর প্রতি কি ব্যাবস্থা নেন পুতিন যারা রাশিয়ার কূটনীতিক বহিষ্কার করেছে তাদের দেশ থেকে।