শহরের বাহিরে এবং ভিতরে!

Now Reading
শহরের বাহিরে এবং ভিতরে!

৫ম শ্রেনিতে পড়ি তখন। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে সাইকেলে বই গুলোকে বাধা অবস্থাতে রেখেই দৌড়ে চলে গেলাম রাস্তার পাশে গর্তটিতে। যেখানে আমরা ক্রিকেট খেলি! হঠাৎ বড় খালা এসে বলল, কালকে তর খালু দেশে আসবে। তুই আমাদের সাথে এয়ারপোর্ট যাবি। যা গিয়ে রেডি হ। কথাটা শোনতেই শরীরের মধ্য দিয়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকে উঠল। আনন্দে আত্মহারা হয়ে চোখ বোঝে এক দৌড়ে চলে গেলাম বাড়িতে। মা আমি এয়ারপোর্ট যামু!

-তরে কে কইল?

-দেহ খালায় আইছে।

অজানা কোন সুখ এসে মনের মধ্যে তার অস্থিত্ব জানান দিচ্ছিল। অতি উত্তেজনায় কাপতে ছিলাম। আমি ঢাকা যামু!! বাড়ির সমস্ত ছেলে মেয়ে গুলোকে দৌড়ে দৌড়ে নিজের আনন্দের খবরটা জানিয়ে দিলাম। সবাই অনেকটা কৌতূহল এবং আগ্রহ নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। আবার অনেকটা হিংসাও! আর আমি এমন ভাব নিয়া তাদের দিকে তাকাচ্ছিলাম, মনে হয় তাদের বুঝাতে চা্চ্ছি দেখ বেটারা আমি ঢাকা যাইতেছি, সো আমেরিকা যাওয়া কোন ব্যাপারনা! সারা রাত ঘুমোতে পারিনি। রাতের অলসতা আমার উত্তেজিত স্নায়ুকে হার মানাতে পারেনি। এপিঠ ওপীঠ করে কোন মতে রাত ২টা বাজিয়েছি। ৩টার সময় আমাদের গাড়ি ছাড়ার কথা। কিন্ত গাড়ি ছাড়ে প্রায় সারে ৪টার দিকে। কোন রকমে রাবেয়া আপুকে হার মানিয়ে ড্রাইভারের পাসের ছিট-টা দখল করি। গাড়ি চলে। ঘূর্ণায়মান গাড়ির চাকার সাথে তাল মিলিয়ে সকালটাও চলে আসে খব দ্রুত। আর আমি জানালা দিয়ে মাথা বের করে হা করে তাকিয়ে থাকি রঙ বেরঙের দালান গুলোর দিকে। কি যে এক অদ্ভুদ অনুভূতি! প্রতিটা ভবনের তলা গুনতে শুরু করি। আলামিন একবার ঢাকা এসে গ্রামে গিয়ে ১০ তলা বিল্ডিং-এর কথা বলছিলো। আমি প্রাইমেরি স্কুলের একতলা ভবনের দিকে তাকিয়ে ভেবেছিলাম, ইশ ১০ তলা বিল্ডিং যেনো দেখতে কেমন! ছোটখাট বিল্ডিং গুলো ছাড়া কোন বিল্ডিং-এরই পুরাটা গুনে শেষ করতে পারিনা। একটা গুনতে না গুনতে গাড়ি আরেকটার কাছে চলে যায়। আরেকটার পর আরেকটা! ঢাকা শহরে এত বিল্ডিং? অবাক হয়ে যাই। শেষমেশ ১২ তলা পর্যন্ত একটা গুনেছি। আমার বুকের ভেতর অঝরে কাঁপতে থাকা ছোট্ট হৃদয়টাতে তখন আনন্দের উপচে পড়া ভিড়, প্রবল উত্তেজনা। বাড়ি গেলে গল্প হবে! তবে অবাক চোখে তাকিয়ে ছিলাম একটা বিল্ডিং-এর উপর। দুই-তলা। কিন্তু রাস্তায় চলে! এ কেমন বাড়ি? প্রবল উত্তেজনায় চিৎকার দিয়ে রাবেয়া আপুকে বলি, আপু দেখো বিল্ডিং কেমন গাড়ির মত চলে! রাবেয়ার আপুর সাথে সবাই তাকালো। তারপর যেটা ঘটলো সেটা দেখে আমি হঠাৎ করেই কেমন চুপসে যাই। হাওয়া ভর্তি বেলুনের সবটুকু হাওয়া বেড়িয়ে গেলে যেমন চুপসে যায় ঠিক তেমন চুপসে যাওয়া। সবাই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার মত অবস্থা। রাবেয়া আপুকে দেখে মনে হচ্ছিলো গাড়িতে জায়গা থাকলে সে হাসতে হাসতে শুয়েও পড়তো। কি এমন বললাম? আমার খুব করে ইগোতে লাগে। তারপর আমায় অবাক করে দিয়ে ড্রাইভার বলে এটা বিল্ডিং না, এটা দোতলা বাস। আমার মধ্যে যেন হঠাৎ করে শক লাগে। আমি প্রথমবারের মত মনে হয় ততোটা আশ্চর্য হয়েছিলাম। দোতলা বাসও হয়? অথচ আমাদের গ্রামের একমাত্র বিল্ডিং প্রাইমারি স্কুলটাও একতলা! কি অদ্ভুদ ঢাকা!  আমি আবার উত্তেজনা অনুভব করি। খানিক আগে আমাকে নিয়ে করা তাচ্ছিল্যের হাসাহাসি নিমিষেই ভুলে যাই। মনযোগের সবটুকু দিয়ে তাকিয়ে থাকি বাহিরে। এই শহরে বাসে বাসে পত্রিকা, বাদাম, বুট  বিক্রি করা হয়। কি আশ্চর্য, পানিও বিক্রি করা হয়! অথচ আমাদের টিউবওয়েলের পানি খাওয়ার মত কেউ নাই। একদুইবার পানি তোলার পরে সারাদিন নিথর পরে থাকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে আমি পানি কিনেছিলাম শুধু এই ভেবে, ঢাকার পানি মনে হয় অন্যরকম। কেমন বোতলে করে বেঁচে! পানির বোতল কোলে নিয়ে বসেছিলাম। এ পানি খাবোনা, গ্রামে নিয়ে যাবো বলে! সকালের ঢাকার রাস্তা, মানুষ, হকার, গাড়ি, বিল্ডিং এমনকি রাস্তার ধূলাবালিও আমায় মুগ্ধ করেছিল সেদিন। আমার প্রতি মুহূর্তেই মনে হচ্ছিলো এসব কিছু আমার জন্য, শুধুই আমাকে মুগ্ধ করার জন্য। আমার মুগ্ধ হৃদয়ে অজস্র গল্প বুনা হয়েছিল সেদিন। আমাকেও যে গল্প করতে হবে আলামিনের সাথে!

এটাই ছিল আমার প্রথম ঢাকা আসা।

………………………………

পড়াশোনা নামক পার্ট টাইম চাকরিটা নিয়ে যখন এই শহরে পাড়ি জমাব, বিদায় ক্ষনে আমার মা চোখের পানি গুলো গড়গড় করে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্ত আমি সেই কান্নার অর্থ বুঝিনি। তখন আমার চোখে মুখে ছিল শহরের রঙিন দালান গুলোর টগবগে স্মৃতির মিহীন ক্যানভাস। মনে ছিল ইচ্ছা। আমিও সেই যেকোন একটা দালানের বাসিন্দা হবো।  

পরিশেষে আজ এই স্বপ্নের শহরে আমার বসবাস। ধূলা-বালি ও কালো ধূয়ায় মিশ্রিত দূষিত বাতাস আর যান্ত্রিক যন্ত্রনার অসহনিয়তা আমার আবেগে জড়ানো সকল স্বপ্নকে ভেঙ্গে এনে দিয়েছে বাস্তবতা। আর এ বাস্তবতাটা শহুরে জীবনে কতটা সুখের তা আমার মত একজন ব্যাচেলরই বলতে পারবে। এই বাস্তব জীবনে অনেকবার আকাশে তাকিয়েছি। কিন্ত কখনো রংধনু দেখিনি। দেখেছি ঘন কালো মেঘ। কখনো দোয়েল পাখিটাকে শূন্যে ভাসতে দেখিনি। দেখেছি উড়োজাহাজ। মানুষের প্রতি মানুষের মমতাহীনতা, একটাকার আশায় কাছে এসে হাত পাতা বৃদ্ধ ভীখারির পেটে লাথি দেয়া আর স্বার্থপরায়নতার কর্মকান্ড গুলো আমার দৃষ্টি শক্তিকে ঝাপসা করে দিয়েছে। আর এই ঝাপসা চোখে মধ্য রাতের অন্ধকারে রাস্তার পাশের লেম্পের আলোতে আমি প্রায়ই খুঁজে বেড়াই কবি গুরুর ফটিককে। কারন এই মুহুর্তে আমিও যে ফটিকের পথের অনুসারি!

পাগলামির কারনে মায়ের হাতে মার খেলে নিজের প্রতিশোধের আগুন জালিয়ে দিতাম ছোট ভাইয়ের পিঠে। তারপর যা ঘটত তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তত থাকতাম। রিপিট মায়ের হাতে ধাওয়া খেয়ে বাড়ি থেকে পলাতক। সন্ধ্যা হতেই মা যখন নামাযে দাড়াতো তখন পিছনের দরজা দিয়ে ঘরে ঢোকে খাটের নিচে লুকিয়ে যেতাম। ততক্ষনে দেখতাম পাগল দাদিটা কয়েকবার পুরো গ্রামে আমাকে খুজে বেরিয়েছেন। চোখে না দেখলেও রাতের অন্ধকারে তার পা গুলো অনবরত চলত সজিবের খোঁজে। আর মা? সন্তান কে মেরে নিজেকে অপরাধী ভেবে গভীর শোকে বসে থাকত খাবারের প্লেট নিয়ে।

আর আজ এই স্বপ্নের শহরটাতে অনেক বার না খেয়ে ঘুমিয়েছি। কিন্ত কোন মায়াবি হাতের স্পর্শ আমি পাইনি। ভাইকে না মারা সত্ত্বেও মধুমাখা কণ্ঠে কখনো শোনিনি বাবা খেয়ে ঘুমা। আজ আমার শরীরের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চমকায়। উত্তেজনায় কাপি। রাতে ঘুম হয়না। যখন ভাবি গ্রামে যাব। স্নায়ু গুলো রাতের অলসতার কাছে হেরে গিয়ে যদি চোখের দুটি পাতা এক হয় তখন স্বপ্ন দেখি,………ঘুরে বেড়াচ্ছি সবুজে ঘেরা ধান ক্ষেতের লাইল ধরে, শাস নিচ্ছি প্রানভরে। যে বাতাসে নেই ধুলা-বালি আর কালো ধূয়ার বিষ। আছে শুধুই অক্সিজেন। তরতাজা অক্সিজেন! সু্যোগ পেলেই ঢিল মেরে দিচ্ছি কারো আম গাছে। বাবু,উজ্জ্বল,সুমন দের সাথে সাইকেল দৌড়াচ্ছি আধা-ভাঙ্গা সেই চিরচেনা পিচঢালা পথটি ধরে।

***************************

 

খুন!

Now Reading
খুন!

চোখ খুলার পরেও রহমতের মনে হলো এখনো চোখ বুজেই আছে সে!

চারপাশ থেকে একটা কাঁথা শক্ত করে জড়ানো গায়ে। একদমই নড়াচড়া করতে পারছেনা। মনে মনে বেশ ভয় ভয় লাগছে তার।

-মাগ্গো! এ কেমুন আন্ধাইর দুনিয়া!

মনে মনে নিজেকে সাহস দেয়ার চেষ্টায় স্মৃতি ঘাটাঘাটি শুরু করলো রহমত।
– আইচ্ছা অখন রাইত না দিন? কাইলকা যেন্ কই আসলাম এমুন সময়?

পুরনো স্মৃতি সব অন্ধকারে তলিয়ে আছে রহমতের। বর্তমানের ভয় ভুলার জন্য অতীত ভাবতে গিয়ে আরো গহীন আঁধারে ডুবে গেলো রহমত। সেই সাথে নতুন করে ভয়টা আবার জেঁকে ধরলো! চিৎকার করার চেষ্টা করেও পারলোনা, গলা শুকিয়ে কাঠ, কেমন চাঁমচিকার মতো চিঁ চিঁ শব্দ বের হলো একটা!

নড়াচড়ার চেষ্টা করেও সুবিধে হলোনা, কাঁথা দিয়ে মুড়ানো নয় একদম যেনো কেও কষে বেঁধে রেখেছে রহমতকে!

সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই মনে পড়ে গেলো মাঝ রাতে কি করে এসেছে সে। ছবির মাঝির নৌকাটা ডুবিয়ে এসেছে মাঝ পদ্মায়, গলুইয়ে কষে বাঁধা ছিলো ছবির মাঝি। ঠিক তার নিজের মতই!
ডুবে যাওয়ার আগ মূহুর্তে একবার ছবির মাঝির দিকে তাকিয়েছিলো রহমত, আতঙ্কে চোখ দুটো কোটর ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলো, মুখে টু শব্দটি নেই! ছই এর দড়ি টা মুখে গুজে দিয়ে রেখেছিলো যে আগেই!

ছবির মাঝির ঐ আতঙ্ক নিজের মনেও আবিষ্কার করলো রহমত।
হাত-পা মোড়ানো!
মুখে শব্দ নেই!
চারদিন আন্ধার!!
একটু ক্ষন বাদেই সেও মাঝির মতোই…….

ভাবনাটা মাথায় আসতেই ঝটকা দিয়ে ওঠে বসলো রহমত।

-আল্লার দোহাই লাগে ছবিরা, আমারেও লগে নিছ না! এই জীবনে আর খুনখারাবি করুম না। বান্ধন ছাইরা দে আমারে!

চিৎকার করতে করতে চোখ মেলতেই থমকে গেলো রহমত। পিট পিট করে তাকালো ওর ওপর হুমড়ি খেয়ে থাকা মুখগুলোর দিকে!

জোয়ার্দার কষাই পানের পিক ফেলে বললো,
-লও মিয়া, ওইট্যা হাডা দেও,,ওসি সাব হেই কহন থিক্যা বইয়া রইছে ইস্টিটমিন্ট না কিয়ে জানি খত লওনের লিগ্গা।
মারছো বালা কতা, নিজে লিগ্গা আলেদা একখান নাও লইয়া যাইবানা বলদা?

জোয়ার্দারের কথা শুনে সবাই হ্যা হ্যা করে হেসে ওঠলো। এ যেনো আস্ত একটা রসিকতা হলো!

আস্তে করে ওঠে বসলো রহমত। ওসি সাহেবকে খুজে পেয়ে ওদিকে হাটা দিলো। পেছন থেকে পানের পিক ফেলে কষাই জোয়ার্দার রসিকতার ছলে বলে ওঠলো আবার,

-“কি মিয়া এই যাত্রায় কি শিখলা?”

– “কষাই হারাজীবন কষাই ই থাহে।
এর কতায় বালা মাইনষেরে না মাইরা এরেই মারন লাগবো। আর তহন নিজের বাঁচনের নাও কিনোনের ট্যাহাডাও কষাইয়েত্তেই নিয়াা রাহন লাগবো আগেই।”

রহমত আর দাড়ালোনা,

যা বলার বলে এসেছে, এখন নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত তো নিজেকেই করতে হবে!

 

 

প্রতিবিম্বঃ শেষ পর্ব

Now Reading
প্রতিবিম্বঃ শেষ পর্ব

জাবিরের মাথায় লেগে থাকা জট গুলো আস্তে আস্তে খুলতে শুরু করে। জান্নাত কি সেই ছোট মেয়ে? কি চায় জান্নাত? প্রতিশোধ? কিন্তু যে মারা গিয়েছে সে তো ছোট ছিল, জান্নাত তো যুবতী। কনফিউশনে না ভুগে সরাসরি জিজ্ঞেস করলো নিহান কে,

– সে বাচ্চা মেয়ে কি আজকের জান্নাত?

– হ্যাঁ

– সে তো ছোট ছিল? আর ওর প্রপার ফিউনারেল হয়েছিল।

– হয়নি, হয়নি বলেই আজ এত ভোগান্তি তোর।

– আমাকে সব খুলে বল নিহান।

নিহান এবার বলতে শুরু করলো , “ ২ সপ্তাহ আগে জাকিয়ার একটা ফোন কল পাই। ও কাঁদতে কাঁদতে বলে যে একটা মেয়ে তার বাচ্চাকে ভয় দেখায়। আমি বললাম পুলিশে কমপ্লেইন করতে, কিন্তু ও মানা করে দিল। বললো “মেয়েটা মানুষ না, তাই পুলিশ কমপ্লেইন নিবে না”। আমি হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলাম এই বলে – “মানুষ নয় তো ভুত নাকি”? জাকিয়া ভয়ার্ত গলায় হ্যাঁ বাচক উত্তর জানায়। আমাকে এই ব্যাপারটার একটা সুরাহা করতে অনুরোধ করে। আমি খোঁজে লেগে পড়ি। আমার কিছু নিজস্ব সোর্স আছে যাদের মাধ্যমে আমি জানতে পারি সেই বাচ্চা মেয়েটাই জাকিয়ার পরিবারকে চিন্তিত করে তুলেছে। তোর কাছে থেকে কল পাবার পর প্রথম চিন্তা এটাই করেছিলাম যে তুই এই ব্যাপারেই কথা বলতে চাস। সেদিন সেই খেলার স্থানে আমাদের সাথে আরেকজন ছিল, রাফি। ছোট ফুপির ছেলে। গত মাসের ২৪ তারিখ থেকে সে কোন কথা বলতে পারছেনা। কিছু হয়েছে ওর সাথে যাতে সে প্রচণ্ড শক খেয়েছে। ডাক্তার বলেছে –অতিরিক্ত চিৎকার করার ফলে ভোকাল কর্ড ছিড়ে গিয়েছে ওর। রাফির সাথে বোঝাপড়ার পর্ব শেষ হতেই জাকিয়ার বাচ্চাকে বিরক্ত করা শুরু করে। আমি খোঁজ পেয়ে যাই আর সেটা বন্ধ করতে সক্ষম হই। এর মাঝেই তোর ফোন, বুঝে যাই তোর সাথে কিছু হচ্ছে। সোর্স লাগিয়ে কিছুটা আচ করতে পারলাম। দেরি না করে চলে এলাম।”

জাবির স্তব্ধ হয়ে বসে এতক্ষন শুনছিল। এতক্ষনে বিষয়গুলো পরিষ্কার হচ্ছে। হঠাৎ বুকের উপর হাত দিল।  তাবিজটাই এতদিন জাবিরকে সুরক্ষিত রেখেছে। ছোটকালে সেই ঘটনার পরপরই দাদা এনে দিয়েছিল। জাকিয়া, নিহান আর রাফিকেও দিয়েছিল। নিহানের গলায় এখনো ঝুলছে। জাকিয়া আর রাফি হয়ত এতদিনে ফেলে দিয়েছে তাবিজ। তাই ওদের অনিষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে সেই আত্মা।

“এখন আমরা কি করব?” – নিহানের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিল জাবির।

“ এখন আমাদের সেই বাড়িতে যেতে হবে। ওর কোন ব্যবহৃত বস্তু থাকলে খুজে বের করতে হবে। সেটাই পারবে আমাদের বাচাতে। কারন অনিষ্ট সাধনের জন্য মত্ত থাকা আত্নাদের ব্যবহৃত যে কোন দ্রব্য তাদের প্রিয় হয়ে থাকে। সেটা তাকে ফিরিয়ে দিয়ে তার কাছ থেকে জীবন বিনিময় করতে হবে। ” – নিহান জবাব দিল।

“আচ্ছা নাহিদ কেন মারা গেল? ” – জাবির আবার জিজ্ঞেস করলো।

“নাহিদ জান্নাতের আসল পরিচয় জেনে গিয়েছিল। নাহিদ হয়ত এসব নিয়ে রিসার্চ করতো। পরিচয় জেনে যাওয়া মাত্রই জান্নাত সেটা টের পেয়ে যায় আর নাহিদের কোন প্রটেকশন না থাকার কারনে প্রান হারাতে হয় । এসব আত্না প্রচন্ড শক্তিশালী হয়ে থাকে, কারন এদের লক্ষ্য এর ব্যাপারে এরা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” – নিহান জানালো।

নিজের জন্য বন্ধু নাহিদের প্রাণ গেল এটা ভেবে মুষড়ে পড়লো জাবির। কিন্তু এটা মন খারাপ না করে এই আত্মা থেকে মুক্তি পাবার পথ খুঁজে বের করার সময় বলে নিহান সান্ত্বনা দিল জাবিরকে।

গাড়ি ইন্দিরা রোডের জান্নাতদের বাসার সামনে এসে থামালো জাবির। থমথমে একটা ভাব বিরাজ করছে পুরো বাড়িতে আর সেটার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে পরিবেশেও।

গাড়ি থেকে নামলো ওরা। আজকেই কি পারবে জান্নাতের হাত থেকে নিজেদের মুক্তি দিতে? আজকেই কি পারবে জান্নাতকে ওর যথাযথ স্থানে ফিরিয়ে দিতে?

প্রথমে নিহান তারপরে জাবির প্রবেশ করলো বাড়িতে। একটা ঝাঁঝালো বাতাস ছুঁয়ে দিল ওদের। একসাথে শত সহস্র ঘন্টা বাজছে মনে হচ্ছে। আকাশটাও মুহূর্তে কালো মেঘে ঢেকে গেল। নিহান ব্যাগ থেকে একটা বই বের করে পড়তে শুরু করলো। ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে নিহানের গলা। মেঘের গর্জন আর নিহানের জোর উচ্চারণে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠছে প্রতি সেকেন্ডে। দেয়ালগুলো পড়ে যাবে মনে হচ্ছে। বালির ঝড় সব উড়িয়ে নিয়ে যাবে মনে হচ্ছে।

এমন সময়ে নিহান পড়ে গেল। ওর গলার থেকে লকেট ছিটকে দূরে সরে গেল। এই সময়টার অপেক্ষাতেই ছিল আত্মাটা। নিহানকে মাটি থেকে উপরে তুলে ফেলল। দেয়ালের সাথে সটান হয়ে ঝুলে আছে নিহান। শ্বাস নিতে পারছে না। মুখ থেকে গলা কাটা প্রাণীর মত ঘড় ঘড় শব্দ বের হচ্ছে।

জাবির হুঁশ হারিয়ে এদিক ওদিক ছুটতে । ছুটতে ছুটতে হঠাৎ পায়ের সাথে কিছু একটা ধাক্কা লেগে পড়ে গেল। মাটিতে পড়ে সামনে তাকাতেই দেখলো একজোড়া চোখ ওর দিকে তাকিয়ে নিষ্ঠুর হাসি হাসছে।

হামাগুড়ি দিয়ে সামনে আসছে আত্মাটা। ভয়ে জাবিরের গলা শুঁকিয়ে গেল। সাথে সাথে গলায় হাত দিয়ে দেখলো তাবিজটা নেই। আত্মাটা ততক্ষনে জাবিরের গায়ে জেঁকে বসেছে। জাবির এর শরীর থেকে ঘামের নহর বয়ে যাচ্ছে।

কানের কাছে আত্মাটা মুখ এনে জাবির এর নাম ধরে ডাকতে থাকল।

ধড়ফড় করে ঘুম থেকে উঠে বসলো জাবির। সারা শরীর ঘেমে গেছে। ডিসেম্বরের শেষের এই কনকনে শীতেও এসি ছেড়ে ঘুমোতে হয় জাবিরের। এই অবস্থায় ও ঘেমে গোসল হয়ে গেছে তার।

এতক্ষন তাহলে স্বপ্ন দেখছিল? নিজের সারা শরীর হাতিয়ে দেখল। কোন আঘাত এর চিহ্ন নেই । খুব বড় একটা স্বস্তির শ্বাস ফেলল সুস্থ আছে দেখে।

কোথা থেকে যেন শব্দ আসছে। আচ্ছা, ওর মোবাইল বাজছে। এই সাত সকালে কার ফোন?

ফ্লিপ কভার টা খুলে স্ক্রীনের দিকে তাকাতেই সব স্থির হয়ে গেল ওর।

সেই পরিচিত নাম্বার আর উপরে নোটিফিকেশন ভেসে আছে – ১৯ টা মিসকল…

স্বপ্নের প্রহর।

Now Reading
স্বপ্নের প্রহর।

স্বপ্নের প্রহর।

আমাদের বড় স্বপ্ন গুলো ভেঙ্গে যায়,আর ছোট স্বপ্ন গুলো মনের অজান্তেই ভুলে যাই।
তাই স্বপ্ন না দেখাই ভালো,আমার তো মনে হয় স্বপ্ন ভাইরাস । যা কিছু ক্ষেত্রে হয়ত ভাল কিন্তু যখন বেড়ে যায় তা সারানো দূর্ভোগ হয়ে যায়।

মনে পড়ে যায়, সেই ছেলেটির কথা,ওর দেশ প্রেম নিজেকে ওর কাছে অনেক ছোট মনে হল,যদি ও ছেলেটি বয়সে আমার ছোট। দুষ্টামি করে আমায় মোটা ভাই ডাকত।তখন আমি সবে মাধ্যমিক পাশ করেছি,আর ও বোধয় ক্লাস সিক্সে।

লেখার সময় ওর স্বর গুলো কানে বেজে উঠল।

ভাই, জীবনে আর কিছু করি আর না করি, দেশের জন্য কিছু একটা করবই।
৭১ থাকলে যুদ্ধে নামতাম।কিন্তু তা পারি নাই। তাই যে ভাবেই হোক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তে ঢুকে দেশের সেবা করবই।

শুনে আমি বললাম, বাংলা মায়ের দামাল ছেলে, করতে পারে চাপার বড়াই।

আমার কথার পেক্ষিতে বলল, ভাই মজা নিলেন আমি কিন্তু সিরিয়াস। আমার ইচ্ছা স্বপ্ন সব একটাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

শুনে তারপর বললাম বেশ তো,চেষ্টা কর ক্যাডেটে চান্স পাওয়ার।আর ও বললাম,
তোরাই তো দেশের অহংকার আমরা তো সব জংকার।

আমার কথা শুনে হেসে বলল, ভাই দোয়া করবেন। এই বছর ক্যাডেটে পরীক্ষা দিব।

তারপর কয়েক মাস পড়ে সেই ছোট ভাইয়ের ফোন কল,,,, ধরার পর

ভাই আমি লিখিত পরীক্ষায় পাশ করছি,
আলহামদুলিল্লাহ্‌।
এখন ভাই মেডিকেল বাকি।
ইনশাআল্লাহ ভালো হবে।
ভাই দোয়া করবেন বলে ফোনে কথা শেষ হল।

অনেকদিন পর উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্র। ওর মত আমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হওয়ার স্বপ্ন দেখি আর মডেল টেষ্ট দেই। একদিন ক্লান্ত মনে ফোনের কন্ট্রাক্ট লিষ্টে কোন একজনে র নাম্বার খুজতে ওর নামটি চোখে পড়ল।
সব কিছু মনে পড়তে ই মনের অজান্তেই কল দিয়ে দিলাম, রিং বাজতেই অপর প্রান্ত থেকে একজন মহিলা কন্ঠ স্বর বুঝতে পেরে জিজ্ঞসা করলাম
মাসি কেমন আছেন?
জি ভালো বাবা। তুমি কে বাবা?
পরিচয় দিলাম তারপর জিজ্ঞসা করলাম, মাসি বিজয় আছে?
ও কী ক্যাডেটে চান্স পেয়েছে?
ফোনের অপর প্রান্তে এক নিস্তব্ধতা সৃষ্টি হয়।
আর তার ক্ষনিক পরে শুরু হয় ব্যাকুল কান্না। আর কান্না জড়িত কণ্ঠে শুনতে পেলাম, বাবা প্রার্থনা কর যেন ভগবান ও কে স্বর্গে ঠাই দেয়।
আর শুরু হয়ে ছেলে হারা মায়ের আর্তনাদ…….।

পরে জানতে শারীরিক কিছু দূর্বলতার কারণে ও মেডিকেল থেকে বাদ পরে।আর স্বপ্নের এই ভাঙ্গন ওকে ভেঙ্গে ফেলে আর বিজয় বেছে নেয় আত্মহত্যার আর এরই মাঝেই হয় বিজয়ের পরাজয়।

আমি এখন একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
স্বপ্ন!!!
এই সব কথা গুলো আজ স্বপ্নের মত লাগছে।
ঠিক যেন সেই কবিতার মত
“আমি জেগে রই আর স্বপ্ন দেখি,
আমি দিবা নিশি স্বপ্নের পথচারী।
আমার স্বপ্নে শত ব্যাক্ষা যুক্তি,
আমি সেই যে চির নিদ্রার স্বপ্ন দেখি।

_____________________ নিলয়।

 

ইনসেপশন বিশ্লেষণ (পর্ব ১)

Now Reading
ইনসেপশন বিশ্লেষণ (পর্ব ১)

এই মুভিটা বানানো হয়েছে পুরোপুরি ড্রিমবেসড আইডিয়া দিয়ে। আমি ইন্টারস্টেলার নিয়ে লিখার পর, এই মুভি বিশ্লেষণ এর জন্য রিকুয়েস্ট এসেছে, আমি যতটুকু পারছি আমার জ্ঞান থেকে এবং বিভিন্ন ইনফরমেশন থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি। এক্সেক্টলি রেফারেন্স দিতে পারছিনা কারন একেক সময় একেক বই থেকে তথ্য গুলো পড়েছিলাম। কোনো ভুল তথ্য দিয়ে ফেললে ক্ষমা সুন্দর দৃস্টি তে দেখবেন আশা করি, তবে অবান্তর তথ্য দেয়া থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ। শুরু করি..

 

স্বপ্ন জিনিস টা আসলে কি? স্বপ্ন নিয়ে বিজ্ঞানীরা কম ঘাটাঘাটি করেন নি,কিন্তু এর একেবারে পারফেক্ট ব্যাখ্যা এই পর্যন্ত কেউ দিতে পারেন নি। স্বপ্নের অদ্ভুত কিছু উদাহরণ আছে যেমন অনেকে দাবি করে সে স্বপ্নে যা দেখে তাই হয়..তা কিন্তু সবসময় মিথ্যা না,

আবার, অনেক ছোট বাচ্চারা এক্সিডেন্টাল ভাবে বিছানা ভিজিয়ে ফেললে তারা অজুহাত দেয় সে স্বপ্নে দেখেছে সে বাথরুম এ গেছে। কথাটা কিন্তু মিথ্যা না,অনেকের এই ধরনের অভিজ্ঞতা আছে।

কিছুটা অবাক করা হলেও সত্যি স্বপ্নের সাথে আমাদের বাস্তব জীবনের স্মৃতি গুলোর সম্পর্ক থাকে। যাবতীয় স্মৃতি গুলো আমরা স্বপ্নে দেখি, অনেক সময় আবার আমাদের কোনো কিছুর প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলে তা আমরা স্বপ্নে দেখি। কোনো ব্যাপারে ভীত থাকলেও আমরা স্বপ্নে দেখি। যেমন, অনেক মানুষ এর কমন একটা স্বপ্ন হচ্ছে অঙ্ক পরীক্ষা দিচ্ছে কিন্তু কিছু পারছে না, আবার আরেকটা কমন স্বপ্ন হচ্ছে খুব উপর থেকে কেউ পরে যাচ্ছে। এ ধরনের অনেক অদ্ভুত ব্যাপারের মধ্যে আরেকটি হলো অনেক সময় এমন হতে পারে, স্বপ্নে আমরা দেখলাম কেউ খুচিয়ে খুচিয়ে আমাদের হাতের আংগুল ফুটো করছে,ঘুম থেকে ওঠার পর হাতে খোচা খোচা দাগ পাওয়া যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা এর ব্যাখ্যা টা এভাবে দেয় যে, আমাদের শরীর এর কোনো অংশে আমরা ব্যাথা পেলে সেটি স্নায়ুর মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কে যায়,তারপর ব্যাথার অনুভূতি আমরা পাই, এখন স্বপ্নের পুরো ব্যাপার টা ঘটে আমাদের মস্তিষ্কে,তাহলে সেখান থেকে ব্যথার অনুভূতি রিভার্স করে শরীরেও আসতে পারে।

স্বপ্নের দৈর্ঘ্য কিন্তু খুব বেশী হয়না, সাধারনত এর সময় থাকে ৩-৪ সেকেন্ড। কিন্তু আমাদের কাছে কিন্তু মনে হয় স্বপ্নে আমরা বিরাট বিরাট সিনেমা সমান কাহীনি দেখে ফেলি।

 

এগুলো শুধু স্বপ্নের বেসিক কিছু ধারনা,পুরোটাই থিওরিটিকাল। এখন মুভির অংশে আসি..

 

মুভিতে আরো বেসিক এবং ডিপ কিছু ধারনা ক্রিস্টোফার নোলান ব্যবহার করেছেন।

 

আগে একটু মূল কাহীনি টা বলে নেই, তারপর ব্যাখ্যায় যাবো, এখানে একদল ড্রিম ইঞ্জিনিয়ার থাকে,এরা স্বপ্ন বা চিন্তা চূরি করে। এখানেই খটকা লাগলো তাইনা? স্বপ্ন বা চিন্তা আবার কিভাবে চুরি করে? হ্যা ব্যাখ্যায় আসছি একটু পর। (১)

 

তাদের এই কাজ টা লিগাল না। তাদের দলে একজন থাকে আর্কিটেক্ট (লিওনার্দো ডিক্যপ্রিও) যে স্বপ্ন টা গোছাবে,বিল্ডিং,রাস্তা,সব কিছু। (২)

 

একজন এর দায়িত্ব থাকে যার স্বপ্নে তারা প্রবেশ করেছে তার ভেতরের গোপন তথ্য গুলো বের করে আনা। (৩)

 

একজন থাকে কেমিস্ট, যে ঠিক করবে যে ধাপে ধাপে স্বপ্নের কতটা গভীরে তারা যাবে? (৪)

 

ব্যাখ্যা ১ : স্বপ্ন চুরি করা বা চিন্তা চুরি করা: একজন মানুষ যখন স্বপ্ন দেখে সে কিন্তু স্বপ্নের ভেতর জানেনা যে সে স্বপ্ন দেখছে, সে তখন সবাইকে বিশ্বাস করে, তার সবচেয়ে গোপন থেকে গোপন কথা গুলো সে বলে দেয়। আর সেগুলি কি হতে পারে? হতে পারে তার ব্যাংক একাউন্ট এর পাসওয়ার্ড, হতে পারে তার গোপন ভল্ট এর পিন নাম্বার, হতে পারে এমন কোনো তথ্য যা তার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীর কাছে মারাত্মক মূল্যবান।

 

ব্যাখা ২ : স্বপ্নের আর্কিটেকচার এর কাজ কি? সে স্বপ্ন টা এমন ভাবে গোছাবে যেনো তারা সবাই জানে কোথায় কোন রাস্তা টা আছে, যার স্বপ্নে তারা প্রবেশ করছে সে সন্দেহ জনক কিছু টের পেলে তারা পালাবে কোনদিক দিয়ে,অর্থাৎ তারা “কিক” টা স্বপ্নের ঠিক কোথায় রাখবে?

 

এখন প্রশ্ন আসে “কিক” কি?

আচ্ছা আমরা যখন স্বপ্ন দেখি তখন আমরা ধরমর করে ঘুম থেকে উঠি কখন? কোনো এক্সিডেন্ট হলে, ওপর থেকে ধপ করে পড়লে, বা স্বপ্নে মারা গেলে। আর্কিটেক্ট স্বপ্নে “কিক” এর ব্যাবস্থা রাখবে যেনো তারা জরুরি মুহুর্তে বের হয়ে যেতে পারে।

 

এখন আসি ব্যাখ্যা ৩ এ: গোপন তথ্য এক্সট্রাক্ট করবে কিভাবে? মানুষ কাকে তার সব গোপন কথা বলে দেয়? যাকে সে সবচেয়ে বিশ্বাস করে। আমি যদি কারো স্বপ্নে প্রবেশ করি বা তার চিন্তায় প্রবেশ করি, তাহলে আমার নিজেকে এমন একজনের পরিচয়ে উপস্থাপন করতে হবে যাকে সে বিশ্বাস করে। এবং অভিনয় এর মাধ্যমে তার ভেতরের কথা বের করতে হবে, এই দায়িত্ব পালন করে তৃতীয় জন।

 

এখন আসি ব্যাখ্যা ৪ এ, কেমিস্ট এর দায়িত্ব কি: এই অংশ টা হচ্ছে সবচেয়ে কমপ্লেক্স অংশ। ইনসেপশন মুভিতে এই দল টা শুধু একটা স্বপ্নে প্রবেশ করেই তথ্য পেয়ে যায়না, তারা স্বপ্নের ভেতর স্বপ্নে প্রবেশ করে। সময় এর ধীরতা বাড়তে থাকে। প্রথমে তারা একজন কে ঘুম পাড়িয়ে তার সাথে ইনসেপশন কানেক্ট করে স্বপ্নে প্রবেশ করে। ওই স্বপ্নে আর্কিটেক্ট “কিক” রেখে স্বপ্নের ভেতর সবাই আবার ঘুমায়, এবং দ্বিতীয় লেয়ার এ প্রবেশ করে, সেখান থেকে তারা প্রয়োজন মত তথ্য সংগ্রহ করে।

 

কিন্তু তারা যদি যার মাথায় তথ্য নিতে ঢুকছে শুধু তথ্য নিয়েই ক্ষান্ত না হয়? তারা যদি তার মাথায় কোনো আইডিয়া প্ল্যান্ট করে আসতে চায়? তখন কি করতে হবে?

আরো গভীরে যেতে হবে, তৃতীয় লেয়ার থেকে চতুর্থ লেয়ার। আর সে লেয়ার থেকে ধপ করে তারা জেগে উঠতে পারবেনা, প্রতি লেয়ার এ তাদের নির্দিষ্ট একটি “কিক” স্থাপন করে যেতে হবে, এবং লেয়ার বাই লেয়ার জেগে উঠতে উঠতে তারা রিয়েলিটি তে পৌছাবে। এবং কোন লেয়ারে ঘুমের গভীরতা কতটা হবে, তা নির্ধারন করে হচ্ছে কেমিস্ট..

 

আজকে বেসিক ধারনা গুলো দিয়ে শেষ করছি, পর্ব ২ এ মুভির বিস্তারিত আলোচনায় যাবো ইনশাল্লাহ।