আমরা এবং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা!!

Now Reading
আমরা এবং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা!!

“শিক্ষা” একটি দেশ ও জাতির উন্নয়নের প্রধান সিঁড়ি। যেটি ছাড়া একটি দেশের উন্নতি অসম্ভব। সামাজিক,  অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নতির প্রধান হাতিয়ার হলো এই শিক্ষা।

প্রাচীন যুগে এই শিক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল আত্মার উন্নতি সাধন। যার জন্য প্রয়োজন হতো সাধনা, চিন্তা ও আত্মসংযম।  শিক্ষা প্রক্রিয়ায় কোন ব্যক্তির মাঝে অন্তর্নিহিত যে গুণাবলী রয়েছে সেগুলোকে পূর্ণ বিকাশের জন্য উৎসাহ দেয়া হয় এবং সমাজের একজন দক্ষ ও উৎপাদনশীল সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভের জন্য যে সকল দক্ষতা প্রয়োজন সেগুলো অর্জনে সহায়তা করা হয়। সাধারণ অর্থে জ্ঞান বা দক্ষতা অর্জনই শিক্ষা। ব্যাপক অর্থে পদ্ধতিগতভাবে জ্ঞানলাভের প্রক্রিয়াকেই শিক্ষা বলে। তবে শিক্ষা হল সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের অব্যাহত অনুশীলন। সক্রেটিসের ভাষায় “শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ।” এরিস্টটল বলেন “সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হল শিক্ষা”। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় “শিক্ষা হল তাই যা আমাদের কেবল তথ্য পরিবেশনই করে না বিশ্বসত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে।”

অবিভক্ত ভারতবর্ষের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে প্রচলিত প্রাথমিক শিক্ষার আনুষ্ঠানিক প্রচলন কখন কোথায় প্রথম শুরু হয় তা বলা বেশ কঠিন। আনুমানিক ৩০০০ বছরেরও পূর্বে এ উপমহাদেশে আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বীজ রোপিত হয় যা কালের আবর্তনে পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান অবস্থায় উপনীত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে সেই শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে আমরা সেই শিক্ষা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কি সঠিক ও কার্যকরি শিক্ষাব্যবস্থা? সেটা হয়তো এখনো হয়নি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বিভিন্ন সমস্যা।  গত কয়েক বছরে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ভয়াবহ থাবা বসাচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁস। আজ শোনলাম শিক্ষকদের কল্যাণে দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রশ্নও নাকি ফাঁস হয়েছে। ভাবতে পারেন কতটা ভয়াবহ?  এটা সংক্রমণ রোগের মতো প্রতিনিয়ত পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে সংক্রমিত করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিলেবাস প্রনয়ণ,  অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা, অদক্ষ শিক্ষক,  শিক্ষকদের সদিচ্ছার অভাব বিভিন্ন সমস্যায় বিজড়িত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা।  তারপরও কিছুটা হলেও তো আমাদের শিক্ষা গ্রহনের সুযোগতো আছে।  সেই শিক্ষাটুকু আমরা যারা শিক্ষার্থী আছি ভালোভাবে অর্জন করতে পেরেছি? কয়েকজন পারলেও অধিকাংশই এখনো তা পারিনি। আমি এমনো অনেককে দেখেছি গ্রাজুয়েশন শেষ করার পরও সঠিকভাবে ইংরেজী পর্যন্ত পড়তে পারেনা। ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলে বাংলা লেখাটাও ভুল করে। (এই ফেসবুক কান্ড নিয়ে আরেক দিন লিখবো)।  অনেকে বলবে আমাদের সেভাবে শিখানো হয়নি। আমি তাদের বলবো, মানলাম হয়নি,  তো নিজে কী করছেন?  এখন অনেক উপায় আছে শেখার, নিজে শিখুন। সবাই যে অত্যন্ত মেধাবী হবে আমি এটা বলছিনা। এটা সম্ভবও না। তবে আপনি যতটুকু পড়াশুনা করছেন তা তো ভালোভাবে শিখবেন। আপনি গ্রাজুয়েশন করার পরও যদি সঠিকভাবে ইংরেজী, বাংলা পড়া ও লেখা ভুল করেন। আমি বলবো এটা একান্তই  আপনার ব্যর্থতা, অন্যকিছুকে দোষারোপ করার সুযোগ নেই। এসব লোকেই বলে চাকরি পাইনা, দেশে চাকরি নেই, ঘুষ ছাড়া চাকরি হয় না। হ্যা, এটা ঠিক আমাদের দেশে লোকসংখ্যার তুলনায় চাকরি কম,  দুর্নীতিও আছে। তাই বলে যে ঘুষ ছাড়া একদমই চাকরি হয়না এটা মানতে পারলাম না।  একবার ভাবুনতো, লোকসংখ্যা বেশি আর চাকরি কম,  তাহলে ভালো যোগ্য প্রার্থী না নিয়ে আপনার মতো  অযোগ্যকে তারা  নিবে কেনো? বাজারে পণ্যের সরবরাহ বেশি হলে আপনিও তখন কম দামে ভালো পণ্যটাই কিনতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। তেমনি তারাও এতো লোকের মাঝে যে সবচেয়ে যোগ্য তাকেই নিবে এটাও স্বাভাবিক। আর  যারা অযোগ্য  তাদের  ঐ অযোগ্য জায়গাটা পুরণ করতেই তখন ঘুষ দিতে হয়। কম চাকরি আর বেশি চাকরি প্রার্থীর মাঝে আপনাকে একটু বেশিই যোগ্য হতে হবে এটাই স্বাভাবিক, তানাহলে আপনি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বেন। এখন অনেকে  মনে করবেন বেশি জনসংখ্যা একটা বোঝা।  একবার ভাবুন তো আমরা সবাই যদি শিক্ষিত ও দক্ষ হতে পারি তাহলে এই বোঝাটাই একদিন সম্পদে পরিণত হবে। তখন নতুন নতুন চাকরির বাজার তৈরি হবে। তখন দেখবেন আপনি চাকরিকে না  বরং চাকরি আপনাকে খুঁজবে। 

 

এবার আসি আমাদের অভিবাবকদের কথায়। আমরা এখনো বলতে গেলে প্রায় ৮০ ভাগ  ( আনুমানিক)  অশিক্ষিত অভিবাবকদের সন্তান। এটাও আমাদের অনেক বড় একটা বাঁধা। তারপরও আর ২০ ভাগ যারা আছে তারা কি সঠিকভাবে সন্তানদের গড়ে তুলতে পারছে? এদের বেশির ভাগই শহর এলাকার।  একজন সন্তান শিক্ষকদের আগে পিতা-মাতার সংস্পর্শে থাকে। তাই তাদের দায়িত্বটাও বেশি। কিন্তু দূঃখজনক হলেও সত্য তারা সেভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেনা। ছোট ছোট শিশুদের বিভিন্নভাবে তারা প্রতিনিয়ত চাপ দিচ্ছে যেমন- অতিরিক্ত প্রাইভেট, কোচিং, গানের ক্লাস, নাচের ক্লাস, পাশের বাসার ভাবির ছেলে প্রথম হয়েছে তোমাকেও প্রথম হতে হবে, বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়তে হবে, ডাক্তার- ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। এমনভাবে তারা নিজেদের ইচ্ছা সন্তানদের উপরে চাপিয়ে দিচ্ছে। সন্তানের ভালো লাগা, খারাপ লাগা তাদের কাছে কিছুই না।

 

সবশেষে একটা কথা বলতে চাই সফল হতে গেলে বিভিন্ন সমস্যা থাকবেই। হ্যা এটা ঠিক অভিবাবক ও শিক্ষকদের অবহেলার কারণে প্রথমে আমরা তেমন ভালো গাইডলাইন পাইনা। তবে একটা সময়তো আসবে যখন আমাদের জানার ও বোঝার ক্ষমতা হবে তখন আমাদের ঐ সময়টুকু সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে সফল আপনি হবেন তাই কষ্টটাও আপনারি বেশি করতে হবে।  নিজের চেষ্টা, শ্রম দিয়ে সমস্যা মোকাবেলা করে সফল হতে হবে।  এমনভাবে শিক্ষা অর্জন করা উচিত যাতে শিক্ষাকেও যেন শিক্ষা দেওয়া যায়। শিক্ষাকে শিক্ষা দেয়া বলতে বোঝানো হয়েছে এমনভাবে শিক্ষা অর্জন করতে হবে যেন নতুন নতুন চিন্তা ভাবনা দিয়ে শিক্ষাটাকে যেন আরো উন্নত ও আধুনিক করা যায়। দার্শনিক কনফুসিয়াসের একটা কথা আছে- “চিন্তা ব্যতীত শিক্ষা হচ্ছে বৃথা আর শিক্ষা ব্যতীত চিন্তা হচ্ছে বিপদজনক।” তাই শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি আমাদের চিন্তাভাবনা ও গবেষনার মাধ্যমে শিক্ষার সুফল ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই শিক্ষা অর্জন করাটা সার্থক হবে।

 

(এটা লেখকের একান্তই ব্যক্তিগত মতামত। কারো মতাদর্শের সাথে নাও মিলতে পারে)

 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া।

ছবিসূত্র: banglarjob.com

পড়ালেখার কচকচানি

Now Reading
পড়ালেখার কচকচানি

এসএসসিতে যখন আমার মাত্র ০.০৬ এর জন্য জিপিএ ফাইভ মিস হয়ে যায় তখনই আমি জীবনের প্রথম পৃথিবীর চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হই। বাবা মা থেকে শুরু করে সবার একটাই কথা ,ছেলে গেল। ছেলের ভবিষ্যত শেষ। এই ছেলে দিয়ে আমি কী করব! আত্মীয় স্বজনরা আসেন, এসে প্রচুর খাওয়া দাওয়া করেন আর যাওয়ার সময় শুনিয়ে যান ওনার দেবরের শালার কাজিনের ফুফুর ভাগ্নের মেয়ে গোল্ডেন পেয়েছে, শুনছি মেয়ে নাকি নটরডেমে(What the **** is that) ভর্তি হতে চায়। পাশের বাসার আন্টি আসেন। এসে প্রচুর চা নাস্তা খান আর যাবার সময় শুনিয়ে যান আমার যে জিপিএ তাতে আমি কোথাও কোন ভাল কলেজে চান্স পাব না! 

এই তো গেল পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজনদের কথা। এবার বলি আমার কথা।

স্কুলে শেষ দু বছর গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে যখন ক্লাস টেনে টেস্ট পরীক্ষা আসে, তখন আমার হুঁশ হয় যে আমাকে এবার ভালো করতে হবে। চারদিকে যে অবস্থা জিপিএ ৫ না পেলে আমার ইজ্জত শেষ। শুরু করলাম পড়াশোনা। প্রতিদিন সকাল বেলা উঠি উঠে প্রাইভেটে যাই বিভিন্ন ব্যাচে যাই প্রাইভেট পড়ার জন্য। প্রাইভেট থেকে স্কুলে, স্কুল থেকে আবার প্রাইভেটে। প্রাইভেট থেকে এসে সন্ধ্যায় বাসায় পড়তে বসা। সব মিলিয়ে ভালই পড়াশোনা হচ্ছিল। এর মাঝে টেস্ট পরীক্ষা আসে, দেই ,রেজাল্টও বের হয়। পুরো স্কুলে টেস্ট পরীক্ষায় মাত্র ৪টা এ প্লাস। এর মাঝে আমি কেমনে যে ঢুকে গেলাম আমি নিজেও জানিনা! সবাই অবাক। এইটা কেমনে হল! আমি সেই পরিমাণ ভাব নিয়া চলা শুরু করলাম। ধরাকে সরা জ্ঞান করে  চলার ফল বেশিদিন ভাল হয়না বলে গুরুজন লেভেলে বলা হয়ে থাকে। গুরুরা হয় বৃদ্ধ আর বৃদ্ধদের কথা আমার মত ১৬ বছরের ছেলে তখন কেন শুনবে!

এর ফল আসতে বেশিদিন সময় লাগেনা। এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেমিস্ট্রি পরীক্ষার সময়েই আমি বুঝে যাই যে ড্যাড অলওয়েজ উইনস। পরীক্ষার হলে বসে নিজের চুলটা খালি ছেঁড়া বাকি রেখেছিলাম তখন। ইশ! কেন যে তখন জৈব যৌগটা আরেকটু ভালমতন পড়লাম না! পরীক্ষার হলে কোনমতে বের হয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। হায়রে সামনের পোলাটা না থাকলে আজকে শর্টের সময় গেছিলাম আরেকটু হলেই…

ফিজিক্সের সময়ও একই কাহিনী। টেস্টে এ প্লাস পেয়ে আমার মাঝে একটা ফালতু আত্মবিশ্বাস এসে গেছিল, যে অনেক পড়াশোনা করে ফেলেছি, টেস্টে যখন এ প্লাস পেয়েছি তখন আসলটাতেও পাব! যাই হোক পরীক্ষা শেষ হল। ভাবলাম যে ফিজিক্স আর কেমিস্ট্রিতে এ প্লাস না পেলেও চলবে, বাকিগুলায় পেলেই এ প্লাস! আশার পালের হাওয়ার পানে চেয়ে রইলাম, তিনমাস পর রেজাল্ট।

তিনমাস গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরলাম,ক্রিকেট খেললাম,ফুটবল খেললাম। ফ্রেন্ডদের অনেকেই হয় স্পোকেন আর নয়তো কম্পিউটারের ক্লাস করায় তখন ব্যাস্ত কিন্তু আমি  ওসব কিছুর ধার না ধরেই উড়াধুড়া চলাফেরা করতাম। রাত হলে ঘুমাতাম পিডিএফ পড়তাম আর দিন হলে রোদে রোদে ঘুরতাম। ও আচ্ছা বলতে ভুলে গেছি টেস্ট পরীক্ষার আগে এক বালিকাকে প্রপোজ করেছিলাম অনেক আশা নিয়া,কিন্তু বালিকা এখনো সাড়া দেয় নাই! প্রতিদিন বালিকার আশায় পথ চেয়ে বসে থাকতাম এই বুঝি বালিকা ফোনে কোন মেসেজ দিল! এই বুঝি বালিকা রাস্তা দিয়ে এল! এই বুঝি এসে বলল ভালোবাসি তোমায়! কিন্তু না, বালিকা আর আসে না, এসে বলেনা ভালোবাসি, এসে হাতটা আর ধরে না।  এরমাঝে রেজাল্ট বের হল। রেজাল্ট পেয়ে সকলেই হায়হায় করে উঠল। আর কী কী করল সেটা আগেই বলেছি। রেজাল্টের দিন সন্ধ্যায় বালিকা ফোন দিয়ে খোজখবর নিল। ভালমন্দ সান্ত্বনা দিল। সারাদিনের সকল কষ্ট দূর হয়ে গেল বালিকার একটু খানি মাত্র ২ মিনিটের জন্য কন্ঠ শুনেই। এর কয়েকদিন পরই বালিকা ভালোবাসি বলে দিল। আরও বলেদিল যদি কখনো ছেড়ে যাই তবে মেরে আমার ঠ্যাং গুঁড়ো করে দিবে! ঠ্যাং ভাঙ্গার ভয়েই হোক আর যেভাবেই হোক বালিকাকে আমি ছাড়ি নাই, বালিকাও এখন পর্যন্ত আমাকে ছাড়ে নাই…

তো যাই হোক সবাই যখন ধরে নিল যে আমার দ্বারা আর কিচ্ছু হবেনা, আমি তখন বিভিন্ন কলেজের ফর্ম কাটায় ব্যাস্ত। এতক্ষণে বলা উচিত ছিল কিন্তু আমার বলা হয় নাই। আমি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার এক অঁজপাড়াগায়ে থাকতাম। নটরডেম,রাজউক,ক্যান্টপাবলিক কলেজে আমার অতি অল্প জিপিএ নিয়ে ভর্তি হওয়া তো দূরে থাক ফরমই কিনতে পারব না। কী করা যায় এটা নিয়ে যখন ভাবছি তখনই বিমান বাহিনী আমার এলাকায় একটা মহৎ কাজ করল! বি এ এফ শাহীনের একটা শাখা একটা আগে থেকেই ছিল, সেটাকে কলেজ পর্যন্ত বর্ধিত করে দিল। অনেক আশা নিয়ে ভর্তি হলাম। এবারে আমি শুরু থেকেই সিরিয়াস। যেভাবেই হোক আমাকে মেডিকেলে চান্স পেতেই হবে, জিপিএ ফাইভ পেতেই হবে।

প্রথম থেকেই একটু আধটু সিরিয়াস থাকায় আর ডিফেন্সের কলেজে একটু চাপ বেশি থাকায় অলওয়েজ পড়াশোনা করা লাগত। যার ফলে প্রথম দিককার ক্লাস টেস্টগুলোতে ভাল করে স্যারদের সুনজরে এসে পড়লাম। বলা হয়ে থাকেনা যে ফার্স্ট ইম্প্রেশন ইজ দ্যা লাস্ট ইম্প্রেশন। হাফ ইয়ারলি পরীক্ষা এল হায়ার ম্যাথে টেনেটুনে পাশ করলেও  বাকিগুলায় ভালভাবে পাশ করে যৌথভাবে ৫ম হলাম( আমার জীবনের সবচেয়ে কম র‍্যাংকিং!)। কলেজের প্রথমদিকেই স্যাররা বেশ ভালো মতন মোটিভেট করত যে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা কিছুই না সব পরীক্ষার বাপ হচ্ছে গিয়ে এডমিশন টেস্ট। তুমি এইচএসসির পরে কোন লাইনে যাবা এটা এখন থেকে লক্ষ্য ঠিক করে সে অনুযায়ী পড়াশোনা শুরু কর।

আমার প্রথম থেকেই না বুঝে মেডিকেলের জন্য বেশ ভালমতন একটা ঝোঁক কাজ করত। আমি ডাক্তার হবই এই কথা আমি একশ বার লিখে আমার পড়ার টেবিলে টানিয়ে রাখতাম। কিন্তু একদিন বায়োলজি সেকেন্ড পার্ট বই অর্থাৎ জোলোজি বই দেখে, আর পরিচিত একজনের মেডিকেলের বই দেখে আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায় ( বলা ভাল দৌড়ে পালায়!)।

ডাক্তার হবার কাহিনী তো শেষ এখন বাকি রইল কী ? ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাকে যেমনেই হোক বুয়েটে চান্স পেতে হবে নাইলে আমি শেষ। এই কথা ৫০০ বার লিখে দেয়ালে টানিয়ে দিলাম! ইঞ্জিনিয়ারিং এ চান্স পাবার জন্য কী কী করা লাগে সব করলাম। ফিজিক্স বইয়ের আগাগোড়া যত সূত্র আছে সব দু বছরে আয়ত্ব করে ফেললাম। খালি সূত্রই শিখলাম না সূত্রর প্রয়োগ করাটাও শিখে নিলাম ভালোমতন। আফটার অল আমি মনে মনে তখন ডিক্লেয়ার করে দিলাম আমার এলাকায় ফিজিক্স নিয়ে আমার সাথে কেউ কখনো পারবে না!( মনে মনে কারণ আমি ভিতু  বলে কথা! দু বছর পড়েই একটা ছেলে তার শিক্ষকদের টক্কর দিবে এটা কেমন কথা!)

ফিজিক্সে খুব ভাল বেসিক আমার সেই ৯-১০ থেকেই ,এটা আরও শাণিত হয় ইন্টারমিডিয়েটে উঠে। কিন্তু শুধুমাত্র ফিজিক্স দিয়েতো আর বুয়েটে চান্স পাওয়া যায় না ম্যাথ আর কেমিস্ট্রিও লাগে। আর দূর্ভাগ্যবশত যদি বুয়েটে না পাই তবেতো কুয়েট,চুয়েট,রুয়েটে দৌড়াতে হবে ওখানে তো আবার ইংরেজী লাগে। এখন উপায়! ফেসবুকে  বুয়েট কুয়েট রুয়েট চুয়েট এডমিশন হেল্পলাইন নামে একটা পেজের মাধ্যমে এক বড়ভাইর সাথে পরিচয় হয়,(এই ভাইর কাছেই ভার্সিটিতে উঠে জীবনের প্রথম র‍্যাগ খাই!) ভাই নানানরকম সাজেশন দেন। বলেন যে কলেজে থাকা অবস্থায় ভুলেও এডমিশন টেস্ট নিয়া বেশি মাথা ঘামাবা না,ভার্সিটির কোয়েশ্চন গুলা সমাধানের চেষ্টা করবা না,আর ভুলেও বিচিত্রা,প্লাস সিরিজ, রকেট সিরিজ এই টাইপের বইগুলা এখন কিনবা না। জাস্ট এইচএসসির উপযোগী পড়াশোনা করে যাও। আমি ভাইয়ের কথা রাখলাম, কোন আউলফাউল কাজ করলাম না আঁতেলদের মতন পড়াশোনা করে গেলাম!(ভুয়া কথা খালি রাতেই পড়তাম,তাও বেশি হলে ৩-৪ ঘন্টা!)

ফিজিক্সে আমার বেসিক খুব ভালো, কিন্তু ম্যাথে একেবারে যাচ্ছেতাই,কেমিস্ট্রির অবস্থা আরো খারাপ। কেমিস্ট্রি নিয়ে ভুগতে হল না। কলেজের যে কেমিস্ট্রি স্যার ছিলেন তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থেই ইন্টারমিডিয়েটের কেমিস্ট্রি পড়ানোর জন্য একজন বস পাবলিক। যে জিনিসগুলা আগে মাথার উপরে দিয়া যেত, সেগুলা মাথার মধ্য দিয়ে যাওয়া আরম্ভ করল! কেমিস্ট্রি বুঝা শুরু করলাম , খুব বেশি না তবে আগের তুলনায় ভাল। সব কিছুই ভাল মতন বুঝতাম তবে জৈব যৌগ পড়লে মাথা আউলায়া যাইত! এই জৈব যৌগ এমন একটা জিনিষ কেউ যদি টানা তিরিশ দিন এটা পড়ে আর ৩১ নাম্বার দিন না পড়ে তবে ৩২ নাম্বার দিন আবার গোড়া থেকে সব ভুলে যাবে! নানান কষ্টের মাঝে থেকেও জৈব যৌগ পড়াটা শেষ করলাম। কেমিস্ট্রিকে আয়ত্তের মাঝে নিয়ে এলাম। বাকি রইল ম্যাথ। পুরানা দিনের একটা স্কুলে পড়েছিলাম। স্যারগুলা থাকত সব প্রাইভেট পড়ানোর ধান্দায় যার ফলে প্রাইভেট পড়ে অংক মুখস্ত করে এসএসসি পাশ করেছিলাম। বেসিক বলতে সম্বল ছিল পীথাগোরাসের সূত্র অতিভুজ ২ =লম্ব + ভূমি। এই সম্বল নিয়ে আর যাই হোক বুয়েটে চান্স পাওয়া যায় না! এবারো বাঁচিয়ে দিল কলেজের টিচার, ওনার পাল্লায় পড়েই মূলত আমার ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে স্বপ্ন জেগে ওঠে। ম্যাথের ফার্স্ট যে বিষয়ের বেসিক তিনি আমার ভাল করেন সেটা হচ্ছে গিয়ে জ্যামিতি। ওনার পাশাপাশি ইউটিউব ঘেটে চমক হাসান ভাইয়ের গণিতের রঙ্গে সিরিজ, জাফর ইকবাল স্যারের গণিত সম্পর্কিত বিভিন্ন বই, হুমায়ুন আহমেদ স্যারের বই, অন্যরকম পাঠশালার কিছু ভিডিও দেখে আমার বেসিক পুরোপুরি ভাল হয়ে যায়। যেকোনো টাইপের ম্যাথ দিলে করতে পারতাম কিন্তু বইয়ের ম্যাথগুলা কেন জানি করতে পারতাম না, এ নিয়ে আমার দুঃখ জীবনেও যাবে না( ভার্সিটিতে আসার পরও এই জিনিসটা কাটে নাই। কোর্সের ম্যাথ করতে পারি না। করতে গেলে মাথা ঘুরায়।)। তারপরও হাল ছাড়ি নাই। গণিত অলিম্পিয়াডে মাহমুদুল হাসান সোহাগ ভাইয়ের একটা কথা মনের মাঝে একদম গেঁথে যায়।

“জীবনে কোন কিছু পেতে হলে কখনো হাল ছাড়া যাবে না। আঠার মতো লেগে থাকা শিখতে হবে। ”

ভাইয়ের কথা মানার জন্য আমি লেগে থাকার থিওরিটা প্রথম এপ্লাই করি রুবিক্স কিউব মেলানো শিখার সময়। এবং হাতে হাতে ফল! শিখে যাই রুবিক্স কিউব মেলানো  ( আমার এখনো মনে আছে পথে প্রান্তরে যেখানেই থাকতাম ভাব নেয়ার জন্য রুবিক্স কিউব মিলাতাম তখন) । দ্বিতীয়বার এপ্লাই করি ম্যাথ বুঝার জ

ন্য আর ম্যাথ সলভের ট্যাকনিক গুলা আয়ত্তের জন্য। এখানেও দারুণ ফল। সোহাগ ভাই আর তার উদ্ভাসের পুরো ফ্যান হয়ে যাই আমি। সিদ্ধান্ত নেই যে যদি ভার্সিটি কোচিং করতেই হয়, উদ্ভাসে করব।

বন্দুক কামান সবকিছু নিয়ে যখন আমি রেডি তখন প্রথম যুদ্ধ হিসেবে এল টেস্ট পরীক্ষা। আমি তখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে, বন্দুক কামান সবকিছুই ঝকঝকে টেস্টে পেয়ে গেলাম গোল্ডেন এ প্লাস। আবারো আমার মাঝে চলে এল ড্যাম কেয়ার ভাব , পড়াশোনা ছেড়ে দিলাম। ঘোরাঘুরি শুরু করে দিলাম। এসএসসিতে আমার সাথে যা হয়েছিল তার সবকিছুই ভুলে গেলাম, এবারো হয়তো আগের ফাঁদে পড়তাম কিন্তু বাঁচিয়ে দিল বিএএফ শাহীন! কীভাবে? মডেল টেস্ট নামক পরীক্ষা দিয়ে। যাচ্ছেতাই খারাপ রেজাল্ট করে যখন আত্মবিশ্বাস আবার কমে গেল তখন নতুন করে বন্দুক কামানগুলোর জং ধরা ওঠালাম। ঝকঝকে তকতকে করে ফেললাম ফিজিক্স সব সূত্র, কেমিস্ট্রির সব বিক্রিয়া, ম্যাথের সব ট্যাকনিক। এইচএসসি পরীক্ষা চলে এল। খুবই ভাল পরীক্ষা দিলাম। খালি কেমিস্ট্রি ফার্স্ট পার্ট একটু ঝামেলা বাঁধিয়ে দিল। বেশি সুবিধার পরীক্ষা হল না কিন্তু আমি আশার বীজ বুনে ততদিনে অপেক্ষা করে চলেছি। প্র্যাকটিকাল পরীক্ষা শেষ করে ঢাকায় চলে এলাম এডমিশন টেস্টের কোচিং করার জন্য। এসে প্রথমদিন উঠলাম খালাতো বোনের বাসায়। প্রথমদিন যেয়েই ভর্তি হয়ে এলাম উদ্ভাসে। সাথে করে উদ্ভাসের বিশাল গাট্টি বয়ে আনলাম সেই ফার্মগেট থেকে মিরপুর পর্যন্ত!

খালাতো বোনের বাসায় খাওয়া দাওয়া নিয়ে কোন সমস্যাই ছিলনা। মোটামুটি রাজার হালেই থাকছিলাম কিন্তু এই রাজার হালে থাকার ফলে পড়ালেখায় মন বসাতে পারছিলামনা। তাই তাদের বাসা থেকে আলাদা হয়ে তিন জন কলেজের ফ্রেন্ড জোগাড় করে চলে গেলাম মেস এ। ঢাকা প্রথমবার দেখে যেরকম বিমোহিত হয়েছিলাম সে মোহ ৯০% কেটে যায় মেসের রুম,রান্নাঘর বাথরুম দেখার পর। তিনজন মানুষ গাদাগাদি করে ফ্লোরিং করে ঘুমাতাম।

এক সপ্তাহের মাঝেই শুরু হয়ে গেল উদ্ভাসের ক্লাস। সবগুলা ভাইয়াই জোশ জোশ ক্লাস নিয়া গেল দিনের পর দিন । উইকলি টেস্টের দিন আসল। প্রথমবার ঢাকায় এক ঘোরাঘুরি করে মোহ না কাটতে কাটতেই পরীক্ষা চলে এল, এ আবার কেমন কথা। কিছুই না পড়ে পরীক্ষা দিলাম। ফলাফল ৩০০ তে ৩০। পরের সপ্তাহে উইকলি টেস্টে ৩০০ তে ১৫। সিরিয়াল ১৫-২০০০০ এর কাছে চলে এল! আমি পুরাই ডিপ্রেসড। এর মাঝে আবার শুনলাম উইকলি টেস্টে ভাল না করলে নাকি স্পেশাল ব্যাচে চান্স পাওয়া যায় না! উদ্ভাসেই যদি এ অবস্থা হয়। এডমিশন টেস্টগুলায় না জানি কী হয়! আমার দ্বারা হয়তো আর হবে না।

ডিপ্রেশন কাটানোর জন্য কলেজের এক ম্যাডামকে ফোন দিলাম, ম্যাডাম আর ওনার তখনকার হাসবেন্ড(ওনার এখন ডিভোর্স হয়ে গেছে) আমার আরেক টিচার মিলে অনেক সময় ধরে বোঝালেন। ডিপ্রেশন একটু কাটল। গেলাম উদ্ভাসের এক টিচারের কাছে, উনি বুয়েটের সিভিলে পড়তেন বর্তমানে পাশ করে বের হয়ে গেছেন। উনিও বেশ ভালভাবে বোঝালেন,” আরে বেটা এগুলা কোন ব্যাপার না, উদ্ভাস খালি কনসেপ্ট বুকের ওই কঠিন প্রশ্নগুলাই করে। এগুলা কখনো ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষায় আসে না। ভর্তি পরীক্ষায় আসে হচ্ছে অনেক সহজ আর ট্রিকি কোয়েশ্চন। তুই যদি খালি যেকোনোভাবে ভার্সিটিতে চান্স পেতে চাস তবে বেশি করে প্র্যাকটিস কর আর কোয়েশ্চন ব্যাংক সলভ কর। তারপরও যদি তোর উদ্ভাসের লিস্টে প্রথমদিকে আসতে মন চায় তাইলে যা নেক্সট উইকলির জন্য যে কনসেপ্ট বুক আছে ঐটা মুখস্ত করে ফেল!”

ভাইয়ের কথা পালন করলাম,তবে দ্বিতীয়টা। কনসেপ্ট বুক  মুখস্ত  করে ফেললাম চারদিন কষ্ট করে। অতঃপর উইক্লি টেস্ট এল, দিলাম। অবিশ্বাস্য মার্ক পেলাম ৩০০ তে ২৮০। মেরিট ১৬৫। জাস্ট এই একটা পরীক্ষা ভাল হওয়ার কারণে চান্স পেয়ে গেলাম তুখোড় ব্যাচে! এরপর পালন করলাম ভাইয়ের প্রথম কথা। কনসেপ্ট বুক দিত, ছুড়ে ফেলে দিতাম। বইয়ের ম্যাথলা আগে করতাম, তারপর করতাম ভার্সিটির কোয়েশ্চন ব্যাঙ্কের অংক। তারপর সময় পেলে গিয়ে করতাম কনসেপ্ট বুকের অংক। এখানে বলে রাখা ভাল যে কনসেপ্ট বুকের অংকগুলা আসলেই মাথার উপরে দিয়া যেত। এগুলো কখনোই কোনো ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষায় আসবে না, শুধু শুধু এগুলোর পিছনে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয়না।

পুরনো কামানগুলাকে ঘষে মেজে একেকটাকে একে-৪৭ গান বানায়া ফেললাম! উদ্ভাসের পরীক্ষা নিয়া তেমন সিরিয়াস হলামনা। পড়ালেখা খুব সতর্ক ভাবেই করতাম।

এরই মাঝে এইচএসসির রেজাল্ট দিল। জিপিএ ফাইভ ও পেলাম কিন্তু গোল্ডেন মিস করে বসলাম তাও ফিজিক্স আর কেমিস্ট্রিতে এ প্লাস মিস। তারমানে আমি বুয়েটে পরীক্ষা দেওয়ারই অযোগ্য হয়ে গেলাম। সেই সাথে কুয়েট রুয়েট চুয়েটও অনিশ্চিত। প্রচণ্ড পরিমাণ খারাপ লাগতে লাগল, যে আমি বুয়েট বুয়েট করে সারাদিন চিৎকার দিতাম তার কী হবে… যে আমি সবসময় বলতাম ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ব, তার কী হবে?  অনেকেই সান্ত্বনা দিত অনেকেই কটু কথা বলত অনেকেই পেছন থেকে বলত যে হুদাই সারাদিন পড়ালেখা করছে কোথাও চান্স পাবেনা দেখে নিস।

আমি সকলের কথা মনযোগ দিয়ে শুনতাম,এক কান দিয়া ঢুকাতাম আরেক কান দিয়ে বের করতাম। এই পৃথিবীতে সবার কথায় কান দিলে আমার চলবে না। সংকল্প করে ফেললাম, যেভাবেই পারি যেকোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতেই হবে। কারণ আমার বাবার সেই সামর্থ নেই যে আমাকে প্রাইভেটে পড়াবেন। সম্পূর্ণ নতুন উদ্দমে নতুন প্যাটার্নে পড়াশোনা শুরু করলাম( যেহেতু ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের প্যাটার্ণ  আর সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের প্যাটার্ন সম্পূর্ণ আলাদা।) ।

প্রতিদিন একটা একটা অধ্যায় আর তার সাথে কোয়েশ্চন ব্যাংক এর সমাধান চালিয়ে যাই। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এর মাঝে তাদের সার্কুলার ছাড়ে আমি স্বনামধন্য বেশ কয়েকটায় এপ্লাই করি( ঢাবি,চুয়েট,কুয়েট,জবি,জাবি,সাস্ট,চবি,কুমিল্লা,নোয়াখালি, এর মাঝে চুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার জন্য আমি শর্টলিস্টেড হই নি)।

প্রথম পরীক্ষা আসে জাহাঙ্গীরনগরে। প্রশ্নের প্যাটার্ণ সম্পূর্ণই আলাদা। দিলাম, হল মোটামুটি। রেজাল্ট দিল পরেরদিন, মেরিট লিস্টে আমার নাম নেই। হতাশ হলামনা , পরেরদিন আরেকটা ইউনিটে জাহাঙ্গীরনগরেই। দিলাম এবারেও হল না। এবং যথারীতি এবারেও হতাশ হলামনা। আমার প্রস্তুতির মাঝে অনেক বড় একটা খুঁত বের করলাম। আমি নিজেকে নিজে জাজ করতে পারি না, ফাস্ট ক্যালকুলেট করতে পারি না। এর মাঝে ফাস্ট ক্যালকুলেট করার গুরুত্ব ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষায় অনেক। এখানে সময়ের অভাবে অনেক ভাল ছাত্রও চান্স পায় না। তো যাই হোক। নিজেকে নিজে জাজ করাটা অভ্যাসের মাধ্যমে শিখে নিতে হয় যা অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, অথচ ঢাকা ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষার সময় বাকি আর মাত্র ২ সপ্তাহ। তাই করলাম কী ফাস্ট ফাস্ট ক্যালকুলেট করাটা আয়ত্ত করতে লাগলাম। মোটামুটি আয়ত্তে আসার পরও চালিয়ে গেলাম, লেগে থাকলাম। ঢাকা ভার্সিটিতে সকালে পরীক্ষা দিলাম,বিকালে দিলাম জগন্নাথে। দুটোই বেশ ভাল হল। রাতেই ছুটলাম চিটাগাং। ওখানে পরেরদিন পরীক্ষা দিলাম। সন্ধ্যাতেই রেজাল্ট দিয়ে দিল চান্স পেলামনা। হতাশ না হয়ে পরেরদিন বায়োলজি ইউনিটে পরীক্ষা দিলাম। সন্ধ্যায় রেজাল্ট দিল মেরিট লিস্টে ১০০! জীবনের প্রথম কোন ভার্সিটিতে চান্স পেলাম! আহ ভর্তি হব ফার্মেসিতে স্বপ্ন দেখতে লাগলাম শেভ্রন,স্কয়ার,বেক্সিমকো আমাকে লাখ টাকা দামের চাকরি অফার করে টানাটানি করছে। আর ঠিক তখনই কে যে আমার গালে একটা চড় দিল(হয়তো আমার বিবেক) চড় দিয়ে বলল,” খুব তো লাফাইছিলা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ব, ইঞ্জিনিয়ার হব। আর এখন! শালা ফার্মাসিস্ট হব!)

বিবেকের চড় খেয়ে বাস্তবে ফিরে এলাম, পরেরদিন ঢাকা ভার্সিটিতে রেজাল্ট দিল ২৬০০ তম হয়েছি। এই রেজাল্ট দিয়ে ভাল কোন সাব্জেক্টে পড়া ইম্পসিবল। তারপরও হতাশ হলামনা। জগন্নাথে সিরিয়াল এল ৪৪০০। এটাও বাদ। সামনে কুয়েটে পরীক্ষা, আবার কয়েকদিন ভালমতন পড়লাম,ফাস্ট ক্যালকুলেট করাটা চালিয়ে গেলাম। খুলনার ডেট এল, চলে গেলাম খুলনায়। মৃদুল ভাই নামে ইউ আরপির একভাইকে বলতেই উনি একুশে হলের ওনার সিটটা আমাকে ছেড়ে দিলাম। ঢাকা থেকে আমার আরো একঝাক ফ্রেন্ড এল। ওদের জন্য রুমের অন্য ভাইরা তাদের সিট ছেড়ে দিলেন। পরদিন পরীক্ষা দিলাম। কোয়েশ্চন মারাত্বক লেভেলের কঠিন, প্রথম আধাঘন্টা খালি মাথা চুলকাইছি, হায় আল্লাহ এসব কী! তারপরও কিছু কিছু দাগালাম। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার আশা একেবারেই ছেড়ে দিলাম। কয়েকদিন পর রেজাল্ট দিল, ১৯০০ তম হয়েছি। অনায়াসে সিভিল,ইউ আরপি পাওয়া যাবে। যাক জানে একটু পানি ফিরে এল। চান্স তো কিছু একটায় পেলাম! কিন্তু আমার আত্মীয়স্বজনরা এদিকে হায় হায় রায় রায় রব তুলে ফেলেছেন। এই ছেলে কোথাও চান্স পেলনা! সবখানে খালি ওয়েটিং। তাদের কারো কথায় কোন কান না দিয়ে আমি ফাস্ট সলভিং  ট্রাই করে গেলাম। সাস্টে এর কিছুদিন পর পরীক্ষা।

সাস্টে পরীক্ষা দেবার জন্য সিলেট এলাম,পরীক্ষারদিন সকালে প্রিয়তমার সাথে দেখা করেই তারপর ঢুকলাম পরীক্ষা দিতে। প্রশ্ন হাতে পেয়েই বুঝলাম, এটাই এতদিন দরকার ছিল। সাবধানে ইংলিশ দাগিয়ে শুরু করলাম তারপর ফিজিক্স। ফিজিক্স ২০টার মাঝে আমার ১৯টাই দাগালাম।( এবং সবগুলাই সুদ্ধ)। কেমিস্ট্রি কোয়েশ্চন দেখে আত্মা খাঁচাছাড়া হয়ে গেল। এ কী দেখছি। মনে হচ্ছিল আমি আবার স্কুলের দিনগুলোয় ফিরে গেছি। যখন আমি কেমিস্ট্রি কিছুই পারতাম না। ২০ টার মাঝে মাত্র ৪টা দাগালাম। ম্যাথ ও বেশ ভাল হল। ২০টার মাঝে আনুমানিক ১৮টা দাগিয়েছিলাম।

দুদিন পর রেজাল্ট হবার কথা। হলনা। তিনদিন পরও হলনা!

চারদিনের দিন রাত ১১টায় এক ফ্রেন্ড ফোন দিয়ে বলে তোর রোল বল। বললাম। কিছুক্ষণ পর ফোন দিয়ে বলে কান্ডতো ঘটায়া দিছো!

আমি ভাবলাম এবারো বোধহয় হলনা। আমি জিজ্ঞেস করলাম ,

-কি? আসে নাই না?

-আরে শালা ৩৪৭মতম হইছত। জলদি ঢাকায় আয়, অনেকদিন হয় কাচ্চি খাই না!

 

বিস্ময়ে থ হয়ে গেলাম। বলে কী। আমি ৩৪৭! ওর কথা বিশ্বাস না করে নিজে চেক করলাম। আরে আসলেইতো! ৩৪৭! যাক অবশেষে একটা ভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার চান্স পেলাম, তাও যেনতেন ভার্সিটিতে না, বাংলাদেশের ২০১৫সালের এক নাম্বার ভার্সিটিতে! যেনতেন সাব্জেক্টে না মেকানিক্যালে!

স্বপ্নটা পূর্ণ হল! পুরোমাত্রায় না হলেও ৭০.% দিয়েই! তা আর খারাপ কী , একজীবনে সবার তো আর ১০০% স্বপ্ন কখনো ফুলফিল হয় না!

 

বিঃদ্রঃ সামনেই এডমিশন টেস্ট। আমার এই আর্টিকেল যদি একজন ডিপ্রেসড ছাত্রকেও হেল্প করে তাহলেই ভাবব যে ৪ ঘন্টা ধরে করা কষ্ট আমার স্বার্থক!

বিঃদ্রঃ ২ঃ  ঘটনার স্থান কাল পাত্র সবটাই কাল্পনিক। ভুলেও কারও সাথে যদি মিলে যায় তবে তাতে লেখকের দোষ নেই। আর যদি লেখকের কোন আত্মীয় এই আর্টিকেল পড়েন তবে ভুলেও এরমাঝে লেখককে মেলাতে যাবেননা!!!

সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি কতখানি সৃজনশীল করেছে আমাদের ?

Now Reading
সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি কতখানি সৃজনশীল করেছে আমাদের ?

নকল করে পাশ করার যে একটা খারাপ প্রথার প্রচলন ছিল তার গন্ডি থেকে বেরিয়ে এলেও বর্তমান সময়ে ভিন্ন সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা।বর্তমান সময়ে এই সমস্যা তেমন দৃশ্যত কোন প্রভাব তৈরি না করলেও দীর্ঘমেয়াদে তা অনেকাংশে নেতিবাচক প্রভাবই তৈরি করবে। দেশের প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতির আলোকে যেকোন শিক্ষার্থীর একটা ভাল ভিত্তি তৈরি হয় মূলত মাধ্যমিকে পড়াকালীন সময়ে। মাধ্যমিক আর উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে যখন কোন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার দ্বারে প্রবেশ করে তখন তার জ্ঞানার্জনের পরিধি যে অনুযায়ী বিস্তৃত হওয়া দরকার,আমাদের দেশে সে অনুপাতে হচ্ছে বলে মনে হয় না।

প্রায়শই দেশের জাতীয় দৈনিকসহ সংবাদ মাধ্যম গুলোতে ব্যাপক সমালোচনা হয় প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে। এই আলোচনা আর সমালোচনার বিশাল একটা অংশ জুড়ে ছিল বর্তমানে শিক্ষার্থীদের উপর আরোপিত শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে।

প্রতিবেদনসূত্রে দেখা যায় পরীক্ষার প্রশ্নে শিক্ষার্থীকে যখন প্রশ্ন করা হয় কুনোব্যাঙ বা ‍উভচর প্রাণীর  বৈশিষ্ট্য নিয়ে লিখতে।এ বিষয়টা অনুতাপের বটে শিক্ষার্থী উত্তরপত্রে যা লিখেছে তাতে প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর না হলেও যা লিখা হয়েছে তা যেন প্রশাসনকে নড়েচড়ে বসার যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছে।

দেশের প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতিকে সংস্কার করার প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষা ব্যবস্থার যে প্রচলন করে তাও প্রায় অর্ধযুগ পেরিয়েছে। এখনো কি আমরা এই পদ্ধতির সুফল পেয়েছি ? এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকে দ্বিমত পোষণ করবে;এটাই স্বাভাবিক বরং আমাদের আরো কৌশলী হয়ে চিন্তা করা উচিত যে কিভাবে এই জিনিসটাকে সার্বিকভাবে ফলপ্রসু করা যায়। একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে কয়েকটা ব্যাচ যাচ্ছে তাদের সামনে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু নিয়ে আসা হয় যা রপ্ত করতে না করতে আরো একটা নতুন ধারণা সংযোজন যার ফলে মোটের উপর একটা স্থিতি অবস্থা না হয়ে বরং তটস্থ হয়ে আছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকেরা। এই বিষয়গুলো খুবই গৌণ হলেও কর্তৃপক্ষের সুষ্টু নজরদারির মাধ্যমে একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা উচিত। যা কিনা এখন সময়ের দাবী। যখন কোন নতুন একটা পদ্ধতির অবতারণা করা হয় দেখা যায় বির্তকের পাশাপাশি সেটা নিয়ে শিক্ষার্থী মহলে ব্যাপক আলোড়ন এবং উৎকন্ঠা বিরাজ করে। শিক্ষাপদ্ধতির সংস্কার কিংবা বহাল রাখার জন্য কেন শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন বা প্রতিবাদের ভাষা বাছাই করে নিতে হয় ? এই পদ্ধতি কি তাদের জন্য হিতকর নয়? এই শিক্ষা ব্যবস্থা কাদের জন্য কারা এর সুফল ভোগ করবে ?

এই ধরনের পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করার আগে যাচাই বাছাই করা প্রয়োজন। এই নীতিটা গ্রহণ করার জন্য আসলে তৃণমূলসহ সর্বস্তরে শিক্ষার্থীরা তৈরি কিনা হোক সেটা মানসিক বা অবকাঠামোগত দুটোই।

সৃজনশীল পদ্ধতিগৃহীত পদক্ষেপ হিসেবে কতখানি উপযুক্ত ?

শিক্ষার্থীদের নোট কিংবা গাইড বইয়ের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এই পদ্ধতির প্রচলন। এমন একটা  প্রচেষ্টা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার দাবিদার, উন্নত বিশ্বে যেখানে লেখাপড়ার বিষয়টাকে ফলিত পদ্ধতি বলে বিবেচনা করা হয়,সেখানে এই ধরনের বিষয় সংযোজন অবশ্য নতুন মাত্রা যোগ করবে। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এই পদ্ধতি যুগোপযোগী যেখানে বিশ্বে প্রতিনিয়ত একটা ক্রমপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছে সেখানটায় তাল মিলিয়ে চলতে এমন কিছুই মূলত দরকারী বটে।

সৃজনশীল  শিক্ষা পদ্ধতি   তৃণমূলে কতটা প্রভাব সৃষ্টি করেছে?

শিক্ষার প্রসার বা প্রচলন কেবল নগরকেন্দ্রিক নয়। আমরা যদি কেবল নগর বা জেলা পর্যায়ের স্কুল ও কলেজগুলোকে আর্দশের মানদন্ড বলে ধরে নিই, তবে তা মূলত বিস্তর পার্থক্য দেখাবে সমীক্ষা আর বাস্তবতায়। আমাদের দেশে প্রতিটা উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামোগত অবস্থার উন্নয়ন তেমনভাবে না হওয়ায় এই সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার প্রভাব তেমনভাবে চোখে পড়ে না । দেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে এইসব আধুনিক ব্যবস্থা বা পন্থা যাওয়ার গতি খুবই শ্লথ যার কারণে উন্নয়নের কথা বলা হলেও তা দৃশ্যমান নয়। চট্টগ্রাম বিভাগের কথাই যদি বিবেচনা করি প্রতি বছর এস.এস.সি কিংবা এইচ.এস.সি পরীক্ষায় পার্বত্য অঞ্চলগুলোর ফলাফলের কারণে মোটের উপর চট্টগ্রাম বোর্ড বরাবর সমীক্ষায় পিছিয়ে থাকে। এই সমস্যার আশু কোন সমাধান থাকে না।

আমরা খবর পড়ে বা দেখে অবাক হই কেননা এখনো এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যায় যেখানে কেউই উর্ত্তীণ হতে পারে না। এই বিষয়টা পরিস্কার ধারণা দেয় সৃজনশীলতার প্রভাব অবশ্যই সবখানে সমানভাবে পড়ে নি।

শিক্ষকদের কতখানি অংশীদারীত্ব বা দায়বদ্ধতা রয়েছে ? এই প্রশ্নটা এখন কোটি টাকার ?

সৃজনশীল বা যেকোন শিক্ষাব্যবস্থায় সবার অংশগ্রহণ জরুরী হোক সেটা শিক্ষার্থী বা শিক্ষকমন্ডলী। শিক্ষাব্যবস্থায় সৃজনশীলতার মতো পদ্ধতি নিয়ে আসার পূর্বে জরুরী ছিল কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে আসা। এই যেমন উপযুক্ত বা দক্ষ শিক্ষক প্যানেল তৈরি করা । তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা । এই বিষয়টা করে আসছে তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলা যায়। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের উদাসীনতা বরং লক্ষণীয়,নয়তো এতদিনে এই ব্যবস্থার সার্বিক একটা প্রভাব কেন সৃষ্টি হবে না ? এমন অনেক শিক্ষক আছে যারা কিনা কেবল নির্দিষ্ট কিছু সুযোগ সুবিধার লোভে কেবল প্রশিক্ষণ গুলোতে অংশগ্রহণ করে তাদের উদ্দেশ্য বা এখতিয়ার অতটুকুই। প্রশিক্ষণে কি শিখল তার কোন ফলপ্রসু প্রয়োগ করতে দেখা যায় না।

এখনো গ্রামাঞ্চলে দেখা যায় ক্লাসগুলোতে যথেষ্ট শিক্ষক সংকট তাছাড়া শিক্ষকেরা কোচিং নির্ভর হয়ে ক্লাসে তেমন কোন পাঠদান করানোর চিন্তাই করে না। এখনো গাইড, শীট বা কথিত সাপ্লিমেন্ট না হলে যেন শিক্ষার্থীদের পোষায় না। পরীক্ষায় নির্ধারিত কিছু পূর্ব বছরের প্রশ্নের আলোকে প্রশ্নপত্র প্রণয়ণ যেন শিক্ষার্থীদের কূপমন্ডুক করে রেখেছে। এবারের এইচ.এস.সি পরীক্ষায় বিশেষভাবে চট্টগ্রাম বোর্ডের ইংরেজী ২য় পত্রের পরীক্ষায় গ্রামার পার্টে কনটেন্টগুলো সমসাময়িক বিষয়ের আলোকে দেওয়াতে অনেক শিক্ষার্থী প্রশ্ন ভালভাবে বুঝে উঠতে পারে নি। ঐ যে তাদের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তেমন চর্চা নেই বললে চলে। ধরা যাক আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রপতির নাম তথা ব্যবহারিক নাম কি ?

আবদুল হামিদ এডভোকেট নাকি এডভোকেট আবদুল হামিদ এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকে ভুল করবে।এইসব বিষয় নিয়ে আমাদের চর্চা থাকে না।আমরা সাহিত্য বিচারে রবীন্দ্রনাথ নজরুল নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয় আসলে কোনটা উপযুক্ত তা নিয়ে চিন্তা করি। এটাতো সৃজনশীলতার গন্ডিতে পড়ে না।

একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হয়ে তাকে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি পদার্থ,রসায়ন বা জীববিজ্ঞানের বইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি সমসাময়িক আবিস্কার বা গবেষণা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা চাই। এই যেমন ব্ল্যাকহোল কি বা স্টিফেন হকিং কে এসব বিষয়ে জ্ঞান থাকা চাই। তেমনি ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীর জানা উচিত স্টক মার্কেট কি ? শেয়ার বাজার আর নিত্যনৈমিত্তিক বাজারের পার্থক্যটা কোথায় ? মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী যদি অর্থনীতি পড়তে গিয়ে অভাবের প্রায়োগিক সংজ্ঞা বা অর্থ দাঁড় করাতে না পারে,ভূগোল পড়তে গিয়ে দ্রাঘিমা বা অক্ষাংশ কি তার কোন সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দিতে পারে না তখন বুঝে নিতে হয় সৃজনশীলতা এখনো আমাদের আঁকড়ে ধরতে পারে নি।

লেখাপড়ায় কতখানি সৃজনশীলতার প্রভাব বিদ্যমান ?

এমন প্রশ্নের জবাবে কেবল বলা যায় গ্রাম আর শহরকে আলাদা করলে গ্রাম অনেকখানি পিছিয়ে। এই পিছিয়ে পড়াটা আমাদেরকে একটা সময় ভোগান্তির মধ্যে ফেলবে এটা নিশ্চিত। তথ্য প্রযুক্তি বা আইটি শিক্ষার লক্ষ্যে যে প্রচলন তা এখনো খাতা কলমে রয়ে গেছে কেননা এই বিষয়ে যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হয় তা মূলত হাস্যকর বলা চলে। আইটি বা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় মৌখিক প্রশ্ন করে ছেড়ে দেয়া হয় তা অবশ্যই ভাবনার বিষয়। আমরা কি শিখছি ইনপুট কি নিচ্ছি বা আউটপুট কি দিবো  তা সময়ের কাছে তোলা রইল।

এত বাধা বিপত্তি থাকা স্বত্তেও যেসব শিক্ষার্থী উঠে আসছে তার পেছনে কিছু শিক্ষক আর প্রাইভেট টিউটরের অবদান বলা যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই পদ্ধতির আলোকে উপযুক্ত বা দক্ষ শিক্ষকের অনুপাতিক হার নগণ্য। শহর বা মফস্বলগুলোতে কলেজ পড়ুয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন পেশায় মূলত একটা ভারসাম্য রেখেছে। এই সময়ে টিউশনটা যেন একটা আশীর্বাদপুষ্ট পেশা।

শিক্ষাব্যবস্থার এমন দুর্দশার জন্য সর্বোচ্চ স্তরের উদাসীনতা যেমন দায়ী তেমনি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব লক্ষ্য করা যায়। বর্তমানে নিযুক্ত শিক্ষকের প্রায়ই ৬০ শতাংশ আছে যারা সৃজনশীল পদ্ধতি বা সে অনুযায়ী বিষয়াদি নিয়ে ওয়াকিবহাল নয়। আইটি কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তৃণমূলে শিক্ষকের রয়েছে যথেষ্ট জড়তা। সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতিকে সুচারুরুপে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে দরকার গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ।বর্তমানে শিক্ষাপেশায় নিয়োজিত অধিকাংশ শিক্ষকই নতুন পদ্ধতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে না পারায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়ছে।আমাদের উচিত যুগোপযোগি শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে আধুনিক তরুণ-তরুণীদের শিক্ষকতা পেশায় উৎসাহী করা।সর্বোপরি একটা ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষক প্যানেল গড়ে তোলা যা দ্বারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে আমরা পৌঁছে দিতে পারব এই সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ উপযোগিতা।ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে আর এই পরিবর্তনের নেতৃত্বদান করবে বর্তমানের নবপ্রজন্ম এমনই প্রত্যাশা রইল।সৃজনশীলতার বিকাশে আলোকিত হোক জ্ঞানের প্রতিটা ধাপ,এই আলোর বিচ্ছুরণ হোক সমাজের প্রতিটি স্তরে।

 

A Race To GPA5

Now Reading
A Race To GPA5

একবিংশ শতাব্দীর এসময়ে এসে একটা দেশ ও জাতির কল্যাণের অন্যতম মাধ্যম যেমন শিক্ষা তেমনি উন্নতির অন্তরায় এই শিক্ষার স্বল্পতা।কোন দেশের ধারণক্ষমতার বাইরের জনগণ যখন তার উপযোগিতা দেশ বা সমাজের কল্যাণে দিতে পারেনা,তখনই এই জনসমষ্টি উপযোগহীন বোঝা বনে যায়।আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে সভ্যতার উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হলে অবশ্যই যুগোপযোগী শিক্ষাপদ্ধতি দরকার।নেপোলিয়নের এক বিখ্যাত উক্তি আছে যেখানে আমরা উপজীব্য হিসেবে পাই —একজন শিক্ষিত মা শিক্ষিত জাতি গঠনের রুপকার হতে পারেন।এই পদ্ধতির সফল বাস্তবায়ন বা তার উপযোগিতা পেতে একটা দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ জরুরী নারীদের জন্য যারা কিনা ভবিষ্যতে আগত প্রজন্মের ধারক হিসেবে বিবেচ্য হবে।সরকার বা তৎসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই কাজে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধন করেছে কেননা এখন আমরা প্রতিটা ঘরে একজন স্বশিক্ষিত মায়ের ‍উপস্থিতি লক্ষ্য করতে পারছি।এই বিষয়টা আমাদের উন্নয়ন ধাপে এগিয় যাওয়ার একটা সবুজ সংকেত বটে।আমাদের সময়ে মায়েদের গন্ডি অনেক সীমাবদ্ধ ছিল কেননা চাইলেও তাঁরা আমাদেরকে শিক্ষা বিষয়ে উপযুক্ত নির্দেশনা দিতে পারতো না,এই বিষয়টা অধিকাংশ ক্ষেত্রে হতো কেননা আমাদের মায়েরা সময়ের পরিবর্তনের সাথে নিজেদের তেমনভাবে মেলে ধরতে পারে নি।

এই যুগের মায়েরা তাদের কোমলমতি সন্তানের সাথে একটা অলিখিত যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে যায়।অনেকাংশে দেখা যায় সন্তানের চেয়ে মা-বাবারা আরো বেশি সোচ্চার।এই যত্নের বাহ্যিকতা তার কারণে কোমলমতি শিশুর সক্ষমতা অবশ্য ঢাকা পড়ে।

৯০দশকে বেড়ে উঠা শিক্ষার্থীরা অনেকটা ভাগ্যবান কেননা তাঁরা এই ধরনের প্রতিযোগিতার আঁছ গায়ে লাগার আগে নিজেকে অনেকটা গুছিয়ে নিয়েছে।

১৯৯১-২০০০ এইসময়  শিক্ষা ব্যবস্থায় অগ্রগতি বা শিক্ষার্থীর যে সফলতা তা নিছক তার একান্ত অভীষ্ট লক্ষ্য ছিল।এখানে বাবা-মা কেবল শুভাকাঙ্খী ছিল বটে।আধুনিকতার মোড়কে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার বাহন যখন একমাত্র শিক্ষা তখনই কোন এক অজানা কারণে এই লেখাপড়াসংক্রান্ত যাবতীয় সফলতার কৃতিত্ব আমাদের আধুনিক বাবা মায়েরা তাদের আত্মসম্মানের বাহন হিসেবে নিয়ে নিয়েছে। লেখাপড়ায় আমরা শিক্ষার্থীদের সক্ষমতাকে গৌণ করে দেখতে শুরু করলাম।এইসকল শিক্ষার্থীদের যাবতীয় সফলতার ছো্ট-বড় যেকোন পদক্ষেপ বাবা মায়ের আত্মমর্যাদার মুকুটে যুক্ত হওয়ার একেকটা পালক।

এবিষয়টা কারো ইচ্ছা বা অনিচ্ছাস্বত্ত্বে জনপ্রিয় হয়ে গেল।আমরা জাতি হিসেবে অণুকরণের সংস্কৃতির সুনিপুণ একটা গুণ আমাদের মধ্যে বিদ্যমান।আমাদের সন্তানের সামনে একটা লক্ষ্যমাত্রা দাঁড় করিয়ে দিয়ে তাদের একটা ম্যারাথনে নামিয়ে দিই।এই সময়ে ছেলেমেয়ের প্রতি ভালবাসার চেয়ে নিজের সমাজে ছেলেমেয়ের গুণকীর্তি নিয়ে দম্ভ করাই যেন মুখ্য হয়ে দাঁড়াই।

কোন কোন ক্ষেত্রে বাবা-মা ছেলের সক্ষমতার বাইরে গিয়ে ক্যারিয়ার নিয়ে এমন বিবেচকের মত সিদ্ধান্ত দেয় যা কিনা চরম বিব্রতকর।এই ক্ষেত্রে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা যারপরণাই বিব্রত হয়,একটা সময় তারা নিজেদের ট্র্যাকে থাকতে পারে না ফলাফল ক্যারিয়ার নিয়ে একটা অগোছালো অবস্থার মধ্যে পড়ে।

বর্তমান সময়ে ছেলেমেয়ের উপর প্রথম তোপ শুরু হয় যখন সে কোন স্কুলে ভর্তি হবে তখনই তাকে একটা আর্দশ স্কুলে ভর্তি হতে হবে।শিক্ষার্থীর মানদন্ড নির্ধারণে স্কুল বড় একটা প্রভাবক! এটাই নীতিনির্ধারকরা আমাদের জন্য বেঁধে দিয়েছেন।এই স্নায়ুযুদ্ধের পরপরই যখনই একটু নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে প্রাথমিকের পাঠ শেষ করবে তখনই তার সামনে হাজির হয় যোগ্যতা প্রমাণের বিশাল মঞ্চ যা কিনা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপণী পরীক্ষা নামে পরিচিত।এই পরীক্ষায় আপনি কোনভাবে উতরে গেলে চলবে না কেননা এখানে মার্কশীটের পাশে দেখতে চাই জিপিএ 5। অভিভাবক মহলে সব বিষয়ে আশির উপরে নম্বর নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা গোল্ডেন জিপিএ র সম্মানে ভূষিত হন।এই বিষয়ে খোদ কর্তৃপক্ষ অবগত নই এমনও একটা গ্রেডিং যে থাকতে পারে,ভাবা যায় প্রতিযোগিতা কোথায় গিয়ে ঠেকছে।

প্রচলিত আছে বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছেলেমেয়ে পূরণ করবে এটাই স্বাভাবিক তবে এই স্বপ্নে ছেলের সক্ষমতার বিষয়টা গৌণ করে দেখা কোন অংশে শোভা পায় না।বাবা-মা তাদের স্বপ্নযাত্রায় সফল হতে ঘোড়সওয়ারী করে তাদের সন্তানকে ক্ষেত্রবিশেষে একটা মানসিক চাপে পরিণত হয় সন্তানের জন্য।

এখন মানুষ সবকিছুতে দ্রুততার সাথে সফলতা চাই তাই কোন একটা পদক্ষেপ হেলায় ছাড়তে রাজি না।আধুনিক মায়েদের একটা প্রবণতা যা কিনা সন্তানকে সব্যসাচী হতে হবে এটা একটা মনস্তাত্বিক চাপ বলা যায়।

আমরা বলিউডের হিট ছবি রাজকুমার হিরানি পরিচালিত থ্রি-ইডিয়টস কম বেশি সবাই দেখেছি যেখানে জন্মের সাথে সাথে ছেলের ক্যারিয়ার নির্ধারণ করে দিচ্ছে এমনটাই হচ্ছে আমাদের সমাজে।পরিবারের বাইরে গিয়ে সমাজের লোকজনও একজন নিতান্ত পক্ষে উপযোগিতা খুঁজতে কুন্ঠাবোধ করেনা।আপনি যখন জেএসসির গন্ডি পেরিয়ে এসএসসিতে এসে ভর্তি হবেন তখন বিষয় বা গ্রুপ নির্ধারণে কৌশলী হতেই হবে।আপনি এই স্টেজে চাইলে বিজ্ঞান,ব্যবসায় শিক্ষা বা মানবিক বিষয়ে কোন উদ্দেশ্য ছাড়া পড়তে পারবেন না।প্রকৃতপক্ষে লেখাপড়ার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন কেননা এখানে জানা বা নিজেকে প্রভাবিত করাটা মুখ্য না আপনি বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ালেখা করবেন অদূর ভবিষ্যতে আপনাকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে।আবার ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়লেন যেখানে বিবিএ বা এমবিএ পড়াটা মুখ্য উদ্দেশ্য নয়তো আপনি ব্যর্থ আবার মানবিকে পড়ে আপনি পিছিয়ে থাকবেন কেন আপনাকে এলএলবির মতো বিষয়ে পড়তে হবে।

আপনার সক্ষমতা অনুযায়ী গ্রুপ নির্ধারণ আপনাকে প্রকারান্তরে একটা লম্বা দৌড়ের ট্র্যাকে নিয়ে যাচ্ছে।

বলিউডের প্রখ্যাত নির্মাতা রাজকুমার হিরানী তাঁর এক সাক্ষাতকারে বলেছিল থ্রি-ইডিয়টসের সফলতার পর অনেক প্রতিষ্ঠিত লোক এসে তাঁর কাছে আবার পরামর্শ চেয়েছে যারা কিনা এখন যে স্টেজে সফল সেখানে তাঁরা তৃপ্ত না।একটা অতৃপ্তির ঢেঁকুর প্রতিনিয়ত তাঁদের গিলতে হচ্ছে কেননা যখন তাদের গতিপথ নির্ধারণ করছিল তখন তারা সুযোগটা পাই নি।আমাদের বর্তমান সময়ে তদ্রুপ ঘটনা বা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি প্রতিনিয়ত হচ্ছে।একটা উদাহরণ টানা যেতে পারে — সরকারের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা যিনি সচিব পদমর্যাদার অধিকারী তিনি এই বয়সে এসে বইমেলায় বই প্রকাশের পর আত্মতৃপ্তিতে ভোগেন।এই যে সাহিত্যকর্ম এই বিষয়ে একটা অনুরাগ উনার ছিল তাই যতক্ষণ না তা সম্পন্ন করতে পারছে না ততক্ষণ নিজের সাথে একটা অর্ন্তদ্বন্ধ ছিল বটে।

উচ্চ মাধ্যমিকের পর উচ্চশিক্ষার জন্য অনেকে স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় নিজের স্বপ্নকে বলি দেয়,তাদের তখন সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ দেয়া হয় না বরং মতামতের কোন গুরুত্ব দেয়া হয় না অধিকাংশ ক্ষেত্রে।এই বিষয়টা দীর্ঘমেয়াদে একটা খারাপ পরিণতি ডেকে আনে। একজন ভাল শিল্পীসত্তার শিক্ষার্থী যদি কখনো প্রশাসনের কোন উচ্চপদে আসীন হয় তবে তার কাছে আমরা উপযোগিতার সর্বোচ্চ বিন্দু আশা করব সমীচিন নয়।

আমার এক পরিচিত এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী যে কিনা পরীক্ষা দেয়ার পর এখন প্রতিনিয়ত উৎকন্ঠায় ভুগছে কেননা তার সামনে দুটো লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দেয়া হয়েছে কেননা তাকে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে।পাশাপাশি তার একাডেমিক লেখাপড়ার বাইরে একটা গুণ আছে যে কিনা ভাল আঁকতে পারে।অদূর ভবিষ্যতে এই বিষয়ে স্বতন্ত্র ক্যারিয়ার গড়তে চাই যেটা কিনা তার ভালবাসার জায়গা জুড়ে আছে।এই কাজটা করতে তার ভাল লাগে ।তাই এই শিল্পীসত্তাকে বাঁচিয়ে রাখা বা তার ভাললাগাকে প্রাধান্য দিয়ে তাঁকে একজন শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবারের এগিয়ে আসা উচিত।এই মুহুর্তে তার সবচেয়ে ভরসার মানুষ হবে তাঁরা।এই শিক্ষার্থী স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না,তার মনে শংকা ঢুকে গেছে যা তাকে রীতিমতো একটা দ্বন্ধের মধ্যে রেখেছে।পারিপার্শ্বিক লোকজন,আত্মীয় স্বজনের ভাষ্য ব্যবসায় শিক্ষায় পড়ালেখা করে তুমি যদি বিবিএ বা এমবিএ না কর তবে এই জীবন তো ষোলআনাই বৃথা।

এই চিত্র একটা পরিবারের হলেও সার্বিকভাবে এমন একটা অর্ন্তদ্বন্ধের মাঝে সবাইকে যেতে হই।অভিভাবকের অভীষ্ঠ লক্ষ্য সোনার হরিণ রুপী সেই জিপিএ 5 ।এই মানসিকতা বা প্রতিযোগিতা হতে সরে এসে নিজেদের স্বীয় গুণাবলির আলোকে একটা ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা দরকার যা কিনা ভবিষ্যতের বুনিয়াদ হবে বর্তমানকে সমৃদ্ধ করবে।