প্রেম কাহিনী – ২ এবং শেষ পর্ব

Now Reading
প্রেম কাহিনী – ২ এবং শেষ পর্ব

১ম পর্বের পর……………

” তুই জুনিকে সব খুলে বল? ”

“না ভাই কাল রাত অনেক  রাগা রাগি হইছে,বাদ দিয়ে দিছি সব।”

” চুপ……এটা কি মুখের কথা নাকি।তুই আগে জুনির সাথে তোর সব সমস্যার কথা খুলে বল।তারপর দেখ ও কি বলে |ও নিশ্চই কিছু বলবে। ”

“দেখি ভাই কি করা যাই।কিছুই ভালো লাগছে না আমার আর। ”

বলে রাখা ভালো, জুনি দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। জুনির বাবা মাস ২ হলো মারা গেছে।বাবা মরে যাওয়ার কষ্টটা এখনো ভুলতে পারছে না । এখন জুনিরা ওর ভাই এর বাসাই থাকে।আপন ভাই না মামাতো ভাই। তবে নাকি খুব ভালোবাসে । রুপক এর সাথে বিয়ে করার জন্যে জুনি পাগল।এর জন্যে ও অনেক মারো  খেয়েছে।তবুও সে তার রুপক কে ছাড়তে পারবেনা। রূপক ও জুনিকে কোনো ভাবেই হারাতে চাই না | কিন্তু এদিকে রুপক এরো এখন বিয়ে করা সম্ভব না।আমার মাথাই কোনো কিছুই কাজ করছে না রুপক কে আমি এখন কিভাবে সাহায্য করবো। তার একদিন পর হঠাৎ জুনি হুমকি দিয়ে বসলো ,যদি সে রুপক কে না পাই,তাহলে সে আত্তহত্যা করবে।

রূপক কি করবে এখন কিচ্ছু বুঝতে পারছেনা। খুব ভয় পেয়ে গেলো ও। ভয় পাওয়াটাই অবশ্য স্বাভাবিক |

এটা কোনো সিনেমার গল্প না ।এটা আমার ভাই রূপক এর সাথে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা। জুনি খুব জেদি আর রাগি ছিলো । সে যা বলে তাই করে।আর এদিকে আত্মহত্যার কথা শুনার পর তো রুপক অস্থির হয়ে উঠলো । এখন তার কি করণিয়। এদিকে জুনির মুখে আত্মহত্যার কথা শুনে জুনির বাসা থেকে রাজি হতেই  হলো । রাজি হলেও তারা কিছু শর্ত দিয়ে দিছে যে,কয়েক দিনের মধ্যেই রূপক এর বাসা থেকে জুনির বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে হবে এবং তাকে বিয়ে করতে হবে |কিন্তু রুপক এখন কিছুই করেনা।এসব আরো অনেক চিন্তা ঘুরতে থাকলো মাথাই |

” তুই বল ভাই এটা কি মুখের কথা নাকি যে বললাম আর হয়ে গেলো? ”

“জুনি কি বললো?”

“ওর সাথে ভালোভাবে কথা বলছি না । ”

“বলছিস না  মানে ?ও তোর জন্যে এতো কিছু করছে আর তুই  কিনা ওর সাথে কথা বলছিস না…”

“কি করবো তাইলে তুই বলে দে ??বুঝতে পারছিস তুই, আমি এখন পড়াশোনা ছাড়া আর  কিচ্ছু করিনা ।আর যদি বাসায় এখন এসব বলি তাইলে আমার পড়াশোনাটাও বাদ হয়ে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই । আর যদি পালিয়ে বিয়েও করি তাইলে আমি ওরে কি খাওয়াবো?”

“বুঝতে পারছি তোর ব্যাপার । কিন্তু তুই কি বলতে চাচ্ছিস তুই ওরে ছেড়ে দিবি ? থাকতে পারবি তুই ? আর তুই পারলেও ওর কি হবে একবার ভেবে দেখেছিস ?”

“হ্যা ভাই । কিন্তু কিছু করার নেই ।”

“কিছু করার নেই মানে, যা বলছি শোন…তুই আন্টি কে সব বল ,আর শেষে এটাও বলবি যে , তুই যদি  ওরে বিয়ে না  করিস তাইলে ও আত্মহত্যা করবে । তারপর দেখ আন্টি কি বলে । তবে আমার মনে হচ্ছে রাজি  হয়ে যাবে ।”

“সাহস হবে নারে আমার |”

“তাইলে আর কি ওরে বলে দে যে,তুই ওরে বিয়ে করতে পারবি না হয়ে গেলো ।”

“না ভাই আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারবো না।”

মানে তুমি সব দিকেই আছো ?তা করলে তো হবেনা ,যে কোনো একটা করতে হবে । আজ রাতে তুই আন্টিকে সব বলবি ঠিক আছে ?”

“আচ্ছা  ভাই দেখি কি করা যাই  “|

রাতে রুপক কে একটু হাসানোর চেষ্টা করলাম।জানি এটা সম্ভব না ,তারপরেও চেষ্টা করতে ক্ষতি কি ।তারপর  যা ভাবছিলাম তাই হলো | করতে গেলাম এক আর হলো আর এক ।কিন্তু ও সেটা না বুঝে রাগ দেখালো আমার উপর।কিন্তু কিছু মনে করতে পারলাম না আর যাই হোক আমার ভাই তো ।সে কেনো এমন করছে বুঝতে পেরেছি।

পরের দিন বিকেলে  যখন হাঁটতে বের হলাম তখন………..

” কিরে কথা বলেছিস আন্টির সাথে ?”

“হ্যা ভাই বললাম ,সব কিছুই বললাম আম্মুকে ।”

“কি বলল আন্টি ?”

“আম্মু কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর বললো,আমার কোনো আপত্তি নেই কিন্তু….তোর আব্বুকে কিভাবে বলবো ?উনি তো এমনিই অসুস্থ।আবার  এসব শোনার পর কি হবে তুই বুঝতে পারছিস ?আর কি পরিমান রাগ করবে ?তোর পড়া তো বাদ দিয়ে দিবেই সাথে কি হবে কে জানে…আর তুই তো ভালোই জানিস তোর বাপ্ ঢাকার কোনো মেয়েকে পছন্দ করেনা।এখন আমি কিছু  বললেও কাজ হবেনা উল্টা তোর জন্যে আমাকে বকা  খাওয়া লাগবে |”

আম্মু আপনি আব্বুকে একটু বুঝান ?”

“দেখছি কি করা যাই ”

“তাইলে  তো হয়েই গেলো। ”

“আরে আব্বু রাজি হবে না কোনোদিন “।

“আগে দেখ কি হয় ”

আর এদিকে তো জুনি খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিছে। কি করবো না করবো কেউ বুঝতে পারছি না। এখন আমরা শুধু আন্টির ফোন কলের অপেক্ষায় আছি ।

এর পরদিন রূপম আন্টিকে ফোন দিলো ….

“আম্মু.. আব্বুকে বলছিলেন ?”

“না বলতে পারিনি। তোর বিয়ে নিয়ে একটু কথা বলতেই যে রাগা রাগছে,তাতে করে আর সম্ভব না  । আর ওসব কথা বলা তো  ভাবাও যায়না। ”

“এখন কি করবো ভাই ”

“ভাবতে দে “|

“ভেবে আর কাজ নেই। এখন ওর সাথে সম্পর্ক  নষ্ট করা  ছাড়া আর কিছু করার নেই। একটু কষ্ট হলেও পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। ”

হঠাৎ করে ওই সময় জুনি ফোন দিলো।তারপর ওদের কথা শেষ হতেই  দেখলাম ওর মন খারাপ।

জিজ্ঞাসা করলাম …

“কি হইছে?”

“বাদ দে এসব চল চা খাই। ”

“আরে বলবি তো কি হইছে?”

“কি আর বলবে, বললো যে আমি ওরে এখনই বিয়ে করতে পারবো কিনা ?কিন্তু সেটা তো সম্ভব না।”

“তো তুই কি বললি?”

“কি আর বলবো,না করে দিলাম। বললাম যে আমি এখন এইভাবে বিয়ে করতে পারবো না।তারপর আমাকে কি বললো জানিস ?বললো আমাকে নাকি পরীক্ষা করছিলো ওর মা ,যে আমি যদি ওকে আসলেই ভালোবাসি  তাহলে নাকি বিয়ে করতে চাইবো । এটা কি কোনো কথা তুই বল?”

“তুই কি বললি ?”

“কি আর বলবো। ..বললাম তোমাদের যা ভাবার ভাবতে পারো।আমি এখন  বিয়ে করতে পারবো না। এই বলে ফোন রেখে দিলাম।  ”

“মন খারাপ করিস না ভাই। ”

“আজ রাতেই আমি ওর সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলবো ।আর যদি নষ্ট নাও করি তবুও ওর সাথে আমার বিয়ে কোনোদিন হবে না। শুধু শুধু এতো কষ্ট পেয়ে কি হবে বল?এর থেকে একবারে কষ্ট পাওয়া ভালো। জানি এর জন্যে হয়তো জুনির মনের ভিতর আমার জন্যে অনেক ঘৃণা জন্ম নিবে ,কিন্তু কিচ্ছু করার নেই আর। ”

“আমি আর  কিছু বলবোনা  তোকে, তোর যা ভালো মনে হয় তুই তাই কর। কিন্তু দেখিস খারাপ কিছু যেন  না হয় ?”

“আচ্ছা ও যদি সত্যি আত্মহত্যা করে আমি কি ফেঁসে যাবো ? ভয় করছে তো ভাই.. .”

“আরে কিসের ভয়? এসব কিচ্ছু হবে না। ”

এর ২ দিন পর শুনলাম যে রূপম আসলেই জুনির সাথে সম্পর্ক টা নষ্ট করে ফেলছে। ফেসবুকে ব্লক করে দিছে,,ফোন নাম্বার টাও ব্ল্যাক লিস্ট করে রাখছে । কিন্তু এসব করলেও রূপম আজও জুনি কে ভুলতে পারেনি। আজও রূপম প্রতি রাতে লুকিয়ে জুনির ছবি গুলো দেখে আর অঝোরে  চোখের পানি ফেলে।

আর ওদিকে জুনি কেমন আছে, না আছে  তার কিচ্ছু জানে না রূপম।

আজ ৩ মাস হয়ে গেলো ওদের আর কোনো যোগাযোগ নেই।