ঈদের ডায়েরী

Now Reading
ঈদের ডায়েরী

দ হোক আর অন্য যে কোন অনুষ্ঠানই হোক, একজন ইনট্রোভার্ট টাইপের মানুষের পক্ষে নিজেকে নিয়ে মাতামাতি করা সম্ভব নয়। আমি যেহেতু হাইলি ইনট্রোভার্ট একজন মানুষ, তাই আমার কাছেও এসব উপলক্ষ্য বাহ্যিকভাবে খুব একটা ধরা দেয় না। তার মানে এই নয় যে আমি ঈদ উপভোগ করি না, আমিও অনেক আনন্দ পাই কিন্তু সেটা অনভিভূতিসাপেক্ষ।
এসব ভাবতে ভাবতেই সন্ধ্যা হয়ে গেল।আরবি ক্যালেন্ডার অনুসারে ঈদের দিন শুরু।আমি পার্সোনালি ইনট্রোভার্ট হলেও আড্ডা জিনিসটা অনেক পছন্দ করি যদিও আড্ডা জমাতে পারি না।আড্ডা জিনিসটাকে তাই খুব দুরের ও সুখকর এক বস্তু বলে মনে হয়।তাই ভাবলাম, ছোট্ট একটা আড্ডা দিয়েই শুরু হোক এবারের ঈদ।
রাস্তার পাশে বসে আছি একাএকা।লোকজন যাওয়া আসা করছে কিন্তু সত্যি বলতে কাউকে আসলে তেমন ব্যস্ত বলে মনে হচ্ছে না।আমি অপেক্ষায় আছি কেউ আমাকে কল দেয় কি না।বন্ধুমহলে আমার গ্রহণযোগ্যতা টুকু যাচাই করে নিচ্ছি।কিন্তু না, কেউ কল দিচ্ছে না।প্রচন্ড মন খারাপ হল। কেউ একজন অন্তত আজকে সন্ধ্যার পর আমাকে একটা কল দিবে ভেবেছিলাম।রাগে দু’চারটা গালিও দিয়ে ফেললাম।শেষমেশ আমিই একজনকে কল দিলাম।জানতে পারলাম, তার মা অসুস্থ।ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। আধাঘন্টার মাঝেই সে যোগ দেবে আমার সাথে।ঠিক সেই মুহুর্তেই মনে হল, একটা বিষয়কে সবসময় আমরা নিজের দিক থেকে বিচার করি, কখনো অন্যদিক থেকে বিবেচনা করি না।আমাদের চিন্তাভাবনার ধরণটুকু বদলালেয় এসব ছোটখাটো ভিত্তিহীন মনোমালিন্যগুলো এড়ানো যায়।
চা এর সাথে আড্ডা চলল বেশ।কেউ কেউ সাথে সিগারেট। আমাদের বয়সী ছেলেদের আড্ডাগুলোর ধরণও যেন একই রকমের।এই টপিক,সেই টপিক।শেষমেশ টপিক হবে “মেয়ে/প্রেম”, সাথে বিশ্রী সব মন্তব্য।তবুও যাদের সাথে বসে আছি এরা কিছুটা আলাদা।আমার মনে চলে আসে, আগেকার লেখক-কবিদের কথা যাদের অনেকেরই একটা intellectual group থাকত।ইস! আমিও যদি হতে পারতাম সেরকম একটা গ্রুপের সদস্য।
রাত ১১ টা বাজে।বাড়ি ফিরছি।এত রাত বাইরে কাটায় না যখন বাসায় থাকি।তবুও জানি বাসায় কেউ এর জন্য বকবে না, আব্বাও কিছু বলবে না। সত্যি সত্যিই বয়স বেড়ে যাচ্ছে, বড় হয়ে যাচ্ছি, দায়িত্ব বেড়ে যাচ্ছে।একটা অজানা ভয় ঘিরে ধরে।
খাওয়া শেষ করে টেবিলে বসলাম।”সেই সময়” উপন্যাসটা খুললাম। আম্মু বলল, ‘কাল খুব ভোরেই উঠতে হবে। বই রেখে ঘুমাতে যা।’ ঈদের দিন বলে কথা।কিন্তু কেবলমাত্র এসব বই পড়তে দেখলেই আম্মু পড়তে নিষেধ করে।কোন মা-বাবাই ছেলেমেয়েদের এসব পড়া পছন্দ করে না।
খুব ভোরেই উঠলাম। তবুও ঈদের প্রথম জামায়াত ধরার জন্য আমাকে আর ভাইয়াকে দৌড়াতে হল, সাথে রাস্তার আরো অনেককে।শেষমুহুর্তে তাড়াহুড়ো করা সম্ভবত আমাদের জাতিগত অভ্যাস।নামায শেষ করে ফিরছি।রাস্তায় বাচ্চারা কেউ বাঁশি বাজাচ্ছে,কেউ বেলুন ফুলাচ্ছে, কেউ এক ধরনের গাড়ি চালাচ্ছে(ক্যা ক্যা শব্দ করে)। শব্দটা বিরক্ত লাগছে। তবুও নিজের অজান্তেই হেসে ফেললাম। শব্দগুলো বাচ্চাগুলোদের কি মজাটাই না দিচ্ছে! এই তো কিছুদিন আগে আমিও ওগুলো খেলেছি। হিসেব কষতে লাগলাম।না, কিছুদিন নয়।প্রায় ১৩-১৪ বছর আগে আমি এসব খেলেছিলাম।১৩-১৪ বছর!নিজেই অবাক হয়ে যায়।আচ্ছা, সময় এত দ্রুত যায় কেন!
কুরবানি আছে দুটো খাশি। জবাই করা হল। আব্বা এব্যাপারে এক্সপার্ট না হলেও কাজ চালার মত পারে।প্রতিবছর রশিদ কাকা এসে তিনিই কাজটি করে দিয়ে যান। আমি আর ভাইয়া এ ব্যাপারে নিতান্তই আনাড়ি। হঠাৎ মনে হল, বড় হয়ে যাচ্ছি। এই দায়িত্বটাও আমাদের নিতে হবে। আমার বয়সী শতকরা প্রায় ৯০ জনই এ কাজটা পারে না, তাদেরকেও খুব শীঘ্রই এ দায়িত্ব নিতে হবে। আগামী দশ বছর পরে এখনকার চেয়ে বেশ কয়েকগুণ বেশি এক্সপার্ট (কসাই) ভাড়া করতে হবে।এত কসাও কি পাওয়া সম্ভব হবে। হয়তো বিকল্প কোন উপায় বের হবে। কিন্তু আমরা এই প্রজন্ম যে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ না শিখেই বড় হচ্ছি, এও তার একটা উদাহরণ।
কুরবানির কাজ শেষ। এখন কারো সাথে দেখা হলেই কিছু কমন প্রশ্ন “কয়টা কুরবানি ছিল?কত কেজি মাংস হল?ইত্যাদি ইত্যাদি…” যার বেশি হচ্ছে সে বাইরে প্রকাশ না করলেও মনে মনে একধরনের তৃপ্তি পাচ্ছে।
মাংস বিলি করার কাজটা বেশ ঝামেলাপূর্ণ যদিও এর একটা আলাদা গুরুত্ব আছে।আর পরিবারের সবার ছোট হওয়ায় এই ঝামেলার সিংহভাগই আমাকে পোহাতে হয়। নানীর বাড়িও যেতে হল আমাকে। একটু লাভও হল বটে। নানীর কাছ থেকে ১০০০ টাকা ঈদ বোনাস পাওয়া গেল। আমি ভালভাবেই জানি, নানী কিছুটা অর্থকষ্টে আছে। এর আগেও অনেক অনেক ঈদ বোনাস পেয়েছি। তিনি এবার না দিলেও পারতেন। যদি দায়িত্বের কথা বলি, তাহলে তিনি তা খুব ভালভাবেই পার করেছেন। এই বৃদ্ধ বয়সে এসবের তো প্রয়োজন নেই। কিন্তু এটাও সত্য যে, আমি ঈদ বোনাস পেয়ে যেমন আনন্দিত,তেমনি নানী সেটা দিয়েই আনন্দিত। কি আশ্চর্য এক ধরনের মায়া! আমরা সবাই এই মায়ার বেড়াজালে আবদ্ধ।
একটু ফেসবুকে ঢু মারলাম। কাউকে মেসেজে বা ফোনে ঈদ শুভেচ্ছা জানানো হয় নি। যারা জানিয়েছে, তাদের রিপ্লাই দিলাম। টিভি অন করলাম। এত্তগুলা চ্যানেল, তবুও দেখার মত কিচ্ছু পেলাম না। খবর শুনতে লাগলাম। বর্ডারের পাশে মানবতা গড়াগড়ি খাচ্ছে, বনভাসীদের খবর আর নিউজে আসে না। কী-ই বা করতে পারি আমি। মার্টিন নেমলারের সেই কবিতাটার কথা মনে পড়ে গেল। কি জানি, হয়তো পরবর্তী ভুক্তভোগীটা আমিই হব। কেউ আসবে না আমাকে বাঁচাতে।
নদীর ধারে সূর্যাস্ত দেখা, আবারো আড্ডা, গল্প, বিচিত্র সব টপিক, কথার খেলা,গল্পে গল্পে একজন আরেকজনকে আঘাত দেবার পৈশাচিক আনন্দ, কোল্ড ড্রিংকস, সিগারেট (কারো কারো), স্নিগ্ধ বাতাস,রাতের অন্ধকার,…………..
এভাবেই
চলে গেল আরেকটি ঈদ
মানে আরেকটি বছর।
সময় যাচ্ছে, জীবনও চলমান।
আর একটি ভয়ংকর সত্য “বড় হয়ে যাচ্ছি”।

বিশেষ দিনের প্রিয় মুহূর্ত গুলোকে ফ্রেমবন্দি করার কিছু কৌশল

Now Reading
বিশেষ দিনের প্রিয় মুহূর্ত গুলোকে ফ্রেমবন্দি করার কিছু কৌশল

ব্যস্ততার এই জনবহুল শহরকে ছেড়ে নিজেকে একটু প্রাকৃতির মাঝে বিলিয়ে দেওয়া যে কি আনন্দের তা শুধু মাত্র উপভোগকারী ই বুজবে।
নিজেকে যখন ওই প্রকৃতির মাঝে বিলিয়ে দিবেন, তখন সাথে যদি থাকে নিজের প্রিয়জনরা তাহলে তো ‘আপনি সোনায় সোহাগা”।

আনন্দ তো আর কিনতে পাওয়া যায় না। তাই যখন এই ব্যস্ততার জীবন ফাঁকি দিয়ে একটু সময় পেয়েছেন নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার, তাহলে কি আর দেরি করা ঠিক?
প্রিয়জনদের সাথে ঘুরতে গেলেই বুঝা যায় আনন্দ মুহূর্ত কাকে বলে। আর যখন এই মজার মুহূর্ত একবার চলে যায়, তখন কি একে আর ধরে রাখা যায়? না, তা অবশ্যই সম্ভব না।
কিন্তু সেই মুহূর্ত গুলো তো ভুলাও বেশ কষ্টকর। তাই কি আপনি সেই মজার মুহূর্তকাল ফ্রেমে বন্দি করায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। হ্যাঁ, অবশ্যই মধ্য কোনা অস্বাভাবিকতা ও নেই বোটে।
কারন, কর্মব্যস্ততার মধ্য যখন, পুরানো সেই প্রিয়জনের সাথে মজার মুহূর্তগুলা ফ্রেমের মধ্যে বন্দি থেকে ই আমাকে যেন প্রতিস্থাপন করে সেই পুরানো মুহূর্তে, তখন আসলেই নিজের মধ্যে এক অজানা ভালোলাগা কাজ করতে থাকে।
আর আপনাকে এই অজানা ভালোলাগাকে উপভোগ করতে হলে, প্রিয়জনের সাথে মজার মুহূর্তের সময় গুলোকে ফ্রেমে বন্দি করতে হবে।

কিন্ত??

কোন কিন্তু নয়, আপনি কি ভাবছেন, যে আমি তো পেশাদার ফটোগ্রাফার না! আমার ছবি তোলার জন্য তেমন কোন ভালো ক্যামেরা ও নেই?
আপনি যদি এই সামান্য বিষয় নিয়ে চিন্তিত হন, তাহলে আমি আপনাকে বলি, এই সকল অযথা চিন্তা করা বাদ দেন। এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আপনাকে কিছু সময় ধারাবাহিক শব্দটির সাথে পড়তে পড়তে নিচের দিকে যেতে হবে।

এদিকে, মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস – এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন ভ্রমন আলোকচিত্রী নাটালি আম্রোসি। ক্যামেরা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্য ক্যানন বেশ পরিচিত একটি নাম সবার কাছে। আর ক্যামেরা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের এই শুভেচ্ছাদূত ৫০ টির বেশি দেশে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলেছেন।
এই ফ্রেম প্রিয় ব্যক্তি আরো বলেন যে – ভ্রমনের ছবিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে আপনাকে সেই জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় এবং মধুর স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
ক্যাননের এর শুভেচ্ছাদূত আরো বলেন যে – তবে ভালো ছবি তুলতে হলে আপনাকে পেশাদার আলোকচিত্রী হতে হবে না, মাথায় রাখলেই চলবে সাধারণ কিছু কৌশল।

★ জরুরী পেশাদার ক্যামেরা দরকার নেই >

ছবি তুলার কথা বললেই বাতাসের থেকে ভেসে আসে ক্যামেরা ভালো না। আরে ছবি তোলার জন্য তেমন দামি ক্যামেরার দরকার নেই। স্মৃতি ফ্রেমে বন্দি করে রাখাই ছিলো আসল কথা। এখন ডিজিটাল যুগ তাই একটা স্মার্টফোন ই যথেষ্ট, কারণ, এর সাথে যেই ক্যামেরা থাকে তা দিয়ে সাধারণ ছবি ভালো ই হয়ে থাকে। কিন্তু, কথায় ছিলো, বিশেষ কিছুর সঙ্গে বিশেষ কিছু না হলে, ঠিক হয়ে উঠে না। আপনার বিশেষ মজার মুহূর্তে যদি সাথে থাকে একটি ডিজিটাল ক্যামেরা, তাহলে আপনি স্মার্টফোন থেকে ভালো কোয়ালিটির ছবি পাবেন। যা আপনার মূল্যবান এই স্মৃতিময় ছবিকে রাখবে যতন করে। আর ডিজিটাল ক্যামেরা নেওয়ার সময় আপনাকে মনে রাখতে হবে, এইটা যাতে আকারে ছোট হয়।ছোট হলে যে কোন জায়গায় চট করে নিয়ে যাওয়া যায়, মনে রাখতে হবে ক্যামেরাটি যাতে তারবিহীন হয়,এতে করে ঝামেলা মুক্ত থাকা যায়। ডিজিটাল যুগ এখন সবাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ঝুঁকছে। তাই আপনার ক্যামেরা টি যদি হয়ে থাকে ওয়াই ফাই যুক্ত তাহলে আপনে ক্যামেরা থেকে খুব সহজে ছবিগুলো মোবাইলে নিতে পারবেন এবং এর ই সাথে খুব সহজেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনি আপনার মজার মুহূর্ত গুলো শেয়ার করতে পারবেন।

★ পরিকল্পনা আগের থেকে >

পরিকল্পনা আসলেই কোন কিছু করার নীল নকশা। কোথায়, কখন, কোন কাজ করা হবে তা আগে থেকে ই ঠিক করে নেওয়াই পরিকল্পনা। সাধারণত ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবাই পর্যাটক এলাকাই বেছে নেয়, এতে তেমন কোন বিশেষ ছবি খুঁজে পাওয়া যায় না অবশ্যই। তাই আপনার ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনায় একটু ভিন্নতা আনুন। আপনার ঘরের পাশে রাস্তার, ওই ঘাসে যেই শিশির বিন্দু জমে প্রাকৃতির খেলা দেখায়, নিঃসন্দেহ ভাবে তা বিলাশ বহুল পর্যাটক স্থান থেকে উত্তম। তাই এমন কোন স্থান ঠিক করুন যেইটা আপনার কাছে, একটু ভিন্ন এবং যেখানে আপনি আপনাকে এক অন্য আপনি আবিষ্কার করতে পারবেন। এর মাধ্যমে আপনি পাবেন ভিন্নতর মজা, আর ছবিগুলো র মাধ্যমে হয়তো আপনি, সৃজনশীল নতুন কোন প্রাকৃতির লীলাখেলা উপস্থাপন করতে সক্ষম হবেন।

★ সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের সময় >

সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় আসলেই উপরওয়ালার অতুলনীয় সৃষ্টিগুলোর মধ্য অন্যতম। সাধারণত পর্যাটকেরা প্রাকৃতির এই অকৃত্রিম সৌন্দর্যকে নিজেদের উপলব্ধির বিশেষ জায়গায় ই স্থান দিয়ে থাকেন। তাই তো কুয়াকাটায় সূর্যাস্ত দেখার জন্য পর্যাটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। সব স্থানেই ছবির মধ্য সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের ছবিগুলো বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের ছবির মাধ্যমেই কোন স্থানকে সম্পূর্ণ অন্যভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।
এই দিকে এই বিষয় প্রেক্ষিতে,
নাটালি বলেন – সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের একই জায়গায় ছবি তুলেও দুই সময়ের পার্থক্য উপস্থাপন করা যেতে পারে।

★ নিয়মের বাইরে >

জীবন টা আসলেই নিয়মে মধ্য বন্দি। নিয়মে থাকতে থাকতে একেবারে নিয়মের দাস হয়ে যেতে বসেছি আমরা। আর আজ নিয়ম আমার বন্দি না হয়ে, আমি নিয়মের বন্দি। নিয়মও জীবনে দরকার আছে। তা না হলে আবার, আপনাকে অগোছালো চুল হতে হবে। কিন্তু, এ ও বাস্তব সত্যি যে, সব সময় আপনি আপনি ডাক ভালো লাগে না, কিছু সময় নিয়ম ভেঙ্গে তুই ডাক টা শুনতে ই বেশি ভালো লাগে। তাই নিয়মকে কিছু সময়ের জন্য ছুটি দিন, আর আপনার মনের যা ভালো লাগে তাই ফ্রেম বন্দি করে ফেলুন।
কে জানে তা হয়তো আপনার মন খারাপের সময়, ভালোলাগার শ্রেষ্ঠ উপকরণ হতে পারে।

★★★ঈদ মোবারক ★★★
এই ঈদে ছবি তোলার মজার কৌশলকে কাজে লাগিয়ে আপনার মজার মুহূর্তগুলোকে যত্নসহকারে ফ্রেম বন্দি করে রাখুন। আমাদের এই লেখা আপনাদের জন্য ই,আমাদের সাথেই থাকুন,

ধন্যবাদ।

“ঈদে আপনার ভ্রমণ কতটুকু নিরাপদ হচ্ছে তার দায়িত্ব আপনার হাতে”

Now Reading
“ঈদে আপনার ভ্রমণ কতটুকু নিরাপদ হচ্ছে তার দায়িত্ব আপনার হাতে”

প্রায় দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর বহু প্রতীক্ষিত রমযানের শেষে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের প্রায় সব প্রান্তে মানুষের আনাগোনা হবে।এই আনাগোনা সংখ্যার অনুপাতে দেশের বৃহত্তম দুই শহর ঢাকা এবং চট্টগ্রাম ছাঁড়বে প্রায় ৫০ লক্ষেরও অধিক মানুষ।এই সপ্তাহে রাস্তায় ঘরমুখো মানুষের প্রচন্ড ভীড় থাকে।তাই আমাদের বাড়তি সতর্কতা আমাদেরকে দিতে পারে বাড়তি নিরাপদ আর স্বাচ্ছ্যন্দময় একটা ভ্রমণ।ইতিমধ্যে গ্রামমুখী মানুষের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে।আপনজনের সান্নিধ্যে যেতে আর প্রিয়জনের মুখ দেখার জন্য কত বিড়ম্বনা আর কষ্টই না সহ্য করতে হয় এই মানুষগুলোকে ।সমস্ত কষ্ট আর দুঃখ এক নিমিষেই মুছে যায় যখন প্রিয়জন তার পথ পানে চেয়ে থাকে আর পরম মমতায় মা-বাবা তার সন্তানকে,সন্তান তার বাবাকেু,ভাই-বোন একে অপরকে ,স্ত্রী তার স্বামীকে কাছে পাই।

এবারের ঈদ যেহেতু এই বর্ষা মৌসুমে পড়েছে তাই প্রতিকূল আবহাওয়া থাকবে এমনটা স্বাভাবিক ।এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মেনে আমাদের নিজেদের কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে। যা কিনা আমাদেরকে দিতে পারে একটা নিরাপদ ভ্রমন আর প্রিয়জনের কাছে পৌঁছানোর একটা নিশ্চয়তা।এই যাত্রাপথে আপনার আমার সবার যে সকল সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী যা কিনা আপনার জন্য বা দেশের জন্য প্রকরান্তরে লাভজনক হবে।

আপনি যদি ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো বড় শহর হতে রাতের দুরপাল্লার ভ্রমণে যাবেন তবে আপনার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরী।

প্রথমত আপনার নির্দিষ্ট বাস,ট্রেন,লঞ্চের টিকিট নিয়েছেন কিনা সাথে করে তা দেখে নেয়া জরুরী।কেননা এই ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায় অনেককে।তাই শত ব্যস্ততার মাঝে একবার দেখে নিন কেননা এটা আপনাকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে।

দ্বিতীয়ত আপনি যদি দীর্ঘ এক সপ্তাহ বাড়িতে থাকবেন তবে আপনি বাসা ছাড়ার আগে দেখে নিন আপনার বাসার বৈদ্যুতিক লাইন,গ্যাসের লাইন এবং পানির লাইন সবগুলো বন্ধ করা আছে কিনা। এই কাজটা করা আপনার দেশের এবং দেশের সম্পদের অপচয় রোধে একটা দায়িত্ববোধের প্রকাশ যেমন ঘটবে তেমনি আপনার নিজের বা প্রতিবেশির কোন বিপদ না ঘটার ক্ষেত্রে একটা বাড়তি সতর্কতা বলা যায়।

তৃতীয়ত আপনারা যারা ছোট শিশু বা বয়স্কদের সাথে নিয়ে যাবেন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষুধ বা ব্যবস্থাপত্র সাথে নিয়ে যাওয়া জরুরী কেননা এই একটু বাড়তি সতর্কতা আপনাকে অনেকখানি বিড়ম্বনা থেকে রেহাই দিবে বলে মনে করি।

চতুর্থত আপনি যখন জনবহুল কোন স্টেশনে হাঁটবেন বা গাড়ির জন্য যাবেন তখন আপনি যদি একা হোন তবে আপনার জন্য অনাকাঙ্খিত অনেক বিপদ আসবে এটা স্বাভাবিক। এই যেমন নিজের ছোট বাচ্চাকে সামলে রাখবেন । রেল স্টেশন বা লঞ্চ ঘাটগুলোতে এই ধরনের ঘটনা হারহামেশাই ঘটে। তাই সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখুন যেন হাত ফসকে না যায়। তাছাড়া এই সব স্টেশনে অজ্ঞান পার্টির কবল বা পকেটমার, ছিনতাইকারীর যে অত্যাচার তা তো আছেই।এইসব ঘটনা এড়াতে আপনাকে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আপনার টাকা বা মুল্যবান অলংকারের ব্যাগগুলো নিরাপদে রাখা দরকার। কাউকে যদি আপনার সন্দেহ হয় বা কারো গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সাথে থাকা কাউকে বলুন নয়তো স্টেশনে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনির লোকজনকে জানান। এতে করে আপনার বিপদ অনেকটা কমে যেতে পারে।

পঞ্চমত আপনি রাতে যদি যাত্রা করেন অবশ্য একজন সচেতন যাত্রী হিসেবে নিজের জানমালের নিরাপত্তা আপনার তার পাশাপাশি পাশের সিটের যাত্রীর সাথে কি ধরনের সম্পর্ক রাখবেন তা অবস্থানুযায়ী  বিবেচনা করুন। বিশেষভাবে যেসকল মেয়েরা একা ভ্রমণ করবেন তাদের এই বিষয়টা খেয়াল রাখা জরুরী।

আপনি কোনভাবেই রাতের ট্রেনে ছাদে চড়ে যেতে পারেন না।এখানে একটা বিপদের সম্ভাবনায় কেবল জোরদার হয়।এই ধরনের যাত্রা কোনভাবে কাম্য নয়।আপনার একটু অসর্তকতা বা খামখেয়ালীপনা আপনাকে মৃত্যুমুখে টেলে দিতে পারে। তাই হয়তো আপনার গন্তব্যস্থানে পৌঁছাতে দেরী হবে,এই ধরনের কোন পদক্ষেপ কাম্য নয়।

রাতের বাস যাত্রায় আপনি সচেতন যাত্রী হিসেবে ড্রাইভারকে বলে রাখুন প্রতিকূল পরিস্থিতি বা দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ায় যাতে নিরাপদে ড্রাইভ করে। এতে আপনার ভ্রমণ হবে নিরাপদ আর নিশ্চিন্তময়। দুরপাল্লার বাসের এখন দুর্ঘটনা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যেসকল যাত্রী নৌ-রুটে চলাচল করেন তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরী কেননা এখন আবহাওয়া যেকোন সময় বিরুপ পরিবেশ ধারণ করে। আপনি নিজে সজ্ঞানে কোনভাবেই অতিরিক্তি যাত্রী হয়ে উঠবেন না,দেখবেন কোন বিপদের সম্ভাবনায় রইল না। আমাদের একটু একটু অসর্তকতাই যেন কোন বিপদের পুঁজি। রাতের বেলায় লঞ্চগুলোতে যেসকল ডুবির ঘটনা বা বিপদ হয় তার অধিকাংশের নেপথ্যে অতিরিক্ত যাত্রী। তাই একজন সচেতন যাত্রীর অবস্থান হতে এই বিপদ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। এছাড়াও ফেরিঘাট দিয়ে বা দ্রুত যাতায়াতের জন্য স্পীডবোটে করে যাত্রী পার হয়।এইসব ক্ষেত্রে ফেরিতে উঠার ক্ষেত্রে বাস চালক বা যাত্রী উভয়ের সতর্ক থাকা জরুরী।কেননা এখানে অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা যা কেবল রোধ করতে পারে আমাদের বাড়তি সতর্কতা। আপনি যদি স্পীডবোটে করে যাতায়াত করেন তবে আপনাকে লাইফ জ্যাকেট পরিধান করতে হবে এবং অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে কখনো উঠবেন না। আপনার একজনের জন্য হয়তো অন্য অনেকের বিপদের কারণ হয়ে যেতে পারে।

আমাদের সড়ক পথে আরেক দুশ্চিন্তার নাম হলো বেপোরোয়া ড্রাইভিং ।আপনি যদি দক্ষ না হোন তবে দুরপাল্লার কোন পথে আপনার ভ্রমণ করাটা ঝুঁকি।অনেকে বাড়তি উৎসাহের কারণে নিজস্ব গাড়ি ড্রাইভ করে।অনেককে দেখা যায় অতি উৎসাহী হয়ে বেপোরোয়া গতিতে ড্রাইভ করে।আপনার বেপোরোয়া গতি বা কৌতুহল অন্য অনেকের বিপদের কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা নেয়া জরুরী আপনার সন্তানকে দক্ষ না হলে এই সময়ে অন্তত ড্রাইভ করতে দিবেন না। মোটরসাইকেল আরোহীরাও বাড়তি সতর্কতা নিতে পারেন। কেননা দুরপাল্লার কোন যাত্রায় আপনি দুয়ের অধিক যাত্রী হয়ে ভ্রমণ করবেন না। এটা ‍খুবই বিপদজনক একটা পদক্ষেপ।তাছাড়া আমাদের সকল পেশাদার ড্রাইভার বা নিজস্ব গাড়ির চালকের একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরী তা হলো আমাদেরকে অবশ্য ওভারটেকিং করার মানসিকতা এড়িয়ে চলতে হবে। দেশের অধিকাংশ দুর্ঘটনা কিন্তু এই ওভারটেকিং বা সিগন্যাল ও গতিবিধি না মেনে চলার জন্য হয়।

আপনার সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি কথাটা সবাই শুনেছি।একটু ধীরস্থির হয়ে যাত্রা করুন হয়তো একটু পরে পৌঁছাবেন তাও অন্ততপক্ষে নিরাপদে পৌঁছাবেন এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনার।

আপনার ঈদ যাত্রা শুভ হোক।