3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

বাংলাদেশের সমর্থকঃ পজেটিভ ও নেগেটিভ

Now Reading
বাংলাদেশের সমর্থকঃ পজেটিভ ও নেগেটিভ

বাংলাদেশে আজকের দিন হিসাব করলে কমপক্ষে ১৮ কোটি মানুষের বাস। প্রতিটা দেশেই কমবেশি বিভিন্ন খেলাধুলা থাকে। অবশ্য প্রতিটা খেলাই যে দর্শকদের মন আকর্ষণ করে তা নয়। একেক শ্রেণীর মানুষ এক এক খেলার প্রতি আকৃষ্ট থাকে। আমাদের দেশে যেসব খেলাধুলার অফিশিয়াল প্রতিষ্ঠান আছে অর্থাৎ যেসব খেলার সাথে আমাদের দেশের মানুষ সম্পৃক্ত, সেগুলো হলো ক্রিকেট,ফুটবল,হকি,কাবাডি,ব্যাডমিন্টন,হ্যান্ডবল,দাবা,গল্ফ ইত্যাদি। আবার এথলেটিক্সও আছে।

তবে এর মধ্যে সব খেলায় আমাদের দেশের খেলোয়াড়েরা ভালো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। সবগুলো খেলা আমাদের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় না। এরমধ্যে আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে ক্রিকেট। আমাদের দেশে ক্রিকেটের দর্শক ও সমর্থকের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কারণ আমাদের দেশের খেলোয়াড়েরা ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছে। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান দেখলেই তা বোঝা যায়। আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেট পাগল দেশ, এটা আমরা সবাই জানি। সারা ক্রিকেট বিশ্বই জানে যে বাংলাদেশের মানুষ কতটা ক্রিকেট পাগল। ছোট ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরী,যুবক-যুবতী,এমনকি বৃদ্ধারাও এখন ক্রিকেটপ্রেমী। যদি কখনো বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচ থাকে, তো সেদিন মানুষের সব কাজ বন্ধ। সবাই এক কাতারে টিভির সামনে।

সে যত বড় কাজই হোক। অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলে সেটা যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতেই হবে। কারণ আজ তার পছন্দের দলের খেলা। আমাদের দেশের মানুষ এতটাই ক্রিকেটপ্রেমী, যে আমাদের দেশের মানুষ যদি বিকালে অবসর সময় পায় তো ক্রিকেট খেলেই কাটায়। আমরা প্রায় সবাই আমাদের দেশকে প্রতিটা খেলায় সমর্থন করি। সেটা মিরপুরে খেলা হলেই বোঝা যায়। গ্যালারি কানায় কানায় ভরা থাকে সাকিব-তামিমদের খেলা দেখার জন্য। পুরো স্টেডিয়াম হাউজফুল হয়ে যায়। খেলার আগে টিকেটের জন্য পড়ে লম্বা লাইন। টিকেট বিক্রি করতে গিয়ে কতৃপক্ষ প্রায়ই বিভ্রান্ত হয় এটা আমরা প্রায়ই দেখি। কেউ কেউ উত্তরবঙ্গ, কেউ আবার দক্ষিণবঙ্গ থেকে খেলা দেখতে ছুটে যায় ক্রিকেটের টানে। সিলেট,বরিশাল,চট্টগ্রাম থেকেও ছুটে আসে অনেকে। লম্বা লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকে মহামূল্যবান সোনার হরিণ এর ন্যায় একটা টিকেটের জন্য। এমন অনেক সময়ই দেখা যায় যে, কেউ কেউ ভোর ৪টা কিংবা ৫টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে যাতে টিকেট ফুরাবার আগেই সংগ্রহ করতে পারে। টিকেট হাতে পেলে মনে হয় সে যেন সোনার হরিণ পেয়েছে। অনেকে টিকেট না পেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কালোবাজার থেকে টিকেট কেনে তার প্রিয় দলের, প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলা দেখার জন্য। আর যারা টিকেট শেষ পর্যন্ত পায়না, আক্ষেপে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরে। কেউ আবার ক্ষোভও ঝাড়ে। কতটা ক্রিকেটপ্রেমী আমাদের দেশের সমর্থকরা!

আমাদের দেশের সব সমর্থকের মনোভাবই যে এক, তা মোটেও না। আমার দৃষ্টিতে আমি আমাদের দেশে তিন শ্রেণীর সমর্থক দেখতে পাই। তা হলো বুঝবান সমর্থক, অবুঝ সমর্থক আর হলো প্রেমিক সমর্থক। আগে প্রেমিক সমর্থকের ব্যাপারটা পরিষ্কার করি। প্রেমিক সমর্থক হচ্ছে তারা, যারা খেলাটা খুব একটা বেশী দেখেনা, তেমন বোঝেও না, কাওকে খুব একটা চিনেনা তবে কখনো কারো সমালোচনা করেনা এবং সবাইকে খুব ভালোবাসে। এ ধরনের সমর্থকেরা একা একা খেলা দেখেনা, তবে যখন কেউ খেলা দেখে,তার সাথে বসে খেলাটাকে বেশ উপভোগ করে। এরা খেলা দেখার সময় তেমন কথা বলেনা। অন্যান্য দর্শকেরা যখন সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে, তখন এরা সেই সমালোচনা শুনতে থাকে এবং তা থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করে। এবার আসি বুঝবান সমর্থকদের ব্যাপারে।

মূলত এসব সমর্থকেরা কট্টর সমর্থক হয়ে থাকে। এরা অনেক ছোটবেলা থেকে খেলা দেখে। তবে সবাই যে ছোটবেলা থেকে খেলা দেখে বলেই বুঝবান সমর্থক তা কিন্তু নয়। বুঝবান সমর্থক হতে গেলে একটা খেলার বিভিন্ন সূক্ষ্ম বিষয় গুলোতেও জ্ঞান অর্জন করতে হয়। না বুঝে কোনো ডিসিশনে যারা উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলা শুরু করে, তাদেরকে আর যাই হোক, বুঝবান সমর্থক বলা যায়না। একটা সমর্থককে তখনই বুঝবান বলা হয়, যখন সে তার প্রিয় দলের যেকোনো ডিসিশনকে সম্মান করে।

দলের যেকোনো বিপর্যয়ে ধৈর্য ধারণ করে। দলের বিপর্যয়ে কখনো দল সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলেনা। এরা খেলাটাকে বিশ্লেষণ করতে জানে। তবে আমাদের দেশের মানুষের আবেগ একটু বেশিই। আমাদের দেশে কিছু সমর্থক আছে যারা স্রোতে গা ভাসানোর মতো সমর্থন করে। অর্থাৎ দল ভালো খেললে প্রশংসায় ভাসায়,আর দল একটু খারাপ করলেই সমালোচনা করতে তাদের এক মুহূর্ত সময় লাগেনা। কিছু সমর্থক বলব না, ম্যাক্সিমাম বাংলাদেশী সমর্থকদেরকেই এরকম আচরণ করতে দেখা যায়। এরা দল ভালো করলে,দলের কোনো খেলোয়াড় ভালো করলে তাকে নিয়ে যায় সর্বোচ্চ উচ্চতায়। মনে করেন,সাব্বির বা সৌম্যের মতো উদীয়মান তারকারা একটা সেঞ্চুরি হাঁকালেই তাকে রিকি পন্টিং বা টেন্ডুলকারের কাতারে পাঠাতে খুব একটা বেশি সময় নেয় না। আবার যারাই গতদিন এরকম পারফর্ম করেছিলো, তারাই যদি কোনো পারফর্ম করতে না পারে তাহলে তাদের নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলতে তাদের একটুও বাঁধেনা। তাদেরকে পাড়ার খেলোয়াড় বানিয়ে দেয়। পরের ম্যাচে তাদেরকে একাদশে দেখলেই দল নির্বাচককে গালি দেওয়া শুরু করে। তখন বলে, সোম্যকে বা সাব্বিরকে কেনো দলে নেয়?

তাদের চিন্তাধারা এত কমে যায় যে তখন তারা ওপেনিং ব্যাটসম্যান এর জায়গায় মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানকে জায়গা দিতে সম্মতি জানায়। একটা কথা বলি, কোনো খেলোয়াড়ই সেচ্ছায় খারাপ খেলে না। খেলাটা অত সহজ না। তারা কঠোর পরিশ্রম করে যোগ্যতা দিয়েই এ পর্যায়ে গেছে। তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালি দেওয়া নির্মম ব্যাপার। তারা দেশের জন্য ১০০% ই দেওয়ার চেষ্টা করে। আপনি ভাবুন তো, আপনি ওর পর্যায়ে কি যেতে পারছেন? পারেননি। তাহলে তো আপনি তার সমালোচনা করার যোগ্যতাই অর্জন করেননি। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, বাইরের দেশের সমর্থকেরা কোনো দলের বিপর্যয়েও তাদের পাশে থাকে। প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচেও তার দলের কোনো খেলোয়াড় কোনো কিছু অর্জন করলে তাকে সাদুবাদ জানায়। কিন্তু আমরা কি করি? বিভিন্ন ধরনের ভুল ধরতে থাকি। টিম সিলেকশন ঠিক ছিল না, এই প্লেয়ারকে কেনো নিয়েছে, এ কিছুই খেলতে পারেনা ইত্যাদি। একটা জিনিস দেখেন, সোয়েব আলিকে নিশ্চয় চিনেন যদি আপনি সত্যিই বাংলাদেশের সমর্থক হয়ে থাকেন। সে তার সব কিছু ত্যাগ করে নিঃস্বার্থে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সমর্থন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ দল জিতুক বা হারুক, সে সবসময় পাশে আছে। দল জিতলে বাঘের মতো গর্জন করে দলকে উজ্জীবিত করে, হারলে তাৎক্ষণিক কেঁদে মনকে শীতল করে “এবার হবে” বলে দলকে উৎসাহ জোগায়। পৃথিবীর যে প্রান্তেই বাংলাদেশের খেলা থাকুক না কেনো, সোয়েব আলি হাজির। সমর্থক যদি হয়েই থাকেন, তো সোয়েব আলির মতো হোন। আমাদের খেলোয়াড়েরাও কিন্তু তার দেশকে ভালোবাসে,তার জান-প্রাণ উজার করে দেয় দলকে জেতাতে। তাদেরকে ভালোবাসুন। উপভোগ করুন প্রিয় দলের খেলাকে।

প্রতিশোধ – পর্ব ২

Now Reading
প্রতিশোধ – পর্ব ২

ভাই এসে তন্নি কে জিজ্ঞেস করলো কান্না করছে কেন?
তন্নি ওর ভাইকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলো।
ভাইঃকি হলো?কেও কিছু বলেছে তোকে?
তন্নিঃনা
ভাইঃতাহলে?
তন্নিঃআমি একজনকে ভালোবাসি…
ভাই হেসে বললো ভালোবাসলে কেও কাঁদে নাকি?
তন্নিঃকিন্তু সে অন্য একজনকে ভালোবাসে।
ভাইঃতার জন্য এমন করে কেও কাঁদে?ছোট থেকে তোর সব আবদার আমি পূরণ করেছি। এইটা ও পূরণ করবো।
তন্নিঃ ভাইয়া আমি যাকে ভালোবাসি সে আমার বন্ধু আকাশ।
ভাইঃওহঃ আকাশ? ও তো খুব ভালো ছেলে।
তন্নিঃকিন্তু আকাশ আমার ফ্রেন্ড হেমাকে ভালোবাসে।আকাশ অন্য কাওকে ভালোবাসলে আমি জোর করতাম।কিন্তু….
ভাইঃ ঠিক আছে আমি দেখছি।এখন কান্না বন্ধ করে ঘুমাতে যা
এ কথা বলে তন্নির ভাই চলে গেলো।
তন্নি ও ভিতর থেকে রুম অফ করে দিলো।
আকাশ তন্নি কে ফিরিয়ে দিয়েছে।এটা তন্নি মানতে পারছে না।

সকাল হয়ে গেছে
তন্নি এখনো দরজা খোলছে না
তন্নির ভাই অনেকক্ষন দরজা ধাক্কালো।তন্নি কোন সাড়া দিলো না।
তন্নির ভাই সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢোকলো।
ভিতরে গিয়ে দেখে তন্নি ফ্যান এর সাথে ঝোলে আছে।
তন্নির ভাই এর মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরলো।
তারাতারি করে তন্নি কে নামালো।কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে।

তন্নি কেন এমন করল তা বাড়ির কেও কিছু বুঝতে পারছে না।
শুধু তন্নির ভাই বুঝতে পারলো কেনো তন্নি এমন করেছে।

পুলিশ এসে তন্নির লাশ নিয়ে গেছে।

তন্নির ভাই অনেক চেষ্টা করেও তন্নির লাশটা রাখতে পারেনি।

পোস্টমর্টেম করে  তন্নির লাশ নিয়ে পুলিশ এসেছে।

হেমা,আকাশ আর তন্নির অন্যান্য বন্ধুরা খবর পেয়ে তন্নির বাসায় আসলো।
কেও কিছু বুঝতে পারছে না।
আকাশ মনে মনে ভাবছে তন্নিকে ফিরিয়ে দেওয়াতে কি এমনটা করলো নাকি অন্য কোন কারণ?
হেমা এক দৃষ্টিতে তন্নির মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে আছে।হেমা কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।শুধু দুচোখ দিয়ে পানি পরছে।

হেমা তন্নির খুব ভালো বন্ধু হলে ও তন্নির বাসায় কখনো আসে নি।তাই কাওকে তেমন ভাবে চিনে না।
কাকে কি বলে শান্তনা দিবে তাও বুঝতে পারছে না।

তন্নির কবর দেওয়া হয়ে গেলে সবাই একে একে চলে গেলো।
হেমা, আকাশ ও ওদের বন্ধুরা ও চলে গেলো।

হেমা বাসায় গিয়ে মন খারাপ করে রইলো।কি থেকে কি হয়ে গেলো কিছুই বুঝতে পারছে না।
হেমা কিছুতেই তন্নির মৃত্যুর কারণ খুজে পাচ্ছে না।
তন্নিদের বাসায় কাওকে তেমন ভাবে চিনে না আর এমন অবস্থায় জিজ্ঞেস করা ও ঠিক হবে না ভেবে কাওকে আর জিজ্ঞেস করে নি হেমা।
আকাশ রাতে হেমাকে কল করলো।
হেমাঃআকাশ তুই কি তন্নির ব্যাপারে কিছু জানিস?
আকাশ কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললো না জানি না।
তন্নিঃশেষবার তো তোর সাথে কথা হইছে।তই জিজ্ঞেস করলাম।
আকাশ আর কিছু বললো না।কল রেখে দিলো।

কয়েকদিন পর……
হেমা কলেজে যাওয়ার জন্য বের হয়েছে।
একা একা কলেজে যাচ্ছে আর তন্নির কথা ভাবছে।কিছুদিন আগে ও যার সাথে বসে এক সাথে আড্ডা দিয়েছে, গল্প করেছে,হাসি ঠাট্টায় যার সাথে মেতে ছিলো আজ আর তার সাথে দেখা হবে না,কথা হবে না। কি করে চলবে তন্নিকে ছাড়া?
তন্নির মৃত্যুর রহস্য আজও হেমার কাছে অজানাই রয়ে গেছে।

তন্নির কথা ভাবতে ভাবতে হেমা রাস্তা দিয়ে অনেকটা বেখেয়ালে হাটছিলো।
এমন সময় হঠাৎ একটা গাড়ি হেমার সামনে এসে থামলো।
হেমা ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে গেলো।
গাড়ি থেকে একটা লোক বের হয়ে হেমা কে জোর করে গাড়িতে তোলে দিলো।
হেমা চিৎকার করতে যাবে এমন সময় লোকটা হেমার মুখে কি যেনো ধরলো আর হেমা অজ্ঞান হয়ে গেলো।

হেমার যখন জ্ঞান ফিরলো, দেখলো একটা লোক হেমার সামনে বসা।একটা পুরাতন বড় বাড়িতে হেমার হাত পা বাধা অবস্থায় রেখে দিয়েছে।
হেমা লোকটাকে কোথায় যেনো দেখেছে কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছে না।
হেমা খুব ভয় পেয়ে গেলো।
লোকটা কেমন ভয়ংকর ভাবে হেমার দিকে তাকিয়ে আছে।মনে হচ্ছে হেমাকে খুন করে ফেলবে।
এসব কি হচ্ছে হেমা কিছুই বুঝতে পারছে না।
হেমা ভয়ে ভয়ে লোকটা কে জিজ্ঞেস করলো
হেমাঃ কে আপনি? আমাকে এভাবে ধরে এনেছেন কেন?
হেমা আবার জিজ্ঞেস করলো আমি আপনার কি ক্ষতি করেছি?
লোকটা চুপ করে আছে।
হেমাঃআমি বাসায় যাবো।আমাকে বাসায় যেতে দিন।

লোকটা তখন উঠে হেমার কাছে আসলো।
হেমা ভয় পেয়ে গেলো।
আমার নাম তামিম।
নাম টা হেমার চিনা চিনা লাগছে।লোকটাকে ও।কিন্তু ভয়ে কিছুই মনে পরছে না।
হেমাঃআমি আপনাকে চিনি না।

তামিমঃআমি তন্নির বড় ভাই।

হেমা এখন চিনতে পেরেছে।তন্নির মেবাইলে তন্নির সাথে ছবিতে দেখেছিলো।কিন্তু তন্নিতো বলেছিলো ওর ভাই খুব ভালো একজন মানুষ।কিন্তু আজ কি দেখছে?
কোন ভালো মানুষ এমন করে একটা মেয়েকে তোলে আনতে পারে তা হেমার জানা ছিলো না।

হেমাঃভাইয়া আমাকে এমন করে তোলে আনার কারণ কি?
তামিমঃআমার বোন এর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে।
হেমাঃ তন্নির মৃত্যুর প্রতিশোধ!হেমা আজ ও জানে না তন্নি কেনো আত্মহত্যা করেছিলো?
অথচ ওর মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ওর ভাই হেমাকে তোলে এনেছে।
হেমাঃভাইয়া আমি তন্নির মৃত্যুর কারণটা আজ ও জানি না।আমি কি ভাবে ওর মৃত্যুর সাথে জড়িত? আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।
তামিমঃআমার কোন ভুল হচ্ছে না।

প্রেম কাহিনী – ২ এবং শেষ পর্ব

Now Reading
প্রেম কাহিনী – ২ এবং শেষ পর্ব

১ম পর্বের পর……………

” তুই জুনিকে সব খুলে বল? ”

“না ভাই কাল রাত অনেক  রাগা রাগি হইছে,বাদ দিয়ে দিছি সব।”

” চুপ……এটা কি মুখের কথা নাকি।তুই আগে জুনির সাথে তোর সব সমস্যার কথা খুলে বল।তারপর দেখ ও কি বলে |ও নিশ্চই কিছু বলবে। ”

“দেখি ভাই কি করা যাই।কিছুই ভালো লাগছে না আমার আর। ”

বলে রাখা ভালো, জুনি দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। জুনির বাবা মাস ২ হলো মারা গেছে।বাবা মরে যাওয়ার কষ্টটা এখনো ভুলতে পারছে না । এখন জুনিরা ওর ভাই এর বাসাই থাকে।আপন ভাই না মামাতো ভাই। তবে নাকি খুব ভালোবাসে । রুপক এর সাথে বিয়ে করার জন্যে জুনি পাগল।এর জন্যে ও অনেক মারো  খেয়েছে।তবুও সে তার রুপক কে ছাড়তে পারবেনা। রূপক ও জুনিকে কোনো ভাবেই হারাতে চাই না | কিন্তু এদিকে রুপক এরো এখন বিয়ে করা সম্ভব না।আমার মাথাই কোনো কিছুই কাজ করছে না রুপক কে আমি এখন কিভাবে সাহায্য করবো। তার একদিন পর হঠাৎ জুনি হুমকি দিয়ে বসলো ,যদি সে রুপক কে না পাই,তাহলে সে আত্তহত্যা করবে।

রূপক কি করবে এখন কিচ্ছু বুঝতে পারছেনা। খুব ভয় পেয়ে গেলো ও। ভয় পাওয়াটাই অবশ্য স্বাভাবিক |

এটা কোনো সিনেমার গল্প না ।এটা আমার ভাই রূপক এর সাথে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা। জুনি খুব জেদি আর রাগি ছিলো । সে যা বলে তাই করে।আর এদিকে আত্মহত্যার কথা শুনার পর তো রুপক অস্থির হয়ে উঠলো । এখন তার কি করণিয়। এদিকে জুনির মুখে আত্মহত্যার কথা শুনে জুনির বাসা থেকে রাজি হতেই  হলো । রাজি হলেও তারা কিছু শর্ত দিয়ে দিছে যে,কয়েক দিনের মধ্যেই রূপক এর বাসা থেকে জুনির বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে হবে এবং তাকে বিয়ে করতে হবে |কিন্তু রুপক এখন কিছুই করেনা।এসব আরো অনেক চিন্তা ঘুরতে থাকলো মাথাই |

” তুই বল ভাই এটা কি মুখের কথা নাকি যে বললাম আর হয়ে গেলো? ”

“জুনি কি বললো?”

“ওর সাথে ভালোভাবে কথা বলছি না । ”

“বলছিস না  মানে ?ও তোর জন্যে এতো কিছু করছে আর তুই  কিনা ওর সাথে কথা বলছিস না…”

“কি করবো তাইলে তুই বলে দে ??বুঝতে পারছিস তুই, আমি এখন পড়াশোনা ছাড়া আর  কিচ্ছু করিনা ।আর যদি বাসায় এখন এসব বলি তাইলে আমার পড়াশোনাটাও বাদ হয়ে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই । আর যদি পালিয়ে বিয়েও করি তাইলে আমি ওরে কি খাওয়াবো?”

“বুঝতে পারছি তোর ব্যাপার । কিন্তু তুই কি বলতে চাচ্ছিস তুই ওরে ছেড়ে দিবি ? থাকতে পারবি তুই ? আর তুই পারলেও ওর কি হবে একবার ভেবে দেখেছিস ?”

“হ্যা ভাই । কিন্তু কিছু করার নেই ।”

“কিছু করার নেই মানে, যা বলছি শোন…তুই আন্টি কে সব বল ,আর শেষে এটাও বলবি যে , তুই যদি  ওরে বিয়ে না  করিস তাইলে ও আত্মহত্যা করবে । তারপর দেখ আন্টি কি বলে । তবে আমার মনে হচ্ছে রাজি  হয়ে যাবে ।”

“সাহস হবে নারে আমার |”

“তাইলে আর কি ওরে বলে দে যে,তুই ওরে বিয়ে করতে পারবি না হয়ে গেলো ।”

“না ভাই আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারবো না।”

মানে তুমি সব দিকেই আছো ?তা করলে তো হবেনা ,যে কোনো একটা করতে হবে । আজ রাতে তুই আন্টিকে সব বলবি ঠিক আছে ?”

“আচ্ছা  ভাই দেখি কি করা যাই  “|

রাতে রুপক কে একটু হাসানোর চেষ্টা করলাম।জানি এটা সম্ভব না ,তারপরেও চেষ্টা করতে ক্ষতি কি ।তারপর  যা ভাবছিলাম তাই হলো | করতে গেলাম এক আর হলো আর এক ।কিন্তু ও সেটা না বুঝে রাগ দেখালো আমার উপর।কিন্তু কিছু মনে করতে পারলাম না আর যাই হোক আমার ভাই তো ।সে কেনো এমন করছে বুঝতে পেরেছি।

পরের দিন বিকেলে  যখন হাঁটতে বের হলাম তখন………..

” কিরে কথা বলেছিস আন্টির সাথে ?”

“হ্যা ভাই বললাম ,সব কিছুই বললাম আম্মুকে ।”

“কি বলল আন্টি ?”

“আম্মু কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর বললো,আমার কোনো আপত্তি নেই কিন্তু….তোর আব্বুকে কিভাবে বলবো ?উনি তো এমনিই অসুস্থ।আবার  এসব শোনার পর কি হবে তুই বুঝতে পারছিস ?আর কি পরিমান রাগ করবে ?তোর পড়া তো বাদ দিয়ে দিবেই সাথে কি হবে কে জানে…আর তুই তো ভালোই জানিস তোর বাপ্ ঢাকার কোনো মেয়েকে পছন্দ করেনা।এখন আমি কিছু  বললেও কাজ হবেনা উল্টা তোর জন্যে আমাকে বকা  খাওয়া লাগবে |”

আম্মু আপনি আব্বুকে একটু বুঝান ?”

“দেখছি কি করা যাই ”

“তাইলে  তো হয়েই গেলো। ”

“আরে আব্বু রাজি হবে না কোনোদিন “।

“আগে দেখ কি হয় ”

আর এদিকে তো জুনি খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিছে। কি করবো না করবো কেউ বুঝতে পারছি না। এখন আমরা শুধু আন্টির ফোন কলের অপেক্ষায় আছি ।

এর পরদিন রূপম আন্টিকে ফোন দিলো ….

“আম্মু.. আব্বুকে বলছিলেন ?”

“না বলতে পারিনি। তোর বিয়ে নিয়ে একটু কথা বলতেই যে রাগা রাগছে,তাতে করে আর সম্ভব না  । আর ওসব কথা বলা তো  ভাবাও যায়না। ”

“এখন কি করবো ভাই ”

“ভাবতে দে “|

“ভেবে আর কাজ নেই। এখন ওর সাথে সম্পর্ক  নষ্ট করা  ছাড়া আর কিছু করার নেই। একটু কষ্ট হলেও পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। ”

হঠাৎ করে ওই সময় জুনি ফোন দিলো।তারপর ওদের কথা শেষ হতেই  দেখলাম ওর মন খারাপ।

জিজ্ঞাসা করলাম …

“কি হইছে?”

“বাদ দে এসব চল চা খাই। ”

“আরে বলবি তো কি হইছে?”

“কি আর বলবে, বললো যে আমি ওরে এখনই বিয়ে করতে পারবো কিনা ?কিন্তু সেটা তো সম্ভব না।”

“তো তুই কি বললি?”

“কি আর বলবো,না করে দিলাম। বললাম যে আমি এখন এইভাবে বিয়ে করতে পারবো না।তারপর আমাকে কি বললো জানিস ?বললো আমাকে নাকি পরীক্ষা করছিলো ওর মা ,যে আমি যদি ওকে আসলেই ভালোবাসি  তাহলে নাকি বিয়ে করতে চাইবো । এটা কি কোনো কথা তুই বল?”

“তুই কি বললি ?”

“কি আর বলবো। ..বললাম তোমাদের যা ভাবার ভাবতে পারো।আমি এখন  বিয়ে করতে পারবো না। এই বলে ফোন রেখে দিলাম।  ”

“মন খারাপ করিস না ভাই। ”

“আজ রাতেই আমি ওর সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলবো ।আর যদি নষ্ট নাও করি তবুও ওর সাথে আমার বিয়ে কোনোদিন হবে না। শুধু শুধু এতো কষ্ট পেয়ে কি হবে বল?এর থেকে একবারে কষ্ট পাওয়া ভালো। জানি এর জন্যে হয়তো জুনির মনের ভিতর আমার জন্যে অনেক ঘৃণা জন্ম নিবে ,কিন্তু কিচ্ছু করার নেই আর। ”

“আমি আর  কিছু বলবোনা  তোকে, তোর যা ভালো মনে হয় তুই তাই কর। কিন্তু দেখিস খারাপ কিছু যেন  না হয় ?”

“আচ্ছা ও যদি সত্যি আত্মহত্যা করে আমি কি ফেঁসে যাবো ? ভয় করছে তো ভাই.. .”

“আরে কিসের ভয়? এসব কিচ্ছু হবে না। ”

এর ২ দিন পর শুনলাম যে রূপম আসলেই জুনির সাথে সম্পর্ক টা নষ্ট করে ফেলছে। ফেসবুকে ব্লক করে দিছে,,ফোন নাম্বার টাও ব্ল্যাক লিস্ট করে রাখছে । কিন্তু এসব করলেও রূপম আজও জুনি কে ভুলতে পারেনি। আজও রূপম প্রতি রাতে লুকিয়ে জুনির ছবি গুলো দেখে আর অঝোরে  চোখের পানি ফেলে।

আর ওদিকে জুনি কেমন আছে, না আছে  তার কিচ্ছু জানে না রূপম।

আজ ৩ মাস হয়ে গেলো ওদের আর কোনো যোগাযোগ নেই।

 

 

প্রেম কাহিনী – পর্ব ১ম

Now Reading
প্রেম কাহিনী – পর্ব ১ম

 

এটা কোনো গল্প না। এটা বাস্তব একটা ঘটনা।এটা আমার খুব খুব কাছের একটা ভাই এর  সাথে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা ।ঘটনাটা বলার আগে বলে রাখা ভালো আমি এখানে কারো নাম উল্ল্যেখ করবো না।

যাই হোক মুল ঘটনাটা বলি.. আমি যখন ঢাকা থেকে ফিরে এলাম তখন চিন্তা ভাবনা চলছিল আমি কোথাই ভর্তি হব? অনেক চিন্তা ভাবনার পর অবশেষে ভর্তি হয়েই গেলাম কোনো এক কলেজে।তারপর প্রশ্ন হলো আমি থকাবো কোথাই?নিশ্চই থাকার জন্য কোনো ম্যাস চাই।অবশেষে আমার প্রাণের ভাইরুপকএর কথা মনে পড়লো।তখন ওর সাথে ওর ম্যাস এই উঠে পরলাম। রীতিমতো প্রায় জোর করেই উঠে পড়ার মতো | সব কিছুই যেন খুব তাড়াতাড়িই হয়ে যাচ্ছিলো । আমি যেটা চাচ্ছিলাম সাথে সাথেই যেন পেয়ে যাচ্ছিলাম।এরকমই ঘটছিল ঠিক আমার সাথে |

 তার আগে বলে রাখি রুপক কেমন স্বভাবের ছিলরুপক এমনি একটা ছেলে ছিল ,যে কাওকে কিছু বলতে চাইতোনা তার কোনো কোথায় ।এমনকি প্রথম প্রথম আমাকেও বলতোনা। যদি কখনো কষ্টও পেত,তখন সেটা ও নিজের ভিতরেই রেখে দিতো।কিন্তু শত কষ্ট থাকা সত্তেও সে সবার সাথে হাশি খুশি থাকতো।কাওকে কিছু বুঝতে দিতো না।এটা ছিল ওর প্রধান সমস্যা। আরে আমিতো  তোর ভাই  আমাকে আন্তত সব কিছু বল।কিন্তু বলতো না।পরে আস্তে আস্তে অবশ্য বলত, কিন্তু সব কথা না। আমরা ছিলাম এক রুমে ৩জন।আমি,রুপক আর এক ছোট ভাই নামশুভ্র।রুমটা খুব একটা বড় ছিলোনা তারপরেও শুভ্র অনেক ভালো ছিল যার কারণে আমাদের এক রুমে থাকতে তেমন কোনো অসুবিধাও হতো না |

যাই হোক রূপক একটা মেয়েকে খুব ভালোবাসতো | সেটা অবশ্য অনেক পরে জানতে পারি । যার নাম ছিল জুনি।জুনি খুব ভালো মেয়ে ছিলো | কিন্তু তার ছিলো অনেক রাগ।শত রাগ থাকলেও সে তার রুপক কে কিন্তু ভিশন ভালোবাসতো।একটু কথা না বললে কেউ থাকতে পারতনা।এভাবে চলতে থাকে তাদের প্রেম । হঠাৎ তাদের মাথাই একদিন চিন্তা আসলো যে তাদের দেখা করা উচিত।কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ছেলে আর মেয়ে এক শহরে থাকতো না।মেয়ে থাকতো ঢাকা,আর আমরা থাকতাম খুলনা।দেখা করার জন্য অনেক টাকা দরকার।যাই হোক ভালোবাসার জন্যেই হইতো অনেক কষ্টে টাকা গুলো জোগাড় করা হলো।আমি আর আমার ভাই কিছু কেনাকাটা করলাম জুনির জন্য।তারপর টিকিট কাটা হলো,কিন্তু আমার একটা সমস্যার কারনে প্রিয় ভাই এর সাথে যেতে পারলাম না।ওদিকে জুনিও অনেক কিছুই কিনে রেখেছিল রুপক এর জন্যে।রুপক ঢাকা থেকে ফিরে এলো খুশি মনে।গিফট পেয়ে তো রুপক ভিষন খুশি।ওদিকে জুনিও ওনেক খুশি হয়েছে নাকি রুপক এর মুখেই শুনা। এভাবেই তাদের দিন চলতে লাগলো | এদিকে তাদের প্রেম দিন দিন যেন বাড়তেই আছে।মাঝে মাঝে তো তারা ভিষন রাগা রাগি করে।আবার ঠিক হয়েও যাই।আমিও মাঝে মাঝে একটু আকটু পিন মারতাম।আবার ওদের ঝগড়া ,যেনো খুব ভালই লাগতো।আমি সবসমই রুপক কে নাড়তাম ।ওরে না নাড়লে  আমার কিছুই ভালো লাগতো না । এখনো লাগেনা । যখনি রুপক জুনির সাথে কথা বলতো তখনি আমি চিল্লাইয়ে গান গাইতাম।যদিও আমি তেমন গাইতে পারিনা তবুও গাইতাম,ওই যে বললাম ওর নাড়াই  ছিল আমার কাজ। এভাবেই ওদের প্রেম চলতে লাগলো। আর এদিকে আমার শয়তানিও বাড়তে লাগলো।

এর অনেক দিন পর আমি ছুটিতে বাড়িতে গেলাম।যখন ফিরে এলাম তখন রুপক আগের মতই হাশি খুশি ছিলো । বিকেলে ২জন বাইরে বের হলাম একটা কাজের উদ্দেশ্য ।তখন হঠাৎ আমাকে আমার বউ ফোন দিল।যদিও বিয়ে করিনি তবুও সে আমার একমাত্র বউ ।তার নাম ছিল বৃষ্টি। ফোন ধরেই রাগা রাগি করলাম একটু।রাগা রাগির অবশ্য একটা কারণ ছিল |কথা শেষ করে ফোন রাখতেই দেখি রুপক আমাকে একটু বকলো ,তারপর আবার আমাকে বোঝালো যে ,আমি যেনো আর রাগা রাগি না করি।আমার মনে চিন্তা হতে লাগলো আজ রুপক এত এসব কেনো বলছে।ওরে ভালোভাবে জিজ্ঞাসা করতেই ও আমাকে যেটা শুনালো আমি মোটেও ওটা শুনার জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না | রুপক আর আমার কথা গুলো ছিলো এরকম….

 “ভাই জুনির সাথে আমার আর কথা হবে নারে। সব শেষ হয়ে গেলো ভাই। আমি কি করবো এখন?”

 “কি হইছে খুলে বল আমকে | টেনশন হচ্ছে কিন্তু আমার।

ভাই কাল রাতে ওর সাথে কথা বলার পর ওর  রাতে আর ম্যাসেজ গুলো ডিলেট করতে খেয়াল ছিলো না।ওর ভাই সব দেখে ফেলেছে।ওরে খুব মেরেছে ভাই।ফোন কেড়ে নিয়েছে।কি করবো আমি এখন? ওর সাথে আর কথা হবে নারে আমার।আমি আর থাকতে পারছিনা। কি করবো আমি এখন?সব শেষ আমার “|

তুই শান্ত হো ভাই।ও তরে আজ রাতে যেভাবেই হোক ফোন দিবে।আজ না হলে কাল ফোন দিবেই।আমার মন বলছে দিবে।তুই তো জানছ আমি যা  ভাবি তা কিছু হলেও ঠিক হই।

 হঠাৎ আমি খেয়াল করলাম নিজের অজান্তেই আমার চোখের এক কোণে কিছু পানি জমা হয়ে গেছে।ও কিছু বোঝার আগেই ওটা মুছে ফেলার চেষ্টা করলাম।২জন রুম এ চলে এলাম।মন খারাপ ২জনেরি।তবুও যেনো আমি একটু হাসানোর চেষ্টা করলাম রুপক কে।কিন্তু ওর সমস্যা হচ্ছে ওর কষ্ট শুনে যখনি আমি ওরে হাসানোর চেষ্টা করি ,ওরে হাসাই,ও ভাবে আমি আসলেই মজা করছি।ও বুঝতেই চাইনা যে আমি ওরে হাসানোর চেষ্টা করছি। যাতে ওর একটু ভালো লাগে | যাই হোক তারপর আস্তে আস্তে রূপক আর জুনির বেপারটা প্রায় ঠিক হয়ে গেলো | জুনির বান্ধবির ফোনে ফোন দিয়ে কল কনফারেন্স করে কথা বলত।এখন লুকিয়ে আবার আগের মতই কথা বলে।আগের মতো বললে ভুল হবে তবে কম।কিন্তু প্রাই প্রতিদিন।এভাবেই আবার চলতে থাকলো তাদের প্রেম। রুপক কে যেনো আমি এখন একটু বেশি জালাতন করি।ওরে কখনো চুপ থাকতে দেই না।নিজেও থাকিনা।

একদিন সন্ধাই ২জন হাটছিলাম আর চপ খাচ্ছিলাম ।হঠাৎ  করেই রূপক   বলে উঠলো..

 “আমাদের আর রিলেশন নেই রে.. “

মানে?রিলেশন নেই মানে কি হইছে বল এক্ষুনি?:

আগে রুমে চল তারপর বলছি।

না তুই এক্ষুনি বলবি,বল কি হইছে নাহলে কিন্তু রাগ লাগছে আমার রুপক,বল কিন্তু।

  “ভাই আজ জুনির ফুপ্পির সাথে কথা হলো আমার, ওরা আমার সাথে জুনির বিয়ে দিতে চাইনা। আমাকে বিয়ে দিবে যদি আমি ওর পুর ফ্যামিলিকে চালাতে পারি।তুই বল আমি এখন পড়াশোনা করছি তাইনা ? তো কিভাবে বিয়ে করবো আমি এখন।আর কিভাবে চালাবো আমি ওদের সংসার ।তাও বিয়ে নাকি খুব তাড়া তাড়িই করতে হবে ।

২য় পর্ব খুব শীঘ্রই আসছে…………………………………..

প্রেমের একটু গভীরে!

Now Reading
প্রেমের একটু গভীরে!

 

রাত ২ টা।

বৃষ্টি ঘুমহীন চোখে  বিছানায় গা-দুলিয়ে বসে আছে। অপেক্ষা শব্দটা তার মাইগ্রেনের ব্যাথা বাড়িয়ে দিচ্ছে। চয়নের ফোন ওয়েটিং। সকাল ৮টায় ক্লাস করবে বলে বৃষ্টি আজ ১২টার মধ্যেই ঘুমাবে এই পণ সে সেই সন্ধ্যা বেলাতেই করে রেখেছিলো। সময়ের সাথে সেই পণ হেরে গিয়ে এখন অসহ্য যন্ত্রনার মাথা ব্যাথার সাথে হাত মিলিয়েছে। তাদের নতুন আরেকটা পণ, আজ তাকে ঘুমোতে দিবেনা! বৃষ্টিও তাদের যৌথ মিশনের কাছে তাকে জিতাতে চায়না, বরং হেরে গিয়ে অসহ্য যন্ত্রনা কে সহ্য ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত করাতে চায়। কারন এটাও যে তার একটা বড় পণ, সে প্রতিরাতে চয়নকে শুভ রাত্রি বলেই ঘুমোতে যায়!

শেষবারের মতো কলটাও তাকে নিরাশ করলো। ওয়েটিং। ব্যার্থ প্রচেষ্টায় অপেক্ষার কাছেই সে হেরে গেলো । কাঙ্ক্ষিত জয়ের পথে পরাজয় বরন করে নেওয়ার একটা সুফলও রয়েছে বটে। অবাঞ্ছিত চোখের পানি। যা কষ্টগুলোর গভীরতা নির্নয় করে উত্তপ্ত নিউরন গুলোকে ঠান্ডা করে দিয়ে বিশ্রামে পাঠায়। বৃষ্টিও বিশ্রামে। তবে ঘুমের ফাকেও  তার অজান্তে অনুমতিহীন চোখের পানি গুলো গালের উপর সরলরেখা একে যাচ্ছে অনবরত!

রুপবতী মেয়েদের কান্নার পর রুপে এক ধরনের সরলতা চলে আসে। অবিরাম বৃষ্টির পর মেঘ মুছে আকাশের বুকে নিখাদ সরলতার যে নীল রেখা ফুটে উঠে একরকম ঠিক সেই সরলতা। এই সরলতা চোখের তৃপ্ততা বাড়ায়। আপাতত আয়না ছাড়া এ তৃপ্ততার ভাষা বুঝার মত বৃষ্টির আশেপাশে কেউ নেই। বৃষ্টির হয়তো ভালো লাগতো যদি আয়না মুখ ফুটে বলতে পারতো “বৃষ্টি তুমি খুব সুন্দর”! গ্রহের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটাকে প্রতিনিয়ত আমার মধ্যে ধারন করতে পারায় আয়না সমাজ আজ আমাকে নিয়ে গর্বিত। আমাদের সমাজে সুযোগ পেলেই সকল আয়নারা আমাকে নিয়ে যার যার অবস্থান থেকে আনন্দ মিছিল করে, উচ্ছ্বাসের বৃষ্টি নামায়! মিছিলের স্লোগান হয় “ধন্য মোরা ধন্য, বৃষ্টি তোমার জন্য”! বৃষ্টি চুপচাপ। বোবা আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখে ৮ টায় ক্লাস মিস করার ব্যর্থতার বেদনায় কেমন ঘাবড়ে যাচ্ছে। কতদিন ক্লাস করা হয়না!

আজ তার একটা বড় কাজ। চয়ন শেষ রাতে মেসেজ দিয়ে রেখেছে। সে আজ দেখা করতে চায়। তাই সে আজ সাজবে। ঠিক চয়নের পছন্দের সাজে। নীল শাড়ীতে ঠোটে হালকা লাল রঙের লিপস্টিক। কপালে একটা মৃদু টিপ। চুল গুলোকে খোলা রেখে হাতে নীল রঙের চুড়ি। কানে ছোট করে ইচ্ছে রঙের এক জোড়া দুল। তাদের প্রথম দেখায় বৃষ্টি ঠিক এভাবেই সেজে গিয়েছিলো। চয়ন সেদিন কোন কথা না বলে টানা ৩০ মিনিট বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিলো। বৃষ্টিকে অবাক করে দিয়ে ৩০ মিনিট পর চয়ন কথা বলেছিলো তাও আবার রবি ঠাকুরের কবিতা দিয়ে,

“তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি

শত রূপে শত বার

জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।

চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়

গাঁথিয়াছে গীতহার,

কত রূপ ধরে পরেছ গলায়,

নিয়েছ সে উপহার

জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার”।

কবিতাটা এখনও তার মনে গেঁথে আছে। সাথে সাজটাও!

বর্ষার আকাশে ঘন কালো মেঘ। ঘন মেঘের মিছিলের ভীরে সূর্যটাও যেন হারিয়ে গেছে কোথায়। তাই বাধ্য হয়ে বিকালটা আলো হারানোর পথে। আঁধার অনেকটা ছেয়েছেয়ে ঝেঁকে বসেছে সবকিছুতে। বিকেলের আবছা অন্ধকারে বৃষ্টি ও চয়ন দুজন মুখোমুখি দাড়িয়ে। দেখে বুঝার উপায় নেই তারা একে অপরকে চিনে অনেকদিন। প্রায় ৭২২ দিন! মনে হচ্ছে আচমকা রাস্তায় ধাক্কা খেয়ে অপরিচিত দুইটা মানুষ প্রবল বিরক্তি নিয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে। যেকোন মুহূর্তে কেউ একজন অন্যজনের দিকে দোষের আঙুল তুলে প্রবল জোড়ে একটা ধমক দিবে!

অথচ এমনটা কখনো হয়নি। বৃষ্টি ও চয়নের দেখা করার একেকটা দিন ছিলো ডায়েরিতে লিখে রাখার মত বিশেষ দিন। বৃষ্টি লিখেছেও! প্রথম দেখার পর বৃষ্টি ডায়েরিতে কি যে সব হাবিজাবি লিখেছিলো। তার মনে হয়েছিলো হাবিজাবি। অবশ্য লেখার পর প্রতিটা লেখকেরই সে লেখাকে হাবিজাবি মনে হয়। তবে কি বৃষ্টি সেদিন দিন থেকেই লেখিকা হয়ে গিয়েছিলো? ডায়েরি লেখিকা বৃষ্টি সেদিন লিখে ছিলো, “ছেলেটা কেমন বোকার মত তাকিয়ে ছিলো! একনাগারে যেভাবে তাকিয়ে ছিলো আমিতো ভেবেছিলাম বোবা নাকি! তবে তার তাকিয়ে থাকার মধ্যে কি যেন একটা ছিলো। সে একটা কিছুর মধ্যে আমি নিজেকে খুজে পাচ্ছিলাম অদ্ভুত ভাবে। আমার প্রতিটা হার্টবিট যেন তীব্র আরাধনা আর সাধনায় খুজে পাওয়া ভালোবাসার গান করছিলো। আমার ধম বন্ধ হয়ে আসছিলো তার মুখ থেকে শুধু একটা শব্দ শোনার জন্য। অথচ ছেলেটা কেমন টপটপ করে আস্ত একটা কবিতা বলে ফেললো! আমারতো কবিতা পছন্দ নয়। তবে এ কবিতায় আমার শান্ত হৃদয়ে হঠাত যে অশান্ত ঝড় বয়ে এনে দিলো তার নামই কি তাহলে প্রেম? বুঝার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ছেলেটা যখন আলতো করে আমার আঙুল ছুঁয়ে দিলো আমি যেন প্রবল ধাক্কায় কোন অতল সমুদ্রে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে আচমকা পড়ে গেলাম। মনে মনে প্রার্থনা করে নিলাম, আমি এই সমুদ্রটাকে চাই। এখানে ডুবে থাকতে চাই। তলিয়ে যেতে চাই ভালোবাসার ওজনে। ছেলেটা এইভাবে আঙুলে আঙুল চেপে ধরে রাখবে তো আমায়? সব সময়, সারাজীবন! আচ্ছা আমি ওকে বারবার ছেলে বলছিলো কেনো? তারতো একটা নাম আছে। আমি চয়ন নামের এই ছেলেটাকে ভালোবাসি!”

আরেকদিন কি হলো, এক টিপটিপ বৃষ্টির দিন বৃষ্টির খুব মন চাচ্ছিলো একটা কদম ফুল তার খোঁপায় গেঁথে রাখতে। চয়ন সেদিন সারাবেলা হন্য হয়ে শহর জুড়ে কদম ফুল খুজে বেড়িয়েছিলো। পায়নি। ভিজে ভিজে কাঁক ভেজা হয়ে কদম না নিয়ে এসেছিলো বৃষ্টির কাছে। তার চেহারায় সে যে কি ভয়! কদম না আনায় বৃষ্টি যদি রাগ করে কিংবা মন খারাপ কিংবা অভিমান করে তখন সে কি করবে? ভয় চেহারায় কাঁপা হাতে সে একটা কাগজ তুলে দিলো বৃষ্টির হাতে। পেন্সিল দিয়ে সেখানে আঁকা ছিলো একটা কদম ফুল! চয়ন চুপসে যাওয়া ভীতু কন্ঠে বলে উঠলো, প্লিজ রাখো? আমি গাছের কদম ফুল পাইনি। তাই তোমার জন্য হৃদয় দিয়ে কদম ফুল এঁকে এনেছি। এটা আমার হৃদয়ের কদম ফুল! বৃষ্টি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো চয়নের দিকে। বৃষ্টি ভাবে এই ছেলেটা এমন কেন? কেমন পাগল! সে রাতে সারারাত বৃষ্টি পেন্সিলে আঁকা কদম ফুল বুকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলো। তারপর সেই তারিখের গল্পটার সাথে আঁকা কদম ফুলটাকেও ডায়েরিতে আটকে দিয়েছিলো খুব যত্ন করে।

ডায়েরিতে যায়গা পাওয়া এমন অসংখ্য গল্পের চিরচেনা সঙ্গী চয়নের সামনে বৃষ্টি দাড়িয়ে আছে এক অচেনা দৃশ্যপটে। নিরবতা ভেঙ্গে হঠাত চয়নের শব্দ!    

– আমাকে ক্ষমা করে দিও বৃষ্টি!

– তোমার অপরাধ?

– তুমি মনে হয় এতদিনে ধরতে পেরে গেছো!

– কিন্তু তোমার অপরাধ নিয়েতো আমার মনে কখনো কোন প্রশ্ন তুলিনি। তাহলে ক্ষমা শব্দটা কেনো আসবে?

– কারন তোমার এমন নির্লিপ্ততাও আজ আমার ভালো না লাগার অংশ।

বৃষ্টি হাসে। বৃষ্টি কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে চায়। ভালোবাসার দোহাই দিয়ে চয়ন যেদিন তার পুরো শরীর চষে বেড়িয়েছিলো ঠিক সেদিন থেকেই বৃষ্টি নির্লিপ্ত। সেদিনের পর থেকে চয়নকে আর আগের মতো করে এক মুহূর্তের জন্যেও সে পায়নি। ঠিক যে চয়নে সে অভ্যস্ত, যে ভালোবাসায় সে তটস্থ। তারপর থেকে যেনো চয়নের কাছে বৃষ্টি চরম এক অবহেলার নাম, অনাকাঙ্ক্ষিত কিছুর নাম। তবে কি নিজেকেই সপে দেওয়া ছিলো তার জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধ? চয়নের শারিরীক চাহিদার জোরাজুরিকে ভালোবাসার সাথে এক করে ফেলাই কি ছিলো তার জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধ? সেতো চয়নকে ভালোবেসেছিলো। একান্ত নিজের মনে করে ভালোবেসছিলো। তবে একান্ত নিজের ভেবে ভালোবাসাটাই কি জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধ? তার নিজের উপর প্রচন্ড ঘৃনা হয়। ঘৃনা আর ক্ষোভে ঝলসে যাওয়া বৃষ্টি শেষবারে মত আওয়াজ করে,

– সত্যিই চলে যেতে চাও?

– হ্যা। এখন, এই মুহূর্তে সব কিছু শেষ করতে চাই। পারলে ক্ষমা করো।

বৃষ্টি কি ক্ষমা করবে চয়নকে? অথবা নিজেকে? দুটি মানুষ দুটি পথের অভিমুখী। ফিরে তাকানোর তীব্র বাসনায় মন ছিঁড়ে গেলেও ইগোর স্বৈরশাসনে বৃষ্টি আপন পথে অনড়। আকাশটা কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। এতক্ষনের একটু থাকা আলো গুলোও কেমন অন্ধকারে এক হয়ে যাচ্ছে। বজ্রপাতের উজ্জ্বলতা খানিকের জন্য চোখ ছুঁয়ে গেলেও সেই উজ্জ্বলতা মন অবধি পৌছায়না। বরং আঁধারের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।  বৃষ্টি হচ্ছে। ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টিতে বৃষ্টি ভিজে যাচ্ছে। প্রকৃতির নিদারুন খেলায় এক বৃষ্টি মেঘ থেকে ঝরে পড়ার আনন্দে অশ্রু ঝরায় অন্য বৃষ্টি মন ভাঙ্গার বেদনায় অশ্রু লুকায়। মিতার বন্ধনে আবদ্ধ একমাত্র এ বৃষ্টিরাই জানে খবর, জগতের এ ভালোবাসার খেলায় কে কার কতটা আপন কিংবা পর!

*****************

 

একটি আবেগশূন্য টাকার মেশিন

Now Reading
একটি আবেগশূন্য টাকার মেশিন

জীবিকার তাগিদে মানুষ কত কি না করে। কত রকম পেশা বেছে নেয়। কেও ইচ্ছা করে আবার কাওকে এই সমাজ বেছে নেয় তার কাজ করার জন্য। সবাই চায় তার জন্য ভালোটা। আমিও চেয়েছিলাম। এই সমাজের খাতায় আমি একজন ব্যর্থ মানুষ। আমাকে আর প্রয়োজন নেয় আমার স্ত্রী অথবা সন্তানের। দীর্ঘ ৫৯ বছর ধরে আমি এই পৃথিবীতে বেঁচে আছি আর নিরলসভাবে পরিবারের কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু কখনো তাদের থেকে পরিপূর্ণ কিছু পাই নি। আমি এখন বসে আছি কোন এক ব্রিজের উপর। উদ্দেশ্যঃ লাফ দেয়া।

আমার বয়ষ যখন ২০/২২ তখন আমি জীবিকার তাগিদে চলে যাই এক আরব কান্ট্রিতে। খুব সামান্য বেতনে চাকরি করতাম। বলতে গেলে আমার খরচের পর খুবি সামান্য পরিমানে কিছু থাকতো। তারপর ৭ বছর পর যখন কিছুটা সচ্ছল হলাম তখন দেশে আসলাম। সবাই জোর করে বিয়ে করিয়ে দিলো। বললো, নাহলে আর দেশে আসবো না। কিন্তু আমি তাদের বুঝাতে পারিনি যে আমার বেতনে নিজের ই চলে না। যাইহোক বিয়ে করলাম। বিয়ের ১৭ দিন পর আমার চলে যেতে চলো জীবিকার তাগিদে। যাওয়ার কিছুদিন পর জানলাম আমার স্ত্রী মা হতে চলেছে। ব্যাপার টা খুব সুখকর ছিলো আমার জন্য। ডেলিভারি এর সম্ভাব্য একটা মাস অনুমান করে আগেই ছুটির অবেদন করে রাখলাম। কিন্তু আমিযে প্রবাসী। প্রায় জোর করেই ছুটি নিতে হলো আমাকে।

চলে আসলাম দেশে। দেশে আসার ১ মাস পর আমার প্রথম মেয়ে হলো। খুব আনন্দেই যাচ্ছিল দিন গুলো। এদিকে আমার স্ত্রীর বায়না যেনো দিন দিন বেড়েই চলছিলো। এইটা ঐটা। বিদেশ গেলেই নাকি এত্ত এত্ত টাকা পাওয়া যায়। তো, তার কিছুদিন পর আমি গেলাম এম্বাসি। আমার ছুটি আর কিছুদিন বাড়ানোর জন্য। গিয়ে যা জানলাম তাতে আমার হাত মাথায় চলে এলো। আমি যে জোর করে ছুটি নিয়ে এসেছিলাম, তারা আমায় ছুটি তো দিয়েছে কিন্তু একেবারে। আমাকে কোম্পানী থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমি অনেক চেষ্ঠা করলাম, ওদিকে অনেক বন্ধুদের সাথে কথা বললাম। আমার স্যারদের অনেক মিনতি করলাম কিন্তু কেও কিছু করতে পারলো না।

ফলে, আমি চাকরিহীন এক সন্তাদের বাবাতে পরিনত হলাম। যার কাধে তার সন্তান, স্ত্রী, বৃদ্ধ বাবা-মা এর সমস্ত দায়িত্ব এসে পরলো। পড়ালেখার দৌড় বলতে ছিলো ৯ ক্লাস। ফলে কোথাও কোন ভালো চাকরি পেলাম না। অবশেষ অনেক খুঁজে, এক অফিসের বয় এর কাজ পেলাম। আমার কাজ তাদের চা এনে দেওয়া আর এইটা সেইটা কাজ করা। আমার মতন একজনের জন্য চাকরিটা তেমন সুবিধার না, কিন্তু আমাকে করতে হলো। ওদিকে আমার স্ত্রীর সারাদিন এইটা সেইটা বায়না। নানান কথা শুনতে হয় তার থেকে। কাছেও ঘেষতে দেয় না। আমার মেয়েটাকেও আমার কাছে আসতে দেয় না। বলে কি পোড়াকপালের সাথে বিয়ে হলো। এক মেয়ে জন্ম দিয়েই ঘড় শুদ্ধ মানুষ পথে বসতে বসেছে। এদিকে চলে গেলো অনেকগুলো বছর। মেয়ে বড় হচ্ছে। ওর জন্য কিছু জমানো দরকার। এদিকে সংসার ও চলে না তেমন। বাবা-মা মারা গেছে অনেকদিন হলো। জীবনে কারো জন্য কিছু করে যেতে পারবো না। দিন রাত এক করে দিচ্ছি আমি এই সংসারটাকে টিকিয়ে রাখতে।

মাঝে মাঝে দেখি স্ত্রী খুব গভীর রাতে বাসা থেকে চুপিসারে বেড়িয়ে যায় আর ফিরে সেই সকাল বেলা। সেদিন হাতে মোবাইল দেখে আমি চমকে উঠি। যেই বাসায় তিন বেলা খাবার জোটাতে কষ্ট হয়, সেই বাসায় মোবাইল। জিজ্ঞাস করাতেই ঝগড়া বেধে গেলো। শুনতে হলো হাজারটা কথা। এভাবেই চলে যাচ্ছিলো দিন। হটাৎ একদিন বাসায় এসে দেখি স্ত্রী বাসায় নেই। জিজ্ঞাস করে জানতে পারলাম দুপুরে বাসা থেকে বের হয়েছে। সব থেকে দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে ওর হাতের মোবাইলের নাম্বার আমার কাছে ছিলো না। পর পর ৩/৪ দিন চলে গেলো। নিকট আত্নিয় সকলের সাথে যোগাযোগ করেও কোন ফল হলো না। ধরে নিয়েছিলাম, হয়তো কোথাও আছে সেখানে এই যায়গা থেকে সুখে থাকতে পারবে।

বাবা মেয়ে মিলে কেটে যাচ্ছিল দিনগুলো। মেয়েটাও কেমন জানি স্বার্থপর এর মতন করে। কথার উত্তর দেয় না। কি করে কোথায় যায় কিছুই বলে না। জিজ্ঞাস করলে উলটা পালটা কথা বলে। ফলে আমিও আর এখন জিজ্ঞাস করি না। একদিন রাতে মেয়েটা বাড়ি ফিরলো বমি করতে করতে। বার বার বমি করছিলো। হাসপাতালে যে নিবো সেই শক্তিটাও যেন নেই আমার। পরে আশে পাশের সকলে মিলে বাসা থেকে এক সরকারী হাসপাতালে নিয়ে গেলাম মেয়েটাকে। ডাক্তার পরীক্ষা করে জানালো মেয়াদবিহীন ড্রাগস নেয়ার কারনে এই অবস্থা। খুব শিগ্রই পেট ওয়াস করাতে হবে। নাহলে খুব খারাপ কিছু হবে। কিন্তু যেহেতু এইটা ড্রাগস নিয়ে তাই পুলিশ কেইস। আর পুলিশ কেইস এ তারা পুলিশের পার্মিশন ছাড়া রোগী ধরবে না। এদিকে আমার মেয়ের অবস্থা খারাপ হতে লাগলো। মেয়েকে হাসপাতালে রেখেই ছুটে গেলাম পুলিশের কাছে। কিন্তু তারা নানান টালবাহানা শুরু করলো। এত রাতে যাওয়া যাবে না। মেয়ে কি করেছে, কার সাথে ছিলো এইটা সেইটা। পরে তাদের বহন খরচ দাবী করলো। কিন্তু আমার কাছে ছিলো ৩০০০ টাকার মতন। সেখান থেকে ১৮০০ দিলাম পুলিশকে। তাদের নিয়ে আসতে আসতে ফজরের আযান দিয়ে দিলো। এসে দেখি আমার মেয়ে আর কথা বলে না। ডাক্তার ঘোষণা দিলো মাঝ রাতেই মারা গেছে। আর আমি চলে যাবার পর কেও ফিরেও তাকায় নি আমার মেয়েটার দিকে।

বাকি টাকা দিয়ে মেয়ের দাফন করলাম। কি অদ্ভুত তাই না? দিনের আলোয় ছিলো আমার মেয়ে, হাসপাতালে নিলাম আর হয়ে গেলো রোগী, মৃত্যুর পর হয়ে গেলো লাশ। মেয়েকে দাফন করে এই ব্রিজে চলে এসেছি। আমার আর কিছুই নেই এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার। একটা বাবার কাছে সব থেকে কষ্টের কাজ হলো তার সন্তানের লাশ বহন করা। আমি সেই কাজটাও করেছি। এই পৃথিবীতে আজ আমি ক্লান্ত। আমার কিছুই নেই। কিছু নেই….