Boss 2 : BACK TO RULE : বস যখন সত্যিই বস

Now Reading
Boss 2 : BACK TO RULE : বস যখন সত্যিই বস

বস-২ ছবিটি  ভারত বাংলাদেশর যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র। এটির গল্প সম্পূর্ণ মৌলিক, যার লেখক জিৎ নিজেই।এটি একটি ক্রাইম থ্রিলার ছবি। এটি ২০১৩ সালে মুক্তি প্রাপ্ত বস ছবির দ্বিতীয় অংশ। ছবিতে অভিনয় করেছেন জিৎ , শুভশ্রী গাঙ্গুলী, নুসরাত ফারিয়া মাজহার, ইন্দ্রনীল সেঙ্গুপ্ত , অমিত হাসানসহ আরো অনেকে। এই ছবিটি নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হলেও আমরা সে ব্যাপারে না কথা বলি। আমরা দর্শক হিসেবে ছবিটিকে উপভোগ করব। বস ২ ছবিটি নিয়ে কথা বলতে গেলে যে বিষয়গুলো চলে আসে তার মধ্যে সবচেয়ে প্রশনংশনীয় হলো জিতে অভিনয়।

জিতের অবদান : পুরো ছবিতে জিৎ এর অভিনয় ই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। বস ২ ছবিতে বস এর চরিত্রে বস এর মতোই সে অভিনয় করেছে।  তার অভিনয়ের মাধ্যমে সে অ্যাকশন, স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য আর ভালোবাসার স্পর্শ দেয় দর্শকদের।পুরো  ছবিতে নিজের এটিটিউড, ব্যক্তিত্ব, ওজন বজায় রেখে অভিনয় করেছেন।জিৎ এমনিতেও ইন্ডস্ট্রিতে অনেক সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ। তার অভিনয় দর্শকদের কে আকর্ষণ করার মতোই ছিলো।জিৎ এর  ফাইটিং স্কিল অনেক ভালো ছিল। মারামারির দৃশ্যগুলো উনেক চমকপ্রদ।গাড়ি চালিয়েই হোক, কিংবা বাইক সওয়ারি হয়ে। ‘বস’ জিৎ অ্যাকশনের ঝাঁজে এবার অ্যালান আমিনের হাত ধরে দর্শকের মুখ থেকে উরিব্বাস, আরে ব্বাবা এবং হাততালি দুটোই প্রতি মিনিটে কুড়িয়ে নিয়েছেন। পুরো ছবির প্রায় প্রতিটি ফ্রেমেই সূর্য উপস্থিত, ঠিক পৃথিবীর মতোই। বেশিরভাগ দৃশ্যগুলো ধীর করে দেখানো হয়েছে ব্যাপারটা একটু অন্য রকম লাগছে । বলতে গেলে ভালোই লেগেছে । ইতোমধ্যে বলেছি কাহিনীর লেখক জিৎ নিজেই এবং এই ছবির মধ্য দিয়ে জিৎ তার জিতজ পিভিটি লিমিটেড এর যাত্রা শুরু করে ।

অভ্যন্তরীন বিষয়াবলী ঃ ছবির সিনেমাটোগ্রাফি অনেক ভালো লেগেছে বলতে গেলে নিখূত। ডিরেক্টর ছবির দৃশ্যগুলোকে সঠিক ভাবেই উপস্থাপন করেছেন। ডিরেক্টর হিশেবে ছিলেন বাবা ইয়াদাভ। সে অনেক দক্ষ একজন ডিরেক্টর সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। আল্লাহ মেহেরবান গানটিকে ইয়ারা মেহের বান এ রুপান্তর করা হয়েছে। ছবির এডিটিং সম্প্রর্কে যদি বলা হয় তাহলে বলব এখন কার বাংলা ছবিগুলো যেগুলো জাজ মাল্টিমিডীয়া লেবেল থেকে বের হচ্ছে সেগুলোর এডিটিং নিয়ে সমালোচনা করার কিছু নেই। ছবিতে মূল নায়িকা হিশেবে শুভস্রী ছিলেন । যদিও নায়িকার চরিত্রের প্লটগুলো তেমন গূরত্বপূর্ণ ছিলো না তারপর ও ভালোই করেছে শুভস্রী। তবে যদি এই ছবির সবচেয়ে দূর্বল দিকটার কথা যদি বলতেই হয় তবে এই নায়িকা চরিত্রের কথাই বলব। ছবিতে বাংলাদেশের দৃশ্যগুলোর মান অনেক ভালো ছিলো। বাংলাদেশকে অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়েছে। সিএঞ্জি এর একটি দৃশ্য থাকে।

যে কারণে দেখবেন বস ২ ঃ
১। বস ২ আপনাকে অণুপ্রেরণা দিবে আপনার নিজের কর্মস্থানে সবচেয়ে ভালো করার জন্য।
২।মানুষের জন্য কিছু করার অনুপ্রেরণা পাবেন।
৩।ফাইটিং এ পাবেন অসাধারণ কিছু দৃশ্য।
৪। বাংলা ছবির উন্নতি দেখুন
৫।বস ২ এর ডায়ালগ গুলো ছিলো রোমাঞ্চকর। সেইরকম উপভোগ করার মতো।

বস ২ এর ট্রেইলার যারা দেখে যা ভাবছেন আপনার ধারণাকে সম্পূর্ণ ঘুরে যেতে পারে ছবিটি দেখলে। অনেক বড় রকমের মোড় রয়েছে কাহিনীতে। আপনি প্রথম দিকে ছবির যা ভাববেন সেই ধারণাকেও ছবির শেষে পাল্টে দিবে। ছবিটি শুধু আপনার ধারণাকে পাল্টেই ক্ষান্ত হবে না এটি আপনার ভিতরের সূর্যকেও জাগিয়ে তুলবে।

বস ২ এর কিছু ডায়ালগ ঃ বেশির ভাগ ডায়ালগ ই ট্রেইলার এ আছে। যেমন – ‘আমি একবার বলি আর একশ বার বলে মানে টা এক ই ,  ‘ কালকে যখন সূর্য উঠবে তোমার পাশে নতুন সূর্য কে পাবে’ , ‘ তুই যদি শনি হস আমি শনির বাপ সূর্য’ , ‘স্বপ্ন পূরণ করাটা লক্ষ্য নয় লক্ষ পূরণ করাটা স্বপ্ন হওয়া  উচিত।’ এরকম অনেক ডায়ালগ দিয়ে হলের দর্শকদের রোমাঞ্চিত করেছেন জিৎ। 

বস ২ এর গান ট্র্যাক ঃ বস ২ এর মোট ৩ টি গান বের হয়েছে জনপ্রিয় ভিডিও সাইট ইউটিউব এ । সেগুলো হলো উরেছে মন, বস ২ টাইটেল গান এবং ইয়ারা মেহেরবান। ইয়ারা মেহেরবান প্রথমে আল্লাহ মেহেরবান নামে প্রকাশিত হয় পরে অনেক সমালোচনার পর গানের শিরোনাম ও গানেও কিছু পরিবর্তন করে ইয়ারা মেহেরবান ইউটিউব এ প্রকাশ করা হয়। উএছে মন গানটির অনেক প্রশংসা শোনা যায় লোকমুখে। গানটি বিখ্যাত গায়ক অরিজিত সিং এর গাওয়া।অসম্ভব রোমান্টিক গানটিতে সাগরের মুগ্ধ করা দৃশ্যের সাথে শুভস্রী ও জিতকে দেখা যায়।

বস ২  ছবিটির নির্মাণ ব্যয় ৬.৫০ কোটি প্রায় এবং প্রথম দশ দিনে এটি ২.১৫ কোটি টাকা আয় করেছে। আশা করা যাচ্ছে বস ২ ভালোই ব্যবসা করবে। প্রথম দিনে এর আয় ছিলো সাড়ে ৩৭ লক্ষ টাকা।

 

যাদের থ্রিলার পছন্দ তাদের জন্য একদম সঠিক ছবি এটি।আশা করি সবাই হলে গিয়ে বাংলা ছবিগুলো দেখার চেষ্টা করবেন। একটা সময় ছিলো বাংলা চলচ্চিত্রের যখন নতুন ছবি রিলিজ পেলে হল কর্তৃপক্ষ হলে দর্শকদের জায়গা দিতে পারতেন না। টিকেট কাউন্টার এ ভিড় জমে যেত , রাস্তায় চলে আসত টিকিট কাটার লাইন। কিন্তু মাঝে আমাদের এই সোনালী সময় মাঝে ছিল না  কিন্তু আমরা আবার সেই সোনালী আমল ফিরে পেতে চলেছি। এখন আবার ছবি হলের সামনে  ভিড় দেখছি। মানুষ টিকেট কেটে ছবি দেখছে। আসুন আমরাও হলে গিয়ে ছবি দেখি এবং বাংলা চলচ্চিত্রকে বাচিয়ে রাখি।

ভারতীয় সিরিয়াল : বিনোদন নাকি অপসংস্কৃতি?

Now Reading
ভারতীয় সিরিয়াল : বিনোদন নাকি অপসংস্কৃতি?

সন্ধ্যা হতে না হতেই প্রায় প্রত্যেক বাড়িতে মহাসমারোহে ভারতীয় সিরিয়াল দেখার উৎসব শুরু হয়ে যায়। এর পরে আর কোনও থামাথামি নেই। একবারে রাত ১০টা অথবা ১২টা পর্যন্ত চলে এইসব সিরিয়াল। আর মিস হয়ে গেলে? দিনভর পুন-প্রচার তো আছেই। মাঝে মাঝে এই সিরিয়ালের জন্য তো বাংলাদেশের খেলাও মিস হয়ে যায়। এটিকে এখন বিনোদন না বলে নেশার সামগ্রী বললে খুব একটা ভুল হবে না। অনেক বাড়িতে অশান্তির অন্যতম কারণ এই সিরিয়াল। নারীপুরুষ নির্বিশেষে সবাই এই সিরিয়াল দেখলেও মহিলারাই যে বেশি দেখেন এ নিয়ে দ্বিমত নেই এবং থাকার কথাও না।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই সিরিয়াল আসক্তির সূত্রপাত কোথা থেকে? আমরা যদি একটু পিছনে ফিরে তাকাই তাহলেই ব্যাপারটি ভালভাবে বুঝতে পারব। বাংলাদেশে যখন প্রথম টিভি এসেছিল তখন আমরা একটিমাত্র চ্যানেল দেখতাম। সেটি হল বিটিভি। সেই সময় আমরা প্রায় সবাই বিটিভির প্রায় প্রত্যেকটি অনুষ্ঠান অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে দেখতাম। অনুষ্ঠানের মান নিয়েও কোনও প্রশ্ন ছিল না। এরপর আস্তে আস্তে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো প্রতিষ্ঠিত হল এবং আমরা আরও কিছু চ্যানেল দেখার সুযোগ পেলাম। পরবর্তীতে একটি ভারতীয় টিভি চ্যানেল ডিশ লাইনে যুক্ত করা হল(নাম উল্লেখ করছি না) । এরপরেই মূলত দেশী-বিদেশী নানান ধরণের চ্যানেল আমরা পেলাম। এর মধ্যে শিক্ষণীয় অনেক চ্যানেল ছিল এবং এখনও আছে। তবে সেসব ছেড়ে এবং দেশী চ্যানেলগুলোকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশের মানুষ বেছে নিলেন ভারতীয় বাংলা এবং হিন্দি চ্যানেলগুলো, যেসব চ্যানেলের মূল সম্প্রচারই হল বেশ কিছু মেগা-সিরিয়াল। অর্থাৎ ভারতীয় সিরিয়াল দেখার রেওয়াজ এক দু-দিনে নয় বরং বেশ কিছুকাল যাবত তৈরি হয়েছে। কেন দেশী বিনোদন মাধ্যমগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হল? এর কারণ হিসেবে বাংলাদেশের দর্শকরা যা উল্লেখ করেন তা হচ্ছে – ভারতীয় সিরিয়ালগুলোতে বিজ্ঞাপন বিরতি অনেক কম দেওয়া হয়। অবশ্যই এটি একটি যুক্তিযুক্ত কারণ। কেননা আমরা সকলেই দেশী চ্যানেলগুলোর দীর্ঘ বিজ্ঞাপন বিরতি সম্পর্কে অবগত আছি। নাটক দেখানোর সময় তো দূরে থাক, খেলা দেখানোর সময়ও মুক্তি মেলে না।

এবার আসি অনুষ্ঠান এর মান নিয়ে। বাংলাদেশের নাটক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা নিয়ে পূর্বে কোন প্রশ্নই ছিল না। হুমায়ুন আহমেদসহ অনেক ভাল নাট্যকার ছিলেন যারা অসাধারণ সব নাটক উপহার দিয়েছেন। এখনও ভাল নাটক তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে। বিশেষ করে ঈদের সময় যেসব নাটক আমরা দেখতে পাই তার বেশীরভাগই ভিন্ন ধারার এবং চমৎকার। কিন্তু ইদানীং কালে বাংলাদেশের বেশ কিছু নাটকে ভারতীয় সিরিয়ালের ছায়া দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এর কারণ বাংলাদেশের দর্শকদের চাহিদা। তাই এর জন্য নাট্যকারদের পুরোপুরি দোষ দেওয়া যায় না কেননা তাদের মূল কাজই হল দর্শকদের চাহিদা মাথায় রেখে নাটক তৈরি করা।
এখন আসি ভারতীয় সিরিয়াল প্রসঙ্গে। আমাদের দেশে ভারতীয় হিন্দি ভাষার সিরিয়ালগুলোর পাশাপাশি বাংলা ভাষার সিরিয়ালগুলো সমান ভাবে জনপ্রিয়। অধিকাংশই মেগা-সিরিয়াল,দায়ে পড়লে এক বছর অন্যথায় ৪-৫ বছরও চলে এসব সিরিয়াল! এই যে ভারতীয় সিরিয়াল নিয়ে এত কথা তার মূল কারণই হচ্ছে – ভারতীয় সিরিয়াল আমাদের দেশের জন্য অপসংস্কৃতির পরিচায়ক। এসব সিরিয়ালের কাহিনী,চিত্রনাট্য,বিষয়বস্তু যাই বলি না কেন – তা মূলত একই ধারার। প্রায় সব সিরিয়ালেই কিছু মিল লক্ষণীয়। একজন সিরিয়াল বিশারদ না হলেও আপনি এই বিষয়গুলি ধরতে পারবেন। এসব বিষয়ের মধ্যে আছে নারী-নির্যাতন,বহুবিবাহ,সম্পত্তি দখল ইত্যাদি। সবাই বলে থাকন যে সব জিনিস থেকে ভালটা নিতে হয় আর খারাপটা বর্জন করতে হয় কিন্তু সেই জিনিসের খারাপ দিকের পাল্লা যদি বেশী হয় এবং তা যদি অপসংস্কৃতির পরিচায়ক হয় তাহলে আমি মনে করি তা বর্জন করাই শ্রেয়।
একজন মানুষের জীবনে বিনোদনের এই মাধ্যমগুলো যেমন সিরিয়াল শুধুই যে বিনোদন দেয় তা কিন্তু নয় বরং এসব অনুষ্ঠান মানুষের মনকে এবং তার চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করে। একটি খারাপ বই যেমন একজন মানুষকে খারাপ দিকে নিয়ে যেতে পারে, তেমনই অপসংস্কৃতির পরিচায়ক এই ভারতীয় সিরিয়ালও জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। তার একটি উদাহরণ বোধহয় পাখি ড্রেস নিয়ে কিছু ন্যক্কারজনক ঘটনা। কাজেই এসব সিরিয়ালের কুপ্রভাব সম্পর্কে কোন সন্দেহ থাকার কথা না। সবচেয়ে খারাপ ব্যাপারটি হচ্ছে অনেক শিশু-বাচ্চারা তাদের মা-খালাদের সাথে এসব সিরিয়াল প্রতিনিয়তই দেখছে। এতে প্রথমত তাদের মানসিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং দ্বিতীয়ত তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতির পরিচয় পাচ্ছে অথবা ধরে নিচ্ছে এগুলোই বাংলাদেশের সংস্কৃতি। অন্যদিকে হিন্দি সিরিয়ালগুলো তো আছেই আরও কিছু সমস্যা তৈরি করার জন্য। অনেকেই খেয়াল করে থাকবেন যে ছোট-ছোট ছেলেমেয়েরা অনর্গল হিন্দি ভাষায় আপনার সাথে কথা বলতে পারবে। আমি মানছি যে বহুভাষায় জ্ঞানলাভ করা ভাল ব্যাপার কিন্তু যখন শিশুরা মাতৃভাষা শিক্ষার সময়টাতে বাংলা না শিখেই হিন্দিকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করে তখনই মূল সমস্যাটা শুরু হয়। এখন এটা নিছক সমস্যা হলেও

ভবিষ্যতে ভয়ানক সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে যে মাতৃভাষার জন্য এত সংগ্রাম হয়েছিল সেই বাংলা ভাষা আজ কিছুটা হুমকির মুখে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ভারতীয় সিরিয়ালের খুব বেশী ভাল দিক পাইনি। অবশ্য কোন ভাল দিকই এর খারাপ দিকগুলোকে ছাপিয়ে যেতে পারবে না।

সমস্যা থাকলে তার সমাধান থাকবে এটাই স্বাভাবিক। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে প্রথম কাজ হবে দেশী মিডিয়াকে শক্তিশালী করা। ভাল-ভাল অনুষ্ঠান,নাটক,চলচ্চিত্র যদি দেশেই তৈরি হয় তাহলে কিছুটা হলেও দেশী অনুষ্ঠানগুলো সবার নজরে আসবে এবং আস্তে আস্তে এসব অনুষ্ঠানের প্রতি সবার আগ্রহ বাড়বে।
দ্বিতীয় কাজ হবে বিজ্ঞাপনের হার কিছুটা হলেও হ্রাস করা। অনেক বাংলাদেশী চ্যানেল বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন দেওয়ার জনপ্রিয়তা অনেক অর্জন করেছে! তাই এ থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। সরকার এখানে কিছু ভূমিকা রাখতে পারে সম্প্রচার নীতিমালার কিছুটা পরিবর্তন করে।
তৃতীয় জিনিসটি হল আমাদের মানসিকতা। এই মানসিকতার কারণেই আপনার মনে হবে যে এ সমস্যার সমাধান নেই। কিন্তু আসলে তা নয়। আমরা আমাদের দেশকে ভালবাসি। অনেক ক্ষেত্রে আমরা উন্নয়নের রোল মডেল হয়েছি। পোশাক শিল্পে অভূতপূর্ব সাফল্যও আমাদের আছে। যখনই ‘Made in Bangladesh’ লেখাটা দেখি তখনই আমরা গর্বিত হই। সেই আমরা কেন সামান্য বিজ্ঞাপনের অজুহাত দেখিয়ে দেশী চ্যানেলগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেব? দাম বেশী দিয়ে হলেও দেশী জিনিস আমরা কিনি কেননা দেশের জন্য আমাদের কিছু দায়বদ্ধতা আছে। ঠিক তেমনই বিজ্ঞাপন বেশী হলেও আমাদের দেশী অনুষ্ঠান দেখার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত এবং ভারতীয় সিরিয়াল বর্জন করা উচিত।

(বিনোদন ব্যক্তিগত ব্যাপার কিন্তু অপসংস্কৃতি কারও কাম্য নয় এবং সে জন্যই আমার এই ফুটপ্রিন্ট।)

যে গান শুনে আত্মহত্যা করেছে শতাধিক মানুষ

Now Reading
যে গান শুনে আত্মহত্যা করেছে শতাধিক মানুষ

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় বন্ধুরা। আমরা সবাই কম-বেশি গান শুনতে ভালোবাসি। বাচ্চা থেকে শুরু করে সবাই গান শুনে সময় কাটাতে পছন্দ করে থাকেন। তবে ভেবে দেখেনতো এই গান যদি হয়ে উঠে কারো মৃত্যুর কারণ!???বিশ্বাস হচ্ছে নাহ???তবে বিশ্বের ইতিহাসে এমনই এক গান রয়েছে যার পিছে লুকিয়ে আছে এমন  অনেক বিস্মকর অন্ধকার সব ঘটনা। যে গানটির কথা বলছি সেটির নাম হলো গ্লোমি সানডে“। ইংরেজিতে “Gloomy Sunday“।

“গ্লোমি সানডে” এই গান এর আরেক নাম “হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং”। নাম শুনেই বুজতে পারছেন এটি একটি হাঙ্গেরিয়ান গান তবে যার সাথে সম্পর্ক রয়েছে আত্মহত্যার। বিশ্বের ইতিহাসে এই “গ্লোমি সানডে” গানটিকে অনেক সুইসাইড ক্যাসের জন্য দায়ী করা হয়। দাবি করা হয় যে এই গানটি শোনার পরে এই পর্যন্ত্য আত্মহত্যা করা মানুষের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। এমনকি এই গানটির সুরকার “সেরেস” গানটি সুর করার ৩৫ বছর পর তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেছিলেন ।

গানটি ১৯৩৩ সালে “রেজো সেরেস” নামক পিয়ানোবাদক দ্বারা সুর করা হয়েছিল যা “ইন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড” শিরোণামে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৩২ সালে প্যারিসে বসবাসরত অবস্থায় সেরেস প্রথম গানটি কম্পোজ করেন। প্রথমে সেরেস গানটির জন্য প্রকাশক খুঁজতে সমস্যায় পড়েন গানটির হতাশাব্যাঞ্জক কথার জন্য। যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গানটির কথা লেখা হয়েছিলো এবং এর শেষে বলা হয়েছে মানুষদের পাপ এর কথা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে গানটি লেখা হয়েছিল।  “ইন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড” গানটির কথায় মানুষের প্রতি মানুষের অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত তাদের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। তবে অসফল প্রেম এর গল্পও লুকিয়ে আছে “গ্লোমি সানডে” নামক এই গানটির মধ্যে।

প্রথম দিকের ভার্সনগুলোতে যে লাইন ছিল তা অনেকটা আত্মহত্যাকে অনুপ্রানিত করে বলে মনে করা হয়। এর একটি লাইন হল,,

“গ্লোমি ইজ সানডে, উইদ স্যাডো আই স্পেন্ড ইট অ্যল,,মাই হার্ট এন্ড আই হ্যাভ ডিসাইডেড টু ইন্ড ইট অ্যল”

গানটির কথা লিখেছিলেন “লাজলো জাভোর”। ভালোবাসার মানুষের মৃত্যু ও মৃত্যুর পরবর্তী জীবণে তার সাথে মিলিত হওয়ার আবেগ নিয়ে লাজলো জাভোর গানটি লিখেছিলেন যা পরবর্তীতে হারানো প্রেমের কষ্ট বহন করে গেছে।

জাভোরের কথা ব্যবহার করে প্রথম হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় গানটি রেকর্ড করেন পাল কামার ১৯৩৫ সালে। হাঙ্গেরিতে তার ভার্সনটি জনপ্রিয় হয়ে উঠে সেই সাথে উল্লেখযোগ্যভাবে আত্মহত্যার হার বেরে যায়। জাভোরের সাবেক স্ত্রীও আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করে ছিলেন। ১৯৩৫ সালে প্রথম পাল কামার হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় গানটি রেকর্ড করার পরবর্তীতে কিছু লোক ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে সুইসাইড করলে এই গানটির দোষ দেয়া হয় কারণ তখন তাদের হাতে গানটির একটি শীট মিউজিক ভার্সন ধরা ছিল। অনেক রেডিও নেটওয়ার্ক গানটি প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল যদিও এ দাবিগুলো প্রমানিত নয়। এছাড়াও এই গানটি নিয়ে অনেক ঘটনা শোনা যাই,,যেমন শোনা যাই যে একজন হাঙ্গেরিয়ান মুচি যেখানে আত্মহত্যা করেছিলেন সেখানে একটি নোট পাওয়া গিয়েছিলো যেখানে “গ্লোমি সানডে” এর  কিছু লাইন লেখা ছিল। দুজন লোক তাদের নিজেদের গুলি করে সুইসাইড করেছিলেন যে সময় একটি ব্যান্ড “হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং” গানটি করতে ছিলেন। কোন গবেষণাতেই অবশ্য স্পষ্ট করে গান ও আত্মহত্যা সম্পর্ক বোঝানো সম্ভব হয়নি।

এই গানটিতে এমন কি আছে যার জন্যে মানুষ আত্মহত্যা করতে এগিয়ে যাই???আপনাদের বোঝার সুবিধার জন্য গানটির কথা বাংলায় অনুবাদ করে  দিলাম,,এটি পড়লেই আপনার বোঝা হয়ে যাবে কি এমন আছে এই বিস্ময়কর গানটিতে। 

“”শত শত সাদা ফুলের সাথে অদ্ভুত রবিবার
আমি আপনার জন্য আমার প্রার্থনাশৈলীতে প্রার্থনা করার অপেক্ষা করছিলাম। । 
একটি রবিবার সকালে, ছুটছিলাম আমি আমার স্বপ্নের পিছে 
আমার দুঃখের বহিঃপ্রকাশ তোমার কাছে ফিরিয়ে নিল
এরপর থেকে  আমার রবিবার চিরকাল দুঃখজনক
কান্না  আমার একমাত্র পানীয়, দুঃখ আমার রুটি । । 

মেঘাচ্ছন্ন রবিবার

এই রবিবার, আমার প্রিয় আমার কাছে আসো দয়া করে
সেখানে একটি যাজক, একটি কফিন, এবং একটি ঘূর্ণন শীট হবে
আপনার জন্য ফুল থাকবে, ফুল এবং একটি কফিন 
ফুল গাছের নীচে এটি আমার শেষ যাত্রা হবে। । 
আমার চোখ খোলা হবে, যাতে আমি আপনাকে শেষবারের মত দেখতে পাই
আমার চোখে ভয় পেও না, আমি তোমাকে আমার মৃত্যুর পরেও আশীর্বাদ করছি । । 

রবিবার হতাশাজনক,
আমার ঘন্টা নিদ্রালু হয়।
প্রিয়তম ছায়া
আমি বেঁচে থাকা সঙ্গে বেঁচে থাকা

ছোট সাদা ফুল
কখনো তোমাকে জাগিয়ে তুলবে না
যেখানে কালো  স্মৃতি   
তোমাকে নিয়ে গেছে।

এঞ্জেলস এর কি কোন চিন্তা আছে
কখনও আপনাকে ফিরিয়ে দেবার ??
তারা কি রাগ হবে?
যদি আমি তোমার সাথে ওখানে যোগ দেয়ার কথা ভাবতাম??

মেঘাচ্ছন্ন রবিবার

অদ্ভুত রবিবার,
ছায়ার  সাথে সব সময় হয় পার 
আমার হৃদয় এবং আমি, 
সব শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি 

শীঘ্রই সেখানে  মোমবাতি জ্বলবে
এবং প্রার্থনা করা হবে
তাদের কাঁদতে দিয়োনা ,
তাদের জানাতে হবে যে আমি যেতে পেরে আনন্দিত।। 

মৃত্যু কোন স্বপ্ন নয়,
মৃত্যুর জন্য আমি তোমাকে দমিয়ে রেখেছি
আমার আত্মার শেষ শ্বাস হলেও ,
আমি তোমার উপর আশীর্বাদ করবো।

মেঘাচ্ছন্ন রবিবার

স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখছিলাম
জেগে উঠি এবং আমি আপনাকে ঘুমিয়ে  থাকতে দেখেছি 
আমার হৃদয় গভীরে 

ডার্লিং, আমি আশা করি
আমার স্বপ্ন কখনো তোমাকে ঘৃণা করলো না
আমার হৃদয় আপনাকে বলছে,
কতটা আমি আপনাকে চেয়েছিলাম । । “

১৯৩৫ সালে রাশিয়ায় রাশিয়ান ভাষায় এবং ১৯৩৬ সালে ফ্রান্স এবং জাপানেও তাদের ভাষায় গানটি রেকর্ড করা হয়েছিল। বিবিসি প্রায় ৬৬ বছরের জন্য এই গানের  প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল যদিও ২০০২ সালে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল। ইংরেজি ভাষায় গানটির কয়েকটি ভার্সন বের হয়। “হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং” তথা “গ্লোমি সানডে” গানটি আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।