নদীরতীরে সূর্যাস্ত

Now Reading
নদীরতীরে সূর্যাস্ত

গোধূলির আবিরে রাঙা অস্তায়মান লাল সূর্য। দিনের শেষে থেমে আসে চারপাশের কর্মকোলাহল। প্রকৃতিতে নেমে আসে অন্যরকম এক প্রশান্তি। পশু-পাখি নীড়ে ফিরে যেতে থাকে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর শুরু হয় মানুষের ঘরে ফেরার পালা। চরাচরে সর্বএই বিরাজ করে এক নৈসর্গিক নীরবতা। সূর্যের রক্তিম আলোর ছটায় প্রকৃতি যেন অনরকম রঙে নিজেকে সাজায়। নদীর তীরে দাঁড়ালে সূর্যাস্তের এক মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়। বিস্তৃত নদীতীর, সামনে কল্লোলিত নদী, স্বর্গীয় অাভায় রাঙ্গনো আকাশ—এই শোভা, এই অপরূপ রূপের মাধুরী দেখে দু চোখের তৃষ্ণা যেন মেটে না। বিশ্বস্রষ্টা যেন নিজেকে আড়ালে রেখে মোহময় সৌন্দর্যের মধ্যে মানুষকে ডুবিয়ে রেখেছেন। রহস্যময় এক মায়ার জগৎ সৃষ্টি করে খেলছেন আড়ালে বসে। সূর্যাস্তের সময় নির্জন নদীতীরে দাঁড়ালে এমন অধ্যাত্ন-ভাবনা ভেসে আসে মনে। দিবসের অবসান আর রাএির আগমনের এই পৃথিবী যেন মিলন-বিরহের খেলায় মেতে ওঠে। আকাশ আর মাটি যেন মুখোমুখি মৌনমুখর। ছায়াঢাকা গ্রামের নিবিড় প্রেক্ষাপটে সূর্যাস্তের দৃশ্য ঘোমটা-টানা লাজুক বধূর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। নদীতীরে সূর্যাস্ত দেখতে গেলে বহুমাএিক সৌন্দর্য চোখে পড়ে। সামনে বিশাল জলরাশি,ওপরে রক্তিম উদার আকাশ,গোধূলি লগ্নে উন্মুক্ত নদীতীরে দাঁড়ালে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। আকাশের রক্তিম রঙে নদীর পানি রঙিন হয়ে ওঠে। এ সময় দিগন্তে দ্রুত রং বদলাতে থাকে। অস্তগামী সূর্যের লাল টিপ কপালে পরে পৃথিবী যেন নববধূর মতো সাজে। ঝিলিমিলি ঢেউখেলানো সোনারঙের পানিতে পালতোলা নৌকা ভেসে চলার দৃশ্য অপূর্ব লাগে। নদীর তীরে ঘেঁষে বাতাসের স্রোত সাঁতরে উরে চলে সাদা বক,গাঙচিল,বালিহাঁসের ঝাঁক। রক্তিম সূর্য তার উষ্ণতা বিলিয়ে লাল হতে হতে নিচে নামতে থাকে।

এক সময় মনে হয় নদী আর আকাশ যেন মিশে গেছে দিগন্তরেখায়। সূর্য যেন কান পেতে শুনছে পৃথিবীর গোপন বিষাদের সুর। তারপর সেই অগ্নিগোলক যেন নদীর বুকে টুপ করে ডুবে গেল। আঁধারে কালো চাদর আচ্ছন্ন করল চারদিক। চরাচরে ঝিঁঝির শব্দ,জোনাকির টিপটিপ আলো,ঝিরিঝিরি বাতাসে সৃষ্টি হয় নতুন এক আবেশ। কখনো সন্ধাকে মনে হয় যেন গ্রামের কিশোরী মেয়েটি, লাল-হলুদ ডুবে শাড়ি কোমরে পেঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নদীতীরে। পর মুহূর্তেই মনে হয়, এ তো নিছক কল্পনা মাএ। অস্তায়মান সন্ধার আবছা আঁধারে নদীর ছোট ছোট ঢেউয়ের ওপর বিচূর্ণ আলোর কারুকাজ সত্যিই বিস্ময়-জাগানিয়া। ইচ্ছে হয়, সেই ঢেউয়ের কারুকাজ একটু হাত রাখি। ছুঁয়ে দেখি আলোছায়ার বিচিএ লুকোচুরি। ঘনায়মান সন্ধ্যার অপরূপ রূপের মাধুর্য ধরে রাখি হৃদয়ে। কিন্তু বাস্তবে তা যে হবার নয়।

নদীর অপরূপ সৌন্দর্য আমাকে তার কাছে টানে। নৃদীর কাছে গেলে কল্পনায় হারিয়ে যাই। তখন নিজেকে অনেক হালকা লাগে। সূর্যাস্তের সময় অনেক ভাল লাগে দৃশ্যগুলো। মনে মনে ভাবি সূর্যিমামা কই যায় আমাকে নিয়ে যাবে না। ভাবনা গুলো কাল্পনিক। নদীরতীরে গেলে আমাকে প্রবাল বাতাস ভেদ করে ছুটে চলে দুরদিগন্তে। মন চায় বাতাস এর সাথে ছুটে চলি। নদীতে পালতোলা নৌকা গুলো চলে সাদা বক গুলো উড়ে নদীর ওপর দিয়ে। জীবন টা কতটা রঙিন তা নদীর কাছে গেলে বোঝা যায়। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ সব জেলায় নদী আছে।নদী বর্ষায় অনেক ভয়াবহ রুপ নেয়। আবার এমনি সময় দেখা যায় নদীর অনেক সুন্দর রুপ।নদীতীরে সূর্যাস্ত দেখার মজাই আলাদা জীবন আরো রঙিন হয়ে ওঠে। মুক্ত ভাবে চেতনা কে ঘুম থেকে উঠানো যাবে। সূর্যাস্তের মুহূর্তে অনেক ভাল লাগে।

নদী আমাদের মায়ের মতো। নদীর অপরুপ নিলাখেলা কারো বোঝার উপায় নেই। নদীর তীরে সন্ধার দিকে গেলে দেখা যায় মায়া মুগ্ধকর দৃশ্য যা দেখলে সকলের প্রান ভরে যায়। যে নদীর সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারলো না আমি তো মনে করি সে হতভাগা। নদীর সূর্যাস্তের সময় আকাশ টা যেন নববধূর মতো হয়ে থাকে । সে কি অপরুপ দৃশ্য। জীবনটা সারা জীবনের জন্য নদীর পারে কাটাতে ইচ্ছে করে। নদীর তীরে বেলা শেষে জেলেরা এসে ভির করছে আরো অনেক মানুষ পালতুলে নৌকা চালাচ্ছে। মাথার ওপরে সূর্যিমামা রঙ খেলছে। মনোরম সব দৃশ্য। ওই দিন ছিল রবিবার বিকেলে ক্লাস শেষ করে গিয়েছিলাম বন্ধুদের সাথে নদীরতীরে ঘুরতে। নদীর সূর্যাস্ত আমাদের ফাকি দিতে পারল না আমি ক্যামেরা বন্দি করে নিলাম। সময় টা বেশ ভাল ছিল। প্রান ভরা বাতাস আর বয়ে যাচ্ছে নদীর পানি আর সূর্যিমামা তো আছেই। তার রঙে রাঙানো ছিলাম আমরা এবং নদী। অনেক জেলেরা মাছ ধরছে বিকেলেও দেখে নিজেকে এক অন্যরকম সময় এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম। নদীতীরে সূর্যাস্ত যেন সব কিছুর থেকে আলাদা। আমাদের দেখা নদীটি ছিল আরিয়াল-খাঁ নদ । সে কি মনোরম দৃশ্য আপনি কখনো সেটা না গিয়ে বুঝতে পারবেন না ।

নদীর দিকে তাকালে যে কারো মনভরে যাবে। নদীর পাশে ছিল অনেক প্রাকৃতিক দৃশ্য যা আমাদের প্রান টাকে শান্ত করে দিয়েছিল। নদীর দৃশ্য ছিল মধূর আমার দেখছিলাম জেলেরা কিভাবে মাছ ধরে কিভাবে নদীতেই মাছ চাষ করে। মাঝি ভাই কিভাবে নৌকা চালাচ্ছে। আমারাও একটা নৌকা চালিয়েছিলাম কিন্তু সেটা কিছুখনের জন তাই মনভরে নি।নৌকার ওপরে যখন ছিলাম তখন ছিল অন্যরকম মুহূর্ত নিচে পানি ওপরে সূর্যিমামার রাঙানো আকাশ সময় টা বেশ ভাল ছিল। সাদা বকের দল ছুটে চলেছে তাদের গন্তব্য স্থানে বালি হাঁস চলছে। কিছু খনের মধ্যে সূর্যিমামা চলে গেল সে কি মনোরম দৃশ্য। জীবন এর সব সময় টা যদি নদীতীরে থাকা যেত তাহলে সেটাই করতাম। নদীতীরে সূর্যাস্ত দেখে মনে পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার কিছু চরণ:

‘সন্ধ্যারাগে ঝিলিমিলি ঝিলমের স্রোতখানি বাঁকা

আঁধারে মলিন হল,যেন খাপে ঢাকা

বাঁকা তলোয়ার।

দিনের সব কিছু শেষে সবচেয়ে ভাল মুহূর্ত হল নদীতীরে সূর্যাস্ত দেখা।

নদীর সেই মন ভোলানো দৃশ্য সহজে কোন মানুষ কে দুর্বল করতে পারে। যেটা আমি হয়েছিলাম। নদীর সাথে কেমন যেন ভাব ভাব হয়ে গিয়েছিল। এ ছিল আমার ভাল একটা সময়। মানুষ অনেক ব্যস্ততার মাঝে দিন কাটায়। তাই হয়তো অনেকের এই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার সময় হয় না। আমি আপনাদের বলছি একবার নদীরতীরে আসুন না। কথা দিলাম আপনাদের সময় টা নষ্ট হবে না। নদীর পাশে কাশবন টা ছিল কিন্তু ফুল টা ফুটে নি তাই হয়তো দেখতে ভাল লাগে নি। কিন্তু আমার কাছে সব কিছুই অনেক ভাল লেগেছে। চরম একটা সময় ছিল যা বলে শেষ করা যাবে না। আমরা সবাই নদীরতীরে সূর্যাস্তর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করছিলাম। আমার বন্ধুরাও হারিয়ে গিয়েছিল রুপ সাগরে। নদীর পানি যেন আমাদের ডাক দিচ্ছে তার কাছে যেতে বলছে। তার মায়া আমাদের টানছে। আমরা অনেক মজা করছিলাম। নদীরতীরে সূর্যাস্ত দেখার মজাই আলাদা জীবনের কোন কাজের সাথে এটার তুলনা হবে না।

প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ

Now Reading
প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ

সবুজ প্রকৃতিকে আমরা কে না ভালোবাসি? শহুরে জীবন যাপনে আমরা যখন অতিষ্ট হয়ে পড়ি তখন চলে যাই প্রকৃতির কাছে । তাকে দু হাতে একটু খানি আলিঙ্গন করার জন্য ব্যাকুল হয়ে যাই। পরিবেশ মানুষের জীবনী শক্তির প্রধান উৎস। সবুজ নির্মল পরিবেশ আমাদের এক নিমিষেই চাঙ্গা করে দেয়। এই পরিবেশের উপরই নির্ভর করছে আমাদের অস্তিত্ব। পরিবেশ প্রতিকূল হলে আমাদের ধ্বংস ও সর্বনাশ অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু যখন আমরা নিজেরাই এই পরিবেশের ধ্বংস ডেকে নিয়ে আসছি তখন আমাদের নিজেদের কাণ্ডজ্ঞান কত খানি আছে তা বুঝার দরকার। আজ ৫ ই জুন, “বিশ্ব পরিবেশ দিবস” যা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সারা বছর পরিবেশ দূষণ করে, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলে, অবিচারে বৃক্ষ নিধন করে এই একটি দিনে আসি পরিবেশের জন্য খুব দয়া দেখাতে। যাই হোক জাতিসংঘ এই দিনকে অর্থাৎ ৫ই জুনকে, ১৯৭২ সালে “বিশ্ব পরিবেশ দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেছে।
একসময় মানুষ ধারণা করতো প্রকৃতির ওপর যে কোনো ভাবে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা সবচেয়ে জরুরী। এই আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য বন ধ্বংস করে, নদীর প্রবাহ বন্ধ করে, বিভিন্ন জীব জন্তু হত্যা করে , পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে মানুষ পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করেছে, ডেকে এনেছে নিজের বিপদ। পরিবেশের উপর এই মারাত্নক অত্যাচারের কারণে প্রকৃতি আজ আর আমাদের হাতে নেই, তাকে আমাদের বশে আনার আর ক্ষমতা নেই। মানুষকে আজ প্রকৃতির উপর আধিপত্য নয়, গড়ে তুলতে হবে প্রকৃতির সাথে বন্ধুর সম্পর্ক। একারণে এখন আমাদের খুব চিন্তা ভাবনা করে চলতে হবে কিভাবে এই বন্ধুত্ব গড়ে তোলা যায়। অনেক কষ্ট করে তা গড়ে তুলতে হবে কেননা সে এখন আর আমাদের কথা শুনবে না। জাতিসংঘ সবার মাঝে পরিবেশ কে ধ্বংস না করে তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন আন্দোলন করে যাচ্ছে। তারই একটি হচ্ছে এই বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন। প্রতিবছর এই বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের জন্য তারা একটি স্লোগান তৈরি করে যাকে ঘিরে সেই বারের আন্দোলনটা রূপ পাবে। ২০১৭ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এবারের স্লোগান “Connect People To Nature” বা “প্রকৃতির সাথে মানুষের সংযোগ” অর্থাৎ আমাদেরকে প্রকৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে যেতে হবে, প্রকৃতিকে ভালবাসতে হবে, ধারণ করতে হবে নিজের সাথে। এই স্লোগানের মাধ্যমে আমাদেরকে প্রকৃতির কাছে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্য গুলো আমাদের চোখের সামনে দেখার কথা বলে হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা এবং উন্নত স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা, বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহর ব্যবস্থা তৈরি করা এবং জলবায়ু স্থিতিশীলতার সুবিশাল সুবিধা গুলো তুলে ধরা সহ বিভিন্ন ধরণের সমস্যা থেকে পরিত্রানের উপায় এই আন্দোলনের মাধ্যমে তুলে ধরে ।pollution-620_620x350_81476701924.jpg

পৃথিবীতে মানুষ টিকে থাকার জন্য কত কি করছে। পৃথিবী ধ্বংস হলে কোথায় থাকবে তার জন্য নতুন বাসস্থান খোঁজার জন্য বিশাল পরিমানে অর্থ খরচ করছে কিন্তু তার খুব সামান্য অংশই ব্যয় করছে পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য তার পরিবেশকে বাঁচানোর জন্য। পৃথিবীতে প্রায় ৮০% মানুষ পরিবেশ দূষণের জন্য মারাত্নক ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্রতিবছরে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ফোম কাপ, ২২০ মিলিয়ন টায়ার এবং ১.৮ বিলিয়ন ডায়াপার পুড়ানো হয়। যার কারণে পরিবেশের মারাত্নক ক্ষতি হয়। পৃথিবীতে প্রতিবছর যে মানুষ মারা যায় তার ৬.৭% মানুষ মারা যায় বায়ু দূষণের কারণে। যে বিশাল পরিমাণে বায়ু দূষণ হচ্ছে তার প্রধান কারণ হচ্ছে মানুষের কর্মকান্ড। বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যানবাহন ও কলকারখানা ইটভাটার কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং পেট্রোলিয়াম পুড়ানোর কারণে বায়ু দূষণ হচ্ছে। পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি হচ্ছে। পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মানুষের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পরেছে। পরিবেশ বাদীদের মতে আগামী ৩০ বছরের মধ্যেই তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রী করে বৃদ্ধি পাবে এর ফলে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে ঝড় বৃষ্টি, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস সহ বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিবে। আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় দু তৃতীয়াংশ জায়গা পানিতে ডুবে যাবে। হারিয়ে যাবো আমরা। এমনিতেই আমাদের প্রতিবেশী দেশ আমাদের ন্যায্য হিস্যার পানি না দিয়ে আমাদের দেশকে মরুভূমিতে রূপ দিতে বিরাট ভূমিকা রাখছে এভাবে চলতে থাকলে আমাদের কোন থাকার জায়গা থাকবে না। বিলীন হয়ে যাবে আমাদের অস্তিত্ব। এই পরিবেশকে রক্ষা করতে চাইলে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে। এজন্য আমাদেরকে বিভিন্ন কাজ করতে হবে। এই পরিবেশকে রক্ষা করতে হলে আমাদেরকে নিম্নোক্ত উপদেশ গুলো পালন করতে হবে।

  • পৃথিবীতে আমরা প্রতিবছর প্রায় ৮০ ট্রিলিয়ন অ্যালুমিনিয়াম ক্যান বোতল ব্যবহার করি। এসব ক্যান বোতল গুলো আবার রিসাইকেলিং এর মাধ্যমে আবার ব্যবহার করা সম্ভব এইজন্য এর পরের বার আমরা যখন এই অ্যালুমিনিয়াম ক্যান বোতল ব্যবহার করব তখন আমরা তাকে যত্রতত্র ফেলি না দিয়ে রিসাইকেল ডাস্টবিনে তা ফেলি।
  • পৃথিবীতে ব্যবহার যোগ্য পানির পরিমাণ মাত্র ১% আর বাকি ৯৯% পানি লবণাক্ত ও বরফ। আমাদেরকে সবসময় এই পানি অপচয় রোধ করতে হবে। পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
  • আমাদেরকে পলিথিন ব্যাগ যথাসম্ভব বর্জন করতে হবে। পলিথিনের কারণে প্রতিবছর প্রায় ১০,০০,০০০ সামুদ্রিক প্রাণী মারা যায়। বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে এই পলিথিনের কারণে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে ।
  • কার্বন নিঃসরণ প্রবাহ কমাতে হবে একারণে আমাদেরকে যথাসম্ভব বাসার ফ্যান লাইট কম পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে।
  • বেশি বেশি গাছ লাগানোর চেষ্টা করি আর যদি একটি গাছ লাগাতে নাও পারি অন্তত একটি গাছে পানি দিয়ে সেই গাছের বৃদ্ধি নিশ্চিত করি।
  • যথাসম্ভব গাড়ির ব্যবহার কম যেন কম করি এবং পায়ে হাটার অভ্যাস তৈরি করি।
  • খাবার বেশি নষ্ট না করি কেননা আপনার নষ্ট করা খাবারই হয়ত অন্য কারো খাবার ছিল। যা আপনি নষ্ট করে ফেললেন।
  • পুনরায় ব্যবহার যোগ্য শক্তি বেশি ব্যবহার করতে হবে।tree1.jpg

আমাদেরকে এই পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে পৃথিবীর সাথে কোমল হতে হবে।যদি পরিবেশ ভালো থাকে তাহলে আমরা ভালো থাকব আর আমরা ভালো থাকার মানেই হল পরিবেশের উপর আধিপত্য থাকা।