পোশাক শিল্প

Now Reading
পোশাক শিল্প

টেক্সটাইল এবং পোশাক খাত বাংলাদেশের বৃহত্তম উৎপাদন কাজ করে। এটি 5 মিলিয়ন মানুষকে সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়, যা দেশের সকল শিল্পকর্মের ৪৫ শতাংশ । Textile and clothing (টি ও সি) শিল্প বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশ হয় এবং ব্যাপক ভাবে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে এর কারনে আমাদের অর্থনীতি আর ভাল হয় আমাদের দেশ আরো এক ধাপ সামনের দিকে অগ্রসর হয় । আমাদের দেশের বস্ত্র বিদেশে রপ্তানির করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে আর এই গার্মেন্টস শিল্পই আমাদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি প্রদান উৎস । এই সেক্টরটি একদিনে বড় হয়নি, আজ আমরা যেই পর্যায় আছি তার পিচনে আছে একটি দীর্ঘ ইতিহাস যা আমি কিচুটা বলার চেষ্টা করব ।

 

সাল ১৯৭১

১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে বেশীরভাগ শিল্প কারখানাই ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের মালিকানাধীন । সেই সময়ের মধ্যে, ১৯৬০-এর দশকে স্থানীয় বাংলার (পূর্ব পাকিস্তানে)উদ্যোক্তারা তাদের নিজস্ব অর্থায়নে একটি টেক্সটাইল ও পাট কারখানা স্থাপন করেছিল । পূর্ব পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্নতার পর নবগঠিত বাংলাদেশর অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উভয়ই হারিয়েছে । সেই সময় বাংলাদেশের কাছে না ছিল কোন অর্থ না ছিল কোন প্রকার প্রযুক্তি কারন স্বাধীনতার যুদ্বের সময় পাকিস্তানিরা আমাদের সকল শিল্প কারখানা ধংস করে দেয় ।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পর্যন্ত, টেক্সটাইল সেক্টর মূলত আমদানির পরিবর্তে প্রতিস্থাপন শিল্পায়ন প্রক্রিয়ার দরকার হয়েছিল । স্বাধীনতার পর, বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের উপর বিশেষ করে রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) সেক্টরের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে বাংলাদেশ রপ্তানি ও রপ্তানিকারক শিল্পায়ন (ইওআই) উদ্দ্যগ গ্রহণ করে। বালাদেশের প্রতিষ্ঠার পরপরই, চা ও পাট ছিল সবচেয়ে রপ্তানি ভিত্তিক একটি সেক্টর যাআমাদের সেই সময় প্রচুর পরিমাণে লাব জনক অব্যস্থায় ছিল । কিন্তু পরে বিভিন্ন ধরনের  হুমকির মুখে পরে, পাটের মূল্য হ্রাস এবং বিশ্বের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অবনতির কারণে, দেশের অর্থনীতিতে পাটের অবদান কমেছে ।

factory_bangladesh_wide-3201b09292609984d2c7296835db67ab4aea8dc7-s900-c85.jpg

সাল ১৯৭২

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা (জাতীয়করণ) আদেশ প্রণয়ন, বেসরকারি মালিকানাধীন টেক্সটাইল কারখানা এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশন (বিটিএমসি) নামে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থার (এসওই) তৈরি করে নতুন সরকার । রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদের একটি সমাজতান্ত্রিক ফর্ম এর উন্নীতি করেন। বি.টি.এম.সি কখনও ১৯৭১ সালের প্রাক-পূর্বাভাসের সাথে মিল রেখে পরিচালিত হয়নি এবং ১৯৭৫-১৯৭৬ অর্থবছরের পর অর্থ হারায়। ১৯৮০ এর দশকের প্রথম দিকে, বাংলাদেশে প্রায় সব স্পিনিং মিল এবং প্রায় ৮৫ শতাংশ টেক্সটাইল শিল্পে এবং সম্পদের মালিকানা ছিল (ছোট ব্যবসার ছাড়া) ।  ১৯৮২ সালের নতুন শিল্পকৌশল নীতি (এনপিআই) -এর অধীনে জুট মিলস এবং টেক্সটাইল মিলসহ এই বিপুলসংখ্যক সম্পদের মালিকানা তাদের মূল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ।

সাল ১৯৭৪

১৯৭৪ সালে ধ্বংসাত্মক দুর্ভিক্ষে এই সালে ব্রহ্মপুত্র নদী বন্যা এবং চালের দাম বৃদ্ধিতে এবং ভূমিকম্পের কারণে দশ লক্ষ মানুষ মারা যায়। দুর্ভিক্ষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিবিপ্লবের প্রতিক্রিয়ায় আংশিকভাবে, বাংলাদেশ সরকার সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে সরকারী নীতি পরিবর্তন করে এবং বেসরকারী খাতকে উৎসাহিত করার ফলে বস্ত্র শিল্পে সরকারী খাতকে ভূমিকা রাখে । ১৯৭৪ সালের নতুন বিনিয়োগ নীতিটি ব্যক্তিগত ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উভয়ের অধিকার পুনরুদ্ধার করে। বেসরকারি খাতের নেতৃত্বাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে প্রধানত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগ (এসওই) দিয়ে শিল্প উন্নয়নের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাবিষয়ক পদ্ধতি থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নের মডেলটি চালু করা হয়েছে।বেসরকারি খাতের নেতৃত্বাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গুলো কে প্রধানত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগ (এসওই) দিয়ে শিল্প উন্নয়নের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাবিষয়ক পদ্ধতি থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নের মডেলটি চালু করা হয়েছে।

উত্তর আমেরিকার বাজারে ও ইউরোপীয় বাজারের পক্ষপাতমূলক বাজার অ্যাক্সেস মাল্টি ফাইবার ব্যবস্থা (এমএফএ) (১৯৭৪-২০০৫) অধীনে কোটা দুটি অ-বাজার(non-market) কারণের গ্লোবাল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া(Global restructuring processes), একটি রপ্তানিমুখী এর “উত্থানের নেতৃত্বে প্রদান করে ১৯৭০ এর দশকে বাংলাদেশে গার্মেন্টস ক্রমান্বয়ে সাফল্য নিশ্চিত করে। বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্প প্রধান রপ্তানী খাত হয়ে ওঠে এবং ১৯৮০ সালে বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় উৎস হয়ে ওঠে এবং ২00২ সালে $৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি করে। ১৯৮০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।স ১৯৮১ সাল ৩০০ টি টেক্সটাইল কোম্পানি তাদের মূল মালিকদের কাছে ফিরে আসে ।

১৯৮২ সালে রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসার অল্পক্ষণ পরেই রাষ্ট্রপতি হুসেন মুহম্মদ এরশাদ নিউ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি (এনপিআই) প্রবর্তন করেন এবং ব্যক্তিগতকরণ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ, যা বেশিরভাগ টেক্সটাইল শিল্পকে ন্যায্যতা দেয় ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) তৈরি করে এবং সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগকারি দের উৎসাহতা প্রদান করে । নতুন শিল্প নীতি (এনপিআই) এর অধীনে ৩৩ টি পাটকল এবং ২৭টি টেক্সটাইল মিল তাদের মূল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্পটি ১৯৮১ সালে ৩.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১০.৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয় ২০০৭ সালে মাঝে । পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, বেড়েছে আয় উন্নত হয়েছে আমাদের দেশ উন্নত হয়েছি আমরা । ১৯৯৫ থেকে ২00৫ সাল পর্যন্ত বস্ত্র ও পোশাক (এ টিসি) সংক্রান্ত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা চুক্তি কার্যকর ছিল এই চুক্তির কারনে বাংলাদেশের অনেক উপকার হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডিয়ান বাজারের জন্য কোটা-ফ্রি অ্যাক্সেস থেকে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি উপকৃত হয়।

পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, বেড়েছে আয় উন্নত হয়েছে আমাদের দেশ উন্নত হয়েছি আমরা । কিন্তু আজও আমরা এই পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের দিলাম না কোন মর্যাদা,দিলাম না তাদের কাজের প্ররিশ্রমিক,দিলাম না তাদের জীবনের নিরাপত্তা ।

ap625351757099_wide-58db5446ac6a742a5b3a730bda638bfd7ca22367-s900-c85.jpg