দলবদলের ফুটবল এর আরেক নাম ইউরোপিয়ান ফুটবল

Now Reading
দলবদলের ফুটবল এর আরেক নাম ইউরোপিয়ান ফুটবল

ইউরোপিয়ান ফুটবল ২০১৭-২০১৮ মাঠে গরিয়েছে সপ্তাহ কয়েক । ট্রান্সফার বাজার এখনো সরব নানান গুজব আর গোপন সংবাদে । হবেই বা না কেন, সর্ব কালের সবচেয়ে ব্যায়বহুল ট্রান্সফার উইন্ডো হিসেবে ইতিমধ্যে সুনাম কুড়িয়েছে  এই বারের গ্রীস্ম কালীন ট্রান্সফার উইন্ডো । ক্লাব গুলোর হাতে ৩১ শে অগাস্ট পর্যন্ত সুযোগ থাকছে দল গোছানোর ।  সব ক্লাবই এর যার যার দল ভারী করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় এই গ্রীস্ম কালীন ট্রান্সফার উইন্ডো । শুরুতেই এক এর পর এক প্লেয়ার দল ভিরিয়ে মৌসুমের শুরুটাতেই আলোচনায় এসেছে এসি মিলান । নিজেদের পুরোনো স্বরূপে ফিরে যাওয়ার নেশা এবার ভালোই পেয়ে বসছে এক সময়ের ইউরোপের পড়া শক্তি এসি মিলান কে । এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত এসি মিলান ১৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যায় করেছে । দলে ভিড়িয়েছেন লিওনার্দো বনুচি এর মতো অন্যতম নির্ভরযোগ্য সেন্টার ব্যাক । শুধু এই মৌসুমে দলে ১১ জন নতুন খেলোয়াড় সংযোজনের মাধ্যমে ইতিমধ্যে এক হুঁশিয়ারি সংকেত ই যেন দিতে চাইছে সান সিরোর সাত বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা ।

তবে ট্রান্সফার মার্কেট এ বিস্ফোরণ ঘটিছে পি এস জি, লীগ ওয়ান এর অন্যতম শক্তিশালী দল, নেইমার জুনিয়র কে দলে ভিরিয়ে এক কথায় সবাইকে চমকে দিয়েছে । রেকর্ড ১৯৮ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে নেইমার কে বার্সেলোনা থেকে এক রকম ছিনিয়ে নিয়ে এই চলতি মৌসুমে আলোচনার মধ্যমনি হয়ে উঠেছে প্যারিসের অন্যতম ক্লাবটি । শুধু নেইমার কে দলে ভিড়িয়ে ও যেন এখনো খিদে মিটে নি কাতার মালিকানা  ভিত্তিক এই ক্লাবটির । তাই মৌসুম শেষ হওয়ার আগে হাত বারিয়েছে প্রতিপক্ষ ক্লাব মনাকোর নতুন প্রতিভা কেয়লিয়ান এম্বাপের দিকে । সব কিছু ঠিক থাকলে নেইমার এর পাশে এম্বাপে কে দেখা যেতে পারে পারিস এর ক্লাবটিতে ।

থেমে নাই অন্য ক্লাব গুলাও, পেপ গার্দিওলার ম্যানসিটি ইতিমধ্যে আলোচনায় এসছে রক্ষণ ভাগে মোটা টাকা ঢেলে । শুধু এই মৌসুমে ২১৯ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ হয়েছে ম্যান সিটির । দলে নতুন যোগ দেয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন বেঞ্জামিন মেন্ডি, কাইল ওকার, ব্রেনার্ড সিলভা, এডারসন এবং ডেনিলোর মতো উঠতি তারকারা । ম্যানসিটির এবার প্রিমিয়ার লিগে দ্বিতীয় হওয়ার কোনো অজুহাত মালিক পক্ষ মেনে নেবে না এবং এর সাথে যোগ হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগে ভালো করার তাগিদ । তাই পেপ গার্দিওলার উপর প্রত্যাশার চাপটাও থাকবে অনেক । তারকা খচিত ম্যানসিটি কে আসনারূপ ফলাফল এনে না দিতে পারলে গার্দিওলাকে হয়তো পারি জমাতে হবে অন্য ক্লাবে ।

গত কয়েক মৌসুম ধরে দলবদলের বাজারে কিছুটা নীরব রিয়েল মাদ্রিদ এবং এই পরিবর্তনটা  লক্ষ করা যাচ্ছে জিনেদিন জিদান এর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে । জিদান বড় প্রতিষ্ঠিত তারকাদের দলে ভেড়ানোর পরিবর্তে উঠতি তারকাদের সুযোগ দেয়ার পক্ষে । আর ইতিমধ্যে সুফল ও পেতে শুরু করেছে মাদ্রিদ । এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত শুধু ৪১ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যায় করছে রিয়েল মাদ্রিদ, যা সত্যি অবাক করে দেয়ার মতো । এক সময় দলবদলের বাজারে রেকর্ড এর পর রেকর্ড সৃষ্টিকারী ক্লাবটি এখন জিদান এর হাত ধরে নতুন কৌশল কাজে লাগিয়ে তারুণ্য নির্ভর দল গড়তে আগ্রহী ।

রিয়েল মাদ্রিদ এর নাম এর সাথে বার্সেলোন ফুটবল ক্লাব নামটিও মনের অজান্তে চলে আসে মুখে । বার্সেলোনার জন্য সময়টা ভালো যাচ্ছেনা, মৌসুমের শুরুতে স্প্যানিশ সুপার কাপে রিয়েল মাদ্রিদ এর কাছে বড় পরাজয়, একে এর পর এক খেলোয়াড় কিনতে ব্যার্থতা আর নেইমার এর দল ছাড়ার কারণে মোট মুটি বিপাকেই ছিল বার্সেলোনা । নেইমার এর স্থানে নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়ার জন্য মরিয়া বার্সেলোনাকে মোটামুটি হিমশিম খেতে হচ্ছিলো, এর সাথে যোগ হওয়া মেসির দল ছাড়ার গুজব । সম্প্রতি ১০৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যায় করে ওসমান ডেম্বেলে কে দলে টেনে কিছুটা স্বস্তিতে কাতালানরা । ডেম্বেলের মাধ্যমে নেইমার এর শূন্য স্থান পূরণের আশা দেখছে বার্সা । যদিও লিভারপুল এর ১০ নম্বর ফিলিপে কোতিনহো কে দলে নেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা আপাদত ব্যার্থই মনে হচ্ছে । অন্য দিকে আরেক ব্রাজিলিয়ান পউলিনহোর সংযোজন কে ভালো ভাবে দেখছেন না বার্সা সমর্থকরা । গত কিছু মৌসুমে বার্সা প্রত্যাশা অনুসারে খেলোয়াড় দলে ভিড়াতে পারেনি, এই বারের মৌসুম ও ভালো যায়নি । স্বস্তির বেপার একটাই, আর তা হলো মেসির থেকে যাওয়া ( যদিও এ ব্যাপারে খুব চিন্তিত ছিলোনা যারা বার্সেলোনা এবং মেসি কে দীর্ঘদিন অনুসরণ করছে ) । কেন না এই বারের লা লীগের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে মেসিকেই যে মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে ।

দলবদলের বাজরে আরেক বড় নাম ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড, আর কোচ যখন মরিনহো তখন, জেনে রাখা ভালো, তিনি সবচে বেশি খরুচে কোচদের তালিকায় এখনো শীর্ষে । মরিনহো এই মৌসুমে ব্যায় করেছেন ১৪৮ মিলিয়ন পাউন্ড । দলে টেনেছেন লুকাকু আর মাটিক এর মতো প্রিমিয়ার লীগের পরীক্ষিত যোদ্ধা । এর সাথে যোগ হয়েসেন উঠতি তারকা ভিক্টর লিন্ডেলফ । মৌসুম এর শুরুতে এখন পর্যন্ত মরিনহোর ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড কে কঠিন প্রতিপক্ষই মনে হচ্ছে । তবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন চেলসিও, রিয়েল মাদ্রিদের উঠতি প্রতিভা মোরাতা সহ আরো কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় ইতিমধ্যে দলে টেনে শিরোপা ধরে রাখার জন্য মরিয়া ।

আলোচিত এই সব ট্রান্সফার ছাড়াও প্রত্যেক দল অগণিত খেলোয়াড় দলে টেনেছেন, যার মূল্যমান প্রায় কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যাবে । ইউরোপিয়ান ট্রান্সফার নিয়ে বিস্তারিত লিখতে গেলে এই আর্টিকেল আর শেষ হবে না । তাই শুধু আলোচিত দলবদল গুলো এখানে তুলে ধরার একটা প্রয়াস মাত্র ।

আমার আর্টিকেলটি ধৈর্যের সাথে পড়ার জন্য ধন্যবাদ ।