সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্য

Now Reading
সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাফল্য

বাংলাদেশ খারাপ খেললে খারাপ লাগে।  রাগে দুঃখে মনে হয় অার কখনও বাংলাদেশের খেলাই দেখবো না। শেষমেশ আবার দেশপ্রেম টানের কারণে আবার  অাশায় অাশায় বাংলাদেশের খারাপ খেলার সাক্ষি হয়ে রই। ক্রিকেট খেলা মানে কি শুধু বড় বড় শট খেলার নাম।  সিঙ্গেল, ডট বল বেশি না করে, খারাপ বলগুলোকে বাউন্ডারি করাই তো পেশাধারী ব্যাটসম্যানের গুণ।  অার অামাদের বাঙ্গালী ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যেটা দেখা যায়।

আমাদের বাংলাদেশের প্লেয়ারদের মধ্যে একটা জিনিস খুবই ভালভাবে দেখা যায়। সেটা হলো নার্ভাসনেস। যা বাংলাদেশের প্লেয়াররা কখনোই দূর করতে পারে না। আর এর কারণেই আমাদের হারতে হয়। সাথে সাথে ভেঙে পড়ে মন মানসিকতা আর জিতার জন্যে যে প্রবল মনটা দরকার সেটা আর পরবর্তী ম্যাচে পাওয়া যায় না।

আমরা ভালভাবে দেখলে বুঝতে পারবো যে, বাংলাদেশ কখনোই বড় টার্গেটের ম্যাচ জিততে পারে না। তাই বাংলাদেশের শুরু থেকে বড় লক্ষ্যের জন্য রান রেট ৬ এর কাছাকাছি রেখে অাগানো উচিৎ। কিন্তু তা তারা পারে না। যার ফলে আমাদের হারতে হয়। বাংলাদেশ দেশের মাটিতে ভাল করে কিন্তু তাই বলে এটা না যে বাংলাদেশ অনেক বড়।

এখন আসা যাক বাংলাদেশ এবং সাউথ আফ্রিকার সিরিজ প্রসঙ্গে____

নিকট অতীতে সৌম্য, লিটনের মতো এমন অমানবিক তথা খুবই খারাপভাবে সমালোচনা কোনো প্লেয়ারকে সহ্য করতে হয় নি। সৌম্য একদিন স্মিথের মতো খাঁটি সোনায় রূপান্তরিত হবেন। কিন্তু আবারও বলতেছি, দলে আসা নতুন একটা প্লেয়ার নিয়ে সমালোচনা করতে হলে তাকে তার যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। তারা আসলেই একটু বেশি দুর্ভাগা। এজন্য আসলে তাদের ধর্ম দায়ী কিনা আমার আসলেই জানা নেই। প্রসঙ্গ লিটন কুমার দাশ যাকে আমরা ঘরোয়া  লিজেন্ড আবার হিন্দু কোটার প্লেয়ারও বলে থাকি। এই প্লেয়ার সম্পর্কে সবারই কম বেশি নেগেটিভ কথা বার্তা শুনে থাকি। কিন্তু এই প্লেয়ারটাকে আমরা কি ঠিক ভাবে সময় দিছি বলেন। ২ বছরে সে কতগুলো ম্যাচ খেলছে। সে মাত্র ২ বছরে ৬টি টেষ্ট খেলেছে। তাহলে এখন বলা যায় সে কি নিয়মিত খেলতেছে। যেখানে নিয়মিত খেলতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে এই প্লেয়ারটি যতটুকু পারে নিজেরটাই দিয়ে খেলে। আমরা বাঙালীরা তো জাতে মাতাল তালে ঠিক। এটা আর নতুন কি কথা। তাই বলতে বাধ্য হচ্ছি লিটনকে আরও বেশি বেশি টেষ্ট খেলার সুযোগ করে দেয়া হোক। অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলাম খেলায় আসা যাক_

আমাদের অধিনায়ক আর ম্যানেজম্যান্টের ভুল সিদ্ধান্তে দক্ষিণ আফ্রিকায় হারের বৃত্তে বন্দি হয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগেও বাংলাদেশ দেশের মাটিতে ছাড়াও বাহিরে বহুবার খেলেছে এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। ইডেন-লডর্স , মেলর্বোন-পাল্লেকেল্লে অথবা গাদ্দাফি স্টেডিয়াম সব জায়গাতেই কম-বেশি স্বাগতিকদের মুখোমুখি হয়েছে টাইগাররা।  ইতিমধ্যে টেষ্টে লজ্জা জনক ভাবে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমটিতে ৩৩৩ রানে হেরেছে এবং  তাও আবার দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০ রানের ভেতর বন্দি হয়ে। তার পর দ্বিতীয় ম্যাচে রান ও ইনিংস ব্যবধানে। এগুলা কি মশকারি বলেন।

২০১৭ সালে আমরা ৯ টি টেষ্ট ম্যাচ খেলেছি। এর মধ্যে এশিয়ার বাইরে ৪টি। তারমধ্যে ২টি জয়, বাকি ৭টি ম্যাচ হেরেছি আমরা। আর এই ৯ ম্যাচে আমাদের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কোনো সেঞ্চুরিই নেই। এটা নিয়ে আর কি বলবো। অন্যদিকে লোয়ার মিডল অর্ডার এবং লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিং পারফরম্যান্স হতাশাজনক ২০১৬ সাল এবং ২০১৭ সাল ধরে।

বোলিংয়ের দিকে চোখ দেন , এই ৯ টেস্টে সাকিব ২ বার ৫ উইকেট নিয়েছেন। বাকিদের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য না। একা সাকিব কি টেষ্ট খেলে। এই যদি হয়  টেস্ট টিমের পুরো বছরের পারফরম্যান্স, তাহলে আপনাকে মানতেই হবে টেস্ট টিম হিসেবে আপনার টিম মোটামুটি ভালো অবস্থানেও নেই।

প্রোটিয়াদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ইনজুরিতে পড়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে পারেননি টাইগার দলের পরীক্ষিত ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। ওয়ানডে সিরিজের পূর্বে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেও সাইড বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন তিনি। এমনকি সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও দলে ছিলেন না এই ওপেনার। আর শেষ অবদি তাকে আর মাঠে দেখাও গেল না। আর তার অনুপস্থিতে কি আমাদের ওয়ানডেতে হোয়াট ওয়াশ হতে হলো।

আর একটা কথা  মুমিনুল, মাহমুদুল্লাহ, কায়েস, তাসকিন আপনাদের প্রিয় খেলোয়াড়, তাই অতি জঘন্য পারফরম্যান্স করলেও তাঁদের আপনারা দলে চাইবেন। তাদের বিন্দুমাত্র সমালোচনাও করবেন না। কিন্তু দলে নতুনরা খারাপ অথবা একটু খারাপ করলেও তাদের নিয়ে সমালোচনা করবেন, ট্রল বানাবেন, সাম্প্রদায়িক আচরণ করবেন। এটা কেমন আচরণ? আবার এমন কিছু বর্বর আছে, যারা প্লেয়ারদের পরিবার তথা মা-বাপ তুলে গালি দিতেও ছাড়ে না। সবাইকে এটা পরিহার করার জন্যে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

তবে এতো কিছুর পরও বাংলাদেশের প্লেয়ারদের কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য রয়েছে যা দেয়া হলো_

ওয়ানডে তে সবচেয়ে কম ম্যাচে (১৭৮) ৫ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের রেকর্ড গড়ে সাকিব পেছনে ফেলেছেন জ্যাক ক্যালিস-সনাৎ জয়াসুরিয়াদের মতো কিংবদন্তিদের। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ওয়ানডেতে ২০০ উইকেট পেয়েছেন অনেক আগেই, প্রোটিয়াদের বিপক্ষে হোম সিরিজে। কিন্তু ৫ হাজার রান করতে অপেক্ষা করতে হলো দুই বছর। 

ওয়ানডে তে দ্রুততম ৫ হাজার রান ও ২০০ উইকেট
ম্যাচ রান উইকেট
সাকিব ১৭৮ ৫০১২ ২২৪
ক্যালিস ২২১ ৭৭০৩ ২০০
জয়াসুরিয়া ২৩৫ ৬৬০১ ২০০
আফ্রিদি ২৩৯ ৫০৭১ ২০১
আবদুল রাজ্জাক ২৫৮ ৫০৪০ ২৬৩

অধিনায়কত্ব ছাড়া রিলাক্সে  খেলে দলের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিককের অর্জন ১১০ রান মাত্র ১১৬ বলে ।

টেষ্ট সিরিজ+ওয়ানডে তে হোয়াই ওয়াশ পর আশা করছি বাংলাদেশ টি-২০ তে একটি ম্যাচ অন্তত জিতার আশা রাখে যদিও প্রতিটি প্লেয়ারদের মানসিক অবস্থা এখন বেশি ভাল না। লজ্জাজনক ভাবে হারার পর তাদের মন ভেঙে যাবে এটাই স্বাভাবিক। তবুও আমরা বাঙালীরা বেশি ইমোশনাল আর প্র্যাক্টিক্যালি কম বুঝি। তাই বাংলাদেশের কাছে এতটূকু আশা করাই যায়।