ভার্চুয়াল

Now Reading
ভার্চুয়াল

একবিংশ শতাব্দীতে এসেও ফেসবুকে লগইন করলে যখন দেখি ইনবক্সে কেউ মেসেজ করছে “এই মেসেজটি দশজন কে ফরওয়ার্ড করলে তিনদিনের মধ্যে খুশির সংবাদ পাবেন আর ইগনোর করলে আগামী দশ বছরেও কোন খুশির খবর জুটবে না” তখন বড়ই হাসি পায়।আবার কেউ কেউ তো মেসেজের শেষে লিখে দেয় “কালেমার কসম মেসেজটি আমি সেন্ট করব” এই টাইপের।তারমানে আপনি যখন ওই বাক্যটা পড়বেন তখন সেল্ফ ব্লাকমেইল হয়ে নিজেই যেন মেসেজটা ফরওয়ার্ড করেন।কোন মেসেজে আবার আল্লাহ তায়ালার ৯৯’টা নাম ফরওয়ার্ডের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে জান্নাতের গ্যারান্টি দেওয়া হয়। জান্নাতের লোভে যে ব্যক্তিটা কোনদিন জুমআ’র নামাজেও যায় না সে পর্যন্ত গণহারে ফরওয়ার্ড মাইরা ফেসবুক কাঁপিয়ে দেয়। অবশ্য হতবাক হওয়ার কোন মানেই হয় না।কারণ এজাতি ৩০০টাকার এনার্জি লাইট ১০০টাকায় কিনে অভ্যস্ত।তাই সব জায়গায় শর্টকার্টভাবে লাভবান হওয়ার ওয়ে খুজে বেড়ায়।
 
এখানেই শেষ নয় ১৫’সাল থেকে দেখে আসছি একটা ছোট ছেলে আর একটা মেয়ের পিকে সাহায্যের বাণী দিয়ে বার্তার মাধ্যমে মানুষকে বোকা বানান।আকুতি জানানো হচ্ছে একবার কেউ মেসেজটা সেন্ট করলে ভিকটিম ১ডলার করে পাবে। আবেগে কান্দালাইছি মতো অবস্থায় বাঙালী মেসেসগুলো ছড়িয়ে বেড়ায়।
এরপর আসল কোন একটা ব্যাক্তির নাম।যে কিনা বিরাট বড় মাপের হ্যাকার, তাই তার ফ্রেন্ডরিকুয়েস্ট একসেপ্ট করা যাবে না। একসেস্ট করলেই সাথে সাথেই আইডি হ্যাক।রীতিমত তো প্রেমিক পুরুষরা তাদের গফদের মেসেজটা সেন্ট করতে সেকেন্ড সময় নেয়নি।পড়াটা শেষ করার ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যই কপি টু পেস্ট দ্যেন গণহারে সিলেক্ট দিয়ে ফরওয়ার্ড।
 
এরপর আসলো সম্প্রতি “ব্লু-হোয়েল” নিয়ে বার্তা। এই নাম্বারে কল আসলে একসেপ্ট করা যাবে না, ওই লিঙ্কে ক্লিক করা যাবে না হ্যানত্যান আরও কত কি। আবার কাল থেকে একটা মেসেজ পাচ্ছি সেটা হচ্ছে শুক্রবার রাত ৯-১০ পর্যন্ত সব স্মার্টফোন একঘন্টা অফ রাখতে হবে, না রাখলে ব্লু-হোয়েল গেম অটমেটিক্যালী সব তথ্য নিয়ে ইন্সটল হয়ে যাবে আপনার ফোনে।বাহ্ যাদুর মতো নাহ্ ব্যাপারটা! হুম স্টার জলসার নাটকের মতোই সত্য।শেষে আবার হ্যাসট্যাগ দেওয়া হচ্ছে “BTRC”। সাথে সাথে আবুলেরা নিজেকে সর্বজ্ঞানী,আপটুডেট ভেবে পোস্ট,শেয়ার,ফরওয়ার্ড নিয়ে ব্যস্ত। এসবের মূল ঘটনার নেপথ্যে থাকে দুর্ঘটনার সৃষ্টি অনাকাঙ্খিত ফসলস্বরূপ কিছু কাপুরুষ। যারা পরিকল্পিতভাবে নিজেকে হিডেন রেখে এসব বার্তা বড় বড় গ্রুপে ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের বিভ্রান্তি করে থাকে। আমরা না বুঝেই তাদের টোপে পরি।আর ওইসব কাপুরুষরা নিজেকে বীরপুরুষ জাহির করে মজা নেয়।
 
আর সেলফি প্রতিবন্দিদের কথা না হয় নাই বা শুনলেন।কেন সেলফি- প্রতিবন্দি বললাম জানেন? সেলফি মানেই এরা বোঝে মুখের আকৃতি যতটা বিকৃতি করা যায়। এরা আবার নিজেকে আধুনিক বলেই দাবি করে। প্রতিদিন স্টাটাস প্রসব না করলে, স্টাটাসবাজি না করলে এদের ঘুমই হয়না। DSLR পিক আপলোড না দিতে পারলে এরা আবার হীনমন্যতায় ভোগে। ফেসবুকটা এখন পুরাই গ্রামের পালা-যাত্রা গানের মঞ্চ হয়ে যাচ্ছে। যাত্রা গানের মঞ্চ কেন বললাম জানেন, যে কেউ সিরাজউদ্দৌলার দুটি ডায়ালগ দিয়ে একটি অট্টহাসি হেসে ছাগলছানার মতো তিরিং-বিরিং লাফাতে পারলেই মঞ্চে জায়গা হয়ে যায় অভিনেতা হিসাবে। কারণ নিছক বিনোদনই সেখানে মূল বিষয়।তাতে অবশ্য দোষেরও কিছু নেয়। দর্শক বিনোদিত হইলেই হল।কিন্তু তাই বলে আপনি ফেসবুকের মতো পাবলিক প্লেসে বান্দরবাজি করবেন যখন তখন তা একেবারেই অনাকাঙ্খিত, অপ্রত্যাশিত। ভাই থামেন আপনি বান্দরনাচ নাচবেন নাচেন কিন্তু দরজা জানালা বন্ধ করে নেচে একাই বিনোদিত হোন। কারণ আপনার বান্দরনাচ কেউ দেখতে চায় না।যুগটা আর যাত্রা গানের যুগ নাই ভাই। নিজেকে বদলান, সুস্থ হোন, অসুস্থের মতো এসব করবেন না। আর যদি যাত্রাগানের ফরমেট থেকে যদি না বেরুতে পারেন তাইলে যা ইচ্ছা পোস্ট প্রসব করেন কিন্তু উইথ ম্যি দিয়েন, পাবলিক করবেন না। কেননা আপনি ভুলে গেলে হবেনা যে আপনার বান্দরনাচ কেউ দেখতে চায় না।
এখানেই শেষ!! নাহ্ আরও আছে।করিমন থেকে ক্যাটরিনা, জেরিন থেকে যেসী, আমিনা থেকে এ্যানজেল হয়ে ওঠা মানুষের শেষ নাই। নিজ সত্বাকে ভুল যেতে খুব পারদর্শি এরা।এইতো এসবই ফেসবুক জগতের নাবলা আত্মকাহানী।
 
বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ২.৫কোটি। এর বেশির ভাগই তরুণ। আই ম্যিন শিক্ষত সমাজ। আবার এসব শিক্ষিত মানুষরাই এসব মেসেজ ছড়িয়ে বেড়ায়। অবাক লাগে অনেকের কাছ থেকে যখন এধরনের স্পামিং মেসেজগুলা আসতে থাকে। যার কোন সত্যতা নাই। একটু চিন্তা করলেই যে কেউ বুঝতে পারে ব্যপারগুলো। আমরা সুস্থ চিন্তা করতে ভুলে গেছি, নাকি এসব আবালত্বের বহি:প্রকাশ কে জানে! ক্যারোলাস লিনিসায় বেঁচে থাকলে হয়ত কঠিনভাবে এতো সাধনা করে গবেষনা করে শ্রেণিবিন্যাস করত না। বাঙালী জাতির কর্মকান্ড নিয়ে ১ঘণ্টা গবেষণা করেই “আবালতত্ব” থিওরির মাধ্যমে “আবাল সম্প্রদায়” নামে আরেকটা সম্প্রদায় শ্রেণিবিন্যাসে যোগ হতো।