যে মানসিক অসুখটি আপনাকে সফল হতে দিচ্ছে না!! (অধিকাংশ মানুষই জানে না তারা এতে আক্রান্ত)

Now Reading
যে মানসিক অসুখটি আপনাকে সফল হতে দিচ্ছে না!! (অধিকাংশ মানুষই জানে না তারা এতে আক্রান্ত)

সফলতা আর ব্যর্থতার সংজ্ঞা কি? কাকে আমরা বলি সফল মানুষ, আর কাকে বলি ব্যর্থ মানুষ? টাকা-পয়সা, উঁচু পদ , সুখের সংসার কোনটা আসলে সফলতা? মূলত সফলতা নির্ভর করে প্রতিটা মানুষ তার জীবনকে কিভাবে দেখে তার উপর। মানুষ যখন নিজের জীবন নিয়ে হতাশ থাকে,বা অপ্রাপ্তি তাকে ঘিরে ধরে, তাকেই বলে ব্যর্থতা । তবে জীবনের এই না পাওয়া, অপ্রাপ্তি বা এই ব্যর্থতার কারণ কিন্তু মানুষের একটি মানসিক রোগ।

এরকম একটি অসুখের নাম হচ্ছে excusitise. বাংলায় যেটাকে বলা যায় ‘অজুহাত রোগ’। যারা জীবনে কিছু করে উঠতে পারে নি, তারা অন্যদেরকে বোঝায় কেন করেনি, কেন করেনা, কেন পারে না, ও কেন তারা নয়। অনেক সময় এটা একটা অসুখে পরিণত হয়।

তো ,অজুহাতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রথম দিকে ব্যর্থতায় হতাশ হয়ে ভালো একটি অজুহাত বের করে হতাশা থেকে মুক্তির জন্য। কিন্তু ,এই রোগগ্রস্ত ব্যক্তিটি যতবারই অজুহাত দেখায়, ততবারই তা তাদের মনের মধ্যে গেঁথে যায়। এক সময় যে অজুহাত সে ব্যর্থতা ঢাকার জন্য ব্যবহার করত পরে সে তা নিজেই বিশ্বাস করতে শুরু করে।
এটি কিন্তু একটি ভয়ানক অসুখ যা মানুষকে জীবনে সফল হতে বাধাগ্রস্ত করে এবং মানুষ মনের অজান্তেই এই অসুখের শিকার হয়ে পরে। সফলতা লাভ করতে হলে প্রথমেই নিজেকে এই অজুহাত রোগ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
এই অসুখের অনেক গুলো ধরন আছে। তবে ৪ ধরনের এক্সকিউসাইটিস আছে যা সাধারণত মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়-

 

১। স্বাস্থ্য এক্সকিউসাইটিসঃ
হাজার হাজার মানুষ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অজুহাত বা স্বাস্থ্য এক্সকিউসাইটিস রোগে আক্রান্ত। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চির পরিচিত কিছু কথা আছে- ‘কি করব ,শরীর টা যে একদমই ভালো যাচ্ছে না ’, ‘শরীর ভালো নেই’। এই রোগীদের মধ্যে অবচেতন ভাবে এই ধারনা গেড়ে বসে যে, তাদের শরীর খুবই অসুস্থ। কেও তাকে বুঝতে পারছে না এবং তাদের জীবনে সফলতা না আসার কারণও এই অসুস্থতা।

এই স্বাস্থ্য এক্সকিউসাইটিস থেকে রক্ষা পাবার কিছু কৌশল রয়েছে-
• নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে কোন রকম আলোচনা করবেন না। নিজের অসুখ নিয়ে যত বেশি কথা বলবেন ততই অসুখ টি আরও গুরুতর হবে।
অবচেতন মনেই অসুস্থতা থেকে ভালো হবার মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলবেন। অসুখের কথা বেশি বলার কারণে মানুষের কাছে সাময়িক সহানুভূতি পাবেন কিন্তু মনে রাখবেন যে সব সময় অভিযোগ করে তাকে কেও শ্রদ্ধা করে না। আর সফল ব্যক্তিদের মধ্যে একটি অভ্যাস দেখতে পাওয়া যায় যে তারা তাদের অসুস্থতাকে উপেক্ষা করে বা এড়িয়ে যায়।

• স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তাকে মোটেও প্রশ্রয় দিবেন না। ডাক্তারদের মতে, প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ পাওয়া অসম্ভব। এজন্য চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করুন। দুশ্চিন্তা যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ না করে।
• আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞতা বোধ করুন, যে আপনি যেমন আছেন বেশ ভালো আছেন। আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে এই সুন্দর ধারনা আপনাকে ব্যথা-বেদনা ও নতুন কোন অসুখ থেকে সুরক্ষা দেবে।
• জীবন কে উপভোগ করুন, অপচয় করবেন না। মনে রাখবেন জীবনটা আপনার। নিজেকে বারবার বলুন,’মৃত্যুর আগে মরবো না’।

 

 

২।বুদ্ধিমত্তার এক্সকিউসাইটিসঃ
ব্যর্থতার একটি অতি পরিচিত শব্দ ‘আমি বোকা’ বা ‘এসব আমাকে দিয়ে হবে না’। আমাদের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ এ রোগে ভুগছে।এরা মনে করে এদের মেধা কম।এজন্য কোন কাজে তারা নিজের উপর আত্মবিশ্বাস পায় না। অন্যান্য এক্সকিউসাইটিস রোগীদের সাথে এদের পার্থক্য হচ্ছে এরা নিঃশব্দের কষ্ট সহ্য করে।

বুদ্ধিমত্তার এক্সকিউসাইটিস থেকে উত্তরণের কিছু কৌশল রয়েছে-

• পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করুন। সফল মানুষের জীবন দেখলে বোঝা যায় বুদ্ধির চাইতেও পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি তাদের বেশি কাজে এসেছে। এজন্য নিজেকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দিন ‘আমার মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি আমার বুদ্ধির চাইতেও বেশি প্রয়োজন’। জেতার পথ টা খুঁজুন, আপনি হেরে যাবেন এটা প্রমাণের জন্য বা মানুষ কে বোঝানর জন্য বুদ্ধি খরচ করবেন না।

• নিজের বুদ্ধিকে সর্বোচ্চ কাজে লাগান। মনে রাখবেন আপনি কতটা বুদ্ধিমান তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ । আপনি আপনার বুদ্ধিকে কি পরিমাণ কাজে লাগাচ্ছেন। আপনার বুদ্ধি কম  এবং অন্যজনের বুদ্ধি বেশী এ ধরনের চিন্তা থেকে বেড়িয়ে আসুন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে বেশির ভাগ মানুষ তার বুদ্ধির ১০% ও ব্যবহার করেন না। সুতরাং আপনার বুদ্ধির সর্বোচ্চ ব্যবহার করুন। পরিশ্রমী হন। সাফল্য আসবেই।

sad-2635043_1920.jpg

 

৩। বয়সের এক্সকিউসাইটিসঃ
আপনি সঠিক বয়সে নেই বা আপনার বয়স আপনার সফলতার পিছনে বাঁধার কারণ এরকম ভাবাটাকে বলা হয় বয়সের এক্সকিউসাইটিস । এক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করেন, ‘আমার বয়স হয়েছে, এ বয়সে কি আর সম্ভব?’ অথবা ‘আমিতো অনেক ছোট,এজন্য করতে পারছি না’। অধিকাংশ মানুষ ৪০ বছর বয়সেই নিজেকে বয়স্ক মনে করে এবং ২৫ বছরের আগে নিজেকে বড় মনে করে না।

বয়সের এক্সকিউসাইটিস থেকে রক্ষা পাবার উপায়:

  • ‘আগেই করা দরকার ছিল’ এধরনের ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসুন। বরং ভাবুন আমি এখন থেকেই শুরু করব।
  • নিজের বয়স নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। নিজেকে সব সময় তরুণ ভাবুন। এমন কি ৭০ বছর বয়সেও ভাবুন আমি তরুণ। মনে রাখবেন, বারাক ওবামা ৪৫ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন আর ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭০ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট হন।
  • বয়স কম বলে বড় দায়িত্ব নিবেনা, এটাও মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। একবার, মার্ক জুকারবার্গের দিকে তাকান।

 

৪।ভাগ্যের এক্সকিউসাইটিসঃ

অনেক লোক মনে করে দুর্ভাগ্য তাদের ব্যর্থতার প্রধান কারণ। একসময় এটা তারা এমন ভাবে বিশ্বাস করা শুরু করে যে, নতুন কিছু করার সাহস হারিয়ে ফেলে।

এটা থেকে বের হবার উপায়গুলো হচ্ছে-
১।মনে রাখবেন সফলতার প্রধান কারণ প্রস্তুতি, পরিশ্রম, সফলতার ইচ্ছা।
আপনি যদি সফল ও ব্যর্থ মানুষের জীবন দেখে তবে দেখবেন সফল মানুষ ও বিভিন্ন সময় পরাজিত হয়। তবে তা থেকে তারা শিক্ষা নিয়ে নতুন ভাবে এগিয়ে যায়। আর ব্যর্থ ব্যক্তিরা একে দুর্ভাগ্য মনে করে থেমে যায়।

২। ভাগ্য কাওকে সফল করতে পারে না। ভাগ্যের জোরে কখনও কখনও সাময়িক সাফল্য আসতে পারে । তবে জীবনের দীর্ঘপথে সফলতার জন্য প্রয়োজন পরিশ্রম।

 

সুতরাং,
সফল ব্যক্তিদের মধ্যে কখনও অজুহাত দেবার প্রবণতা দেখা যায় না। তার মানে কি তাদের জীবনে অজুহাত দেবার বিষয়ের অভাব ছিল।
তাহলে তো রুজভেল্ট বলতে পারতেন তার তো পা দুটো অচল, বন জঙ্গল দাপিয়ে বেড়ান চে গুয়েভারা বলতে পারতেন তার নিউমোনিয়ার কথা, আইস্যান হাওয়ার বলতে পারতেন তার হৃদরোগের কথা, মার্ক জুকারবার্গ এবং বিল গেটস দিতে পারতেন অসমাপ্ত শিক্ষা জীবনের অজুহাত, আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা জেক মা চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিটি বলতে পারতেন ,আমি তো অক্সফোর্ডেই পড়তে পারলাম না ।

তাই, মেনে চলুন এই নিয়মগুলো, আর সফলতার পথে এগিয়ে যান দৃঢ় প্রত্যয়ে!!

ডুবন্ত আমি থেকে স্বনির্ভর আমি

Now Reading
ডুবন্ত আমি থেকে স্বনির্ভর আমি

“আমার জীবনে তো কিছু হলো না, হবেও না। আমি কই যাবো? কিভাবে নিজেকে উপরে তুলবো? আমার এর দুঃসময় কি আদৌ কাটবে? আমি নিজেকে কিভাবে শুধরাবো?”- ইত্যাদি ইত্যাদি চিন্তা সারাক্ষণ মাথায় ঘুরে। হতাশা আপনাকে অক্টোপাশের মত ঘিরে আছে। সাহায্যের সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। জীবনের আশার আলোর প্রদীপটা নিভু নিভু করছে। গার্লফ্রেন্ড চলে গেছে? চাকরী নাই? পড়াশোনায় খারাপ বলে আশে পাশের সামাজিক প্রাণীদের কটু বাক্য প্রতিদিন শুনেন? দেনায় ডুবে আছেন? আচ্ছা রিলাক্স। আপনার মত এমন হাজারো ভুক্তোভুগি আপনার ই আশে পাশে ঘুর ঘুর করছে । হয়ত কারো কারো সমস্যা আপনার চেয়েও বিশাল। এদের মাঝে অনেকে হাত কাটা-কাটি,নেশা করা, সুইসাইড ইত্যাদি বাজে কাজগুলোর দিকে যাচ্ছে বা যাবার চিন্তা করছে । আপনার ও অবস্থা সেদিকে যাবার পথে। কি যাবেন সেই পথে নাকি একটু নিজেকে সামলে আগের চেয়ে দ্বিগুণ তেজে নিজেকে ঝালিয়ে নিয়ে নতুন করে শুরু করতে চান জীবন? আজকের পোস্টটা সেই জীবনযুদ্ধে পরাজিত কিন্তু আশা বাচিয়ে রাখা মানুষগুলোর জন্যই ।

একটা গল্প বলি শুরুতে। একটা ছেলের গল্প। ছেলেটা না ছিল ভাল স্টুডেন্ট না ছিল দেখতে আহামরি না ছিল ধনী পরিবারের।৫ম এবং ৮ম শ্রেনীতে বৃত্তি পায়নি বলে ৩ মাস নিজ পরিবারে একঘরে করে রাখা হয়েছিল তাকে । অনেক এক্সপেকটেশন থাকা সত্বেও সে পারেনি মাধ্যমিক এ পরিবারকে ভাল রেজাল্ট এনে দিতে।  এভারেজ রেজাল্ট নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর পরিবার আর সমাজের বাক্যবাণে জর্জরিত হয়ে পাবলিক ভার্সিটি ট্রাই ই করলো না।  ২ বছর পড়ার পর আর্থিক অসঙ্গতি এর কারনে পড়াশোনা স্থগিত থাকলো তার । সমাজ জানলো রেজাল্ট খারাপ এর জন্য ভার্সিটি তাকে কিক আউট করেছে। এতটাই ভেঙ্গে পড়েছিল সে , তার ঘর ছিল তার কারাগারের সেল। এমতাবস্থায় ভালবাসার মানুষটিও তাকে একলা করে পরপারে পাড়ি জমায় । ৬ টা মাস সে তার মেসের রুম ছাড়া কিছু চিনতো না।

নাহ! ছেলেটা সুইসাইড, হাত কাটাকাটি করেনি। নিজেকে উপযুক্ত বানিয়েছে। শান দিয়েছে নিজের মস্তিষ্কে। এভারেজ রেজাল্ট করা ছেলেটা আজকে তারই সমবয়সী ছেলেগুলার মাঝে স্পেশাল । সবাই তাকে আলাদাভাবে এডামায়ার করে। সমাজ তাকে সাদরে আমন্ত্রন জানায়। নিজের পড়াশুনা আবার শুরু করেছে সে । এবার নিজেই খরচ চালায় নিজের। বাবা – কেও খুশি রাখে।  বোনের আবদার মিটায় । কিভাবে?

সবার আগে নিজের ভিতর নিজেকে খুজুন। উপরে যিনি বসে আছেন, তিনি সবাইকে প্রিমিয়াম প্রোডাক্ট হিসেবে বানিয়েছেন। প্রত্যেকের এই দুনিয়াতে আসার পিছনে কোন না কোন কারন আছে। নিজের মুল্য নিজেকে খুজতে হবে। আপনার চারপাশের মানুষগুলোর মাঝে নিজের একটা ভ্যালু সৃষ্টি করার চেস্টা করেন। আপনি বলবেন – “মাথা থেকে মন খারাপের কারন সরাতে পারিনা। কি করবো?” আমার উত্তর হবে নেশা করুন। এই নেশা মাদকের না। এই নেশা হতে পারে সঙ্গীতের, এই নেশা হতে পারে পেইন্টিং এর, এই নেশা হতে পারে বইয়ের, এই নেশা হতে পারে লেখালেখির, খেলাখুলার, বাগান করার ইত্যাদি যে কোন কিছু যা আপনার করতে ভাললাগে এবং খুব মনযোগ দিতে করতে পারেন। এমন কাজের নেশা করুন যা করার সময় অন্য কোন দিকে আপনার মন যেতেই পারবে না।

মনে রাখবেন – টাইম ইজ এ গ্রেট হিলার। নিজেকে নিজে সময় দেন। ক্ষতগুলো একসময় সেরে যাবেই। কোন কিছুই চিরস্থায়ী না আর এ তো সামান্য ছিটকে পড়া। ছিটকে পরে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আসা আমাদের উচিত না, বরং পুনরায় লেগে পরা উচিত। নিজের ভেতর একটা জিদ নিয়ে আসুন নিজেকে সফল দেখার। সময় পেলে সাফল্যে ঘেরা মানুষগুলোর জীবনী পড়ুন। দেখবেন তাদের লাইফের অবস্থা আপনার চেয়ে দুর্বিষহ ছিলো। তারা পারলে আপনি কেন পারবেন না? জ্যাক মা, কলোলেন স্যান্ডার্স কে দেখুন । জ্যাক মা টুরিস্টদের ফ্রি গাইড হিসেবে কাজ করতেন শুধু ইংরেজি শিখার জন্য কারন তিনি বুঝেছেন শিক্ষা ছাড়া নিজের অবস্থার উন্নতি সম্ভব না আর সেই শিক্ষা হতে হবে সু-শিক্ষা । আর সেই মানুষ দুনিয়ার অন্যতম সেরা অনলাইন মার্কেট আলীবাবা ডট কম এর মালিক । স্যান্ডার্স সাহেব তো ফেইলিউর এর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহারন। ফেইল ছাড়া তার লাইফে কি আছে? সুইসাইড করার স্পটে বসে মৃত্যুকে মধ্যাঙ্গুলি দেখি নিজেকে ঝাড়ি মেরে দাড়ালেন। আজকেই কে এফ সি তারই সেদিনের নিজেকে বুস্ট আপ করার ফসল।  এই মানুষগুলোর স্ট্রাগলিং পিরিয়ড এর গল্প গুলো পড়েন । নিজেকে বিশ্ব কাতারে দাড় করানোর মত সামর্থ্যে অর্জন করেন। সমসাময়িক ব্যাপারগুলোর ব্যাপারে নিজের জ্ঞান রাখুন। ভাবতে পারেন – কি লাভ হবে? ১ম লাভ, আপনি ব্যাস্ত থাকতে পারবেন। ২য় লাভ, আপনার নিজের জ্ঞান বাড়বে আর ৩য় লাভ যখন নিজেকে পুরোপুরি রিকোভারি করতে পারবেন তখন নিজের উপর প্রাউড ফিলিং আসবে এই ভেবে যে আপনি ভুল পথে পা বাড়াননি।

যতক্ষন না আপনি নিজের সাহায্যে নিজে করছেন, কেউ আপনার সাহায্য করতে পারবে না এটা লিখে রাখুন। ইভেন কোন সাইকাট্রিস্ট ও না। আপনি নিজেকে নিজের যোগ্য করে গড়ে তুলুন, প্রতিদিন একটু করে নিজেকে সমৃদ্ধ করুন যাতে ১০ বছর পর উপরে বসা বিধাতেকে ধন্যবাদ দিয়ে নিজের বুক নিজে চাপড়ে বলতে পারেন  – হ্যা, আমি নিজের উপর আর গর্ববোধ করছি।

ব্যর্থতায় ভরা জীবন ও সফলতা . . .

Now Reading
ব্যর্থতায় ভরা জীবন ও সফলতা . . .

আমার এই আর্টিকেলটি এক ব্যর্থতায় ভরা জীবনে সফলতার গল্প নিয়ে। জীবন যখন ব্যর্থতায় জর্জরিত হয়ে যায়, বেঁচে থাকার ইচ্ছা যখন একদম হারিয়ে যায় তখন কি ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় তাই বলব আপনাদের।

তিনি জন্ম গ্রহণ করেন ৫ সেপ্টেম্বর ১৮৯০ সালে। কোন কিছু বুঝতে শিখার আগেই তাঁর বাবা মারা গেলেন। যখন তাঁর বয়স ৫ বছর তখন তাঁর বাবা মারা যান। এত অল্প বয়সেই তিনি হয়েছিলেন পিতৃহারা। আর জীবনে তাঁর কঠিন সময়ের শুরু হয়তো এখানেই। অতঃপর স্কুলে ভর্তি হলেন। কিন্তু বেশি দিন পড়াশুনা হল না তাঁর। ১৬ বছর বয়সে স্কুল ত্যাগ করলেন। জীবন যখন তাঁর প্রতি নিষ্ঠুর তখন তাঁর বয়সী অন্য সবাই যা করে তাঁর আর সেটা করা হল না। জীবনের তাগিদে তাঁকে ছারতে হয় স্কুল।

নানা ধরণের কাজের খোঁজ করতে থাকেন তিনি। বার বার কাজ পেয়েও যখন হারাতে হয় তখন তখন সেটাকে কি বলা চলে? ভাগ্য নাকি ব্যর্থতা? ১৭ বছর বয়সে তিনি চারটি জব পেয়েও ব্যর্থ হন। তাঁকে সবগুলো চাকরি হারাতে হয়। জীবন যুদ্ধে যখন বার বার হারতে থাকেন তখন ঠিক করলেন তাঁর একজন সঙ্গী প্রয়োজন। হয়তো জীবনে ব্যর্থতা গুচবে এই ভেবে। পরের বছরেই তিনি বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। তিনি ১৮ বছর বয়সে Josephine King নামের একজন ভদ্র মহিলাকে বিয়ে করে ঘরে আনেন।

অতঃপর তিনি সংসার চালানোর জন্য পুনরায় কাজের খোঁজ করতে থাকেন। তিনি একজন রেইলরোড কনডাক্টর হিসেবে কাজে নিয়োজিত হন। কিন্তু ভাগ্য এবারও সহায় হয় না। তিনি আবারও ব্যর্থ হন। তিনি ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরিকার আর্মি তে যোগ দেন। সেখান থেকেও তাঁকে ওয়াশ আউট করা হয়। তিনি আবারও ব্যর্থ হন। জীবন যখন তাঁর হলুদ সরষে ফুল কি করবেন ভেবে উঠতে পারছেন না। তিনি ভর্তি হলেন Law  স্কুলে। উকালতি নিয়ে পরাশুনা করে উকিল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু পরাশুনা করবে তো দূরে থাক তাঁর ভর্তি রিজেক্ট করা হল। ভাবলেন একজন বীমা প্রতিনিধি হয়েও যদি পরিবারের ভরণপোষণ করাতে সক্ষম হতে পারেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিনি সেটাও করতে পারলেন না। আঠার থেকে বাইশ বছর পর্যন্ত তিনি এত সব কাজ খোঁজেন এবং বরাবরের মতো বার বার ব্যর্থতায় পর্যবষিত হন।

অন্যদিকে তাঁর সংসার আরো বড় হয়। তাঁদের পরিবারে একটি সুন্দর ফুটফুটে মেয়ে জন্ম নেয়। উনিশ বছর বয়সে তিনি পিতা হন। কিন্তু সংসার যেখানে চলে না সেখানে তিনি কি করে তিনজন মানুষের খাবার যোগাবেন? তাঁই তাঁর স্ত্রী তাঁদের ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে তাঁকে ছেড়ে চলে গেলেন। বিশ বছর বয়সে তিনি একদম একা হয়ে যান।

অতঃপর খেয়ে বা না খেয়ে দিনানিপাত করতে থাকেন। চলতে থাকে তাঁর দিন। তিনি একজন বাবুর্চি ও ডিশ ওয়াশার হিসেবে একটি ছট্ট ক্যাফে তে কাজের জন্য যোগ দেন। আর দিন যাপন করতে থাকেন। তিনি এতটাই ব্যর্থ যে তিনি তাঁর মেয়েকে কিডন্যাপ এর হাত থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন। তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছে ফিরে যান তাঁকে ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য। কিন্তু এই ক্ষেত্রেও তিনি আবার ব্যর্থ হন।

জীবনে তাঁর কেটে গেল অনেক গুলো বছর। ৬৫ বছর বয়সে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অবসরগ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি ১০৫ ডলারের একটি চেক হাতে পান। কিন্তু সরকার বলে তিনি তাঁর কাজের সঠিক যোগান দেন নি, তাই কষ্ট সইতে না পেরে তিনি সুইসাইডের পথ বেঁছে নিতে বাধ্য হন।

তিনি তাঁর অছিয়তনামা লিখছিলেন একটি গাছের নিচে বসে। কিন্তু হঠাৎ তিনি ভাবলেন তাঁর স্ত্রীর সাথে সবকিছু সম্পন্ন করা দরকার। তিনি অনুধাবণ করতে পারলেন তাঁর এখনো অনেক কাজ বাকী পড়ে আছে। তিনি ভাবলেন এমন একটি কাজ আছে যা তিনি অন্য যে কোন মানুষের চেয়ে খুব ভালোভাবে করতে জানেন।

আর সেটা হচ্ছে কিভাবে রান্না করতে হয়। তিনি তাঁর চেক এর বিপরীতে প্রায় ৮৭ ডলার ধার করেন সরকারের কাছ থেকে। তিনি কিছু মুরগী কিনেন এবং সেগুলো কে ভাজি করেন তিনি তাঁর নিজস্ব রেসিপি ব্যবহার করে। তিনি তাঁর প্রতিবেশিদের কাছে এবং মানুষের দরজায় দরজায় যান নিজস্ব রেসিপিতে তৈরী করা খাবার বিক্রয় করার জন্য। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি অনেক জনপ্রিয়তা পেয়ে যান।

যে লোকটি ৬৫ বছর বয়সে সুইসাইড করতে উদ্ধ্যত হন, তিনি ৮৮ বছর বয়সে Colonel Senders যিনি Kentacky Fried Chicken ( KFC ) এর প্রতিষ্ঠাতা। উনার পুরো নাম Colonel Harland David Senders. যিনি পরবর্তীতে একজন কোটি পতি হন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই তাঁর কোম্পানীর ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হন। তিনি ১৯৮০ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মৃত্যু বরণ করেন।

আর এটিই হচ্ছে আমার সফলতার গল্প। তাই জীবন যখন শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় তখন আবার ঘুরে দাঁড়ানো শিখতে হয়। নতুন করে শুরু করা শিখতে হয়। আর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনার মনোভাব ( Attitude )। কখনো পিছপা হবেন না। Never give up. No matter how hard to get it. You have what it takes to be SUCCESSFUL and go for it. Also make a DIFFERENCE. সবসময় মনে রাখবেন সফল আপনাকে হতেই হবে যেকোন মুল্যে। আর সফল হতে যা কিছু করা প্রয়োজন আপনি সেটা করতে সর্বদা প্রস্তুত থাকবেন। মনে রাখবেন জীবন একটাই, আর সময় একবার ই আসে। আর ব্যর্থ হলে অবশ্যই ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। অধ্যবসায় সকল সফলতার মূল চাবিকাঠি।

কষ্ট করে ধৈর্য্য নিয়ে পুরোটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।