গিফট

Now Reading
গিফট

গিফট
.
চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি। কি করব ভাবছি। দোকানে এসে কেনাকাটা করা উচিত। কোন কিছু পছন্দ করা উচিত। তারপরে কেনা উচিত। কিন্তু কোনটা কিনব সেটাই বুঝতে পারছি না। দোকানে আসলেই আমার এমন হয়। কোনটা রেখে কোনটা কিনব সেটা বুঝতে পারিনা। এক পাশ থেকে একটা পছন্দ করলে পরে মনেহয় এটার চেয়ে অন্যটা ভাল। এই নিয়ে এক সমস্যা!
প্রতিবারে আমার সাথে নাইম অথবা সজিব আসে। কিন্তু এবারে কেউ আসেনি. ওদের নাকি কাজ আছে! ওদের কোন কাজে আমি ফ্রি থাকি। কিন্তু আমার কাজের সময় তারা বিজি!

একটা টিশার্ট দেখছি। এটা নিলে কেমন হবে! নাহ এটা নিব না। সামনের কালো রঙের টা ভাল। নাকি সাদা রঙের টা নিব!
.
-এক্সকিউজ মি স্যার। ক্যান আই হেল্প ইউ?
পিছনে ঘুরে তাকালাম। একটা মিষ্টিভাষি মেয়ে আমার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে! মুখে মুচকি হাসি। তার কন্ঠ যেমন মিষ্টি! দেখতেও তেমন সুন্দর । মেয়েটা সেলসগার্ল। এখানেই চাকরি করে!
-স্যার। কোন সমস্যা!
মুচকি হাসি দেওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু হাসি আসল না! শুকনো হাসি দিয়ে বললাম
-জ্বি একটু সমস্যা।
-কি সমস্যা স্যার! আমাকে বলুন।
-আমি এখান থেকে কিছুই পছন্দ করতে পারছি না।
-তবে আপনি এদিকের কালেকশনগুলো দেখুন। পছন্দ হবে।
-না সেটা না। আমি কনফিউজড হয়ে যাচ্ছি কোনটা রেখে কোনটা পছন্দ করব!
.
মেয়েটা এবারে চোখ বড় বড় করে তাকাল। পরক্ষণেই স্বাভাবিক হয়ে মুচকি হাসল। অবাক হওয়ার মত বিষয়। আগে বোধহয় এমন কাস্টমার দেখেনি! তাই এভাবে তাকাচ্ছে।
-আমি আপনাকে সাহায্য হেল্প করব?
মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে উত্তরের আশা করছে। আমি ঝটপট বললাম
-জ্বি। হেল্প করলে ভাল হয়। আপনি যদি চুজ করে দিতেন।
.
মেয়েটা আমার সামনের দিক থেকে একটা হালকা নীল রঙের টিশার্ট বের করে বলল
-এটা নিবেন?
-হ্যা। এটা প্যাক করে দিন।
-আর কিছু লাগবে স্যার?
-না।
একটা টি-শার্ট প্যাক করে দিল। আমি প্যাকেটটা হাতে নিয়ে বেড়িয়ে এলাম।
.
-আরে আপনি!
পিছনে কালকের সেই মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে। আমি অবাক হয়ে বললাম
-আমাকে মনে রেখেছেন?
-কেন রাখব না বলুন। চাকুরি জীবনে আপনিই প্রথম কাস্টমার। যে আমার পছন্দের ড্রেস কিনেছেন!
-বলেন কি! তাই মনে রেখেছেন?
-বলতে পারেন। আজকেও কিছু কিনবেন নাকি?
-না, অফিসে যাচ্ছি। আপনাদের দোকানের দুই তলা উপরে আমাদের অফিস।
-তাই! চলুন তবে।
মেয়েটার সাথে হাটতে হাটতে ভেতরে ঢুকলাম। আমি সিড়ি দিয়ে উপরে উঠলাম। সে তার মত চলে গেল।
.
আজকেও দোকানে এসেছি! কিছু কেনার ইচ্ছা নেই। ভেতরে ঢুকলাম।
মেয়েটার সাথে দেখা করতে এসেছি। কিন্তু মেয়েটা কোথায়! তাকে দেখছিনা! অফিস ফাকি দিয়ে এসে কি ভুল করলাম!
.
দেখা হল না! মেয়েটা গেল কোথায়!
হেট দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছি। অন্যপাশের গেটে চোখ পরতেই দাঁড়িয়ে গেলাম। মেয়েটা অন্য গেট দিয়ে ঢুকছে!
বের হওয়ার বদলে ভেতরে ঢুকলাম।
মেয়েটার হাতে একটা কাগজ। কিসের কাগজ সেটা জানিনা। মেয়েটির কাছে দাঁড়ালাম। মেয়েটি বলল
-আপনি!
-হ্যা। আমি। আপনাকে বিরক্ত করতে এলাম।
-বিরক্ত! কিরকম বিরক্ত!
-আমার একটা উপকার করতে হবে।
-কি করতে পারি আপনার জন্য?
আমার জন্য! ফোন নাম্বার দিতে পারেন। প্রতিদিন রাতে ফোন দিয়ে কথা বলতে পারেন। আর চুটিয়ে প্রেম করতে পারেন।
কথাগুলো মনে মনেই বললাম। তার জিজ্ঞাসাসূচক চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম
-আমার সাথে এক জায়গায় যেতে হবে।
-কোথায়?
-আমার একটা গিফট কিনতে হবে। আপনার পছন্দ অনেক ভাল। তাই আপনাকে আমার সাথে যেতে হবে।
-এখন তো যেতে পারব না। তিনটায় আমার অফিস শেষ হবে।
-আচ্ছা তিনটায় আমি অপেক্ষা করব।
-আপনি বরং আমার ফোন নাম্বার নিয়ে যান।
ফোন নাম্বার! এ তো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! আমি এটাই চাইছিলাম। ফোন বের করে বললাম
-জ্বি বলুন।
-০১৭৫৬৮৮****
-কি নামে সেইভ করব?
-দোলা।
-আচ্ছা আমি আসি।
.
ফোন নাম্বার সেভ করেই বেড়িয়ে এলাম। ভাবিনি এত সহজে ফোন নাম্বার পেয়ে যাব! ভাবতেই যেন অন্যরকম লাগছে। খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু নাচার কোন পরিবেশ নেই। এখানে নাচানাচি করলে মানুষ পাগল বলবে। অবশ্য প্রেমে পরলে মানুষের হিতহিত জ্ঞান কমে যায়।
.
তিনটা বাজে। রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু দোলা এখনো আসল না! ফোন বের করে দোলার নাম্বারে ফোন দিলাম। কিন্তু রিসিভ করছে না! অন্য কারো নাম্বার দেয়নি তো!
এর আগে একবার এমন হয়েছিল। আমার বন্ধু একটা মেয়ের প্রেমে পরেছিল। একটা ছুতোয় মেয়েটার কাছ থেকে ফোন নাম্বার চেয়েছিল। মেয়টা বুঝতে পেরে একজন পুলিশের বউ এর নাম্বার দিয়েছিল। পরে সেটা নিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল।
দোলাও কি তেমন করল! আমি তার প্রেমে পরেছি সেটা বুঝে গেল!
.
-চলে এসেছি। চলুন।
দোলা আমার সাথে হাটতে শুরু করল। আমি ফোন নাম্বারের ব্যাপারটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য বললাম
-আপনাকে ফোন দিয়েছিলাম। রিসিভ করেন নি।
-ওহ। আমি আপনাকে দুর থেকেই দেখেছিলাম। তাই রিসিভ করিনি।
-আপনি বুঝলেন কিভাবে আমি ফোন দিয়েছি?
-এটা তো সিম্পল। দুর থেকে দেখলাম আপনি ফোন কানের কাছে ধরে রেখেছেন। তাই বুঝে গেলাম।
ফোন নাম্বার পেয়ে তাকে যত বোকা ভেবেছিলাম। মেয়েটা তত বোকা নয়! সাবধানে এগোতে হবে। নাহলে ধরা খেয়ে যাব।
.
দোলার সাথে হাটতে হাটতে একটা গিফটের দোকানে ঢুকলাম। সে বলল
-আপনার নামটাই জানা হল না!
-আমি রাব্বি।
-কোন অনুষ্ঠানের জন্য গিফট কিনবেন?
-না।
-বন্ধুর জন্মদিন?
-না।
-তাহলে নিশ্চয় গার্লফ্রেন্ড এর জন্য?
গার্লফ্রেন্ড! আমি গার্লফ্রেন্ড কোথায় পাব! সিঙ্গেল একটা ছেলে তার সাথে লাইন মারার চেষ্টা করছি। আর এমন কথা!
আমাকে চুপ থাকতে দেখে দোলা বলল
-গার্লফ্রেন্ড এর জন্য হলে নিয়মিত আপনার সাথে আসতে পারি। গার্লফ্রেন্ডকে গিফট দিয়ে খুশি রাখা বয়ফ্রেন্ড এর দায়িত্ব। অবশ্য আমার পছন্দ করা গিফট তার পছন্দ হবে নাকি!
-আরে নাহ। আমার গার্লফ্রেন্ড তেমন না।
-তাহলে ঠিক আছে।
দোলা গিফট দেখছে। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। নিজেকে সিঙ্গেল থেকে ডাবলে পরিণত করলাম! প্রেমের আগেই ভবিষ্যৎ প্রেমিকা জানল আমার গার্লফ্রেন্ড আছে!
ধুর অত ভেবে কি হবে! গিফট কেনার ছুতোয় পাশে থাকা যাবে তো!
.
আমার হাতে গিফটের প্যাক। দোলার সাথে রাস্তায় হাটছি। দুজনেই চুপচাপ। নীরবতা ভেঙে বললাম
-আপনার পছন্দ করা টি-শার্টটা অনেক সুন্দর হয়েছে। আমার বন্ধুরাও দেখে অনেক পছন্দ করেছে।
-তাই!
-হুম।
সেদিন টি-শার্ট কিনে রুমে নিয়ে ফেলে রেখেছি। দোলাকে দেখার পরে ওসব নিয়ে ভাবার সময়ই হয়নি।
-তো রাব্বি সাহেব! হেটেই বাসায় যাবেন নাকি?
হাটতে হাটতে অনেক পথ চলে এসেছি। তার সাথে হাটতে একটা ঘোরের মধ্যে ঢুকে গিয়েছি। বুঝতেই পারিনি এত পথ চলে এলাম!
আমি বললাম
-আরে না! চলুন রিক্সায় করে দুজন একসাথে যাই।
-না। সেটা হবে না।
তাকে রিক্সায় চড়ার অফার দিলাম। না করে দিল! প্রেমের অফার দিলে কি হবে!
আমাকে বোকার মত তাকিয়ে থাকতে দেখে বলল
-আমার বাসা তো সোজা রাস্তায়। আর আপনারটা বাম দিকে।
-আপনি কি করে জানলেন!
-সকালে আসতে দেখেছিলাম।
তার মানে দোলা আমাকে দেখেছে! আমার মত একটা ছেলেকে দেখেছে! ভাবতেই অন্যরকম লাগছে।
-আপনি এখন গার্লফ্রেন্ড এর সাথে দেখা করতে যাবেন?
দোলার কথায় ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম। আরে গার্লফ্রেন্ড থাকলে কি এখন এভাবে ঘুরতাম! এক মিথ্যা কথা এভাবে বারবার শুনতে হচ্ছে! কোন উপায় না দেখে বললাম
-হ্যা।
-তবে আমি বাসায় যাই। আপনি দেখা করতে যান।
.
দোলা রিক্সায় উঠে চলে গেল। যাওয়ার আগে বলল
-বাসায় গিয়ে আপনাকে ফোন দিব।
বাসায় গিয়ে ফোন দিবে! তবে তো বেশ ভাল। আমার মত ছেলেগুলো এমনই। কোন মেয়ের সাথে ভালভাবে কথা বলে কাছে আসার সুযোগ পেলেই ভেবে নেই তার সাথে প্রেম হয়ে গিয়েছে!
.
বাসায় এসেছি কয়েক ঘন্টা হল। কিন্তু দোলা ফোন করেনি! মেয়েটা কি জানেনা আমি তার ফোনের আশায় বসে আছি।
নিজেই ফোন দিব! কিন্তু বেহায়ার মত এভাবে ফোন দেওয়া ঠিক হবে! প্রেমে পরলে বেহায়া হতে হয়।
.
ফোন দেওয়ার সাথে সাথে দোলা রিসিভ করে বলল
-কি খবর?
-এইত বেশ।
-গিফটা আপনার গার্লফ্রেন্ডকে দিয়েছেন?
-টেবিলের উপর রাখা গিফটের দিকে তাকিয়ে বললাম
-হ্যা!
-কি বলল?
-তার খুব পছন্দ হয়েছে।
.
কথা বলতে বলতে আধা ঘন্টার বেশি সময় পার হয়ে গিয়েছে। দোলা কথা বলে যাচ্ছে। আমি অল্প অল্প কথা বলছি। মেয়েটা মিশুক প্রকৃতির। সহজেই কারো সাথে ভাল সম্পর্ক হয়ে যায়।
দোলা বলল
-এই যাহ। আমি তো আপনার সমস্যা করছি।
-কেন বলুন তো!
-আমার সাথে এভাবে কথা বলছেন। আপনার গার্লফ্রেন্ড যদি ওয়েটিং পায়!
আবারো! মেয়েটাকে কেন যে তখন গার্লফ্রেন্ড এর কথা বলেছিলাম! এছাড়া উপায় ও ছিল না।
আমি বললাম
-না, সমস্যা নাই।
-আমি রাখছি।
ফোন কেটে দিল! কি আর করা!
.
টেবিলে রাখা গিফটগুলোর দিকে তাকিয়ে আছি। একমাসে পুরো টেবিলটা গিফটে ভর্তি করে ফেলেছি। এগুলো সব দোলার পছন্দে কেনা। এতদিনে আমাদের সম্পর্কটা আপনি থেকে তুমিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আগ বাড়িয়ে কিছু বলার সুযোগ পাচ্ছিনা। প্রতিদিন অফিস শেষে তার সাথে বের হই। আসার আগে একটা গিফট কিনে আনি। গিফটের ছুতোয় নিয়মিত তার সাথে দেখা হয়, কথা হয়। বাসায় এসে নিয়মিত বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলতে হয়। গার্লফ্রেন্ড গিফট পেয়ে কি বলল সেই গল্প বলি।
.
দোলাকে ফোন দিলাম। এতক্ষণ ধরে গল্প তৈরি করলাম। আজ গিফট দেখে গার্লফ্রেন্ড এর রিএ্যকশন কি ছিল সেটা বলতে হবে।
দোলা রিসিভ করেই বলল
-হ্যা বল।
-আজকে..
দোলা আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল
-আজ কোন গল্প শুনব না। আমি তোমার গার্লফ্রেন্ড এর সাথে পরিচিত হব। তুমি তার সাথে আমাকে কথা বলিয়ে দিবে।
এই সেরেছে! গার্লফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলাব কিভাবে! গার্লফ্রেন্ড থাকলে তো কথা বলাব। এবারে কি তবে ধরা খেয়ে যাব!
ভাবতে ভাবতে বললাম
-কথা না বললে হয় না!
-কেন?
-না মানে ফোনে ও কারো সাথে কথা বলেনা।
-আচ্ছা! তাহলে কালকে দেখা করাও।
দেখা করাব! কিভাবে দেখা করাব! কোথায় পাব তাকে!
.
দোলা বলল
-দেখা করাবে না!
-না মানে…
-কোন মানে নয়। কালকে আমার অফিস ছুটি। কালকে তুমি আমার সাথে হাতিরঝিল দেখা করবে। সাথে যেন তোমার গার্লফ্রেন্ড থাকে।
-দোলা..
-কোন কথা শুনতে চাইনা।
দোলা ফোন কেটে দিল! আমি এখন গার্লফ্রেন্ড পাব কোথায়! কালকে দেখা করতে গেলে ধরা খেয়ে যাব। কি করা যায়!
কিছুই মাথায় আসছেনা। বিছানায় শুয়ে ভাবছি আর ভাবছি।
.
হাতিরঝিল দাঁড়িয়ে আছি। একা একাই দাঁড়িয়ে আছি। গার্লফ্রেন্ড হিসেবে কাউকে ভাড়া করে আনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটাও হয়নি।
একটু পরেই দোলা আসবে। তাকে কি বলব সেটাই চিন্তা করছি।
.
দোলা এসে আমার পাশে বসল। আমি চুপ করে বসে আছি। আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে গেলেই ধরা খেয়ে যাব।
দোলা বলল
-তোমার গার্লফ্রেন্ড কোথায়?
-আসেনি। ওর একটা কাজ পরে গিয়েছে।
-আমাকে তোমার গাধী মনেহয়!
-মানে!
-যা বুঝাবে তাই বুঝব! গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে বানিয়ে গল্প বলবে সেটা আমি বুঝব না!
-মানে কি এসবের!
-তোমার কোন গার্লফ্রেন্ড নেই। আমাকে মিথ্যা বলেছ।
আমি চুপ করে থাকলাম।
দোলা বলল
-গার্লফ্রেন্ড থাকলে প্রতিদিন গিফট নিয়ে বাসায় যেতে না। বাসায় গিয়ে সাথে সাথে ফোন দিতে না। বানিয়ে মিথ্যা গল্প বলতে না।
-না মানে..
-এই এক মাসে তোমাকে ভালভাবে চিনেছি। তোমার মিথ্যা কথা আমি ঠিক ধরতে পারি। কেন করলে এমন! প্রতিদিন আমার কাছে আসার জন্য এমন মিথ্যা বললে!
.
দোলা রেগে গিয়েছে। আমি তাকে মিথা বলে ভুল করেছি। কাউকে মিথ্যা বলে এমন করা হয়ত ঠিক হয়নি। কিন্তু কি করব! ভালবাসার মানুষটার কাছে আসার জন্য উপায় তো লাগবেই!
দোলা উঠে চলে যাচ্ছে। আজকের পর থেকে মনেহয় কথা হবেনা। ওর সাথে রিক্সায় চড়ে বেড়ানো হবেনা। ধুর!
ভেবেছিলাম এভাবে চলতে চলতে একদিন সব বলব। কিন্তু…
.
আমি দোলার উল্টো দিকে হাটছি। দোলা যাওয়ার পরে একবারও তাকাইনি। ওর দিকে তাকালে আরো কষ্ট লাগবে। তারচেয়ে নীরবে চলে যাওয়াই ভাল।
.
-রাব্বি।
পিছনে তাকালাম। দোলা আমার পিছন পিছন আসছে! নতুন করে আবার কিছু বলবে বোধহয়। নিজেকে তার জন্য প্রস্তুত করলাম। দোলা আমার কাছে এসে বলল
-এতদিনে কেনা গিফটগুলো আমাকে দিয়ে দিবা।
-কেন!
-ওগুলো তো আমার জন্য কেনা। আজ বিকেল থেকে তোমার পছন্দমত গিফট কিনে আমাকে দিবা।
-মানে কি!
-আরে হাদারাম। সারারাত রামায়ণ পড়ে সকালে বলছ গীতা কার বাপ!
আমি হাসলাম। বোকার মত হাসি দিয়ে দোলার দিকে তাকালাম। আজ থেকে দোলার জন্য গিফট কিনব! বানিয়ে বানিয়ে গার্লফ্রেন্ড এর গল্প বলতে হবে না। আজ থেকে দুজন মিলে গল্প তৈরি করব!
.