তাহসানকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যে গুজব এবং তাহসানের সুস্পষ্ট জবাব !!

Now Reading
তাহসানকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যে গুজব এবং তাহসানের সুস্পষ্ট জবাব !!

একাধারে তিনি একজন গায়ক, মিউজিক কম্পোজার, অভিনেতা, শিক্ষক – বহু পরিচয়ে তিনি পরিচিতঃ বাংলাদেশের মিডিয়া অলরাউন্ডার তাহসান রহমান খান।

আসছে ঈদের জন্য তিনি যখন নাটকের শুটিং আর গান রেকর্ডিং নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই হঠাৎ করে বিভিন্ন আইডি ও পেইজের মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে তার নামে এক মিথ্যে গুজব যা কিনা তাহসান-ভক্ত থেকে শুরু করে সর্বসাধারণের মাঝে এক প্রকার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। মিথ্যে গুজবটা ছিল ঠিক এমনঃ

“অনেকেই জানেন তাহসান নটরডেমের ছাত্র ছিল। তবে গল্পের পরের অংশটা আমি শুনাই। কদিন আগে তাকে নটরডেম কালচারাল ক্লাব থেকে অনুরোধ করা হয় ক্লাব ডে তে অতিথি হিসেবে আসার জন্য। সেই এক্স নটরডেমিয়ান তখন মোটা অংকের টাকা দাবী করে বসেন। একজন শিক্ষক তখন তাকে বলেন, “ভাই আপনি তো নটর ডেমের ছাত্র ছিলেন, কিছুটা কন্সিডার করেন” তাহসানের উত্তর ছিল, “নটরডেম কি আমাকে ফ্রিতে পড়াইছে?” কথাটা পরে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্মানিত রেজিস্ট্রার স্যার শুনে বলেন,”নটর ডেম তাকে ফ্রিতে পড়ায় নি, তবে যা শিখিয়েছে বা দিয়েছে তার পুরো মূল্য ও সে দেয়নি।” তাহসানের পরিবর্তে এসেছিলেন আরেক সাবেক নটরডেমিয়ান আর্টসেলের ভোকাল লিংকন ডি কস্তা। শুধু অতিথি হিসেবেই আসেননি, গানও গেয়েছেন। একটা পয়সাও চাননি এবং ফ্রিতে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ে মিউজিক শেখানোর আগ্রহ প্রকাশ করে গেছেন। বাকিটা আপনাদের বিবেচনা”।

এটি ভিত্তিহীন এক মিথ্যে গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়, নিরহংকার ও সাধাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত মানুষ তাহসান জনসাধারণের মাঝে সেই বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক ফ্যান পেইজ থেকে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছেন যেখানে তিনি লিখেছেনঃ

“No one from Notre Dame College contacted me or my manager regarding any show. So please stop spreading false rumors. I have performed at my college before. Would love to come again if I’m invited. I would really appreciate if someone can give me the contact details of the person who is spreading the false claim regarding the show.

আমার প্রথম অ্যালবামের ছবিটা কলেজের কনসার্টেই তোলা। ২০০৪ সালে। এরপর আরো দুবার কলেজ থেকে আমন্ত্রন পেয়ে যাই। এবারতো আমন্ত্রন পাইনি।

Sad indeed.”

তাহসানের এই পোষ্টে অবশেষে সর্বসাধারণের মাঝে স্বস্তির নিশ্বাস পড়ে আর ঠিক এরপরেই সেই ব্যক্তি যে কিনা এর জন্য দায়ী ছিল, সেও ফেসবুকে একটি স্টাটাসের মাধ্যমে তাহসান এবং সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এই বলে যে,

“তাহসানকে নিয়ে দেয়া পোষ্টটি ভিত্তিহীন। তার সাফল্যে জেলাস হয়ে খবরটা ছড়ানো হয়েছে। আমিও শুনে বোকার মতো বিশ্বাস করেছিলাম। এখন সত্য জানতে পেরে নিজের কাছে খারাপ লাগছে। প্লিজ আগের পোষ্ট রিমুভ দিয়ে এটা শেয়ার করুন সবাই”।

কিন্তু এতকিছুর পরেও দুঃখের বিষয় এটাই,

যে পেইজ থেকে ঐ মিথ্যে গুজব ছড়িয়ে এটাকে অনলাইন দুনিয়ায় ভাইরাল করা হয়েছে, সেই পেইজ এখনো মিথ্যে গুজবের খবরটি মুছে দেয়নি কিংবা ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।

নিজের দেশের একজন জনপ্রিয় আর্টিষ্টের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যে গুজব রটিয়ে কি লাভ এদের? এরা কি কোনদিনও মানুষ হবেনা? এরা কি জানে একজন তাহসান হতে কত সাধনা করার প্রয়োজন হয়? নাহ! এরা অমানুষ। এই অমানুষগুলো শুধুই জানে বিদেশী গানের তালে “সানি সানি পানি পানি” করে নাচতে আর শরীর দোলাতে, নিকৃষ্ট জাতের সেরা উদাহরণ এই সকল মিথ্যে গুজব রটানো মানুষ আর ফেসবুক পেইজের এডমিন।