জীবনের গল্প

Now Reading
জীবনের গল্প

“জন্মের সাথে সাথেই মা মারা গেলেন। মায়ের আদর, মায়ের গন্ধ কিছুই পাইনি। নানীর কাছেই শৈশবের কিছু সময় কেটেছে। বাবা রিকশা চালাতেন। মাঝেমাঝে এসে আমাকে দেখে যেতেন। নানীর ছায়ায় একটু একটু বড় হতে লাগলাম কিন্তু হাঁটতে পারতাম না। নানী বহু কষ্ট করে কয়েকবার ডাক্তার দেখিয়েছিলেন বাবাও চেষ্টা করেছেন কিন্তু তেমন কোন ভালো ফল হয়নি। ডান পাঁ সম্পূর্ণই অকেঁজো। একটা লাঠি কিনে দিয়েছিলেন বাবা। সেটা ভর করে হাঁটতাম তাও খুব কষ্ট হত।নানী গ্রামের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। ‌নানীর অক্লান্ত পরিশ্রমে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছিলাম। কিন্তু নানীও একদিন মারা গেলেন।

তারপর বাবা নিয়ে আসলেন তার কাছে, ওখানে আর কেউ রইলো না আমায় দেখার মত। তবে পড়াশুনা হলনা। বাবাই বা কি করতেন ! সারাদিন আমার পেছনে বসে থাকলে খাবে আর খাওয়াবে কি ! কোনরকম দু’বেলা খেয়ে দিন কাটতো। আর সারাদিন সামনের খোলা মাঠের কোণে বসে ছেলেদের ফুটবল খেলা দেখতাম। চলতে থাকে কোনরকম….।

একদিন বাবা সন্ধ্যারাতে নিজের রিকশায় করে এক সুন্দরী লাল শাড়ি পরিহিত মহিলাকে ঘরে নিয়ে ফিরলেন। বললেন এ তোর নতুন মা। তোকে অনেক আদর করবে, তোকে কষ্ট করে চুলার পাশে বসে আর ভাত সিদ্ধ করতে হবে না।

প্রথম প্রথম ভালো দেখাশুনা করত নতুন মা। কিন্তু সংসারে নতুন সন্তান আসার সাথে সাথেই রুপমতীর আসল রুপ বেরিয়ে পড়ল। খেতে দিত না। ঘরের সমস্ত বাসন ধুতে হত কাপড় কাঁচতে হত! বসেবসে সব কাজ করাতো সৎ মা। যদি করতে না পারতাম অথবা ভুল হত তবেই জুতাপেটা করত, চড় থাপ্পর আরও কত কি….!

শারীরিক অক্ষমতার কারণে অথবা অসুস্থ থাকলে সেদিন না খেয়ে থাকতাম ! বড় গলায় ডেকে বলতাম, ” ও মা মা খিদা লাগছে অনেক ! পান্তা দাও তাতেই হবে। সব পান্তাতো ফেলেই দেবে !” কখনও দয়া হত আবার কখনও বাবা এলেই শুধু খেতে পেতাম। তবে বাবার ধারে কাছে কখনও ভিড়তে দিত না। যদি সব বলে দেই বাবার কাছে ! মাঝে মাঝে খোলা আকাশের দিকে তাঁকিয়ে চিৎকার করে মাগো মাগো ডাকতাম… হায় নসিব নানীও চলে গেলেন ! বাবাও বেশ উদাসীন ছিলেন আমার প্রতি।

একদিন সুযোগ পেয়ে বাবাকে বলেছিলাম সৎ মায়ের সব অত্যাচারের কথা। কিন্তু কোন কাজে আসেনি ! বাবাকে রুপমতী অনেক আগেই বস করে রেখেছিলো বুঝতে পারিনি। বাবা বিশ্বাস করেনি আমার কথা উল্টো চড় মারল ! বাবা কাজে বেরিয়ে গেলে সৎ মা দরজা বন্ধ করে অনেক মেরেছিলো সেদিন…! রাতে প্রচন্ড জ্বর ওঠে ! কত আর সহ্য হয় ! ঠিক করলাম হাঁটতে নাহয় খুব কষ্ট হয় কিন্তু এক পাঁ আর দুটি হাত তো আছে ! গতরে খেটে খাব ভিক্ষা বা দয়ায় কেন বাঁচব !

নানী আদর করে মাঝেমাঝে হাতে টাকা গুঁজে দিতেন ! লুকিয়ে জমিয়েছিলাম সেগুলো স্কুলের টিফিন না খেয়ে।বাবাও আগে মাঝেমধ্যে কিছু চকলেট আবার কখনও টাকা দিতেন জমাতে ! জমিয়েছিলামও গোপনে। সিদ্ধান্ত নিলাম এগুলো নিয়েই পালাবো শহরে। কত কাজ একটা কিছু ঠিকই খুঁজে নেব।

বাবা যতই অবহেলা করুক তবু বাবাকে ছেড়ে যাবা সময় মন টানছিলোনা। বারবার চোখ ভিজে যাচ্ছিলো ! এই বাবাইতো ছিলো আর কে ছিলো আমার ? আর হয়ত কোনদিনই বাবাকে দেখা হবেনা ! বাবা, মা সমস্ত স্মৃতি মায়ার বন্ধন ছিড়ে চলে যাচ্ছি। বুকের ভেতর খুব হাহাকার হচ্ছিলো…আর পেছনে ফিরে তাঁকাচ্ছিলাম যেন মনে হচ্ছিলো মা বুঝি দাঁড়িয়ে আছেন আমাকে যেতে বাঁধ সাধছেন ! কিন্তু মাকে তো দেখিনি তবু কেমন যেন লাগছিলো…।

কাঁক ডাকা ভোরে অক্ষম পাঁ আর শরীরে জ্বর নিয়েই মনের জোরে পালিয়ে শহরের রেলস্টেশনে এসে পৌঁছলাম। তারপর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি ক্ষুধা ও জ্বরের কষ্টে হাতের পোটলা বুকে চেঁপে নিস্তেজ ঘুমিয়ে পড়লাম। ওখানে এক কোণে ঠাঁই নিয়ে পড়ে থাকলাম। আস্তে আস্তে একটু সুস্থ হলাম খেয়াল করলাম এক চাচা আমার থেকে একটু দূরে জুতা পলিশ, সেলাই করে বেশ ভালোই কামাচ্ছেন ! এগিয়ে পাশে বসলাম কাজের কৌশল শিখতে। চাচাও আগ বাড়িয়ে অনেক প্রশ্ন করলেন তারপর সবকথা খুলে বললাম তাঁকে !

অল্প সময়েই ভালোই সম্পর্ক হল চাচার সাথে। আমাকে রোজ তাঁর পাশে বসিয়ে কাজ করতেন মাঝেমাঝে কিছু খেতেও দিতেন। তারপর চাচার পাশে অল্প কিছু পুঁজি দিয়ে আমিও কাজে লেগে গেলাম। চাচা তাঁর বাড়িতে নিতে চাইলেন কিন্তু যাইনি ! এই অক্ষম শরীরের বোঝা কাউকেই আর দেবনা ভেবেছিলাম…।

কোন রকম খেয়ে বাকী কিছু টাকা জমাতাম আর কিছু টাকা দিয়ে বই কিনে সুযোগ পেলেই পড়তাম স্টেশনের হালকা আলোতে। চলে যেত কোনমতে দিন…

একদিন চাচা এলেননা ! এক মাস কেটে গেলো চাচা এখনও এলেননা। ভাবলাম চাচার কোন বিপদ হল কিনা ! বাড়ির ঠিকানা জানতাম। কষ্ট করে চাচার খোঁজে গেলাম। শুনি চাচা হঠাৎ ক’দিনের তীব্র জ্বরে মারা গেছেন। তাঁর একটা মেয়ে রেখে গেছেন। মেয়েটি বাসাবাড়ির কাজ করে চলে কোনরকম।

রোজ একবার আসতাম মেয়েটির খোঁজ নিতে। তারপর আস্তে আস্তে কেমন একটা মায়ায় জড়িয়ে গেলাম মেয়েটির সাথে। মাঝেমাঝে কিছু টাকা জোর করে মেয়েটিকে দিয়ে আসতাম…! মেয়েটিও একসময় আর বাঁধা দিত না। মেয়েটিও যেন আমারই অপেক্ষায় থাকতো ! বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলাম দুজনে ! করেও ফেললাম বিয়ে…!

তারপর সুখে দুঃখে আত্মত্যাগে দু’যুগ পেরিয়ে গেছে আমাদের একসাথে ! আমাদের একমাত্র মেয়ে আলেয়া আজ সম্পূর্ণ সরকারী খরচে ডাক্তারি পড়ছে। স্রষ্টার অপার মহিমা ! তিনি আমার সন্তানকে আমার মতন অক্ষমতা দেননি ! একটা সময় মরে যেতে ইচ্ছে হত! মায়ের কাছে নানীর কাছে চলে যেতে মন চাইতো! কিন্তু এখন আরো অনেকদিন বাঁচতে ইচ্ছে হয়। একজন সৎ দয়ালু ডাক্তারের গর্বিত পিতা হয়ে বাঁচতে ইচ্ছে হয়।”

জীবনের গল্প ! সত্যিকারের গল্প।

সংসার না চাকুরী? এক গোলক ধাঁধায় নারী

Now Reading
সংসার না চাকুরী? এক গোলক ধাঁধায় নারী

কেস স্টাডি-১
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করে চাকুরীতে ঢুকেছেন সাদিয়া জামান (ছদ্ম নাম)। মাঝারী ধরনের চাকুরী। বেতন খুব বেশি নয়, আবার খুব কম ও নয়। বাসায় সন্তানও আছে।বয়স দেড় বছর। মা এর কাছে রেখে আসেন। ৮ ঘণ্টা অফিসের পরও ঢাকা শহরের জামে লেগে যায় আরও ৩ ঘণ্টা। বাসায় ফিরে যখন শুনেন সন্তানকে সারাদিন তেমন কিছুই খাওয়াতে পাড়েন নি মা। চাপা অভিমান হয় মার প্রতি। আবার মায়াও লাগে। মায়ের ও বয়স হয়েছে। যে সময় রেস্ট নেবার কথা, সে সময় কিনা নিজের সংসার ফেলে তার সন্তানের দেখা শুনা করছেন। বাচ্চাটাও দিন দিন খুব জিদ্দি হয়ে যাচ্ছে। অসুখ তো লেগেই আছে। বাঁধা কাজের লোক পাওয়া এখন তো এক প্রকার অসম্ভব। আজ কাল আর কিছুই ভালো লাগে না সাদিয়ার। অফিসে সারাটা দিন মন খারাপ থাকে। কলিগদের দেখলেও রাগ লাগে। অথচ হাসি খুশি সাদিয়া এমন ছিল না। মাঝে মাঝে মনে হয় চাকুরীটা ছেড়ে দেই। কিন্তু এত কষ্ট করে পড়ালেখা করে তবে কি লাভ হল? সবাই কি বলবে? ঐ সংসার ই যখন করব তাহলে এত সময় আর টাকা খরচ করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের কি দরকার ছিল ? আবার বাচ্চাটার শারীরিক- মানসিক বিকাশের কথা চিন্তা করলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। আরেক টা বাচ্চা নেওয়ার কথা তো ভাবাই যায় না। সমাধান টা যে কি ভেবে পান না ।

কেস স্টাডি-২
রুবি আক্তার একজন উচ্চশিক্ষিত গৃহিণী ।বাচ্চার বয়স ২ বছর। স্বামী ভালো চাকুরী করেন। বেতন মোটা মুটি ভালো। তবে এই দুর্মূল্যের বাজারে একা মানুষ টাকে সংসার চালিয়ে নিতে খুব কষ্ট হয়ে যায়। পরিবারের বড় ছেলে। গ্রামে অসুস্থ বাবা মা কে টাকা পাঠাতে হয়। তবে রুবির সকল চাহিদা পূরণ করেন যথাসাধ্য । হয়ত বিলাসী জীবন দিতে পাড়েন না। রুবির খুব কষ্ট হয়। মনে হয় যদি একটা চাকুরী করতে পারতেন , তবে স্বামীকে কিছুটা হলেও তো আর্থিক ভাবে সাহায্য করতে পারতেন। নিজের হাতেও কিছু টাকা থাকত। নিজের বাবা মাকে ও আর্থিক ভাবে সাহায্য করতে পারতেন। কিন্তু, পরিবারে এমন কেও নেই যে এসে বাচ্চাকে রাখতে পারবে। কাজের লোককেও তো বিশ্বাস করা যায় না। সোশিয়াল মিডিয়াতে যখন দেখেন বান্ধবীদের চাকুরী জীবন। বাচ্চাও আছে তাদের। তখন মনে হয়, ওরা তো পারছে, তাহলে আমি পারছি না কেন? কি হল এত শিক্ষার? দিন দিন হতাশ হয়ে পরছেন। কেমন জানি মোটা হয়ে যাচ্ছেন । নিজের যত্ন টাও নেওয়া হয় না ঠিক মত। তবে কি তিনি একজন ব্যর্থ মানুষ?

 

উপরের দুটি ঘটনা বর্তমানের খুব সাধারণ । যা উচ্চশিক্ষিত মেয়েদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়।এছাড়াও বর্তমানে নারীদের আরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যেসব নারীদের সরকারি বা বদলি চাকুরী তাদের কষ্টটা আরও দ্বিগুণ। আবার যারা ব্যাংক বা মাল্টি ন্যাশনাল চাকুরীতে অনেক চাপের মধ্যে কাজ করেন তারা ঘরে –বাইরে কাজ করতে করতে ক্লান্ত, ছুটির দিনগুলোতে রেস্ট নিবে নাকি সামাজিকতা রক্ষা করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। শারীরিক মানসিক দুই চাপে পিষ্ট। আবার, যাদের স্বামীর সাথে ভালো সম্পর্ক নেই। চাকুরী না করলে তারা এক ধরনের নিরাপত্তা হীনতায় ভুগেন। অনেক পরিবার আবার নারীর আর্থিক , মানসিক প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করেন।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য এক ভয়ঙ্কর ঝুঁকির মধ্যে আছে। কারণ উচ্চশিক্ষিত নারীর সংখ্যা বাড়ছে ,কিন্তু নারী সহায়ক কর্ম পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। আর নারীর মানসিক অবস্থার উপর যেহেতু সন্তানের মানসিক অবস্থা নির্ভরশীল সেহেতু তারাও আছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। কারণ যে নারীটি নিজেকে নিয়ে খুশি নয়, সে সন্তান কে হাসি খুশি জীবন ধারণ কিভাবে শিক্ষা দিবে। যিনি নিজে এক গোলক ধাঁধায় ঘুরছেন তিনি সন্তান লালন-পালনের মত জটিল কাজকে কিভাবে উপভোগ করবেন। তাই এখনি উচিত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে নারীকে সাহায্য করা। তার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা । যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের জন্য খুবই প্রয়োজন।
সুতরাং, এই সমস্যা সমাধানে এখনি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে-

 

রাষ্ট্রের দায়িত্ব :
১। রাষ্ট্রের অনেক বড় একটি ভূমিকা পালন করতে হবে নারীর এই মানসিক সুস্থতার জন্য। প্রথমত নারী বান্ধব আইন তৈরি করতে হবে।

২। রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় এলাকায় এলাকায় ডে-কেয়ার তৈরি করতে হবে। ডে কেয়ার পরিচালনার শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি গড়ার জন্য নির্ধারিত কোর্স বা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেই সাথে আইন করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি আলাদা কক্ষ রাখতে হবে যেখানে বাচ্চা রাখার প্রশিক্ষিত আয়া, বা কাজের ফাকে ব্রেস্ট ফিডিং করানর সুযোগ, বিশ্রাম করার সুযোগ ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকবে।

৩। নারী বান্ধব কিছু কর্মক্ষেত্রের সুযোগ রাখতে হবে। যেমন, ৮ ঘণ্টা চাকুরীর সাথে সাথে শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কিছু ৪,৫,৬ ঘণ্টা কাজ করা যায় এমন পদের ব্যবস্থা রাখা যায়। যেন নারী তার সন্তানকে সময় দেবার পাশাপাশি নিজের যোগ্যতার ও সদ্ব্যবহার করতে পারে।

৪। নারীর মানসিক সেবা, নতুন মা-বাবা, মা চাকুরীজীবী দের পরামর্শ সেবা চালু করতে হবে।

আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় এ সব কিছু খুব বেশি বেশি মনে হলেও সরকার কে এটা করতেই হবে। কারণ সুন্দর একটি দেশের জন্য প্রয়োজন সুস্থ স্বাভাবিক জনগোষ্ঠী। আর,দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী এবং পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার কারিগর নারীর মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা ছাড়া তা কখনই সম্ভব নয়।

 

পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব

১।আমাদের দেশের মানুষের উপর সমাজের প্রভাব অনেক বেশি। এজন্য সামাজিক ভাবে নারীর এ সমস্যা সমাধানে একত্রে কাজ করতে হবে।

২। চাকুরীজীবী নারীদের সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে সর্বাধিক সহায়তা করতে হবে। কারণ সে পরিবারের জন্যই রোজগার করছে। সে বাচ্চা, সংসারকে কতটুকু সময় দিতে পারছে না, সেটা হিসাব না করে বরং চেষ্টা করুন তার কাজ একটু সহজ করতে। হয়ত তার বাচ্চাটাকে একটু সময় দিন, তার ঘরের কাজে একটু সাহায্য করুন। আর এসব করা সম্ভব না হলে অত্যন্ত সুন্দর একটা পরামর্শ দিন।

৩। যেসকল নারী বাচ্চা-সংসারের জন্য তাদের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিচ্ছেন তাদের প্রশংসা করুন । তারা যে সন্তান লালন পালনের মত জটিল একটা কাজ সফলতার সাথে করছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়তে তাদের সবটা দিচ্ছেন সে জন্য তাকে সম্মানিত করুন। “এত পড়ালেখা করে কি লাভ হল?! ‘ এসব বলে তাকে মানসিক ভাবে অসুস্থ করে ফেলবেন না। মনে রাখবেন এখনকার বাচ্চা পালতে, তাদের পড়ালেখা করাতে ও উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন আছে।
তাদের নিজেদের মত করে খরচ করার জন্য সামর্থ্য অনুসারে কিছু হাত খরচ নির্ধারণ করুন। এটা কিন্তু নারীর মানসিক প্রশান্তির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের প্রতি নিজের দায়িত্ব:

১। সব শেষে নারীর নিজের প্রতি নিজের দায়িত্বটাই কিন্তু সবচেয়ে বেশি। নিজেকে ভালবাসুন। নিজের যত্ন নিন । ব্যায়াম করুন। জীবন কে উপভোগ করুন। চাকুরী আর সংসার যেটাই করুন, ভালোবাসার সাথে করুন। আর জীবনে যা পেয়েছেন তার জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিন।

 

২। অভিমান না করে, সুন্দর ভাবে পরিবারের সবার কাছে সাহায্য চান। পরিবারের পরামর্শ গুলো সহজ ভাবে নিন। নিজে একা সব না করে স্বামী, সন্তান, পরিবারের  অন্যান্য সদস্যদের মাঝে কাজ ভাগ করে দিন।

৩। গৃহিণী  যারা মনে করেন এত পড়ালেখা করেও মা-বাবা কে আর্থিক ভাবে সাহায্য করতে পারছি না, বা সমাজের জন্য তো কিছুই করতে পারছি না। তারা মনে রাখবেন টাকা-পয়সা দিয়েই সব হয় না। বাবা-মার নিয়মিত খোজ নিন, তাদেরকে ভালবাসুন।দেখবেন কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করার চাইতেও এটা অনেক বেশি প্রয়োজন তাদের। সমাজের বিভিন্ন ভালো কাজেও অংশ নিতে পাড়েন। যেমন- বন্যার্তদের সাহায্যে টাকা তুলেন, অসুস্থ আত্মীয়দের দেখতে যান, অনলাইনে ভালো কাজের জনমত গড়ে তুলেন। দেখবেন কাজ করে শেষ করতে পারছেন না।

৪। এছাড়াও গৃহিণীরা বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স, মাস্টার্স কোর্স, বিভিন্ন ছোট খাট ট্রেনিং, ফ্রিল্যন্সিং, ছোট ব্যবসা, লেখা লেখি শুরু করে দিতে পাড়েন। এতে সময় ও ভালো কাটবে, আবার বাচ্চারা একটু বড় হয়ে ফুল টাইম আয়ও শুরু করে দিতে পারবেন।

৫। আর নারীদের কেই নারীর সবচেয়ে ভালো বন্ধু হতে হবে  । আপনার পাশের নারীটিকে বা পরিবারের চাকুরীজীবী বা গৃহিণী  নারীটিকে হিংসা না করে সাহায্য করুন। তাহলে নারীকে পুরুষ ও রাষ্ট্রের সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

 

আসুন , সবাই মিলে মানুষ গড়ার কারিগর নারীকে সাহায্য করি। তবেই গড়ে উঠবে সুন্দর পরিবার,সমাজ ও দেশ।

 

একাকিত্ব এবং পারিবারিক বন্ধন

Now Reading
একাকিত্ব এবং পারিবারিক বন্ধন

আজকালকার যুব সমাজ, শিশু-কিশোর এমনকি বয়স্করাও “কিচ্ছু ভাল লাগেনা” নামক অসুখে অসুস্থ।  সবকিছু আছে তারপর ও কি যেন নাই?!

বাবার টাকা আছে, সিজিপিএটাও ঠিক আছে, হয়তো লয়াল বন্ধু-বান্ধব ও আছে তবুও কি যেন নাই! ফেসবুকের হাজার ফলোয়ার, ইন্সটা আপডেট অথবা সন্ধ্যায় পথশিশদের পড়ানোর পর মুখের মিস্টি হাসিটুকুও সহজেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে! কিন্তু কেন আমরা এই ভালো লাগেনা নামক মনোরোগকে প্রশ্রয় দেই? কারণ, দিন শেষে আমরা সকলে একটা নন-জাজমেন্টাল আশ্রয় খুঁজে বেড়াই। এমন একটা আশ্রয়ের কোল খুঁজে বেড়াই যেখানে মাথা রেখে মনের সব কথা অকপটে বলা যায় অথবা নির্ভয়ে স্বীকার করে নেয়া যায় দিনের যত কুকীর্তি। আর এই আশ্রয়টা দিতে সব চেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে একটা পরিবার। ছোটবেলা থেকে যদি একটা শিশু মা-বাবার সাথে সহজে মনের কথা শেয়ার করা শেখে তাহলে বড় হওয়ার পরও সে সুন্দর করে পারিবারিক যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে। হ্যাঁ, অবশ্যই বয়সের সাথে সাথে কারো কারো ক্ষেত্রে কিছুটা রাখঢাক এসে পরে অথবা অন্তর্মুখী স্বভাবের আধিপত্য দেখা যায়। তবুও আপনার ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেটা বাসায় এসে ধাম করে দরজা বন্ধ করে দিলে, সময় নিয়ে তার সাথে কথা বলুন। আপনার মেয়েটা প্রতি রাতে  কেঁদে বালিশ ভেজায় কিনা সে খবর রাখার জন্য রাতে মাঝে মাঝে দরজায় কড়া নাড়ুন। চোখে পানি দেখলে প্রথমেই প্রশ্নে জর্জরিত না করে, শান্তভাবে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিন। স্নেহের মাধ্যমে তাকে নিরাপত্তাবোধের আশ্বাস দিন।

প্রতিদিন মোবাইল/ট্যাব  এ চোখ আটকে রাখা আপনার মেয়েটিকে শুরুতেই বকাঝকা না করে, ওর মনোযোগ ডাইভার্ট করার জন্য ওকে নানারকম কাজ দিয়ে ওর ফোকাস পরিবর্তন এর চেষ্টা করুন। এরপর ওর এক্সপ্রেশন দেখুন। ওর বন্ধু হোন। শাসন করুন কিন্তু অবশ্যই দূরত্ব সৃষ্টি না করে। দেখবেন, পাশের বাড়ির “মোখলেস”-কে  নয়, আপনাকেই সে সবকিছু বলবে!

আপনার বাবা-মায়ের মাঝে দ্বন্দ্ব হলে, কানে হেডফোন লাগিয়ে জোরে গান না শুনে, রান্না ঘরে যান, তাদের জন্য নাস্তা বানান। তাদের সাথে মজার ছলে কথা বলুন। এরপর কথার ছলে দ্বন্দ্ব নিরসনের চেষ্টা করুন। যাদের রাগ এ বরফ পানি ঢাললেও শীতল হয়না, তাদের রাগের কারণ বুঝতে চেষ্টা করুন। সময় নিন, সময় দিন।

আপনার শক্ত মনের, কঠিন মেজাজি বাবাও কিন্তু একাকিত্বে ভোগেন। কখনো কি জিজ্ঞেস করেছেন তাকে “আব্বু, তোমার শরীর কেমন? এতো চিন্তা কিসের তোমার? আমাকে কি বলা যায়?” হ্যাঁ, হয়তো সে ঝাড়ি দিয়ে বলতে পারে, “ন্যাকামো হচ্ছে নাহ!” কিন্তু পরেক্ষণে একটু হলেও তার এই ন্যাকামো ভালো লাগবে।

কখনো কি মায়ের প্রেসক্রিপশনটা খুলে দেখেছেন? উনিও কিন্তু ওষুধ খাওয়ার সময় মনে মনে চান আপনি ওনার প্রেস্ক্রিপশনটা দেখে অন্তত একবেলার ওষুধটা খাইয়ে দেন। জ্বি, উনি সত্যিই আপনার কাছ থেকে একটু কেয়ার আশা করেন। আপনি যখন কেয়ার করে ওনার এই ছোট্ট না বলা আশাগুলো পূরণ করবেন, উনিও তখন কেয়ার করে মনের গহীনের কিছু কথা আপনাকে বলবেন। হ্যাঁ, ঘরে প্লাজমা টিভি থাকার পরও উনি নিঃসঙ্গ। তাকে সাধ্যমতো সঙ্গ দিন। তার আশ্রয়ের একটা কূল হোন।

আপনার কমপ্লিকেটেড ভাই অফিস থেকে ফিরলে, দুইজনের জন্য কফি বানান। একসাথে কফি খান। নিজের কথাগুলো তাকে বলুন। তার সারাদিনের কথাগুলো ও মনোযোগ সহকারে শুনুন। উনি অন্তর্মুখী স্বভাবের হলে, ওনার প্রাইভেসী এর ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল থাকুন। দেখবেন, এই শ্রদ্ধাবোধকে সম্মান করে, উনি নিজে থেকেই আপনাকে আপন ভাববেন এবং বিশ্বাস করবেন। ঘটনাক্রমে, নিজের কমপ্লিকেটেড মাইন্ড এর টুইস্টেড চিন্তাগুলো আপনার কাছেই বলে শান্তি পাবেন।

ম্যারিড কাপলরা একে ওপরের পিকচার এ শুধু ট্যাগ না দিয়ে, নিজেদের মধ্যকার সম্পর্কের খুঁটিনাটি জানুন। বন্ধুত্বের সম্পর্ক সৃষ্টি করুন। সময় পেলে সঙ্গীকে নিয়ে ঘুরতে যান। মনে রাখবেন, কেউ কেউ গিফট আর ফুল এর চেয়ে বেশি ভালোবাসে আপনার সময়। ছুটির দিন বেলা ১২ টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে না থেকে একসাথে রান্নাঘরে নতুন কোনো ডিশ রান্না করুন। বাচ্চাদেরকে নিয়ে একসাথে খেতে বসুন। ওদেরকে অল্প ডিশ শেয়ার করে খেতে শেখান। ওদের ছোট ছোট প্রশ্নের জবাব হাসিমুখে দিন। অতিরিক্ত প্রশ্নবাণে জর্জরিত হলে, নিজেদের বিরক্তির বিষয়টিও মজা করে বলুন। যৌথ পরিবার এ থাকলে আপনার “ছোটু” কে অন্য কাজিনদের সাথে শেয়ারিং করা সেখান। আর একক পরিবার হলে, আপনার ছোটুর ওয়েফার এ একটা কামড় বসিয়ে ওর এক্সপ্রেশন দেখুন। “আমার-তোমার” না শিখিয়ে ওকে বলতে সেখান “আমাদের”। তাহলে বড় হয়ে সে সবাইকে নিয়েই চিন্তা করবে। ছোটবেলায় কাজিনদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক থাকলে, বাচ্চাদের বাইরের সঙ্গ পাওয়ার ইচ্ছা কম থাকে যেটা এই যুগে কিছুটা হলেও ইতিবাচক। এছাড়া যখন সে বড় হবে তখন মনের কথা বলার জন্য অনেকগুলো জায়গা খুঁজে পাবে।

আর আপনার দাদাভাই এবং গ্রানি? তারাও কিন্তু একা বোধ করেন। তারা সব চেয়ে বেশি একা বোধ করে কখন জানেন? যখন অন্য ঘর থেকে আপনাদের খিলখিল হাসির শব্দ শুনতে পান তখন। তাদেরকেও আপনার খিলখিল হাসির ভাগিদার করুন। নতুন কোনো জামা-জুতা কিনলে তাদেরকে দেখান। আপনার হাসিমুখ তাদেরকে গর্বিত করে। হ্যাঁ, কারো প্রকাশভঙ্গি ইতিবাচক আবার কারো নেতিবাচক। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আপনি চাইলেই ভালো ব্যবহার দিয়ে বরফ গলাতে পারবেন! আপনাকে শুধু নিজের আত্মবিশ্বাস এর জায়গাটাকে দৃঢ় করে সে অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে। দাওয়াত এটেন্ড করার সময় তাদেরকে আপনার সঙ্গী করুন। তাদেরকেও সুন্দর করে গুছিয়ে নিয়ে যান এবং সবকিছু করুন হাসিমুখে। মনে রাখবেন, আপনার কপালের ভাঁজ তাদের দীর্ঘশ্বাসকে আরো ভারী করে তুলবে।

আচ্ছা, কখনো কি একঘরে করে দেয়া আপনার সেই কাজিন “আবিদ” কে দেখতে গিয়েছেন। জানি, যাননি।  কারণ, সে মাদকাসক্ত। কিন্তু কখনো কি তার এই মাদকাসক্ত হওয়ার জন্য নিজেকে দায়ী মনে করেছেন? “আশ্চর্যতো! আমি দায়ী কেন হবো? লেখিকার মাথাটা গেসে!” কিন্তু আপনিও কিন্তু ওর মাদক নেয়ার জন্য দায়ী। কিভাবে দায়ী? সো কোল্ড ফ্যামিলি স্টেটাস মেইনটেইন করতে গিয়ে আবিদকে কখনো নিজের কাছে ঘেঁষতে দেননি। তারপর যখন ছেলেটা এসএসসি তে জিপিএ ৪.৮৯ পেয়ে মনমরা হয়ে বসে রইলো, তখনও যাননি একটা ফুলের তোড়া নিয়ে ওকে দেখতে যেতে। আস্তে আস্তে যখন একাকিত্ব আর কুসঙ্গ  ছেলেটাকে মাদকাসক্ত করে তুললো, তখন অন্য সবার মতো আপনিও তাকে একঘরে করলেন!

হায়! আফসোস! আমাদের সব আছে কিন্তু “কিচ্ছু  ভাল লাগেনা!” কারণ, কত দায়ে যে আমরা দায়ী, নিজেরাও সেটা জানিনা।…

এই দায় পূরণের দায়বদ্ধতা মেনে যদি একটু পারিবারিক বন্ধনের পিছনে সময় আর শ্রম দেই তাহলে আর “কিচ্ছু ভাল লাগেনা” নামক অসুখ থাকবে না। আমরা সমাজ পরিবর্তন করতে চাই ভঙ্গুর পারিবারিক বন্ধন নিয়ে। তাই আমরা সমাজ পরিবর্তন করতে পারিনা। আগেতো পরিবারটাকে সুন্দর করি। তারপর সমাজটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলবো। আর একাকিত্ব? একাকিত্বতের সময় কই হতাশ করার যদি সবকিছু করার সময় আন্তরিকভাবে উপভোগ করি?

চোখ বন্ধ করে, একটু ঠাণ্ডামাথায় চিন্তা করুন। একাকিত্ব আপনার চিন্তার একটি বহিঃপ্রকাশ। আপনার চিন্তাকে প্রোডাকটিভ করুন। কাজকর্মে চিন্তার প্রতিফলন ঘটান। কি বললেন? ওহ, আচ্ছা; ‘সুইসাইড’ নিয়েতো কিছু বলেনি। হুমমম…তাইতো, ‘সুইসাইড’ নিয়েতো কিছু বললাম না। কেন বলবো বলুনতো? এই ৭.৫ বিলিয়ন জনগোষ্ঠীর বিশ্বে ‘সুইসাইড’ একটা করার মতো কাজ? আর আমরা কি কাপুরুষ? নাহ, আমরা বীরের জাতি। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় থাকলে সুইসাইড করার সময়ই পাবেন না! আচ্ছা, আপনি একাই দুনিয়ায় এসেছেন? ভাই/বোন, সবাই একাই দুনিয়ায় আসে। কিন্তু ক্ষনিকের এই যাত্রায় ৭.৫ বিলিয়ন মানুষ থেকে যাদের আপনার আপন মনে হবে, তারাই আপনার পরিবারের মতো! তাই, নিজেকে ভালোবাসুন। নিজের পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করুন। আর একাকিত্বকে দিন ফেয়ারওয়েল!

যুবসমাজ জুড়ে চলছে ভার্চুয়াল সম্পর্কের আগ্রাসন

Now Reading
যুবসমাজ জুড়ে চলছে ভার্চুয়াল সম্পর্কের আগ্রাসন

বর্তমানে ভার্চুয়াল জীবনের একটা কমন বিষয় হলো প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া। স্বভাবগত কারণেই আমাদের বিপরীত লিঙ্গের দিকে আকর্ষণ কাজ করে। তাদের সাথে চ্যাট করতে ভালো লাগে।ভালো  একটা বন্ধুত্তের সম্পর্ক গড়ে উঠে। চ্যাট করতে করতে একটা সময় সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। কিন্তু এ সম্পর্কে জড়িয়ে আমরা কি পেয়েছি এবং কি হারিয়েছি তা কি আমরা একবারও ভেবে দেখেছি?

আমাদের যুবসমাজ কি এতটা বোকা?

আমরা যদি একটু খেয়াল করি তাহলে দেখতে পারবো এই ভার্চুয়াল জীবনের সাথে জড়িয়ে অনেক মেয়েই তাদের সবটা হারিয়েছে। অনেক সময় ছেলেরাও। তাও আমরা ভূল করি। ভার্চুয়াল জগতের আবেগ গুলো বড়ই অদ্ভুত। কত সহজে একটা মানুষকে মনের উচ্চ স্থানে জায়গা দেই আবার  ঠুনকো কোন কারণে একমিনিটেই ছুড়ে ফেলে দেই। কারো সাথে সম্পর্ক গড়তে যেমন সময় লাগে না, ঠিক তেমনি ঠুনকো আঘাতে সম্পর্ক গুলো ভেঙে চুরমার হতেও সময় লাগে না। যে মানুষ টি আজ আমাদের ক্লোজ লিষ্টে আছে, দু’দিন পর সেই মানুষটিই চলে যায় আমাদের ব্লক লিষ্টে অথবা আমাদের আইডির ঠিকানা হয় তাদের ব্লক লিষ্টে ; নাহয় হয়ে যাই দুজনের দু’চোখের বিষ !

কেউ দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করতে থাকলেও খুব তুচ্ছ একটা কারণে ঘৃণার সম্পর্ক শুরু হয়। বিশ্বাস কেমন জানি ঠোনকো একটা বিষয় হয়ে গেছে। কত সহজে একটা মানুষকে বিশ্বাস করে,কথা বলে,একজন অন্যজনকে নিজেদের গোপন কথা শেয়ার করে। অনেক সময় ব্যক্তিগত  ছবি ও আদান প্রদান করে। আবার ঠিক তাকেই কোন একটা কারণে অবিশ্বাস করে। ভেঙ্গে যায় বিশ্বাস নামক ভিত্তিটা।

সম্পর্ক ভেঙ্গে দেওয়ায় মেয়েদের থেকে পাওয়া ব্যক্তিগত ছবিগুলা আবার ভার্চুয়াল সাইডে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমন ধাক্কা খেয়ে মেয়েদের বিপরীত লিঙ্গের প্রতি একটা ঘৃণা শুরু হয়। অনেক মেয়ে আবার আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আবার ছেলেরা ও মেয়েদের কাছ থেকে প্রতারিত হয়ে নানান অনৈতিক কাজে জড়ায়। আবার স্বভাবগত কারণে মেয়েটা কোন ছেলের প্রতি এবং ছেলেটা কোন মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়। আবার ভূল করে।

তবে হ্যাঁ এটা শুধু ভার্চুয়াল জীবনেই হয় না। বাস্তব জীবনেও হয়। তাই বলছি বাস্তব জীবনে যেখানে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে সেখানে ভার্চুয়াল জীবন কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

তবে একটা কথা না বললেই নয়। তা হলো ভার্চুয়াল জীবনের সবটাই যে মিথ্যে তা বলা যাবেনা। মানুষ ভার্চুয়াল জীবন থেকেও সত্যিকারের মানুষ খুঁজে পেয়েছে। এমন মানুষ যার কাছে চোখ বন্ধ করে নিজেকে তোলে দেওয়া যায়। তবে তা খুবই কম। যেমন কিছুদিন আগে একটা নিউজ পড়েছিলাম। “ছেলেটা এবং মেয়েটার ফেইসবুকে পরিচয় তারপর বন্ধুত্ব। পরিচয়ের পরই মেয়েটা জানতে পারে যে ছেলেটার দুইটা কিডনি নষ্ট। মেয়েটা চাইলেই ছেলেটাকে ছেড়ে চলে যেতে পারতো।  কিন্তু যায়নি। ছেলেটাকে একটা কিডনি দান করবে বলেছে এবং বিয়ে করে ছেলেটার পাশে দাঁড়িয়েছে।”

ভার্চুয়াল জীবনে এমন আরো কিছু ভালোবাসার নিদর্শন আমরা দেখতে পারলেও তা খুবই কম।

একেবারে অবিশ্বাস করে জীবন চলে না। সব মানুষ খারাপ হয়না। তবে অনেক খারাপের ভিতর থেকে বা কারো কাছ থেকে ধোঁকা খাওয়ার পর কাওকে খুব সহজে বিশ্বাস করা যায় না বা উচিৎ না। মনে রাখবেন অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না। কাওকে অতিরিক্ত বিশ্বাস করা ও উচিৎ না। ভার্চুয়াল জীবনে হোক অথবা বাস্তব জীবনে কাওকেই অতিরিক্ত ভালবাসবেন না,কাওকে এতটা বিশ্বাস করবেন না যার কারণে আপনাকে সব হারিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয় বা খারাপ পথে পা এগিয়ে দিতে হয় অথবা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়।

আমরা সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব। আমাদের ভালো মন্দ বিচার করার ক্ষমতা আছে। আমরা জানি আমরা কিভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারবো।আর কোন কাজটা করলে আমরা ভালো থাকবো। ভালো থাকা মানে এই না যে কোন একজনকে বিশ্বাস করে নিজের সবটা বিলিয়ে দিব। এবং তার থেকে প্রতারিত হয়ে আবার নিজেকে শেষ করে দিব। ভার্চুয়াল লাইফে নিজেকে জড়ান। তবে লিমিট মেনে।  মনে রাখবেন মাত্রারিক্ত কোন কিছুই ভালো না। বর্তমান যুবসমাজ ভার্চুয়াল লাইফে একটু বেশি জড়িয়ে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল লাইফ যুবসমাজের কাছে এক ধরণের নেশায় পরিণত হয়েছে। যে নেশা থেকে বের হয়ে আসা সত্যিই খুব কষ্টের।

আমি নেশা বলেছি এবং এর জন্য যঠেষ্ট কারণ আছে।একটা মানুষ যখন নেশাগ্রস্থ হয় আমরা তাদের ভিতর কি কি অনিয়ম দেখতে পাই?

১.ইনসমনিয়া(নিদ্রা রোগ)

২.খাবারে অনিয়ম।

৩.পরিবার থেকে দূরে থাকা।

৪.বাস্তব জীবন থেকে কিছুটা দূরে চলে যাওয়া।

ভার্চুয়াল জীবনে জড়ানোর পরেও যুবসমাজের ৬০% এ সব অনিয়মে জড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা যুবসমাজ ভার্চুয়াল জীবনে জড়িয়ে যাওয়ার পর নিজেদের পরিবারকে কতটা সময় দেই? ভার্চুয়াল জীবনে জড়ানোর পর আমরা অনেকে ভূলে যাই যে আমাদের একটা পরিবার আছে। অনেক সময় ভার্চুয়াল কাওকে সময় দিতে গিয়ে নিজের পরিবারের কারো না কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করছি।

আমার লেখা কথাগুলো কতটা সত্যি তা যে বা যারা আমার লেখাটা পড়ছেন তারা একবার ভেবে দেখেন।

যুবসমাজের কাছে একটাই অনুরোধ, ভার্চুয়াল লাইফ আমাদের সব কিছুনা। নিজের বাস্তব মানুষদের সময় দিন। পরিবার,আত্মীয়দের সময় দিন। তাহলে হয়তো আমরা ভার্চুয়াল লাইফে ভূলটা কম করবো। লিমিট রেখে চলুন।

তবু ভালোই চলছে দিন…খারাপ কি !

Now Reading
তবু ভালোই চলছে দিন…খারাপ কি !

আজগর সাহেব সরকারী চাকুরিজীবি ,বেশ বড় পোষ্টে ছিলেন। খুব কষ্ট করে জীবনের এই অবস্থান গড়েছেন। বিধবা মা সেলাই করে, ঘরে বসে বাচ্চাদের আরবী শিক্ষা দিয়ে রোজগার করতেন। সেই মায়ের ছায়ায় বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু চিরাচরিত একটি বিষয় হল, ” দুঃখের দিনে সুজন পাবেনা সুখের দিনে অভাব হবেনা ! ” তেমনি অবস্থা … তবু তার মধ্যেই সে জীবনের একটি মজবুত এবং সম্মানের অবস্থান তৈরী করেছেন। কিন্তু তাঁর যখন সুদিন তখন মৌমাছির ও অভাব হওয়ার কথা না। চারিদিকে ভন ভন করা মৌমাছি মানে আত্মীয় স্বজন। সবাই নিজে থেকে খুঁজে খুঁজে তাঁর সামনে হাজির হতে থাকলো ! অথচ এরা একদিন এই ছোট্ট আজগর ও তাঁর বিধবা মাকে অবজ্ঞা করে দূর দূর করেছে…! কিন্তু তবুও বেশ সুখেই ছিলেন আজগর সাহেব তাঁর মাকে নিয়ে। মায়ের যত্ন নিজ হাতেই করতেন কিন্তু বয়স প্রায় চল্লিশ হলেও বিয়ে করেননি তিনি। কারণ একটাই ! আজকালকার মেয়ে সংসারি হয়না আর হলেও বৃদ্ধ শ্বশুড় শ্বাশুড়িকে সহ্য করতে পারেনা ! সে আলাদা সংসার করতে চায়। যেখানে শুধু সে আর তার স্বামী থাকবে অন্য কোন ঝামেলা হবেনা। অথচ যাকে ঝামেলা মনে করে সেই মা ই খেয়ে না খেয়ে টাকা জমিয়ে যুদ্ধ করে কোলের সন্তানকে নিশ্চিত একটি জীবন গড়ে দেয় ! কিন্তু বয়সের সাথে সাথে তাঁরাই বোঝা হয়ে যায় !

যাই হোক। আত্মীয় স্বজন জোর করে তাদের চেনা পরিচিত এক উচ্চ শিক্ষিত সুন্দরী পাত্রীর সাথে বিয়ে করিয়ে দেয়। বিয়ের পরে আজগর সাহেবের ধারণা পাল্টে গেল। তাঁর স্ত্রীর আদিখ্যেতায় মুগ্ধ তিনি এবং তাঁর বৃদ্ধ মা। বেশ সুখেই দিন কাটতে লাগলো…। আজগর সাহেব স্ত্রীর ভরশায় বৃদ্ধ মাকে রেখে অফিসের কাজে কিছুদিনের জন্য শহরের বাইরে গেলেন। কিছুদিন পরে কাজ শেষে ফিরে আসেন। ফিরে এসে সবকিছুই স্বাভাবিক দেখে বেশ সন্তষ্ট তিনি। কন্তু কয়েকদিন ধরে খেয়াল করলেন, মা কেমন হঠাৎ করে দুর্বল এবং কম কথাবার্তা বলেন। মলিন চুপচাপ থাকতে দেখছেন, আর পুরোনো সাদা কালো একখানা ছবি আগলেই সময় পার করেন মা। মাকে জিজ্ঞেস করলে অনেক কথা যেন বলতে গিয়েও আটকে যায় মায়ের মুখে ! কেমন যেন নীরব আর ভীত সে। অনেক জিজ্ঞাসা করার পরে মা জবাব দিলেন, ” অনেক বয়স হয়েছে মরার ভয় কলিজায় বসে গেছে বাবা ! তুই সামলে থাকিস ভালো থাকিস !”বলে কেঁদে ফেলেন তিনি। আর কিছু বলতে চেয়েও চুপ হয়ে গেলেন। প্রথমে স্বাভাবিক মনে হলেও আজগরকে ভাবিয়ে তোলে বিষয়টি। সুস্থ স্বাভাবিক মা এত দ্রুত ভীত হয়ে গেলেন কেন! সে দিনরাত বোঝার চেষ্টা করেন কিন্তু কোন অস্বাভাবিকতাই নজরে পড়ে না। স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলে বলে, ” মা স্বপ্নে বাবাকে দেখেছেন তাই কিছুদিন ধরে মন খারাপ, ও কিছু না ঠিক হয়ে যাবে।” আবারও আজগর সাহেব বিষয়টি মাথা নেড়ে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয় তবে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে তাঁর ! কারণ অভাব , বিপদ, কষ্ট সব খুব কাছ থেকে দেখেছেন আর দেখেছেন শুধু মায়ের মুখ ! কিন্তু মায়ের সাথে তাঁর অনেক ভালো সম্পর্ক , বন্ধুরমতন সম্পর্ক তবে হঠাৎ করে মা এতটা ঝিমিয়ে চুপ হয়ে গেলেন কেন ? আবার কিছু যেন বলতে চেয়েও বললেন না শুধু কাঁদলেন ! আর স্বপ্নের কথা মা তো নিজেই বলতে পারতেন, আমি তাহলে বাবার জন্য মিলাদের ব্যবস্থা করতাম কিন্তু…

উনি বুঝে গেলেন মায়ের অব্যক্ত কথা !

তিনি আবারও অফিসের কাজে দুদিনের জন্য সিলেট গেলেন। মহা আনন্দে তাঁর স্ত্রী তাঁকে বিদায় দিয়ে পুরোনো প্রেমিককে ঘরে এনে নোংরা রঙ্গ তামাশায় মেতে উঠলো। আর এসব সহ্য করতে না পেরে চিৎকার দিয়ে বৃদ্ধা কাঁদতে লাগলেন, তখন অর্ধনগ্ন ছেলের বউ এসে তাঁর গলা টিপে ভয় দেখালো এবং মারতে লাগলো.. আর বলতে লাগলো, ” বুড়ি তুই জলদি মর ! আমি নিশ্চন্ত হই আর তোর ছেলেকে বুঝিয়ে বল আমার নামে সব লিখে দিতে নইলে তোর ছেলে আর তুই নারী নির্যাতন মামলায় ফেঁসে যাবি ! সারাদিন শুয়ে বসে ছেলের কামাই খাচ্ছিস লজ্জা নাই বুড়ি মর !”

অসুস্থ মা শরীরের ব্যথায় কাঁতরাতে থাকেন আর কাঁদতে থাকেন। কিছুক্ষনের মধ্যে আজগর সাহেব বাসায় পুলিশ নিয়ে হাজির ! এতক্ষন যা যা ঘটেছে তার সবই আজগর সাহেবের সেট করা লুকানো ক্যামেরায় বন্দী হয় ! আর তিনি সিলেটে যাওয়ার নাম করে বাড়ির আশে পাশেই ছিলেন ! আজগর সাহেব আর বিয়ে করেননি তবে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে ভালোই চলছে ওদের দিন।

তবু সবাই নিশ্চয়ই এক হয়না, আর সঙ্গী ছাড়া জীবন অর্থহীন। 🙂

প্রতিশোধ – পর্ব ৫

Now Reading
প্রতিশোধ – পর্ব ৫

 

হেমা রুমমেটদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে এবং ২ টা স্টুডেন্ট পড়িয়ে যে টাকা পেত তা দিয়ে পরীক্ষা পর্যন্ত চলে।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আবার জব খুঁজা শুরু করে।
একটা জব পেয়েও যায়।
নতুন জব এ ঢুকার পর একটা ছেলের সাথে পরিচয় হয়। ছেলেটার নাম হিমেল।হেমা ছেলেটাকে এড়িয়ে চলে। নতুন কোন ঝামেলায় আর নিজেকে জড়াতে চায় না।
একদিন হিমেল হেমার সামনে এসে দাঁড়ায়।

হিমেলঃ আমি জানি তুমি কেন আমাকে এড়িয়ে চলো।
হেমা ভয় পেয়ে যায়। যে ঘটনা থেকে দূরে থাকার জন্য এত দূর আসা তা এখানে ও তাকে তাড়া করছে!
হেমাঃ কি জানেন আপনি?
হিমেলঃ তুমি কেন ছেলেদের এড়িয়ে চলো তা।
হেমা চুপ করে আছে।
হিমেলঃ তোমার জীবনে এমন কিছু ঘটে গেছে যার জন্য তুমি দায়ী না। কোন অপরাধ না করেই তুমি শাস্তি পেয়েছিলে।
হেমাঃ আপনি কি করে জানলেন?
হিমেলঃ তুমি যেদিন এখানে জয়েন করেছো সেদিন তোমাকে দেখেই আমার ভালো লেগে যায়।তোমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি।কিন্তু তুমি আমাকে এড়িয়ে গেছো।

তোমার সিভি থেকে তোমার বাড়ির ঠিকানা যোগার করে তোমাদের গ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে সবটা জানতে পারি।
ভেবেছিলাম তোমার বাসায় যাবো।কিন্তু পরে আর সাহস পাইনি।
হেমাঃ সবটাই তো জেনে গেছেন।এখনো আমার পিছনে পরে আছেন কেন?
হিমেলঃহুম সবটা জেনেছি।আর আমি জানি এতে তোমার কোন দোষ ছিলো না।তুমি শুধু শুধু নিজেকে এভাবে সব কিছু থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছো।

হেমাঃ মানে?
হিমেলঃ দেখো আমি সবটা জেনেছি এবং সত্যিটা জেনেছি।যে সত্যিটা তুমি সবাইকে বলেছো কিন্তু কিছু লোক ছাড়া আর কেও বিশ্বাস করেনি।আর আমি তোমার বলা সত্যিটা বিশ্বাস করেছি।
হেমা চুপ করে আছে।

হিমেলঃহেমা আমি আমার মা কে তোমার কথা বলেছি।তোমার সাথে যা যা ঘটেছে সবটা বলেছি।আমার মা বলেছে তোমাকে মেনে নিতে তার কোন সমস্যা নেই।তুমি চাইলে মা তোমার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবে বলেছে।
হেমাঃ এসব জেনে ও তিনি রাজি হলেন?
হিমেলঃ হুম। মা শুধু একটা কথাই বলেছে,এর থেকে বেশি কিছু হলে ও মা তোমাকে মেনে নিতো।যে অন্যায় তুমি করোনি তার শাস্তি ও তুমি প্রাপ্য না।
হেমা হিমেলের দিকে তাকিয়ে আছে।
হিমেলঃতুমি ভাবার জন্য সময় নাও।ভেবে আমাকে জানিও।
এ কথা বলে হিমেল চলে গেলো।

 

হেমা কি করবে বুঝতে পারছেনা।নতুন কোন আঘাত হেমা সামলাতে পারবে না।হিমেলের বলা কথাগুলা বিশ্বাস করবে কিনা তাও বুঝতে পারছে না।এ ব্যাপারে কথা বলবে এমন কেউই নেই।

অনেক দিন হয়ে গেলো।হেমা হিমেলকে কিছু জানায়নি।
হিমেল ছেলে হিসেবে ভালো।কিন্তু হেমা ভয়ে হিমেলের সাথে কোন সম্পর্কে জড়াতে চায় না।
একদিন হিমেল হেমাকে বললো…

হিমেলঃহেমা তুমিতো আমাকে কিছু জানালে না।
হেমা হিমেলকে কি বলবে তা ভেবে পাচ্ছে না।
হিমেল হেমাকে অনেক বুঝানোর পর হেমা রাজি হলো।
হেমা হিমেলকে বললো ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা শেষ হলে তারপর হেমার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে।
হিমেল ও রাজি হলো।
হেমা আর হিমেল এর জীবন ভালোই কাটছে।
হঠাৎ করে এলোমেলো হয়ে যাওয়া হেমার জীবন নতুন করে রং খুজে পেয়েছে।

ফাইনাল ইয়ার এর পরীক্ষা চলে আসলো।
হেমা আর হিমেল খুব খুশি।পরীক্ষা শেষ হলেই হিমেল ওর মা কে নিয়ে হেমার বাসায় যাবে।

হেমার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো।
হেমার বাসা থেকে হেমাকে কল করে বলল যেনো ঐ দিনই হেমা বাড়ি আসে।

হেমা বাসায় জানালো ভাইবা পরীক্ষার পর বাসায় আসবে।কিন্তু হেমার বাবা কিছুতেই রাজি হলো না।ঐ দিনই বাসায় যেতে বললো।
বাবা অনেক জোর করার পর হেমা বাসায় যেতে রাজি হলো।
হেমা ভাবলো এখন তাদের কথা না শুনলে বাসা থেকে হিমেল কে সহজে মেনে নিবে না।

তাই ব্যাগ গুছিয়ে বাসার দিকে রওনা হলো।
বাসায় গিয়ে যা শুনলো তাতে হেমা নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।হেমাকে না জানিয়েই বিয়ের সব আয়োজন করে ফেলেছে।
হেমা কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি হলো না।
বাবাঃএই বিয়েটা তোকে করতেই হবে।সমাজে মুখ দেখাতে পারছিনা।আর কোন ছেলেই তোকে বিয়ে করতে রাজি হয় না।ছেলেটা ভালো তাই তোকে বিয়ে করবে বলেছে।
হেমাঃকিন্তু বাবা আমাকে একবার জিজ্ঞেস ও করলে না? চিনি না জানিনা একজন কে কিভাবে বিয়ে করবো?
আর তাছাড়া আমি একজনকে পছন্দ করি।ও আমার সবটা জানে।আর জেনেই আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছে।কিছুদিন এর মধ্যে আমাদের বাসায় আসবে বলেছে।বাবা তুমি বিয়েটা না করে দাও।এই বিয়েটা করা আমার পক্ষে সম্ভব না।

বাবাঃআমি ছেলেটা কে কথা দিয়েছি।বিয়েটা তোকে করতেই হবে।এমতেই তোর জন্য আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না।তোর জন্য নতুন করে আমি আর কারো কাছে অপমানিত হতে পারবো না।বিয়েটা না করলে এ বাড়ির কারো সাথে আর তোর সম্পর্ক থাকবে না।
হেমা সবাইকে বুঝাতে চেষ্টা করলো।কিন্তু কেও হেমার কথা শুনলো না।
বাধ্য হয়ে হেমা বিয়ে করতে রাজি হলো।
বিয়ে পড়ানোর সময় বর এর নাম শুনে হেমা চমকে গেলো।
হেমা দ্বিতীয় বারের মত ধাক্কা খেলো।হেমার সাথে এসব কি হচ্ছে?

 

চলবে….

মমতার গহীনে

Now Reading
মমতার গহীনে

-আচ্ছা আপনি লাইট অফ করলেন কেন?

-আমি আপনার চোখের দিকে তাকাতে চাইনা।

-মানে?

-আপনার অসাধারন একজোড়া চোখ আছে। খুব লোভনীয়। তাই লোভে পড়ার আগে আপনাকে কিছু কথা জিজ্ঞাসা করতে চাই।

-করুন।

-বিয়েটার ব্যাপারে আপনি কি কিছুদিন সময় চান? আই মিন ভাবার জন্য।

-আপনার দিক থেকে প্রবলেম না থাকলে আমারও কোন সমস্যা নেই।

-না বলছিলাম কি, একজন মানুষকে একবার দেখেইতো চেনা যায়না। আপনি যেমনটা ভাবছেন আমিতো তেমনটা নাও হতে পারি।

বাকিটা জীবন একসাথে থাকতে হবে এমন একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটু হলেও সময় নেওয়া উচিত।

-আমি আমার পরিবারকে বিশ্বাস করি। তারা আমার ভালো হোক সবসময় চায়।

_____________

 

মেয়েটার প্রতি আমার প্রেমের শুরু তখন থেকেই। তীর গেথে যাওয়ার মত করে আমার হৃদয়েও তার প্রতি ভালোবাসা গেথে গিয়েছিলো নিভৃতে, অজান্তে।

সে গেথে যাওয়া ভালোবাসাকে সঙ্গী করে আজ আমাদের পথচলার তিন বছর। একটা ফুটফুটে কন্যা সন্তান আমাদের। ইরা। ৮ মাস বয়স।

মীমের ব্যস্ততা গুলো এখন ইরাকে ঘিরেই। ইরা পুপু-চুচু টাইপ সংকেত দেওয়াটা লপ্ত করে নিয়েছে ভালো করেই। মেয়ের পুপু-চুচু সংকেতেই মীম বুঝে যায় তার কি লাগবে।

ইরা যদি পুপু-পুপু বলে শব্দ করতে থাকে তাহলে দৌড়ে এসে মীম তার মুখে খাবার তুলে দেয়। পুপু-পুপু মানেই হচ্ছে তার ক্ষিদা পেয়েছে, এবার তাকে খাবার দাও!। আর ডায়পার চেঞ্জ করার জন্য সে চুচু-চুচু করতে থাকে। মানে সে আসল কাজ সেরে ফেলেছে এবার তাকে চেঞ্জ করাও!।

কিন্তু গোসলের জন্য এখনো মনে হয় সে কোন সংকেত আবিষ্কার করতে পারেনি। ডেটল মাখানো পানিতে নামাতেই তীব্র চিৎকারে তুলপার শুরু করে। ভয়ংকার চিৎকার। বাসা জুড়ে বীনা মেঘে বজ্রপাত নয়, একেবারে ঝড় উঠে।

অবশ্য এতে মীম বিরক্ত হয়না। বরং মেয়ের কান্না যেন তাকে আরো যত্ন করে গোসল করানোর জন্য অনুপ্রাণিত করে!। মাঝে মাঝে দুকথার কয়েকটা শাসন। “এই মেয়ে বাবার মত হওয়া চলবেনা, চুপচাপ সময়ের কাজ সময়ে করে নিতে হবে”।

অথচ এমনটা কথা ছিলোনা। কথা ছিলো অক্ষরে অক্ষরে বাবার মত হওয়ার।

 

ইরা তখন ৯ মাসের গর্ভাবস্থায়।

সে রাতে ঝকঝকে পূর্ণিমা। মীমের দীর্ঘশ্বাস গুলো আমার কাধে উষ্ণতা ছড়াচ্ছিলো। সুখের উষ্ণতা। যে উষ্ণতায় ছিলো মা হতে চলা কোন এক মেয়ের ভালোবাসা, মমতা, আবেগ আর স্বপ্নের এক পশলা মিশ্রন। প্রতিটা দীর্ঘশ্বাসেই ছিলো চীরসুখের এক গভীরতম আভাস।

-আচ্ছা আমাদের যদি ছেলে হয়ে যায়!

-দুই-দুইবার আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে তো মেয়ে হওয়ার সম্ভবনার কথাই বললো। বাকিটা আল্লাহ জানে।

-জানো আমার কেনো জানি মনে হয়, আমার পেটের বাবুটা ছেলে। সে সারাক্ষন শুধু জ্বালায়। তোমার মত!। মেয়ে বাবু হলে আমার মত শান্ত থাকতো! এতো এতো পেটের ভিতরে জ্বালাতন দিতোনা!

-উহু, সে জ্বালায়না। খানিক পরপর সে তোমাকে তার বাবার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তুমিতো ভুলেই যাও, সারাক্ষন শুধু আমার বাবু আমার বাবু করতে থাকো!

-উহ আসছে অবদান ওয়ালা! আচ্ছা যদি মেয়ে হয় তাহলে তোমার ইচ্ছেমত মানুষ হবে আর ছেলে হলে আমার ইচ্ছে মতো।

-অকে ডান।

-এখন বলো মেয়ে হলে তুমি তোমার মেয়ের কি নাম রাখবে?

-জ্যোৎস্না বানু! আমাদের ঘরে যখন কারেন্ট চলে যাবে তখন আমাদের জ্যোৎস্না বানু ফুরফুর করে আলো ছড়িয়ে বেড়াবে। ছেলের ব্যাপারে তুমি কিছু ভাবছো নাকি?

-এখনো ঠিক করিনি। মনে মনে পাঁচটা নাম বাছাই করে রেখেছি। তারপর যে নামের পাশে মোমবাতির আগুন ভালো জ্বলবে সেটাই রাখবো!

-এগুলো তোমাকে কে শিখিয়েছে?

-আম্মু! ছোটবেলায় নাকি আমার নামটাও এভাবে রাখা হয়েছিলো। তাই আমিও আমার মতো করে আমার ছেলের নাম রাখবো।

-এত পরিশ্রম করতে হবেনা। ছেলে হলে তুমি নাম রাখতে পারো, চাঁদ মিয়া। যে দিনের বেলায় চুরি করে সূর্যের রোদ খাবে আর রাতের বেলায় নিজের নাম করে জ্যোৎস্না বিলাবে। নামে গুনে সমানে সমান! ঠিক তোমার মতো!

-এই সাবধান, আমার ছেলের ব্যাপারে নাক গলাতে হবেনা। নিজের মেয়েকে নিয়েই ভাবো!

 

শেষমেষ এক আলোকবর্ষের সবগুলো আলো একসাথে জড়ো হয়ে মীমের কোল জুড়ে একটা মেয়ে শিশুই আসলো। কিন্তু চীর ধরলো আমার কপালে। মেয়ের ভবিষ্যত চিন্তা নিয়ে অধিকার খাটানোতো দূরের থাক, আমার ইচ্ছামত নামটাও রাখা হলোনা।

খুব ইচ্ছে ছিলো আমার মেয়ের নাম জ্যোৎস্না বানু হবে। জ্যোৎস্না বানু বড় হবে। কোন এক ঘোর আমাবশ্যায় টেলিফোনের ওপার থেকে কেউ একজন বলে উঠবে, “এই জ্যোৎস্না বানু খুব অন্ধকার জানো। অন্ধকার আমার খুব ভয়ের। আসবে একটু আলো হয়ে আমার ঘরে?

দুজন মিলে আমাবশ্যাকে বুরো আঙুল দেখিয়ে জ্যোৎস্না বিলাস করবো! আসোনা। এপাশ থেকে জ্যোৎস্না বানু খিটখিট করে দু-পাটি হেসে দিবে। লজ্জা মাখা কন্ঠে ফিসিফিস করে বলবে, জ্যোৎস্না বানু তোমার পাশেই আছে। হাত বাড়িয়ে নয়, মন বাড়িয়ে দাও দেখবে জ্যোৎস্না বানুকে ছুঁতে পারবে! ওপাশ থেকে দীর্ঘশ্বাস আসবে। প্রেমের ছলে ছেলেটির হেরে যাওয়ার দীর্ঘশ্বাস। নিঃশব্দে দুজন অনেকটা সময় কাটিয়ে দিবে। তারপর হঠাত করে আমাবশ্যা কেটে যাবে!

হলোনা। কিছুই হলোনা। মেয়েটা বড় হলে জ্যোৎস্না বানু দিয়ে একটা ফেইসবুক একাউন্ট খোলার বুদ্ধি দিয়ে দিবো। অবশ্যই ফেইক একাউন্ট হবেনা!

এইতো গেলো নামের কথা। আমি নাকি মেয়েকে অনেক শক্ত হাতে কোলে নেই! তাই যখন তখন চাইলেও কোলে নেওয়া যাবেনা। কোলে নিতে হলে মীম তোয়ালে পেঁচিয়ে মেয়েকে একেবারে শীতকালীন পোশাকের মডেল বানিয়ে দেয়। তাও একগাধা সতর্কীকরন নোটিশ দিয়ে। সবটুকুর অর্থ, মেয়ে যেনো ব্যাথা না পায় কোন ভাবে!

আমিও খুব সতর্ক থাকি। মেয়েকে কোলে নেওয়া মুহূর্তেই আমার কানে বাজে, “ সাবধান মেয়ে যেনো ব্যাথা না পায় কোন ভাবে!”

 

নারী মীম আর মা মীম কে আমি আলাদা করার চেষ্টা করি। পথচলার তিন বছরে আমি কখনোই তার কপালের ভাঁজে বিরক্তির ছাপ দেখিনি। যা দেখেছি সেটা হলো মমতার এক অসীম ক্ষমতা। ঠোঁটের কোনে আলতো হাসি রেখে নরম হাতে সব কিছু সহজ করে আগলে রাখার ক্ষমতা। শর্তহীন ভালোবাসায় সংসারটাকে এক অদ্ভুত মায়া গন্ধে কাবু করে রাখার মতো ক্ষমতা। মেয়েগুলো এমনিই হয়। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির রহস্যে সবচেয়ে বড় রহস্য মেয়ে। যারা চোখে যন্ত্রনা দেখেও অন্তরে ভালোবাসা নিয়ে মুখে হাসি রাখে অতি যত্নে, সাবধানে। বুঝতে দেওয়া যাবে না। কিছু বুঝতে না দেওয়াটা তাদের অনেক বড় একটা দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে তারা সজাগ থাকে বেঁচে থাকার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। বিসর্জনের যুদ্ধে সর্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হলো নারী। যারা হেরে যায়না কিন্তু হারিয়ে দেয় সকল অনিয়মকে!

 

চাঁদ আজ আলো ছড়িয়েছে নিজের সর্বস্ব দিয়ে। বোকা চাঁদ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। লজ্জা পেলো বোধহয়। নিজেকে খানিকটা মেঘের মাঝে লুকিয়ে নিলো। মীম খুব শক্ত করে আমায় জড়িয়ে আছে। হারিয়ে যাবেনা, হারাতেও দিবেনা এমন কঠিন বিশ্বাসের জড়িয়ে ধরা! পাগলীটা হয়তো আমার হার্টবিটের আওয়াজ বুঝতে পেরে গেছে। সেই আমার বেঁচে চলার একমাত্র হাতেখড়ি, আমার বিশ্বাস গুলোর একমাত্র শক্তি। একসাথে দুটি হৃদয়ের ভার বহনের দায়িত্বে ঘাবড়ে গেছে হয়তো। তাই ভয় মেশানো জড়িয়ে ধরার মাত্রাটা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে!

-আমার একটা কথা রাখবে?

-বলেই দেখোনা!

-ইরাকে তোমার মতো একটা মীম করে গড়ে তুলবে? ঠিক তোমার মতো।

মীমের দীর্ঘশ্বাস গুলো আমার কাধে উষ্ণতা ছড়ায়। সুখের উষ্ণতা। যে উষ্ণতায় মাখানো মা হয়ে যাওয়া কোন এক মেয়ের ভালোবাসা, মমতা, আবেগ আর স্বপ্নের এক পশলা মিশ্রন। চীরসুখের এক গভীরতম আভাস।

*********************************

মধ্যবিত্তের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী

Now Reading
মধ্যবিত্তের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী

বাবা সরকারি চাকরি করেন।আমাদের পরিবার সুখি পরিবার ৯০ দশকের পয়সার মত। যেহেতু বাবা সরকারি চাকরি করেন তাই দাদার বাড়ি আর নানা বাড়ি থেকে অনেক দূরে প্রায় বাংলাদেশের এক প্রান্তে থাকতাম আমরা। তখন শুধু জানতাম ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। আমি যেখানে থাকতাম সেখান কার মানুষের চাহিদা ছিল ৫টি মানে হল মৌলিক চাহিদা আমিও বেতিক্রম না। মা বলে ছোট থেকেই নাকি আমি বন্ধু প্রিয় মানুষ সারাদিন নাকি বাসায় থাকতাম না। ক্ষুদ লাগলেও নাকি আমার কোন অসুবিধা হত না,আমার ভক্ত সমাজ আমকে ধরে নিয়ে তাদের বাসায় নিয়ে যেত। স্কুল আর খেলা এই নিয়ে সময় কেটে  যাচ্ছিল । কোন মতে পরীক্ষায় পাশ করে নতুন ক্লাসে উঠছি বুজতেই পারছেন নতুন বছর শুরু হইছে। সকলে বাবা ঘুম থেকে ওঠালেন ,ঘুমের চোখ ডোলে খুলে দেখি লাল র সবুজ রঙের  খেলোয়াড় দের পোশাক আনছে। আমি মহা খুশিতে লাফালাফি করলাম। পোশাক দেখলাম লালটা ছোট আর সবুজটা বড়,বুঝতে আর বাকি থাকল না।আমি আর বাবা পোশাক পরে সকাল ৬ টায় বেড় হতাম অনেক মজায় মজায়। হাটা হাটি করতাম ৪৫ মিনিট। পরে খাবার রেস্টুরেন্টে বসে সকালের নাস্তা করতাম দুইজন এবং আম্মুর জন্য খাবর নিয়ে বেড় হয়ে বসতাম একটা কেহেরমান এর দোকানে। দোকানের মালিকের সাথে কেহেরমান এর মিল ছিল নাকি কেহেরমান এর সাথে মালিকের তা আমি জানি না কিন্তু সে ছিল আমার কাছে কেহেরমান। যাই হোক আব্বু কেহেরমান কে বলত একটা চা দেও কিন্তু কেহেরমান চা এর সাথে সিগারেট ও দিত আব্বুকে। তাই দেখে আমিও কেহেরমান কে বলতাম একটা চা আর সিগারেট দেও কিন্তু কেহেরমান আমাকে দিতো একটা জুস আর সাদা গোলাপি রঙের পাইপ চকলেট। সেই মজায় মজায় থাকা বিষয়টা বেশি বছর ছিলনা ঘুম কাতুরে মানুষের যা হয়।
নতুন বছরের কিছু দিন যাইতেই শুনলাম ওই এলাকায় নাকি বিদেশী তত্ত্বাবধায়নে একটি নতুন  স্কুল খুলছে। আমার দলের মেম্বাররা অনেকেই ভর্তি হল কিন্তু দলের নেতা মানে আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না । কারন আমার ৫/১০ টাকার খেলনা আর কোমল পানীয় খাওয়ার আব্দার ছাড়া আর কোন কিছু ছিল না। স্কুলের গাড়ি প্রতিদিন বাসার সামনে  এসে ছাত্র দের নিয়ে যাবে, টিফিনে খাবার দিবে, ক্লাস শেষে প্রাইভেট পরাবে আর বিকেল হলে বাসায় আবার সেই গাড়িতে দিয়ে আসবে । আশা করি টাকার কথা কাও কে বলে বুঝাতে হবে না। মাসের অর্ধেক দিন না যাইতেই দেখা গেল দলের নেতা একা একা বিকাল বেলা জলপাই গছের পাতা চাবাইতেছে। কিছুক্ষণ চাবানো হলে বাসায় গিয়ে দরজা টোকা দিলাম কিন্তু দরজাটা আম্মু খুলছেনা। আমি জানি আম্মু ঘুমাচ্ছে, আমি যতক্ষণ বাসায় থাকি আম্মু ততোক্ষণ ঘুমাতে পারে না কারন আমি এই ছোট রাজ্যের দুষ্টু রাজা। অনেক টোকা দিতে দিতে যখন দরজার সাতে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম তখন আম্মু দরজা খুলে দিলো। আম্মুতো আমাকে দেখে পুরাই অবাক এই সময় আমি বাসায়। আম্মু একবার আমার দিকে তাকায় আর একবার ঘড়ির দিকে তাকায় । আমি  ভিতরে ঢুকতেই প্রথম কথা কোন সমস্যা,ঝগড়া করছ, মারামারি নাকি কেউ কিছু বলছে ? আমি কোন কিছু না বলে সোজা বারান্দায় প্রাইভেট সৈনিক দের নিয়ে খেলা শুরু করলাম। এই ভাবে ৪/৫ দিন বাসা থেকে বেড় হইনাই এই কথা শুনে তো আমার চাচা,মামা,খালা সবাই দূর থেকে আমাদের বাসায় এসে হাজির তাদের দেখে কিসের মন খারাপ সব যে কথায় চলে গেল বুজলাম না। কিন্তু দুই দিন পর যখন চলে গেলো ঈশ মনের ভিতর ধুক ধুক আর আড়াল করা চোখের পানি নিয়ে ঘুমায় গেলাম। আমি বাসায় থাকি তাই আব্বু ও বাসায় থাকা শুরু করলো আগের চাইতে বেশি। আমি আর  আব্বু সাজনা ডাঁটা দিয়া তলোয়ারই খেলতাম আর আম্মুর বোকা শুনতাম।
শুক্র বার আমি বাসায় নাই সন্ধ্যা হয়ে গেছে আমি বাসায় আসছি  না! আব্বু আর আম্মু  খুঁজতে বেড় হইছে । বাহির হইয়া দেখে আমার বন্ধুদের বাবা মা তাদের সন্তান দের খুঁজছে। তাদের মধ্যে কথা হতেই আমার আব্বু বুঝল  আমার ঘরে থাকার কারন । আমরা সবাই ক্লাস ৩ তে পরলে কি হবে “ডিপু নাম্বার টু” সিনেমা দেখে সবাই বড় হয়ে গেছিলাম তাই হয়তো পানির ট্যাংকইর উপরে উঠছিলাম কিন্তু কেঁউই নামতে পারি নাই । হয়তো ছোট ছিলাম বা তারেক এর মত কেউ ছিল না । ১৭ জন যখন বাসায় ফেরেনাই সবাই খোঁজ শুরু করলো এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা ট্যাংকইর নিচে নেমে আসতে পারলাম। রাতে খাবার টেবিলে আব্বু বলল তোমার বন্ধু দের স্কুলটা অনেক সুন্দর কাল সকলে ঘুরে আসবো । পরদিন সকলে গেলাম স্কুল দেখতে ।পুরো স্কুল ঘুরলাম আধা ঘণ্টা সময় নিয়ে একটু পর আব্বু জিজ্ঞাসা করলো কেমন লাগলো ভর্তি হবা ?
স্কুলে আমি  ক্লাস ৩/৪ শেষ করলাম আর এই দিক দিয়ে আব্বুর সকাল বেলা বাহিরে নাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে । কেন হয়েছি এখন বুজতে পারলেও তখন কার সময় আমি বুজতে পারি নাই । মধ্যবিত্ত পরিবার এর প্রতি জন সদস্য এক জন আর এক জনের চাহিদা পূরণ করে  নিজের ইচ্ছা কে নির্দ্বিধায় মুছে দিয়ে। সরকারি চাকরির বদলী হচ্ছে পেরাসিটামল তিন বেলা খাওয়ার মত । নতুন জায়গা,নতুন স্কুল, নতুন জীবনের শুরু …

“ পরকীয়া ” পরিবার ও ভালবাসার অন্তরায় !

Now Reading
“ পরকীয়া ” পরিবার ও ভালবাসার অন্তরায় !

একটা সমাজের ভিত্তি কি ? যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় ? এই প্রশ্নের উত্তর মতভেদে নানান রকম পার্থক্য লক্ষণীয়। এটা স্বাভাবিকই বলা চলে। একই সমাজে বসবাস করা মানুষগুলোর মধ্যে নানান মতভেদের কারণেই তো আজ এতো এতো সামাজিক নিয়মকানুন বের হয়েছে। এই মতভেদ কেবল সমাজের মধ্যে নয় একটা পরিবারের মধ্যে হয়। আমরা শক্ত একটা পারিবারিক মুল্যবোধ আর বিশ্বাস নিয়ে বেড়ে উঠি। এই বিশ্বাসের রীতি রেওয়াজ আমরা কোন না কোনভাবে সমাজে বসবাসের সময় অণুকরণ করি। একটা ভাল পরিবারের সংজ্ঞা কি যদি বলতে যায় তবে বর্তমান অনুযায়ী তা ভিন্ন হবে অবশ্যই ।

পরিবারের শক্ত একটা গাঁথুনি থাকে স্বামী-স্ত্রীর বিশ্বাসের মধ্যে।এই পরিবারের গঠন বা কার্যাবলী একটা সমাজের বাহ্যিকতাকে পরিস্ফুটিত করে। বর্তমানে পরিবারের যে ভাঙ্গন তার পেছনে অনেকাংশে দায়ী আধুনিকতা আর নগর জীবনের প্রভাব। এখন গ্রামাঞ্চলেও শহরের মতো যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার গড়ে উঠতে দেখা যায়।

সাবস্ক্রাইব করে রাখুব বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করে নতুন সব আপডেটের জন্য! 

আমাদের দেশে বিবাহ প্রথার মাধ্যমে একটা পরিবারের সূচনা হয় ।এই বিবাহ প্রথার মধ্যে আবার রয়েছে নানান প্রথা যেখানে পরিবারের সম্মতিতে কেউ বিয়ে করে ,আবার কেউ কেউ একে অপরকে ভালবেসে বিয়ে করতে দেখা যায়। রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে লিভ-টুগেদারের মতো রিলেশনশীপের অস্তিত্ব লক্ষণীয় যদিও তা যৎসামান্য হারে।এই তো গেল কিভাবে একটা পরিবার গঠন হয় তার নমুনা ।রোজকার দিনে চলাফেরা বা নানান আনুষাঙ্গিক কারণে এই ভালবাসা বা বিয়ের মাধ্যমে গড়ে উঠা সম্পর্কগুলোতে একটা আস্থাহীনতা বা অবিশ্বাসের আস্তরণ জমে। এই আস্তরণ গাঢ় হয়ে মূলত সমস্যাটা দেখা দেয়।

সম্প্রতি আমাদের সমাজে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক বা অনৈতিক কোন সম্পর্কের জেরে নারী পুরুষ একে অপরের সাথে বসবাস করার প্রবণতা লক্ষণীয়।এটা সামগ্রিক অর্থে সামাজিক নীতি বিরুদ্ধ একটা কর্মকান্ড।সমাজ বিশ্লেষক বা বিশারদরা এটা নিয়ে  বেশ উদ্বিগ্ন বলা যায়। একটা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে দেশের রাজধানী সহ বিভাগীয় শহরগুলোতে স্বামী-স্ত্রী একে অন্যকে ডির্ভোস দেয়ার যে হার তা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। এই যে একে অপরকে ছেড়ে যাওয়ার মানসিকতা বা তাড়না তার পেছনে মুখ্য কারণ হলো স্বামী-স্ত্রীর বোঝাপড়ার অভাব।

আমরা দৈনিক পত্রিকা বা অনলাইন নিউজের বদৌলতে এই ধরনের খবর অহরহ পড়ছি। তাই সার্বিক অর্থে বলতে পারি পরকীয়া বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ইদানীংকালে পরিবার প্রথার জন্য ক্যান্সার বনে গেছে। এই সমস্যাটা একদিনে বা হুট করে হই নি। এই যে বাজে একটা চর্চা বা প্রথা তা ক্রমশ আমাদের মাঝে এসে যেন ঝেঁকে বসেছে।

এই যে পরকীয়া বা তদসংশ্লিষ্ট ঘটনার বহুবিধ নেপথ্য কারণ থাকতে পারে যার মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য………..

স্বামী স্ত্রীর মতের অমিলঃ

দেশের অধিকাংশ বিয়ে হয় পরিবারের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তাই এখানে স্বামী স্ত্রী একে অপরকে জানার বা বোঝার সময় কোনটা পাই না। একটা সম্পর্কে থাকতে যেখানে মানসিক সমোঝতার দরকার সেখানে কোন কোন ক্ষেত্রে মানসিক অপরিপক্কতা বা বোধগম্যহীনতার কল্যাণে একটা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মনের বিরুদ্ধ আচরণ বা পরিবেশ নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য হুমকি। তাই একই সাথে থাকলেও দুজনে দুজনের সাথে দ্বিমুখী আচরণ করে।ফলাফল পারিবারিক অশান্তি আর অন্যকোন দিকে ধাবিত হওয়ার একটা সুযোগ থেকে যায়।

অর্থনৈতিক সমস্যাঃ

বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক মুক্তি হল পরম মুক্তি। আপনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতায় আছেন সুখপাখি আপনার কাছে এসে ধরা দিবে। যেখানে বলা হয় টাকায় নাকি বাঘের চোখ মেলে সেখানে আপনি আস্ত একটা বাঘও তো কিনে আনতে পারেন। পরিবার গুলো যেমন হোক না কেন প্রত্যেক পরিবারের একটা সীমাবদ্ধতা থাকে সেটা যদি আমরা আর্থিক মানদন্ডে মাপতে যায় তবে তা খুবই জটিল একটা বিষয়। মানুষের চাহিদা সবসময় সীমাহীন একটা রেখা ধরে ধাবিত হয়। তাই বাস্তবিক অর্থে আপনি পরিবারের রক্ষক হয়ে যদি আপনার অধীনস্ত সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তবে আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এই আর্থিক জটিলতা বা দোটানা অনেকাংশে পারিবারিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য দায়ী। স্বামী যদি স্ত্রীর ভরণপোষণ বা নানাবিধ চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয় তবে পারিবারিক শৃঙ্খল ভেঙ্গে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। এই ধরনের ঘটনা হারহামেশাই ঘটছে আমাদের চারপাশে। এটা ঘর ভাঙ্গার কারণ যেমন তেমনি আবার পরকীয়ায় আসক্ত হওয়ার নিমিত্ত হতে পারে।

 

স্বাধীনতার কমতিঃ

নারীর উপর কর্তৃত্ব দেখানো বা প্রভাব খাটানোর যে মানসিকতা তা পুরুষের একটা সহজাত অভ্যাস। যদিও এই অভ্যাসটা ইদানীং পরিবর্তন হচ্ছে।

স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সাথে বসবাসের সে সামাজিক চুক্তি তাতে উভয়ের সমান অধিকার পাওয়াটা জরুরী। এক্ষেত্রে কোনভাবে যদি স্বামী বা কর্তার পক্ষ হতে নারী বা স্ত্রীর প্রতি একটা হস্তক্ষেপ বা নজরদারী যদি বেড়ে যায় তবে তা অনাকাঙ্খিত বটে। বনের পাখি যেমন খাঁচায় টিকবে না তেমনি মানব শিশু ও বনে টিকতে পারে না।

আমাদের পরিবারগুলোতে নজরদারীর বিষয়টা কোন কোন ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপের আওতায় পড়ে। এই আধুনিক যুগে বা সমাজে বসবাস করে আপনি একজন মানুষের অধিকার নিয়ে খেলতে পারেন না। তাই স্বামী-স্ত্রীর গন্ডি বা পরিবারের গন্ডি যেখানেই হোক না কেন কোন বাধা আসলে তা ভেঙ্গে বেড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা সবাই দেখাবে।

পারিবারিক মুল্যবোধ বা বিশ্বাস অটুট রেখে পর্যাপ্ত স্বাধীনতা নারী পুরুষ উভয়ের জন্য বহাল রাখা জরুরী।

 

পারিপার্শ্বিক পরিবেশঃ

আমরা একটা অণুকরণের রীতি বা সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমদের দেশীয় কৃষ্টি কালচারের বাইরে গিয়ে ইউরোপীয় বা আমেরিকান ঘরানার যে মুল্যবোধ তা রপ্ত করাতে যেন আমরা তৎপর। এই বিষয়টা এখন আমাদের জন্য গলার কাঁটার মত বিঁধেছে। আমাদের আর্দশিক ভাবধারার সাথে সাংঘর্ষিক কিছু বিষয় যা পাশ্চাত্য হতে ধার করা তা মোটের উপর আমাদের সমাজ ব্যবস্থার মজ্জাটাই ভেঙ্গে দিচ্ছে। এইসব ওয়েস্টার্ন কালচারের চর্চার ফলে মানসিক যে বিকারগ্রস্থতা তা ধীরে ধীরে অস্তিত্বের জন্য হন্তারক। এই যেমন লেট নাইট পার্টি করা ,লীভ টুগেদারের মতো বিষয়গুলো সামাজিক ভাবধারার সাথে যায় না বললে চলে।

জৈবিক জীবনঃ

বিয়ে সামাজিক চুক্তি হলেও তার পরবর্তী শর্ত দাড়ায় জৈবিক চাহিদার বিনিময়ে সন্তান জন্ম দেয়া। এটা একটা অলিখিত শর্ত বলা চলে। মানুষের সুখের কোন মানদন্ড নেই তবে বিবাহ পরবর্তী জীবনে কে কতখানি সাবলীল তার পরিচয় বহন করে তাদের সুখী দাম্পত্য জীবন। অধিকাংশ সময়ে ফ্যান্টাসি বা মোহাচ্ছন্ন হয়ে কেউ অতিমাত্রায় উৎসাহী হয় বা কেউ কেউ নিরাসক্ত হয়ে জীবন যাপন করে। এক্ষেত্রে উপরিক্ত উপাদানগুলিও প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

আমাদের দেশে অন্য অনেক কারণের মতো এই যে জৈবিক জীবন বা সেক্স লাইফ সম্পর্কিত সমস্যার ঘটনা নিয়ে ডির্ভোস বা বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা আলোচনায় আসে না। তবে এই বিষয়টা কোন না কোনভাবে নেপথ্য কারণ বলে বিবেচিত হতে পারে।

মোহাবেশঃ

চাকচিক্যময় জীবনের হাতছানি আর কৌতুহলের বশে অনেক সময় সুস্থ স্বাভাবিক জীবনকে কঠিন আর দুর্বোধ্য মনে হয়। বিদেশী সংস্কৃতির অন্ধ অণুকরণ বা গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানো যেমন আছে তেমনি মাদকাসক্তি,স্টারডম,স্বেচ্ছাচারিতার মত বিষয়ও কারণ বনে যেতে পারে স্বামী বা স্ত্রী যে কারোর পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়ার।

 

জীবনের অর্থ উপলব্ধীতে ব্যর্থঃ

অনেকসময় দেখা যায় সন্তানের মা-বাবা হওয়ার পরও কোন নারী বা পুরুষ ভিন্ন জনের সাথে সম্পর্কে জড়ায়। এটা নিজের কামনা বাসনাকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য হলেও প্রকরান্তরে তা দ্বারা নিজের দায়িত্ব হতে সরে আসাকে ইঙ্গিত করে। যে সন্তানের বাবা-মা হয়ে একটা অনৈতিক সম্পর্কের জেরে নিজের সন্তানকে বিপদগ্রস্থ করে তোলে সে আর যাই হোক নিদানপক্ষে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে পারে নি।

সম্প্রতি দেখেছি পরকীয়ার জেরে নিজের কোলের শিশুকে বলিদান করেছে নিষ্ঠুর মা-বাবা। ক্ষণস্থায়ী জীবনে নিছক একটা কামনার তৃপ্তির লক্ষ্যে নবজাতককে খুন করার মতো ঘটনা ঘটছে। অপরদিকে ভালবাসার মানুষের সাথে প্রতারণা ও পরিবার পরিজন সবার বিরুদ্ধে গিয়ে একটা ভিন্ন পরিস্থিতিতে নিয়ে যায় নিজের জীবনকে।এখানে অনেক সময় কাঙ্খিত সুখ অর্জিত হয় না বরং মেনে নিতে হয় অযাচিত দুঃখ কষ্টকে।

সর্বোপরি একটা ভালবাসা বা বিশ্বাসের মোড়কে যে পথচলা তাতে যদি কোনভাবে অবিশ্বাসের মতো ঘুণেপোঁকা বাসা বাঁধে তা মুহর্তেই ভেস্তে যায়। পরকীয়া মূলত স্বামী স্ত্রীর একে অপরের প্রতি অবিশ্বাসের দেয়ালে জন্ম নেয়া ভাইরাসসম কিছু। এই যে বোঝাপড়া বা অবিশ্বাসের রীতি তা বন্ধ করতে হবে প্রতিটা সৃষ্ট সমস্যা নিজেদের একটা স্বাভাবিক গন্ডিতে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। কোন কাঙ্খিত বা অলক্ষ্যের কিছুর জন্য তো আমরা পারিপার্শ্বিকতাকে নিয়ত কলুষিত করতে পারি না।

সম্প্রতি পরকীয়ার জেরে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক কোন ঘটনা আমাদের বিবেককে একটু হলেও নাড়া দিয়েছে। কোন সন্তানের কাছে বাবা-মা যেন মূর্তিমান আতংকের প্রতিচ্ছবি বনে না যায়।

তাই পরকীয়ার জেরে প্রতিনিয়ত আপনি আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা খারাপ শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান সময়ে আমাদের সচেতন ও আধুনিক নারী পুরুষ সকলকে সোচ্চার হতে হবে। আগামীর সুন্দর পথচলায় সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে আপনার আমার সকলের যেন সম্পুরক  অবদান থাকে।

 

অস্তিত্বে মাতৃত্বের স্নেহ

Now Reading
অস্তিত্বে মাতৃত্বের স্নেহ

এখনো আমাদের স্মৃতিতে মা দিবসের স্মৃতি ভাস্বর কেননা বিশ্বজুড়ে সকল মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় পালিত হয়েছে এই দিবসটি।আপনি আমি নিতান্তই সৌভাগ্যবান কেননা আমাদের অস্তিত্ব আমরা একটা পরিবারতন্ত্রের মধ্যে পেয়েছি।এই পরিবারের নানান লোকের ভীড়ে পেয়েছি এক পরম আরাধ্য নির্ভরতার স্থান আর ভালবাসার বিমূর্ত প্রতীক তিনি হলেন মা।এই মা নিছক কোন শব্দের আলোকে বর্ণনা করার মতন নয় কেননা এই যেন সন্তানের জন্য আত্মার আত্মীয়।

এই প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে টিকে থাকতে আমরা প্রতিনিয়ত নানা চলছাতুরী করে জিতে যাওয়ার চেষ্টাই করি,একটা জায়গায় বরাবরের মতো আমরা সমপর্ণ করতে রাজি তা হল সন্তানের প্রতি মায়ের ভালবাসা।এখানে মা কেবল নিঃস্বার্থভাবে সন্তানকে ভালবেসে যায় প্রতিদানে প্রত্যাশায় শুধু সন্তানের কল্যাণই কামনা করে।

মমতাময়ী মায়েদের সম্মান প্রর্দশনের জন্য মে মাসের ২য় রবিবারকে স্বীকৃত করে নেয়া হয়েছে যেখানে এই আলাদা দিনটি শুধু মায়েদের জন্য।আমরা অধিকাংশ জায়গায় পশ্চিমা বা ইউরোপের সংস্কৃতির একটা ছায়াতলে থেকে নিজের সভ্যতাকে বিকশিত করে যাচ্ছি।এই অঞ্চলে সভ্যতা বিকশিত হয়ে আলোয় পরিস্ফুট হতে বেশ সময় লেগেছে বলা যায়।মায়ের প্রতি সম্মানের যে সংস্কৃতি তা অণুকরণীয় হলেও আপনি একটি জায়গায় খুব ভাগ্যবান কেননা আপনি দীর্ঘসময় পরিবার প্রথার কারণে মায়ের আঁচলের ছোঁয়া পেয়ে যাবেন।পাশ্চাত্যের পরিবার প্রথা অনেকটা উন্মুক্ত কেননা এখানে কিশোর বয়সের গন্ডি পেরিয়ে আপনি চাইলে স্বাধীন জীবনাচার করতে পারবেন।

আমরা সমাজ গঠনের প্রথমদিক হতে একটা বিষয় শিখে আসছি একত্রে থাকার বিষয়টা একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে সভ্যতার বহুবিধ কল্যাণকর ছোঁয়া এখনো আমাদের পরিবার প্রথায় অতটা ভাঙ্গন ধরাতে পারে নাই।এটাতে ভাঙ্গনের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরী কেননা আপনি যদি এই সম্পর্ক হতে ক্রমান্বয়ে দূরে চলে যান আসলে আপনি আত্মার সম্পর্ককে ভুলতে বসবেন।

আমাদের এই সময়ের তরুণের কাছে উপজীব্য অনেক ইতিহাস আছে যেখানে মা আর ছেলের ভালবাসার নিরেট কাহিনী বর্ণিত আছে যা কিনা আমাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা জোগায়।হযরত আবদুল কাদের জিলানীর মায়ের প্রতি আনুগত্যের যে বিরল নির্দশন তা অবশ্য অণুকরণীয়।

সময় ও কালের বহমান স্রোতধারা আমাদের নিয়ত নতুন নতুন অভিজ্ঞতা আর ঘটনার সম্মুখীন করে যাচ্ছে।

আমরা মায়ের মমতাময়ী রুপ দেখতে দেখতে অভ্যস্থ ইদানীং আমরা ঐ একই মায়ের বিধ্বংসী কোন রুপ দেখে হতবাক হই।সামাজিক অপরাধ হিসেবে প্রতীয়মান হওয়া সম্প্রতি কিছু ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। দশমাস গর্ভে ধারণ করে যেখানে সমস্ত প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করে কোন মা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখায়।সেই একই মা কি তুচ্ছ বা কোন সামান্য বিষয়ে সন্তানকে খুন করতে পারে।

বাস্তবতার মিশেলে এই প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ জগত কি প্রতিযোগিতায় মত্ত রেখে আমাদের মনের কোমল সত্তাকে নিয়ত কঠোর করে তুলছে।এই কঠোরতা বা নিষ্ঠুরতার যে নমুনা তা বন্ধে কি করণীয় বা সমাধানকল্পে দীর্ঘমেয়াদী কোন পদক্ষেপ নেয়া জরুরী।

কবিকন্ঠে নবজাতকের জন্য এই পৃথিবী বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে যে উদাত্ত আহবান তা যেন বাস্তবায়িত হয় আমরা অবুঝ এই নবজাতকের জন্য তার মায়ের কোলকে যেন নিরাপদ করে গড়ে তুলতে পারি।সম্প্রতি একুশ নামের এক নবজাতকের জন্য নিঃসন্তান গুটিকয়েক দম্পত্তি আইন আদালতে যেতে পিছপা হননি। সে সকল নিঃসন্তান দম্পত্তির জন্য অনুশোচনা কেননা নবজাতকটি অসুস্থতার কারণে মারা যায়।সেই সকল মায়েরা যারা কিনা একটা সন্তানের অধিকার লাভের জন্য কত দৌড়ঝাপ করেছেন তাদের সেই স্পৃহা দেখে বোঝা যায় একজন নারীর জন্য মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ কতটা আরাধ্য।

আমরা এমন একটা সমাজে বাস করি যেখানে সময়ের প্রেক্ষিতে দর্পণে আপনি আপনার এবং আশেপাশের সবার সোজা এবং উল্টো দিক দুটো অবলোকন করতে পারবেন।

উন্নয়নের এই জোয়ারে সুরম্য প্রসাদের ভীড়ে এই নগর জীবনে গড়ে উঠেছে কিছু ভিন্নমাত্রার আবাসস্থল যেখানে আমরা দেখি সন্তানের ভালবাসা হতে বঞ্চিত হয়ে অনেক মা তাদের দিন নীরবে কাটিয়ে দিচ্ছে।যেই মা কোন সন্তানকে দশমাস সময় ধরে গর্ভধারণ করে জন্মদান করে সেই সন্তানেরা এখন মায়ের সাথে দেখা করার জন্য  মাসের একটা দিন বের করে আসে।অনেকাংশে ব্যস্ততা তা করার অবকাশ দেয় না ,এটা কি আসলে অবকাশ নাকি সদিচ্ছার অভাব তা বোঝা মুশকিল।

বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসরত মায়েরা সবসময় স্মৃতিকাতর থাকেন তাদের স্মৃতিতে সর্বদা ঘুরপাক খায় সন্তানের সাথে কাটানো মধুর সময়গুলো।আপনি যদি কোন সন্তান মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এমন মায়ের চেহারা দেখেন বা তার সাথে আলাপন করতে যান অধিকাংশ সময় তিনি আপনার সাথে সন্তানের বিষয়ে সুখস্মৃতি নিয়ে আলাপন করবে।

আমাদের সমাজে নারী পুরুষের ভীড়ে কিছু অনন্য প্রকৃতির মানুষ আছে যাদের মুল্যবোধ আপনার কাছে ঠুনকো মনে হবে আপনি যদি মনযোগি হন তবে অবশ্যই বুঝতে পারবেন তাদের মনে সন্তানের প্রতি ভালবাসার গভীরতা কতখানি।

এই প্রতিকূল সমাজব্যবস্থায় সংসারে যেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় ঠিকে থাকা দুস্কর সেখানে এইসকল সিঙ্গেল মায়েরা তাদের সন্তানের আগত ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে সুরক্ষাকবচ হিসেবে বুকে আগলে রাখে।সমাজ হয়তো তাঁকে (মাকে) কটাক্ষ করে তবে তিনি তো সন্তানের কাছে মহীয়সী।

এই মা দিবসে সকল মায়ের প্রতি আকুন্ঠ শ্রদ্ধাপোষণ করছি।

এই নগরের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাক নিষ্প্রাণ আর মলিন বৃদ্ধাশ্রমের সকল বর্ণচোরা দালানগুলো হারিয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা রইল।

আমি,আপনি আপনারা মিলে যদি ইতিবাচক পদক্ষেপ ফেলতে ফেলতে অগ্রসর হই তবে কোন পিছুটান আমাদের কলুষিত করতে পারবে না।

সকল সন্তানের ভালবাসার স্নেহডোরে মায়েরা থাকুক সুরক্ষিত।