ভার্চুয়াল সম্পর্ক: বাস্তবিক নাকি বায়বীয়?

Now Reading
ভার্চুয়াল সম্পর্ক: বাস্তবিক নাকি বায়বীয়?

ভার্চুয়াল জগৎ হল যার অস্তিত্ব শুধু অনুভূতি বা চেতনায় কিন্তু যার উপস্থিতি বাস্তবতায় নেই। অর্থাৎ অবাস্তব এক জগৎ। ইন্টারনেট জগতটাই ভার্চুয়াল জগৎ। সাড়ে তিন ইঞ্চির মোবাইল ফোন আর পনেরো, ষোল ইঞ্চির মনিটরে মানুষ ধীরে ধীরে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে এবং কিছু অবাস্তব, মিথ্যা সম্পর্ক গড়ে তুলছে।

ভার্চুয়াল সম্পর্ক:

ভার্চুয়াল সম্পর্কগুলো হল বন্ধুত্ব, প্রেম, ভালোবাসা, আর ব্যাখ্যাতীত কিছু অসুস্থ সম্পর্ক। এ সম্পর্কের কোন বাস্তবিক ভিত্তিই নেই আছে শুধু বায়বীয়তা।

কেমন হয় ভার্চুয়াল জগতের সম্পর্ক:

বাস্তবে হয়তো একটা মানুষের কোনো বন্ধু নাই, কিন্তু ভার্চুয়াল জগতে সে খুবই আনন্দের ও কোলাহলপূর্ণ জীবন-যাপন করছে ঠিকই কিন্তু ভার্চুয়াল জগৎ আসলে একটি বায়বীয় জগৎ। এ জগতের প্রেম, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা সবই খুব সহজেই গড়ে ওঠে আবার খুব সহজেই ভেঙে যায়। এটা শুধু আবেগ আর সময়ের দাবী ছাড়া আর কিছুই নয়। এ সম্পর্ক একটা মোহ মায়ার সম্পর্ক।

ভার্চুয়াল সম্পর্ক আসলে অবাস্তব আবেগ অনুভূতির মায়াজালে ঘেরা ঠুনকো সম্পর্ক। যা বাস্তবিক চেতনার উদ্বেগ জাগায় এবং রোমাঞ্চিত করে তবে তা ক্ষণস্থায়ী এবং অলীক ভাবনা মাত্র। যার বাস্তবতা বা পরিণতিই নেই তবু এক নেশা ও ঘোরের মতন কাজ করে। এটি বাস্তবিক নয় পুরোটাই বায়বীয়। ক্ষণস্থায়ী এ সম্পর্কের ঘোর কেটে যাওয়ার পরে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় যার মোকাবেলা অনেক ক্ষেত্রে মুশকিল হয়ে পড়ে। কারণ অবাস্তব সম্পর্কগুলো বাস্তব সম্পর্কগুলো অস্বীকার করে ফলে অনেক সম্পর্ক ভেঙে যায়।

এ সম্পর্কের ফলে সমাজে কিছু ভয়ঙ্কর এবং কু প্রভাব দেখা যায় যেমন :

* বাবা মায়ের সাথে সন্তানের দূরত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। সন্তানরা অনেক সময় বাবা মায়ের অবাধ্য হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে বিপথগামী হয়।

* কারো সাথে অপ্রয়োজনে কথোপকথনে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। কিন্তু আদৌ সেটা প্রেম নয় বরং একটা ধোকার সম্পর্ক। তবু যুবসমাজ এ ধোকার এবং বায়বীয় সম্পর্কে জড়িয়ে অনেক প্রতারিত হচ্ছে।

* বিবাহিত নারী পুরুষও এই ভার্চুয়াল জগতে নিজের অজান্তেই অস্বীকৃত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ফলে স্বামী স্ত্রী দ্বন্দ্ব কলহ লেগেই থাকে।এই মোহের সম্পর্কগুলো বাস্তব সম্পর্ক মিথ্যে করে দেয় আর মিথ্যে সম্পর্কগুলোই প্রাধান্য পায়।

* কখনও আবার বন্ধত্বু গড়ে ওঠে। একসময় ভার্চুয়াল বন্ধুমহল আড্ডার নাম করে একে অন্যের ঠিকানা নিয়ে নিচ্ছে। প্রায়ই আড্ডা চলছে হঠাৎ একদিন একা পেয়ে হাত পাঁ বেঁধে সব লুট করে সর্বশান্ত করে দিচ্ছে আবার প্রমাণ মুছে ফেলতে গুম হত্যাও করছে অহরহ। সিরিয়াল কিলার, লুট, ডাকাতি, চুরি অধিকাংশ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ভার্চুয়াল জগতের ভয়ঙ্কর কিছু পরিনতির অংশ।

* শুধু এ সম্পর্কই না, ব্যাখ্যাতীত কিছু সম্পর্কও আছে যার আদৌ কোন বাস্তবতা নেই আছে শুধু অসুস্থ বিনোদন, আবেগ আর অনুভূতি। যার কোন বাস্তবিক ভিত্তি বা পরিণতি নেই! তবু যুবসমাজ এর কবলে ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

আসলে এ জগতের সম্পর্কগুলো বায়বীয় এবং বিশ্বাস অবিশ্বাসের খেলা মাত্র। সম্পূর্ণটাই ধোঁয়াশা এবং মিথ্যে মোহ মায়া।

এছাড়া ভার্চুয়াল জগতে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো যুবসমাজকে সামাজিক সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন কর দিচ্ছে। আগে মানুষে মানুষে একটা সৌহার্দ্য, প্রেম, প্রীতি ছিলো, আদিখ্যেতা ছিলো যা প্রায় বিলীন হয়ে গেছে ভার্চুয়াল জগতে। বিশেষজ্ঞদের মতে ভার্চুয়াল জগতটাই একটা নেশার জগৎ যে জগতের প্রতি যুবসমাজ প্রতিনিয়ত আসক্ত হয়ে পড়ছে এবং ধীরে ধীরে আত্মকেন্দ্রীক হয়ে সমাজ ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। একসময় ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

জীবন ও সময়ের সাথে তাল মেলাতে গেলে এর সুফলের থেকে কুফলই বেশী প্রতীয়মান হয় সমাজে। কারন এর কোন বাস্তবিক ভিত্তিই নেই শুধু ধোঁয়াশায় ঘেরা বেনামী সম্পর্ক। বাস্তব সম্পর্কগুলো ভেঙে সামাজিক ও পারিবারিক ভাঙনের সৃষ্টিই বেশী করে যার প্রভাব আমাদের সমাজে অহরহ হচ্ছে। এবং সামাজিক ও মানসিক অবক্ষয় সৃষ্টি করছে।

অবশ্য ভার্চুয়াল জগতের সম্পর্কের গুটিকয়েক ইতিবাচক দিক বা প্রভাবও প্রতীয়মান হয়, তবে এ দ্বারা ভার্চুয়াল সম্পর্ক কখনই বাস্তবমুখী প্রমাণ করা সম্ভব নয়।