অশালীন ও বেহায়াপনার রাজ্য দেশের বিনোদন পার্ক ও সেগুলোর ওয়াটার ওয়ার্ল্ড !!!

Now Reading
অশালীন ও বেহায়াপনার রাজ্য দেশের বিনোদন পার্ক ও সেগুলোর ওয়াটার ওয়ার্ল্ড !!!

টাইটেল দেখে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আমরা আজ কাল যা দেখছি, চোখের সামনে যতকিছু ঘটছে প্রায় সবকিছুই যেন মাত্রা অতিক্রম করেছে। দেশ উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে ঠিকই কিন্তু দেশের সংস্কৃতি এবং মানুষের মনুষ্যত্ব যেন দিন দিন প্রচুর পরিমাণে লোপ পাচ্ছে। পাশ্চাত্য দেশের সংস্কৃতি আমাদের সংস্কৃতিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। আর সেইসব দেশের নোংরামো ও বেহায়াপনা আমাদের দেশের বর্তমান প্রজন্মকে রসাতলে নিয়ে যাচ্ছে। যার উপযুক্ত প্রমাণ মেলে দেশে গড়ে উঠা বিনোদনের নামে নোংরা কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা বড় বড় বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে।

এগুলোকি সত্যি বিনোদন কেন্দ্র নাকি বিনোদনের নাম করে সেখানে চলছে চরম অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা। আমি আমাদের দেশে গড়ে উঠা বিভিন্ন ওয়াটার ল্যান্ড গুলোর কথা বলছি। গত বেশ কয়েক বছরে দেশে বিনোদন কেন্দ্র বা পার্কের নামে যে সব চরম নোংরা কার্যকলাপের স্থান তৈরি হয়েছে তা দেখলে আমি সত্যি অবাক হই। পাশ্চাত্য দেশের নোংরা সংস্কৃতি দেশের মানুষগুলোকে ঠিক যেন পেয়ে বসেছে। আর দেশের মানুষগুলো যেন দিন দিন বিবেক বর্জিত মানুষ হিসেবে নিজেকে আত্নপ্রকাশ করছে। আর দেশের তরুণ প্রজন্ম এই সব নোংরা কার্যকলাপে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে লিপ্ত হচ্ছে।

যেখানে কোন দেশের তরুণ প্রজন্মের হাতে দেশের উন্নতি, সম্মান ও দেশের সংস্কৃতি রক্ষা করার অসীম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আরোপিত থাকে সেখানে আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম অশ্লীল কার্যকলাপ ও ধ্বংসের দিকে নিমজ্জিত হচ্ছে। আর তার প্রমাণ মেলে দেশে নিত্যনতুন তৈরি হওয়া বিনোদন পার্ক গুলোর দিকে তাকালে। এই সব বিনোদন পার্ক গুলোর মধ্যে আছে ফ্যান্টাসী কিংডম, নন্দন পার্ক, ড্রিম হলিডে পার্ক, এডভেঞ্চার পার্ক, সী ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্ক ইত্যাদি। নানা ধরণের বৈচিত্র নামের এসব পার্ক গুলো যেন অশ্লীলতার আড্ডাখানা হয়ে উঠেছে। আর তাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। পাশ্চাত্য দেশের অপসংস্কৃতির ছোঁয়ায় দেশের তরুণ প্রজন্ম আজ অভিশপ্ত। তাদের বিবেক যেন দিন দিন লোপ পাচ্ছে। ভালো মন্দ বিচারের বোধ বুদ্ধি তাদের কমে গিয়েছে। কোন কিছু চিন্তা ভাবনা না করেই তারা অশ্লীল কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এখানে তরুণ প্রজন্ম বলতে ছেলে মেয়ে উভয়কেই বলা হচ্ছে। সেই সাথে জড়িত হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। ছোট ছোট ছেলে মেয়ে দের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেইসব বিনোদন কেন্দ্রে। ছোট থেকে তারা এইসব অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা দেখছে এবং সেইসব ই শিখছে। দেশ যেখানে উন্নয়নের মহাসোপানে নিমজ্জিত সেখানে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কাণ্ডারী নষ্টের পথে অগ্রসর হচ্ছে। চলুন জেনে নেয়া যাক সেই সব বৈচিত্রময় বিনোদন পার্কের বিশদ বিবরণ।

নন্দন পার্ক

সাভারের নিকটবর্তী নবীনগর-চন্দ্রা হাইওয়ের পাশে বাড়ইপাড়া নামক এলাকায় এটি গড়ে উঠে। এটি প্রায় ৩৩ একর জায়গার উপর অবস্থিত। ২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে এই বিনোদন পার্কটির উদ্ভোধন হয়। নানান ধরণের রাইড আছে যেগুলো বিনোদনের পন্থা হিসেবে ধরা হয়। আর সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটি জনপ্রিয় তা হচ্ছে ওয়াটার ওয়ার্ল্ড। প্রতিদিন শত শত মানুষ এবং যুবক-যুবতী এখানে আসে বিনোদনের জন্য। ওয়াটার ওয়ার্ল্ড ই মূল অশ্লীলতার জায়গা। শত শত ছেলে মেয়ে, তরুণ-তরুণী এখানে আসে। পুরো এলাকা যেখানে অশ্লীলতার বেড়াজালে আচ্ছাদিত পর্দা সেখানে নেহাত খেলনা। তরুণ সমাজ এতটাই অধঃপতনে নেমেছে যে তারা ছেলে মেয়ে একসাথে ঐসব ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে পানিতে গোসল করছে কোন রকম লজ্জা ছাড়াই।

ফ্যান্টাসী কিংডম

বাংলাদেশের অন্যতম চিত্তবিনোদনমূলক পার্ক হিসেবে বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০০২ সালে। এটি সাভারের আশুলিয়ায় জামগড়া এলাকায় প্রায় ২০ একর জমির উপর অবস্থিত। এই পার্কেও নানা ধরণের চিত্তাকর্ষক রাইড ছাড়া অন্যতম আকর্ষণ ওয়াটার কিংডম। যেখানে বাঁধ ভাঙা গতিতে বেহায়াপনা চলে। দেশের ধনী মানুষদের বিনোদন রাজ্য হিসেবে প্রাধান্য পাওয়া এসব বিনোদন পার্কে টাকার মাধ্যমে বেহায়াপনা ও অশ্লীলতা করা হয়। এখানে যুবক-যুবতীদের রয়েছে অবাধ স্বাধীনতা। আর তাই সেই সুবাদে যুবক-যুবতীরা বেহায়াপনা করার জন্য এখানে এসে ভিড় জমায়।

ড্রিম হলিডে পার্ক

নরসিংদী এলাকায় প্রায় ৬০ একর জমির উপর এই পার্কটি গড়ে উঠেছে। এটি ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এতে আছে হরেক রকমের বিনোদনের ব্যবস্থা। বিভিন্ন রাইড আছে যেগুলো ছোট বড় সব বয়সী মানুষদের আনন্দ দেয়। এছাড়াও আছে সর্বজন জনপ্রিয় ওয়াটার কিংডম। যেখানে বর্তমান প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা অবাধে বিচরণ করে। পাশ্চাত্য সংস্কৃতমনা এইসব তরুণ-তরুণী কোন রকম দ্বিধা ছাড়াই অশ্লীল কার্যকলাপ করে যাচ্ছে।

চলুন ঢাকার বাইরে থেকে বিনোদন নিয়ে আসি। এইসব অবকাশযাপন কেন্দ্র যে শুধু ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ তা নয়। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামেও রয়েছে এমন চিত্তবিনোদনের স্থান। চট্টগ্রামের অন্যতম এই জায়গার নাম হচ্ছে ফয়’জ লেক।

প্রাকৃতিক সুন্দর্যের লীলাভূমি চট্টগ্রামে মানুষের তৈরি কৃত্রিম হৃদ আছে এখানে যা মনকে অনেক আকর্ষিত করে। তবে এছাড়াও নানা ধরণের উপভোগযোগ্য জিনিস আছে যা ছোট বড় সকলেই উপভোগ করে আনন্দ লাভ করে। রয়েছে বহুল জনপ্রিয় সী ওয়ার্ল্ড। যেখানে প্রতিদিন শত শত তরুণ-তরুণী আসে বেহায়াপনা কর্মে লিপ্ত হওয়ার উদ্দেশ্য।

নানা ধরণের অশ্লীল কর্মকান্ড দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা আমাদের কানে আসে প্রতিনিয়ত। দেশের যুবসমাজ আজ অপসংস্কৃতির কালো চশমা পরিহিত অবস্থায় আছে। পাশ্চাত্য দেশের অশ্লীলতা তাদেরকে হীনমন্য করে রেখেছে। আর তাই দেশের তরুণ প্রজন্ম এই সব জায়গায় গিয়ে নানা ধরণের অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। ধনীদের বিনোদন কেন্দ্র নামে যে সব জায়গা দিন দিন গড়ে উঠছে তাতে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম কঠিন ভাবে আষক্ত হচ্ছে। নানা ধরণের বিনোদন পার্ক, নাইট ক্লাব ইত্যাদি দেশের যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই সব অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের দেশের সংস্কৃতিকে আমাদের মাঝে লালন করা উচিত। জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এসব অশালীন, অশ্লীল, বেহায়াপনা কাজকর্ম বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি সকলকে।