সন্তানকে কষ্ট করে অর্জন করতে শিক্ষা দিন,সব অন্যায় আব্দার মিটানো উচিৎ নয়।

Now Reading
সন্তানকে কষ্ট করে অর্জন করতে শিক্ষা দিন,সব অন্যায় আব্দার মিটানো উচিৎ নয়।

বাংলাদেশে এমনও বাবা আছেন,যারা সন্তানের আব্দার মেটারনোর জন্য হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ফেলেন।বিশেষ করে ধনীর দুলালদের ক্ষেত্রে এটি ঘটে থাকে।এক সন্তান বাবার কাছে,মোটরবাইক কিনে দেবার আব্দার করলো।বাবা যেহেতু কৌটিপতি,কোন অসুবিধা হলো না।পরদিনই সন্তানের চাহিদা পুরন করা হলো।বাংলাদেশে এমনও কিছু ধনীর দুলাল দুলারীর কথা আমরা পত্র-পত্রিকা মারফর জানতে পেরেছি,যাদের হাত খরচ নাকি মাসে লাখ টাকা।অথচ লাখ টাকায় অনেক গুলো মধ্যবিত্ত পরিবার চালানো সম্ভব।

ঘটনা এক:কিছুদিন আগের কথা, চট্রগ্রমের ফটিকছরির এক ছেলে বাবার কাছে মোটর সাইকেল কিনে দেবার আব্দার করেছিল।বাবা ছেলের আব্দার পূরন করার অল্প দিনের মধ্যে,সেই ছেলেটি মর্মান্তিক এক রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়।এর জন্য দায়ী কে? ছেলে ? আব্দার ? নাকি বাবা ?

ঘটনা দুই: আশির দশকের একটি ঘটনা এখানে উল্লেখ করি,এক গরীব ঘরের সন্তান,বাবার কাছে একটি খেলনা ভিডিও গেইম কিনে দেবার আব্দার করেছিল।তখন এর দাম ছিল মাত্র ১২০টাকা।তার বাবা তাকে কষে একটা চড় দিয়েছিলো।চড়ের চোটে তার কান পুরা তব্দ হয়েগিয়েছিল।কানটা শুধু শন শন করছিল।মনে হচ্ছিল কানের ভিতর মশা ঢুকে ভন্ ভন্ করছে।ছেলেটিতো হতভম্ব,ভেবে পাচ্ছিল না, কি এমন গুরুতর অপরাধ করেছে,যে এত জোরে চর খেতে হলো।সে পরে বুঝেছিল,চড় নয় তাকে লাঠি দিয়ে পেটানো উচিৎ ছিল।পিতা বলেই সেদিন হয়তো,তাকে চড় মেরে মাফ করে দিয়েছিল।

তখনকার দিনে ১২০টাকার অনেক মূল্য ছিল।১২০ টাকায় দশ কেজী চাল পাওয়া যেত।অথবা দশ কেজী ময়দা পাওয়া যেত।অথবা সারা মাসের বাজার খরচ চলতো।

একটা চড় দিয়ে তার বাবা তাকে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছিল, তুমি স্বর্থপর হতে চলেছ।এভাবে আব্দার অব্যাহত থাকলে,তোমার কারনে,পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কিছু মৌলিক চাহিলা থেকে বঞ্চিত হবে।

সে যখন ভিডিও গেইমটি কেনার আব্দার করেছিল,তখন ছিল মাসের শুরু।তার বাবার পকেটে বেতনের টাকা ছিল।ইচ্ছে করলে,১২০ টাকা দিয়ে একটা ভিডিও গেইম কিনে দিতে পারতো।কিন্তু দেনটি।ছেলেটি দু:খও পেয়েছিল সাথে সাথে অবাকও হয়েছিল।সে এ ঘটনার পেছনে যুক্তি খোঁজার চেষ্টা করেছিল।

অবোধ শিশুটি সেদিন থেকে মনে মনে এ ঘটনার কারন খুঁজে যাচ্ছিল।ব্যাপারটি সে ভুলতে পারেনি,তার মনে ছিল অনেকদিন।মাসের শেষে এসে দেখল,তাদের সংসারের টানাটানি চলছে।তার মা অনেক কষ্টে,জমানো মুষ্টি চালে ভাত রান্না করছে।তখন সে বুঝতে পেরেছিল,তার অপরাধটা কোথায় ছিল।চড়ের ব্যাথ্যাটা সেদিন তার মনে শিক্ষা হয়ে গেঁথে গিয়েছিল।

ছেলেটি এ শিক্ষার ফলাফল, পরবর্তীতে তার জীবনে প্রতিফলন ঘটিয়েছিল।পিতার কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করেছিল যতদুর পেরেছে। হাই স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন,সে তার নিজের ইনকাম দিয়ে পড়া লেখার খরচ জুগিয়েছিল।মাঝে মাঝে ঈদে পিতা-মাতা,ছোট ভাই-বোনদের জন্য নতুন জামা কাপড় কিনে দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল।বাংলাদেশের বেশীরভাগ গরীব,মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জীবন চিত্র এরকম।

ফটিকছরির ঐ ছেলেটির বাবা যদি সেদিন বাইক কিনে না দিত,তাহলে সে আজ তার জীবনটা পরিপূর্ন করতে পারতো,অকালে লাশ হতে হতো না।তার পিতা যদি তাকে দুই লক্ষ টাকা দামের বাইকের মূল্য বুঝাতে পারতো,তবে সে বড় হয়ে পিতা মাতার প্রশান্তির কারন হতে পারতো।

কষ্টার্জিত আয়ের টাকায় কেনা জামা কাপড় গরীব ছেলেটির পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল একটা চড়ের বিনিময়ে।বাইকের আব্দার মিটিয়ে নিহত ছেলের পিতা কি পেয়েছিল?

সন্তানকে এমন শিক্ষা দিতে হবে,কিভাবে কোন কিছু কষ্ট করে অর্জন করতে হয়? প্রয়োজনে শাসন করেত হবে। তার মনে, হিতাহিত জ্ঞানের উদয় করে দিতে হবে।তাহলেই সেই সন্তান বড় হয়ে পিতা মাতাকে শান্তি দেবে।পিতামাতার মুখ উজ্জল করবে।সন্তানের প্রতি যেমন থাকতে হবে ভালোবাসা এবং তেমনি পরিমিত পরিমানে শাসন করতে হবে।

ঘটা করে বা বিশেষ কোন দিবস করে পিতা মাতাকে ভালোবাসা দিতে হয় না।ভালোবাসা আসে হ্রদয় থেকে।আবার শাসন করতে হয় হিসেব করে।সন্তান যেন,শাসনের শিক্ষাটা মস্তিস্কে গেঁথে রাখে দীর্ধদিন।

ঘটনা তিন:একটি অভিজাত শপিং মলে বাবা তার শিশুটিকে নিয়ে হাঁটছেন।হঠাৎ শিশুটি একটি দোকানের ডিসপ্লেতে রাখা মোবাইল ফোন সেট দেখিয়ে বাবাকে বললো:বাবা,আমাকে এ ফোনটা কিনে দাও,এটা দিয়ে আমি গেইম খেলবো।পিতা তৎক্ষনাৎ ঐ ফোনটি কিনে তার সন্তানের হাতে তুলে দিল।মোবাইল ফোনটি দাম ছিল ৪০,০০০ টাকা।

বাচ্চাটির কাছে ৪০,০০০টাকার কোন দাম নেই।তার কাছে শখের মূল্যটাই বেশী।পিতার কাছেও সন্তানের আব্দারটাই বেশী।পিতা যদি তার সন্তানকে সেদিন বুঝাতে সক্ষম হতো,চল্লিশ হাজার টাকা দিয়ে বাংলাদেশের কমপক্ষে চারটি সংসারের এক মাসের খরচ মেটানো যায়।তার মতো আরো কয়েক হাজার গরীব শিশুর মুখে হাসি ফোটানো যায়।তাহলে বড় হয়ে বাইক কেনার আব্দার করতো না,বিপথে যেত না অথবা লাশ হতো না।

এমনও অনেক সন্তান আজ আমাদের দেশে বিপথগামী হয়েছে এবং হচ্ছে, শুধু মাত্র পিতামাতা কর্তৃক,অন্যায় আব্দার মেটানোর কারনে।সঠিক সময়ে শাসন না করার করণে।সে ছেলেরাই বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়।

সন্তানকে কষ্ট বুঝতে দিন।কষ্ট করে অর্জন করতে শিক্ষা দিন।যারা এখন বিশ্বের বড় বড় ধনী ব্যাক্তির আসন অলংকৃত করে আছেন,তাদের পিতাদের জীবনী ঘেটে দেখুন,তাদের পিতারা কেউ এত বড় মাপের ধনী ছিলেন না।কিন্তু পিতাদের সঠিক শিক্ষায়,আজ তারা সেরা ধনী হতে পেরেছেন।