আত্মহত্যা

Now Reading
আত্মহত্যা

আপনি শ্যামলা ,কালো ,ফর্সা না বলে আত্মহত্যা করতে চান ??
কিংবা পরিক্ষায় ফেল করার কারনে বন্ধুবান্ধবের উপহাস এবং প্রতিবেশির কটুক্তি সহ্য করতে না পেরে মরতে চান??বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিংবা প্রেমে ছ্যাকা খেয়ে প্রেমিকার দেয়া কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মরতে চান??
শুনুন তাহলে আপনাকেই বলছি ….
রানা প্লাজার ধংস স্তুপের কথা জানেন নিশ্চই ।সেখানের ধংসস্তুপে আটকা পড়া এক মহিলা আকুতি করে বলেছিলেন আমাকে এমন কিছু একটা দিন যাতে আমি আমার হাত কেটে আমার শরিরকে মুক্ত করে নিতে পারি ।আমার মতে মৃত্যুর চেয়ে ভয়ংকর কিছু থাকলে সে হয়তো বাঁচতে চাইতো না বরং তাকে জলদি মেরে যন্ত্রনা কমিয়ে ফেলার আকুতি জানাতেন ।
সম্পর্ক হারানোর কোন কষ্ট কি মৃত্যু যন্ত্রনা থেকে বেশি??যদি তাই হয় তাহলে পৃথিবীর সবচেয়ে আপন সম্পর্ক তো নিজের বাবা-মা। তাইনা ??কখনও কী কেউ শুনেছেন যে বাবা-মা এর মৃত্যুতে কেউ আত্মহত্যা করেছে ??
পরীক্ষায় ফেল করার কারনে কুমিল্লা জিলা স্কুলের ছাত্র সৈকত আত্মহত্যা করে মারা যায়।তার জন্য আমাদের বড্ড কষ্ট হয়,মনে হয় আহারে বেচারা না জানি কত কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে।আদৌ কি তাই ??
প্রচন্ড অভিমানে গলায় ফাস নেয়া মেয়েটাও মৃত্যুর শেষ সময় এসে প্রানপনে বাঁচতে চেষ্টা করে।নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার আগ মূহুর্তে সে জেনে যায় পৃথিবীর সব চেয়ে ভয়ংকর কষ্টের নাম শুধু মৃত্যু।
আমাদের আশেপাশে সামনে পিছনে অনেক ভাসমান লাশ,জীবন্ত লাশ ঘুড়ছে।এরা প্রতিদিন ওপারে চলে যেতে চাইছে।মুক্তি চাইছে যন্ত্রনা থেকে একটু অস্বাভাবিক ভাবে সুইসাইট করে ।
জবাই করা মুরগিকে ড্রামের মধ্যে ফেলে যখন ঢাকনা লাগিয়ে দেয়া হয় তখন বোকা মানুষগুলো শুধু ড্রামের নড়াচড়াটাই দেখে কিন্তু মুরগিটার বেঁচে থাকার আকুতিটা কেউ দেখে না।
প্রেমে ছ্যাকা খেয়ে যারা আত্মহত্যা করতে চায় তাদের বলছি আপনি জন্মগ্রহন করার সময় কী প্রেমিকা নিয়ে জন্মগ্রহন করেছিলেন??না করেন নি বরং প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর প্রেমিকার দেখা পেয়েছেন।তো সে চলে যাওয়াতে আত্মহত্যা করতে হবে কেনো?প্রেমিকা চলে যাওয়ার কষ্টটাকে একটা প্রতিজ্ঞায় পরিনত করুন আপনি সফল হয়ে তাকে দেখিয়ে দিন সে চলে যাওয়াতে আপনি ভেঙ্গে পরেননি বরং নতুন উদ্দমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ।
পৃথিবীতে এমন কোন মানুষ নেই যার জীবনে কোন দুঃখ নেই,হতাশা নেই ,পরাজয় নেই।আপনি বিশ্বসেরা ১০০ মনীষীর জীবন বৃত্যান্ত পড়ে দেখবেন তারা কেউেই সকল ক্ষেত্রে সফল ছিলেন না। হতাশায় ভুগেছিলেন তারাও অনেক।কিন্তু তারা হাল ছেড়ে দেননি বিধায় তারা আজকে আমাদের রোল মডেল।অনেকেই বলেন কারো বড় কিছু হওয়ার পেছনে কোন না কোন কারন থাকে,হ্যা অবশ্যই তাদের জীবনেও দুঃখ,কষ্ট,হতাশা ছিলো বিধায়ই তারা বড় হয়েছেন।আমার পরিচিত অনেক ব্যাক্তিই আছেন যারা এখন প্রতিষ্ঠিত আর এর একমাত্র কারন কারো দেয়া দুঃখ,কষ্ট কিংবা অবহেলা ।
কিছুদিন আগে ’’চেখভ রুশ’’ নামক এক নাট্যকার ও ছোটগল্প লেখক এর জীবনি একটা বইতে পড়েছিলাম।সে চরম দারিদ্র আর প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ।আত্মহত্যার জন্য গলায় দড়ি দেয়াকে বাছাই করনের সময় তিনি ভাবলেন মৃত্যুর পর তার এই সুন্দর দেহ খানা মাতাল ডোমের হাতে ছিন্নভিন্ন হবে যেটা খুবই জঘন্য ব্যপার।তারপর তিনি পানিতে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যার কথা ভাবলেন।কারন এতে ডোম কিংবা পুলিশের হাতে তার লাশটা পরার কোন সম্ভাবনা নেই।কিন্তু লাফ দিতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে তার মনে পড়লো শহরের সমস্ত নর্দমা থেকে ময়লা নেমে আসে এই নদীতে।ময়লার সাথে থাকে অসংখ্য কীট যা মৃত্যুর পরে তার শরীরে ঢুকবে। এসব ভেবে তিনি আর আত্মহত্যা করেননি এবং নতুন করে বাচার সিদ্ধান্ত নেন।কিন্তু বাস্তবতা হলো যারা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন,তাদের মধ্যে খুব কমই ওই নায়কের মতো করে ভাবেন।তাই বিশ্বে প্রতিনিয়ত ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা।
পরিক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করে যে ছেলোটা আত্মহত্যা করে সে আসলে তার পরিবারের উপর একটা প্রতিশোধ নিতে চায় ।অনেকেই আত্মহত্যা করে অন্যের উপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য কিন্তু তারা জানে না প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তার বেঁচে থাকাটা কত জরুরী।আত্মহত্যা কখনও কোনো সমস্যা সমাধানের কারন হতে পারেনা।
প্রেমিক/প্রেমিকা চলে যাওয়ার মতো হাজারটা প্রব্লেম আপনার লাইফে আসবে যাবে কিন্তু থেকে যাবেন আপনি।অন্যের ভালোবাসা পাওয়ার আশা না করে নিজে নিজেকে ভালোবাসুন।এই সুন্দর আকাশ,চাঁদ,আলো ,বাতাস সহ পৃথিবীটা আপনার জন্য তৈরী করা হয়েছে।আর আপনি কিনা কাপুরুষের মতো মরতে চাচ্ছেন !