ফোবিয়া সমাচার (পর্ব-২) (সেলিব্রিটি পর্ব)

Now Reading
ফোবিয়া সমাচার (পর্ব-২) (সেলিব্রিটি পর্ব)

এর আগের পর্বে আমরা বেশ কিছু ফোবিয়া নিয়ে আলোচনা করেছিলাম | যারা লেখাটা পড়েননি তারা কষ্ট করে নিচের লিংক থেকে পড়ে নিতে পারেন |

ফোবিয়া সমাচার (পর্ব-১)

আজকে আমরা আরো কিছু ফোবিয়া নিয়ে আলোচনা করব; স্পেসিফিকালি যদি বলি তাহলে, কেবলমাত্র বিভিন্ন ধরনের Zoophobia (Fear of Animal) নিয়ে আলোচনা করব | তবে, আজকে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে সাজাতে চাই | আজকে, ফোবিয়ার সাথে সাথে কিছু সেলিব্রিটি মানুষও আলোচনার মুখ্য বিষয় হয়ে থাকবে | আমরা এদের চিনলেও হয়ত জানিনা এসব মানুষ ও কোনো না কোনো ফোবিয়াতে আক্রান্ত !

যেহেতু, আগেই ফোবিয়া কি তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে কাজেই, ভুমিকা না করে বরং সরাসরি মূল আলোচনায় যাই | আরেকটা বিষয় যেহেতু সেলেব্রিটি নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা কাজেই, এখানে সেলিব্রিটিকে প্রায়োরিটি হিসেবে ব্যবহার করা হবে | যার ফলে আগের পর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এরকম ফোবিয়ার নামও চলে আসতে পারে | আর, আগের মত ফোবিয়ার নামকে টাইটেল হিসেবে ব্যবহার না করে সেলিব্রিটির নামকেই বরং ব্যবহার করা হবে |

Kristen Stewart: Twilight নাম শুনেনি এমন মানুষ হয়ত পাওয়া যাবেনা | হয়ত অনেকেই মুভি না দেখে থাকতে পারে কিন্তু, নাম নিশ্চয় কোনো না কোনো ভাবে শুনেছে| আর মুভির মূল ক্যারেক্টার এর মধ্যে অন্যতম একজন হলেন এই ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট! দেখতে খুব সাধাসিধে মনে হলেও ইনি কিন্তু ফোবিয়াতে আক্রান্ত | এর নাম হলো Equinophobia বা Hippophobia বা Fear of Horses. অর্থাত, সহজ বাংলায় ঘোড়াকে ভয় ! তার যখন ৯ বছর বয়স ছিল তখন তিনি ঘোড়া থেকে পরে গিয়ে কনুই ভাঙ্গেন আর তারপর থেকেই তার এই ফোবিয়া শুরু হয় |

w9BeFCqRWCDl6Y9wFkQU_kristen-stewart.jpg

 

Orlando Bloom: যারা ট্রয় মুভিটা দেখেছে তারা নিসন্দেহে এই মানুষটার সাথে আগে থেকেই পরিচিত | যেখানে, তার চরিত্র ছিল Hector এর ছোট ভাই Paris হিসেবে | তার ফোবিয়াটা অদ্ভূত ! কারণ, প্রাণীটিকে এতদিন ধরে মানুষ ভয় না পেয়ে ঘেন্না করতেই শিখে এসেছে ! কিন্তু, তিনিই প্রথম (সম্ভবত!) প্রমান করলেন একে ভয়ও পাওয়া যেতে পারে | যাইহোক, নামটা বলেই দেয় এইটা হলো Swinophobia বা fear of pigs. মানে, তিনি শুকর ভয় পান ! আর এইটা ধরা পরে তার “Kingdom of Heaven” এর শুটিং এর কাজ চলার মুহুর্তে | তখন কিভাবে জানি একটা শুকর পালিয়ে তার সামনে আসে ব্যাস আর যায় কই !

MV5BMjE1MDkxMjQ3NV5BMl5BanBnXkFtZTcwMzQ3Mjc4MQ@@._V1_UY317_CR8,0,214,317_AL_.jpg

 

David Beckham: যারা ফুটবল খেলা দেখে অভ্যস্থ তারা নিসন্দেহে এই মানুষটাকে চিনে | তিনি ন্যাশনাল টীমে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলত | তবে, যারা ফুটবল না দেখে অভ্যস্থ তারাও এই মানুষটার সেই বিখ্যাত হেয়ার স্টাইল এর কারণে অন্ততপক্ষে চেনার কথা ! যাইহোক, আজকে হয়ত আরেকটা নতুন কারণে, তাকে জানতে পারব সেইটা হলো তিনিও ফোবিয়াতে আক্রান্ত; একটা নয় দু দুটো ! প্রথমটা হলো Ornithophobia বা Fear of birds.  বোঝায় যাচ্ছে এর ফলে পাখি ভয় পায় | আর দ্বিতিয়টা যদিও এই Zoophobia র মধ্যে পরেনা তাহলো Ataxophobia বা Fear of Untidiness. এই ফোবিয়া হলে মানুষ অগোছালো কিছু খুব ভয় পায় | কথিত, আছে এই কারণে, তার ক্লোসেট এমনকি ফ্রিজও নিয়ম করে সাজানো থাকে !

david-beckham-4.jpg

 

Eminem: যারা গান-বাজনা শুনে তারা এই মানুষটার সাথে পরিচিত থাকবে | বিশেষ করে যারা Hip hop/rap টাইপ এর গান শুনে অভ্যস্থ | এই জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীর ও কিন্তু, ফোবিয়া রয়েছে যা হলো Fear of owls এইটা মূলত, Ornithophobia র একটা শাখা | অর্থাত, তিনি সকল পাখিকে ভয় না পেয়ে কেবলমাত্র স্পেসিফিক একটা পাখিকে ভয় পান আর তাহলো পেচা !

Eminem-eminem-228036_299_401.jpg

 

Walt Disney: যারা “Mickey mouse” কার্টুন এর সাথে পরিচিত তারা মোটামুটি একে চিনে থাকতে পারে | কারণ, ইনিই এই মিকি মাউস ক্যারেক্টার এর স্রষ্ঠা | কিন্তু, যেই বিষয়টা এখানে মজার তাহলো তিনি যদিও এই মাউস ক্যারেক্টার এর স্রষ্ঠা কিন্তু, তা সত্বেও তার কিন্তু এই মাউস এর উপরেই ফোবিয়া রয়েছে | যাকে বলা হয় Musophobia.

Walt_Disney_1946.JPG

 

Brad pitt: এই মানুষটাকে আমরা খুব ভালো অভিনেতা ছাড়াও একজন সুদর্শন পুরুষ হিসেবেও চিনে থাকি | বিভিন্ন মুভিতে তাকে হয়ত বিভিন্ন সাহসী ভূমিকায় থাকতে দেখা যায় | যেমন- ট্রয় মুভিতে তিনি প্রধান ক্যারেক্টার “Achilles” এর ভূমিকায় ছিলেন | বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপ নিতে দেখেছি, যুদ্ধ করতে দেখেছি; যেইটা দেখেনি তাহলো ভয় পেতে ! কিন্তু, সত্যি হলো তিনিও ভয় পান তারও ফোবিয়া আছে ! আর এইটা হলো Selachophobia বা Fear of Sharks. মানে, তিনি হাঙ্গর ভয় পান | অবস্য এতে এই বীরপুরুষের সম্মানহানির কোনো ভয় আশা করি নেই | কারণ, হাজার হোক, হাঙ্গর বলে কথা !

MV5BMjA1MjE2MTQ2MV5BMl5BanBnXkFtZTcwMjE5MDY0Nw@@._V1_UX214_CR0,0,214,317_AL_.jpg

 

Matt Damon: এই মানুষটাকেও আমরা বাঙালিরা খুব ভালো ভাবে চিনি | কারণ, আমরা সবাই “Bourne series” গুলো দেখে অভ্যস্থ | যেখানে, একজন মানুষ তার আইডেনটিটি নিয়ে সমস্যায় পরে এছাড়াও, তাকে বিভিন্ন সাহসী ভুমিকা নিতে দেখা যায় | সে যাইহোক, এই মানুষটারও ফোবিয়া রয়েছে নাম হলো Ophidiophobia বা fear of snakes. অর্থাত, তিনি সাপ ভয় পান | (এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষেরা এতটাই সেনসিটিভ থাকে যে সাপের ছবি দেখলে রীতিমত উত্তেজিত হয়ে পরে !) সাপকে আমরা সবাই ভয় পাই কাজেই, তাকে নিয়ে ঠাট্টা মশকরা না করে বরং মাথা নেড়ে তার এই ভয়কে আমরা স্বীকার করে নেই !

6115-matt-damon.jpg

 

Adolf Hitler: আজকের পর্বের শেষ ব্যক্তিটি আর কেউ না তিনি হলেন জার্মানির হিটলার ! ইতিহাসের সবচেয়ে কুখ্যাত এবং নৃসংশ মানুষ হিসেবেই আমরা তাকে জানি | দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লক্ষ্ লক্ষ্ মানুষ মারার পিছে যার বিশাল অবদান ছিল ! কিন্তু, শত্রুপক্ষরা যদি জানতেন এই ভয়ংকর মানুষটাকে বাগে আনার জন্য একটা বিড়ালই যথেষ্ট তাহলে হয়তবা এত কাঠখর পুরাতন ! মানে, তিনি যে Ailurophobia বা বিড়াল ভীতিতে আক্রান্ত !

23-Adolf-Hilter-Fear-of-Cats.jpg

 

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই | আশা করি সবার ভালো লেগেছে | সবাইকে ধন্যবাদ |

Sources:

  1. http://www.fearof.net/fear-of-birds-phobia-ornithophobia/
  2. http://common-phobias.com/ataxo/phobia.htm
  3. http://www.onlinepsychologydegree.info/25-celebrities-with-animal-phobias/

ফোবিয়া সমাচার (পর্ব-১)

Now Reading
ফোবিয়া সমাচার (পর্ব-১)

আমরা অনেকেই হয়ত ছোটবেলা থেকে কিছু মানুষ দেখে এসেছি যারা কোনো কারণ ছাড়াই কিছু তুচ্ছ জিনিস দেখে খুব ভয় পেয়ে উঠে | কেউ হয়তবা মাকড়সা, কেউবা তেলাপোকা, কিংবা কেউ বিড়ালের মত নিরীহ প্রাণী পর্যন্ত ভয় পেয়ে থাকে ! আসলে, এসবগুলো ঘটনার জন্যই আসলে দায়ী ফোবিয়া নামক বিশেষ ধরনের ভয় |

আজকের পোস্টে আমরা ফোবিয়া, তার কারণ এবং বিভিন্নরকম ১০টি ফোবিয়া নিয়ে আলোচনা করব |

 

ফোবিয়া কি ?

ফোবিয়া হলো একধরনের অযৌক্তিক ভয় | অযৌক্তিক বলার কারণ, যার দ্বারা এই ভয়ের সৃষ্টি হয় আপাত দৃষ্টিতে তা আসলে মোটেও ভয় পাবার কিছু থাকেনা | যদি সত্যিকার যৌক্তিক কারণেই ভয় পায় তাহলে হয়তবা তাকে ঠিক ফোবিয়া বলা যায়না | যেমন- সন্ত্রাসীকে ভয় পাওয়া কোনো ফোবিয়া না কিন্তু, যেকোনো মানুষকেই ভয় পাওয়া একধরনের ফোবিয়া হতে পারে !

 

সাধারণত ফোবিয়াকে মোট ৩টি প্রধান টাইপ এ ভাগ করা হয় | যেমন-

Agoraphobia:  এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষেরা সাধারণত কোনো স্থানকে ভয় পায় যেখান থেকে তারা মনে করে পালিয়ে আসতে পারবেনা | যাদের এই ফোবিয়া আছে তারা সাধারণত ক্রাউড প্লেস কিংবা খোলা জায়গা অসম্ভব ভয় পায় | সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা নিজেদের বাসাতেই থাকতে পছন্দ করে | এইরকম ফোবিয়ার মানুষ হয়ত আমরা বাস্তবে দেখতে পারবনা তবে, কেউ এর স্বাদ পেতে চাইলে “Intruders (2015)” মুভিটা দেখতে পারেন | এইখানে “Anna “ নামের এক ক্যারেক্টার এর মধ্যে এই ফোবিয়াটা রয়েছে |

Social Phobia:  নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষেরা সামাজিকতাকে ভয় পায় | এইটাকে অনেকসময় “Social Anxiety Disorder” ও বলা হয় | এইটা এতটাই ভয়ংকর হতে পারে যে সামন্য কোনো কাজ যেমন টেলিফোন রিসিভ করা, কিংবা দোকান থেকে কিছু কিনতেই তারা সংকোচবোধ করে | সেইখানে, তাদেরকে যদি পাবলিক স্পিকিং এর কথা বলা হয় তাহলেতো কথাই নেই !

Specific Phobia:  এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষেরা স্পেসিফিক কোনো কিছু ভয় পেয়ে থাকে | যেমন- একদম ভূমিকায় যেইসব মাকড়সা, তেলাপোকা কিংবা বিড়াল ভয় পাওয়া মানুষের কথা বলেছিলাম তাদের ভয়টা আসলে স্পেসিফিক ফোবিয়া |

 

ফোবিয়া কেন হয় ?

এখন প্রশ্ন হলো ফোবিয়া কেন হয় ? আসলে একেকটা ফোবিয়া হবার জন্য একেক ধরনের ঘটনা দায়ী থাকে | সবগুলোকে একটা রেখা টেনে জেনারালাইজ করা সম্ভব নয় | তবে, সাধারণ ফোবিয়াগুলো যেমন– বিড়াল ভীতি এইটা চাইল্ডহুড অবস্থায় ডেভেলপ করে | এর জন্য হয়ত ছোটবেলায় ভয়ংকর কোনো ঘটনা থাকে যেইটা পরবর্তিতে ফোবিয়া হিসেবে দানা বাধে | এছাড়াও পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের যদি ফোবিয়া থাকে তাহলে, তা আরেকজন কে ইনডিউস করতে পারে | যেমন- মাকড়সা ভীতি |

আর কমপ্লেক্স ফোবিয়াগুলোর জন্য কি দায়ী তা এখনো নিশ্চিত নয় | ধারণা করা হয় জেনেটিক একটা বড় ফ্যাক্টর হিসেবে এখানে কাজ করে |

 

বিভিন্নরকম ফোবিয়া

এখন আমরা বিভিন্নরকম জনপ্রিয় কিছু ফোবিয়া এবং তাদের নাম সম্পর্কে জানব |

 

Arachnophobia:  উপরের উদাহরণে যেই মাকড়সা ভয় পাবার কথা বলছিলাম সেটাই মূলত এই ফোবিয়া | এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষেরা মাকড়সাকে অসম্ভবরকম ভয় পায় | বিষয়টা এরকম নয় যে মাকড়সা গায়ে উঠে পরছে দেখে ভয় পায়; বিষয়টা হলো তাদের ছায়াও দেখলেই তারা আতঙ্কিত হয়ে পরছে !

Katsaridaphobia:  এইটা বাঙালি মেয়েদের (!) খুব কমন এক ফোবিয়া | তবে, তেলাপোকা নিশ্চিতভাবে একটা নোংরা, গা ঘিনঘিন করা প্রাণী ! কাজেই, বিষয়টাকি ফোবিয়া নাকি অন্য কিছু কে জানে !

AiluroPhobia:  বিড়ালকে কি কেউ ভয় পায় বলুন ? বাঘ হলেও একটা কথা ছিল ! কিন্তু, সত্যি হলো এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষেরা আক্ষরিক অর্থে বিড়ালকেই অনেক ভয় পায় !

Acrophobia:  উচ্চতাতো সবাই ভয় পায় কারণ, যেকোনো সময়েই পরে যাবার ভয় থাকে | কিন্তু, যদি নিশ্চিত থাকি পরে যাবনা তাহলে কিন্তু, ভয় পাবার কথা না কিন্তু, এই সমস্যায় আক্রান্ত মানুষগুলো তাও ঠিকই এই ভয়টাই পায় !

Hemophobia:  রক্তারক্তি কারই ভালো লাগার কথা নয় | কারণ, রক্তের ঝরার সাথে হয়ত কোনো মানুষের প্রাণ জড়িত থাকে | কিন্তু, যদি খুব সাধারণ কিছু হয় ? তাহলে হয়ত একটা ব্যান্ডেজ বাধিয়েই আমরা ক্ষান্ত থাকি | কিন্তু, সমস্যা বাধে এই সমস্যা বাধে এই ফোবিয়াগ্রস্ত মানুষদের নিয়ে তারা অন্যের কিংবা নিজের রক্ত দেখলেও ভয় পায় | অনেকসময়তো অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যায় | তবে, টিকটিকি কিংবা অক্টোপাসের রক্ত দেখলে অজ্ঞান হয় কিনা তা অবস্য জানা যায়নি |

Claustrophobia:  এইক্ষেত্রে আক্রান্ত মানুষগুলো সাধারণত বদ্ধ যেকোনো কিছুকেই অস্বাভাবিক রকমের ভয় পায় | এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষেরা ছোট রুম, লিফট, গাড়ি এইসব কিছুর মধ্যে থাকতেই অসম্ভব ভয় পায় | এছাড়াও আরো এক্সট্রিম ক্ষেত্রে চুল কাটার চেয়ার, কিংবা লাইনে দাড়াতে ভয় পাবার ঘটনা পর্যন্ত রয়েছে !

Nyctophobia:  এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা রাত কিংবা অন্ধকার জাতীয় বিষয়কে অস্বাভাবিক রকমের ভয় পায় | সাধারণত ৯০ পার্সেন্ট বাচ্চারাই রাত বা অন্ধকার ভয় পায় কিন্তু তা যদি কৈশোর পার হবার পর ও থাকে তাহলে হয়ত তাকে ফোবিয়া বলা যেতে পারে |

Glossophobia:   এইটা একধরনের সোশ্যাল ফোবিয়া | এইক্ষেত্রে মানুষ মূলত যেকোনো পাবলিক স্পিকিং অসম্ভবরকম ভয় পায় | আমরা সবাই কম বেশি পাবলিক স্পিকিং ভয় পাই যেইটা স্বাভাবিক এবং একটা সময় হয়ত কেটেও যায় | কিন্তু, এইক্ষেত্রে মানুষ কনস্ট্যান্টলি ভয় পেতে থাকে | এমনকি পাবলিক স্পিকিং ঘটনা কল্পনা করলেই তাদের সারা শরীর হাত-পা ঘামতে থাকে | সিম্পটম হিসেবে সারা শরীর কাপ, হাত-পা ঘেমে যাওয়া বমি বমি ভাব ইত্যাদি দেখা যায় | এমনকি ক্লাসে টিচার পড়া ধরার সময় স্টুডেন্টদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে |

Atychiphobia:   মানুষের জীবনে ২ টা ঘটনা থাকে একটা হলো সাকসেস আরেকটা ফেইলিউর | আর সবাই জানি “failure is the pillar of success”  কিন্তু, আমরা জানলে কি হবে এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষদেরতো সেইটা জানতে হবে ! এই ফোবিয়ায় আক্রান্ত মানুষগুলো যে হারার ভয়ে যেকোনো প্রকার কম্পিটিশনকেই কিংবা হারার সম্ভাবনা আছে এরকম সবকিছুই এড়িয়ে চলে | এর জন্য এইসব মানুষেরা রিলেশনশিপ, এডুকেশন কিংবা জব এসকল ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলতে চায় | এমনকি এড়িয়ে চলার জন্য তারা বিভিন্ন মিথ্যা অজুহাত তৈরী করতে পর্যন্ত পিছপা হয়না |

Theophobia:  এই ফোবিয়াটা বেশ মজার কারণ, এই ফোবিয়ার মানেই হলো “Fear of God” ! সাধারণত, এই ফোবিয়াটা তাদের মধ্যেই দেখা যায় যারা ছোটবেলায় খুব ডিসট্রেস কোনো সিচুয়েশনে ছিল | স্রষ্ঠার শাস্তি কিংবা রাগ এই সংক্রান্ত বিষয়গুলোর ঘটনা শুনে তারা এতটাই আতঙ্কিত হত যা একসময় ফোবিয়া আকারে ধরা দেয় | এসকল মানুষেরা সকল ধর্ম সংক্রান্ত বিষয় এড়িয়ে চলে | ধর্মীয় প্লেস, ধর্মীয় মানুষ, ধর্মীয় গান, ধর্মীয় ছবি সব কিছুতেই তাদের আতংক কাজ করে | কেউ হয়ত তাদেরকে ধর্মবিদ্বেষী মানুষের সাথে গুলিয়ে ফেলবেন কিন্তু দুটো এক নয় | একটা হলো ভয় বা phobia আরেকটা, ঘৃনা বা hatred.

 

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই | পরের পর্বে আমরা আরো অনেক ফোবিয়া নিয়ে আলোচনা করব | আশা করি সবার ভালো লেগেছে | সবাইকে ধন্যবাদ |

 


 

Sources:

  1. http://phobia.wikia.com/wiki/Atychiphobia
  2. http://www.barbarafish.com/archives/newsletter-0705.htm
  3. http://www.glossophobia.com/
  4. https://www.healthtopia.net/disease/mental-health/phobia/nyctophobia-fear-darkness
  5. http://www.healthline.com/health/phobia-simple-specific#types3
  6. https://en.wikipedia.org/wiki/Glossophobia
  7. https://en.wikipedia.org/wiki/Claustrophobia
  8. http://www.medicalnewstoday.com/articles/37062.php
  9. http://www.nhs.uk/Conditions/Phobias/Pages/Causes.aspx
  10. http://science.howstuffworks.com/life/inside-the-mind/emotions/fear5.htm
  11. https://www.healthtopia.net/disease/mental-health/phobia/theophobia-fear-god-or-religion