অনুপ্রেরণার প্রতিচ্ছবিঃ মাশরাফি দ্যা মহানায়ক

Now Reading
অনুপ্রেরণার প্রতিচ্ছবিঃ মাশরাফি দ্যা মহানায়ক

মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক সংগ্রামী জীবন্ত কিংবদন্তি। দেশের মানুষ যাকে ভালোবেসে নাম দিয়েছেন ম্যাশ । তাঁর সংগ্রাম তাঁর নিজেরই শরীরের সাথে। দুই পা বারবার বেঈমানী করলেও তিনি ফিরে এসেছেন, দেখিয়ে দিয়েছেন বাংলার মানুষকে- মাশরাফি একজন টাইগার, একজন সংগ্রামী, একজন যোদ্ধা, সর্বোপরি একজন নেতা, যে নেতা পালটে দিয়েছেন একটা পুরো দলকে , দেখিয়ে দিয়েছেন পুরো জাতিকে, পুরো বিশ্বকে – কিভাবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হয়, ভালোবেসে একটা দলকে আগলে রাখা যায়।

ক্রিকেট বাংলাদেশের মানুষের সবচাইতে আবেগের একটা স্থান। আর সেই স্থানে মাশরাফি একজনই অনন্য। তিনি যেদিন হঠাৎ টি২০ থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন, সারা জাতি দেখেছে , এই দেশের মানুষ তাকে কতটা ভালোবাসে। সত্যি কথা, আমি নিজেও দুই তিন দিন ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করতে পারিনি, অবসরের ঘোষণা দেখে টপ টপ করে চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরেছে। এ ব্যথা বোঝাবার নয়। যে মানুষ একদিনের ক্রিকেটে ১০ ওভার বল করতে পারবেন, তিনি কেন ৪ ওভার বল করতে পারবেন না? এ কেমন কথা? এই প্রশ্ন আজো রয়ে গেছে, যদিও ম্যাশ এই নিয়ে আর কথা বাড়াননি।

নড়াইল থেকে উঠে আসা এক কিশোর মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন, ক্রিকেট দুনিয়া এক নতুন বিস্ময় এর জন্ম দিয়েছে, আর সেই বিস্ময় হলেন মাশরাফি। দ্যা নড়াইল এক্সপ্রেস। তাকে বাংলাদেশের অন্যতম দ্রুততম বোলার হিসেবে বিবেচনা করা হত সেই সময়ে। ১৩৫ কি.মি/ঘন্টা করে তাঁর বলের গতি ছিল সেসময়, কিন্তু ইনজুরির কবলে পড়ে তিনি তাঁর সেই গতি হারিয়েছেন। এখন ১২০কি.মি এর ঘরে বল ছুড়লেও তিনিই বোলারদের নেতা এবং সেরা। তিনি যেভাবে লাইন লেংথ ঠিক রেখে এখনো এই ৩৩ বছর বয়সে বল করে যাচ্ছেন, তা সত্যিই নতুন বোলারদের জন্যে এক অনুপ্রেরণার বিষয়। তিনি মানুষটাই একটা অনুপ্রেরণার। অথচ সবাই কিনা ভেবে নিয়েছিল ম্যাশের ক্যারিয়ার শেষ। সেটা আরো ৮ বছর আগের কথা। কিন্তু না, তিনি এক অনবদ্য হার না মানা পুরুষ। বাংলার বাঘ তিনি। যখন তিনি বল করতে দৌড়ান, তখন মনে হয় একটা রয়েল বেঙ্গল টাইগার দৌড়ে যাচ্ছে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে, শিকারের পর ঠিক বাঘের মতই তাঁর গর্জন। অনুজ ক্রিকেটারদের কাছে কিংবা সতীর্থদের কাছে মাশরাফি মানেই এক ভরসা, এক আনন্দ, যেন মাথার ওপর ছায়ার মত কেউ একজন থাকা।

যে মানুষ দুই পায়ে সাত বার বড় ধরণের অস্ত্রোপচার করার পরও পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলতে নামতে পারেন, একটা দেশের জন্য সম্মাননা বয়ে আনতে পারেন, তাহলে আমরা কেন একটুতেই হতাশ হয়ে পড়ি? কেন আমরা অতি সহজেই ভেঙে পড়ি? কেন হাল ছেড়ে দিই? কেন মাধ্যমিক কিংবা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় আশানূরুপ ফল করতে না পারলে আত্নহত্যা করার মত সিদ্ধান্ত নিই? কেন? ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে না পেরে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা বিষয়ে ভর্তি হতে না পারলে কেন ভেবে নিই আমাদের সব শেষ? ক্যারিয়ার শেষ? জীবন কি এতই তুচ্ছ? হেলায় কেন নিজেকে শেষ করে ফেলতে হবে? মাশরাফি যদি এখনো এই বয়সে পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে একটা দলের নেতা হয়ে কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা আর আবেগের পাত্র হতে পারেন, আমরা তারই ভক্ত হয়ে তাকে ভালোবেসে কি তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা , অনুপ্রেরণা নিতে পারিনা?

অবশ্যই পারি। শুধু নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হয়, ঠিক ম্যাশ যেমনটা রেখেছিলেন, নিজের কাজকে ভালোবেসে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়, জীবনে যতই বাঁধা-বিপত্তি আসুক না কেন।

দোয়া করি , আমাদের ম্যাশ বাংলাদেশের হয়ে আরো অনেক দিন খেলুন, সুস্থ থাকুন। ম্যাশ মাঠে না থাকলে মাঠটাকে যে শূন্য শূন্য মনে হয়!

কম্পিউটারের কিছু সমস্যা এবং সমাধান

Now Reading
কম্পিউটারের কিছু সমস্যা এবং সমাধান

আমরা বর্তমান এ কমবেশি সকলেই কম্পিউটার ব্যাবহার করি।কেউ গান শোনার জন্য ,কেউ পড়াশোনার জন্য,কেউ গেম খেলার জন্য আবার কেউ করে ব্যবসায়িক কাজ সম্পন্ন করার জন্য।আমরা যারা কম্পিউটার ব্যবহার করি তারা বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখিন হই।আজ আমি আপনাদের জন্য সেসকল সমস্যা ও তার সহজ কিছু সমাধান আপনাদের জানাব ।

আপনি আপনার দাদার আমল এর কম্পিউটার ব্যবহার করেন বা নিজের বিল্ড করা হাই কনফিগ রিগ যেটাই হক না কেন সমস্যা সবারই কমবেশি হয়ে থাকে।তবে চলুন এক এক করে কিছু লিষ্ট করি সমস্যা গুলোর।

স্লো কম্পিউটার
স্লো ইন্টারনেট
বার বার কম্পিউটার রিস্টার্ট নেয়া
বিরক্তিকর পপআপ এ্যড আসা
ব্রাউজ করার সময় কনস্ট্যান্ট “সিকিউরিটি” সতর্কবার্তা
ওয়াইফাই থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া
ত চলুন ঝটপট জেনে নেই সমস্যা গুলোর প্রতিকার।

স্লো কম্পিউটার
প্রথমে, আপনাকে জানাতে হবে যে আপনার কম্পিউটারের কারণে ভিডিও বা ওয়েবসাইটগুলি লোড হওয়ার জন্য কিছু সময় লাগবে। তারা নেটওয়ার্ক ইন্টারফারেন্স দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। প্রোগ্রাম খোলা হলে আপনার কম্পিউটার ধীরে ধীরে ব্যবহার করা হয়, ব্যবহার করা অবস্থায় স্টল বা ফাঁকা থাকে, বা বুট আপ প্রক্রিয়াটি কয়েক মিনিটের বেশি সময় নেয়, তাহলে আপনার হাতে ধীরগতির সমস্যা হতে পারে।
এখন, একবার আপনি সেটাপ করেছেন যে কম্পিউটারই আপনার অপরাধী, মূল সন্দেহভাজনদের পরীক্ষা করুন – একটি পূর্ণ হার্ড-ড্রাইভ (HDD) এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেকগুলি প্রসেস চলছে।

আপনার অপারেটিং সিস্টেম (সাধারণত C:) হিসাবে চিহ্নিত হার্ডড্রাইভটি সম্পূর্ণ হলে, অপারেটিং সিস্টেম ফাইলগুলিকে দ্রুত রাইট করতে পারে না, যেহেতু এটি অনুসন্ধান এবং তার জন্য স্থান বরাদ্দ করতে হবে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়া সময় লাগে, যা আপনার সিস্টেমের কর্মক্ষমতা একটি মন্থর ফলে হবে। চলচ্চিত্র, ফটো, মিউজিক বা অন্য কোনও অচিহ্নিত ফাইল মুছুন অথবা অন্য হার্ড ড্রাইভে স্থানান্তর করুন। কোনও সদৃশ ইমেজগুলি সরিয়ে ফেলার জন্য একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করুন। আপনি আর ব্যবহার করবেন না কোন প্রোগ্রাম আনইনস্টল।

বিকল্পভাবে, ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান অনেকগুলি প্রসেসগুলি আপনার কম্পিউটারকে ধীর করে দিবে, কারণ তাদের কম্পিউটিং শক্তি উভয়েরই দরকার, সেইসাথে দ্রুত, স্বল্পমেয়াদী মেমোরি – RAM। এটি পরিষ্কার করার জন্য, স্টার্ট বাটনে ক্লিক করুন,সার্চ অপসানে টাইপ করুন: msconfig এবং তারপর “স্টার্টআপ” ট্যাবে যান। এখন, আপনি একটি মাইক্রোসফট প্রসেস যা কিছু অচিহ্নিত করতে চান না আপনি কি দেখতে চান Google আপডেট, অ্যাডোবি অ্যাডাপটেটর, স্টিম ক্লায়েন্ট বুটস্ট্র্রিপ, পান্ডো মিডিয়া বুস্টার, এবং স্পটিফাই এই অবিচ্ছিন্ন হতে পারে, এবং আপনি একটি স্টার্টআপ পরে পার্থক্য বোধ করতে সক্ষম হওয়া উচিত।
তবে আরও ভাল স্পিড এর জন্য সলিড স্টেট ড্যাইভ(SSD) ব্যাবহার করা উত্তম।

স্লো ইন্টারনেট
আপনার ডাউনলোড, ব্রাউজিং এবং স্ট্রিমিং সঙ্গীত এবং ভিডিওগুলির স্ট্রিমিং হতে অনেক বেশি সময় লাগে? চেক করুন যে আপনার মন্থন প্রকৃতপক্ষে, নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত। Speedtest.net যান এবং আপনি আপনার প্যাকেজ এর গতি পেতে সমস্যা হয় কিনা দেখতে একটি পরীক্ষা চালান।

আনুমানিক গতিসম্পন্ন আইএসপি এর বিজ্ঞাপন গতি কমপক্ষে 50% হওয়া উচিত, এবং আপনার পিন 100 এর নিচে হওয়া উচিত। যদি আপনার ফলাফল এই সাথে না হয়, তাহলে আপনার ব্যান্ডউইথ হজ করা হয় বা নেটওয়ার্ক সমস্যা রয়েছে। প্রথমত, ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান কোনও টরেন্ট ক্লায়েন্টগুলি নেই তা দেখতে পরীক্ষা করুন। তারা প্রায়ই ট্র্যাশকে কমিয়ে দেয় এবং ফাইলগুলি ডাউনলোড এবং আপলোড করে রাখে, যা অনেক ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে। পরবর্তী, আপনার নেটওয়ার্ক কার্ড এর ড্রাইভার uptodate কিনা তা পরীক্ষা করুন (আপনি আপনার অপারেটিং সিস্টেম আপডেট না হলে, এই সময় হতে পারে)। পরবর্তী, আপনার মডেম বন্ধ এবং আবার চালু করার চেষ্টা করুন। যদি এটি কোন চালু / বন্ধ বোতাম না থাকে, তবে এটি পুরোপুরি আনপ্লাগ করুন এবং পুনরায় প্লাগ করুন।

যদি এইরকম কেউ সাহায্য না করে, তাহলে আপনার আইএসপি কল করুন এবং তাদের বলুন তাদের সমস্যা আছে, এবং তাদের এটি ঠিক করতে দিন।

বার বার কম্পিউটার রিস্টার্ট নেয়া
এটি শুধুমাত্র একটি উইন্ডোজ আপডেটের সিরিজ ফলাফল হতে পারে, যা বেশ কয়েকবার রিবুট প্রয়োজন হয়। একবার দেখুন এবং দেখুন যদি পুনর্সূচনা প্রক্রিয়া “আপডেট করা উইন্ডোজ” উল্লেখ করে, যদি তা-ই হয় তবে কিছু ধৈর্য ধরুন, এটি মূল্যবান।

এখন, আরেকটি কারণ যান্ত্রিক হতে পারে – আপনার কম্পিউটার অদ্ভুত শব্দ তৈরি করছে? এটা অস্বাভাবিক গরম? যদি আপনার কম্পিউটারটি নতুন না হয়, তাহলে বাক্সের ভিতরে জমা হওয়া ধুলো পরিষ্কার করতে হবে। কম্পিউটারটি পরিষ্কার করার পরে সমস্যাটি যদি চলতে থাকে তবে ভাইরাস স্ক্যান চালান এবং একটি ম্যালওয়্যার স্ক্যান চালান।

একবার আপনি এই সমস্ত পরীক্ষার নিঃশেষ হয়ে গেলে, আপনার কম্পিউটারকে একটি বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান।

বিরক্তিকর পপআপ এ্যড আসা
আপনি যদি ইন্টারনেট ব্রাউজ না করেন, তবে এখনও পর্যন্ত পপআপ বিজ্ঞাপন পাওয়া যাচ্ছে, এটি সম্ভবত “অ্যাডওয়্যারের” নামে পরিচিত ম্যালওয়্যারের একটি ফর্ম। এই স্নিকি প্রোগ্রাম যা থেকে পরিত্রাণ পেতে চতুর হতে পারে। একটি ভাইরাস স্ক্যান এবং একটি ম্যালওয়্যার স্ক্যান রান, এবং “(বিজ্ঞাপনদাতার নাম) অ্যাডওয়্যারের অপসারণ” জন্য অনলাইন অনুসন্ধান – আপনি একটি সমাধান খুঁজে পেতে সক্ষম হওয়া উচিত।

ব্রাউজ করার সময় কনস্ট্যান্ট “সিকিউরিটি” সতর্কবার্তা
যদিও এটি সবচেয়ে বিরক্তিকর সমস্যাগুলির মধ্যে একটি হতে পারে, এটি ঠিক করার জন্য অবিশ্বাস্যভাবে সহজ। আপনার কম্পিউটারের ঘড়ি সঠিক সময় এবং তারিখ দেখায় তা পরীক্ষা করুন। এটি না হলে, ঘড়ির উপর ডান-ক্লিক করুন এবং ম্যানুয়ালি সংশোধন করতে “তারিখ এবং সময় সেটিংস পরিবর্তন করুন” নির্বাচন করুন।

ওয়াইফাই থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া
বিভিন্ন কারণে (রাউটার, কম্পিউটার, আইএসপি) বেতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি আপনার Wi-Fi সংকেত দুর্বল হয় তবে এটি সংযোগ বিচ্ছিন্নতা ও মন্থন হতে পারে, তাই নিশ্চিত করুন আপনি যে রেঞ্জে আছেন এবং সুন্দর সার্ভিস পেয়েছেন ।পরবর্তী আপনার কম্পিউটারের ওয়্যারলেস অ্যাডাপ্টারের আপ-টু-ডেট ড্রাইভারগুলি পরীক্ষা করে দেখুন। এই কাজ কেউ যদি, আপনার আইএসপি কল এবং তারা সাহায্য করতে পারেন কিনা দেখতে।

আসা করি আপনারা এই তথ্যের মাধ্যমে উপকৃত হবেন।ধন্যবাদ।।

NOTICE: যারা নকল, কপি করা পোস্ট সাবমিট করছেন

Now Reading
NOTICE: যারা নকল, কপি করা পোস্ট সাবমিট করছেন

বাংলাদেশীজম ফুটপ্রিন্টে আপনাদের সাড়া দেখে আমরা আসলেই অনেক আনন্দিত। ইতিমধ্যে আমরা বেশ অনেক গুলো সাবমিট করা পোস্ট পাবলিশ করেছি এবং আপনারা হয়তো দেখেছেন। এগুলো আমরা আমাদের ফেসবুক পেজেও শেয়ার করেছি। আপনারাও যত ভাবে পারেন শেয়ার করবেন।

তবে দুঃখের বিষয় এই যে এই পর্যন্ত আমরা প্রায় ৭০টির উপর পোস্ট রিজেক্ট করেছি কারন এই লেখাগুলো সবই নকল বা অন্য ওয়েবসাইট থেকে কপি-পেস্ট করা, অবিকল।

আমাদের এই সাইটে নকল বা কপি পেস্ট করা লেখা ফিল্টার করার ব্যবস্থা করা আছে। তাই এধরনের পোস্ট সাবমিট করার সাথে সাথে এগুলো আলাদা কন্টেইনারে জমা হয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিজেক্ট হয়ে যায়। তাই, আপনাদের অনুরোধ করছি, দয়া করে এধরনের কোন পোস্ট সাবমিট করবেন না। আমাদের ফুটপ্রিন্ট প্লাটফর্মের নিয়ম হলো আপনার লেখাটি একেবারে ইউনিক হতে হবে এবং অন্য কোন ধরনের ওয়েবসাইটে বা পত্রিকায় – কোথাও থাকতে পারবেনা। দয়া করে নিয়মটি মেনে চলুন। এবং আমরা এটাও খেয়াল করেছি, অনেকেই ৪/৫ লাইনের পোস্ট সাবমিট করছেন। এগুলো আমাদের আসলে সময়টাই নষ্ট করছে। পোস্ট সাবমিট করতে হলে নূন্যতম ১০০০ শব্দের হতে হবে নতুবা সেই পোস্ট পাবলিশ হবে না।

আমাদের সম্পূর্ন গাইডলাইন দেখতে হলে এই লাইনে ক্লিক করুন। 

যারা বার বার নকল পোস্ট সাবমিট করছেন, এধরনের একাউন্ট গুলো আমরা কিছুদিন দেখার পর ব্যান করে দেব আইপি সহ। অনুরোধ একটাই, দয়া করে এধরনের পোস্ট সাবমিট করে নিজেদের সময় নষ্ট করবেন না। ফুটপ্রিন্টকে আমরা এক অনন্য প্লাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছি যেখানে সবার উপকার হবে। তাই খুব উচ্চমানের লেখা আশা করছি। মনে রাখবেন, এই প্লাটফর্ম যত বড় হবে, যত জনপ্রিয় হবে, আপনার লাভ ততটাই বাড়বে।

ধন্যবাদ।

ফুটপ্রিন্ট এডমিন।

অগ্রগতি হচ্ছে আমাদের প্রযুক্তি অগ্রগতি হচ্ছে আমাদের কৃষি কাজে

Now Reading
অগ্রগতি হচ্ছে আমাদের প্রযুক্তি অগ্রগতি হচ্ছে আমাদের কৃষি কাজে

বাংলা। কী ছিল এই বাংলায়। কী ছিল আজ থেকে ৬০-৭০ বছর আগে? একদিকে যার রোপিত হয়েছে সুখের বীজ, আরেক দিকে সংগ্রাম। পুরো বাংলাই গ্রাম, আর গ্রামই জনজীবনের চালক ক্ষেত্র। ক্ষেতে চলছে হাল, নদীতে জেলে ফেলছে জাল, গৃহস্থের ভিটায় মাড়াই চলছে ধানের, কলুপাড়ায় ঘানি ঘুরছে, কামারশালায় চলছে কৃষি উপকরণ তৈরির কাজ, জীবনের সব উপকরণে ভরপুর গ্রাম। এর ভেতরেও ছিল শোষণ। ব্রিটিশদের শোষণ, সামন্ত প্রভুদের শোষণ, তারপর পাকিস্তানি শোষণ। একটি সংগ্রাম শেষ করে মানুষ যখনই এগিয়ে যেত শান্তির পথে, তখনই ঘটেছে ছন্দপতন। এসেছে বিদ্রোহ। বিদ্রোহ থেকে বিদ্রোহ। শত বিদ্রোহ হয়েছে এই বাংলায়। ৫৫ বছর আগের তেভাগা আন্দোলনের স্মৃতি এখনো সজীব দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে। বিদ্রোহ, বিপ্লবের পথ বেয়ে এসেছে ৯ মাসের মুক্তি সংগ্রাম। কী ছিল মূলমন্ত্র? বাংলাভরা কৃষক, মজুর আর মেহনতি মানুষের কী ছিল স্বপ্নসাধ? বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে সমাজের সব শ্রেণীর মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার পেছনে লক্ষ্য ছিল একটাই_স্বাধীন ভূখণ্ডে খেয়ে-পরে সুখে-শান্তিতে থাকা। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। এইটুকু আশা নিয়েই সেদিন যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়েছিল মুক্তি সংগ্রামে।

স্বাধীন বাংলাদেশ, গুছিয়ে উঠবে স্বাধীনতার চেতনায়। সোয়া দুই শ বছরের পুঞ্জীভূত স্বপ্নে। সেটিই ছিল সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশের নতুন স্বপ্নের বীজপত্র। ৪০ বছরে যা অঙ্কুর থেকে বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। আজ আমাদের অর্জন অনেক। বিশ্ব দরবারে বাঙালির যে কৃতিত্ব সবচেয়ে বড়, তা হচ্ছে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। আজ কৃষিবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে সবারই গর্বের কেন্দ্রবিন্দুই এটি। একাত্তর সালে আমাদের দেশের জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে সাত কোটি। ভূমির আয়তন ছিল এখনকার চেয়ে অনেক বেশি। খাদ্য উৎপাদন হতো মাত্র এক কোটি টন। কেউ কেউ বলেন, ৯০ লাখ টন। কারো কারো হিসাবে এক কোটি ১০ লাখ টন। স্বাধীনতার ৪০ বছরে আবাদি জমি কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশের মতো। জনসংখ্যা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। আর খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে তিন কোটি ২৫ লাখ টন। একাত্তরে আমাদের কিছু খাদ্য ঘাটতি ছিল, সে হিসাবটিও কম নয়। ২০ থেকে ৩০ লাখ টন। আজকের দিনে এসে আমাদের খাদ্য ঘাটতির হিসাবটি অনেকটাই গৌণ হয়ে উঠেছে। ২০ লাখ টনের মতো ঘাটতি আছে ঠিক; কিন্তু তা আমাদের বর্তমানের প্রচুর উৎপাদনের হিসাবের কাছে ওই হিসাবটি বড় করে দেখার মতো নয়।
এই যে বিশাল অর্জন। কিভাবে সম্ভব হয়েছে এটি, প্রশ্ন আসতেই পারে। স্বাধীন দেশের প্রথম চেতনা, প্রথম শপথের সঙ্গে মিশে ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যয়। বাংলাদেশ নামের এই পরিবারের সবার মুখে খাদ্য তুলে দিতে হবে। মাটির সঙ্গে মিশে কৃষকই কাজটি করবেন। তাঁদের সহায়তা করবে বিজ্ঞানী, সম্প্রসারক থেকে শুরু করে সমাজের সব শ্রেণীর মানুষ। সে সময়ের যে তৎপরতা, সেখানে সবাই সক্রিয় ছিল একই চেতনায়। পল্লী আমাদের জননী, কৃষি আমাদের সূতিকাগার, কৃষক আমাদের নায়ক_বিষয়গুলো জীবন ও সংস্কৃতির সব পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ ছিল দেশের প্রতি অদম্য টানে। একই সঙ্গে ছিল সবুজ বিপ্লবের বাতাস। ১৯৬০ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী নরম্যান বোরলগ তার সহযোগী ও সঙ্গী বিজ্ঞানীদের নিয়ে সারা বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণের যে তাগিদ অনুভব করেছিলেন_তার সুফলই হচ্ছে সবুজ বিপ্লব, যা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়তে খুব বেশি সময় লাগেনি। এই বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরই দেশে বিজ্ঞানীরা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত গবেষণায়। একের পর উদ্ভাবন করেছেন এক নতুন নতুন ধানের জাত, যা খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পেছনের বড় শক্তি। আর এই শক্তিকেই এগিয়ে নিতে সক্রিয় হতে হয়েছে বিএডিসিকে। কৃষিজমিকে আনতে হয়েছে সেচের আওতায়। বাড়াতে হয়েছে অবকাঠামো। ৪০ বছরে বিএডিসির অবদানের হিসাবটিও ছোট নয়। স্বাধীনতার ৪০ বছরে তারা দেশের ৬৮ শতাংশ এলাকায় পেঁৗছে দিয়েছে সেচ সুবিধা। কৃষক উচ্চ ফলনশীল ধান আবাদ করতে গিয়ে সেচের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছেন। তা পূরণ করতে নিবিড়ভাবেই কাজ করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে সারের। কৃষকের কাছে সহজে সার পেঁৗছে দিতে সরকারকেও নিতে হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। আজ বর্তমান সময়ে এটি বিপুল অঙ্কের অর্থের ভর্তুকিতে ঠেকেছে। একদিকে বেড়েছে সারের নির্ভরতা, অন্যদিকে সরকারকেও কৃষকের পক্ষে এগোতে হয়েছে কয়েক পা।
স্বাধীনতার কয়েক বছর পর থেকেই শুরু হয় গতিশীল কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম। কৃষির উন্নয়নে দিন-রাত নিজেকে নিয়োগ করেছেন একেকজন কর্মকর্তা, কর্মচারী। তাঁরা হয়েছেন কৃষকের প্রকৃত বন্ধু।
তবে এ কথাও মিথ্যে নয়, কৃষক যত বেশি উপকরণের দিকে ঝুঁকেছে, উচ্চ ফলনশীল ধান আবাদ করতে গিয়ে কৃষক তত বেশি পরনির্ভরশীলতার মধ্যে পড়েছে। আর যখনই উপকরণের প্রশ্ন, উপকরণের বাহুল্যের প্রশ্ন, তখনই বাণিজ্য। এভাবেই দিনের পর দিন কৃষি ধাবিত হয়েছে বাণিজ্যের দিকে। পাশাপাশি কৃষি উপকরণগুলোকে কেন্দ্র করে দিনের পর দিন প্রসার লাভ করেছে করপোরেট বাণিজ্য। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সব ধরনের বাণিজ্যের কাছে দিনের পর দিন কৃষি পরিণত হয়েছে একটি উর্বর ক্ষেত্রে। যে বাণিজ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কৃষককে বারবারই পরাজিত হতে হয়েছে। আর এর পথ ধরেই একবিংশ শতকের কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে আমাদের কৃষককে। প্রতিবছর ১ শতাংশ হারে জমি কমছে, আর জনসংখ্যায় যুক্ত হচ্ছে ২৫ লাখেরও বেশি মানুষ। একাত্তর সালে যে কৃষক ছিলেন ৩০ বছরের তরুণ, আজ তিনি ৭০ বছরের বৃদ্ধ। বয়স বেড়েছে, সন্তান-সন্ততি বেড়েছে, ভাগ হয়ে গেছে সংসার, টুকরো টুকরো হয়ে গেছে জমির আইল। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে ভূমিহীন মানুষের মিছিল। আজ অর্থনীতিবিদদের হিসাবে দেশে ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা এক কোটিরও বেশি। মোট কৃষক পরিবার যেখানে দেড় কোটি থেকে এক কোটি ৮০ লাখ, সেখানে এক কোটি ভূমিহীন! পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, তা নতুন করে অবতারণার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।
বহু সাফল্যের ভেতর আজ যে বিষয়টি খুব পরিষ্কার, তা হচ্ছে কৃষি আর কৃষকের একার হাতের মধ্যে নেই। এক চিলতে জমিতেও শস্য উৎপাদনের জন্য তাঁকে খুলতে হয় হিসাবের ফর্দ। আর এই হিসাব মেলাতে গিয়েই মুখাপেক্ষী হতে হয় সার-কীটনাশকের ডিলার, ব্যাংক, এনজিও, স্থানীয় মহাজন, ফড়িয়া_সবার। আর এভাবেই তাঁরা সবাই হাতে পেয়ে যান কৃষককে জিম্মি করার অস্ত্র। নিজ ভূমিতেই দিনের পর দিন পরবাসী হয়েছেন কৃষক। একসময়ের ভূমির মালিক হয়েছেন নিঃস্ব। প্রথমে হয়েছেন বর্গাচাষি। তারপর দিনের পর দিন হয়েছেন দিনমজুর। যখন সোনা ফলা গ্রাম আর তাঁর হাতে থাকেনি, কৃষকের মাঠে মজুরি দেওয়ার কাজটিও যখন দুর্লভ হয়ে উঠেছে, তখন বাধ্য হয়েই তিনি হয়েছেন শহরমুখো। শহরে মানুষের চাপ বাড়ছে। বাড়ছে উদ্বেগ ও দীর্ঘশ্বাস। এভাবেই পাল্টে যেতে থাকে কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষিচিত্র। তার পরও জিডিপিতে কৃষির অবদান ২০ শতাংশ। বারবারই সামনে আসে সেই কথা, দেশের ১৬ কোটি মানুষ ঘরের ধানে ভাত খায়, নিজেদের উৎপাদিত সবজি খায়, জেলেদের জালে তোলা মাছ খায়, দুধ খায়, ডিম খায়, মাংস খায়। এই সব কিছুরই জোগান ওই মাঠ থেকে, কৃষি থেকে, খামার থেকে।
একাত্তর সালে দেশে মাছের উৎপাদন ছিল আট লাখ টন, এখন হচ্ছে ২৬ লাখ টন। দুধ উৎপাদন হতো পাঁচ লাখ টন, এখন হচ্ছে ২৫ লাখ টন, মাংসের উৎপাদনও বেড়েছে। মুরগি আর ডিম ছিল কৃষকের ঘরে অতিথি আপ্যায়নের কোনো রকম নিদেন বা অবলম্বন। সেখান থেকে এই শিল্প আরো বিশাল এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। এর সিংহভাগই ব্যক্তি উদ্যোগের সুফল। সরকারি গণমাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশন সদ্য স্বাধীন দেশে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সামনে কৃষির জাদু ও উন্নয়নের অঙ্কগুলো তুলে ধরার প্রয়াস নেয়। যেগুলো ঘর থেকে আঙিনায় টেনে এনেছে গৃহবধূকে, শিক্ষিত বেকারকে নামিয়েছে পুকুরে আর দরিদ্র পেশাজীবী ও কৃষক শ্রেণীকে শিখিয়েছে কৃষিকাজ করে টাকা বাড়ানোর উপায়। স্বনির্ভর হওয়ার কৌশল। যদি বলি, ধান উৎপাদনের পর পরই কৃষি খাতে কোন সাফল্যকে বড় করে দেখা যাবে? আমরা বলব, সবজি উৎপাদন। গত ১০ বছরে সবজিচাষের প্রাচুর্য দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে দেশব্যাপী। এর মধ্য দিয়ে আবাদি ক্ষেতে যেমন শস্য বহুমুখীকরণ ও ফসল বৈচিত্র্য এসেছে, একইভাবে পূরণ হচ্ছে দেশের পুষ্টির চাহিদা। চাহিদার কোনো শেষ নেই। তার পরও সংশ্লিষ্টদের হিসাবে দেশের মানুষের বার্ষিক এক কোটি টন সবজি চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টন সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। যেটি একসময় ছিল না বললেই চলে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে উৎপাদন সাফল্যের হিসাবে তার পরই আসে পোলট্রি সেক্টর। ২০ বছরে যে শিল্প শূন্য থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশাল একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে, শুধু ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের অদম্য আগ্রহে। নব্বইয়ের দশক থেকে এক এক করে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৫০ লাখ মানুষ। গড়ে উঠেছে দেড় লাখ খামার। সবই ব্যক্তি উদ্যোগের সফল। যদি বলি সহায়তার কথা, তাহলে আসবে না-পাওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বার্ড ফ্লু, হ্যাচারিতে এক দিনের বাচ্চার অগি্নমূল্য, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এই খাতের মধ্যে দিনের পর দিন হতাশা পুঞ্জীভূত করেছে। একসময় বিদেশি যেসব কম্পানি পোলট্রি শিল্পের জন্য খাদ্য ও ওষুধ বিক্রি করতে এ দেশে ঢুকেছিল, তারা এখন নিজেরাই খামারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সব মিলিয়ে সফল এই খাতটি গত কয়েক বছর রয়েছে দুর্দিনে। বছরের কোনো কোনো সময় কয়েক দিনের জন্য সুদিন হয়তো আসে; কিন্তু বছরের বেশির ভাগ সময়ই খামারিরা জর্জরিত থাকেন বহুবিধ সংকট ও সমস্যায়। গত ৪০ বছরে একটি সাফল্য এসেছে প্রাণিসম্পদ গবেষণায়। প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা ১২ বছরের টানা গবেষণার ফসল হিসেবে একটি নতুন দেশি জাত উদ্ভাবন করেছেন।
ধরা যাক প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ শিল্পের কথাই। সরকারিভাবে উদ্যোগ ছিল কৃত্রিম প্রজননের, যা স্বাধীনতার ৪০ বছরে খুব বেশি আশাব্যঞ্জক জায়গায় যেতে পারেনি। পাশ দিয়ে এগিয়ে গেছে বেসরকারি উদ্যোগ। কৃত্রিম প্রজনন, জাত উন্নয়নসহ এ-সংক্রান্ত বিভিন্নমুখী কার্যক্রমে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক এগিয়েছে বহুদূর। সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে প্রাণসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি উদ্যোক্তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনা দিয়েই এই খাতে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছেন; কিন্তু খামারিরা ততটা আশাবাদী নন। দুগ্ধ খামারিরা বছরের বড় একটি সময় পার করেন সংকটে। একদিকে দুধের বাজারমূল্য তাঁদের অনুকূলে নয়, অন্যদিকে নেই বাজার ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা। এ ক্ষেত্রে একমাত্র বৃহৎ সমবায়ী প্রতিষ্ঠানও সব ক্ষেত্রে খামারিদের অনুকূলে ভূমিকা রাখতে পারেন না। তাঁদেরও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। রয়েছে অনিয়মও।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুরুর দিকে পরিকল্পনায় ত্রুটি ছিল। যে ত্রুটির কারণে আজও আমাদের দেশে গরুর একটি জাত উদ্ভাবন হয়নি। ঘুরে-ফিরে আমরা বলছি রেড চিটাগাং ক্যাটেল ব্রিডের কথা, যেটি আমাদের দেশেরই প্রাচীন একটি জাত। উন্নত কোনো জাত আজ পর্যন্ত আমাদের বিজ্ঞানীদের হাত দিয়ে উদ্ভাবন হয়নি। গড়ে ওঠেনি মাংস ও দুধ উৎপাদন-প্রক্রিয়াকরণ ও সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা। মৎস্য সেক্টরের হিসাবটিও ঠিক এ-রকম। প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রাচুর্য কমেছে। সাগর থেকে গেছে হিসাবের বাইরে। আর গবেষণা প্রতিষ্ঠান? ৪০ বছরে না পেঁৗছাতেই নানা সীমাবদ্ধতায় পড়েছে ঝিমিয়ে। কিন্তু এগিয়েছে ব্যক্তি উদ্যোগ। গোটা মৎস্য সেক্টরের বড় অংশটিই এখন ব্যক্তি উদ্যোগনির্ভর। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ২৬ লাখ টন মাছ। যার অর্ধেকেরও বেশি জোগান দিচ্ছেন ৪২ লাখ মৎস্যচাষি। বাকি আসছে প্রাকৃতিক জলাশয়, সাগরসহ অন্যান্য উৎস্য থেকে। সংশ্লিষ্টদের তাগিদ সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় দিনে দিনে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশি মাছের জাত। বিজ্ঞানীদের এক হিসাবে দেখা গেছে, আমাদের দেশের প্রায় ৫৪টি মাছের জাত এখন ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পেঁৗছেছে। ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে ২৫টির মতো জাত। একইভাবে সরকারি জরিপ ও সঠিক গবেষণার অভাবে সমুদ্রের মৎস্য ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে গেছে হিসাবের বাইরেই। দেশ আজ দুধে-ভাতে নেই ঠিক; কিন্তু বহু নিয়ম, অনিয়ম ও প্রত্যাশা-প্রাপ্তির দীর্ঘ ব্যবধানের ভেতর দিয়ে টিকে আছে ১৬ কোটি মানুষ। ৪০ বছরে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কুশিয়ারা, শীতলক্ষ্যা সব নদ-নদীরই গতিমুখ পরিবর্তিত হয়েছে। ভাঙনের করাল গ্রাসে চলে গেছে লাখ লাখ একর কৃষিজমি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বারবার ছিন্নভিন্ন করেছে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল। কৃষি পড়েছে সংকটের মুখে। খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। উচ্চ ফলনশীল খাদ্য উৎপাদনের জন্য আমরা এগিয়েছি হাইব্রিডের দিকে।
অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে কৃষি পড়েছে সীমাহীন টানাপড়েনে। উপকূলীয় কৃষক চায় লবণ-সহিষ্ণু বীজ, খরাপ্রবণ অঞ্চল চায় খরা-সহিষ্ণু বীজ আর বন্যাপ্রবণ অঞ্চল চায় বন্যা-সহিষ্ণু বীজ। শুরু হয় সরকারি গবেষণা তৎপরতা। কিছু সাফল্য এসেছে এদিকেও। এসব জাতের অধিকাংশই পেঁৗছেছে কৃষকপর্যায়ে। কিন্তু কৃষকরা সব ক্ষেত্রে পারেনি তুষ্ট হতে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর কথা যদি ধরা হয়_আইলা বিধ্বস্ত ওই অঞ্চলে লবণ-সহিষ্ণু উচ্চ ফলনশীল আমন মৌসুমের জন্য ব্রি ধান ২৩, ব্রি ধান ৪০ ও ব্রি ধান ৪১ পেঁৗছেছে। কিন্তু কৃষকরা বলছেন, অতিরিক্ত উৎপাদন খরচ ব্যয় করেও ওই জাতগুলো খুব ভালো ফলাফল দিতে পারেনি। পরে ব্রি ধান ৪৭ও পেঁৗছে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কৃষকরা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্নে থেকেই স্থানীয় শতাধিক জাত সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে কমপক্ষে ১৪টি লবণ-সহিষ্ণু জাত পেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে দু-একটির লবণ-সহন মাত্রা উচ্চ ফলনশীল জাতগুলোর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। পক্ষান্তরে উৎপাদনে খরচের বাহুল্য নেই। কৃষকরা এই জাতগুলো নিয়ে যথেষ্টই আশাবাদী। কারণ শ্যামনগর অঞ্চলে লবণের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। এ অঞ্চলের কৃষকরা বেসরকারি সংগঠন বারসিকের সহায়তায় উচ্চ ফলনশীল জাতের সঙ্গে স্থানীয় লবণ-সহিষ্ণু জাতের ক্রস ব্রিডিংয়ের মতো কঠিন বিজ্ঞানসম্মত কাজেও হাত দিয়েছেন। ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কৃষকরাও পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবিলা করা ও ধানের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার জন্য হাত দিয়েছেন ক্রস ব্রিডিংয়ের কাজে। এই কাজগুলো কৃষক করছেন পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য। জলবায়ুগত ও মানুষ সৃষ্ট কারণে দেশের অনেক স্থানেই কৃষি বিপর্যস্ত। জনজীবন পড়েছে হুমকির মুখে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণপানি আটকে চিংড়িচাষের কুফল হিসেবে মাটি ও পরিবেশে নেমে এসেছে এ বিপর্যয়। হাজার হাজার মানুষ দিশেহারা সেখানে। অন্যদিকে জলবায়ুর পরিবর্তন, সেচসহ নানা কারণে ভূগর্ভের পানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ভূগর্ভের পানির স্তর নেমে যাচ্ছে নিচে। উঠে আসছে লবণপানি। বিকশিত হয়েছে বেসরকারি খাতের তৎপরতা। এ দেশে রয়েছে সমবায়ের সমৃদ্ধ ইতিহাস, স্বাধীনতার পরও সে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে বহুদিন। কিন্তু পরে এনজিও তৎপরতা বাড়তে থাকলে কৃষি সমবায় অনেকটাই সংকটে পড়ে। এনজিওগুলো বহুদিন ধরেই কাজ করছে। কিন্তু আশির দশক থেকে তাদের কাজের ধারা ছিল অকৃষি খাতনির্ভর, গত পাঁচ থেকে সাত বছরে বহু এনজিও তাদের কাজের পরিধি বিস্তার করে এগিয়ে এসেছে কৃষি খাতে। বৃহত্তম বেসরকারি সংগঠন ব্র্যাক গড়ে তুলেছে সুবিশাল কৃষি গবেষণা ক্ষেত্র। কৃষির বিভিন্ন অংশেই দৃষ্টি দিয়ে কাজ করছে তারা। ছোট-বড় অনেক বেসরকারি সংগঠন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অনুন্নত, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনগ্রসর এলাকাগুলোয় কাজের জন্য ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে এই কাজ যে সার্বিক জনকল্যাণ বয়ে আনছে, তা নয়। অনেক স্থানেই সূক্ষ্ম শোষণমূলক তৎপরতাও যে চলছে না, তা বলা যাবে না।
স্বাধীনতার ৪০ বছরে সরকারি কৃষিঋণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক একটি বিষয়। বিশেষ করে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় আসার পর কৃষি অর্থনৈতিক খাতে কিছুটা নতুন গতি আনতে সমর্থ হয়েছে। আগে গ্রামে গ্রামে ভূমিহীন ও বর্গাচাষিদের ঋণের জন্য অবলম্বন ছিল গ্রামীণ মহাজন, জোতদার ও এনজিওগুলো। এই শ্রেণীর মাধ্যমে কৃষক যেমন উপকৃত হয়েছেন, তেমনি হয়েছেন শোষিত। ভূমিহীন বর্গাচাষির জন্য ঋণ পাওয়ার কোনো সুবিধা ছিল না। প্রথমবারের মতো সরকারি ঋণের এই সুবিধা পাওয়া শুরু করেছেন দেশের বর্গাচাষিরা। ইতিমধ্যেই সরকারের বিনিয়োগ করা পাঁচ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা ব্র্যাকের মাধ্যমে তিন লাখ বর্গাচাষির মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। দেশের ৮০ লাখ বর্গাচাষির মধ্যে তিন লাখের কাছে ঋণ পেঁৗছে দেওয়ার বিষয়টি বড় কোনো সাফল্যের কিছু নয়। তবে একটি নতুন ধারার যে সূচনা হয়েছে, এর জন্য বর্তমান সরকার, কৃষিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার দাবি রাখেন।
কৃষক এগিয়েছেন কত দূর : উত্থান-পতন ছিল গত চার দশকই। একদিক এগিয়েছে তো পিছিয়েছে আরেক দিক। এই দোলাচলের ভেতর দিয়েও কৃষি এগিয়েছে। কৃষক নিশ্চিত করেছেন দেশের মানুষের মুখের খাদ্য। যেখানে দাঁড়িয়ে আজ নির্দ্বিধায় বলা সম্ভব হচ্ছে, বাংলাদেশ পুরোপুরি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার একেবারে দ্বারপ্রান্তে। খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলছেন, আগামী বছরের মধ্যে দেশ খাদ্যে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে। তার পরের বছর অর্থাৎ ২০১৩ সাল নাগাদ খাদ্যশস্য আমরা রপ্তানিতে যেতে পারব। ৪০ বছরের কৃষি সাফল্য যখন এই পর্যায়ে, সেখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে কৃষক এগিয়েছে কত দূর? বহু কৃষকের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই তুলে ধরেছেন বড় বড় ফর্দ। ফসল উৎপাদন করে বাজারমূল্য পাচ্ছেন না, উপকরণের দাম বেড়ে গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে তাঁরা কুলিয়ে উঠছেন না_এমন কথা সবার। বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষকরা বলেছেন, যে স্বপ্নসাধ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, তার কিছু অংশও পূরণ হয়নি। কৃষকরা পাননি ন্যায্য অধিকার ও সম্মান। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কৃষির সঙ্গে তুলনামূলক বিচারে কৃষক এগোতে পারেননি। দেশে স্বাধীনতার ৪০ বছরে সৃষ্টি হয়েছে বড় ধরনের আয় বৈষম্য। ১৯৯০ সালে যেখানে মানুষের খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪০০ গ্রাম। এখন এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫০ গ্রামের মতো। কিন্তু এই খাদ্য কি সব শ্রেণী পাচ্ছে? এখনো বিজ্ঞানীরা বলছেন, দেশের ৩০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে, অর্থনীতিবিদদের হিসাবে দেশে দরিদ্র মানুষের হার ৮০ শতাংশের কম নয়, যার সিংহভাগই কৃষক শ্রেণী। তাহলে কিভাবে বলা যাবে, কৃষক এগিয়েছেন?
আগামীর জন্য : একাত্তর থেকে দুই হাজার এগারো। সময়ের পালাবদলে এ দেশের রাজনীতি, সমাজনীতি ও অর্থনীতিতে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার ভেতরও কৃষি সাফল্যের কারণেই সুস্থির থাকতে সমর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু সব মিলিয়েই আমাদের সামনে এখন বড় এক চ্যালেঞ্জ। আজকে যে সাফল্যের অঙ্ক আমরা কষতে পারছি, তার কি ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হবে আগামী ১০ বছর পর, যখন এই বাংলাদেশ পেঁৗছাবে তার সুবর্ণজয়ন্তীতে? কী প্রস্তুতি আছে আমাদের? কী-ই বা করণীয়? কৃষি নিয়ে দীর্ঘ তিন যুগ কাজ করার সুবাদেই অগ্রসর-অনগ্রসর সব কৃষকের সাফল্য ও সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখেছি। দেখেছি তাঁদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ও উত্থান-পতন। একই সঙ্গে বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের চিন্তা ও কাজগুলোর মধ্যেও চেষ্টা করেছি একটি সেতুবন্ধ রচনা করতে। ঠিক সেই অবস্থান থেকে আগামীর করণীয় হিসেবে যেদিকে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি দেওয়া দরকার, তা হচ্ছে_ক. পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ রয়েছে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে। আর এই ঝুঁকির পুরোটাই পড়েছে কৃষির ওপর। এই দিকটিই আমাদের সবচেয়ে আগে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের কৃষি গবেষণা, সম্প্রসারণসহ সব ক্ষেত্রকে ঢেলে সাজাতে হবে। অঞ্চলভিত্তিক মাটি গবেষণা, বীজ গবেষণা ও উন্নয়ন, কৃষি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, কৃষকদের সচেতন করে তোলাসহ কৃষি কল্যাণমুখী উদ্যোগ নিতে হবে।
খ. গবেষণায় নতুন গতি সঞ্চার করতে হবে। স্বাধীনতার পরপর যে গতি ছিল বিজ্ঞানীদের মধ্যে, সেই গতি আজকের দিনে আনতে হলে অবশ্যই কৃষি গবেষণা অবকাঠামোর পরিবর্তন প্রয়োজন। সে সঙ্গে দেশের বিজ্ঞানীদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশে সরকারি কর্মকমিশনের নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞানীদেরও অবসরে চলে যেতে হয় ৫৭ বছর বয়সে। অথচ ওই বয়সটিই একজন বিজ্ঞানীর পূর্ণতা লাভের সময়। প্রবীণ বিজ্ঞানী ড. কাজী বদরুদ্দোজা বলেছেন, দেশ বিজ্ঞানীদের পূর্ণ সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেবাটি গ্রহণ করতে পারছে না। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে কৃষিবিজ্ঞানীদের কমপক্ষে ৬৫ বছর থেকে একেবারে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সরকারি দায়িত্ব পালনের সুবিধা রয়েছে। এই সুবিধা এখানেও সৃষ্টি করতে হবে। গ. কৃষিজমি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে নিতে হবে কার্যকর উদ্যোগ। কৃষির মধ্যে শিল্প, আবাসন কিংবা অবকাঠামো নির্মাণের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
ঘ. কৃষিপণ্যের বাজার কাঠামোয় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে কৃষক তাঁর উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারকে বিজ্ঞানসম্মত, কার্যকর ও আধুনিক বাজার কৌশল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কৃষক উৎপাদন খরচের সঙ্গে কোনোভাবে পুষিয়ে উঠতে না পারলে কৃষির প্রতি তাঁর আস্থা থাকবে না। বাধ্য হবেন অন্য পেশায় যেতে। এ ক্ষেত্রে অন্তত কয়েকটি কৃষিপণ্যের মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে কৃষক কখনোই লোকসানের শিকার না হন। ঙ. রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনার জায়গায় কৃষকের অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। চ. কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য একদিকে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, অন্যদিকে বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠান কৃষির বিভিন্ন উপকরণ বাণিজ্যে নেমেছে, তাদেরও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে। ছ. যেকোনো মূল্যে কৃষককে সংগঠিত করতে হবে। প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে একটি কৃষিভিত্তিক সংগঠন সবখানে গড়ে তুলতে না পারলে কৃষক কোনোভাবেই তাঁর অধিকার বাস্তবায়ন করতে পারবেন না।
বিজয়ের ৪০ বছর। এই সময়ের মধ্যে আশ্চর্য সহ্যক্ষমতা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি জাতি হিসেবে টিকে আছে বাঙালি। আজ এ দেশের প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ৬ শতাংশের হিসাব করছি আমরা, পৃথিবীর অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় আমাদের এই অর্জন অনেক বড়। আরো বড় অর্জনের কাছাকাছি আমরা। কিন্তু আমাদের এই কৃতিত্ব ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন সবার সম্মিলিত উদ্যোগ। একাত্তরে যেমন সব শ্রেণী-পেশার মানুষ সবার সবটুকু সাধ্য নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করে ছিনিয়ে এনেছিলেন স্বাধীনতার লাল সূর্য, আজও সবার সবটুকু শক্তি দিয়েই নিশ্চিত করতে হবে একটি সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। যেখানে জনসংখ্যার এই আধিক্য কোনো সংকট হয়ে দেখা দেবে না; বরং জনসংখ্যা পরিণত হবে জনশক্তিতে। আর নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থায় আমরা থাকব স্বয়ম্ভর।

চিরবিদায়

Now Reading
চিরবিদায়

পাখি ডাকা চির সজীব নবীন সুপ্রভাত,
সকলের ঘুম ভাঙ্গা কর্ম ব্যাস্ততার ভরেপুর দিবস,
আমায় দাও বিদায়।
মিষ্টি বিকেলে, মেঘলা আকাশে,
শেফালি ফুলের ‍সুঘ্রাণ আর তরুণ্যের উদ্যামতা
দাও আজ বিদায় আমায়।
কোকিল, শ্যামা, কাক, মাছরাঙ্গা,
শাকিল, বৌ কথা কউ পাখি সব,
করে যাও নানা সুরের কল কাকলী।
গোলাপ, বেলী, হাসনাহেনা,
মাধবীলতা, কামিনী, জুঁই,
গন্ধরাজ, জবা ‍সুবাসিত করে তোলে
ফের চারিদিক তব ভিন্নতার সুঘ্রাণে।
কবি, লেখক, বুদ্ধিজীবী, জ্ঞানী, পন্ডিত,
করে তোল নবরুপে সমাজ, দেশ ও জাতির উন্নতি।
কৃষক, শ্রমিক দনমজুর পথ শিশু যত
নবরুপে উদ্যাম নিয়ে জীবন সংগ্রামে এগিয়ে যাও সম্মুখপানে,
শিশু, কিশোর, তারুণ্যের সাত রঙ্গে রঞ্জিত করে তোল এই ধরাতল
রুগ্ন, অগ্রজ কিংবা প্রতিবন্ধী আছে যারা,
কারো না এতটুকু ভয়, হারিও না মনোবল,
তোমরাই করবে জয় একদিন তা সুনিশ্চয়।
যৌবনে আছ যারা, সময়কে রাংঙ্গিয়ে তোল
করে তোল আরো অধিক গতিশীল, সৃজনশীল
কাজে এগিয়ে যাও তীব্র গতিতে, গর্জে উঠে
ত্বরিত গতিতে এগিয়ে চলো সম্মুখে!

বৃষ্টি ভেজা, একাকী নিঃসঙ্গ ঐ চাঁদ
কখনও ডুকরে আর উঠো নাকো কেঁদে,
চেয়ে দেখ চারিদিকে অজস্র তারার ঝলকানি।
শুধু আমাকে ভুলে যাও,
এই চিরচেনা গোধূলী,এই বাংলার সবুজ
সজীবতা, বর্ণালী ঘাসফড়িং আর প্রজাপতি।
আর যে সময় নেই,
চেলে যেতে হবে তোমাদের ছেড়ে,
অন্ধকারের একলা এক ঘরে।
তবু জেনে রেখো ঐ জ্বলজ্বলে আকাশের উদিত
সবকটি তারা আর জোৎস্না মাখা আলোকে ঝরা চাঁদ
আমার চির নিঃস্বার্থ ভালবাসা আজও
আগেরই মত তোমাদের আছে ঘিরে।
সযত্নে গড়ে তোলা প্রিয় ফুল, ফল তরুলতা ভালো থেকো।
অনেক সুখে থেকো, বেঁচে থেকো আরও বেশি দিন
আমার যত আত্মীয়, অনাত্মীয় বন্ধু স্বজন।
আনন্দে মেতে থেকো আমার প্রাণ প্রিয় সখা আপনাকে নিয়ে,
অনাবিল আনন্দে ভরে উঠূক তোমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষণ।
হে আমার হৃদয় ছেঁড়া মানিক রতন,
জানটুস আর প্রাণটুস সোনামণি,
পৃথিবীর সমস্থ ‍সুখআর ঐশ্বর্য তখনও
পরিবেষ্টিত করে রাখুক তোমাদের সর্বক্ষণ,
আমি হাসি মুখে তোমাদের ভালোবাসাকেে
একমাত্র সম্বল করে নিয়ে যেতে চাই
আজ বিদায়।

আর যে সময় নেই, কত কথা বলব
ভেবেছি, কত গুছিয়ে রেখেছি বাহারি শব্দ চয়ন!
করেছি কত যে ভুল, করেছি কত কি আবদার,
রাগ আর অভিমান করেছি কত।
ক্ষমা করে দাও যদি পারো,
তবে অনুরোধ শুধু এতটুকুই
চিরতরে ভুলে যেও আমায়,
দেখ যেন মনের ভুলে, ভুল করেও মনে পড়েনা
একটিবার মোহেদী নামে বেউ একজন ছিল এতকাল।
যে তোমাদের অনেক ভালোবাসতো,
ভালোবাসতো নিঃস্বার্থে পৃথিবীর জাতি, ধর্ম, বর্ণ
নির্বিশেষে সকল মানুষকে প্রাণ দিয়ে।
ভালোবাসতো বর্ণালি সুজলা সুফলা এই
বাংলার মাঠ, নদী, ঘাস আর পাখির কলতান।
ভালোবাসতো স্রষ্টার প্রতিটি সৃষ্টির
ছোট বড় জীব আর যে ভালবাসা পেলনা বলে
বড় অভিমান করে বিদায় নিয়ে চলে গেল।
বন্ধু, আর যে বলতে পারিনা,
আর যে সইতে পারি না এই অনন্ত যন্ত্রণা।
করে দিও ক্ষমা করেচি যত ভুল
কষ্ট দিয়ে থাকি যদি কারো মনে,
জ্বালাতন করেছি, বায়না ধরেছি কেবল একান্তে আপন জেনেে
আমি আজ এই জীবনের সমস্ত ভুলের তরেে
আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তোমাদের ক্ষমাপ্রার্থী।

বন্ধু, যে বাসনা ছিল হৃদয় বাঁধনে,
সে কথা আজও রয়ে গেল বাকি
তা তবে বল শোনাই আর কারে?
বুক চিরে ভেতরটা দেখাই কোন সে জনতারে?
আর আমি বারংবার ডেকে ডেকে
তোমাদের ক্রোধের অনলে জ্বলবো না।
আর আমি ফিরে ফিরে চেয়ে চেয়ে তোমাদের পানে তাকাবো না।
আর কভু বিখারীর মত তোমাদের
দ্বারে দ্বারে ভালোবাসা পেতে কাঁদবোনা।
বন্ধুগো, করজোরে আছি দাঁড়িয়ে
করে দাও শুধু ক্ষমা,
এখনও এক বুক কষ্ট রেখেছি হৃদয় সিন্দুকে জমা।
স্বর্গীয় সুখ, সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক
তোমাদের নতুন জীবন,
এখন তবে যাই
আমাকে দাও বন্ধু চির বিদায়।

Depression

Now Reading
Depression

একলা থাকাটা কোনো অর্জন নয়।কেউ একলা থাকতে চায় না।যে একা কাটিয়ে দেয় পুরোটা বিকাল, একসময় সেও কিনা কারো জন্য বসে ছিল অপেক্ষায়। আর সম্ভব হয়নি সময়ের সাথে লড়াই করার। হার মানাটাই যেখানে উত্তম সেখানে অধমের মূল্য কেউ বুঝে না।একলা থাকাটা বিরক্তিকর হলেও জোর করে বলে দেয় ভালো আছি।হঠাৎ জন্ম নেয়া ভয়ে হারিয়ে যায় একটি প্রাণ।তবুও প্রার্থনা যদি তার ইচ্ছা ভুলে করেও বাস্তবতায় পা দেয়।মিথ্যা চিন্তাগুলো যদি সত্য হয়ে যায়,বাতাসে উড়ে চলা শব্দ যেন সত্যিকার অর্থে রূপ পায়।

“Depression” হবে কেন এই বয়সে? বাক্য গুলা শুনতে থাকা ব্যক্তিটি একটু হেসে আবার বসে রয়। সব কিছু বয়সের উপর ফেলে যুক্তি প্রদানকারী জানে না দুঃখ ও অভিজ্ঞতা বয়স বিবেচনা করে না। দুঃখ দিয়ে জোর করে ঠেলে দেয়া হয় কঠিন অভিজ্ঞতায় যা বহন করার জন্য সে প্রস্তুত নয় সে। ভুল হলে সংশোধন করা বেয়াদবি যে সমাজে সেখানে আমার লেখা নিষিদ্ধ হবে এটাই স্বাভাবিক। ‘ছোট মুখে বড় কথা’ যখন ব্যাসবাক্যে তখন বেয়াদব থেকে একটু হাসি ফোটানোকেই সার্থকতা ভেবে চলি।সুখের সন্ধানেই সুখ আসে না যদি সুখ একটি পাত্রে আটকে থাকে। সে পাত্রের সামান্য জল যার কাছে অমৃত, তার কাছে অন্য সুখ মৃত। যার কাছে আটকে আছে সব সুখ সেই তাকে শিখিয়ে দেয় একলা থাকা। অতিরিক্ত অপমানে জন্ম নেয় তোমাদের ভাষায় আরেকটি ” Lifeless” ব্যক্তি।

অপমানগুলোকে সমাধী দিয়ে আবার যেতে চাওয়া ব্যক্তি একলা জীবনে জীবন্ত লাশ হয়ে উঠে।কেউ আবার স্বাভাবিক থাকার চেষ্টায় মুখোশ পড়ে নেয়। সাধারণ মুখোশ নয়,একটি হাস্যজ্জ্বল প্রাণবন্ত ব্যক্তির মুখোশ।মুখোশের ওপারে লুকিয়ে থাকে শিকলের ছায়া পড়া চেহারাটি। স্বীকার করতে চায় না,দঃখ তার কাছে লজ্জার বস্তু হয়ে উঠে,তবে তার সাথে চলতে থাকা আরও মুখোশধারীকে সে দেখতে পায়না।সে আত্মকেন্দ্রীক নয়,ঝাপসা হয়ে উঠা চোখের আঁড়ালে পড়ে থাকে পৃথিবীর অর্ধেকটা।বাকি অর্ধেকটা দেখা হয়না Depression এ ভুগতে থাকা ব্যক্তিটি। প্রশ্ন উঠে,বড় বড় কথা বলা হল তবে এখন একটু সমাধান বের করে দেখাও।সম্ভব নয়,কিন্তু কিছু অভিজ্ঞতা লিখে গেলাম।

লিখে যাওয়া প্রতিটি শব্দ হলো এক একটি অভিজ্ঞতার বিন্দু জল। যে জল কেবল বেড়েই চলে।যখন সমুদ্র হয়ে উঠবে, বুঝতে হবে জীবনের দৌড় শেষ প্রায়। লোভনীয় বাক্যে আকৃষ্ট হয়ে নিজের সমস্যা তুলে ধরলেই সমাধান হয় না।যার সুখ যেখানে আটকে আছে সেই পারে তাকে প্রকৃত সুখ এনে দিতে। সেই পারে একলা চলা ব্যক্তির হাসি ফিরিয়ে দিতে।বলে লাভ নেই। সবার সৌভাগ্য হয় না। ধন্যবাদ আপনাকেও। হয়তো আপনিও কারো সুখের কারণ। হয়তোবা আপনিও লুকিয়ে রেখেছেন কারো সুখ নিজের কাছে।একদিন আপনিও তাকে ধাক্কা দিয়েও থাকতে পারেন বর্তমান অন্ধকার বিলাসী কোনো ব্যক্তিকে। মিথ্যা বলছি না। পাঁচটা মিনিট নিজেকে সময় দিলেই পেয়ে যাবেন উত্তরগুলো ও কিছু অংক। সমাধান করে নিলে হয়তো বেঁচে যাবে কারো প্রাণ “Depression” থেকে।বেঁচে থাকুক প্রতিটি জীবন “প্রকৃতপক্ষে”।

মুশফিকুর রহিম মিতু – একটি ভরসার নাম

Now Reading
মুশফিকুর রহিম মিতু – একটি ভরসার নাম

বাংলাদেশে তখন স্টেবল ব্যাটসম্যানের আকাল । শ্রীলংকার সাথে ২০০৩ বিশ্বকাপে ৫ রানে ৪ উইকেটের সুনামীর দাগ তখনও বেশ টাটকা । টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ৫ বছরে উন্নতির বদলে ক্রমাগত অবনতি হওয়াটা আইসিসির গলায় কাঁটা হয়ে বিধছিল কিছু ক্রিকেটবোদ্ধাদের সমালোচনায় । যেই দল টেস্টে কোনোরকমে ২০০ পার করতে পারলেই খুশি তাদের দিয়ে কি ঘোড়ার আন্ডা টেস্ট হবে ?! এক হাবিবুল কিছু খেলতেন আর আশরাফুল তো আশার ফুল হয়ে ৫-৬ ম্যাচ পর একটা ইনিংস হয়তো খেলতেন , তীর্থের কাকের মত চেয়ে থাকা বাংলাদেশী দর্শকদের হয়তো মাঝেমাঝে ২০০ পার হওয়া ইনিংস কিছুটা হলেও চোখ জুড়াত ।
সেই টালমাটাল ব্যাটিং লাইনআপে অনূর্ধ ১৯ দলে নাম করে আসা ১৬ বছরের এক কিশোরের হঠাৎ করেই অভিষেক , তাও তখনকার ইংল্যান্ডের মত দলের বিপক্ষে তাদের কন্ডিশনে যে দলে ট্রেসকোথিক , ভন , কলিংউড, ফ্লিনটফ , জাইলসরা খেলতেন । খুব বেশি ইমার্জিং কিছু করতে পারেননি । ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের সাথে টেস্টে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেন । টেস্ট সেঞ্চুরি প্রথম পান ২০১০ সালে ভারতের বিপক্ষে । প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পান ২০১১ তে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে । ক্যারিয়ারের প্রথম এবং বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেন শ্রীলংকার বিপক্ষে ২০১৩ সালে তাদেরই মাটিতে এবং সেটি ছিল এক্সাক্টলি ২০০ রানের ইনিংস ।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই পড়েছেন চ্যালেঞ্জের মধ্যে । হারতে প্রচন্ডরকম অপছন্দ করেন যেটা বিভিন্ন সময় তার সতীর্থদের কাছ থেকেই ড্রেসিংরুমের গল্প থেকে শোনা যায় । দলের সবচেয়ে বেশি পরিশ্রমী ক্রিকেটার , সেটা বিভিন্ন সময় কোচ থেকে শুরু করে সবাই বলেছেন । খুব বেশি ইমোশনাল হিসেবে পরিচিত ,যেটা তার ফেসবুক স্ট্যাটাস , সংবাদ সম্মেলনে অপরিপক্ব কথা থেকেই বুঝা গিয়েছে । সাকিব , তামিম , ম্যাশের মত হিউজ ফ্যান সাপোর্ট তার কখনই ছিল না । কিন্তু দলের অপরিহার্য সদস্য হিসেবে প্রমাণ নিজেকে তিনি বরাবরই করে এসেছিলেন । অনেকে তাকে ২০১৬ বিশ্বকাপে সেই ইম্যাচুরড খেলার জন্য মনে রাখে , হার্দিক পান্ডিয়ার মত প্লেয়ার তার বলে ছয় মারার এবিলিটি নেই বলে মুশিকে ব্যঙ্গ করে কিন্ত ওইসব দর্শকের মনে নেই যে মুশি ২০১২ এশিয়া কাপে কি করেছিল , ২০১৪ এশিয়া কাপে ভারতের সাথে কিভাবে একাই দলকে টানার চেষ্টা করেছিল ১১৭ রানের একটি ইনিংস খেলে , পান্ডিয়ার হয়তো মনে নেই কিভাবে ২০১২ সালে তারই এক অগ্রজকে ছক্কা মেরে মুশি ম্যাচটাকে শচীনময় হতে দেয়নি , যেজন্য আজও ভারতীয় শচীন ফ্যানরা হয়তো শচীনের সেই ১০০ তম ১০০ ইনিংসটির হাইলাইটসই শুধু দেখে , ম্যাচের পুরা অংশ দেখে না । ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের সাথে সবাই রিয়াদের সেঞ্চুরিটিই শুধু দেখে , মুশির ৮৯ রানের ইনিংস নিয়ে কথা বলা লোকের সংখ্যা খুব কম । অধিনায়কত্বের আগে তার টেস্ট গড় ছিল ২৭ কিন্তু অধিনায়কত্বের পরে টেস্ট গড় নিজেকে পাল্টে সেটাকে নিয়ে গেছেন ৪৩ এর ঘরে । পাকিস্তানের সাথে তামিমের সেঞ্চুরি , সৌম্যের অসাধারণ সেঞ্চুরির কথা সবাই বলে , কিন্তু ৬৯ বলে মুশির সেঞ্চুরির কথা কেউ বলে না ।
এমন অনেক ইনিংস মুশি খেলেছেন , যার জন্য তিনি কখনও সেভাবে আলোচনায় আসেননি যতটা এসেছেন তার কিপিং মিসের কারণে । হ্যা কিপিং এ তার দুর্বলতার কথা আমি নিজেও শিকার করি , যেভাবে এবছর ৪ টেস্টেই এবছর সে ৫১৫ রান করেছে নিজের প্রাইম টাইমের আগমন বার্তা দিয়েছে , তাতে কিপিংটা ছেড়ে দিয়ে ব্যাটিং এ বাড়তি মনযোগ দেওয়াই হয়তো শ্রেয় । কিন্তু তাকে বোঝানোর লোক যতবেশি তার চেয়ে সে বেশি ইমোশনাল এই লজিক ধরে ধমক দেওয়ার লোকের সংখ্যা তার চেয়ে বেশি বৈ কম নয় । আমার এক বন্ধু কিছুদিন আগে আমার সাথে বলছিল যে , মিরাজ সাকিবের চেয়ে টেকনিক্যালি সলিড ও বেটার ব্যাটসম্যান হবে । আমি তখন তার সাথে তর্ক করেছিলাম , কিন্তু এই লেখাটা লেখার সময় আমার মাথায় এল যে সেটা খুব ভালভাবেই সম্ভব ,কারণ মিরাজ বলেছে তার প্রিয় ব্যাটসম্যান হচ্ছে মুশি ভাই এবং সে তার ব্যাটিং ফলো করে ।
মুশি যে দলেও কতটা ভবিষ্যত পরিকল্পনার বাইরে সেটা কোচ হাতুরুসিংহেকে দিয়েই বুঝা যায় । তিনি দলে একজন কোহলি বানানোর জন্য সাব্বিরকে ওয়ানডাউনে খেলাতে পারেন কিন্তু সব সময়ই ৬-৭ এ খেলা , ৩১.২১ এভারেজে ৪ সেঞ্চুরি ২৩ টি হাফ সেঞ্চুরি , ১৬৮ টি ওডিয়াই ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুশি যে দলে রেডিমেড বসে আছে সেটা তার চোখে পড়ে না । মাঝে মাঝে ভাবি মুশি যদি ভারতীয় হত তাহলে কি হত ? এখানে প্যান্ট , কেদার যাদব , করুন নায়ারকে আমরাই অনেকে অসাধারণ বলছি অথচ আমাদের মুশি কতটা বেশি আন্ডাররেটেড ! কারণ মুশি ভারতীয় নন , তার গ্ল্যামার নেই , তার পাওয়ার হিটিং এবলিটি নেই । অথচ ভারতীয় হলে হয়তো শচীনের পর কোহলি নাকি মুশি এটা নিয়েই ভারতীয়রা দুইভাগ হয়ে যেত ।
দিনশেষে দৃষ্টিভঙ্গিই আসল বিষয় । আপনি মুশিকে ইমোশনাল হিসেবে আন্ডাররেটেড বলেই খতম আর আমি দেখি সেই ইমোশনের জন্যই সে দলকে বাচানোর জন্য শ্রীলংকার সাথে গুরুতর ইনজুরির পরও দাতে দাত চেপে লড়ে যায়

মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বিভক্তি, কিছু নতুন কথা

Now Reading
মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বিভক্তি, কিছু নতুন কথা

প্রথমত পহেলা বৈশাখ নিয়ে আমাদের মাঝে কোন প্রশ্ন থাকার কথা নয়। বাংলা ভাষাভাষীদের নতুন বছর। আর আমার মত গ্রাম বাংলা থেকে উঠে আসা ছেলেদের জন্য দিনটা কিছুটা স্মৃতিকাতর। আমাদের জন্য দিনটি হালখাতার টাকা পরিশোধ আর দোকানে দোকানে গিয়ে মিষ্টি খাবার দিন।
আসলেও তাই, ছোট বেলায় গ্রামে দোকানীর কিছু বাকী পাওনার একটা হিসাব তুলে পহেলা বৈশাখে তা পরিশোধের আহবান জানাতেন, আর তার দোকানে মিষ্টি খাবার আমন্ত্রণ জানাতেন।

দাদার হাতে সেই চিঠিটা কখনো কখনো হয়ত আমিই পৌছে দিতাম।
তারপর দাদা তোড়জোড় চালাতেন, দোকানির পাওনাটা পরিশোধ করার জন্য। বাবার কাছে, কাকার কাছে ফোন করে টাকা নিতেন। নতুন একজোড়া লুঙ্গি আর পুরাতন জুব্বাটা জামাল সাবান দিয়ে ধুয়ে মেজে পয়লা বৈশাখের সকালে দোকানিদের গিয়ে টাকা পরিশোধ করতেন। আর দাদার সাথে থাকার সুবাদে দোকানগুলোতে মিষ্টি একটু বেশীই পেতাম।

দিন পেরুলো, বাবা মা আমাকে নিয়ে টাউনে এলেন। টাউনের সেরা স্কুলটায় ভর্তি হলাম।জীবন চলতে লাগলো…সাদা কালো সেই জীবন। সেখানে আজকের মত ইন্টারনেট নেই, বিটিভির সাদা কালো স্ক্রিনে সাবানা জসীমের সিনেমা দেখে কেঁদে কেঁদে দিন পার হত, কিংবা স্কুল পালিয়ে ক্রিকেট খেলায় মত্ত থাকতাম সারাটাদিন।

তবে বছরের যেকটা দিন আমাদের জন্য রঙিন ছিল তার মধ্যে পয়লা বৈশাখ ছিল অন্যতম। তখন ইলিশে নিষেধাজ্ঞা ছিলনা। বাবা ইলিশ আনতেন, রান্না করে মা সকাল সকাল পান্তার সাথে ইলিশের মাথাটা পাতে দিতেন..

এই ইলিশের মাতাল করা সুঘ্রাণে আমার অতটা নজর ছিলনা, যতটা নজর ছিল বৈশাখী মেলায় আমাদের স্কুল আয়োজিত প্রোগ্রামকে ঘিরে।
বাঙালী জামাই বধুর প্রতীকী উপস্থাপনা,কৃষক, শ্রমিক, মজুর, গায়েন, সারেন, মাঝি, মল্লা, ঠেলা ওয়ালা ভ্যান ওয়ালা, নোলক পড়া কুমারী, যে পুকুর ঘাটে কলসি নিয়ে মাথায় ঘোমটা টেনে পানি আনতে যাবে, এরকম আরো কত ঐতিহ্যের ছবি তুলে ধরা হত আমাদের স্কুল থেকে।বিভিন্ন টিম করে ক্লাসের ছেলেদের নিয়ে যাওয়া হত র‍্যালিতে।কাউকে কৃষক সাজিয়ে, সুন্দরী মেয়েটাকে বধু সাজিয়ে, কিংবা আমাকে নৌকার মাঝি বানিয়ে আমাদের স্কুল থেকে বৈশাখী মেলার প্রাঙ্গন পর্যন্ত একটা র‍্যালি হত।

আমরা সেখানে অংশগ্রহণ করেছি..
উৎসবে আমেজে সময়গুলো।কেটেছে।বৈশাখ নিয়ে বৈশাখ উদযাপন নিয়ে কখনো অতি মাথা ব্যাথা ছিলনা আমাদের।

আমার পিছনের জীবনের গল্পটা বলার উদ্দেশ্য হলো, বৈশাখ নিয়ে একজন সাধারণ সচেতন ছাত্র হিসেবে আমার অবস্থান কেমন ছিল।
প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল কিংবা টাউন শহর গুলোতে বৈশাখের চিত্রটা কেমন ছিল সেটা দেখানো।

জীবনের ব্যাস্ততা বেড়েছে, রঙিন সভ্যতার মাঝে উৎসবের জীবনগুলো সাদাকালো।কখন ঈদ আসে কখন বৈশাখ আসে, কিংবা গ্রীষ্মের ছুটি কখন পেরিয়ে যায় খেয়াল করার সুযোগ ই থাকেনা।

কিন্তু বাংলার চিরন্তন ইতিহাস ঐতিহ্য, দেশের সংস্কৃতি নিয়ে যখন তর্ক বিতর্ক হয় তখন কিছু বলতে ইচ্ছে করে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়িয়ে। আজ Footprint Admin এর চার সপ্তাহ আগে “মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে কেন বিভক্তি “নামক লেখার শিরোনামটা চোখে পড়লো, পুরোটা পড়ে ফেললাম।

ভাবলাম কিছু চিন্তাচিহ্ন রেখে যাই।

আর সেখান থেকেই মঙ্গল শোভাযাত্র আর বৈশাখ নিয়ে কিছু লেখা।

প্রথমত,
কেউ যদি বলেন মঙ্গল শোভাযাত্রা হাজার বছরের বাঙালী সংস্কৃতির অংশ, তাহলে আমি বলবো আপনি ভুল জেনেছেন। মঙ্গল শোভাযাত্রা ৮০ এর দশকের শেষের দিকে হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ এর স্বৈরশাসন এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইইন্সটিটিউট এর কিছু হিন্দু ছাত্রদের প্রার্থনা। যাতে তৎকালীন সচেতন ছাত্ররাও সমর্থন জানায়।

কেননা এটা বাংলাদেশী সচেতন এবং সম্প্রীতি প্রেমী মানুষের চিরন্তন স্বভাব।
যেমন অনেকদিন বৃষ্টি না হলে বাংলাদেশে কিছু সম্প্রদয়ের মানুষ ব্যাঙের বিয়ে দিয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে বৃষ্টির জন্য..

অনেকে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে, হুজুর ডেকে দোয়া করান আল্লাহর কাছে..

আমরা তখন ধর্ম টেনে আনিনা..
বৃষ্টি চাই আমাদের, তাই সকলেই উৎসাহ নিয়ে এসব আচার গুলোকে দেখি…
মৌন সমর্থন জানাই।

মঙ্গল শোভাযাত্রার ব্যাপারেও কিছুটা এমন হয়েছিল। এখানে সেই হিন্দু ছাত্রগুলো কি আচার পালন করছে সেটা প্রাধান্য পায়নি হয়ত।

প্রাধান্য পেয়েছে এরশাদ সাহেবের বিরুদ্ধে একটা মৌন আন্দোলন।

তাই এটাকে তখন ঢাবির সচেতন ছাত্র মহল সমর্থন করেছিল।

পরবর্তীতে ৯০ এর দশকে মঙ্গল শোভাযাত্রার এই থিমটাকে মাথায় নিয়ে চারুকলার কিছু ঢাবিয়ান,
বৈশাখে আনন্দ শোভাযাত্রা চালু করে। আজকালকার মত হাতি ঘোড়ার প্রতীকী মূর্তির ছড়াছড়ি আর হাজারো লোকের সমাগম তখন ছিলনা।

ঢাবির ক্যাম্পাসের আশেপাশে চলতো এই মঙ্গল শোভাযাত্রা।

সুতরাং মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বাঙালী ঐতিহ্যের সাথে মিলিয়ে ফেলা এক প্রকার ভুল। আর আমার মতে মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের এই একুশ শতকের প্রথম দিকেও বর্ষবরণে ততটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলনা। যেটা সকলে অকোপটেই স্বীকার করবেন।

দ্বিতীয়ত,
আমি আলোচনা করতে চাই মঙ্গল শোভাযাত্রার বিস্তৃতি নিয়ে। বাংলাদেশে মিডিয়া গুলো যখন মঙ্গল শোভাযাত্রাকে হাইলাইট করা শুরু করলো তখন এটা আলাদা মাত্রায় একটা জনপ্রিয়তা পেল, ঢাকার কিছু মানুষের কাছে। আর এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে কেউ হয়ত আলপনা একেছে..
কেউ বানিয়েছে মূর্তি , কেউ মানিয়েছে দুর্গার বাহন পেচা, কেউ বানিয়েছে অশুর রাক্ষস আর হাতি,
কেউ বানিয়েছে উলঙ্গ বক্ষের নারীর প্রতিমা।এরপর কবে থেকে যেন আনন্দ শোভাযাত্রা চলে গেল..

এরশাদ বিরোধী মঙ্গল প্রার্থনার সেই মঙ্গল এসে লাগলো আনন্দ শোভাযাত্রায়

আপত্তি তৈরি হতে থাকলো বিভিন্ন মহলে। তবু চলতে থাকলো।

তৃতীয়ত,
আমি বলবো, মঙ্গল শোভাযাত্রা ও পহেলা বৈশাখের মানুষের চিন্তাধারা ও প্রভাব নিয়ে।

আপাত দৃষ্টিতে বাঙালী সংস্কৃতি আর বৈশাখ বলতে আমরা যা বুঝি তার অনেকটাই অনুপস্থিত দেখা যায় মঙ্গল শোভাযাত্রায়। তবুও মিডিয়া কাভারেজে পয়লা বৈশাখ এলেই ঘন্টাখানেক ধরে এই মঙ্গল শোভাযাত্রার লাইভ কাভারেজ চলে।
মানুষ মঙ্গল শোভাযাত্রাকেও বৈশাখের একটা উপাদান ভাবতে শুরু করে। যদিও এটাকে একটা উৎসব হিসেবেই নেয়া হয়েছে তখন।
কিন্তু বাঙালী সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের অঙ্গ এটা ছিলনা কখনোই।

ইংরেজি বর্ষবরণের যেই রঙিন আয়োজন, সেই রঙিন আয়োজন, আর একটা ফেস্টিভ ফেস্টিভ মুড আনার জন্যই এই মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রভুত মঙ্গল একটা ধারণা।

ক্রমাগত পহেলা বৈশাখ আর মঙ্গল শোভাযাত্রা কেন জানো নিবিড়ভাবেই সম্পর্কযুক্ত হলো।

তাই ঢাকার আশেপাশের মানুষের কাছে মঙ্গল শোভাযাত্রা একটা অনুসঙ্গ হিসেবে পরিণত হলো।

কিন্তু সেই প্রত্যন্ত অঞ্জলে কিন্ত হালখাতা, মিষ্টি, পান্তা,মরিচ, ইলিশ সব অপরিবর্ততই ছিল।

তবু নতুন উৎসবের অনুসঙ্গ। খারাপ কি, একটা দিনে মঙ্গল শোভাযাত্রার এই উৎসব আমেজটা?

চতুর্থত,
আমি লিখবো মঙ্গল শোভাযাত্রা, আপত্তি ও বিতর্ক নিয়ে।

এক ক্লাসমেট (মেয়ে) পয়লা বৈশাখে আমাকে ফোন দিল..
বললাম কিরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় যাবিনা?
ও রিপ্লে দিলো.. না.. তবে ওখানে যাওয়াটা অনেক সাহসের ব্যাপার।
বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম কেনরে?

বললো, ক্লাস টেনে একবার ভাইয়ের সাথে গিয়েছিলাম দেখতে। অনেক বীভৎস আর বিশ্রী আচরণ দেখলাম।
আমি অনেক ভয় পেয়ে চলে এসেছি ভাইকে নিয়ে, আর যাওয়া হয়নি।

মেয়েটা বীভৎস আর বিশ্রী বলতে কি বুঝালো তা হয়ত বুঝেই গেছেন।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় নিজের বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরতে থাকা কিছু নারীর শ্লীলতাহানি হয়েছে হাজারো মানুষের সামনে।বার বার টিভি ফুটেযে এমন নোংরামি আর বর্বরতা কেউ ই সহ্য করতে পারেনি..
.
এগুলোতো ক্যামেরার সামনে..
মঙ্গল শোভাযাত্রার মুখোশের আড়ালে কত নারীর কত তিক্ত অভিজ্ঞতার ফিরিস্তি তা নাহয় নাই বললাম।

এসব ঘটনায় জাতি হতবাক। উৎসবের নামে বড় বড় প্রতীকি মূর্তির আড়ালে কিছু নারী যেন আজো অবলা। চোখে কান্না আসার আগেই যেন মাথাটা ঘুরে পড়ে যাবার উপক্রম।

চলেছে অনেক তর্ক বিতর্ক। বিচার হয়েছি কি হয় নি জাতি না জানলেও,
জাতিকে কিছু মিডিয়া বুঝাতে চেয়েছে, সব অপকর্মের মত এটাও জামাত শিবিরই ঘটিয়েছে”

জাতিও বুঝতে পেরেছে ঘোলা পানির জল আমাদের ও গেলানো হচ্ছে।

মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে এসব নারকীয় ঘটনা ঘটার পর, এর আয়োজকরা বুঝেছিলেন
আগামী শোভাযাত্রায় কিছুটা হলেও ভাটা আসতে পারে। তাই এটাকে জাতীয়করণ করার একটা প্রসেস হাতে নেয়া হলো..

হঠাৎ ঘোষণা আসলো,
বাধ্যতামূলক মঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করতে হবে স্কুল গুলোতে।

দুটি দল সৃষ্টি হলো..
একদল চায়

আরেক দল চায়না।

তবে আমার দৃষ্টি অন্যদিকে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় হিন্দুয়ানী প্রভাব ঢের বেশী এটা যেমন মানতে হয়, তেমনি মানতে হয় বাঙালী সংস্কৃতি উপস্থাপনের কৃপনতা। এছাড়াও ব্যাপারটি বেশ বিতর্কিত হয়েছে নানা কারণে। জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে কিছু মঙ্গল অমঙ্গলের মুখোশ।

এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে? কি হবেনা এটা নিয়ে?

কিন্ত সেখানে এরকম একটি শোভাযাত্রাকে বাধ্যতামূলক করার কি কারণ থাকতে পারে?

সকালে পান্তা ইলিশ খেতে কেউ আমাদের বাধ্য করেনি, হালখাতা করতে কেউ আমাদের বাধ্য করেনি, পাঞ্জাবি পড়ে বাঙালীয়ানা দেখাতে কেউ আমাদের বাধ্য করেনি,
বৈশাখী মেলায় মুড়ি , মুড়কি, মন্ডা, মিঠাই খেতে কেউ আমায় বাধ্য করেনি..
দলবেঁধে সার্কাস দেখতে কেউ আমায় বাধ্য করেনি..

কিন্তু মঙ্গল শোভাযাত্রা যদি এদেশের বাঙালীদের সংস্কৃতির অনুসঙ্গই হয়,
তবে সেটাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে কেন?

হ্যাঁ,প্রশ্নটা এখানেই। আর উত্তরটাও এখানেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।
সহজ কথায় চারুকলা ইন্সটিটিউট এর কিছু ছাত্রের মঙ্গল কামনাকে জাতির মাঝে চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

আর সংস্কৃতি চাপিয়ে দেবার জিনিস নয়। গেলানো ভাত হযম হয় না।
তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা। গত বছর গুলোর তুলনায় এবার অর্ধেক মানুষ ও মঙ্গল শোভাযাত্রায় আসেনি। একাত্তরের রিপোর্টার স্বয়ং দুঃখ প্রকাশ করেছেন এটা নিয়ে। পুলিশের কড়া বেষ্টনীর মাঝে, নির্দিষ্ট এলাকায় বন্দী হয়ে উৎসব হয়না এটা সবাই বুঝে গেছে।

আমি ধর্ম টানলাম না।

শেষদিকে আমার এতটুকু মত প্রকাশের ইচ্ছা,
আর তা হল, এদেশের নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে।
মঙ্গল শোভাযাত্রা বৈশাখের অপরিহার্য কোন অনুসঙ্গ না এটাও সবাই জানে।এরপরেও
কেউ যদি চায় মঙ্গল শোভাযাত্রা করবে.. সে করুক

কেউ যদি চায় যাবেনা, সে না যাক তার স্বাধীনতা রয়েছে।

কেউ যদি চায় মঙ্গল শোভাযাত্রার পক্ষ নিতে নিক,
কেউ যদি চায় মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরুদ্ধে বলতে বলুক..

তবে আমি চাই..

যা কিছুই হোক,
*মঙ্গল শোভাযাত্রার নামে আমার বোনের যেন শ্লীলতা হানি না হয়।
*আমার বোনের শ্লীলতাহানির যেন বিচার হয়
*সংস্কৃতি ও তার অনুসঙ্গ গ্রহণ বর্জনের সুযোগ থাকুক এদেশের ১৬ কোটি জনতার উপর।চাপিয়ে দেয়া না হোক কোন আচার,অনুষ্ঠান বা অনুসঙ্গ
*পয়লা বৈশাখ চলুক, উদযাপন হোক।কারো উদযাপন রঙিন হোক,
কারোরটা হোক আরো রঙিন।
তবে অশুভ কালো ছায়া, বা মঙ্গল যাত্রা কোনটাই যেন বাঁধা না হয়ে দাঁড়ায়..এই কামনায় সমাপ্তি টানলাম।

আক্রান্ত হয়েছে ৮৫ মিলিয়ন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী

Now Reading
আক্রান্ত হয়েছে ৮৫ মিলিয়ন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী

গত বছর সারা বিশ্বে  HummingBad নামের একটি অ্যান্ড্রয়েড নির্ভর ম্যালওয়্যার ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। যেটি বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮৫ মিলিয়ন অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসকে আক্রান্ত করেছে।  ৪৬ টি এপ্লিকেশনের মধ্যে এই ভাইরাসটি পাওয়া যায়, যার মধ্যে ২০ টি এপ্লিকেশন এমন ভাবে তৈরী করা হয়েছে যাতে করে  সেটি অনায়াসে গুগল সিকিউরিটি চেক প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে পারে। এ যাবত কালের সকল অ্যান্ড্রয়েড ম্যালওয়্যার ভাইসার গুলোর মধ্যে HummingBad এক মাত্র ভাইরাস যার দ্বারা এত বিশাল পরিমাণ অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস আক্রান্ত হয়েছে।

সব থেকে মজার ব্যাপার হলো এই ভাইরাসটি তেমন বড় ধরনের ক্ষতি বা তথ্য চুরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো না। এটি ব্যবহার করা হতো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে বিভিন্ন অনাকাক্ষিত অ্যাপ ডাউনলোড করে ইন্সটল করা এবং অ্যাড বসিয়ে তা থেকে ইনকাম করার কাজে। যার ফলসরূপ এই HummingBad এর নির্মাতা এটি থেকে প্রতি মাসে ইনকাম করেছেন প্রায় ৩ লক্ষ ডলার।

সর্বপ্রথম এই ভাইরাসটি সনাক্ত হয় ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে।

২০১৬ সালের একটি চেকপয়েন্ট রিপোর্টে দেখা গেছে Yingmob নামের একটি চীনা বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান এই ভাইরাস তৈরীর ক্ষেত্রে অন্তরালে প্রধান পৃষ্টপোষক হিসেবে কাজ করে। চেকপয়েন্ট রিপোর্টে থেকে আরো জানা যায় যে এই HummingBad নামক ভাইরাসটি প্রায় ২০০ টা অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে এই ভাইরাস জুরে দিয়ে এর নির্মাতা প্রতিমাসে ৩ লক্ষ ডলার আয় করতেন।

HummingBad এর নতুন সংস্করনঃ-

সম্প্রতি অনুসন্ধানকারীরা দাবী করছেন আরো ২০ টি অ্যাপ্লিকেশনে তারা এই HummingBad এর নতুন সংস্করন খুজে পেয়েছেন। যার নাম দেয়া হয়েছে HummingWhale। এটির কাজও ঠিক আগের মতোই। প্রথমত এটি ব্যবহার কারীকে অনাকাক্ষিত এড প্রদর্শন করবে তারপর ব্যবহারকারি যদি সেটি বন্ধ করার জন্য সরিয়ে দেন তারপরও সেটি মোবাইলের ব্যাকগ্রাউন্ডে বিনা অনুমতিতে বিজ্ঞাপনদাতা কম্পানির অ্যাপ ইন্সটল করে দিবে। আর এই Pay-per-install Affiliate প্রোগ্রামের এর মাধ্যমে ভাইরাস নির্মাতা লক্ষ লক্ষ ডলার ইনকাম করে যাবে। ব্যাপার কি দারুন তাই না ?

HummingWhale এর আরেকটি  চমৎকার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেটি হলো এটি আক্রান্ত ডিভাইসের গুগল প্লে স্টোরে ইউজারের মেইল একাউন্ট ব্যবহার করে অন্যান্য আক্রান্ত এপ্লিকেশনে রিভিওস এবং রেটিং টিউন করে রিভিনিউ বাড়াতে সহায়তা করে।