দেশীয় ব্যান্ড সংগীতের একাল-সেকাল

Now Reading
দেশীয় ব্যান্ড সংগীতের একাল-সেকাল

Lightining1.jpg

বাংলাদেশের ব্যান্ড বা বাংলাদেশী ব্যান্ড বলতে বাংলাদেশে প্রচলিত রক ঘরনার সঙ্গীত ব্যান্ড বোঝায়। উনিশ শতকের ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তানে বাংলা ব্যান্ডের সূচনা ঘটে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে ৭০ ও ৮০’র দশকে বাংলাদেশে রক ঘরনার ব্যান্ডের বিস্তৃতি ঘটে।

ইতিহাস

পূর্ব পাকিস্তান আমল

ব্রিটিশ আমল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন হোটেল ও নবাব পরিবারের আমন্ত্রণে ব্রিটিশ ব্যান্ড ও সঙ্গীত তারকাদের ঢাকায় গান পরিবেশনের খবর পাওয়া যায়। পাক-ভারত বিভক্তির পরে ১৯৬৩ সালের ১৮ মার্চ ঢাকার সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুলের এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথম ব্যান্ড ধাঁচের গানের খবর পাওয়া যায়। সেই অনুষ্ঠানে ১৭ বছর বয়সী কিশোর টেলফার জনসন গিটার বাজার আর ক্লিফ রিচার্ডের গান পরিবেশন করেন। একই স্কুলের নবম শ্রেণীতে পড়ূয়া ফজলে রব, আলমগীর [পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জনপ্রিয় গায়ক], রফিক ও সাব্বির ব্যান্ড দল গঠন করেন। বলা হয়, তাদের হাতেই জন্ম নেয় বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড আইওলাইটস।  হোটেল শাহবাগ ও ঢাকা ক্লাবে নিয়মিত পারফর্ম করে ব্যান্ড দলটি। ১৯৬৫ সালে প্রথম ব্যান্ড হিসেবে টিভিতেও পারফর্ম করে ব্যান্ডটি। আইওলাইটসের সমকালীন আরেকটি ব্যান্ডের জন্ম চট্টগ্রামে। নাম জিংগা শিল্পগোষ্ঠী । সঙ্গীতবোদ্ধা ও ইতিহাস রচয়িতাদের মতে ‘জিংগা’ একটি পারিবারিক ঘরানার ব্যান্ড। কারও কারও মতে, এটি বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড। এমনকি ইন্টারনেট ও কোনো কোনো ইতিহাস রচয়িতাও জিংগাকে এ দেশের প্রথম ব্যান্ড বলে থাকেন। তবে জিংগাকে দেশের প্রথম ব্যান্ড বলার বিশেষ কোনো তথ্য-প্রমাণ মেলে না। এ দলের গায়ক ওমর খালেদ রুমী পরবর্তীকালে আরেকটি ব্যান্ডের হয়ে বাংলায় গান করা শুরু করেন। সে বিচারে বলা যায়, তিনিই প্রথম বাংলা গানের ব্যান্ডশিল্পী। জিংগার পর চট্টগ্রামে জন্ম নেয় আরেক ব্যান্ড লাইটনিংস। ১৯৬৭ সালে ফরিদ রশীদ, নিওম্যান্ডেজ, নোয়েল ও শাকিল গড়ে তোলেন লাইটনিংস ব্যান্ডটি। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাহমুদ, তোতা, চিত্রনায়ক জাফর ইকবাল ও ফারুক মিলে ব্যান্ড গঠন করেন র‌্যাম্বলিং স্টেনস। দুটি ব্যান্ডই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। একই বছরে গঠিত হয় উইন্ডি সাইট অব কেয়ার ব্যান্ড। ১৯৬৮ সালে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে আইওলাইটস, উইন্ডিসাইট অব কেয়ার, র‌্যাম্বলিং স্টোনস ও লাইটনিংস একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড নির্বাচিত হয় উইন্ডি সাইট অব কেয়ার। এ ব্যান্ডগুলোর পাশাপাশি ১৯৬৬ সালে নারায়ণগঞ্জে জন্ম নেওয়া ‘বকলম’ ব্যান্ডটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠা পায় ফায়ার অ্যান্ড আইস ব্যান্ডটি। ১৯৬৯ সালে প্রথম ভাঙনের কবলে পড়ে র‌্যাম্বলিং স্টোনস। এ ব্যান্ডের সদস্যরা আলাদা হয়ে গিয়ে তৈরি করে নতুন ব্যান্ড ‘টাইম গো মোশন’। এরপরই দেশের প্রথম ব্যান্ড আইওলাইটসের ভাঙন ধরে। ড্রামার সাব্বির এবং রিদম গিটারিস্ট রফিক ব্যান্ড ছেড়ে দেওয়ায় এটি ভেঙে যায়।

 

বাংলাদেশ আমল

স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আগলি ফেসেস ও আন্ডার গ্রাউন্ড পিস লাভারস নামের দুটি ব্যান্ড। বিতর্ক আছে স্বাধীনতার পর জন্ম নেওয়া প্রথম ব্যান্ড নিয়ে। কারও কারও মতে, ‘আন্ডার গ্রাউন্ড পিস লাভারস’ স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম ব্যান্ড। দেশের প্রথম ব্যান্ড বিতর্কের পর, স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম ব্যান্ড বিতর্কের এ ব্যান্ডটির উদ্যোক্তা ওমর খালেদ রুমী। ব্যান্ডে তার সঙ্গী ছিলেন সালাউদ্দিন, সাজ্জাদসহ আরও বেশ ক’জন। অধিকসংখ্যকের মতের ভিত্তিতে আগলি ফেসেস ব্যান্ডকেই প্রথম ব্যান্ড ধরা হয়েছে। এটি গঠন করেছিলেন ল্যারী, সাকী, কামাল ও রেজা নামের চার তরুণ। স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম ব্যান্ডের স্বীকৃতি না পেলেও প্রথম কনসার্ট আয়োজন করে আন্ডার গ্রাউন্ড পিস লাভারস। ১৯৭২ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে ব্যান্ডটি প্রথম টিকিট কনসার্ট করে। ১৯৭২-৭৩ সালের আগ পর্যন্ত ব্যান্ডগুলো ইংরেজি গান পরিবেশন করত। বাংলা গানে আগ্রহী হয়ে ফেরদৌস ওয়াহিদ ও ফিরোজ সাঁইসহ কয়েকজন বন্ধু মিলে গঠন করেন ‘স্পন্দন’ নামের একটি ব্যান্ড। ব্যান্ডের ‘এমন একটা মা দে না’ গানের সুবাদে তুমুল জনপ্রিয় হয় ব্যান্ডটি। এ সময় উচ্চারণ ব্যান্ড নিয়ে আবির্ভাব ঘটে পরবর্তীকালের গুরু খেতাব পাওয়া শিল্পী আজম খানের। ‘ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী’ নিয়ে আসেন ফকির আলমগীর। ১৯৭৩-৭৪ সালে ফেরদৌস ওয়াহিদের গানের পাশাপাশি আজম খানের ‘রেলাইনের ঐ বস্তিতে’, ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, ‘আলাল ও দুলাল’; ফিরোজ সাঁইর ‘ইশকুল খুইলাছে রে মওলা’ এবং ফকির আলমগীরের ‘ও সখিনা’ গানগুলো সারা বাংলায় আলোড়ন তোলে। পরবর্তীকালে এ চার শিল্পীর সঙ্গে পিলু মমতাজ যোগ দেন এবং পাঁচপীর নাম নিয়ে উচ্চারণ ব্যান্ডের সঙ্গে তারা পারফর্ম করতে থাকেন। কিন্তু পঞ্চশিল্পীর কাউকেই ব্যান্ড নিয়ে খুব বেশিদূর এগিয়ে যেতে দেখা যায়নি। এককভাবে পরিচিতি গড়তেই তাদের আগ্রহী দেখা গেছে। এরপরে আগমন ঘটে পপ রক ব্যান্ডগুলোর। সোলস [১৯৭৩], ফিডব্যাক টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি [১৯৭৬], বালার্ক [১৯৭৬], অ্যাবনরমাল থ্রি প্লাস [১৯৭৬], মাইলস [১৯৭৯]-এর মতো ব্যান্ডগুলো বাংলা গানে পাশ্চাত্যের ছোঁয়া নতুন রূপরেখা তৈরি করে। ১৯৭২ সালের সুরেলা সঙ্গীত দল বিবর্তিত হয়ে গঠন করা সোলস বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘায়ু ব্যান্ড। মন শুধু মন ছুঁয়েছে, আগের জনম, এ এমন পরিচয়, কেন এই নিঃসঙ্গতা, চায়ের কাপে পরিচয় ইত্যাদি অসংখ্য জনপ্রিয় গান এ ব্যান্ডকে আজও সজীব রেখেছে। আশির দশকে বালর্ক ছেড়ে হ্যাপী আখন্দ, ইমতিয়াক, কামাল, ল্যারীর প্রতিষ্ঠা করা ব্যান্ড মাইলসে যোগ দেন হামিন ও শাফিন আহমেদের মতো সেকাল-একালের জনপ্রিয় শিল্পীদ্বয়। এ সময়ে মানাম, জুয়েল ও তূর্যকে সাথী করে হামিন ও শাফিন রচনা করেছেন জনপ্রিয় তার নতুন ইতিহাস। ফিরিয়ে দাও, চাঁদ তারা সূর্য, জ্বালা জ্বালা, কি জাদু, ধিকি ধিকি আগুন জ্বলেসহ অজস্র জনপ্রিয় গানে সমৃদ্ধ ব্যান্ড মাইলস। ১৯৭৬ সালের ‘ফিডব্যাক টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি’ কালের হাওয়া রূপান্তরিত হয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ফিডব্যাক’-এ। মেলা, মৌসুমী, চিঠি, পালকী, দেহঘড়ির মতো আকাশচুম্বী জনপ্রিয় গান নিয়ে দীর্ঘ পথ মাড়িয়েছে ফিডব্যাক। ১৯৮৪ সালে মেটাল গান নিয়ে শ্রোতার মধ্যে আসে ওয়েভস। কিন্তু একই সময়ে স্কুলপড়ূয়া সঞ্জয়, বাবনা, টিপু, রাসেল, কমলের মতো জন্ম নেওয়া ব্যান্ড ‘ওয়ারফেইজ’ সময়ের ব্যবধানে হয়ে ওঠে সবচেয়ে জনপ্রিয় হেভি মেটাল ব্যান্ড। অবাক ভালোবাসা, জীবনধারা, একটি ছেলে, সময়, অসামাজিকসহ অসংখ্য জনপ্রিয় মেটাল ও হার্ডরক গানের স্রষ্টা ওয়ারফেইজ।

 

বর্তমান সময়

এ সময়েই উইনিং, অবসকিওর প্রমিথিউস, ফিলিংস, আর্ক, চাইম, ডিফরেন্ট টাচ, সিম্ফনি, তির্যক, পেপার রাইস, এলআরবি, বাংলা, দলছুট, রেনেসাঁ, দ্য কিট, অরবিট, ফেইথ, রকস্ট্রাটা, ইন ঢাকা, সাডেন ও নোভার মতো জনপ্রিয় ব্যান্ডগুলোর জন্ম। নব্বই দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবি সেই তুমি, রূপালি গিটার, সাড়ে তিন হাত মাটি, ফেরারি মন, এখন অনেক রাতসহ অজস্র গান নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। অন্যদিকে ফিলিংস [পরবর্তীকালে নগরবাউল] ব্যান্ড পথ, জেল থেকে বলছি, তারায় তারায়, যাত্রা, দুষ্টু ছেলের দল, বিজলী ইত্যাদি গান নিয়ে দর্শক মাতিয়েছে। আর্ক_ একাকী, সুইটি , প্রেম তুমি; দলছুট_ বাজি, তোমাকেই বলে দেব, ফিরে পেতে চাই; উইনিং_ সোনার মেয়ে, ইচ্ছে করেসহ আরও অনেক গান নিয়ে শ্রোতার মনোযোগ কাড়ে।

 

 

সমাজ আমাদের কী? দিচ্ছে!!! আমরা সমাজকে কী? দিচ্ছি!!!!…

Now Reading
সমাজ আমাদের কী? দিচ্ছে!!! আমরা সমাজকে কী? দিচ্ছি!!!!…

আমরা প্রতিনিয়ত যা দেখছি, যা শুনছি এবং যাবতীর যা কিছুর মুখোমুখি হচ্ছি সব কিছু থেকে আমাদের শেখার আছে বা আমরা শিাখছি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা বা আমি যা প্রত্যক্ষ করছি তা তুলে ধরার চেষ্ট করলাম দয়া করে নেগেটিভ ভাবে নিবেন না:

১. আমার নামাজে মনোযোগ নেই কারণ আমার ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে।

২. আমার পড়ালেখা করতে ইচ্ছা করে না কারণ প্রশ্নফাস দেখতে দেখতে আমি অতিষ্ট হয়ে গেছি।

৩. আমি নেতা হলে অবশ্যই মানুষের ক্ষতি করতাম তা না হলে আমি পত্রিকায়  ঢালাও ভাবে আসতে  পারতাম না। যেমন হাওড় এলাকার  দুর্গতি । এসব আমি সমাজ থেকে শিখছি।

৪. আমি মেয়ে হলে ধর্ষিত হতাম তবুও মা-বাবার কথায় বিয়ে করতাম না, বরং মা-বাবার নামে মামলা করতাম। তাহলে আমি আন্তর্জাতিক ভাবে সংবর্ধনা পেতাম। এসব আমি সমাজে হতে দেখছি।

৫. আমি কোটিপতি স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ছেলে হলে সুযোগ পেলেই অসহায় নারীদের ধর্ষন করতাম। কিছু টাকা পয়সা গেলেও মা-বাবা আমাকে কিছুই বলতনা। কারণ আমি দেখছিতো চোখের সামনে।

৬. আমি নেতা হলে আমার জেল হলেও কিছু হতোনা কারণ আমি অসুস্থতার কথা বলে হাসপাতালে ভি. আই. পি. কেবিনে বসে রাজনীতি করতাম। এসব আমি সমাজ থেকে শিখছি।

৭. আমি র‌্যাব হলে কখনোই মদের বোতল খুজে পেতাম না কিন্তু শুল্ক গোয়েন্দা হলে পেতাম কার তাহাতে আমার কমিশন আছে।  এসব আমি সমাজে হতে দেখছি।

৮. আমি রাস্তা দিয়ে হাটলে গরিব, ফকির ও অসহায়দের দেখলে  দূরে সরে যাই কারণ আমি ছোট থেকে দেখে আসছি বড়রা  সেটাই করে।  এসব আমি সমাজ থেকে শিখছি।

৯. আমাকে একটা বা একাধিক রিলেশন করতে হবে নইতো আমি বোকা আর আনস্মার্ট থেকে যাব। কারণ সবাই এটা ভাবে।

১০. রাস্তায় চলাচলের সময় পাশ দিয়ে বিপরীত লিঙ্গের কেহ হেটে গেলে আমাকে তাকাতে হবে এবং আমার এলাকা হলে বিরক্ত করতে হবে। কারণ সবাই এটা করে আর এটা আমাকে সমাজ শিখিয়েছে । আমি ওটা না করলে আমি পুরুষ নয়।

১১. পুলিশ হলে আমাকে অবশ্যই ঘুষ নিতে হবে নয়তো আমি পুলিশ নামে কলঙ্ক। এমন কি আমার পরিচিত সবাই মুখের উপরেই বলবে।

১২. আমার চাকুরির বিষয় কল্পনা করা সম্পূর্ণ নিষেধ। যদি আমার ঘুষ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকে।

১৩. আপনি এস. এস. সি পাশ করলেই আপনার পুলিশে চাকুরী কনফর্ম। কিন্তু শর্ত হলো আমনার বাবার অবশ্যই কয়েক শতক জমি থাকতে হবে এবং তাহা বেচে ৮-১০ লাখ টাকা জোগাড় করে রাখতে হবে।

১৪. বাসে চলার সময় আমি সিটে বসা থাকলে কখনোই উঠবো না যদি আমার পাশে ৭০ বছরের কেহ দাড়ানো থাকে।  কারন আমাকে তো কেহ উঠে দাড়ানোর শিক্ষা দেয়নি। আর কেহ তো এটা করে না তাহলে আমি কেন। দোষটা আমার না সমাজেরা।

১৫. আমি কোন রকম নেতা হলেই রাস্তা ঘাটে রিক্সা চালকেদের কষে থাপ্পড় দিতাম। সামান্য কারণ বা অকারণে । আমি এটা গত রাত্রেও দেখেছি এবং শিখেছি। এটা আমাকে কে শিক্ষা দিল। এটা শেখানোর দায়িত্ব কি মা-বাবার না সমাজের মানুষের।

১৬. আমাকে নেতা হতে হলে অবশ্যই আমাকে নেশা করতে হবে। আমাকে তো একজন নেতা বললোই নেশা না করলে কিসের বালের নেতা যে নেশা করে না সে রাজনীতি বুঝেনা। প্রতিষ্ঠিত হতে হলে আমাকে তাদের সঙ্গ দিতে হবে। নয়তো দু-পায়ে দাড়ানো যাবে না। এমনকি পা ভেঙ্গেও দিতে পারে। সমাজ আমাকে নেশা করতে বাধ্য করতে চাইছে।

১৭. আমি প্রতিদিন খাবার ৩০% নষ্ট করবো। কিন্তু যে ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে খায় তাকে দিবোনা। কেহ তো দেয় না। আমি দিতে গেলে সবাই আমাকে পাগল বলবো। তাহলে আমার কী করা উচিত!!!

১৮. সবাই বলে গাজা খাইলে নাকি অন্তর চক্ষু খোলে, বুদ্ধি বাড়ে। তার মানে আমি এখনো অন্ধ এবং  বোকা, সমাজ তো তাই বলে। আমার কি করা উচিত।

১৯. আমি ছেলে হই বা মেয়ে হই উলঙ্গ হতে পারলেই আমি স্টার। আর এটা ঢালাই ভাবে প্রচার করলে আমি পর্ণস্টার।  সেইরকম দাম। হিরো আলম বা সানি লিওন দুটির যে কোনটিই  চলবে। কারণ সমাজ তো এদের কে দাম দেয়। আমি প্রতিনিয়ত সমাজ থেকে এগুলোই শিখছি।

২০. আমি মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও ভয় পায়, আমার ঈমান দুর্বল, এমনকি আমি দাড়ি রাখতেও ভয় পায়। কারণ দাড়ি রাখলে আপনার প্রশাসনের চোখে পড়ার সম্ভাবনা বেশি। আর একবার ধরা পড়লে ফাঁকা কোন বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে স্যুটিং শুরু হবে। ভয়ে কিছু একটা করলে জঙ্গি হয়ে যাব। এক অদ্ভুদ নিয়ম শিখলাম সমাজ থেকে।

২১. আমি হস্তমৌথুন করতে বাধ্য হয় কারণ এটা আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। আমি ছোটবেলা থেকে বয়সে বড় বন্ধুদের কাছ থেকে এগুলোর ট্রেনিং পেয়েছি কেহ তো বাধা দেয়নি। পরিবার তো আমাকে কু-কর্মে লিপ্ত হওয়া  শেখাই নি। তাহলে কোথা থেকে শিখলাম আমি অশালীনতা। নিশ্চয় পরিবেশ বা সমাজ থেকে।

২২. বিয়ের পরে মা-বাবাকে ফেলে আমাকে আলাদা সংসার তৈরি করতে হবে এবং এর যথেষ্ট স্বীকৃতি এবং সম্মান রয়েছে। এর কারনে মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে পারলেও সমস্যা নেই, তাহলে আমি আরো সংসারী এবং আরো ব্যাক্তিত্তবান। যারা বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তারা তো এগুলোই করছে। সমাজে তো অহর অহর এগুলো হচ্ছে।

 

পরিশেষে, আরো অনেক কিছু বলার ছিল কিন্তু পারলাম না বা সাহস হলোনা।  এগিয়ে আসুন এগুলোকে আমরা সমাধান করি। সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে হাতে হাত রেখে কাজ করি। যে আমাদের পরবর্তি প্রজন্ম আমাদের থেকে শালীন হয়। আমাদের সঠিক গাইডলাইন হতে পারে কোরআনের শিক্ষা। কোরআন-এর শিক্ষা ব্যাতিত এগুলোকে পরিবর্তন করা সম্ভব ন।

বি:দ্র: উদ্দিপকে আমি আমাকে নিয়ে তুলনা করেছি বা বর্ণনা করেছি। মূলত  আমি এগুলোর পরিবর্তন চাই। সুন্দর একটি সমাজ চাই। ধন্যাবাদ ভালো থাকবেন সবাই।