উইকএন্ড বক্স অফিসে পানি থেকে ‘অ্যাকুমান’ মেরি পপিন্স রিটার্নস!

Now Reading
উইকএন্ড বক্স অফিসে পানি থেকে ‘অ্যাকুমান’ মেরি পপিন্স রিটার্নস!

ছুটির সপ্তাহান্তে পাঁচটি নতুন প্রশস্ত রিলিজের সাথে ঝলকানি হিসাবে, একটি নতুন উত্তর আমেরিকার বক্স অফিস রেকর্ড প্রত্যাশিত, ২016 সালের রেকর্ডটি চুলের দ্বারা 11.4 বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
রবিবারের মধ্যে এই বছরের বক্স অফিসে বর্তমানে 11.4 বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে, যা ২017 সালের 10 দশমিক 10 বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি থেকে শুরু হয়েছে।

প্রথম স্থানে, ওয়ার্নার ব্রোস। “Aquaman” একটি সমষ্টিগত $ 72.1 মিলিয়ন জন্য বক্স অফিসে $ 67.4 মিলিয়ন সঙ্গে খোলা, যা পরিমাপ ফার্ম Comscore
থেকে পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশেষ খোলার এবং প্রাকদর্শন ঘটনা বিক্রি টিকেট অন্তর্ভুক্ত।
200 মিলিয়ন ডলারের সুপারহিরো চলচ্চিত্র, “গেমস অফ থ্রোনস” অভিনয় করে অ্যালাম জেসন মোমো এই শিরোনাম ভূমিকা পালন করে, উইকএন্ডের বিশ্লেষক এর পূর্বাভাসের পরিসংখ্যান 65 মিলিয়ন থেকে 70 মিলিয়ন ডলারে ঘোষণা করে। বিশ্বব্যাপী, চলচ্চিত্রটি তৃতীয় সপ্তাহের জন্য সরাসরি 1 নম্বর এবং আন্তর্জাতিকভাবে 400 মিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা এই সপ্তাহান্তে $ 48২.8 মিলিয়ন ডলারের বিশ্বব্যাপী সংযোজনের জন্য 91.3 মিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছে।

জেমস ওয়ায়ান পরিচালিত, “Aquaman” স্টুডিওর ডিসি কমিক্স ইউনিভার্স থেকে গত বছর খারাপভাবে প্রাপ্ত “বিচারপতি লীগ” প্রথম প্রকাশ। এটি একটি এ-অন সিনেমাস্কোর এবং পর্যালোচনা সমষ্টি সাইট রটেনেন টমেটোসের 64% “তাজা” রেটিং অর্জন করেছে।
নং ২ এ, ডিজনি এর “মেরি পপিন্স রিটার্নস” বুধবারের প্রথম সপ্তাহান্তে $ 22.2 মিলিয়ন এবং বুধবার থেকে 31 মিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছে, বিশ্লেষকরা এর 55 দিনের মধ্যে 5 দিনের পূর্বাভাসের নীচে এবং এমনকি স্টুডিওর 35 মিলিয়ন ডলারের বেশি রক্ষণশীল অনুমানের নিচে।

প্যারামাউন্টের “বাম্বলবি” $ ২1 মিলিয়ন ডলারের স্টুডিওর প্রত্যাশাগুলির পরিমানের সাথে তৃতীয় স্থানে স্থান পেয়েছে, তবে বিশ্লেষক আয় $ 40 মিলিয়নের নিচে।

137 মিলিয়ন ডলারের সিনেমাটি মাইকেল বে’র জনপ্রিয় “ট্রান্সফরমারস” ফ্র্যাঞ্চাইজির স্পিনঅফ। ট্রাভিস নাইট দ্বারা পরিচালিত, দর্শকদের এবং সমালোচকদের দ্বারা এটি ইতিবাচকভাবে সিনেমাস্কোরের একটি রেটিং এবং রটেনেন টমেটোসের 94% “তাজা” রেটিং সহ পেয়েছে।

চতুর্থ স্থানে, সোনি এর “স্পাইডার-ম্যান: ইন স্পাইডার-শিউড ইন ইন” তার যৌথ সপ্তাহে 16.7 মিলিয়ন ডলার যোগ করে, যা 53% ড্রপ, যা $ 64.8 মিলিয়ন।
শীর্ষ পাঁচ রানে আউট, ওয়ার্নার Bros. ‘ “মুলে”, তার দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে, $ 35 মিলিয়ন জুড়ে $ 9.3 মিলিয়ন যোগ করেছে।

আরেকটি অভিষেক, এসটিএক্স বিনোদন এর “দ্বিতীয় আইন” $ 8 মিলিয়ন বিশ্লেষক পূর্বাভাসের নিচে, 6.5 মিলিয়ন ডলারের সাথে 7 নম্বরে নেমেছিল।

নবম স্থানে, ইউনিভার্সালের “মারওয়ানে স্বাগতম” $ 2.3 মিলিয়ন ডলার দিয়ে খোলা হয়েছে, বিশ্লেষক ভবিষ্যদ্বাণীগুলির নীচে $ 7 মিলিয়ন থেকে 13 মিলিয়ন ডলারের নীচে।
39 মিলিয়ন ডলারের অনুপ্রেরণামূলক চলচ্চিত্র তারকা স্টিভ ক্যারেল তার জীবনের স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করে তার স্মৃতিশক্তি হ্রাস করে এমন একজন মানুষ হিসেবে। এটি একটি বি-অন সিনেমাস্কোর এবং রোটন টমেটোসের 25% “পচা” রেটিং নিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।

সীমিত মুক্তিতে, অনাপর্ণার “ইফ বেলে স্ট্রিট টক ডক টক”, এখন তার দ্বিতীয় সপ্তাহান্তে, পাঁচটি থিয়েটারে 114,90২ ডলার উপার্জন করেছে, প্রতি পর্দার গড় $ 22,980 এবং একটি সমষ্টিগত $ 428,000।

ফক্স সার্চলাইট তার পঞ্চম সপ্তাহান্তে (মোট 790 টির জন্য) 349 টি অবস্থানে “প্রিয়” সম্প্রসারিত করেছে এবং ২ মিলিয়ন ডলার অর্জন করেছে, প্রতি-স্ক্রীনের গড় $ 2,608 এবং একটি সমষ্টিগত $ 10.1 মিলিয়ন।

ফোকাস বৈশিষ্ট্যগুলি “তৃতীয় সপ্তাহের শেষের দিকে” স্কটসের মেরি রানী “এর 7২9 টি অবস্থান (মোট 795 টি) যোগ করেছে, 2.2 মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, প্রতি পর্দা গড় $ 2,818 এবং একত্রিত 3.5 মিলিয়ন ডলার।

মঙ্গলবার, সোনি এবং কলম্বিয়া ছবি কমেডি “হোমস অ্যান্ড ওয়াটসন” এবং অনাপর্ণা ছবিগুলি নাটকটি শুরু করে “ভাইস।” অনাপর্ণা অপরাধ থ্রিলার “ধ্বংসকারী” প্রকাশ করে এবং ফোকাস বৈশিষ্ট্য সীমিত প্রকাশে “যৌনতার ভিত্তিতে” নাটকে প্রিমিয়ার করে।

উদারপন্থী আধুনিক সৌদি আরবের রূপকার প্রিন্স সালমান!

Now Reading
উদারপন্থী আধুনিক সৌদি আরবের রূপকার প্রিন্স সালমান!

সৌদি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাতারাতি সৌদি আরবের অনেক রীতিতে সংস্কার আনছেন। শুধু রীতি নয় অনেক আইন কানুন এরও পরিবর্তন এনে কট্টরপন্থীদের এক প্রকার কোণঠাসা করে ফেলেছেন। বহু বছরের কট্টরপন্থী নিয়ম কানুন এবার শিথিল হতে শুরু করেছে সৌদি আরবে। সৌদি আরব সম্প্রতি তাদের সংস্কার নিতিমালা হাতে নিয়েছে আর যার মুল পরিকল্পনায় রয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ। কিছুদিন পূর্বেই তিনি মেয়েদের গাড়ী চালানোর অনুমতি দিয়ে সৌদি নারীদের কাছে রীতিমত হিরোতে পরিণত হন। তার সুত্র ধরেই সম্প্রতি দেশটির এক শীর্ষ ধর্মীয় গুরু বলেছেন সৌদি মেয়েদের বোরকার মতো পোশাক পরিধানে তেমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আরো অনেক বিষয়ের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে দেশটি যার পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছেন যুবরাজ সালমান। সৌদি আরবের বেশ কিছু নিতিমালা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বহুদিন ধরেই সমালোচনা ছিল। যার মধ্যে নারী অধিকার অন্যতম।

যুবরাজের ভিশন ২০৩০ অনুযায়ী সৌদি আরব এখন সামাজিক সংস্কারের দিকে এগুচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সৌদি আরবকে কট্টরপন্থী খোলস থেকে বের করে আনতে চান যুবরাজ সালমান। আর তাকে সমর্থন যোগাচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব যার সবটায় তাদের স্বীকৃতি মিলছে। সৌদি বিনোদনের উৎকর্ষ বাড়াতে সম্প্রতি সিনেমা হলের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির রাজ পরিবার। সৌদি আরবের লোকজন সর্বশেষ হলে গিয়ে সিনেমা দেখেছে সেই ১৯৭০ এর দশকে। পরবর্তীতে দেশটির কট্টরপন্থী ইসলামিক নেতাদের ফতোয়ায় সিনেমা হলগুলো বন্ধ করে দেয় সৌদি রাজ পরিবার। এরপর বিগত ৩৫ বছর ধরে সেখানে আর কোনো সিনেমা হল ছিল না। কিন্তু সৌদি যুবরাজের ইচ্ছায় দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আগামী ১৮এপ্রিল রিয়াদে সারম্ভরে চালু হচ্ছে দেশটির প্রথম সিনেমা হল। একই প্রক্রিয়ায় আগামী ৫ বছরে আরো ৪০ টি সিনেমা হল চালু করা হবে  সৌদি আরবের ১৫ টি শহরে। প্রশ্ন হচ্ছে, সিনেমা হল আর বিনোদন কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে সৌদি আরব কি তার কট্টরপন্থী খোলস থেকে বেরুতে পারবে?

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন যুবরাজ সালমান আর এই সুযোগে তিনি বিশ্বের সবচাইতে বড় সিনেমা হল চেইন অ্যামেরিকান মুভি ক্লাসিকস বা এএমসির সাথে চুক্তি সেরে ফেলেছেন। নিজ দেশে মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে বিনোদন খাতে হাজারো কোটি ডলার খরচ করতে সৌদি আরব নিজেও আগ্রহী। বিনোদনের নানা উৎসে হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের অংশ হিসেবে প্রথম ধাক্কায় সিনেমা হল চালুর মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সালমান।  সৌদি আরবের ৭০ শতাংশ বিশাল জনগোষ্ঠীর বয়স এখন ৩০ এর নিচে। আর তারা বিনোদনের খোঁজে মরিয়া যার জন্য তারা দেশের বাইরে গিয়ে বহু টাকা খরচ করে ফেলে। আপাতদৃষ্টে ধারণা, সৌদিরা বিনোদনে দেশেই নিজেদের টাকা খরচ করুক সেটিই সৌদি যুবরাজ চাইছেন। সৌদি আরব নিজের দেশেই তাদের সেই সুযোগ করে দিতে আগামী পাঁচ বছরে পশ্চিমা বিনোদনের এবং গ্ল্যামারের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করতে চলেছেন। সৌদি আরব বিনোদনে বিশাল বিনিয়োগ করছে দেখে হলিউড এর রথী মহারথীরা তার ভাগ পেতে উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন।

বিনোদনের কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে রক্ষণশীল সমাজ থেকে বের হয়ে আসার উদাহরণ দাঁড় করাতে চাইছে সৌদি রাজ পরিবার। আর সে উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যুবরাজ সালমান। ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলস এর বিলাসবহুল ফোর সিজনস হোটেলটির পুরোটাই ভাড়া নিয়েছিলেন যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান। আর তাতেই গান থেকে শুরু করে সাজ সজ্জা, খাবারের মেনুসহ সব কিছুতেই সৌদি আরবের ছোঁয়া লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। হোটেলটিতে যুবরাজ সালমানের দেয়া পার্টিতে হলিউডের সবচাইতে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়েছিলেন। ডোয়েইন দা রক জনসনের মতো তারকারাও মেতেছেন যুবরাজের প্রশংসায়। ফিল্ম স্টুডিও হিরো ভেনচারের সিইও রিক লাইখট বলেন, “আমরা মার্ভেল কমিকস এর বিনোদন নিয়ে সৌদি আরব যেতে চাই। আশা করছি এ বছর শেষ হওয়ার আগেই সেই সুযোগ আমরা পেয়ে যাব। যুবরাজ সালমান দারুণ এক আয়োজন করেছেন”

যুবরাজ কিংবা রাজপুত্র কথাটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে রূপকথার দৃশ্য যেখানে তারা অনেক অসাধ্য সাধন করেন। কিন্তু সৌদি যুবরাজ রুপকথায় নয় বাস্তবেই রাতারাতি পরিবর্তন করতে চলছেন সৌদি আরবের বহু বছরের রীতি যা পূর্বের কোন যুবরাজ কিংবা বাদশাহ চেষ্টা করে দেখেননি। যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি যুবরাজকে দেখা গেছে ঐতিহ্যবাহী সৌদি পোশাক ছেড়ে স্যুট পরিধান করতে। মোটকথায় সৌদি আরবকে আক্ষরিক অর্থে একটি ফ্যাশন সচেতন আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার মিশনে আছেন যুবরাজ সালমান। দীর্ঘ দিনের কট্টর সৌদি রীতিতে পরিবর্তনে খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ৩২ বছর বয়সী এই প্রভাবশালী যুবরাজ। তার ক্ষমতা আর অর্থ দিয়ে তিনি শক্ত হাতেই সব পরিস্থিতি সামাল দেয়ার সামর্থ্য রাখছেন। আর তাই বিনোদনে সৌদি সরকারের হাজার হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের পরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের পথে।

নারী ও নায়িকা

Now Reading
নারী ও নায়িকা

১.

-আপনার নতুন ছবিটা দেখলাম।

– তা কেমন লাগলো?

-ভালই। কিন্তু ঐ যে আইটেম সং…আসলেই কি তার খুব বেশি দরকার ছিল?

– ভাই, এটা বানিজ্যিক ছবি। এতে নাচ থাকবে গান থাকবে, থাকবে মারদাংগা একশন। তার সাথে এই যুগে আইটেম সং না হলে কি চলে! আরে ভাই, মানুষ পকেটের টাকা খরচ করে সিনেমা দেখতে আসে। তারা চায় নির্মল বিনোদন। তাই সিনেমার মাঝে দু একটা আইটেম গান থাকলে দর্শকের ও ভাল লাগে, প্রডিউসার হল মালিকদের ও দুটো টাকা আয় হয়।

২.

-শুনলাম এবার নাকি ভিন্ন রকম ছবি বানিয়েছেন?

-এবারের ছবিটা আসলেই অন্যরকম। যাকে বলে জীবনঘনিষ্ঠ ছবি। জীবনটাকে খুব শৈল্পিকভাবে পর্দায় তুলে এনেছি। সিনেমা দেখলে আপনার মনেই হবে না আপনি সিনেমা দেখছেন। দেখলে মনে হবে এ যেন আপনারই জীবনের গল্প।

– তাতো বুঝলাম। কিন্তু এর মাঝেওতো দেখি কয়েকটা অশালীন দৃশ্য আছে। ওই যে নায়ক নায়িকার…ওই দৃশ্যটা…

-অশালীন বলছেন কেন? এতো জীবনেরই ছবি। কেন, বাস্তব জীবনে এমন কিছু হয়না? এর মাঝে আপনি অশ্লীলতা খুজে পেলেন কোথায়? অশীলতা কারে বলে আপনি বুঝেন, এর সংগা জানেন? ভাই, শ্লীল-অশ্লীল আমাকে শিখাতে আসবেন না। আমার খুব ভাল করেই জানা আছে কোনটা শ্লীল আর কোনটা অশ্লীল।

শরীরে পোশাক না থাকা মানেই অশ্লীল না। আবার কাপড় পড়েও আপনি নিদারুন অশ্লীল হতে পারেন। উপস্থাপনাটাই আসল।

World sinema  নিয়ে আপনার কোন ধারনা আছে? বিশ্বের অনেক ক্লাসিক সিনেমাতেই দেখবেন, দু চারটা ন্যুড সিন থাকে। কই সেগুলো নিয়ে শুনেছেন কোন সমালোচক তাকে অশ্লীল বলেছেন? আসলে আপনাদের মত এ রকম মানসিকতার লোকদের কারনেই দেশের শিল্প সংস্কৃতি এগুতে পারছেনা। যারা শিল্প সংস্কৃতির বুঝেনা কিছুই, খালি শ্লীল-অশ্লীল নিয়ে লাফালাফি করে।

৩.
– এবারেতো মিউজিক ভিডিও বানিয়েছেন শুনলাম।

-হ্যা। গানটা ভাল, সাথে গানের ভেতরের গল্পটাও। তাই অনেক যত্ন নিয়ে বানিয়েছি। খুবই রোমান্টিক একটা গান। এই গানের শ্যুটিং করতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ৫ দিন ধরে রাংগামাটি, বান্দারবান, সিলেটে শ্যুটিং করেছি। কি নেই গানে? আছে মেঘ, বৃষ্টি, পাহাড়, চা বাগান…

-শুনলাম, গানের একটা দৃশ্য নিয়ে নাকি খুব সমালোচনা হচ্ছে। যাতে নায়িকা পানিতে ভিজে…

-আরে বাদ দেনতো, সমালোচকদের কথা। এদেরতো আর অন্য কোন কাজ নেই, আমাদের সমালোচনা করেই এদের পেটে ভাত জোটে। রোমান্টিক গান…গানের ফিলিং অনুযায়ী দৃশটা ফুটিয়ে তুলতে হবে না? একটা গানে আর সময় কতটুকু? ৪-৫ মিনিট। তার মধ্যেই সব আবেগ তুলে আনতে হয়। অমন দৃশ্য না হলে রোমান্টিক গানের পুরো আমেজটা আসবে না। বুঝতে পেরেছেন? নাকি বুঝেন নি?

-জ্বি, জ্বী। খুব ভালই বুঝেছি। যতই বলুন শিল্পের জন্য, নারী আসলে বাজারের পন্য। বানিজ্যিক ছবি, আর্ট ফিল্ম কিংবা গান…বাজার অর্থনীতিতে নারীর একই স্থান। তাকে জনগনের মনোরঞ্জনের জন্য খোলামেলা হতেই হয়।

আচ্ছা, এমন ছবি কি আপনারা বানাতে পারেন না যাতে নায়িকার কোন বৃষ্টিভেজা দৃশ্য নেই, নেই আবেগঘন/অন্তরংগ কোন চরিত্র? যাতে নারী কেবল পুরুষের চোখে  শয্যাসংগী প্রেমিকাই নয়, বরং আপাদ মস্তক একজন মানুষ। যার আবেগ আছে, অনুভুতি আছে, দু চোখে স্বপ্ন আছে, আছে সুন্দর পৃথিবী গড়ার অভিলাষ। এমন ছবি, যাতে নায়িকা মানুষের সামনে নাচবেনা, গাইবেনা, যে ছবিতে তথাকথিত প্রেম নেই, আছে নারীর স্নিগ্ধ, প্রশান্ত রুপ। যেখানে নারী রুপের ছটায় মুগ্ধ করেনা, মহীয়ান হয়ে উঠে তার কর্মে।

ওই যে বললেন, জীবনঘনিষ্ঠ ছবি। এটাওতো জীবনেরই একটা রুপ। তাহলে এরকম কোন জীবন ঘনিষ্ঠ ছবি হতে বাধা কোথায়?

-বাহ! মনে হচ্ছিল ফিলোসফির কোন ক্লাসে বসে আছি। তা এমন ছবির প্রডিউসারই বা পাব কোথায় আর হলে গিয়ে দেখবেই বা কে? এ সব সস্তা আবেগ নিয়ে ইমোশনাল হওয়া যায়, ছবি বানানো যায় না। ছবি বানাতে হলে দর্শক, বাস্তবতা অনেক কিছুই বুঝতে হয়। যাক গে, আমার কাজ আমাকে করতে দিন। যে জগত আপনার না, সেটা নিয়ে খুব বেশি মাথা না ঘামানোই ভাল।

এই কে আছিস, ভাইকে একটা ঠান্ডা খাওয়া!

ঈগলের চোখ!!

Now Reading
ঈগলের চোখ!!

 

 

আপনি কি কখনো নিজের Conscious & Sub-Conscious মাইন্ড নিয়ে ভেবেছেন? এটা আসলে কি ? দেখতেই বা কেমন তার আচরণটাই কেমন ? এই বিষয়গুলো একজন লেখকের লেখনীতে যেভাবে ফুটে উঠে তার চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে ধরা দেয় একজন নির্মাতার চোখে বা ক্যামেরায়। আমাদের প্রত্যেকের আচরণে একটা দ্বিস্তরের পর্দা আছে যার একটার সাথে বাহ্যিকতায় সবাই পরিচিত অন্যটার সাথে কেবল নিজেই পরিচিত,অনেক সময় কেউ কেউ এটা ধরতে পারে না। আমরা নিজেই নিজের সাথে সংলাপ করি, প্রলাপ করি নিজেকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাই। এই বিষয়গুলো কেউ আমাদের দেখিয়ে দেয় নয়তো নিজেরা কখনো এর সম্মুখীন হয়।

সিনেমা গুলো হচ্ছে সভ্য সমাজে মানুষের আচরণের দর্পণ এই দর্পণে অনেক সময় নিজের অবিকল প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে। আমরা সবাই কমবেশি সিনেমা দেখি নিজেদের সময় কাটানোর জন্য কিছু কিছু কালজয়ী সিনেমা আছে যা দেখার পর আমরা একটু নড়েচড়ে বসি। কিছু কিছু সিনেমা আছে যা আমরা বহুবার দেখি মনের খোরাক মেটানোর জন্য।

“আমাদের জীবনটা না খুবই কঠিন এর প্রতিটা বাঁকে বাঁকে রয়েছে রহস্যের মোড়, খুব কাছ থেকে দেখলে এর সবটা দেখা যায় না। একে যদি ভাল করে দেখতে হয় তবে অনেকটা উপর থেকে দেখতে হবে যেমন অনেকটা ঈগলের মত করে।”

ঈগল আকাশে উড়ছে ঠিকই কিন্তু তার শ্যোন দৃষ্টি কিন্তু রয়ে যায় নিচে যেখানে সবকিছু তার কাছে পরিস্কার।এমনই একটা সংলাপ ছিল ঈগলের চোখ ছবিতে। বর্তমানে ধুন্ধুমার এ্যাকশন আর বাহারি স্পটে গানের যুগে কিছু ছবি আছে যা আপনাকে পর্দার সামনে আটকে রাখবে করে রাখবে মন্ত্রমুগ্ধ। আপনি যদি  CRIME থ্রিলারের ভক্ত হন তবে এই ছবিটা একবার হলেও দেখবেন কেননা এখানে নায়কোচিত কোন হাবভাব নেই,নেই কোন আইটেম সং। এখানে  শক্তিশালী একটা গল্প আর সুন্দর নির্মাণশৈলী মূলত গল্পের প্রাণ বলা চলে।যা আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে।

মূল গল্পটি প্রখ্যাত উপন্যাসিক শীর্ষেন্দু মুখোপধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেছে অরিন্দম শীল। শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের ব্যানারে প্রযোজিত ছবিটি মূলত সিক্যুয়ালের ২য় ধাপ। আগের পর্বটি ছিল এবার শবর…..

এখানে অভিনয় করেছে শ্বাশত চ্যাটার্জী,জয়া আহসান,পায়েল সরকার,অর্নিবাণ ভট্টাচার্য্ সহ আরো অনেকে ছবির ছোট একটা চরিত্রে রয়েছে পরিচালক অরিন্দম শীল।

কাহিনিসূত্র…..

পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিষাণ (অনিবার্ণ) নিজের জীবনের প্রতি বেশ উদাসীন তার স্ত্রী শিবাঙ্গী (জয়া আহসান) নিজেও একজন ব্যবসায়ী। তাদের ঘরে আশ্রিত শিবাঙ্গীর বান্ধবী নন্দিনি (পায়েল সরকার) আর জাহ্নবী। সিনেমার প্রথম দৃশ্যতে দেখা যায় ঘরে ডাকাত ঢুকেছে আর ডাকাতের কবলে পড়ে মারা যায় আশ্রিত নন্দিনি,একই সাথে শিবাঙ্গী গুরুতর আহত হয়ে কোমায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনার জেরে পুলিশ মামলার তদন্তে নেমেছে যেখানে তারা স্বামী বিষাণকে দোষী প্রমাণ করতে ব্যস্ত।

এই খুনটাকে ওপেন এন্ড শাট মার্ডার কেস বলে চালিয়ে দিলেও সামনে চলে আসে নানা তথ্য যেখানে শিবাঙ্গীর সাথে বিষাণের ডির্ভোস ফাইল করা ছিল।এখানে ডির্ভোসের ক্ষতিপূরণও ছিল বিশাল। এই ক্ষতিপূরণের ঝামেলা থেকে বাঁচতে বিষাণ তার স্ত্রীকে মেরে ফেলতে চাই নি তো! নন্দীনি আর শিবাঙ্গীকে সরিয়ে জাহ্নবীকে নিয়ে বিষাণ নতুন জীবন শুরু করতে চাই এমন বিষয় বা সন্দেহ সামনে চলে আসে।

এই মামলার তদন্তভার ছিল পুলিশের ধুরন্ধর গোয়েন্দা অফিসার শবরের (শাশ্বত চট্টোপধ্যায়) হাতে। নিজে তার পেশার প্রতি এতটা ডেডিকেটেড যে নিজের যে একটা স্বাভাবিক জীবন তা যেন হারাতে বসেছে । একটা সময় মনোবিদের শরণাপন্ন হলে নিজের সমস্যা কথা জানতে পারেন। গোয়েন্দা অফিসার শবরের সমস্যা হলো ওনি নিজের একটা প্রতিচ্ছবি সকল ক্রিমিনালের মাঝে দেখেন যেখানটায় তিনি একজন মানুষের পরিচয়কে বড় করে দেখেন।

এখন একজন পুলিশ যদি অপরাধীকে এভাবে দেখেন তবে তো অপরাধী পার পেয়ে যাবে,তাই না? তবে তিনি কি করে একজন গোয়েন্দা বিভাগের বড় অফিসার হলেন?

তদন্তের স্বার্থে তিনি জানতে পারলেন শিবাঙ্গীর স্বামী বিষাণ মূলত একটা সাব-কনসাস লাইফের মোড়ক নিয়ে বেঁচে আছেন। বিষাণ আসলে একটা উন্মাদ আর অস্বাভাবিক মানুষ যে কিনা নিজের জীবনের উপর কোন কন্ট্রোলই রাখতে পারে না। এক সময়ে নন্দীনির সাথে বিষাণের পরকীয়ার সম্পর্কটার জের ধরে শবরের চোখে শিবাঙ্গী আর জাহ্নবী খুনি। এতসব কিছুর পরও পুলিশ কূল কিনারা করতে পারছে না।

নিজের জীবনের একটা কালো অতীত অধ্যায় যা বিষাণকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে যেটার জের ধরে তার সাথে স্ত্রী শিবাঙ্গীর মনোমালিন্য চলছে বিয়ের পর থেকে ফলাফল ডির্ভোস আর বিশাল টাকার মামলা,মাঝখানে নন্দীনির সাথে এক্সট্রা ম্যারিটিয়াল এ্যাফেয়ার যার কারণে নন্দীনি তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। নিজের ঘরে একটা টিন-এজ মেয়ে জাহ্নবী যাকে কেন্দ্র করে একটা ত্রিমূখী মোড় পেল।ছবিতে বিরতির পূর্বে গল্পের গতি থেমে থেমে আপনাকে খুনীর কাছে নিয়ে যাবে।

এই গল্পে লেখক আর নির্মাতার ভাষা বুঝতে হলে আপনাকে শেষ অব্দি দেখে যেতে হবে। এখানে একটা ক্রাইম থিলারের আদলে পরিচালক মানুষের জীবনবোধের একটা গল্প বলতে চেয়েছেন তার ঢঙে। আমরা আমাদের নিজেদের পারিপার্শ্বিক যে মানুষ সবগুলোকে দেখি তবে তাদের কতটা অবলোকন করতে পারি?

মুখ দেখে যায় চেনা এই টাইপ কথাবার্তা বলি আসলে কি মুখ দেখে কাউকে চেনা যায় ?

ঈগলের চোখ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ২০১৬ সালে আপনি যদি এখনো না দেখে থাকেন তবে অবশ্যই আপনার মাস্ট ওয়াচ লিস্টে রাখতে পারেন। এইটুকু বলতে পারি আইটেম গানের রমরমা এই  ‍যুগে আবহ সঙ্গীতের মূর্ছনায় আপনি গল্পের গতিতে এগিয়ে যাবেন।যা দ্বারা নিজের মানসিক স্বত্তাকে না হয় একটু যাচাই করে নিলেন।

হ্যাভ এ গুড টাইম উইথ মুভি।

 

Page Sidebar