মাধ্যমিকের দিন গুলোতে প্রেম… ( ১ম পর্ব )

Now Reading
মাধ্যমিকের দিন গুলোতে প্রেম… ( ১ম পর্ব )

নবম শ্রেণিতে পরীক্ষা দিয়ে দশম শ্রেণিতে উঠলাম। সাল ২০০৭। তারপরের দিন গুলোর কথা মনে করলে আমি আর আমার মন কোনটাই আর বিষণ্ণ নামক শব্দের ধারে কাছে যায় না।

ঘটনার রোমান্টিকতার শুরু সেই বছরেরই ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। ২১ শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আমাদের স্কুলে খুব বড়সড় অনুষ্ঠানই হচ্ছিল।আমি আর আমার বন্ধুরা মিলে পেছনের সারিতে গিয়ে বসলাম।আর বসার জায়গাটা পাকাপোক্ত করার পরই শুরু করে দিলাম নানা আজগুবি আলাপ।হঠাৎ উপস্থাপকের দায়িত্ব পালন করা আমাদের রশিদ স্যার বললেন ‘’ এখন ২১শে ফ্রেব্রুয়ারি নিয়ে স্বরচিত কবিতা আবৃতি করবে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী লাবিবা আক্তার। যদিও মেয়েদের প্রতি আমার তেমন আগ্রহ ছিলো না তখন। শুধু আমার বন্ধুদের প্রেমিকাদের ‘’ ভাবি ‘’ বলে ডাকা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলো। তবে আমার এই সীমার বর্ডার পার করে মেয়েটার দিকে দেখাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটার জন্ম দিলো।সব নিয়ম নীতি ভেঙে ‘’ হা ‘’ করে তাকিয়ে রইলাম মেয়েটার দিকে। স্তম্ভিত হয়ে গেলাম আমি। আমার স্তম্ভিত মনোভাব ভেঙে সাধারন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলাম সবার হাততালির শব্দে। বুঝলাম কবিতা আবৃতি শেষ।তবে কবিতা আবৃতি ভালো হয়েছিলো নাকি খারাপ তা আমার জানা নেই। কারণ আমি তার অবাক চাহনি,কপালে লেগে থাকা লাল টিপ আর নিষ্পাপ অবয়বে আটকা পরে ছিলাম। সবার হাত তালি দেয়া শেষ হয়ে গেলেও আমি আমার হাতকে আটকাতে পারলাম না। মেয়েটার দিকে হা করে তাকিয়ে হাততালি দিতে লাগলাম। আমার খেয়াল ছিলো না যে সবাই আমার কাণ্ডে কিছুটা বিরক্তবোধ করছে।আমি শুধু চাইছিলাম মেয়েটা একটা বার আমার দিকে তাকাক। হঠাৎ মেয়েটি মঞ্চ থেকে নেমে যাবার সময় আমার হাত তালির শব্দ শুনে আর চোখে আমার দিকে তাকালো আর ঠোটের কোনে জমে থাকা হাসিটার আমার জন্য প্লাবন ঘটলো। মনের ভেতরটা কেমন যেন কোন পোকার আক্রমন চলতে লাগলো। পরে অবশ্য আমি বুঝতে পেরেছিলাম এটা প্রেম পোকার কাজ। আর তারপরই শুরু হলো আমার অনুসন্ধানের পর্ব। মেয়েটাকে এর আগে আমাদের স্কুলে দেখেছি বলে মনে হচ্ছে না। মনে হলো এই বছরই নতুন ভর্তি হয়েছে। তাই নাম ছাড়া আর কিছুই অবশ্য জানা ছিলো না আমার।এসব কিছু আমি আমার বন্ধুদের বললাম। আর ওরা অনুসন্ধানের দায়িত্বটা নিজেদের উপর নিয়ে নিলো।তবুও আমি নিশ্চিন্ত হতে পারছিলাম না। আমার সব সময় মনে হতে লাগলো মেয়েটির সেই অবাক চাহনি,কপালে লেগে থাকা লাল টিপ আর নিষ্পাপ অবয়বের কথা। পড়াশোনাও মন বসতে ছিলো না।টিভিতে অনেক বার দেখেছি । নায়ক পড়তে বসার পর বই এর ভেতরে নায়িকাকে দেখে। এসব দেখে তখন আমার হাসি পেতো।মনে হতো এগুলো সব অবাস্তব। কিন্তু সেদিন রাতে পড়তে বসে আমিও বই এর পাতায় মেয়েটিকেই দেখলাম। যাই হোক, অনেক কষ্টে রাতটা পার করলাম।সকালে ঘুম থেকে উঠেই বন্ধুদেরকে এসব বিষয় বললাম। আর সাথে সাথেই বোনাস হিসেবে আমার জ্ঞানদাতা বন্ধু গুলো আমাকে নানা ভাবে জ্ঞান দিতে লাগলো।তাদের পূর্ব প্রেমের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে যদিও আমি জানতাম তবুও তারা পুনরায় আমায় সেই সব অভিজ্ঞতার কথা শুনাতে লাগলো। আমি চুপ করে শুনতে লাগলাম। কারন এসব শোনা ছাড়া আমার কোন আর কাজ নেই।এই সমস্যা শেষ করতে না পারলে আমি থাকতে পারবো না।আমি নীরব , নির্বাক শিশুর মতো উপদেশ গুলো আমার মনে গেথে নিলাম। এরই মধ্যে আমার প্রেম ডিটেকটিভ বন্ধু গুলো এসে হাজির। ২ দিনের শ্বাসরুদ্ধকর অনুসন্ধানের প্রতিবেদন জানার জন্য আমার পকেট থেকে ১০০টাকা খরচ করতে হলো। তাদের দুর্ধর্ষ অনুসন্ধানের প্রতিদান স্বরূপ মুখরোচক খাবারের আবদার আমার মেটাতে হলো।

অনুসন্ধানের ফলাফল থেকে মেয়েটির বাড়ির ঠিকানা,ভাই বোন সংখ্যা, বড় ভাই আছে কিনা, কোথায় কোচিং করে ইত্যাদি তথ্য বেড়িয়ে এলো।

এবার সময় এলো বন্ধুদের দেয়া উপদেশ মতো কাজ করা। বলে রাখা ভালো, আমাদের স্কুলে দুই শিফটে ক্লাস হতো। মর্নিং শিফট ছিলো মেয়েদের। মেয়েদের ছুটি হবার পর আমাদের ক্লাস শুরু হতো। সেদিন মেয়েদের ছুটি হবার ৪০ মিনিট আগেই আমি আর আমার বন্ধুরা স্কুল এর সমানে গিয়ে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। আমার বন্ধুরা অবশ্য ওদের নিজ নিজ প্রেমিকার সাথে দেখা করার জন্যই এসেছিলো তারপরো আমাকে ওরা না ভাবে কথা বলার স্টাইল শেখাতে লাগলো।মেয়েদের সাথে কথা বলার আমার পূর্ব প্রস্তুতি ছিলো না। আমি জানতাম না কিভাবে মেয়েদেরকে পোটাতে হয়। তবে এই কয়েকদিনে বন্ধুদের কাছ থেকে অনেকটা শিখে নিয়েছিলাম।আমার বন্ধুরা প্রতিদিনই এরকম দাড়িয়ে থাকতো কিন্তু এর আগে আমি ওদের সাথে দাড়িয়ে থাকতাম না। এখন আমিও ওদের দলেরিই একজন।তবে ওদের প্রেম দুই দিক দিয়েই পরিপূর্ণ ছিলো কিন্তু আমার প্রেম শুধু মাত্র এক সাইড।অনেক সময় দাড়িয়ে থাকার পর স্কুল ছুটির সময় হলো।একে একে সবাই বেড়িয়ে আসছে কিন্তু আমি আমার জনকে দেখতে পাচ্ছিলাম না। একে একে যখন সবাই বেড়িয়ে আসছিলো তখন আমার হৃদস্পন্দন বাড়তে লাগলো। হঠাৎ চোখে পড়লো একটি মেয়ে আমাদের রশিদ স্যার এর সাথে কথা বলছে। আমার আর চিনতে কোন দেরি হলো না যে এই মেয়েটিই হলো লাবিবা। চেহারা ভুলে যাওয়ার কোন প্রশ্নই ছিলো না কারণ প্রথম দেখাতেই মেয়েটির মুখ আমার মনে গেঁথে গিয়েছিলো।কথা শেষ হবার পর আসতে লাগলো মেয়েটি। যত কাছে আসছিলো ততই আমার হৃদস্পন্দন আরো কয়েক গুন বাড়তে লাগলো… ( চলবে… )

 

 

 

ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে কিভাবে টাকা আয় করবেন? ফুটপ্রিন্ট স্পেশাল (শেষ পর্ব)

Now Reading
ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে কিভাবে টাকা আয় করবেন? ফুটপ্রিন্ট স্পেশাল (শেষ পর্ব)

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে এটাই আমার শেষ আর্টিকেল। এই পর্বে থাকবে কিভাবে ফেসবুক, ইউটিউব এবং ফুটপ্রিন্টে কাজ করে আপনি অনলাইনে টাকা উপার্যন করবেন তা নিয়ে বিস্তারিত। যদিও আমার দ্বিতীয় আর্টিকেল এ এই সম্পর্কে অল্প আলোচনা করেছি। তবে আজ বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করব। তার আগে আপনাদের দ্বিতীয় পর্ব ভালো ভাবে পড়া থাকতে হবে। যারা পড়েন নি তাদের জন্য দ্বিতীয় আর্টিকেল এর লিংক দেয়া হল।

কথা না বাড়িয়ে মূল টপিক নিয়ে লিখা শুরু করলাম। প্রথমেই শুরু করতে চাই ফেসবুক দিয়ে। বর্তমান সময়ের অতি জনপ্রিয় সাইট ও সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগ ছাড়াও ফেসবুকে যাতে মানুষ অর্থ আয় করতে পারে তার জন্য ফেসবুক কোম্পানী কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে তারা একটি ফিচার চালু করেছে যার মাধ্যমে ফেসবুকে অর্থ আয় করা শুরু করেছে অনেকেই। ফিচারটির নাম  ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল। ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল এর মাধ্যমে টাকা উপার্যন করতে হলে কিছু জিনিস আবশ্যক। সেগুলো হলঃ

  • একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট
  • একটি নিজস্ব ফেসবুক পেইজ

আপনার ফেসবুক পেইজ এ যদি লাইকের সংখ্যা লক্ষের ঘরে থাকে তবে সেক্ষেত্রে এই উপায়ে আপনার ভালো পরিমাণ টাকা আয়ের সম্ভাবনা থাকবে। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে আপনার বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করবেন এবং সেসব লেখা ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনার পেইজ এ শেয়ার করে অর্থ আয় করতে পারবেন। ঐ শেয়ারকৃত ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল আপনার পেজের মানুষ যতবার দেখবে বা যত বেশি বেশি পড়বে আপনার টাকা আয়ের পরিমাণ তত বেড়ে যাবে। এছাড়াও ইউটিউবের মত ফেসবুকও চালু করতে যাচ্ছে ভিডিওর মাধ্যমে টাকা আয়। আর অচিরেই ফেসবুক এই নতুন ফিচারটি লঞ্চ করবে। তখন আপনি ইউটিউবের মত ফেসবুকেও ভিডিও আপলোড করে টাকা আয় করতে পারবেন।

এবারে আসুন ইউটিউব নিয়ে কথা বলা যাক। ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে টাকা আয় করা যায় এ কথা এখন প্রায় সবাই জানে। ইউটিউবে কাজ করার জন্য প্রথমেই আপনাকে একটি চ্যানেল খুলতে হবে। তারপর সেই চ্যানেল এ ভিডিও আপলোড করতে হবে। অবশ্যই ভিডিওগুলো আপনার নিজস্ব কন্টেন্ট এর হতে হবে। তারপর সেই ভিডিও যত বেশি দর্শক দেখবে তত আপনার টাকা আয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। এক্ষেত্রে আপনার চ্যানেল এর অবশ্যই হাজার খানেক সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। আপনাকে ভালো শিক্ষামূলক  ভিডিও আপলোড করতে হবে যাতে করে বেশি মানুষ আপনার ভিডিও দেখে। তবে অন্যের ভিডিও আপনি কপি করে ইউটিউবে কখনোই আপলোড করবেন না।

আপনাকে আপনার নিজস্ব টপিক বেছে নিতে হবে। কোন ধরণের দর্শক আপনার চ্যানেল এর ভিডিও দেখছে সে সম্পর্কে আপনার ভালো ধারণা থাকতে হবে। তাহলে আপনি তাদের চাহিদা অনুযায়ী ভিডিও আপলোড  করতে  পারবেন যা ইউটিউবে টাকা উপার্যনের জন্য অনেক কার্যকরী। ফটোগ্রাফির মাধ্যমেও আপনি ইউটিউবে টাকা আয় করতে পারেন। আপনি অনেক গুলো ছবির সমাবেশে বিভিন্ন স্লাইড তৈরি করে তা ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। তবে স্লাইড গুলো অবশ্যই ভালো কোন গল্প নিয়ে গঠিত থাকতে হবে। ছবি দিয়ে ভালো স্টোরি গঠন করতে পারলেই কেবল তা দর্শককে আকর্ষণ করবে। এছাড়াও আপনি দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ডকুমেন্টারি বানিয়ে তা ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। তবে কারেন্ট ইস্যু নিয়ে আপলোড করা ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আপনার ভিডিও যদি একবার ভাইরাল হয়ে যায় তবে যেন আপনার ভাগ্য খুলে গেল। আপনি জার্নালিজম নিয়েও বিভিন্ন ছবির স্লাইড বানিয়ে তা ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। তবে ইউটিউব বর্তমানে তাদের এলগোরিদম হারিয়ে ফেলেছে। কারণ ঠিক কোন এলগোরিদম এ তারা ইউটিউবের ভিডিও মেইনটেইন করছে তা তারা নিজেরাও হয়ত জানে না।

আমাদের দেশের নতুন একটি ফ্রিল্যান্সিং সাইট মাত্র অল্প কিছুদিন আগে আত্মপ্রকাশ করেছে। সাইটটির নাম ফুটপ্রিন্ট (www.footprint.press)। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সাইটটি দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যা  আমি আপনাদের গত আর্টিকেল এ দেখিয়েছি। ফুটপ্রিন্টে কিভাবে টাকা আয় করবেন হয়ত এখনও অনেকের অজানা। চলুন ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

ফুটপ্রিন্টে লেখালেখির মাধ্যমে টাকা আয় করা শুরু করেছে অনেকেই। যারা লেখালেখি করেন বা টাইপিং এ বেশ পারদর্শী তাদের জন্য এটি অনেক ভালো একটি প্লাটফর্ম টাকা আয় করার জন্য। এখানে যারা লেখালেখি করে তাদেরকে ফুটপ্রিন্টার বলা হয়।

আপনাকে যেকোন টপিকের উপর ৭০০ শব্দ বা তার বেশি শব্দ নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখতে  হবে। তবে অবশ্যই তা আপনার নিজস্ব লেখা হতে হবে। আপনি কোন কপি করা বা অন্যের লেখা এখানে ব্যবহার করতে পারবেন না। যদি করেন তাহলে আপনাকে সাইট থেকে চিরতরে নিষিদ্ধ করা হবে।

৭০০ শব্দের আর্টিকেলটির সাথে আপনাকে একটি ফিচার ছবি দিতে হবে। আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে ছবিটি যেন অবশ্যই এইচ ডি কোয়ালিটির হয়। তা না হলে আপনার আর্টিকেলটি সাইটে পাবলিশ নাও হতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।

বানান ভুলের জন্য এখানে অনেক ধরণের পেনাল্টি আছে। তাই আপনাকে বানানের ক্ষেত্রেও সতর্ক হতে হবে। কারণ একই আর্টিকেল এ তিনটির বেশি বানান ভুল হলে ঐ আর্টিকেল এ বরাদ্দকৃত টাকার অর্ধেক টাকা কেটে নেয়া  হবে। আর পরপর তিনটি আর্টিকেল এ  পেনাল্টি পেলে পূর্বরর্তী দুটি আর্টিকেল এর পুরো টাকা কেটে নেয়া হবে। অনেক ধরণের category বা বিভাগ আছে যেগুলোতে আপনি বিভিন্ন টপিক নিয়ে লিখতে পারবেন। এছাড়াও সাইটে আপনার আর্টিকেল প্রকাশ হলে তা ফেসবুকের একটি পেইজ এ শেয়ার করা হবে যেন অনেক মানুষ আপনার আর্টিকেলটি পড়তে পারে।

নতুন যারা ফুটপ্রিন্টে আসছেন তাদের জন্য এই আর্টিকেলটি হয়ত অল্প হলেও কাজে লাগবে বলে আশা করি। অবশেষে যারা ফুটপ্রিন্টে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তাদের জন্য বলছি আপনারা প্রথমে সাইটে দেয়া সম্পুর্ণ নির্দেশাবলী ভালো ভাবে পড়ুন। তাহলেই আশা করি সব সমস্যা সমাধান হবে। এখনকার মানুষ এতটাই  অলস যে সামান্য কিছু লেখা পড়তেও তাদের অনেক কষ্ট হয়। এছাড়াও আপনি ফেসবুকের ফুটপ্রিন্ট গ্রুপে যোগ দিন। সেখানে পুরোনো ফুটপ্রিন্টারদের আপনার সমস্যার কথা জানান। আপনি  সমাধান অবশ্যই  পাবেন। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, ধন্যবাদ। Happy Footprinting, Happy Earning.

ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে কিভাবে টাকা আয় করবেন? ? ? * ফুটপ্রিন্ট স্পেশাল * ( দ্বিতীয় পর্ব )

Now Reading
ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে কিভাবে টাকা আয় করবেন? ? ? * ফুটপ্রিন্ট স্পেশাল * ( দ্বিতীয় পর্ব )

ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং  নিয়ে লেখা আমার প্রথম আর্টিকেল এ বলেছিলাম কিভাবে অনলাইনে কাজ করার মাধ্যমে অর্থ উপার্যন করে স্বাবলম্বী হওয়া যায়। প্রথম আর্টিকেল থেকে এই আর্টিকেল এর টাইটেল সামান্য একটু ভিন্ন কিন্তু একটা অন্যটার সাথে সম্পর্ক যুক্ত। সেখানে লিখেছিলাম নানা ধরণের অনলাইন ওয়ার্ক প্লেস এর নাম এবং সেসব ওয়ার্ক প্লেস এ কি ধরণের কাজ করে টাকা উপার্যন করা  যায় সেসব কাজ নিয়ে কিছু কথা। এছাড়াও আরো ছিল আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সিং এর অবস্থা, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের র‍্যাঙ্কিং ও এসব নিয়ে বিস্তারিত।

আমি এই আর্টিকেল এ বলব কিভাবে অনলাইন মার্কেটপ্লেস ছাড়াও আরো নানা ধরণের কাজ করে অনলাইনে অর্থ আয়  করা যায়। তবে  আপনাদের পড়ার সুবিধার্থে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে লেখা প্রথম আর্টিকেল এর লিংকটি এখানে দিলাম। প্রথম পর্ব ভালো বুঝলে দ্বিতীয় পর্ব বুঝতে অনেকটা সুবিধা হবে। 

আপনাদের প্রথমেই বলে রাখতে চাই আর্টিকেলটির শেষ দিকে থাকছে দেশের  একমাত্র ফ্রিল্যান্সিং সাইট সম্পর্কে কিছু কথা।  যেখানে কাজ করে অতি সহজেই টাকা আয় করা যায়। আশা করি ধৈর্য নিয়ে পুরোটা পড়বেন।

এবারে চলুন নতুন বিষয়টি নিয়ে কথা শুরু করা যাক। আগের আর্টিকেলটিতে আমি বলেছিলাম কিভাবে oDesk, freelancer.com,  Elance, Guru  ইত্যাদি আরো অনেক মার্কেটপ্লেস এ নানা ধরণের কাজ করে অর্থ আয় করা যায়। তবে এসব মার্কেটপ্লেস ছাড়াও এখন অনলাইনে অন্য অনেক ধরণের কাজ করে অর্থ আয় করে যাচ্ছে অনেক মানুষ। আর অনলাইন মার্কেটপ্লেস এর বদলে এখন ঐসব কাজ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলে আমি মনে করি। তবে এই নতুন কাজগুলো অনেক বেশি ধৈর্য নিয়ে করতে হয়। আর কাজ করার সাথে সাথেই টাকার মুখ দেখতে পাওয়া যায় না। টাকার মুখ দেখার জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয় ও ধৈর্যশীল হতে হয়।

বর্তমানে ছবি তোলা বা ফটোগ্রাফি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ শখের বশে ছবি তোলে আবার কেউ কেউ পেশাদার ফটোগ্রাফার। তবে আপনি ফটোগ্রাফির মাধ্যমেও অর্থ উপার্যন করতে পারবেন এবং সেটা অনলাইনে অর্থাৎ ঘরে বসে। আপনি যদি অনেক ভালো ছবি তোলেন এবং সেসব ছবি বিক্রি করতে চান তাহলে প্রথমে যা করতে হবে তা হচ্ছে 500px  ডট কম  ওয়েব সাইট থেকে ঘুরে আসা। কারণ এটি এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে আপনার নিজের তোলা পছন্দের ছবি গুলো চাইলেই বিক্রি করতে পারবেন এবং এর মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন। 500px ছাড়াও আরো অনেক ধরণের ওয়েবসাইট আছে যেসব সাইটে ছবি বিক্রি করে টাকা আয় করা যায়। যেমন ধরেন  Gatty images, Stock photography ইত্যাদি।

ইউটিউবের নাম শোনে নি এমন মানুষ হয়ত এখন খুজে পাওয়া খুব কষ্টসাধ্য বিশেষ করে যে সকল মানুষ ইন্টারনেট জগতে কাজ করে। ইউটিউব এমন একটি জায়গা যেখানে হাজার কোটি  ভিডিও রয়েছে। আর বিভিন্ন বয়সের মানুষজন সেসব ভিডিও দেখে। আপনি চাইলে ইউটিউবের মাধ্যমেও টাকা আয় করতে পারবেন। তবে এই কাজে আপনাকে অনেক বেশি পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল হতে হবে। ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে আপনি টাকা আয় করতে পারেন। তবে এর জন্য আপনাকে অনেক সাবস্ক্রাইবারের ভিত্তি সহ একটি চ্যানেল ইউটিউবে গড়ে তুলতে হবে। যারা প্রতিনিয়ত আপনার চ্যানেল এ আপলোড করা ভিডিও গুলো দেখবে। কারণ কেবলমাত্র মানুষ আপনার আপলোড করা ভিডিও দর্শক দেখলেই আপনি টাকা আয় করতে সক্ষম হবেন। যত বেশি মানুষ দেখবে তত টাকার অঙ্ক বড় হতে থাকবে। তবে অবশ্যই আপনার ভিডিও গুলো আপনার নিজস্ব কন্টেন্ট এর হতে হবে এবং শিক্ষামূলক হতে হবে। যদি আপনি কোন নকল করা বা অন্যের ভিডিও আপলোড করেন সেক্ষেত্রে ইউটিউব আপনাকে কপিরাইট স্ট্রাইক করবে এবং ঐ নকল ভিডিওর জন্য আপনি কোন টাকা পাবেন না।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম সেরা মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। সম্প্রতি অনলাইনে অর্থ উপার্যনের জন্য ফেসবুক অনেক সমৃদ্ধ। ফেসবুকের মাধ্যমেও আজকাল অনেকেই টাকা আয় করছে। ফেসবুকের অনেক জনপ্রিয় পেজগুলো নানা  ধরণের ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল তাদের পেজে শেয়ার বা পোষ্ট করে। সেগুলো মানুষ দেখলে তারা টাকা আয় করতে পারে। আপনিও চাইলে ফেসবুকে টাকা আয় করতে পারেন। তবে এর জন্য ফেসবুকে আপনার একটি পেজ থাকতে হবে এবং পেজটি অনেক জনপ্রিয় হতে হবে। এই পেজ এ ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল দেয়ার মাধ্যমে আপনি টাকা আয় করতে পারেন।

আপনি নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করার মাধ্যমেই টাকা উপার্যন করতে পারেন। তবে আপনার ওয়েবসাইটটি অবশ্যই জনপ্রিয়তা পেতে হবে। তখন বিভিন্ন কোম্পানী আপনার ওয়েবসাইটে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দিবে এবং এর মাধ্যমে আপনি টাকা আয় করতে পারবেন। এছাড়াও ওয়েবসাইট এ আপনি শিক্ষামূলক, সচেতনমূলক ও কারেন্ট ইস্যু নিয়ে নানা ধরণের আর্টিকেল বা আপনার মন্তব্য প্রকাশ করতে পারেন যেগুলো মানুষ পড়লে আপনার টাকা আয় হবে।

আর গত মে মাসে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম একমাত্র ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট খোলা হয়। যেখানে আপনি অনায়াসে এবং অনেক অল্প পরিশ্রমে বেশ ভালো অঙ্কের টাকা আয় করতে পারবেন। বাংলাদেশের একমাত্র ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটটি হচ্ছে  www.footprint.press । এই সাইটে আপনি লেখালেখির মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন। গত কয়েক সপ্তাহ আগে এটি খোলা হয় যা বেশ অল্পকিছুদিনের মধ্যেই অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার ইউজার এখানে লিখছে। আর প্রতিদিন প্রায় হাজার খানেক মানুষ ওয়েবসাইটে আসছে এবং এখানে পাবলিশ হওয়া নানা ধরণের আর্টিকেল পড়ছে। এখানে আর্টিকেল লিখে টাকা আয় করছে অনেকেই। নতুন এই সাইটে আপনার উচিত একবার হলেও ঘুরে আসা। ভালো লাগবে  না এটা হতেই পারে না। দেশের একমাত্র সিকিউর সাইট এটি এবং দেশের সবচেয়ে দ্রুততম সার্ভারের আওতায়। যার ফলে সাইটের গতি অসাধারণ। যারা থ্রি জি ব্যবহার করেন তারাই কেবল এর প্রত্যক্ষ সাক্ষী। প্রথম এক সপ্তাহে সাইটটিতে কি পরিমাণ ভিজিটর ছিল নিচের ছবিটি তার একটি উদাহরণ। সেই সাথে এটি বুঝিয়ে দেয় অল্পদিনের সাইটটির জনপ্রিয়তা।

FB_IMG_1496479110340.jpg

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আমার লেখা এই পর্বেই শেষ করতে চেয়েছিলাম। তবে ইউটিউব,ফেসবুক ও ফুটপ্রিন্ট এ কিভাবে অর্থ উপার্যন করা যায় তা নিয়ে আরো বিস্তারিত আর্টিকেল আসছে আগামীতে।

ভরপুর অশ্লীলতা, চাটুকারিতা, শর্টকার্ট মেন্টালিটি

Now Reading
ভরপুর অশ্লীলতা, চাটুকারিতা, শর্টকার্ট মেন্টালিটি

১৮+ যদি হয় কোন ভিডিওর টাইটেল তাহলে কথায় নেই। হুমড়ি খেয়ে পড়বে মানুষ তা দেখার জন্য। এধরনের মানুষের সংখ্যা মিলিয়ন। কিছুই জানিনা, কিন্তু ভাব করব সব জানি, প্রফেশনালিজম নেই কিন্তু প্রফেশনাল বিজনেস কার্ড আছে। হঠকারিতা বা চাটুকারিতা তো এখন সিভি-তে দেয়ার মত ব্যাপার। সাহিত্য চর্চা করবেন? তো খুব অল্প সময়ে বেশী পাঠিক কিভাবে পাওয়া যাবে? হাউ এবাউট রাইটিং চটি?

লজিক ছাড়া কি কিছু বলা হয়েছে উপরের অংশটাতে? কিন্তু এগুলো এখন বাস্তব। উপরে উঠার শর্টকাট সিঁড়ি খুঁজতে গিয়ে আমরা করি না এমন কোন কাজ নেই। আর এভাবেই খুব খারাপ ধরনের একটা ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের একটা জেনারেশন। তারা তো নিজেরাই সেপথে যাচ্ছে সেই সাথে নিয়ে যাচ্ছে অগণিত সঙ্গী সাথী। আমার নতুন ভিডিওটা একটু দেখুন। নীচে জুড়ে দিলাম। দেখা শেষ হলে মন্তব্য করে জানান আপনার এই ব্যাপারে মতামত কি? আপনাদের মতামত অসম্ভব গুরুত্বপূর্ন এবং বিশ্বাস করুন, এভরিথিং কাউন্টস। এসব বদলাতে আপনাদেরই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে হবে।