প্রসংগ: অনলাইন/অফলাইন ফট্কাবাজি।

Now Reading
প্রসংগ: অনলাইন/অফলাইন ফট্কাবাজি।

অনলাইনে ইনকাম শিরোনামে কিছু ওয়েব সাইট, ইনভেষ্টমেন্ট প্লান অধিক লাভের লোভ দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ধান্দাবাজি করে যাচ্ছে। ধান্দাবাজি চরম প্রকাশ আমরা দেখতে পাই ২০০৯-২০১০ সালের দিকে, তখন ইউনিপে টু ইউ নামক একটি ফটকাবাজ কোম্পানী দশ মাসে দ্বিগুন লাভ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে হাজার হাজার কৌটি টাকা মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়ে, গা ঢাকা দিয়েছে। এরপর শুরু হয় আরো অনেক কোম্পানী তারা ইউনিপে টু ইউ এর দেখিয়ে দেওয়া পথ অনুসরন করে ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষ স্বল্প আয়ের, তাদের কাছে অধিক লাভ বিষয়টা খুবই গুরুত্ব বহন করে। সাধারন মানুষ মনে করে কিছু টাকা খাটিয়ে যদি দ্বিগুন বা তিনগুন ফেরৎ পাওয়া যায়, মন্দ কি ? তাই বেশীরভাগ ক্ষেত্রে তারা ফাদেঁ পা দেয় এবং স্বর্বস্বন্ত হয়। আর এ ধরনের মানসিকতাকে পূঁজি করে কিছু অসাধু ব্যাক্তি দিনের পর দিন তাদের ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খোলসে।

আমরা অনেকেই ডেসটিনির নাম শুনেছি, আবার অনেকে এর দ্বারা আক্রান্তও হয়েছি। ডেসটিনি ছিল স্বপ্ন বিক্রয়ের একটি প্লট ফরম। যেখানে বেকার যুবকদের বড় বড় স্বপ্ন দেখিয়ে মগজ ধোলাই করা হতো। স্বপ্ন পূরনের আশায় যুবকেরা সহায় সম্বল বিক্রি করে টাকা দিয়ে ডেসটিনিতে ভর্তি হতো। তার পর একের পর এক লোক ভর্তি করানোর মেহেনত শুরু করতো। দেশের লক্ষ লক্ষ যুবক ডেসটিনির পেছনে ঘুরে ঘুরে তাদের জীবনে মূল্যবান কিছু সময় এবং ক্যারিয়ার নষ্ট করেছে, ফলাফল কি ? শূন্য।

এজাতীয় অনেক অনলাইন বা অফলাইন (ইনভেষ্টমেন্ট/এমএলএম/ফটকাবাজ) কোম্পানী বাংলাদেশে ছিল, এখনো আছে। অতীতের কিছু কোম্পানীর নাম এখানে উল্লেখ করছে: জিজিএন, নিউওয়ে, ডেসটিনি, রেভনেক্স, আপট্রেন্ড, টংচং, টিয়ানশি, রিচ্, গ্যাটিচ্, ইত্যাদি।  বর্তমানে কিছু কোম্পানী চলমান আছে: ওয়ার্ল্ড মিশন ২১, মানিলজিক, নভেরা, মিশন টেন ইত্যাদি।

এ কোম্পানী গুলো পণ্যের ছদ্দবেশে মানি গেমবলিং করে যাচ্ছে। এতে কিছু লোক লাভবান হচ্ছে, বেশীরভাগ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সকল কোম্পানী এম এল এম পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এম এল এম পদ্ধতি এমনি একটি পদ্ধতি যেখানে কোম্পানী লাভবান হবে, এবং গুটি কয়েক লোক (একশ জনে দুই জন বা তিন জন) লাভবান হবে।

এসকল কোম্পানী তাদের নিয়োজিত কর্মী দ্বারা সাধারন মানুষকে প্রলুব্ধ করে থাকে, তাদের কাজে সম্পৃক্ত করার জন্য, অধিক লাভের লোভ দেখিয়ে। এক পর্যায়ে একটা বিশাল এমাউন্ট তাদের হস্তগত হলে কোম্পানীর কযর্ক্রম বন্ধ করে দেয়।

এক হিসাবে দেখা যায়, শুধু মাত্র ইউনিপে টু ইউ পনেরশ কৌটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল, যা তৎকালীন পত্রিকা মারফত জানা যায়। সবগুলো কোম্পানীর হিসাব করলে হাজার কৌটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

উপরের চিত্র গুলো ছিল,কিছু কাল আগের ঘটনা। হাল আমলে, ফটকাবাজরা তাদের পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে, তারা এখন ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে অনেকটা অনলাইনে ব্যাবসা পরিচালনা করছে।

অধিক লাভের বিজ্ঞাপন দিয়ে, অনলাইনে বিভিন্ন সোস্যালমিডিয়াতে তারা বিজ্ঞাপন দেয়, তা দেখে সাধারন মানুষ প্রলুব্ধ হয় এবং ফলাফল স্বর্বস্বান্ত।বিশেষ করে, ফেইসবুকে এ বিজ্ঞাপন বেশী লক্ষ্য করা যায়। অনেকে ফেইসবুকে বিভিন্ন চটকদার নামে গ্রুপ খুলেও এ কাজটি করে থাকে।

বর্তমানে অনলাইনে কিছু সাইট আছে, যারা ইনকাম দেয়ার কথা বলে ইনভেষ্ট কালেকশন করে বা কাজ করিয়ে নেয়, কিন্ত পেমেন্ট দেয় না। তেননি কিছু সাইট হল: পিটিসি সাইট গুলো, মাইপেইং এড, মাইপেইং ক্রিপটো এড্, রেভশেয়ার,এমবিসি,মানিলজিক সহ আরো অনেক নাম না জানা সাইট।

এ সব সাইটে মূল্যবান সময় নষ্ট করা, এবং টাকা নষ্ট করা ছাড়া কোন ফলাফল নেই।অনেকের অভিমত যদি পাই, এই আশায় করি। কিন্তু পাওয়া যায় না, এটাই চিরন্তন সত্য কথা।

আমরা যদি একটু ভালো ভাবে চিন্তা করি, তাহলে এ গুলোর ভিতরকার জিনিস বুঝতে পারবো। কি এমন আলাদিনের চেরাগ তাদের হাতে আছে, যে আপনার এক টাকার বিনিময়ে সে আপনাকে দুই, তিন অথবা পাঁচ টাকা দিবে। তাদের যদি এতই ক্ষমতা থাকতো,তাহলে সাধারনের কাছ থেকে টাকা নেয়ার দরকার কি ? নিজের টাকা নিজেই তৈরী করে ইনকাম করুক না কেন ?

আগে এসব ফটকাবাজদের ধরা যেত, এখন তাদের ধরা যায় না। কারন তারা এখন অনলাইনে ব্যাবসা করে। আগের ফটকাবাজদের অনেকে এখন জেলে আছে। যেমন ডেসটিনির মালিক, ইউনিপেটুইউর মালিক এরা এখন জেলে। এখনকার ফটকাবাজরা চটকদার সাইট ল্ঞ্চ করে তারপর কিছুদিন সততার সাথে পেমেন্ট দেয়, মানুষের বিশ্বস্ততা অর্জন করে নেয়। একটা সময় বিপুল পরিমান টাকা তাদের হস্তগত হওয়ার পর সাইট বন্ধ করে দেয়। এরকম অনেক নজির আছে, দীর্ঘদিন পেমেন্ট দিয়ে সাইট বন্ধ করার। যেমন: এমপিএ এরা দীর্ঘ দুই বৎসর মানুষকে পেমেন্ট দিয়েছে, তারপর এমবিসি তারা দুই বৎসর পেমেন্ট দিয়েছে তারপর আসুন রিচমন্ডবার্ক, এরা ছয়মাস পেমেন্ট দিয়েছে, ট্রাফিমুনসুনও প্রায় দুই বৎসর পেমেন্ট দিয়েছে।

এ সকল ফটকাবাজদের একটা কৌশল হলো, তারা প্রথম প্রথম সততা দেখায়। তার পর সময় বুঝে এবং তহবিল কালেকশনের অবস্থা বুঝে সাইট বন্ধ করে দেয়।

এ সকল ফটকাবাজদের তৎপরতা রোধ করা খুবই কঠিন। অফলাইনে বা ফিজিক্যালি হলে, তাদের আইনের আওতায় আনা যায়। কিন্তু অনলাইনের ফটকাবাজদের কোনভাবে ধরা যায় না বা আইনের আওতায় আনা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। আমরা যদি সবাইকে এদের সম্পর্কে সচেতন করি, তাহলে কেউ আর ফটকাবাজদের পাতা ফাঁদে পা দেবে না। আর যখন কেউ তাদের ডাকে সাড়া দেবে না, তখন তারা বাধ্য হবে, এ জাতীয় হীন অপতৎপরতা বন্ধ করতে।তথ্য সূত্র: বিভিন্ন পত্রিকা, ফেইসবুক, নিজের অভিজ্ঞতা।

স্বাধীন চাকুরী – ফ্রিল্যান্সিং

Now Reading
স্বাধীন চাকুরী – ফ্রিল্যান্সিং

আমাদের সমাজের একটি প্রচলিত নিয়ম হলো, লেখাপড়া শেষ করে চাকুরী করতে হবে। যে যত উচ্চ শিক্ষিত, সে তত বড় চাকুরী করবে।বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট খুবই নাজুক, চাকুরী যেন সোনার হরিণ। চাইলেই কেউ তার মেধা অনুযায়ী, চাকুরী যোগাড় করতে পারছে না। পদের তুলনায়, প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশী। প্রতিযোগীতা এতই বেশী যে, এতটি পদের বিপরীতে লক্ষ লক্ষ প্রার্থী প্রতিযোগীতায় অবতীর্ণ হচ্ছে। একটি চাকুরী পাওয়ার জন্য কতই না কাঠ খড় পোড়াতে হয়। সরকারী চাকুরী ? সে তো বাঘের চোখ ! একটি সরকারী চাকুরী কোন প্রকৃয়ায় পেতে হয় তা আর না ই বা বললাম।ইনকাম করার জন্য, একজন শিক্ষিত যুবকের চাকুরী করা ব্যাতীত অন্য কোন রাস্তা খোলা থাকে না।যত দিন না চাকুরী পাওয়া যায়, তত দিন পরিবারের লাঞ্চনা গঞ্জনা শুনতে হয়, এত দুর লেখা পড়া করালাম বেকার বসে থাকার জন্য ? অমুকের ছেলে কত ভালো চাকুরী করছে। তুই কেন পাচ্ছিস না।শিক্ষা একজন যুবককে ছোট কাজ করতে বাধা দেয়(না পারে রিক্সা চালাতে, না পারে চুরি করতে), তার আত্নসম্মান বোধ তাকে এটি করতে দেয় না।অপরদিকে না পাচ্ছে চাকুরী।এভাবে চাকুরী খুঁজতে খুঁজতে কত যুবকের সরকারী চাকুরীর বয়স পার হয়ে যাচ্ছে, তার কোন হিসাব নাই বা করলাম। তারপর আসুন আপনি যদি ভাগ্যগুনে কোন রকমে একটি চাকুরী পেলেন, তারপর আপনাকে অবশ্যই একটি টাইম মেইনটেইন করতে হবে।বসের কথা অনুযায়ী চলতে হবে। স্বাধীনতা নামক কোন জিনিস চাকুরীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অপিসে যথাসময়ে প্রবেশ করতে হবে, কোন প্রকার দেরী সহ্য করা হবেনা,কিন্তু কয়টায় ছুটি হবে তার জন্য বসের মুখের পানে তাকিয়ে থাকতে হবে। এরপর আছে কাজের পাহাড়,সব কাজ আজকের মধ্যেই শেষ করতে হবে, বসের এমন তাগাদা। এরকম যখন পরিস্থিতি, অপার সম্ভাবনার একটি পথ ইনকামের সুযোগ নিয়ে এসেছে-পথটি হলো ফ্রিল্যান্সিং।ফ্রিল্যান্সিং মানে হলো মুক্তপেশাজীবি।এখানে কোন বস নেই, নেই কোন টাইম ডিউরেশন, নেই কোন টেনশন। একজন ব্যাক্তি যখন এ কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয় তাকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সার। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কোন অফিস প্রয়োজন হয় না, আপনি স্বাধীন ভাবে নিজের ঘরে বসে এ কাজটি করতে পারবেন, আপনার সুবিধাজনক সময়ে।ফ্রিল্যান্সিং অনেক ভাবে করা যায়। যেমন: মার্কেট প্লেসে বায়ারের চাহিদানুযায়ী কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে, কোন পণ্য মার্কেটিং করার মাধ্যমে যাকে বলা হয় এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, কোন কিছু লেখা লেখির মাধ্যমে যাকে বলে আর্টিক্যাল রাইটিং, কোন কিছু না জেনেও ফ্রিল্যান্সিং করা যায়(টাইপিং জানেন ? আপনার জন্য ডাটা এন্ট্রি জব)। এরকম হাজারো কাজ অনলাইন জগতে আছে, খুজে নিতে হবে। মার্কেটপ্লেস নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। বাংলাদেশের লক্ষাধিক শিক্ষিত যুবক মার্কেট প্লেসে কাজ করে ইনকাম করছেন। মার্কেট প্লেস হলো এমন একটি প্লাটফরম যেখানে বায়ার এবং ফ্রিল্যান্সারের যোগাযোগ, অর্ডার সাবমিট এবং পেমেন্ট প্রকৃয়া সম্পাদন করা হয়।এমনই কিছু মার্কেট প্লেস হলো: আপওয়ার্ক, ফাইভার, ফ্রিল্যান্সার, গুরু, এসইওক্লার্ক ইত্যাদি। এসব মার্কেট প্লেসে লক্ষ লক্ষ কাজ আছে, যা থেকে ফ্রিল্যান্সারা বিড করার মাধ্যমে কাজ করে ইনকাম করে থাকে। এবার আসুন বিড কাকে বলে ? বিড হলো অনেকটা নিলামের মতো, বায়ার একটি কাজের প্রস্তাব উত্থাপন করে রেইট চাইবে, ফ্রিল্যান্সাররা রেইট দিবে। সর্ব নীম্ন রেইট প্রদান কারীকে বায়ার যাচাই বাছাইয়ের পর কাজ দেবে। এভাবেই মূলত: মার্কেট প্লেস ‍গুলো থেকে ফ্রিল্যন্সাররা কাজ করে থাকে। কিছু মার্কেট প্লেস আছে যেখানে ফ্রিল্যান্সাররা রেইট উল্লেখ করে কাজের অফার দেয় এবং বায়ার সে অনুযায়ী অর্ডার সাবমিট করে।যারা প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার তারা কোন না কোন একটি বিষয়ের উপর দক্ষ। তাই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে যে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হলো দক্ষতা অর্জন করা। মার্কেট প্লেস গুলোতে দক্ষ ফ্রিল্যান্সারের ডিমান্ড খুব বেশী এবং কাজের তুলনায় দক্ষ ফ্রিল্যান্সারের অনেক অভাব।ক্যারিয়ার হিসাবে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য যে সব বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সে গুলো হলো: গ্রাফিক্স ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, এসইও এক্সপার্ট জব, ই-মেইল মার্কেটিং, প্রোগ্রামিং, কোডিং, ওয়েব ডেভেলাপ, ওয়েব ডিজাইন সহ আরো অনেক বিষয়।একজন ফ্রিল্যান্সারকে আগে লক্ষ্য স্থির করতে হবে যে, সে কোন বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী অথবা কোন বিষয়টা তাকে মজা দেয়। কারণ যে কাজে মজা নেই সে কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন করা যায় না। যেমন মনে করুন, আমি আর্টিক্যাল রাইটিং বিষয়টায় খুব আনন্দ উপভোগ করি, তাই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আর্টিক্যাল লিখা আমার ফ্রিল্যান্সিং এর বিষয়।তাই আমি একজন আর্টিক্যাল রাইটার। তদ্রুপ আপনাকেও আগে স্থির করতে হবে বিষয়, তারপর কাজে নামতে হবে।ফ্রিল্যান্সিং ধারনাটি সর্বস্তরে তেমন পরিষ্কার নয়, অনেকটা ধোঁয়াশা। ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করা যায় অথবা আউটসোর্সিং করে ইনকাম করা যায় এমন ধারনাকে পূজি করে কিছু অসাধু ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান ধান্দাবাঁজি করে যাচ্ছে লোক চক্ষুর অন্তরালে। যেনতেন কোর্স করিয়ে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।উদিয়মান এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য দরকার সরকারী তদারকী।কারন এখাতটি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হয়, যা ফরেন রেমিটেন্স হিসাবে আসে।কিছু ভালো মানের প্রতিষ্ঠানও আছে, যারা দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরীতে ভূমিকা পালন করছে। পরিশেষে বলবো, চাকুরী নামক সোনার হরিনের পেছনে না ছুটে, সারা দিন বেহুদা মোবাইল ফোনে ফেইসবুকিং না করে আসুন সঠিকভাবে প্রশিক্ষন গ্রহণ করে ফ্রিল্যান্সিং করি।নিজে স্বাবলম্বী হই, দেশের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করি।  তথ্য সূত্র: ফেইসবুক, গুগল, ইউটিউব এবং মস্তিস্ক নি:সৃত ধারণা।

ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে কিভাবে টাকা আয় করবেন? ফুটপ্রিন্ট স্পেশাল (শেষ পর্ব)

Now Reading
ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে কিভাবে টাকা আয় করবেন? ফুটপ্রিন্ট স্পেশাল (শেষ পর্ব)

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে এটাই আমার শেষ আর্টিকেল। এই পর্বে থাকবে কিভাবে ফেসবুক, ইউটিউব এবং ফুটপ্রিন্টে কাজ করে আপনি অনলাইনে টাকা উপার্যন করবেন তা নিয়ে বিস্তারিত। যদিও আমার দ্বিতীয় আর্টিকেল এ এই সম্পর্কে অল্প আলোচনা করেছি। তবে আজ বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করব। তার আগে আপনাদের দ্বিতীয় পর্ব ভালো ভাবে পড়া থাকতে হবে। যারা পড়েন নি তাদের জন্য দ্বিতীয় আর্টিকেল এর লিংক দেয়া হল।

কথা না বাড়িয়ে মূল টপিক নিয়ে লিখা শুরু করলাম। প্রথমেই শুরু করতে চাই ফেসবুক দিয়ে। বর্তমান সময়ের অতি জনপ্রিয় সাইট ও সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগ ছাড়াও ফেসবুকে যাতে মানুষ অর্থ আয় করতে পারে তার জন্য ফেসবুক কোম্পানী কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে তারা একটি ফিচার চালু করেছে যার মাধ্যমে ফেসবুকে অর্থ আয় করা শুরু করেছে অনেকেই। ফিচারটির নাম  ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল। ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল এর মাধ্যমে টাকা উপার্যন করতে হলে কিছু জিনিস আবশ্যক। সেগুলো হলঃ

  • একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট
  • একটি নিজস্ব ফেসবুক পেইজ

আপনার ফেসবুক পেইজ এ যদি লাইকের সংখ্যা লক্ষের ঘরে থাকে তবে সেক্ষেত্রে এই উপায়ে আপনার ভালো পরিমাণ টাকা আয়ের সম্ভাবনা থাকবে। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে আপনার বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করবেন এবং সেসব লেখা ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনার পেইজ এ শেয়ার করে অর্থ আয় করতে পারবেন। ঐ শেয়ারকৃত ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল আপনার পেজের মানুষ যতবার দেখবে বা যত বেশি বেশি পড়বে আপনার টাকা আয়ের পরিমাণ তত বেড়ে যাবে। এছাড়াও ইউটিউবের মত ফেসবুকও চালু করতে যাচ্ছে ভিডিওর মাধ্যমে টাকা আয়। আর অচিরেই ফেসবুক এই নতুন ফিচারটি লঞ্চ করবে। তখন আপনি ইউটিউবের মত ফেসবুকেও ভিডিও আপলোড করে টাকা আয় করতে পারবেন।

এবারে আসুন ইউটিউব নিয়ে কথা বলা যাক। ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে টাকা আয় করা যায় এ কথা এখন প্রায় সবাই জানে। ইউটিউবে কাজ করার জন্য প্রথমেই আপনাকে একটি চ্যানেল খুলতে হবে। তারপর সেই চ্যানেল এ ভিডিও আপলোড করতে হবে। অবশ্যই ভিডিওগুলো আপনার নিজস্ব কন্টেন্ট এর হতে হবে। তারপর সেই ভিডিও যত বেশি দর্শক দেখবে তত আপনার টাকা আয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। এক্ষেত্রে আপনার চ্যানেল এর অবশ্যই হাজার খানেক সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। আপনাকে ভালো শিক্ষামূলক  ভিডিও আপলোড করতে হবে যাতে করে বেশি মানুষ আপনার ভিডিও দেখে। তবে অন্যের ভিডিও আপনি কপি করে ইউটিউবে কখনোই আপলোড করবেন না।

আপনাকে আপনার নিজস্ব টপিক বেছে নিতে হবে। কোন ধরণের দর্শক আপনার চ্যানেল এর ভিডিও দেখছে সে সম্পর্কে আপনার ভালো ধারণা থাকতে হবে। তাহলে আপনি তাদের চাহিদা অনুযায়ী ভিডিও আপলোড  করতে  পারবেন যা ইউটিউবে টাকা উপার্যনের জন্য অনেক কার্যকরী। ফটোগ্রাফির মাধ্যমেও আপনি ইউটিউবে টাকা আয় করতে পারেন। আপনি অনেক গুলো ছবির সমাবেশে বিভিন্ন স্লাইড তৈরি করে তা ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। তবে স্লাইড গুলো অবশ্যই ভালো কোন গল্প নিয়ে গঠিত থাকতে হবে। ছবি দিয়ে ভালো স্টোরি গঠন করতে পারলেই কেবল তা দর্শককে আকর্ষণ করবে। এছাড়াও আপনি দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ডকুমেন্টারি বানিয়ে তা ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। তবে কারেন্ট ইস্যু নিয়ে আপলোড করা ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আপনার ভিডিও যদি একবার ভাইরাল হয়ে যায় তবে যেন আপনার ভাগ্য খুলে গেল। আপনি জার্নালিজম নিয়েও বিভিন্ন ছবির স্লাইড বানিয়ে তা ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। তবে ইউটিউব বর্তমানে তাদের এলগোরিদম হারিয়ে ফেলেছে। কারণ ঠিক কোন এলগোরিদম এ তারা ইউটিউবের ভিডিও মেইনটেইন করছে তা তারা নিজেরাও হয়ত জানে না।

আমাদের দেশের নতুন একটি ফ্রিল্যান্সিং সাইট মাত্র অল্প কিছুদিন আগে আত্মপ্রকাশ করেছে। সাইটটির নাম ফুটপ্রিন্ট (www.footprint.press)। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সাইটটি দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যা  আমি আপনাদের গত আর্টিকেল এ দেখিয়েছি। ফুটপ্রিন্টে কিভাবে টাকা আয় করবেন হয়ত এখনও অনেকের অজানা। চলুন ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

ফুটপ্রিন্টে লেখালেখির মাধ্যমে টাকা আয় করা শুরু করেছে অনেকেই। যারা লেখালেখি করেন বা টাইপিং এ বেশ পারদর্শী তাদের জন্য এটি অনেক ভালো একটি প্লাটফর্ম টাকা আয় করার জন্য। এখানে যারা লেখালেখি করে তাদেরকে ফুটপ্রিন্টার বলা হয়।

আপনাকে যেকোন টপিকের উপর ৭০০ শব্দ বা তার বেশি শব্দ নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখতে  হবে। তবে অবশ্যই তা আপনার নিজস্ব লেখা হতে হবে। আপনি কোন কপি করা বা অন্যের লেখা এখানে ব্যবহার করতে পারবেন না। যদি করেন তাহলে আপনাকে সাইট থেকে চিরতরে নিষিদ্ধ করা হবে।

৭০০ শব্দের আর্টিকেলটির সাথে আপনাকে একটি ফিচার ছবি দিতে হবে। আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে ছবিটি যেন অবশ্যই এইচ ডি কোয়ালিটির হয়। তা না হলে আপনার আর্টিকেলটি সাইটে পাবলিশ নাও হতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।

বানান ভুলের জন্য এখানে অনেক ধরণের পেনাল্টি আছে। তাই আপনাকে বানানের ক্ষেত্রেও সতর্ক হতে হবে। কারণ একই আর্টিকেল এ তিনটির বেশি বানান ভুল হলে ঐ আর্টিকেল এ বরাদ্দকৃত টাকার অর্ধেক টাকা কেটে নেয়া  হবে। আর পরপর তিনটি আর্টিকেল এ  পেনাল্টি পেলে পূর্বরর্তী দুটি আর্টিকেল এর পুরো টাকা কেটে নেয়া হবে। অনেক ধরণের category বা বিভাগ আছে যেগুলোতে আপনি বিভিন্ন টপিক নিয়ে লিখতে পারবেন। এছাড়াও সাইটে আপনার আর্টিকেল প্রকাশ হলে তা ফেসবুকের একটি পেইজ এ শেয়ার করা হবে যেন অনেক মানুষ আপনার আর্টিকেলটি পড়তে পারে।

নতুন যারা ফুটপ্রিন্টে আসছেন তাদের জন্য এই আর্টিকেলটি হয়ত অল্প হলেও কাজে লাগবে বলে আশা করি। অবশেষে যারা ফুটপ্রিন্টে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তাদের জন্য বলছি আপনারা প্রথমে সাইটে দেয়া সম্পুর্ণ নির্দেশাবলী ভালো ভাবে পড়ুন। তাহলেই আশা করি সব সমস্যা সমাধান হবে। এখনকার মানুষ এতটাই  অলস যে সামান্য কিছু লেখা পড়তেও তাদের অনেক কষ্ট হয়। এছাড়াও আপনি ফেসবুকের ফুটপ্রিন্ট গ্রুপে যোগ দিন। সেখানে পুরোনো ফুটপ্রিন্টারদের আপনার সমস্যার কথা জানান। আপনি  সমাধান অবশ্যই  পাবেন। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, ধন্যবাদ। Happy Footprinting, Happy Earning.

ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপিং- পর্ব ২ (ডিজাইন)

Now Reading
ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপিং- পর্ব ২ (ডিজাইন)

ওয়েব ডিজাইন!

ওমা সেতো অনেক কঠিন কাজ!

আমার দ্বারা হবেনা!

কিছুনা এমনই আমাদের অনেকের ধারনা। আসলে কি জানেন যতটা কঠিন ভাবছেন ডিজাইনিং ততোটা কঠিন নয়। ডিজাইন তুলনামূলক অনেক সহজ। এর জন্য দরকার আপনার মনকে স্থির করা এবং আপনাকে চিন্তা করতে হবে যে আপনি কি প্রস্তুত? আপনি যদি মনে করেন আপনি প্রস্তুত তবে আপনার দ্বারাই হবে এটা শেখা। আপনাদের সাথে আমি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে আমার প্রচুর আগ্রহ ছিল স্কুল থেকে। আমি শুধু খুঁজতাম কোন প্রতিষ্ঠান কত তাড়াতাড়ি শিখিয়ে দিতে পারবে। এমন সময় উত্তরায় একটা প্রতিষ্ঠান এর খোঁজ পাই যাদের একটা ব্যানার দেখতে পাই যে তারা  সপ্তাহে ওয়েব ডিজাইন শিখিয়ে দিবে। সত্যি কথা বলতে আমি কিছুই জানতাম না এ সম্পর্কে। ওখানে গিয়ে সুন্দর মত টাকা দেওয়ার পর কিছু নরমাল জিনিস শিখিয়ে বিদায় করে দেয়। আমি সুন্দর মত চলেও আসি। বুঝতে পেরেছিলাম পুরো টাকাটাই জলে গেলো আমার। বাংলাদেশে আমার মত প্রতারিত হচ্ছেন অনেক মানুষই। কিন্তু আপনারা এসকল প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিচ্ছেন কেন? কারন হচ্ছে খুঁজে খুঁজে শেখাটা অনেকটা কষ্টকর তাই। কিন্তু কষ্ট করে শেখার মাধমে যে শিক্ষাটা পাবেন সেটা আপনার জন্য কি পরিমাণে উপকারি তা সময় আপনাকে বলে দিবে। কাজেই আপনাদের জন্য আমি বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিংক সহ আর্টিকেলটি বানাচ্ছি। আশা করছি আপনাদের একটু হলেও কাজে লাগবে।

আমি আমার ধারাবাহিক আর্টিকেলের দ্বিতীয় পর্বের এ পর্যায়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো ডিজাইনিং সম্পর্কে এবং আপনারা কিভাবে বাসায় বসে এটা আয়ত্তে আনতে পারবেন।

ওয়েব ডিজাইনিংয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জিনিস হচ্ছেঃ HTML, CSS, HTML5, CSS3, PHOTOSHOP BASIC, JAVA SCRIPT, JQUERY.

দরকার পড়বে ২টি সফটওয়্যার এর। নোটপ্যাড++ এবং অ্যাডোব ফটোশপ।

এখন এই নামগুলো দেখে মনে হতে পারে এগুলো আবার কি! এখন জেনে নেওয়া যাক এগুলো সম্পর্কে কিছুটা আলোচনাঃ

            HTML

HTML এর পূর্ণ রুপ HyperText Markup Language । অনেকেই এটিকে প্রোগ্রামিং ভাষা বলে ভুল করে থাকবেন । এটি কোন প্রোগ্রামিং ভাষা নয় । এটি একটি মারকাপ ভাষা । মারকাপ এমন একটি ভাষা যা কিছু ট্যাগ ব্যবহার করে ওয়েব পেজ গঠন করে । এগুলো মানুষ পড়তে পারে । প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর মত হাবিজাবি হ-জ-ব-র-ল ভাষা না । এগুলো তে কিছু পরিচিত শব্দ ব্যবহার করা হয় । এইচটিএমএল কে ওয়েবপেজ এর কংকাল বলা হয় । এটি ওয়েবপেজ এর গঠন তৈরি করে ।

সহজে শেখার জন্য আপনাদেরকে কিছু রিসোর্স এর ব্যবস্থা করছি যার দ্বারা আপনারা অনেক সহজে অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

 টিউটোরিয়াল

RR Foundation >https://www.youtube.com/user/rrfdhaka

BD Geeks> http://bdgeeks.com/videos/topics/html/

HTML Ebook> https://www.dropbox.com/s/5z4ln0ncfwus84g/html%20bangla%20ebook.pdf

W3school> https://www.w3schools.com/html/

Webcoach> http://www.webcoachbd.com/html-tutorials

Codeacademy> www.codeacademy.com

CSS

একটা সময় ছিল যখন শুধুমাত্র HTML দিয়েই একটি ওয়েব সাইটের ডিজাইন করা হতো । সে সময়ে ডিজাইন বলতে একটা ওয়েব পেজের বিভিন্ন ফন্ট এর কালার, সাইজ, টেবিলের বিভিন্ন সেলের কালার, পুরো পৃষ্ঠার ব্যাকগ্রাউন্ড কালার, এবং প্রয়োজনীয় ইমেজ সংযোজনকে বোঝানো হতো। এবং প্রতিটা পেজের প্রতিটা উপাদানের জন্যই আলাদা আলাদাভাবে কালার, সাইজ নির্ধারণ করতে হতো। যা ছিল একটা জটিল প্রক্রিয়া, এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার । বর্তমানে যদি একটা ওয়েব সাইটে ১০০০ বা এর অধিক একই ধরনের পেজ থাকে তাহলেও একটি মাত্র CSS স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে ডিজাইন সম্পূর্ণ করা হয়।

 টিউটোরিয়াল

আর আর ফাউন্ডেশন আর বিডি গিক্স এর লিঙ্ক গুলো উপরে দেওয়া আছে সেখানেই পাবেন।

Ebook> http://www.mediafire.com/file/roaic1oe4gxi4zj/CSS+bangla+e-book+by+faruk.zip

W3school> https://www.w3schools.com/css/default.asp

Webcoach> http://www.webcoachbd.com/css-tutorials

Codeacademy> www.codeacademy.com

HTML5

HTML 5 হচ্ছে HTML এর একটি নতুন ভার্সন । এতে নতুন অনেক সুবিধা যোগ করা হয়েছে । কিছু লিঙ্ক একসাথে দিচ্ছি নিচে । সেগুলো থেকেই শিখতে পারবেন ।

W3school> https://www.w3schools.com/html/default.asp

freebanglatutorial> www.freebanglatutorial.com

CSS3

CSS 3 হচ্ছে CSS এর একটি নতুন ভার্সন । এতে অনেক নতুন এবং দারুণ সুবিধা যোগ করা হয়েছে ।

W3school এর কিছু টিউটোরিয়াল দেখলে এটি পরিষ্কার হয়ে যাবে আপনার কাছে।

Photoshop

ওয়েব ডিজাইন এর জন্য ফটোশপ এ বেসিক জ্ঞান থাকা জরুরী । ছোট খাটো কাজের জন্য আপনাকে ফটোশপ জানতে হবে । তবে খুব ভালো জানা লাগবে এমন কোন কথা নয় । বেসিক শেখার জন্য রিসোর্সঃ

RR Foundation> https://www.youtube.com/user/rrfdhaka

BD Geeks> http://bdgeeks.com/category/%E0%A6%AB%E0%A6%9F%E0%A7%8B%E0%A6%B6%E0%A6%AA/

Webcoachbd> http://www.webcoachbd.com/photoshop-basic

Javascript

এটি একটি স্ক্রিপটিং ভাষা । এটিকে ব্রাউজার এর ভাষা ও বলা হয় । জাভাস্ক্রিপ্ট শিখলে আপনি চলে যাবেন ওয়েব ডিজাইন এর একটি নতুন অধ্যায় এ । ভালো মানের ওয়েব ডিজাইনার হতে হলে আপনাকে অবশ্যই জাভাস্ক্রিপ্ট শিখতে হবে । নিচে শেখার কিছু পথ দিয়ে দিচ্ছিঃ

BD Geeks> http://bdgeeks.com/videos/topics/javascript/

Webcoachbd> http://www.webcoachbd.com/javascript-tutorials

W3school> https://www.w3schools.com/js/default.asp

jQuery

jQuery একটি জাভাস্ক্রিপ্ট লাইব্রেরী । জেকুয়েরি আপনার ওয়েবসাইট এ জাভাস্ক্রিপ্ট এর ব্যবহার সহজ করে দেয় । জেকুয়েরি হচ্ছে “কথা কম কাজ বেশি” টাইপ এর লেঙ্গুয়েজ । যে প্রোগ্রাম টি করতে আপনার ১০০ লাইন এর জাভাস্ক্রিপ্ট লিখতে হবে, জেকুয়েরি দিয়ে আপনি সেটা এক লাইন এ করতে পারেন । আপনি যদি জাভাস্ক্রিপ্ট পারেন, তবে জেকুয়েরি শেখা আপনার জন্য সহজ হবে । জেকুয়েরি শিখতে হলে আপনাকে এইচটিএমএল, সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট জানতে হবে । শেখার পথ চিনিয়ে দিচ্ছি, শেখার কাজ টুকু আপনার জন্য রইলঃ

w3schools, webcoachbd, bdgeeks.com, freebanglatutorial.com থেকে আপনারা এর যথেষ্ট ভালো মানের টিউটোরিয়াল পাবেন।

 

একটু কষ্ট করে যদি সকল কিছু কষ্ট করে আয়ত্তে আনতে পারেন তাহলে কিন্তু অনেক কাজে দিবে। তবে দেরি কেনো? আজকেই মাঠে নেমে পড়ুন।

ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে কিভাবে টাকা আয় করবেন? ? ? * ফুটপ্রিন্ট স্পেশাল * ( দ্বিতীয় পর্ব )

Now Reading
ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে কিভাবে টাকা আয় করবেন? ? ? * ফুটপ্রিন্ট স্পেশাল * ( দ্বিতীয় পর্ব )

ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং  নিয়ে লেখা আমার প্রথম আর্টিকেল এ বলেছিলাম কিভাবে অনলাইনে কাজ করার মাধ্যমে অর্থ উপার্যন করে স্বাবলম্বী হওয়া যায়। প্রথম আর্টিকেল থেকে এই আর্টিকেল এর টাইটেল সামান্য একটু ভিন্ন কিন্তু একটা অন্যটার সাথে সম্পর্ক যুক্ত। সেখানে লিখেছিলাম নানা ধরণের অনলাইন ওয়ার্ক প্লেস এর নাম এবং সেসব ওয়ার্ক প্লেস এ কি ধরণের কাজ করে টাকা উপার্যন করা  যায় সেসব কাজ নিয়ে কিছু কথা। এছাড়াও আরো ছিল আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সিং এর অবস্থা, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের র‍্যাঙ্কিং ও এসব নিয়ে বিস্তারিত।

আমি এই আর্টিকেল এ বলব কিভাবে অনলাইন মার্কেটপ্লেস ছাড়াও আরো নানা ধরণের কাজ করে অনলাইনে অর্থ আয়  করা যায়। তবে  আপনাদের পড়ার সুবিধার্থে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে লেখা প্রথম আর্টিকেল এর লিংকটি এখানে দিলাম। প্রথম পর্ব ভালো বুঝলে দ্বিতীয় পর্ব বুঝতে অনেকটা সুবিধা হবে। 

আপনাদের প্রথমেই বলে রাখতে চাই আর্টিকেলটির শেষ দিকে থাকছে দেশের  একমাত্র ফ্রিল্যান্সিং সাইট সম্পর্কে কিছু কথা।  যেখানে কাজ করে অতি সহজেই টাকা আয় করা যায়। আশা করি ধৈর্য নিয়ে পুরোটা পড়বেন।

এবারে চলুন নতুন বিষয়টি নিয়ে কথা শুরু করা যাক। আগের আর্টিকেলটিতে আমি বলেছিলাম কিভাবে oDesk, freelancer.com,  Elance, Guru  ইত্যাদি আরো অনেক মার্কেটপ্লেস এ নানা ধরণের কাজ করে অর্থ আয় করা যায়। তবে এসব মার্কেটপ্লেস ছাড়াও এখন অনলাইনে অন্য অনেক ধরণের কাজ করে অর্থ আয় করে যাচ্ছে অনেক মানুষ। আর অনলাইন মার্কেটপ্লেস এর বদলে এখন ঐসব কাজ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলে আমি মনে করি। তবে এই নতুন কাজগুলো অনেক বেশি ধৈর্য নিয়ে করতে হয়। আর কাজ করার সাথে সাথেই টাকার মুখ দেখতে পাওয়া যায় না। টাকার মুখ দেখার জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয় ও ধৈর্যশীল হতে হয়।

বর্তমানে ছবি তোলা বা ফটোগ্রাফি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ শখের বশে ছবি তোলে আবার কেউ কেউ পেশাদার ফটোগ্রাফার। তবে আপনি ফটোগ্রাফির মাধ্যমেও অর্থ উপার্যন করতে পারবেন এবং সেটা অনলাইনে অর্থাৎ ঘরে বসে। আপনি যদি অনেক ভালো ছবি তোলেন এবং সেসব ছবি বিক্রি করতে চান তাহলে প্রথমে যা করতে হবে তা হচ্ছে 500px  ডট কম  ওয়েব সাইট থেকে ঘুরে আসা। কারণ এটি এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে আপনার নিজের তোলা পছন্দের ছবি গুলো চাইলেই বিক্রি করতে পারবেন এবং এর মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন। 500px ছাড়াও আরো অনেক ধরণের ওয়েবসাইট আছে যেসব সাইটে ছবি বিক্রি করে টাকা আয় করা যায়। যেমন ধরেন  Gatty images, Stock photography ইত্যাদি।

ইউটিউবের নাম শোনে নি এমন মানুষ হয়ত এখন খুজে পাওয়া খুব কষ্টসাধ্য বিশেষ করে যে সকল মানুষ ইন্টারনেট জগতে কাজ করে। ইউটিউব এমন একটি জায়গা যেখানে হাজার কোটি  ভিডিও রয়েছে। আর বিভিন্ন বয়সের মানুষজন সেসব ভিডিও দেখে। আপনি চাইলে ইউটিউবের মাধ্যমেও টাকা আয় করতে পারবেন। তবে এই কাজে আপনাকে অনেক বেশি পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল হতে হবে। ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে আপনি টাকা আয় করতে পারেন। তবে এর জন্য আপনাকে অনেক সাবস্ক্রাইবারের ভিত্তি সহ একটি চ্যানেল ইউটিউবে গড়ে তুলতে হবে। যারা প্রতিনিয়ত আপনার চ্যানেল এ আপলোড করা ভিডিও গুলো দেখবে। কারণ কেবলমাত্র মানুষ আপনার আপলোড করা ভিডিও দর্শক দেখলেই আপনি টাকা আয় করতে সক্ষম হবেন। যত বেশি মানুষ দেখবে তত টাকার অঙ্ক বড় হতে থাকবে। তবে অবশ্যই আপনার ভিডিও গুলো আপনার নিজস্ব কন্টেন্ট এর হতে হবে এবং শিক্ষামূলক হতে হবে। যদি আপনি কোন নকল করা বা অন্যের ভিডিও আপলোড করেন সেক্ষেত্রে ইউটিউব আপনাকে কপিরাইট স্ট্রাইক করবে এবং ঐ নকল ভিডিওর জন্য আপনি কোন টাকা পাবেন না।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম সেরা মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। সম্প্রতি অনলাইনে অর্থ উপার্যনের জন্য ফেসবুক অনেক সমৃদ্ধ। ফেসবুকের মাধ্যমেও আজকাল অনেকেই টাকা আয় করছে। ফেসবুকের অনেক জনপ্রিয় পেজগুলো নানা  ধরণের ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল তাদের পেজে শেয়ার বা পোষ্ট করে। সেগুলো মানুষ দেখলে তারা টাকা আয় করতে পারে। আপনিও চাইলে ফেসবুকে টাকা আয় করতে পারেন। তবে এর জন্য ফেসবুকে আপনার একটি পেজ থাকতে হবে এবং পেজটি অনেক জনপ্রিয় হতে হবে। এই পেজ এ ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল দেয়ার মাধ্যমে আপনি টাকা আয় করতে পারেন।

আপনি নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করার মাধ্যমেই টাকা উপার্যন করতে পারেন। তবে আপনার ওয়েবসাইটটি অবশ্যই জনপ্রিয়তা পেতে হবে। তখন বিভিন্ন কোম্পানী আপনার ওয়েবসাইটে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দিবে এবং এর মাধ্যমে আপনি টাকা আয় করতে পারবেন। এছাড়াও ওয়েবসাইট এ আপনি শিক্ষামূলক, সচেতনমূলক ও কারেন্ট ইস্যু নিয়ে নানা ধরণের আর্টিকেল বা আপনার মন্তব্য প্রকাশ করতে পারেন যেগুলো মানুষ পড়লে আপনার টাকা আয় হবে।

আর গত মে মাসে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম একমাত্র ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট খোলা হয়। যেখানে আপনি অনায়াসে এবং অনেক অল্প পরিশ্রমে বেশ ভালো অঙ্কের টাকা আয় করতে পারবেন। বাংলাদেশের একমাত্র ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটটি হচ্ছে  www.footprint.press । এই সাইটে আপনি লেখালেখির মাধ্যমে টাকা আয় করতে পারবেন। গত কয়েক সপ্তাহ আগে এটি খোলা হয় যা বেশ অল্পকিছুদিনের মধ্যেই অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার ইউজার এখানে লিখছে। আর প্রতিদিন প্রায় হাজার খানেক মানুষ ওয়েবসাইটে আসছে এবং এখানে পাবলিশ হওয়া নানা ধরণের আর্টিকেল পড়ছে। এখানে আর্টিকেল লিখে টাকা আয় করছে অনেকেই। নতুন এই সাইটে আপনার উচিত একবার হলেও ঘুরে আসা। ভালো লাগবে  না এটা হতেই পারে না। দেশের একমাত্র সিকিউর সাইট এটি এবং দেশের সবচেয়ে দ্রুততম সার্ভারের আওতায়। যার ফলে সাইটের গতি অসাধারণ। যারা থ্রি জি ব্যবহার করেন তারাই কেবল এর প্রত্যক্ষ সাক্ষী। প্রথম এক সপ্তাহে সাইটটিতে কি পরিমাণ ভিজিটর ছিল নিচের ছবিটি তার একটি উদাহরণ। সেই সাথে এটি বুঝিয়ে দেয় অল্পদিনের সাইটটির জনপ্রিয়তা।

FB_IMG_1496479110340.jpg

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আমার লেখা এই পর্বেই শেষ করতে চেয়েছিলাম। তবে ইউটিউব,ফেসবুক ও ফুটপ্রিন্ট এ কিভাবে অর্থ উপার্যন করা যায় তা নিয়ে আরো বিস্তারিত আর্টিকেল আসছে আগামীতে।

ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপিং- পর্ব ১ (ইন্ট্রোডাকশন)

Now Reading
ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপিং- পর্ব ১ (ইন্ট্রোডাকশন)

ওয়েবসাইট শব্দটির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। www.google.com, www.facebook.com এগুলো সব গুলোই ওয়েব সাইট। যারা ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে অনেক আগ্রহী তারা ওয়েব ডিজাইনিং এবং ওয়েব ডেভেলপিং সম্পর্কে কম বেশি অনেক কিছু জানেন। অনেকে আবার ওয়েব ডিজাইনিং এবং ওয়েব ডেভেলপিং এর মাঝে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। এ পর্বে আমি ওয়েব ডিজাইন এবং ওয়েব ডেভেলপিং সম্পর্কে খুঁটিনাটি বেসিক ধারণা তুলে ধরব। বিষয়গুলো আমি আমার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরবো। আমি ৪টি খন্ডে ভাগ করেছি লেখাগুলোকে।  ইন্ট্রোডাকশন, ওয়েব ডিজাইনিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়ার্ডপ্রেস। এই পর্বটি হচ্ছে ইন্ট্রোডাকশন।

প্রথমে বুঝতে হবে ওয়েব ডিজাইন এবং ওয়েব ডেভেলপিং কি?

ওয়েব ডিজাইন

ওয়েব ডিজাইনারের কাজ হচ্ছে ওয়েব সাইট ডিজাইন করা। তার কাজ হচ্ছে ওয়েব সাইটের যাবতীয় সৌন্দর্য আরো নতুন রূপে বর্ধিত করা। ওয়েব ডিজাইন শেখা অত্যন্ত সহজ আপনি ইচ্ছা করলে মাত্র ২-৩ মাসের মধ্যে একজন ওয়েব ডিজাইনার হতে পারবেন । ওয়েব ডিজাইনারের মুল কাজ একটা সাইটের জন্য টেমপ্লেট বানানো, এখানে কোন এপ্লিকেশন থাকবেনা।যেমন লগিন সিস্টেম, নিউজলেটার সাইনআপ, পেজিনেশন, ফাইল আপলোড করে ডেটাবেসে সেভ করা, ইমেজ ম্যানিপুলেশন, যদি সাইটে বিজ্ঞাপন থাকে তাহলে প্রতিবার পেজ লোড হওয়ার সময় বিজ্ঞাপনের পরিবর্তন এগুলি এপ্লিকেশন, ওয়েব এপ্লিকেশন।এসব তৈরী করতে হয় প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ দিয়ে। ওয়েব ডিজাইনার হতে হলে আপনাকে (X)HTML এবং CSS এর পাশাপাশি Basic jQuery, JavaScript,  PHP শিখতে পারেন । নানা রকম Framework যেমন,  Bootstrap, Css Less Framework ইত্যাদি । এছাড়া, আপনাকে ফটোশপ এর কাজ জানতে হবে । কেননা, আপনি যদি একজন ওয়েব ডিজাইনার হন তাহলে আপনাকে অবশ্যই সাইট এর ব্যানার, পোষ্টার এবং বিভিন্ন ধরণের বাটন তৈরি করতে হবে ।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট

ওয়েবসাইটের বেসিক অবয়ব তৈরি করা হয়েছে ডিজাইন দিয়ে কিন্তু তার কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। কোন অর্ডার না করলে কোন ভাবেই কাজ করতে পারবেনা। এটাই হচ্ছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজ হচ্ছে রেজিষ্টেশন করা, ওর্ডার করা, নতুন তথ্য আপডেট করা। এই ধরনের কাজ গুলো করার জন্য বিভিন্ন সার্ভার সাইড স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আপনি যদি নিজেকে একজন ওয়েব ডেভেলপার হিসাবে তৈরি করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট ধাপে বিভিন্ন ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে হবে।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে ওয়েব সাইট এর জন্য অ্যাপ্লিকেশন। এখানে আপনাকে কোডিং এর মাধ্যমে নানা ধরণের অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে হবে ।  আপনি যদি ওয়েব ডেভেলপার হতে চান তাহলে ধৈর্য, পরিশ্রম ও মনোযোগের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য । ওয়েব ডেভেলপার হতে হলে অনেক সময় প্রয়োজন । ওয়েব ডেভেলপার হতে হলে আপনাকে  HTML, CSS, jQuery, JavaScript, PHP, MySQL, Java, ইত্যাদি CMS সম্পর্কে ভালো জানতে হবে । এছাড়া Server related যেমনঃ ASP, .NET, AJAX, ইত্যাদি জানতে হবে

যদিও ওনেক বেশি কিছু মনে হচ্ছে কিন্তু আপনি যদি মনোযোগ দিয়ে ২ মাস এ সব বিষয় নিয়ে কাজ করেন তাহলে খুব সহজেই এ ব্যবপার গুলো কাভার করতে পারবেন। একজন ভালোমানের ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই লজিকাল ও আন্যালাইসিস করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এছাড়াও ধাপে ধাপে কাজ করার বিষয়টা বুঝতে  হবে। বিভিন্ন ফ্রিল্যন্সিও সাইটে এর উপর প্রচুর কাজ থাকে। যারা ওয়েব ডেভেলপিং শিখে এবং ভালো মানের কাজ করতে পারে তাদের ইন্টারনেটে কাজ করার সুযোগের অভাব নেই। তারা অনেক কাজ পেতে পারে। কিন্তু এর জন্য যে পরিশ্রমের মাত্রা অনেক বেশি তা বোঝাই যাচ্ছে।

ধরুন একটি গাড়ি বানাতে হবে । এখন একজন গাড়িটি দেখতে কেমন হবে, উচ্চতা, প্রস্থ, রং, ইত্যাদি ঠিক করবে । এবং সে অনুযায়ী গাড়ি বানাবে । এখন যে গাড়ি ডিজাইন করলো এবং বানালো সে হচ্ছে ওয়েব ডিজাইনার এবং এই গাড়ি ডিজাইন করে বানানোটা ওয়েব ডিজাইন ।

আরেকজন গাড়িতে ইঞ্জিন লাগিয়ে গাড়ির সব তার জোড়া দিয়ে ইঞ্জিন, লাইট ইত্যাদি ঠিক করে গাড়িটিকে চলার উপযোগী করে তুল্ল । গাড়িটি কিভাবে চলবে, কি চাপলে কি কাজ করবে । কোন দিকে ঘুরালে কোন দিকে ঘুরবে । ইত্যাদি সব ঠিক করলেন তিনি । এক্ষেত্রে তিনি হচ্ছেন ওয়েব ডেভেলপার । আর এই গাড়িতে প্রাণ দেয়াটাই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ।

 

অনেকেই প্রশ্ন করেন “কিভাবে শিখবো? কোথায় শিখবো? কোথা থেকে শুরু করবো?” ইত্যাদি । এটা স্বাভাবিক, এটা প্রায় সবার ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে ।প্রথমত আপনাকে জানতে হবে আপনি যেটা শিখতে চাচ্ছেন সেটা প্রফেশনাল কাজ। কম্পিউটারের গেম খেলার মত কাজ না। তবে গেম তৈরি করার মত কাজ। কাজেই সময় এবং শ্রম যদি দিতে চান তবে আজই আপনি শুরু  করে দিতে পারবেন।

এখন অনেকেই মাথা ঘামাতে পারেন যে এতো কষ্ট করে শিখবো টাকা কতোই আর পাবো!

এর উত্তর হচ্ছে একজন ওয়েব ডিজাইনার এর গড় বেতন ৭৭,০০০ ডলার । সর্বনিম্ন বেতন ৪০,০০০ডলার এবং সর্বোচ্চ বেতন ৮৫,০০০ ডলার ।

কিছু উচ্চ বেতন প্রদানকারী দেশঃ

Philadelphia, PA: $79,717

San Francisco, CA: $79,551

New York, NY: $77,475

Predicted_Job_Growth_2018.jpg

 

আমাদের দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি

মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাদের দেশে বেশির ভাগ লোকজন কিভাবে আপওয়ার্ক নেটওয়ার্কে একাউন্ট খুলতে হবে, কিভাবে কাজ পাওয়া যেতে পারে এসব কৌশল শিখতে তৎপর অথচ কাজ তেমন একটা শেখেনি। মার্কেটপ্লেস গুলিতে একাউন্ট খোলা ফেইসবুকের মতই সহজ এরপর কয়েকটি পরীক্ষা দিয়ে প্রোফাইল সমৃদ্ধ করতে পারেন। যেকোন বিড করার (যেমন আপওয়ার্ক এ “Apply to this Job”) সময় কভার লেটার তথা আবেদনটি একটু আকর্ষনীয় করে লেখা উচিৎ। ভাল কভার লেটারের নমুনা ঐ সাইটগুলিতেই পাবেন। এগুলি খুবই অগুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পানির মত সহজ। এগুলি নিয়ে চিন্তা না করে আগে টেকনিকালি এক্সপার্ট হউন।

এ পর্বে কিছু বেসিক জিনিস নিয়ে আলোচনা করেছি। পরের পর্বে আরো বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হবে।

ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এ বাংলাদেশ . . . ( প্রথম পর্ব )

Now Reading
ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এ বাংলাদেশ . . . ( প্রথম পর্ব )

বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই টাকা উপার্যন করতে পারবেন। বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সেসব দেশের যুবসমাজ ফ্রিল্যান্সিং এ বেশি আগ্রহ প্রকাশ করছে। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মত আমাদের দেশেও ফ্রিল্যান্সিং প্রচুর পরিমাণে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দেশের বেকার যুবসমাজ ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে এখন অনেক বেশি ঝুঁকছে। আমাদের দেশের মত ছোট দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সুবিধা কম থাকায় দেশের তরুণ সমাজ ফ্রিল্যান্সিং এর দিকে নজর দিচ্ছে।

ঘরে বসে অর্থ উপার্যন করা যায় বলে দেশের তরুণ  সমাজ বিশেষ করে দেশের বেকার যুবকরা এই ফ্রিল্যান্সিং কাজে বেশি মনোযোগী হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ফ্রিল্যান্সিং বাজার অনেক বেশি জনপ্রিয় এবং আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে যে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে তা সত্যিকার অর্থেই প্রশংসার দাবি রাখে। দেশে কর্মসংস্থানের  অবস্থা যখন খুবই নগন্য তখন ফ্রিল্যান্সিং বাজার দেশের বেকার যুবসমাজকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করছে এবং শুধুমাত্র ফ্রিল্যান্সিং কে ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করে অনেকেই এখন বড়লোক হওয়ার ও স্বপ্ন দেখে। চলুন জেনে নেই দেশের ফ্রিল্যান্সিং বাজারের বর্তমান অবস্থা।

প্রথমে জেনে নেই আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং কি?

একবিংশ শতাব্দীতে আউটসোর্সিং শব্দটি অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং বলতে ইন্টারনেটে কাজ করে ঘরে বসে অর্থ উপার্যনকে বুঝায়। এখানে এক দল মানুষ কাজ বিক্রি করে যাদের কে বায়ার বলা হয় এবং অন্যদল মানুষ সেই সব কাজ ঠিকঠাক সম্পন্ন ভাবে করে বায়ারের কাছে হস্তান্তর করে তাদের কাছ  থেকে অর্থ উপার্যন করে। যারা এভাবে অর্থ উপার্যন করে তাদের কে ফ্রিল্যান্সার বলা হয়।

নানা ধরণের অনলাইন ওয়েবসাইটে বায়াররা তাদের কাজ অর্থের বিনিময়ে প্রচার করে বা বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। আর ফ্রিল্যান্সার রা সেসব কাজ  দরকষাকষির মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে নেয়। কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন হলে তারা বায়ারকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে অর্থ আদায় করে। নানা ধরণের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট আছে যেগুলোতে  প্রতিদিন হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার লক্ষ লক্ষ অর্থ উপার্যন করছে। তার মধ্যে Fiverr, oDesk, Freelancer.com, Elance, People Per Hour, Bitsy Task, Hire The World, Guru  ইত্যাদি প্রথম সারির কিছু ওয়েবসাইট যেগুলোতে প্রতিদিন অনেক দেশের ফ্রিল্যান্সাররা প্রচুর অর্থ উপার্যন করছে। আর তাদের থেকে আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সাররাও তেমন পিছিয়ে নয়।

বাংলাদেশে যে সব অনলাইন কাজ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সহজলভ্য সেগুলোর মধ্যে রয়েছে Data Entry, Graphics Design, Software Design and Development, Web Designing, Multimedia, Search Engine Optimization (SEO), Social Media Marketing (SMM) ইত্যাদি। আর এই সব কাজগুলোতে আমাদের দেশের তরুণরা অনেক পারদর্শী। এছাড়াও যারা এসব কাজ পারে না তাদেরকে এইসব কাজ শিখানোর জন্যও অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। তবে বিশেষ করে ঢাকায় সেসব প্রশিক্ষণ সেন্টারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে দেশের অন্যান্য এলাকা  থেকে অনেক বেশি। ফ্রিল্যান্সার ট্রেনিং সেন্টার গুলোর মধ্যে যেগুলো খুব নামকরা সেগুলোর মধ্যে Advance IT Institute, Softech IT, oDesk job training center ইত্যাদি খুবই জনপ্রিয় এবং প্রায় সারা বছর তারা অনেক বেকার মানুষদের ট্রেনিং দিয়ে যায় যারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে ইচ্ছুক।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেশের মেয়েরাও এখন ফ্রিল্যান্সিং এ যোগ দিচ্ছে। যেহেতু ঘরে বসেই অর্থ উপার্যন করা যায় তাই মেয়েরা এর প্রতি বেশি পরিমাণে ঝুঁকছে। ছেলে মেয়েদের যেখানে সমান অধিকার সেখানে মেয়েরা কেন অর্থ উপার্যনে ছেলেদের থেকে পিছিয়ে থাকবে? তবে মেয়েদের ফ্রিল্যান্সিং এ ঝোঁকার পিছনে বেশ কিছু কারণও আছে। যেমন দেশে মেয়েদের জন্য প্রতিকূল কর্মসংস্থানের পরিবেশ, বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, বাইরের পরিবেশে কাজ করার জন্য পরিবারের অসহযোগীতা ইত্যাদি নানা ধরণের কারণে মেয়েরা ফ্রিল্যান্সিং কে অর্থ উপার্যনের পথ হিসেবে বেঁছে নিয়েছে। বাংলাদেশে আউটসোর্সিং করার কিছু সুবিধাদি রয়েছে যার কারণে দেশের মেয়েরা ফ্রিল্যান্সিং এ আকৃষ্ট হয়েছে। প্রথম সুবিধা বাসায় বা ঘরে বসেই কাজ করা যায়। কতক্ষণ কি ধরণের কাজ করবে তা নির্ধারণ করার স্বাধীনতা আছে।

বাংলাদেশে আউটসোর্সিং এর জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট স্থান হিসেবে রূপ ধারণ করেছে। ফ্রিল্যান্সিং এ সবচেয়ে এগিয়ে এমন ৫১ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান  ২৬ তম। যেখানে  পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ১ নাম্বারে। আর পাকিস্তান আছে ২৫ নাম্বার অবস্থানে। এছাড়াও যুক্তরাজ্য ২৭ এ, কানাডা আছে ৩৭ এ। আর অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ৪৯ নাম্বারে। সর্বশেষ অবস্থানে আছে আয়ারল্যান্ড। পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশের চেয়ে আমাদের দেশের অবস্থান অনেক  এগিয়ে। এছাড়াও oDesk এর প্রথম দশটি দেশের র‍্যাঙ্কিং এ বাংলাদেশ আছে ৩ নাম্বারে। যা অনেকটা গর্ব করার মত। oDesk এ ২০০৯ সালেও মোট  মাত্র ২ শতাংশ বাংলাদেশী ব্যবহারকারী ছিল। আর বর্তমানে oDesk এর ১০% একাউন্ট বাংলাদেশিদের দখলে। শুধুমাত্র ভারত ও ফিলিপাইন এর অবস্থান টাই বাংলাদেশের আগে।

এছাড়াও দেশের বর্তমান যুবকসমাজ অন্যান্য দেশের চেয়ে প্রযুক্তি সেক্টরে অনেক বেশি এগিয়ে। তাদের অসাধারণ মেধা আছে। কিন্তু উপযুক্ত সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় তারা তা কাজে লাগাতে পারছে না। তাই সরকার অনেক ক্ষেত্রে সুযোগ  সুবিধা দেওয়ার চেষ্টায় আছে। ২০১৩ সালেও প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার শুধুমাত্র আউটসোর্সিং  সেক্টর থেকে আয় হয়। সেইসময় প্রায় ১৫০০০ ফ্রিল্যান্সার ছিল বাংলাদেশে। তাই মূল পর্যায়ে ৫৫০০০ ফ্রিল্যান্সার তৈরি করার লক্ষ্যে সরকার ২০১৪ সালে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং জগতে বাংলাদেশ অন্যান্য উন্নয়ন্নশীল দেশের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে। যা  আগামী দিনের সম্ভাবনার অনেক দ্বার উন্মোচন করবে। তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের এমন অবস্থান যে বিশ্ব দরবারে অনেক বেশি প্রশংসা কুড়াবে তা আর খুব দূরে নয়।