বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের খুঁটিনাটি

Now Reading
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের খুঁটিনাটি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের খুঁটিনাটি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগে অবস্থিত অন্যতম একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দেশের ৩৩ তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। তবে এটি ২০১১সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
অবস্থান : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় মূল ক্যাম্পাস বরিশাল বিভাগের কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীরে কর্ণকাঠিতে অবস্থিত।

250px-Academic_Buildings_of_the_University_of_Barisal.jpg
ইতিহাস : ১৯৬০ সালে প্রথম বাংলাদেশ স্বাধীনতার আগে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা তৈরি হয়। ১৯৭৩ সালে একটি শহর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষনা করেন, বরিশালে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন যা আকাঙ্ক্ষিত ছিল তার। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বরিশাল সার্কিট হাউস মধ্যে একটি সমাবেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। তিন দশক পরে বরিশাল মানুষের শক্তিশালী চাহিদা থেকে নভেম্বর ২৯, ২০০৮ ECNEC (Executive Committee of National Economic Council) এই প্রস্তাব পাশ করে, তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার দ্বারা। ২২ নভেম্বর, ২০১১, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনের নির্মাণ শুরু করেন। বরিশাল জিলা স্কুল অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ২৫ জানুয়ারী, ২০১২ সালে বেলা পৌনে ১১টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। মুল ক্যাম্পাস ২০১৩ সালে কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীরে সদর উপজেলার কর্ণকাঠিতে নির্ধারিত হয়। কীর্তনখোলা নদীর তীরে কর্ণকাঠি এলাকায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস যেখানে সকল বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

450px-Barisal_University_Campus,_Bangladesh.jpg
ধরন : সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়
স্থাপিত : ২০১১
আচার্য : রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
উপাচার্য : প্রফেসর ডঃ এস এম ইমামুল হক
অবস্থান : বরিশাল, বাংলাদেশ
শিক্ষাঙ্গন : উপশহর, ৫০ একর
সংক্ষিপ্ত নাম : ববি / BU
অধিভুক্তি : বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ওয়েবসাইট : www.barisaluniv.edu.bd
অনুষদ ও বিভাগ সমূহ : ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের জন্য ক্লাস শুরু হয় ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারী; ছয়টি বিষয় নিয়েঃ ১. ব্যবস্থাপনা ২. বিপনন ৩. ইংরেজি ৪. অর্থনীতি ৫. সমাজবিজ্ঞান ৬. গণিত
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৬টি অনুষদের অধীনে ২০টি বিভাগ রয়েছে।

১. জীববিজ্ঞান ও কৃষি অনুষদ :
=> সয়েল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৮০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি. সম্মান)
=> বোটানি এন্ড ক্রপ সায়েন্স বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৮০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি. সম্মান)
=> কোস্টাল স্টাডিজ এন্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (আসন সংখ্যাঃ ২০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি সম্মান)
২. বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ : => গণিত বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৮০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি. সম্মান)
=> কম্পিউটার সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৫০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি. সম্মান)
=> রসায়ন বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৮০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি. সম্মান)
=> পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৮০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি. সম্মান)
=> জিওলজি এন্ড মাইনিং বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৬০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এসসি. সম্মান)।
৩. কলা এবং মানবিক অনুষদ : => বাংলা বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এ. সম্মান)
=> ইংরেজি বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এ. সম্মান)
=> দর্শন বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ২০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এ সম্মান)
৪. সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ : => অর্থনীতি বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এস.এস সম্মান),
=> লোক প্রশাসন বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এস.এস সম্মান)
=> রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এস.এস সম্মান)
=> সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.এস.এস সম্মান)
৫. ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ : => ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭৫ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.বি.এ. সম্মান)
=> মার্কেটিং বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭৫ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.বি.এ. সম্মান)
=> ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭৫ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.বি.এ. সম্মান)
=> একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭৫ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ বি.বি.এ. সম্মান)
আইন অনুষদ : => আইন বিভাগ (আসন সংখ্যাঃ ৭০ এবং প্রদত্ত ডিগ্রীঃ এল.এল.বি. সম্মান)

250px-Barisal_University_Campus_at_night.jpg
শহরের পাশে কীর্তনখোলা নদীর তীরে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস অবস্থিত। বর্তমানে ক্যাম্পাসটির আয়তন ৫০ একর। ভবিষ্যতে এ আয়তন আরো বর্ধিত হবে। এখানে সকল বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম চলে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি দপদপিয়া ব্রীজ নামের দুটি দীর্ঘ ধনুকের মত বাঁকা ব্রীজের অভ্যন্তরে অবস্থিত। দুটি ব্রীজেরই প্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মিশেছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।250px-Barisal_University_Double-decker_bus.jpg

এই ক্যাম্পাসটিতে দুইটি ছাত্র হল, একটি ছাত্রী হল ( নতুন একটি নির্মাণাধীন) , একটি ক্যাফেটেরিয়া ভবন, একটি লাইব্রেরি ভবন, দুইটি ডরমিটরি, দুইটি একাডেমিক ভবন এবং দুইটি প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। এছাড়াও ভিসির বাসভবনসহ রয়েছে কয়েকটি লেক।
‌ছাত্র হল সম্পাদনা : ১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
২. শেরে বাংলা হল

250px-Bangobondhu_Hall,_Barisal_University.jpg
‌ছাত্রী হল সম্পাদনা : ১. শেখ হাসিনা হল [নতুন একটি নির্মাণাধীন ভবনের নাম দেওয়া হয়নি] 250px-Barisal_University_Sheikh_Hasina_Hall.jpg
পরিবহন সম্পাদনা : বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে ২টি মাইক্রোবাস এবং একটি এয়ার কন্ডিশন্ড বাস।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য রয়েছে ৪টি দোতলা বাসসহ রয়েছে মোট ১১টি বাস।250px-Barisal_University_Students_Buses.jpg
রাজনৈতিক সম্পাদনা : ১. বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
২. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল
স্বেচ্ছাসেবী সম্পাদনা : ১. ৭১ এর চেতনা ২.বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা ৩. বাঁধন ৪. হিউম্যান শেড ৫. বরিশাল ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ক্লাব
বিজ্ঞান সম্পাদনা : ১. বরিশাল ইউনিভার্সিটি ২. ন্যাচারাল স্টাডি ক্লাব ৩. স্পার্কল সায়েন্স ক্লাব ৪. বরিশাল ইউনিভার্সিটি আইটি ক্লাব ৫. জেমস হাটন সায়েন্স ক্লাব

IMG_20170603_143734.jpg
সাংস্কৃতিক সম্পাদনা : ১. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় মুভি ক্লাব ২. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় টুরিস্ট ক্লাব ৩. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি

ঘুরে আসুন লালবাগ কেল্লা

Now Reading
ঘুরে আসুন লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা । ঢাকার এক ঐতিহাসিক স্থান । ঢাকাকে যদি আপনি কারো কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে চান তাহলে কিছু স্থানের নাম বললেই হয়ে যায় । আর সেই সব কিছু স্তনের মধ্যে লালবাগ কেল্লা অন্যতম । ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে প্রায় ১৭ শ শতকে জায়গা নিয়ে নির্মিত মুগল দুর্গ ।

পরিচিতি

১৬৭৮ সালে সুবাদার মুহাম্মদ আজম শাহ সর্ব প্রথম এই দুর্গ নির্মাণ করেন । মাত্র ১৫ মাস তিনি ঢাকায় ছিলেন । পরে তাকে দিল্লিতে পাঠানো হয় । তখন দুর্গের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি । পরবর্তীতে ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদ রাজধানী স্থানান্তর করার ফলে এর কাজ কার আর সামনে বাড়েনি । আস্তে আস্তে এটি একটি পরিতেক্ত দুর্গতে পরিনিত হয় । ১৮৪৪ সালে আওরঙ্গবাদ নাম পরিবর্তন করে লালবাগ রাখা হয় । এখানে দুর্গ বা কেল্লা থাকার কারণে পরবর্তীতে এর নাম করা হয় লালবাগ কেল্লা ।

 

লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা

কি আছে এর ভিতরে ?

প্রথমে আপনাকে নাম মাত্র মূল্যে ভিতরে প্রবেশ করতে হবে । আপনি ভিতরে ঢুকলে দেখতে পাবেন কিছু ছোট ছোট অট্টলিকার মতো করে রাখা নবাবদের দুর্গ । শাহ আজমের সাথে শায়েস্তা খাঁ এর মেয়ে পরী বিবির বিয়ে হয় । পরবর্তী কালে পরী বিবি মারা যান । তখন শায়েস্তা খাঁ প্রায় নিজের মেয়ে কে দেখতে পেতেন । এমন শোনা যায় তার মেয়ে যেখানে গোসল করতো সেখানে পানির শব্দ পাওয়া যেত । পরবর্তী কালে তিনি এর দুর্গের নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন । সেখানে আপনি শায়েস্তা খাঁ এর মেয়ে পরী বিবির মাজার দেখতে পাবেন । পরী বিবিকে মসজিদের মাঝখানে কবর দেয়া হলো । বর্তমানে আপনি সেখানে কিছু জাদুঘর দেখতে পাবেন । যেখানে নবাবদের পোশাক , তলোয়ার ও বিভিন্ন জিনিস দেখতে পাবেন । তাছাড়া একটু পশ্চিম পাশে গেলে আপনি দেখতে পাবেন বাহিরে রাখা আছে কিছু কামান ও কিছু অস্ত্র । আগের দিনে তারা শত্রু মোকাবেলা করার জন্য এই সব জিনিস ব্যবহার করতো ।

পরী বিবির মাজার

পরী বিবির মাজার

 

দুর্গের ভিতরে সবচেয়ে আলোচিত জায়গা হলো সুড়ঙ্গ পথ । এই পথ নিয়ে নানান মানুষের মুখে নানান কথা বার্তা শোনা যায় ।অনেকে বলে এই পথ দিয়ে গেলে আপনি আর কোনো দিন ফিরে আসবেন না ।তারা বলে এর ভিতরে নাকি রয়েছে কিছু আত্মা । আবার অনেকে বলে এর ভিতরে দিয়ে অনেক মানুষ গিয়েছে কিন্তু তারা আর ফিরে আসতে পারেনি ।তারা সবাই মারা গিয়েছে । আবার লোক মুখে এমন ও কথা শোনা যায় এই রাস্তা দিয়ে কুকুর কে পাঠানো হয়েছিল পরবর্তীতে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি । অনেকে বলে এই রাস্তা মুর্শিদাবাদ গিয়ে মিলেছে । আবার অনেকে বলে এই রাস্তা বুড়িগঙ্গায় গিয়ে মিলেছে । আসলে মূলত কথা হলো এর ভিতরে আলো বাতাস পরিবেশ করতে পারেনি কখনো , তাই এর ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে গিয়েছে । কেউ যদি এই রাস্তা দিয়ে কোনো ভাবে যায় থামলে সে বিষাক্ত গ্যাস এর কবলে পরে মারা যাবে । অথবা রাস্তা হারিয়ে ফেলতে পারে । মূলত এই সুড়ঙ্গ পথ বানানো হয়েছিল নবাবদের জন্য । যাতে করে তারা সহজে পালিয়ে যেতে পারে যখন শত্রু পক্ষ আক্রমণ করবে ।

তাছাড়া এই দুর্গের ভেতরের পরিবেশ ছোট ছোট কয়েকটি বাগান আপনাকে মুগ্ধ করবে ।আর পথের ধারে দেখতে পাবেন বিশাল বড় এক পুকুর । কিন্তু পানি নেই । ধারণা করা হয় এখানে মাঝে মাঝে পরীবিবি গোসল করতো । আর আপনাকে মুগ্ধ করতে রয়েছে কিছু ঝর্ণা ।

কিভাবে যাবেন ?

যদি আপনি ঢাকার বাহিরে থাকেন তাহেল প্রথমে আপনাকে ঢাকায় আসতে হবে । কারণ এটি ঢাকায় অবস্থিত । ঢাকার প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানে আপনাকে আসতে হবে । সেখান থেকে আপনি দেখতে পাবেন অনেক রিক্সা বা টেম্পু কেল্লা কেল্লা বলে ডাকছে আপনি উঠে পড়ুন যে কোনো একটি তে । ভাড়া নিবে ১৫ টাকা । আর যদি আপনি রিকশা করে যেতে চান তাহলে ভাড়া পর্বে ৫০ টাকার মতো

আর আপনি যদি ঢাকায় থাকেন তাহেল আপনি চলে আসুন গুলিস্থান । সেখান থেকে রিক্সা বা টেম্পু করে চলে যায় লালবাগ কেল্লায় ।

প্রবেশ মূল্য –

লালবাগ কেল্লা প্রবেশ করতে হলে আপনাকে গুনতে হবে ২০ টাকা । আর আপনি যদি বিদেশী নাগরিক হয়ে থাকেন তাহেল প্রবেশ মূল্য ১০ গুন্ বেড়ে হয়ে যাবে ২০০ টাকা । আর আপনি যদি সার্ক ভুক্ত নাগরিক হন তাহলে আসল দাম থেকে ৫ গুন্ বেড়ে হয়ে যাবে ১০০ টাকা । তাছাড়া নতুন ভাবে কেল্লার ভেতরে ওয়াইফাই জোন চালু করেছে । মানে আপনি কেল্লার ভিতরে প্রবেশ করলে চলে যাবেন ওয়াইফাই এর আন্ডারে । আপনি এই সেবা পাবেন একদম বিনামূল্যে । আর আপনি যদি স্কুল বা কলেজের ছাত্র ছাত্রী হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে তারা মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে ভেতরে প্রবেশ করতে দিবে ।

কখন যাবেন ?

গরম কাল মানে গ্রীস্মকালে সকাল ১০ থেকে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে
আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে

রবিবার সম্পূন বন্ধ থাকে লালবাগ কেল্লা । সোমবার অর্ধদিবস খোলা থাকে ।
যেহেতু এটি একটি সরকারি দর্শনীয় স্থান তাই সরকারি ছুটির দিন বন্ধ রাখা হয় ।

চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল

Now Reading
চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গল নাম না বলে আপনি যে কাউকেই জিজ্ঞেস করেন , চায়ের দেশ কাকে বলা হয় ? তিনি ডান বাম না ভেবে আপনাকে বলে দিবে শ্রীমঙ্গল । শ্রীমঙ্গল এমন একটি জায়গায় যেখানে চা হওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযোগী । বাংলাদেশে আর কোথাও এতো চা গাছ বা চায়ের বাগান নেই যতটা শ্রীমঙ্গলে আছে । অপরূপ সুন্দোর্য চায়ের বাগান । শেষ বার গিয়েছিলাম শীতে ।আমি আপনাকে বলবো আপনি শীত কালে কোথাও যদি যেতে চান তাহলে শ্রীমঙ্গল গিয়ে ঘুরে আসুন । ভুলেও বর্ষা কালে যাবেন না । তাহলে জোক আপনাকে আক্রমণ করবে ১০০% শিউর । আর গ্রীস্মকালে গেলে রোদে আপনাকে পুড়তেই হবে । আমি বলবো আপনি শ্রীমঙ্গল ডিসেম্বর এর ২৩ বা ২৪ তারিখে যান ।

খন কিভাবে যাবেন শ্রীমঙ্গল তা এখন আমি বলবো । আশা করি খুব কম খরচে আপনাকে আমি দেখাবো কিভাবে ঘুরে আসতে পারেন ।

আপনি দুই ভাবে যেতে পারেন ট্রেন বা বাস । আমি আপনাকে প্রেফার করবো আপনি ট্রেনে যান তাহলে জার্নিটা যেমন উপভোগ হয়ে উঠবে ঠিক তেমনি খরচ ও কমে যাবে ।

ট্রেন – প্রথমে কমলাপুর থেকে দুই তিন দিন আগে ট্রেনের টিকিট কেটে নিন । তা না হলে আপনি সিট্ পাবেন না । আপনি যদি শোভন চেয়ার যান তাহলে ভাড়া পরবে ২২৫ টাকা । আর হ্যাঁ আপনাকে একটা কথা বলে রাখি অনেকে হয়তো জানেন না , শ্রীমঙ্গল কোনো জেলা নয় । মৌলুভীবাজার এর একটি থানা বা উপজেলা হলো শ্রীমঙ্গল । সিলেট গামী যেকোনো ট্রেনের টিকেট কাটলেই হবে আপনার । সকাল , বিকেল , রাত সব সময় টিকিট পাবেন আপনি । কেটেনিন যে কোনো একটি ট্রেনের টিকেট । ট্রেনে করে গেলে আপনি উপভোগ করতে পারবেন হবিগঞ্জ ও মৌলিভীবাজারের ছোট ছোট কিছু পাহাড় । আপনার জার্নি তখনি আরো মজার হয়ে উঠবে যখন ট্রেনে কিছু লোক একতারা হাতে নিয়ে উঠে আপনাকে আঞ্চলিক গান গাইয়ে শোনাবে । আমি বলবো আপনি একদম সকালে অথবা রাতের ট্রেনে শ্রীমঙ্গল চলে যান । আমি রাতের ট্রেনে গিয়েছিলাম । আপনাকে চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল স্টেশন নামিয়ে দিবে । আপনি সেখান থেকে নেমে সিএনজি করে চলে আসুন মৌলুভীবাজারে ভাড়া নিবে ৩০ টাকা করে । প্রথম দিন আপনি রেস্টে থাকুন । মৌলুভীবাজারের অনেক থাকার হোটেল পাবেন । ভাড়া ৩০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে পড়বে । সেখানে আপনি উঠতে পারেন ।

বাস – আর যারা বাসে যেতে চান তারা প্রথমে চলে আসুন সায়েদাবাদে । সেখান থেকে শ্যামলী বা হানিফা করে হবিগঞ্জ এর নতুন ব্রিজ নেমে যান । ভাড়া পড়বে ৩৫০ টাকা সময় লাগবে মাত্র ৩ ঘন্টা । ২৪ ঘন্টা গাড়ি পাবেন । নতুন ব্রিজ নেমে একটি সিএনজি করে চলে আসুন মৌলিভীবাজার এর চকবাজার । ভাড়া পড়বে ৬০ টাকা করে । নেমে হোটেল ভাড়া করে রেস্টে থাকুন ।

চা বাগান

শ্রীমঙ্গল চা বাগান

 

পরের দিন আপনি একটি সিএনজি ভাড়া করতে পারেন সারা দিনের জন্য । আমি তাই করেছিলাম । সারা দিনের জন্য একটি সিএনজি ভাড়া করেছিলাম মাত্র ৭০০ টাকায় । ভাড়া করার আগে অবশ্যই বলে নিবেন যেন আপনাকে শ্রীমঙ্গল , উপজাতি পল্লী , বদ্ধভূমি , চা বাগান , বিজিবি পার্ক ঘুরিয়ে নিয়ে আসে । সাথে কমলা ও লেবু বাগান যেন ঘুরায় । আপনি যদি সকালে বের হন তাহলে আপনার মোটামুটি ৪ থেকে ৫ ঘন্টা সময় লাগবে ভালমতো সব ঘুরতে । প্রথমে আপনাকে চা বাগান নিয়ে যাবে ।

রাবার বাগান

শ্রীমঙ্গল রাবার বাগান

আমি যাবার পথে রাবার বাগান দেখবেন সেখানে গাড়ি থামিয়ে কিছু ছবি তুলে নিতে পারেন । আমি তাই করে ছিলাম । আপনি রাস্তা দেখে মুগ্ধ হয়ে যাবেন । অনেক সুন্দর রাস্তা । অনেক পরিষ্কার ও গোছালো । তার একটু সামনে এগিয়ে গেলে আপনার চোখে পড়বে চা বাগান । আপনি গাড়ি থেকে নেমে চা বাগানের ছোট ছোট পাহাড় বেয়ে উপরে উঠে যান । বেশি দূর না যাওয়া ভাল , পথ হারিয়ে ফেলতে পারেন অথবা সঙ্গে দামি কিছু থাকলে ছিনতাই হবার ভয় থাকবে । আসে পাশের ছবি তুলতে পারেন ।

 

ভাস্কার

চা এর দেশে স্বাগতম ভাস্কর্য

আবার নেমে সিএনজি তে বসে পড়ুন । সেখান থেকে আপনাকে নিয়ে যাবে একটা ভাস্কর্য এর কাছে । যেখানে লেখা আছে চায়ের দেশে স্বাগতম । খুব সুন্দর একটা জায়গা । নেমে কিছু ছবি তুলে নিন । ঠিক এই ভাস্কর্য পাশে একটি রাস্তা গিয়েছে , এই রাস্তা আপনাকে উপজাতিদের পল্লী তে নিয়ে যাবে । সিএনজি ড্রাইভার কে বলুন তিনি আপনাকে নিয়ে যাবে । ওখানে গেলে আপনি দেখবেন তাদের জীবন ধরণের স্টাইল । খুব সুন্দর তাদের পল্লী গুলো । উঁচু উঁচু করে তাদের বাড়ি গুলো । আপনি নেমে আসে পাশে ঘুরে আসতে পারেন । আমি যখন গিয়েছিলাম তখন তাদের বড় দিন ছিল । খুব সুন্দর করে সাজিয়ে ছিল পল্লী কে ।

সেখান থেকে চলে গেলাম লেবু বাগানে । যখনি আপনি প্রবেশ করবেন তখনি আপনার নাকে এসে ধাক্কা দিবে লেবুর গন্ধ । আপনি সেখানে নেমে কোনো গাছ থেকে লেবু ছিড়বেন না । যারা লেবু পারছে তাদের বলুন একটি লেবু দিতে দেখবেন তারা পানেক মিনিমাম ৮টি লেবু দিবে । আমাকে ও দিয়েছিলো । কি সুন্দর লেবুর ঘ্রান । পুরো সিএনজি লেবুর ঘ্রানে ভরে গিয়েছে । সেখান থেকে আপনি বিজিবি পার্কে যেতে পারেন । সেখানে আপনি সাত রঙের চা পাবেন । আমার বেক্তিগত মতামত , চা একটা একদম মজা না । আপনার কাছে হয়তো মজা লাগতে পারে । সেখানে ঘুরে আপনি আশে পাশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে আসতে পারেন ।

খরচ

ট্রেনে ২২০ টাকা থাকা ৪০০ টাকা করে দুই দিন থাকলে পড়বে ৮০০ টাকা । খাওয়া দুই দিনের পড়বে ৬০০ টাকা । আর সিএনজি ভাড়া ৭০০ । ও ঢাকায় আসার ভাড়া ২২০ টাকা । টোটাল – ২৫০০ টাকা আর বাসে গেলে শুধু বাস ভাড়া বাড়বে আর সব ঠিক থাকবে । আপনি যদি গ্রুপ নিয়ে যান বা দুই জন গেলে টাকা আরো কমে যাবে ২০০০ টাকার মধ্যে হয়ে যাবে । আমরা তিন জন গিয়েছিলাম আমাদের পড়েছিল ১৫০০ টাকা করে ।

বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ( ১ম পর্ব )

Now Reading
বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ( ১ম পর্ব )

বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এর একটি অনন্য উদাহরণ। বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলোর মাধ্যমে বুঝা যায় আমাদের বীরত্ব গাঁথা ইতিহাস একশো বা দুশো বছরের নয় বা আমরা কোনো পরগাছা জাতির মতো নই যারা অন্যদের থেকে উঠে এসেছি। বাঙালীদের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস, আমরা ইতিহাসে সাক্ষী রেখে এসেছি অদম্য সাহস ও শক্তির। প্রাচীন কাল থেকেই বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড ছাড়াও এর আশেপাশের অঞ্চল গুলোতে উন্নত সভ্যতা বেড়ে উঠছিলো তার প্রমাণ হচ্ছে আমাদের এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলো। এসব নিদর্শন গুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের মসজিদ, মন্দির, নগর, দুর্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক ভবন। বিভিন্ন তথ্য অনুসারে বাংলাদেশে প্রায় ২৫০০টি ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে যার মধ্যে ২০১৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ৪৫২টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এর সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলোর আবিষ্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও যাবতীয় দেখা শুনার কাজ বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর এর। আজকের এই পর্বে আমরা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নগর, দূর্গ ও ভবন গুলো তুলে ধরবো।

1435227910..jpg

উয়ারী বটেশ্বরঃ
উয়ারী ও বটেশ্বর নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় অবস্থিত দুটি পাশাপাশি গ্রাম। ঢাকা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে এই গ্রাম দুটি অবস্থিত। গ্রাম দুটির পাশ দিয়ে প্রাচীন কাল থেকে বয়ে গেছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ ও এর শাখা আড়িয়াল খাঁ, গঙ্গাজলি ও কয়রা নদী। এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থলের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্বারা ধারণা করা হয়েছে এটি প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো। ২০০০ সালে কার্বন-১৪ (যা দ্বারা বিভিন্ন ফসিলের বয়স নির্ধারণ করা হয়) তার সাহায্যে আবিষ্কৃত কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলোর পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে উয়ারী বসতিটি প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০ অব্দের। যার মাধ্যমে বুঝা যাচ্ছে এখানে মৌর্য যুগের একটি সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়েছে। ইতিহাস বেত্তাদের মতে, পুণ্ড্রনগরে সভ্যতা গড়ার কিছু আগে এই নগর সভ্যতা নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে প্রাপ্ত চারটি পাথরে নিদর্শন প্রস্তর যুগের বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১০ সালে এখানে ১৪০০ বছরের ইট নির্মিত প্রাচীন বৌদ্ধ পদ্মমন্দির আবিষ্কৃত হয়। ১৯৩০ সালের দিকে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মুহাম্মদ হানিফ পাঠান প্রথম উয়ারী বটেশ্বরকে সুধী সমাজের নজরে নিয়ে আসেন। ২০০০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিভাগের প্রধান সুফি মোস্তাফিজুর রহমান এর নেতৃত্বে প্রথম খনন কাজ শুরু হয়। তিনি জানান উয়ারী বটেশ্বর একটি সমৃদ্ধ, সুপরিকল্পিত প্রাচীন গঞ্জ ( একটি বাণিজ্যিক নগর) “সৌনাগড়া” যা গ্রিক ভূগোলবিদ, টলেমী তার বই “জিওগ্রাফিয়াতে” উল্লেখ করেছেন। উয়ারী বটেশ্বরে শেষ খনন কাজ চালানো হয় ২জানুয়ারি ২০১৭ তে।

ahsanmonjil1.jpg

আহসান মঞ্জিলঃ
আহসান মঞ্জিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ ছিল। এটি বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ঢাকার কুমারটুলিতে অবস্থিত। মুঘল আমলে বরিশালের জমিদার শেখ এনায়েতউল্লাহ এ প্রাসাদটি তৈরি করেন। তার পুত্রের থেকে ফরাসিরা এটি কিনে ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত করে। ঢাকার নবাব খাজা আলিমউল্লাহ ১৮৩০ সালে ফরাসিদের নিকট হতে ক্রয় করে এটিকে আবার প্রাসাদে পরিণত করেন। নবাব আব্দুল গণি নিজ পুত্র খাজা আহসানউল্লাহর নাম অনুসারে এটিকে “আহসান মঞ্জিল” নামকরণ করেন। ১৮৯৭ সালে ঢাকায় ভূমিকম্প আঘাত হানলে আহসান মঞ্জিলের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়। পরবর্তীকালে নবাব আহসানউল্লাহ তা পুনঃনির্মাণ করেন। ১৯০৬ সালে আহসান মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত এক সভায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯২ সালে আহসান মঞ্জিলকে “আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে” রূপান্তর করা হয়।

lal-bag-kella20151124110441.jpg

লালবাগ কেল্লাঃ
লালবাগ কেল্লা মুঘল আমলের ঐতিহাসিক একটি নিদর্শন। এটি পুরান ঢাকার লালবাগে অবস্থিত একটি দুর্গ। এই কেল্লার পূর্ব নাম আওরঙ্গবাদ দুর্গ। সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে তার তৃতীয় পুত্র শাহজাদা মুহাম্মদ আজম শাহ ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। সুবেদার শায়েস্তা খাঁর আমলে এই কাজ অব্যাহত থাকে। তবে তার কন্যা পরিবিবি (প্রকৃত নাম ইরান দুখত রাহমাত বানু ) এর মৃত্যুর পর এই কেল্লাকে অপয়া মনে করে ১৬৮৪ সালে এর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। কেল্লা এলাকাতে পরিবিবির সমাধি অবস্থিত এবং কেল্লার উত্তর- পশ্চিমাংশে বিখ্যাত শাহী মসজিদ অবস্থিত। ১৮৪৪ সালে এলাকাটি “আওরঙ্গবাদ” নাম বদলে “লালবাগ” নাম রাখা হয় এবং দুর্গটি “লালবাগ কেল্লা” নামে পরিচিতি লাভ করে।

sonargao20170509122952.jpg

সোনারগাঁওঃ
সোনারগাঁও বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা। পূর্বে মেঘনা, পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা, দক্ষিণে ধলেশ্বরী এবং উত্তরে ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বেষ্টিত একটি বিশাল জনপদ সোনারগাঁও। এর পূর্বনাম সুবর্ণগ্রাম। ঈসা খাঁর স্ত্রী সোনা বিবির নামানুসারে সোনারগাঁও এর নামকরণ করা হয়। সোনারগাঁর দর্শনীয় স্থান – সোনাবিবির মাজার, পাঁচবিবির মাজার, গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের মাজার, হোসেন শাহ নির্মিত একটি সদৃশ্য মসজিদ, গ্রান্ড- ট্রাঙ্ক রোড ইত্যাদি। সোনারগাঁও এর পানাম নগরী উনিশ শতকে উচ্চবিত্ত ব্যবসায়ীদের বাসস্থান ছিলো।

dscn1852.jpg

বড় কাটরা ও ছোট কাটরাঃ
বড় কাটরা ঢাকার চকবাজারে অবস্থিতে মুঘল আমলের নিদর্শন। সম্রাট শাহজানের পুত্র শাহসুজার নির্দেশে আবুল কাশেম ১৬৪১ সালে বুড়িগঙ্গার তীরে এই ইমারতটি নির্মাণ করেন। ছোট কাটরাও ঢাকার চকবাজারে অবস্থিত শায়েস্তা খাঁর আমলে তৈরি একটি ইমারত। তিনি এটি সরাইখানা বা প্রশাসনিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্মাণ করেন। ১৬৬৩ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৬৭১ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলো খুবই মূল্যবান। এই লেখার প্রথম অংশে কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থান ও দুর্গের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হলো। পরবর্তিতে আমরা বাংলাদেশের সকল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন গুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

 

বাংলাদেশের নদীঃ এক অসহায় কান্না (১ম পর্ব)

Now Reading
বাংলাদেশের নদীঃ এক অসহায় কান্না (১ম পর্ব)

“আজ রক্তনালী শুকিয়ে গেছে, রক্তশূন্য দেশে
কেউবা কাদেঁ সেই জ্বালায়, কেউবা আছে বেশ”

নদী, মাত্র দুটি বর্ণের ছোট্ট একটি শব্দ কিন্তু তার গভীরতা আর তার প্রশস্ততা মানুষের জীবনে রেখেছে এক বিশাল স্থান। নদী নিয়ে কত গল্প কত কবিতা নিয়ে গড়ে উঠেছে কবি লেখকদের সখ্যতা আবার তার বৈরিতাকেই নিয়ে প্রকাশ পেয়েছে সাধারণ জন-মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না। রবীন্দ্রনাথ যেমন মানুষের জীবনের ধারাবাহিকতাকে খুঁজে পেয়েছিলেন নদীর মাঝে তেমনি নদী পূর্ণতা পেয়েছে মানুষের জীবনে। আমাদের প্রাণের দেশ বাংলাদেশ, যা এমন একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে রয়েছে যার কারণে বাংলাদেশ নদীর দেশ হিসেবেই গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে।

পৃথিবীর আদি সভ্যতা থেকে প্রায় সব সভ্যতাই গড়ে উঠেছে নদীকে কেন্দ্র করে। মোহেঞ্জাদারো ও হরপ্পা সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো সিন্ধু নদের অববাহিকায়, সুমেরীয় সভ্যতা ইরাকের ইফ্রেতিস-তাইগ্রিস এর পাড়ে কিংবা চীনের গড়ে উঠা হোয়াংহো ও ইয়াংসি নদীর পাশেই গড়ে ওঠে। নদীই আমাদের বর্তমান সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নীল নদ, সিন্ধু কিংবা হোয়াংহো সব নদীই বাঁচিয়ে রেখেছে তাদের সভ্যতাকে। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যার সিংহভাগ অঞ্চল ঘিরে রয়েছে নদী।

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। উপনদী, শাখা নদী সহ প্রায় ৮০০ টি নদী রয়েছে আমাদের দেশে। যদিও নদীর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর মতে বাংলাদেশে মোট নদীর সংখ্যা ৪০৫টি। এই ৪০৫টি নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১০২টি নদী , উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ১১৫টি নদী , উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৮৭টি নদী , উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ৬১টি নদী , পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলে ১৬টি নদী এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ২৪টি নদী রয়েছে। এইসব নদী বাংলাদেশের ভূখন্ডের প্রায় ২৪,১৪০ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে।

হাজার হাজার ফুট উঁচু পাহাড় থেকে ছুটে চলে আসা জলরাশি স্থলভাগ অতিক্রম করার সময় নদী নামে পরিচিতি লাভ করে। এর ভেতর অনেকের নাম হয় নদী আর কেউবা নাম পায় নদ। নদ ও নদীর পার্থক্য হলো ব্যাকরণগত। যে সকল নদীর নাম নারীবাচক তাদেরকে বলা হয় নদী। আর যে সকল নদীর নাম পুরুষবাচক তাদেরকে বলা হয় নদ।

যে সকল নদী অন্য কোন নদী থেকে সৃষ্টি না হয়ে বরং কোনো প্রাকৃতিক উৎস (হিমবাহ, পর্বত, ঝর্ণা) থেকে সৃষ্টি হয় তাদেরকে বলা হয় প্রধান নদী বলা হয়। বাংলাদেশের প্রধান নদী গুলো হচ্ছে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রক্ষ্মপুত্র ও কর্ণফুলী। আমাদের দেশের প্রাণসঞ্চার জাগিয়ে রাখতে এইসব নদীর ভূমিকা অনেক। বাংলাদেশের দীর্ঘতম ও বৃহত্তম নদী হচ্ছে মেঘনা। মেঘনা নদীর দৈর্ঘ্য ৬৬৯ কিলোমিটার এবং প্রতি মিনিটে ৩৮১২৯ ঘনমিটার পানি প্রবাহিত হয় এই নদীতে। বিশ্বের ৩য় বৃহত্তম নদী হিসেবে মেঘনা অবস্থান করছে। বাংলাদেশের নদীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নাব্যতাও বেশি মেঘনা নদীর। যার গভীরতা প্রায় ৬০৯ মিটার। আর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম নদী গোবরা যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ কিলোমিটার। আর বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী হচ্ছে কর্ণফুলী নদী।

কিন্তু বাংলাদেশ আজ মরুভূমি হওয়ার দিকে একটু একটু করে যাত্রা করছে। বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলো আন্তর্জাতিক বা আন্তঃসীমান্ত নদী। আন্তঃসীমান্ত নদী এমন ধরণের নদী যা এক বা একাধিক দেশের রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করে। বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত নদীর সংখ্যা প্রায় ৫৮টি যার ভেতর ৫৫ টি নদীই এসেছে ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে। অন্য বাকি ৩টি নদী সাঙ্গু, মাতামুহুরি ও নাফ এসেছে মায়ানমার থেকে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছে এরূপ নদীর সংখ্যা মাত্র ১টি (কুলিখ নদী)। আর বাংলাদেশ থেকে ভারতে আবার ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা নদীর সংখ্যা মাত্র ৩টি। আত্রাই, পুণর্ভবা ও ট্যাঙ্গন সেই ৩টি নদী।আন্তঃসীমান্ত নদী গুলো বাংলাদেশের জলবায়ু, অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বিরাট ভুমিকা রাখে। অপরদিকে এই নদীগুলো তাদের স্রোতের সাথে পলি মাটি বহন করে যা নদীর তলদেশ ভরাট করে ফেলে এই কারনে অনেক সময় দেখা দেয় বন্যার প্রকোপ।
কিন্তু ভারত এইসব নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করে আমাদের জলবায়ু এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করার পিছনে অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে। কোনো আন্তর্জাতিক নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করে এর গতিপথ পরিবর্তন করতে চাইলে অন্য যে দেশে এই নদী গিয়েছে তাদের অনুমতি নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করতে হয় এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে তাদেরকে সেই নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা প্রদান করতে হবে। ভারত সেই আন্তর্জাতিক নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করে আমাদেরকে আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা প্রদান করেছে না। এই কারণে আমাদের দুই দেশের মাঝে রয়েছে বহুদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা।

ভারত বাংলাদেশে আসা আন্তঃসীমান্ত নদী গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা বাঁধ, তিস্তা নদীর উপর গজলডোবা বাঁধ, বরাক নদীর উপর টিপাইমুখ বাঁধ প্রদান করছে। ভারত দিবাং বাঁধ নামে নতুন একটি বাঁধ এর পরিকল্পনা করছে যা ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ব্রক্ষ্মপুত্র নদের উপর করা হবে। এই বাঁধ যদি দেয়া হয় তাহলে দিবাং বাঁধ হবে ভারতের সবচেয়ে বড় বাঁধ।
বড় নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করলে তা বাঁধ নির্মাণ অঞ্চল এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য এর ব্যাপক ক্ষতি করে। ভারত এইসব আন্তর্জাতিক নদীর উপর জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা তাদের খরা প্রবণ অঞ্চলে পানি দেয়ার জন্য বাঁধ প্রদান করে আমাদের দেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতি করছে।যার ফলে আমাদের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া সহ নানা ধরনের ক্ষতি সাধন করছে।
এই লেখার ২য় পর্বে আমরা তুলে ধরবো কিভাবে ভারতের এইসব বাঁধের কারণে আমাদের দেশের উত্তরাঞ্চাল মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। কিভাবে ফারাক্কা বাঁধ আমাদের ক্ষতি করছে, কিংবা টিপাইমুখ বাঁধ আমাদের জন্য কি কোনো সুখ বয়ে এনেছে?

মসজিদ নাকি প্রাসাদ?

Now Reading
মসজিদ নাকি প্রাসাদ?

সুন্দর্যে ঘেরা আমাদের এই বাংলাদেশ। বাংলার অনেক কবি সাহিত্যিক এই সুন্দর্য নিয়ে অনেক গল্প, কবিতা লিখেছে। কিছু কিছু যায়গা এতটাই সুন্দর যে, এর সুন্দর্য বর্ণনা করার ভাষা সকলের থাকে না।

দূর থেকে দেখলে যায়গাটা যেনো স্বর্গের কোন প্রাসাদ বা কোন রাজা বা জমিদার এর সদ্য তৈরি করা কোণ অট্টালিকা এর মতন দেখায়। যায়গাটা সবাইকে মুগ্ধ করার জন্য যথেষ্ঠ। তাইতো আমি এর নাম দিয়েছি “জান্নাত এর দরজা”। এইটা দেখতে একটা প্রাসাদ, তবে মানুষের না “আল্লাহ” এর।

হ্যাঁ, বলছিলাম ঢাকার কেরানীগঞ্জের সাউথ টাউন জামে মসজিদ এর কথা। অপরূপ সুন্দর্যে ঘেরা আর চোখ ধাধানো ডিজাইন এর মিশ্রনে যেনো অপার্থিব সুন্দর চোখে পরে। একটা মসজিদ এত সুন্দর করে ডিজাইন এর হতে পারে আপনি না দেখলে বিশ্বাস করবেন না কখনো।

মনে হবে যেনো Disney World এ চলে এসেছেন। মসজিদ টা এরকম ই দেখতে। দূর থেকে দেখেই মনে হয় নিজের সুন্দর জানান দিচ্ছে। তবে যায়গাটার আশে পাশে ইট ভাটা। তাই ধুলা ইকটু বেশী। আপনি যাওয়ার সময় কিভাবে ইট তৈরি হয় বা ইট ভাটার কর্মজীবি শ্রমীকদের সামাজিক অবস্থাও দেখে নিতে পারবেন। তবে আমার মতে  তাদের সাথে বেশী কথা না বলাই ভালো। কারন তারা এইসব ততটা পছন্দ করে না। এমনকি আপনাকে ভালো মন্দ দুই এক কথা শুনিয়ে ও দিতে পারে।

তবে হ্যাঁ কোন খাবার দোকান কিন্তু নেই সেখানে।দুইটা চায়ের দোকান আছে জেল গেট এর অপর পাশে, তবে ততটা স্বাস্থ্যকর না।

আরেকটা কথা। আপনারা চাইলে কেরানীগঞ্জ সেন্ট্রাল জেলখানা ও পরিদর্শন করতে পারবেন। তবে জেলখানা পরিদর্শন করতে হলে আপনাকে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ৩ টা এর মধ্যে জেলখানায় যেতে হবে। আর মসজিদ দেখার উপযুক্ত সময় বিকাল আর সন্ধায়। তাই, দুপরে জেলখানা ঘুরে বিকালে মসজিদ দেখাটা অনেকটাই এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতন হবে। তাছাড়া সন্ধায়, মসজিদ এর চারিপাশে যখন লাইট গুলো জ্বলে উঠে তখন দেখলে অনেকটা মুভিতে দেখানো ভৌতিক বাড়িগুলোর মতন দেখায়। সব মিলিয়ে অসম্ভব সুন্দর একটা যায়গা ঢাকার মধ্যে।

যেভাবে যাবেনঃ

ঢাকার যে কোন যায়গা থেকে গুলিস্তান চলে আসবেন। সেখান থেকে লেগুনা বা সিএনজি করে যাত্রাবাড়ী। যাত্রাবাড়ী থেকে লেগুনা তে পোস্তগোলা ব্রিজ এ। আপনি চাইলে গুলিস্তান থেকে সরাসরি সিএনজি তে করে পোস্তগোলা ব্রিজে চলে আসতে পারেন। পোস্তগোলা ব্রিজ পাড় হওয়ার জন্য সিএনজি আছে। সিএনজি তে পোস্তগোলা ব্রিজের ওপার চলে আসার পর সেখান থেকে লেগুনা আছে। লেগুনায় কেরানীগঞ্জ সেন্ট্রাল জেল গেট এ নেমে যাবেন। তারপর সেখান থেকে ৪/৫ মিনিট হাটলেই পেয়ে যাবেন সাউথ টাউন জামে মসজিদ টি। জেল গেট থেকে যে কাওকে জিজ্ঞা্সা করলেই দেখিয়ে দিবে মসজিদ টি।

যে কোন এক বিকেলে সময় করে ঘুরে আসতে পারেন সকলে মিলে। মসজিদ টা সম্পর্কে এখনো তত মানুষ জানে না। যদি প্রাইভেট গাড়ি থাকে, তাহলে সব থেকে ভালো হবে সকলে মিলে ঘুরে আসার জন্য। আর অবশ্যই মসজিদে নামাজ পড়ে নিবেন এক ওয়াক্ত।