১৯৭১ এ বাংলাদেশের বিদেশী বন্ধু

Now Reading
১৯৭১ এ বাংলাদেশের বিদেশী বন্ধু

মাতৃভূমি রক্ষার্থে লড়াই করা বিরাট গৌরবের ব্যাপার। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলার আপামর জনতার অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে সেই গৌরব অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ হয়েছিল হাজার হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার। এই গৌরব অর্জনের এক বড় অংশীদার হচ্ছে বিদেশিরা। তাদের একান্ত সহযোগিতায় যুদ্ধ জয় ত্বরান্বিত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বাঙালিদের পাশাপাশি কিছু মানুষ ছিলেন যারা এই দেশের না হয়েও মানবতার টানে এই গৌরবময় জয়ে রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। তাই স্বাধীনতা অর্জনে বিদেশিদের অবদান কোনোদিন ভোলার নয়। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিনই সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে ভারতের অবদানের কথা।

বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রামে শুরু থেকেই বহির্বিশ্বের নাগরিকদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ ছিল। নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের হত্যা, নির্যাতন এবং একপেশে যুদ্ধের খবর কেউ পৌঁছে দিয়েছিলেন কলম হাতে, কেউ ক্যামেরা হাতে। বিশ্ববাসীকে জানান দিয়েছিলেন নিজের কবিতায়, কেউবা গান গেয়ে। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশিদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো কজন বন্ধুকে নিয়েই আজকের আলোচনা।

ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী অবদান রাখার জন্য বীরপ্রতীকপ্রাপ্ত ওডারল্যান্ড ছিলেন একজন ডাচ-অস্ট্রেলিয়ান কমান্ডো অফিসার। ঢাকায় বাটা স্যু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ওডারল্যান্ড ১৯৭০ সালের শেষ দিকে প্রথম ঢাকায় আসেন।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই কোম্পানি-ম্যানেজার ওডারল্যান্ড যেন নিজের মধ্যে আবিষ্কার করেন নতুন এক যুদ্ধের মুখোমুখি প্রাক্তন-সৈনিক ওডারল্যান্ডকে। অপারেশন সার্চলাইটের সময় তিনি লুকিয়ে সে রাতের ভয়াবহতার কিছু ছবি তুলে পাঠান আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। এভাবেই তিনি বাংলাদেশিদের প্রাণের বন্ধু হয়ে ওঠেন। শুধু এ দেশের স্বাধীনতার জন্য আর নিরীহ মানুষকে হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে নিজের মানবিক তাড়নাতেই সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে লড়তে থাকেন পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে।

আগস্ট মাসের দিকে তিনি টঙ্গীতে বাটা কোম্পানির ভিতরে গেরিলা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য-ওষুধ এবং আশ্রয় দিয়েও তিনি সাহায্য করেছিলেন। টঙ্গী ও এর আশপাশ এলাকায় বেশ কয়েকটি সফল গেরিলা হামলার আয়োজকও ছিলেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি মুক্তিযুদ্ধে এ বীরোচিত ভূমিকার জন্য বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।

এডওয়ার্ড কেনেডি

১৯৭১-এ বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতার জন্য লড়ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় রিপাবলিকান পার্টি।  রিপাবলিকানদের সমর্থন ছিল পাকিস্তানের দিকে। এর মধ্যেই বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন সিনেটর এডওয়ার্ড।

বিশ্বের মানবতাবাদী মানুষ বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছিলেন। তাদেরই একজন মহান ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশিদের অকৃত্রিম বন্ধু আমেরিকার সিনেটর অ্যাডওয়ার্ড কেনেডি।

অ্যাডওয়ার্ড কেনেডি ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। পাকিস্তান বাহিনীর পাশবিকতা থেকে বাঁচার জন্য মানুষ ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এক কোটি শরণার্থীর দুর্দশা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করে ফিরে এসে কেনেডি সিনেট জুডিশিয়ালি কমিটির কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট করেছিলেন ‘ক্রাইসিস ইন সাউথ এশিয়া’। ইতিহাসে এই রিপোর্টটির গুরুত্ব অনেক। এ রিপোর্টে কেনেডি পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যার কথা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রশাসনের সামনে।

আমেরিকা ছাড়াও তিনি বিভিন্ন দেশে গিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য সাহায্য চেয়েছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে অ্যাডওয়ার্ড কেনেডি সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশে আসেন। এখানে তিনি একটি শোভাযাত্রায় অংশ নেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে কাজ করে গেছেন জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের শরণার্থীদের দুঃখ-দুর্দশা বিশ্ববাসীর দৃষ্টিতে এনেছিলেন এডওয়ার্ড কেনেডি। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের শরণার্থীদের দুর্দশা নিজের চোখে দেখে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে মর্মস্পর্শী একটি প্রতিবেদনও জমা দিয়েছিলেন তিনি।

অ্যান্থনি মাস্কারেনহাস

অ্যান্থনি মাসকারেনহাস জন্মসূত্রে ভারতীয় গোয়ানীজ খ্রিস্টান এবং বসবাস সূত্রে পাকিস্তানি। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছুকাল এদেশে সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সেই সময়কার ঘটনাগুলো তুলে ধরার বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

করাচী থেকে প্রকাশিত দ্য মর্নিং নিউজ-এর প্রধান সংবাদদাতা এবং পরবর্তীতে সহ-সম্পাদক পদে কর্মরত ছিলেন ১৯৬১ থেকে ১৯৭১ সনের মে মাস পর্যন্ত। একাত্তর সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে এসে গণহত্যার তথ্যাদি সংগ্রহ করেন। এরপর বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে লন্ডনের সানডে টাইম্‌স পত্রিকায় গণহত্যার তথ্যাদি প্রকাশ করেন। এজন্য তিনি স্বয়ং ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন। পত্রিকাটির ১৯৭১ সনের জুন ১৩ সংখ্যায় এ সকল তথ্যাদি প্রকাশিত হয়। এতে বিশ্ব বিবেক অনেকাংশেই জাগ্রত হয় এবং বিশ্ববাসী বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্বন্ধে জানতে পারে। তিনি উপমহাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলী অন্তরঙ্গ আলোকে প্রত্যক্ষ করে সংবাদিকসুলভ ভঙ্গিতে তা বর্ণনা করেছেন। তার লেখা বই হচ্ছে “দা রেইপ অব বাংলাদেশ” এবং “বাংলাদেশের রক্তের ঋণ”।

তার দ্য রেইপ অব বাংলাদেশ গ্রন্থটি ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হয়। বইটির সেই প্রাথমিক সংস্করণে শেষের দিকে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ফলাফল সম্বন্ধে আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন-

আমরা সবেমাত্র একটি নতুন অন্ধকারের রাজ্যে প্রবেশ করেছি। অন্ধকারময় সুড়ঙ্গপথের শেষ প্রান্তে যেখানে আলোর রাজ্য শুরু, সেখানে পৌঁছতে আমাদের দীর্ঘ সময় লাগবে।

অবশ্য খুব বেশি সময় আমাদের লাগেনি। আমরা আর কয়েকমাস পরেই পেয়ে যাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

সায়মন ড্রিং

কলম আর ক্যামেরা হাতে নিজের জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে নিরীহ বাংলাদেশিদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন সাংবাদিক সায়মন ড্রিং। একাত্তর সালে সাইমন ড্রিংয়ের বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। তিনি তখন নামকরা পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফের একজন সাংবাদিক। অন্যদিকে তখন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তানি সামরিক সরকার ২৫ মার্চ বিশ্বের বড় বড় সংবাদ মাধ্যমগুলোর ৪০ সাংবাদিককে বাংলাদেশে আসার অনুমতি দিয়েছে।

সেই সুযোগে টেলিগ্রাফের সাংবাদিক হিসেবে বাংলাদেশে আসেন সায়মন ড্রিং। পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের চিত্র তিনি তুলে ধরেন বিশ্ববাসীর সামনে। একসময় সাংবাদিকদের জন্য অবস্থা প্রতিকূলে চলে গেলে তিনি দেশত্যাগ না করে লুকিয়ে থাকেন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। তিনি ২৭ তারিখে পাকিস্তানি বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে আসেন শহরে। ঢাকার বুকে তখন হত্যা, ধ্বংস আর লুটপাটের চিহ্ন। পর্যাপ্ত ছবি আর প্রত্যক্ষ ছবিগুলো নিয়ে তিনি পালিয়ে চলে গেলেন ব্যাংককে।

সেখান থেকে প্রকাশ করলেন ‘ট্যাঙ্কস ক্রাশ রিভল্ট ইন পাকিস্তান’। বিশ্ববাসীর সামনে তিনি তুলে ধরলেন নির্মম বাস্তবতাকে। তার পাঠানো খবরেই নড়েচড়ে বসল পুরো বিশ্ব।

সিডনি শ্যানবার্গ

সিডনি শ্যানবার্গ ছিলেন দি নিউইয়র্ক টাইমস-এর একজন সাংবাদিক। তিনি ১৯৩৪ সালের ১৭ই জানুয়ারি আমেরিকার ক্লিনটন মাসাচুয়েটস -এ জন্মগ্রহন করেন । ১৯৫৯ সালে তিনি দি নিউইয়র্ক টাইমস এ যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ-এর হত্যাকাণ্ড তিনি খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেন। সেসময় তিনি ছিলেন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। হোটেলের জানালা দিয়ে তিনি দেখেন ইতিহাসের এক ভয়ানক হত্যাকাণ্ড।

তিনি পুরো যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের ওপর অসংখ্য খণ্ড খণ্ড প্রতিবেদন পাঠান যার অধিকাংশ ছিল শরণার্থী বিষয়ক। তার প্রতিবেদনে পুরো বিশ্ব জানতে পারে পাক বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ এবং ভারতে অবস্থিত শরণার্থীদের অবস্থা। তার অসংখ্য প্রতিবেদনের একটি নির্বাচিত সংকলন প্রকাশ করেছে ঢাকার সাহিত্য প্রকাশ। সংকলনটির নাম ডেটলাইন বাংলাদেশ-নাইন্টিন সেভেন্টিন ওয়ান। যা অনুবাদ ও সংকলন করেছেন মফিদুল হক।

জে এফ আর জ্যাকব

আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধুদের মধ্যে ভারতের লে. জেনারেল (অব.) জে এফ আর জ্যাকব হচ্ছেন বাংলাদেশের অন্যতম একজন বন্ধু। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অসামান্য অবদানের জন্যে আমাদের বিজয় হয়েছিল তরান্বিত। একাত্তরে তিনি ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অব স্টাফ, তখন তার পদমর্যাদা ছিল মেজর জেনারেল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে রেখেছিলেন অসামান্য অবদান। মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবদান ছিল অনস্বীকার্য আর এক্ষেত্রে জেনারেল জ্যাকবের বিশাল ভূমিকা ছিল। সীমান্ত এলাকায় মুক্তিবাহিনীদের জন্য ক্যাম্প স্থাপন, মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পগুলোর পুনর্গঠন, তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া, অস্ত্র-রসদ জোগান দেয়াসহ মুক্তিবাহিনীর সাথে যৌথ অভিযানে এসে বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত জয়ে অসামান্য অবদান রাখে ভারতীয় বাহিনী।

 

ইন্দিরা গান্ধী

স্বাধীনতা যুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর অবদান অপরিহার্য। ইন্দিরা গান্ধীর জন্ম ভারতের রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী, ঐতিহ্যবাহী নেহেরু পরিবারে। বাবা পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু এবং মা কমলা দেবী। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ বছর ভারত শাসন করেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৩৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দিরা গান্ধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন।

১৯৬৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর তিনি রাজ্যসভার সদস্য হন। লালবাহাদুর শাস্ত্রীর কেবিনেটে তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালে ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারতের রাজনীতিতে আবির্ভূত হন।

ইন্দিরা গান্ধীকে মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ২০১১ সালের ২৫ জুলাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘স্বাধীনতার সম্মাননা’ দেওয়া হয়। ইন্দিরা গান্ধীর পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন তার পুত্রবধূ সোনিয়া গান্ধী।

 

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ

রবিশঙ্কর আর জর্জ হ্যারিসন। বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের কথা সুরের মূর্ছনায় বিশ্ববাসীকে প্রথম জানান দিয়েছিলেন তারাই। কনসার্ট ফর বাংলাদেশ থেকেই বিশ্ববাসীকে আবেগী নাড়া দেয়। নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের নৃশংসভাবে হত্যাযজ্ঞ বাস্তবে উপস্থাপন করেন তারা।

একাত্তরে বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের পৈশাচিকতা দেখে ভারতের সেতারসম্রাট বিখ্যাত শিল্পী রবিশঙ্কর ঠিক করলেন, কিছু করতে হবে তাকে। তার বন্ধু বিখ্যাত বিটলস ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনও এতে সায় দেন।

১ আগস্ট ১৯৭১ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে বসল পৃথিবীর ইতিহাসে স্মরণীয় এক ঐতিহাসিক কনসার্ট। সেখানেই বাংলাদেশের জন্য বাজালেন সেতারসম্রাট রবিশঙ্কর, সরোদসম্রাট ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ, তবলার কিংবদন্তি শিল্পী আল্লারাখা খাঁ।

তারপর একে একে গান গাইলেন বিটলসের জর্জ হ্যারিসন, রিঙ্গো স্টার, লিওন রাসেল, বিলি প্রিস্টন আর কিংবদন্তি গায়ক বব ডিলান। কিংবদন্তি গিটারিস্ট এরিক ক্ল্যাপটনও গিটার বাজিয়েছিলেন কনসার্টটিতে। সবশেষে জর্জ হ্যারিসন গাইলেন তার সেই বিখ্যাত গান ‘বাংলাদেশ’।

জোসেফ ও’কনেল

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত বন্ধু জোসেফ ও’কনেল টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ম গবেষণা বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক ছিলেন। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগের বশে তিনি ও তার সহধর্মিণী ক্যাথলিন ও’কনেল দীর্ঘদিন ধরে বাংলা চর্চা করেছেন।

জোসেফ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখেন। বিদেশে যে কয়জন বন্ধু বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ভাষার প্রতি সত্যিকারে দরদ দেখিয়েছিলেন তাদের একজন তিনি।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় জনমত তৈরি করেন।

অ্যালেন গিন্সবার্গ

কবি এবং কাব্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আলোড়ন তুলেছিল। সেই কবির নাম অ্যালেন গিন্সবার্গ। তিনি একজন মার্কিন কবি। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ওপর তিনি লিখেছিলেন একটি দীর্ঘ কবিতা।

কবিতাটির নাম ছিল- ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। তার কবিতাটি ছুঁয়ে যায় হাজারও মানুষের হৃদয়। নিপীড়িত মানুষের হাহাকার মেশানো, যুদ্ধের বাস্তবচিত্র কবিতার অক্ষরে অক্ষরে জানান দিয়ে যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের দৃশ্য। তার কবিতা শুনে ও পড়ে অশ্রুসজল হয়ে পড়েন হাজারও মানুষ। বাংলাদেশের পক্ষে একাত্ম হয়ে ওঠেন বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অগণিত সাহিত্যপ্রেমিক।

তার কবিতাটির কয়েকটি লাইন এখনো অনেকের মুখে মুখে চলে আসে। ‘মিলিয়নস অব সোলস নাইন্টিন সেভেন্টিওয়ান, হোমলেস অন যশোর রোড আন্ডার গ্রেসান, আ মিলিয়ন আর ডেড, দ্য মিলিয়নস হু ক্যান, ওয়াক টুওয়ার্ড ক্যালকাটা ফ্রম ইস্ট পাকিস্তান’। কবিতার ইস্ট পাকিস্তান বা পূর্ব পাকিস্তানই হলো বর্তমান বাংলাদেশ।

তার এ কবিতার সূত্র ধরেই বিখ্যাত বাঙালি গায়িকা মৌসুমী ভৌমিক কবিতাটির কিছু অংশ বাংলায় অনুবাদ করে তৈরি করেছেন তার ‘যশোর রোড’ গানটি।

পল কনেট দম্পতি

লন্ডনে বাংলাদেশের নিরীহ জনমানুষের ওপর অস্ত্র ব্যবহারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছিল পল কনেট দম্পতি। পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরাচ্ছে এ খবরে তারা আর চুপ করে বসে থাকতে পারেননি। মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন, বাংলাদেশের খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধপথ্য পাঠানোর জন্য তিনি ‘অপারেশন ওমেগা’ নামে একটি সংস্থা করেন।

লন্ডনের ক্যামডেন এলাকায় তারা ‘অ্যাকশন বাংলাদেশ’ নামে একটি কার্যালয় খোলেন। পাকিস্তানি সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য জনমত গঠন করতে ১ আগস্ট লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে বিশাল জনসভার আয়োজন করেন তারা।

এ ছাড়া বাংলাদেশে ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে পল নিজেই চলে আসেন। পলের সঙ্গে তার স্ত্রী এলেন কনেটও বাংলাদেশে এসেছিলেন। ট্রাফালগার স্কয়ারে বিশাল জমায়েত শেষে একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ভারতে আসেন। সেখান থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢোকেন বাংলাদেশে। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। পরে পাকিস্তানের সামরিক আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি মুক্তি পান।

 

লেয়ার লেভিন

পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতার কাহিনী বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেবেন— এ মন্ত্রেই ’৭১ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্যামেরা হাতে ঘুরে বেড়িয়েছেন ‘মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’র সঙ্গে। তারা একটি ট্রাকে ঘুরে বেড়াতেন ভারতের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আর মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে।

সুযোগ পেলে দেশের ভিতরের মুক্তাঞ্চলেও চলে আসতেন। সেখানে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলাদের দেশাত্মবোধক গান শুনিয়ে, পুতুলনাচ দেখিয়ে উজ্জীবিত করতেন। প্রায় ২০ ঘণ্টার ক্যামেরা ফুটেজ তৈরি করলেন তিনি। তারপর ফিরে গেলেন আমেরিকায়। শুরু করলেন ডকুমেন্টারিটি তৈরির কাজ। কিন্তু টাকার অভাবে শেষ করতে পারলেন না ডকুমেন্টারিটি।

পরে অবশ্য আমাদের দেশের আরেকজন বিখ্যাত পরিচালক তারেক মাসুদ আর তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ লেভিনের কাছ থেকে ফুটেজগুলো নিয়ে তৈরি করেন ‘মুক্তির গান’।

একটি ভালবাসার গল্প পার্ট-১

Now Reading
একটি ভালবাসার গল্প পার্ট-১

ভালবাসা অনেক সুন্দর, মধুর এবং অনেক গভীর একটি সম্পর্ক। এই ভালবাসা কখন না কখন সবার জীবনেই আসে। তেমনই ভাবে এসেছিল যূথী ও শিশির এর জীবনে। দুই জনই দুই জায়গার বাসিন্দা। যূথীর বাসা ছিল পাবনা আর শিশির এর বাসা ছিল টাঙ্গাইলে। যদিও শিশিরের নানু বাসা ছিল পাবনাতে। সময়টা ছিল ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস। দুইজনই সদ্য এইচ এস সি পরিক্ষা শেষ করে ঢাকা তে কোচিং করতে এসেছে। যূথী ভর্তি হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিং এ আর শিশির ভর্তি হয়েছিল মেডিকেল ভর্তি কোচিং এ। ভালই চলছিল দুইজনের পড়াশোনা। যূথী থাকতো ওর কাজিনদের সাথে মিরপুরে। আর শিশির থাকতো ওর বড় ভাইয়া আর বড় ভাইয়ার বন্ধু, বন্ধুর ওয়াইফ, বন্ধুর বোন এর সাথে থাকতো মুহাম্মাদপুরে।যূথীর প্রতিদিন  সকাল ৮.৩০ তা থেকে ১০.৩০ তা পর্যন্ত ক্লাস থাকতো আর শিশিরের সকাল ১০.৩০ তা থেকে ১২.৩০ তা পর্যন্ত ক্লাস থাকতো।

শিশির যে বাসায় থাকতো ঐ বাসায় ওর ভাইয়ার যে বন্ধুর বোন থাকতো সে ও কোচিং করতে ঢাকা এসেছিল।ওদের বাসা পাবনা তেই ছিল। ওর নাম ছিল আফসানা। আফসানা র শিশিরের মধ্যে ভাল বন্ধুত্ব হইয়ে গেছিল। দুইজন দুইজনের সাথে সবকিছু শেয়ার করতো। ঐ দিকে আবার আফসানা ছিল যূথীর বেস্ট ফ্রেন্ড। একদিন শিশির আর আফসানা বাসায় বসে আড্ডা দিচ্ছে এমন সময় আফনাসা শিশির কে বলল যে আমার স্কুল আর কলেজ ফ্রেন্ড দের ছবি দেখাই তোকে। শিশির বলল ঠিক আছে। আফসানা উঠে গিয়ে ছবির অ্যালবাম নিয়ে আসলো আর ছবি দেখাতে শুরু করল আর বলল কে কোনটা। ছবি দেখাতে শিশিরের খুব এক্তা মন ছিলনা তারপর ও দেখতে হচ্ছিলো। ছবি দেখতে দেখতে হঠাৎ ওর নজর পড়ে যূথীর ছবির উপর। শিশির নিজে থেকে আফাসানা কে জিজ্ঞেস করে এই মেয়েটা কেরে? আফসানা বলে ও যূথী আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। যূথীকে নিয়ে ওদের মধ্যে অনেক্ষন কথা চলে। এক সময় শিশির আফসানা কে বলে আই মেয়ে কে আমি ১৫ দিনের মধ্যে পটাইয়ে প্রেম করবো। আফসানা বলে কখনও পারবিনা।আই নিয়ে ওদের মধ্যে বাজি লাগে। তারপর শিশির আফসানার কাছে থেকে যূথীর ফোন নাম্বার নেয়। আর সাথে সাথে যূথীকে ফোন করে। যূথী আবার সেদিন বিকেলে ওর কাজিনের সাথে বাইরে গেছিল। সময় তখন বেলা ৩.৩০ টা। অপরিচিত নাম্বার দেখে প্রথমে যূথী ফোনটা ধরেনি। একটু পর আবার ফোন ঐ নাম্বার থেকে যূথী ভাবল হইত পরিচিত কেও হবে তাই ভেবে ফোনটা ধরল। যূথী ফোন ধরে হ্যালো বলল তখন অপর পাশ থেকে শিশির বলে চল্ল কেমন আছ? কি কর? যূথী বলল কে বলছেন? আমি তহ আপনাকে চিন্তে পারছিনা। শিশির বলল অহ সরি আমি পরিচয় দিতে ভুলে গেছি। আমি শিশির তোমার ফ্রেন্ড আফসানার ফ্রেন্ড আমি। আমি কি তোমার সাথে কথা বলতে পারি? যূথী বলল আমি তহ এখন একটু বাইরে আছি আমি আপনার সাথে পরে কথা বলব বলে বাই বলে ফোন টা রেখে দিল।ঐ দিন তারিখ ছিল ৫/৯/২০০৭।

যূথী ওর কাজিনদের সাথে থাকতো বিধাই ও সবসময় গল্প করা আর পড়াশোনা এই নিয়ে সময় পার হয়ে যেতো। তাই ও ভুলেই গেছিল শিশিরের কথা। ঐদিন আর শিশির ও ফোন করেনি। পরের দিন বেলা ৪.৩০ টার দিকে যূথীকে আবার ফোন দেয়। তখন আবার যূথী নাম্বার দেখে প্রথমে ফোনটা ধরেনা। পরে আবার ফোন দেয়াতে যূথী ফোন টা ধরে। শুরু হয় ফনালাপ।

যূথীর আবার সহজে কাউকে তুমি বলতে পারেনা। তাই ও আপনি আপনি করেই শিশিরের সাথে কথা চালিয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু শিশির তো নাছোড়বান্দা ও বলে আমাকে তুমি তুমি করে বল। খুব করে বলে দেখে যূথী অবশেষে শিশিরকে তুমি করে বলে। শিশিরতো মহা খুশি। প্রথম দিনে যূথী খুবই বিরক্ত হচ্ছিল শিশিরের সাথে কথা বলতে। কিছুক্ষন কথা বলে যূথী বলে পরে কথা বলব বলে ফোনটা রেখে দেয়। শিশির ও কিছু মনে করেনা। পরে ঐ দিনই সন্ধাই আবার ফোন করে শিশির যূথীকে। ফোন করে জিজ্ঞেস করে শিশির আমি কি তোমাকে রাতে ফোন করতে পারি? যূথী সরাসরি বলে দেই যে না সম্ভব না রাতে কথা বলা।পরেরদিন দুপুরে শিশির আবার ফোন করে। কথা চলে প্রায় ১ ঘণ্টার মতো। একে অপরের সম্পর্কে জানাজানি হয় দুইজনের মধ্যে। এভাবে চলতে থাকে কথার মেলা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে ফোনালাপ।একদিন শিশির বলে চলো আমরা দেখা করি। যূথীর কোন ইচ্ছা ছিলনা দেখা করার। তারপরও ও রাজি হল। ঠিক হল যূথী কোচিং থেকে বের হইয়ে শিশিরের জন্য অপেক্ষা করবে। শুধু দেখা হবে কোন কথা বলবেনা।যদিও যূথী শিশিরকে চিনেনা কিন্তু শিশির যূথীর ছবি দেখেছে ও চিন্তে পারবে। ঠিক হল পরের দিন তাহলে তাদের দেখা হচ্ছে।

পরের দিন যথা সময়ে ক্লাস শেষ করে যূথী ওর কাজিনের সাথে বাস এর জন্য অপেক্ষা করছে আর মনে মনে শিশিরকে খুজচ্ছে। বাস চলে আসাতে ও আর শিশিরের জন্য অপেক্ষা করতে পারেনা তাই ও ওর কাজিনের সাথে বাসে উঠে চলে আসে। ওইদিকে শিশির এসে আর যূথী কে খুজে পাইনা। অবশেষে ও ক্লাস এ চলে যাই। যূথী দেখা না করে চলে যাওয়াতে ও মনে মনে অনেক রাগ করেছিল। ক্লাস শেষ করে বাসায় ফিরে যূথীকে ফোন দেয়।…………

 

 

 

 

 

বন্ধু

Now Reading
বন্ধু

Part – 1

মাঠের মধ্যে অনেখন ধরে বসে আছে পারভেয ও শামিম। হঠাৎ দুইজনের পিঠের ওপর একসাথে দুই হাত দিয়ে থাপ্পর দিল তুষার। পারভেয আস্তে আস্তে তুষার কে বলল যে তার মন ভালো নেই ফাইযলামি করিসনা। কেন? কি হইসে? জানতে চায় তুষার। পারভেয হটাত করেই তুষার কে জরিয়ে ধরে কেদে দেয়। কান্দস কেন?? কি হইসে খুইলা ক।পারভেয বলল যে রাহেলার বিয়ে ঠিক হয়ে গেসে। তুষার যেন আকাশ থেকে পরল। এরপর তুষার নিজেকে সাম্লে নিয়ে বলল যে এতো খুশির সংবাদ। মিষ্টি কই? ধুর বেটা কান্দস কেন? বিয়া ঠিক হইসে আর আকজনের সাথে বলে উঠল শামিম। ও আচ্ছা। এইডা কোন সমস্যা হইল। আমি তোর সমস্যার সমাধান করে দিতে পারি,কিন্তু এক সর্তে। কি শর্ত জিজ্ঞাসা করলো পারভেয। তুষার বলল গ্রিল আর নান খাউয়াতে হবে ।বিয়ে ঠিক হউয়া মানেইত বিয়ে হয়ে গেলনা। রাহেলার থেকে ছেলের নাম্বারটা আন এর পর জা করার আমি করে দিব। তবে না খাউয়ালে তোর খবর আসে কিন্তু।

তুষার এর এ কথা শুনে পারভেয এর কষ্ট যেন এক মুহূর্তেই হারিয়া গেলো। তুষার এর মধ্যে যে কি জাদু আছে ভেবেই পায়না পারভেয, যখন ই কোন বন্ধু কোন সমস্যায় পরে ও খুব সহজেই তার সমাধান করে দিতে পারে।তারা তিনজন ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছে। তাদের মধ্যে সবসময় জগ্রা,মারামারি,শইতানি চলতেই থাকে। এখন তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়ে। শামিম ও পারভেয দুজনেই প্রেমনিলাতে জরিয়ে আছে কিন্তু তুষার এখনও ঐ জায়গাতে পা পরেনি।পরবেইবা কেমন করে তুষার একটু লাজুক প্রকিতির ও কঞ্জুস টাইপের।তাই আজ পর্যন্ত তার কোন গার্লফ্রেন্ড জুটে নাই। এই নিয়ে তাকে কটুর কথাউ সুন্তে হয়। কিন্তু সে তা এক কান দিয়ে ঢুকায় আর অন্য কান দিয়ে বের করে দেয়। পারভেয এর গার্লফ্রেন্ড এর নাম রাহেলা আর শামিম এর গার্লফ্রেন্ড এর নাম নিতু। তারা একসাথে যত জায়গাতে জায় তুষার কে সঙ্গে নিয়ে যায়।

একবার ক্লাস শেষে তুষার ফ্রেন্ডদের জন্য অপেক্ষা করছে, এমন সময় রিক্সা করে কলেজ এ পড়ুয়া একটি মেয়েকে দেখে তার প্রেমে পড়ে জায়। মেয়েটি তাদের ক্যাম্পাস এর কলেজ সেকশন এর ছাত্রী। এ কথা যেদিন পারভের আর শামিমকে তুষার বলল তারা তখন খুব অবাক হল এবং বলল কি মামা তলে তলে এতদূর?? ডুবে ডুবে জল খাউয়া হচ্ছে আর আমারা টেরই পেলামনা!! মেয়েটাকে কবে দেখাবি বল?? দেখাতে পারি তবে এক শর্তে বলল তুশার।কি শর্ত জিজ্ঞাসা করলো অরা দুজন। তোরা মেয়েটাকে দেখটে পারবি কিন্তু কিছু বলতে পারবিনা। ওকে? পারভেয খানিকটা রেগে গিয়ে বলল আটা কেমন কথা! কথা না বললে প্রেম করবি কিভাবে?? কয়েকদিন যাক তারপর বল্ব,আগেত দেখ তোদের পছন্দ হয় কিনা। শামিম একটু মুচকি হেঁসে বলল প্রেম কি তুই করবি নাকি আমরা করমু কোনডা??…………।। পরের দিন তুষার, শামিম ও পারভেয কে নিয়ে ঠিক ওই জায়গাতাতে দাড়ায় যেখানে সে মেয়েটিকে দেখেছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই মেয়েটি কলেজ থেকে বাসায়র দিকে যাচ্ছিল। তার দুই বন্ধু প্লান করে রাখছিল যে মেয়েটিকে গিয়ে বলেদিবে তুষার তাকে ভালোবাসে। কিন্তু তুষার বুজতে পেরে তাদের দুই হাত দিয়ে টেনে ধরে থাকে। প্রায় এক বছর হতে চলল তবুও তুষার বলার সাহস পাইনি যে সে মেয়েটাকে ভালোবাসে………।।

রাহেলাকে দিয়ে কল করিয়ে ওই ছেলেটাকে একটি রেস্তরায় ডেকে আনে তুষার। তারপর ছেলেটাকে তারা সব কিছু বুজিয়ে বলে তারা সবাই। তারপর ছেলেটি সব শুনে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন পারভেয খুশীতে আত্মহারা হয়ে তুষারকে জরিয়ে ধরে কেদে দেয়। ওই তোর সমস্যা কিরে?? খুশিতেও কান্দস দুঃখেও কান্দস?? পাবনাতে কি বুকিং দিমু নাকি?? মুচকি হেঁসে বলে তুষার। চোখ মুছে পারভেয বলে ওই আমি পাগল……………।।

Part – 2

আজকে শামিম ও পারভেয খুব খুশি। এর কারন ও অবশ্য একটা আছে, আজ তাদের কঞ্জুস ফ্রেন্ড এর জন্মদিন। অনেকদিন পর তার থেকে কিছু খাউয়া যাবে। পার্টি দিতে হবে।সুধু সুধু আমার কত গুলো টাকা খরচ। ইস!!! আমার জন্মদিনটা যদি লিপ ইয়ার এ হত তাহলে ভালো হত,মনে মনে ভাবছে তুষার। ঐদিকে পারভেয ও শামিম প্লান করছে যে রাহেলা আর নিতু কে দিয়ে ঐ মেয়ের সাথে কথা বলাবে। প্লান অনুযায়ী তারা সবাই কলেজ ছুটি হউয়ার সময় দাঁড়াল। তারা একটু দুরেই ছিল কারন,প্রতিদিনের নেয় আজকেও তুষার মেয়েটাকে দেখার জন্য ওখানে দারিয়ে ছিল। শামিম বলল ঐযে মেয়েটা আসছে তোমরা যাও গিয়ে কথা বল। নিতু এতক্ষণে মেয়েটিকে দেখল, দেখেতো কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়া রইল। মেয়েটাতো চলে যাচ্ছে ।তুমি যাচ্ছ না কেন?? বলল পারভেয।আর এ এই মেয়েটো আমার ফুফাটো বোন মৌ। ৪ জনের নজর ছিল এতক্ষণ ঐ মেয়েটার দিকে এখন তাদের ৩ জনের নজর নিতুর দিকে। পারভেয আর শামিম তো পারে লাফালাফি শুরু করে। আবারে তুষার এর জন্মদিনে একটা স্পেশাল সারপ্রাইজ গিফট দেয়া যাবে বলল রাহেলা। ঠিক বলছ , বলল পারভেয। তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ গিফট আসে ফোন করে বলল পারভেয। কি গিফট জানতে চায় তুশার।উহু বলা জাবেনা তাহলেতো আর সারপ্রাইজ থাকলোনা। কালকে জন্মদিনের পার্টি তে দেখতে পাবি………।।

তুষার অনেখন ধরে বসে আছে জয় রেস্তরাঁয়। এখন পর্যন্ত একটা বন্ধুও আসেনি। তাদের সবাইকে কল দিয়েছে। সবাই আসছি বলে এক ঘণ্টা হয়ে গেলো এখন ও কেউ আসেনি। ঐদিকে দুই বন্ধু তাদের বন্ধুর জন্যে গিফট কিনতে গেছে। গিফট কেনা শেষ হতে না হতেই তুষার এর ফোন। ওরা বলল যে পাঁচ মিনিট এর মধ্যেই আসছে। ঐদিকে নিতু পৌঁছে যায় রাহেলার বাসায়। রাহেলাকে নিয়ে একসাথেই তারা জয়তে যাবার উদ্দেশে রউনা হয়।

হাঁসপাতালের চারদিকেই ভিড় করে আছে সবাই। কান্নার জন্যে কেউ ঠিক করে কথা বলতে পারছেনা। পারভেয এর বাঁচার আশংকা খুবই ক্ষীণ আর শামিম এর দুটো চোখ ই নষ্ট হয়ে গেছে। পারভেয এর জন্য প্রচুর রক্তের প্রয়োজন। পারভেয এর রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ। যা কোন হাঁসপাতাল এ পাউয়া যাচ্ছে না আর শামিম এর জন্য রক্ত পাওয়া গেছে কিন্ত চোখ পাওয়া যাচে না। জয় রেস্তরাঁয় রিক্সা করে যাবার সময় পেছন থেকে একটা কার এর সাথে ধাক্কা লাগে। পাশে থাকা কিছু মানুষ তাদের ধরাধরি করে হাঁসপাতাল এ নিয়ে আসে। অবশেষে অনেখন পর রক্ত আর চোখ পাওয়া গেলো। তারপর ডাক্তারের প্রচেষ্টায় তারা দুজন ভালো হয়ে উঠল, চারপাশে প্রচুর বন্ধু, মা-বাবা, এবং আত্মীয়স্বজন । কিন্তু তাদের মাঝে শামিম আর তুষার নেই। তখন পারভেয জানতে চায় শামিম এর কি অবস্থা ? এখন একটু ভালো জানায় বন্ধুরা। তারপর পাসের রুম এ দেখতে যায় পারভেয, শামিমকে। আখানেও দেখতে পেলনা তুষারকে। কিরে তুষার কইরে?? অরেতো একবার ও দেখতে পেলামনা! পারভেয বলে যে আমার কাছে একবার ও আসলো না। তুষার কি কোন কাজে ব্যাস্ত নাকি? আমাদের কথা ভুলেগেল নাকি? এমন সময় নিতু ও রাহেলা আসে। তুষার কই জিজ্ঞাসা করে শামিম। নিতু ব্যাগ থেকে একটা চিঠি বেড় করে দেয় পারভেযকে।

চিঠিতে লেখা—

সুস্থ হওয়ার পর আমাকে না দেখে ভাবছিস যে আমি আনেক ব্যাস্ত হয়ে গেছি। এটা তোদের ভুল ধারণা । আমি তোদের মাঝে এখনও আছি। ভালো করে দেখ আমি পারভেয এর প্রতিটি রক্তকণার মাঝে আর শামিম এর চোখের মাঝে সুপ্ত অবস্থায় আছি। চিঠি পড়ে কি তোরা কান্না শুরু করছিস? একটা থাপ্পর দেমু ধইরা। কাদলে আমি খুব কষ্ট পাব। ভালো থাকিস দোস্তরা…………………।।

ক্ষনিকের ভালোবাসা…

Now Reading
ক্ষনিকের ভালোবাসা…

– মা! দেখো এদিকটায় গন্ধ নিয়ে। কেমন মিষ্টি মিষ্টি বাতাস!
বারান্দার দরজাটা খুলতেই গন্ধটা আরো বেড়ে গেলো। মা টা যে কি! এত করে বলছি কিছুতেই আসছেনা। নতুন বাসায় এসেই বুঝি ঘরদোর গোঁছাতে লেগে যেতে হবে? মা টা এত্ত বেরসিক উফ!

-“এই অনিতা, ওপাশের জানলাটায় পর্দাটা লাগাও তো মা। নিজের রুম নিজেই গোছাও একটু।” পাশের রুম থেকে মা চিৎকার করে বললো।

বাবা সরকারী চাকুরী করেন। সেই সুবাদে মাস কয়েক পরেই নতুন নতুন জায়গায় নতুন নতুন বাসা। আমার একটাও বন্ধু নেই। এত জায়গা বদলালে থাকবে কি করে? বন্ধুদের তো আর সাথে করে নিয়ে আসতে পারিনা!

সারাদিনের গোছগাছের পর এলাকাটা দেখতে বের হলাম আমি আর মা। ছোট্ট ছিমছাম গ্রাম,ছোট কাঁচা রাস্তা,পর পর তিনটে রেললাইন।তেমাথায় ছোট্র স্টেশনঘর। বাবার অফিসটা এখানেই।

আমাদেরকে দেখে বাবা হাসলেন।
-অনিতা মা, কেমন লাগছে জায়গাটা?

-ভালো বাবা। আমার বারান্দার পাশে একটা জারুল গাছ আছে জানো? হলুদ ফুল ফুটে আছে পুরো গাছটায়!

বাবা হেসে মাথা নাড়লো।
– এজন্যই ওই রুমটা তোকে দিয়েছি।

বাবাকে কাজ করতে দিয়ে আমি আর মা বেরিয়ে এলাম। হাটতে হাটতে মার সাথে গল্প করছি।

-মা আমরা আরো কতবার বাসা বদলাবো? এখানেই থেকে যাইনা কেনো আমরা। গ্রামের অনেকগুলো বন্ধু হবে আমার। একসাথে স্কুলে যাবো,খেলবো। মজা হতো অনেক!

মা চট করে একবার আমার দিকে তাকালো। আদর করে বললো
-বোকা মেয়ে গ্রামের বন্ধুদের দিয়ে কি হবে তোর? বরং শহরেই থাকবো গিয়ে আমরা। পরের মাসে ঢাকায় পোষ্টিং হবে। তখন অনেক বন্ধু হবে কেমন?

মা টা যেনো কেমন! বন্ধু তো বন্ধুই, তাতে আবার গ্রাম, শহর কি!

হাটতে হাটতে মা এগিয়ে গিয়েছে অনেকটা। এদিক ওদিক দেখতে দেখতে হাটছি। হঠাৎ দেখি একটা পেয়ারা গাছের নিচে বসে আছে একটা থুরথুরে বুড়ি। হাতে হলুদ একটা পেঁয়ারা।

– ইশ! গ্রামের মানুষের কি মজা। যখন তখন গাছতলায় বসে পেঁয়ারা খেতে পারে। আর মা হলে এতক্ষনে তুলকালাম করে ফেলতো না ধুয়ে খেয়েছো কেনো? হাত ধোওনি কেনো? আরো কত কি!

বুড়িটার দিকে তাকিয়ে হাসলাম একটু। আমায় দেখে হাত নেড়ে ডাকলো সে। এগিয়ে যেতে গিয়েও পিছিয়ে এলাম,মা ডাকছে। সন্ধ্যা হয়ে এলো প্রায়। পড়তে বসতে হবে এখন।

হাত নেড়ে বিদায় নিয়ে দৌড়ে চলে এলাম। হাতমুখ ধুয়ে এসে বারান্দায় উঁকি দিয়ে দেখলাম। দূরে পেঁয়ারা গাছটা দেখা যাচ্ছে,তলাটায় আবছা আলো বুড়িটা নেই।

পড়া শেষ করতে করতে বাবা চলে এলো। খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়তে বললেন মা। খেয়ে আমি আমার রুমে চলে এলাম।

বারান্দার দরজাটা খোলা রেখেই শুয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো। রুম ভর্তি জারুলের মিষ্টি গন্ধ! আস্তে করে ওঠে বারান্দায় এসে দাড়ালাম। আরে! জারুল তলায় ওটা কে দাড়িয়ে আছে? ওই বুড়িটা না? এত রাতে এখানে কি করছে!

ফিসফিস করে ডাকলাম,
-দাদুমনি! ওখানে কি করছেন এত রাতে!

উপর দিকে তাকিয়ে ফিক করে হাসলো দাদুটা। হাত ইশারা করে চুপ থাকতে বলে জারুল গাছের ডাল বেয়ে সোজা ওঠে এলো বারান্দার একেবারে কাছের ডালটায়! আমি তো অবাক! গ্রামের এমন বুড়ো মানুষও গাছ বাইতে পারে আর আমি পারিনা।

হাত বাড়িয়ে একটা পেঁয়ারা এগিয়ে দিলো বুড়িটা। আমাকে খেতে বলছে! পেঁয়ারাটা নিলাম। সাথে সাথেই নেমে চলে গেলো। শুধু এটা দিতেই এতদূর কষ্ট করা! কি আশ্চর্য!!

 

সকালে মার ডাকাডাকিতে ঘুমটা ভেঙে গেলো। বারান্দার দরজাটা ভেজানো। টেবিলের ওপর ওই তো পেয়ারাটা। পেঁকে একদম টসটসা হয়ে আছে। জলদি লুকিয়ে ফেলি, মা যদি আবার বুড়িটাকে কিছু বলে বকা দেয়!

নাস্তা করে রেডী হয়ে মার সাথে বাইরে বেরিয়ে এলাম। আজ স্কুলে যাবো। বাবা গতকাল বলে রেখেছে, আমরা আসার আগেই সব ঠিকঠাক করে রেখেছিলেন।

নতুন ক্লাসে জবুথবু হয়ে বসে আছি। কি কঁচু যে পড়াচ্ছেন টিচার বুঝতেই পারছিনা! হঠাৎ জানলার পাশেই দেখি সেই দাদুমনি হাসিমুখে দাড়িয়ে!

ঢং ঢং ঘন্টি পড়তেই ছুটে বাইরে বেরিয়ে এলাম। ওইতো গাছতলায় বসে আছেন। কাপড়ের পুটলি খুলছেন একটা। কাছে গিয়ে দেখলাম ভেতরে একটা পাকা পেঁয়ারা! এই বুড়ি এত পেঁয়ারা খেতে ভালোবাসে!

আবিষ্কার করলাম বুড়িটার একটাও দাঁত নেই। কথা বলছিলাম ইশারায়, আমি যাই বলি সে শুধু হেসে মাথা নাড়ে।

স্কুল শেষে বাবা এসে নিয়ে যাবে বাসায়। বসে বসে অপেক্ষা করছি। অনেক্ষন পর দূরে বাবাকে দেখতে পেলাম। কেমন রাগী রাগী হয়ে আছে চেহারাটা! ভয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলামনা।

বাসার কাছে এসেই দেখি দুইটা গাড়িতে মালপত্র তোলা হচ্ছে। মা দাড়িয়ে আছে দিশেহারা ভাবে!

দৌড়ে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরলাম।
-কি হয়েছে মা? আমরা কোথায় যাচ্ছি?

-চলে যাচ্ছি আমরা মামুনি। তোমার বাবা চাকরি ছেড়ে দিয়েছে।

-কেনো!

-জানিনা রে। কি নাকি ঝামেলা হয়েছে অফিসে।

আর কিছু বলার থাকেনা। বাসা বদল এখন আর নতুন কিছু নয় আমার কাছে। আর এজায়গায় তো এলামই কাল। কার কাছে কি বলার আছে?

একটা গাড়িতে বসে চলে এলাম আমরা স্টেশনে। ট্রেইন আসার অপেক্ষায় আছি। হঠাৎ মা কি যেনো বলে ওঠলেন।

-এই যাহ! এসব এলো কোথা থেকে!!

তাকিয়ে দেখি মায়ের হাতে একটা কাপড়ের পুটুলি। ভেতরে টসটসে হলুদ পাঁচটা পেঁয়ারা!

বাবা-মা দুজনেই অবাক। এক আমিই মুখ ফিরিয়ে চুপ করে থাকলাম।

-আর কেও না জানুক। আমিতো জানি এই ভালোবাসার দান কার!

প্রতিশোধ -পর্ব ৯

Now Reading
প্রতিশোধ -পর্ব ৯

তামিম রুম থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চলে গেল।
বন্ধুরা সবাই বুঝতে পারল যে তামিমের মেজাজ গরম আছে।
বন্ধু ১ঃ কিরে কি হইছে।
তামিম সব কিছু বলল।
তামিমের বন্ধুদের কাছে ব্যাপারটা ভাল লাগেনি।এর আগেও সবাই তামিমকে বুঝিয়েছে কিন্তু তামিম বুঝেনি।

বন্ধু ১ঃদেখ তামিম তোকে একটা কথা বলি।তুই যা করছিস তা মোটেও ঠিক হচ্ছেনা।তুই হেমার সাথে যেইটা করছিস তা অন্যায়।
বন্ধু ২ঃহুম ও ঠিক কথা বলেছে।আমিও এই ব্যাপারটা সাপোর্ট করিনা।
আর তোর বোন মারা গেছে তার জন্য হেমা দায়ী না।তুই নিজেই দায়ী।

তামিমঃমানেে? কি বলতে চাচ্ছিস তুই?
বন্ধু ২ঃ তুই তোর বোনকে অনেক বেশি ভালোবাসতি।চাওয়ার সাথে সাথে সব কিছু দিয়ে দিতি।আবার অনেক সময় কোনকিছু চাওয়ার আগেও তুই এনে দিতি।
তোর বোন এই সবকিছুতে অভ্যস্ত হয়ে গেছিল।
তাই ও যে ছেলেটাকে পছন্দ করত তার ফিরিয়ে দেওয়াটা মেনে নিতে পারেনি।

বন্ধু ১ঃহুম। আর তাই জিদ করে এমন একটা কাজ করেছে।আর তুই ভেবে দেখত হেমার সাথেত ওই ছেলের কোন সম্পর্ক ছিল না।হেমা এই সব ব্যাপারে কিছু
জানতোও না।তাও তুই হেমাকে শাস্তি দিচ্ছিস।

বন্ধু ২ঃ তামিম তুই মেয়েটাকে বিয়ে করেছিস।হেমাকে নিয়ে ভাল ভাবে সংসার কর।হেমাকে ভাল রাখ আর না হয় ওরে মুক্তি দে।হেমার মত করে হেমা ভাল থাক।

তামিম চুপকরে ওর বন্ধুদের কথা শুনছিল।
হয়ত বুঝতে পারছে যে তামিম ভুল করেছে।
তামিমঃআমি বাসায় যাচ্ছি
বন্ধু ১ঃ আমাদের কথাগুলা ভেবে দেখিস।
তামিমঃ হুম।

তামিম বাসায় এসে দেখে হেমা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।হেমার কপালের কাটা জায়গায় রক্ত জমে আছে।
হাত এবং পিঠে বেল্টের আঘাতে দাগ হয়ে আছে।অনেক জায়গায় কেটে রক্তও বের হয়ে আছে।
তামিম হেমাকে ডাকল।কিন্তু হেমা ডাকে সারা দেয়নি।তামিম হেমাকে কোলে করে বিছানায় তোলে শুইয়ে দিল।
তামিম ভাবছে এ অবস্থায় হেমাকে হসপিটালে নিয়ে গেলে নানান জন নানা প্রশ্ন করবে।নিজের অমানুষিক ব্যাবহারের কথা সবার সামনে বলবে কি করে?

তাই তামিম গিয়ে ডাক্তার নিয়ে আসলো।
ডাক্তারঃওনি আপনার কি হয়?
তামিমঃআমার ওয়াইফ।
ডাক্তার তামিমের দিকে তাকালো।
তামিম চুপ করে আছে।
ডাক্তার হেমার কপালে ড্রেসিং করে স্টিচ করে দিল আর হাতের কাটা জায়গাতে ড্রেসিং করে দিল।
ডাক্তার তামিমকে একটা পেসক্রিপশন দিয়ে বলল এখানে কিছু ঔষধ আর একটা মলমের নাম লিখা আছে।রাতে ওনাকে কিছু খাইয়ে ঔষধটা খাইয়ে দিবেন আর মলমটা এনে কাটা জায়গায় লাগিয়ে দিবেন।
এ কথা বলে ডাক্তার বের হয়ে গেল।

তামিম ও বের হল।ডাক্তারকে ভিজিট দিয়ে বিদায় করে ঔষধ আনতে চলে গেল।ঔষধ কিনে আনার সময় হঠাৎ তামিমের মনে পরল বাসায় আজ রান্না হয়নি।হেমা দুপুরে কিছু খায়নি। রাতে হেমাকে ঔষধ খাওয়াতে হবে।তাই কিছু খাবার কিনে নিয়ে বাসায় গেল।

তামিম বাসায় গিয়ে দেখে হেমার এখন জ্ঞান ফিরে আসেনি।
তামিম গিয়ে হেমার পাশে বসল।মলমটা হাতে নিয়ে বসে আছে।
হেমার গাঁয়ে হাত দেওয়াটা ঠিক হবে কিনা তামিম তা বুঝতে পারছে না।
তামিম এ কয়দিনে হেমাকে অনেক মারধোর করেছে।কিন্তু আজকের ব্যাপারটা একটু ভিন্ন।
তামিম ভাবছে হেমা আমার বিয়ে করা বৌ।ওর গাঁয়ে হাত দেওয়াটা অন্যায় কিছু হবেনা।
যদিও তামিম কখনো হেমাকে স্ত্রীর চোখে দেখেনি।সব সময় বোনের মৃত্যুর কারণ ভেবে এসেছে।

তামিম হেমার হাতে এবং পিঠে মলম দিয়ে দিল।মলম দিতে গিয়ে হেমার হাত ও পিঠের কাটা দাগ দেখে তামিম মনে মনে ভাবতে লাগল এতটা অমানুষ তামিম কখনোই ছিল না।
তামিমের বোন পছন্দ করতোনা তাই তামিম কখনও পোঁকামাকড় ও মারত না।অথচ এখন সে এতটা হিংস্র হয়ে গেছে যে যখন তখন হেমার গাঁয়ে হাত তোলে।

 

চলবে…

প্রতিশোধ -পর্বঃ ৮

Now Reading
প্রতিশোধ -পর্বঃ ৮

পরেরদিন ভোরে হেমা কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে।কলেজটা ওদের বাসা থেকে অনেক দূরে। তাই আগেই বের হতে হবে।
হেমা দেখল তামিম ও রেডি হচ্ছে
হেমাঃআপনি কোথায় যাবেন?
তামিমঃতোমার সাথে।
হেমাঃআমি একাই যেতে পারব।
তামিমঃআমি জানি তুমি একা যেতে পারবে।কিন্তু আমি তোমাকে বিশ্বাস করি না।
হেমাঃ মানে?
তামিমঃতুমি কলেজে গিয়ে যে হিমেলের সাথে দেখা করবে না বা হিমেলের সাথে পালিয়ে যাবে না তার কি গেরান্টি আছে?

হেমা মনেমনে ভাবছে কাল হিমেলকে দেওয়া টেক্সট টা কি তামিম দেখে ফেললো?
কিন্তু টেক্সট টা তো ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।
হিমেল কি টেক্সট পাওয়ার পর আমাকে কল বা টেক্সট করেছিল?

তামিম আর হেমা কলেজে যাওয়ার জন্য বের হয়ে গেলো।
কলেজে যাওয়ার পর হেমা ওর ফ্রেন্ডের কাছে গেলো
এত দিন পর হেমাকে দেখে সবাই প্রশ্ন করতে শুরু করল।
হেমা দেখল তামিম আশেপাশেই আছে।
হেমার খুব টেনশন হচ্ছে।তামিম কিছুতেই দূরে যাচ্ছে না।হিমেলের সাথে কথা বলবে কি করে?তামিম দেখলে সমস্যা করবে।
হেমা দেখল হিমেল চলে এসেছে।
হেমা ঠিক করল ভাইভা দিয়ে তারপর হিমেলের সাথে কথা বলবে।
হেমার এক ফ্রেন্ডকে দিয়ে হেমা হিমেলের কাছে খবর পাঠাল যে ভাইভার পর হেমা দেখা করবে।

হেমার সিরিয়াল আগে ছিল তাই ভাইভা শেষ করে লুকিয়ে হিমেলের সাথে কথা বলতে গেল।
হেমা হিমেলকে দেখে কান্না করে দিল।
হিমেল হেমার হাত ধরে বলল,
হিমেলঃহেমা কান্না করো না।কি হয়েছে আমাকে বল?তুমি এত দিন কোথায় ছিলে? তোমার মেবাইল বন্ধ ছিল কেন?
হেমা কি ভাবে শুরু করবে বুঝতে পারছেনা।
হেমা সবটা বলতে যাবে এমন সময় তামিম এসে সামনে দাঁড়াল।
হেমা কি করবে বুঝতে পারছে না।

তামিমঃতুমি বলেছিলে পরীক্ষাটা দিবে তাই তোমাকে একটা সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।এখন দেখছি তোমাকে সুযোগ দেওয়া ঠিক হয়নি।
হিমেলঃহেমা লোকটা কে? আর এ সব কি বলছে?
হেমা চুপ করে আছে।
হিমেলঃহেমা কি হল? এ লোকটা কে?
তামিমঃআমি ওর হাজবেন্ড।
হিমেলঃমানে? হেমা তুমি বিয়ে করেছ?
তামিমঃহেমা চল।তোমার পরীক্ষা দেওয়া হয়ে গেছে।
হেমা দাঁড়িয়ে আছে।

তামিম হেমার সামনে গিয়ে আস্তে আস্তে বলল
তামিমঃতুমি যদি হিমেলের ভাল চাও তাহলে আমার সাথে চল।আর না হয় হিমেলকে এর জন্য ভোগতে হবে।
হেমা চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো।
হিমেল হেমার হাত ধরে রাখলো।
হিমেলঃহেমা আমার সাথে এমনটা কেন করলে?আমাকে ভালোবেসে অন্য একজনকে বিয়ে করলে কেন?
হেমাঃতোমাকে অনেক কিছু বলার ছিল।কিন্তু বলার সুযোগটা হল না।
শুধু একটা কথা বলি।আমি এ বিয়েটা করতে চাইনি।
আমার জীবনটা নষ্ট করার জন্য শুরু থেকে এ লোকটা দায়ী।
এ কথা বলে হেমা হিমেলের থেকে হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে চলে গেল।
হিমেল হেমার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।হিমেল কি বলবে তা খুঁজে পাচ্ছেনা।

তামিম হেমাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলো।
বাসায় এসেই তামিম হেমার গালে একটা চড় বসিয়ে দিল।
হেমা চুপ করে আছে।
তামিমঃআমি জানতাম তুমি এমন করবে।তাইত তোমাকে একা যেতে দেইনি।
তুমি কি ভেবেছিলে? তুমি তোমার প্রেমিকের হাত ধরে পালাবে আর আমি তা চুপ করে দেখব?
হেমাঃপালাব নাত কি করব? তোমার মত একটা জানোয়ারের সাথে সারাজীবন কাটাব নাকি?

তামিম হেমার দুইহাত পিছনে নিয়ে ধরে বলল
তামিমঃহুম আমার সাথেই কাটাবে।এ ছাড়া তোমার আর কোন সুযোগ নেই।আর তুমি যদি হিমেলের সাথে পালানোর কথা চিন্তা কর তাহলে তোমার ভুলের জন্য হিমেলকে শাস্তি পেতে হবে। এ কথা বলে তামিম হেমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল।
খাটের সাথে ধাক্কা লেগে হেমার কপাল কেটে গেল।
হেমাঃআগে ভাবতাম আপনি একটা জানোয়ার কিন্তু এখন দেখছি আপনি তার চেয়েও বেশি খারাপ।

তামিমঃআমার খারাপটাত তুমি এখনও দেখনি।আজ দেখবে আমি কতটা খারাপ এবং ভয়ংকর।

একথা বলেই তামিম কোমর থেকে বেল্ট খোলে নিয়ে হেমাকে আঘাত করতে শুরু করল।

হেমা ভাবছে হয়ত আজই হেমার শেষ দিন।তবে এটাও ভাবছে যে আজ যদি শেষ দিন হয় তাহলে সব কিছু থেকে মুক্তি পাবে। এ কথা ভাবতে ভাবতে হেমা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

তামিম এমন ভাবে হেমাকে আঘাত করল যে হেমা কখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে তা তামিম খেয়াল করেনি।

 

 

(more…)

প্রতিশোধ- পর্ব ৬

Now Reading
প্রতিশোধ- পর্ব ৬

হেমার বিয়ে হয়ে গেলো।
বর এর সাথে বরের কয়েকটা বন্ধু ছাড়া আর কেও আসেনি।
বিয়ের দিনই হেমা বর এর সাথে চলে গেলো।যাওয়ার আগে বাসার কারো সাথে কথা বলে নি।বিদায় ও নেয় নি।

হেমা ভাবছে এমন কি পাপ সে করেছে যে এমন শাস্তি পেতে হচ্ছে!
হঠাৎ গাড়িটা একটা বাসার সামনে এসে থামলো।এই বাসাটা হেমা চিনতে পারছে না।কারন এটা তামিমের বাসা না।

কারন তন্নি মারা যাওয়ার পর হেমা তন্নিদের বাসায় এসেছিলো।
হেমা মনে মনে ভাবছে তামিম কেন এমন করলো? নতুন করে আবার প্রতিশোধ নিতে?

তামিম হেমাকে নিয়ে একটা ফ্লাটে উঠলো।বাসায় তেমন কেহ নেই।হেমার কাপড়ের ব্যাগ টা হেমার বাসা থেকে দিয়ে দিয়েছিল।
ব্যাগ থেকে জামা নিয়ে শাড়িটা পাল্টে নিল।

তামিমের এক বন্ধু রাতের জন্য খাবার কিনে দিয়ে গেলো।
এতক্ষণে হেমা বুঝে গেছে তামিম যে হেমার সাথে সংসার করার জন্য বিয়ে করেনি।হেমা ভাবছে না করা অপরাধের জন্য কি আবার নতুন করে শাস্তি পেতে হবে?
হেমা যখনি নতুন করে জীবন টা গুছিয়ে নিতে চেয়েছে তখনি একটা তুফান এসে হেমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়ে গেছে।

রাত ১১ টা..
হেমা রুমে একা।
তামিম তার বন্ধুদের বিদায় দিতে গেছে।
হেমা কাপড়ের ব্যাগে তার মেবাইলটা খোঁজছে।হিমেলকে খবরটা দিতেই হবে।তামিমের সাথে কিছু হওয়ার আগেই হিমেলের কাছে চলে যাবে হেমা।কিন্তু এবারও হেমার কপাল খারাপ ছিলো।মোবাইলটা খুঁজে পায়নি।
বিয়ের আগে হিমেলের কথা শুনে বাসা থেকে হেমার মোবাইলটা নিয়ে গেছিলো।হয়ত ইচ্ছে করেই বাসা থেকে মোবাইলটা দেয়নি।

তামিম খাবার নিয়ে রুমে এসে হেমাকে খেয়ে নিতে বলল।
হেমাঃআপনি আমার সাথে এমনটা কেন করলেন?
তামিম হাসলো।
হেমাঃএকটা মেয়ের জীবন আর কতবার নষ্ট করবেন আপনি? আমি আপনার বোন এর বন্ধু ছিলাম।এইটা কি আমার খুব বড় অপরাধ ছিল?
তামিমঃতোমার জন্য আমি আমার বোনকে হারিয়েছি।এত সহজে আমি তোমাকে ছাড়বো না।

হেমাঃতাহলে আমাকে খুন করলেইতো পারেন।বিয়ে করলেন কেন?
তামিমঃতোমাকে কিডন্যাপ করার জন্য আমাকে ৬ মাস জেলে থাকতে হয়েছে। খুন করলে আবার জেলে যেতে হবে।কি দরকার এত কিছুর? আমি জানি তুমি হিমেল নামের একটা ছেলেকে ভালোবাস।ছেলেটা তোমার সব কিছু জেনেও তোমাকে ভালোবেসেছে।আর তাইতো তোমার পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে তারপর তোমাকে বিয়ে করেছি।যাতে ঐ ছেলের সাথে তুমি সুখে সংসার করতে না পার।
হেমাঃতাহলে আপনি সবটা জানেন!
তামিমঃহুম।তুমি কি ভেবেছিলে আমার প্রতিশোধ নেওয়া শেষ?

হেমা চুপ করে আছে।
তামিমঃ তুমি যতদিন বাঁচবে আমার প্রতিশোধ ও ততদিন চলবে।
হেমাঃআমার মনে হয় আপনাকে মানষিক ডাক্তার দেখানো উচিৎ।আপনি মানষিকভাবে অসুস্থ।
এ কথা শুনে তামিম হেমার গালে একটা চড় বসিয়ে দেয়য়।

তামিমের মোবাইলে একটা কল আসে।তামিম মোবাইল নিয়ে বারান্দায় চলে যায়।
হেমা রুমে বসে আছে।নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছে হেমার।কিন্তু আবার হিমেলের কথাও ভাবছে।
যে করেই হোক হিমেলের সাথে যোগাযোগ করতেই হবে।এই সব থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হল হিমেল।
হেমার কাছে এখন হিমেলই একমাত্র ভরষা।

হেমা রুম থেকে তামিমের কিছু কথা শুনেছে।হেমা বুঝতে পারছে তামিমের বাসা থেকে কল করেছে।কারন তামিমের কথা গুলো এমন ছিলো….
“মা আমি সংসার করার জন্য বিয়ে করিনি।তাই বিয়ে করে বৌ নিয়ে বাড়িতে যাইনি…..
আমার ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে হবে না।আমার বোন ছিল আমার কাছে সব কিছু।ও মারা যাওয়ার পর আমার জীবনের সব শেষ….
মা প্লিজ আমি বৌ নিয়ে বাড়িতে যেতে পারবো না….আমি ফোন রাখছি”

তামিম রুমে ঢুকে দেখে হেমা কান্না করছে।গালটা লাল হয়ে আছে।
তামিম খাবারের প্যাকেট নিয়ে হেমাকে দিল আর একটা প্যাকেট থেকে খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো।
হেমা একটা বালিশ নিয়ে নিচে শুয়ে পরলো।এত কিছু ঘটে যাওয়ার পর হেমার গলা দিয়ে খাবার নামবে না।

সকালে জেগে দেখে তামিম রুমে নেই।এদিক ওদিক খোঁজে না পেয়ে হেমা পালানোর কথা ভাবলো।পালাতে গিয়ে দেখে দরজা বাইরে থেকে লক।
তাই রুমে বসে রইলো।
প্রায় ঘন্টা খানেক পর তামিম সকালের খাবার আর দুপুরের জন্য বাজার নিয়ে আসলো।
হেমাকে বললো নাস্তা করে দুপুরের রান্না করতে।

হেমা তেমন কিছু রান্না করতে জানে না।হোস্টেলে থাকার কারনে টুকটাক কিছু রান্না শিখেছিল।
কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে খুব ভয়ে রান্না করলো।
কারন হেমা জানে রান্না খারাপ হলে তামিম আবার হেমার গাঁয়ে হাত তোলবে।

দুপুরে খাবার খেয়ে তামিম কিছু বলে নি।তারমানে রান্না তেমন খারাপ হয়নি।

 

চলবে….

প্রতিশোধ – পর্ব ৩

Now Reading
প্রতিশোধ – পর্ব ৩

হেমা তামিমের কথা কিছুই বুঝতে পারছে না।
হেমাঃভাইয়া আমি বাসায় যাবো
তামিমঃতোমাকে তো এখন বাসায় যেতে দেওয়া যাবে না।
হেমাঃভাইয়া আমি বাসায় না গেলে কি হবে আপনি বুঝতে পারছেন?
তামিমঃআমি জানি কি হবে।তোমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। আর সমাজ এবং পরিবার কিডন্যাপ হওয়া একটা মেয়ে কে খুব ভালো ভাবে গ্রহন করে না।
হেমাঃভাইয়া আমি আপনার ছোট বোনের মত।তন্নি আমার খুব ভালো বন্ধু ছিলো।আমি জানি না ও কেন আত্মহত্যা করেছে।
প্লিজ আমাকে যেতে দিন।
তামিমঃহুম তুমি আমার ছোট বোন এর ফ্রেন্ড ছিলে।কিন্তু এখন আমার বোন বেঁচে নেই।তাই আমি এখন আর তার কোন ফ্রেন্ডকে চিনি না। এ কথা বলে তামিম হেমার কাছে গেলো।
হেমা তামিম কে কাছে আসতে দেখে ভয় পেয়ে গেলো।
তামিমঃভয় পেও না।আমি তোমার কোন ক্ষতি করবো না।তবে তোমাকে এখানে কিছু দিন বন্দী থাকতে হবে।
হেমাঃভাইয়া আমি একটা মেয়ে।এখানে আমি আটকে থাকার পর বাসায় ফিরে গেলে সবাই আমার দিকে আঙুল তোলবে।আমার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে।
তামিমঃতোমার জন্য আমার বোন কে আমি হারিয়েছি।তোমাকে তো আমি সুন্দর ভাবে বাঁচতে দিব না।
হেমাঃভাইয়া তন্নি কেন আত্মহত্যা করেছে?
তামিমঃতন্নি আকাশ কে ভালোবাসতো
হেমাঃতাহলে আমি কিভাবে দায়ী?আর আকাশ কে ভালোবাসতো তা তো কখনো বলেনি।
তামিমঃআকাশ তোমাকে ভালোবাসতো
হেমাঃমানে?…..

তামিমঃহুম।তন্নি চায়নি তোমাদের মধ্যে থাকতে।আবার আকাশ কে ছাড়তে ও পারবে না।তাই ও মৃত্যুটা বেছে নিয়েছে।
হেমাঃকিন্তু ভাইয়া আমিতো আকাশকে ভালোবাসি না।আর তন্নি আকাশ কে এবং আকাশ আমাকে ভালোবাসে এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।তাহলে আপনি আমাকে কেন শাস্তি দিচ্ছেন?তন্নি যদি আমাকে বলতো তাহলে আমি আকাশকে বুঝিয়ে বলতাম।আমাকে ভুলে যেনো তন্নিকে মেনে নেয়।

তামিমঃকলেজের অনেকেই তোমার জন্য পাগল।আকাশ ও তোমাকে ভালোবাসে।আমি দেখতে চাই এখান থেকে যাওয়ার পর আকাশ তোমাকে মেনে নেয় কিনা।তোমাকে তো আমি সুন্দরভাবে বাঁচতে দিব না।
সমাজ তোমার দিকে বাঁকা চোখে তাকাবে।কলেজের সবাই তোমার দিকে বাঁকা চোখে তাকাবে।সবাই তোমার দিকে আঙুল তোলবে। তোমার সাথে কিছু হয়নি তা শুধু তুমি আর আমি জানবো।আর সবাই জানবে তুমি একটা খারাপ মেয়ে।
এ কথাগুলা বলতে বলতে তামিম হেসে দিলো।
হেমা কি করবে বুঝতে পারছে না।কোন কারন ছাড়াই এমন করে ফেঁসে যাবে কখনো ভাবে নি সে।
ওর এখন চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে।তন্নি আর আাকাশের উপর খুব রাগ হচ্ছে ওর।

রাত এ তামিম হেমা কে একটা প্যাকেট এনে দিয়ে বললো এটাটে খাবার আছে খেয়ে নাও।
এ বলে হেমার হাতের বাধন খোলে দিলো।
হেমাঃ আমি খাবো না।আমি বাড়ি যাবো।
তামিমঃতোমাকে যেতে দিবো না তা তোমাকে একবার বলা হয়েছে। খেয়ে নাও।
হেমা খাবারের প্যাকেট টা ফেলে দিলো।
তামিমঃআমার সাথে জিদ দেখিও না।আমি তোমার সাথে খারাপ কিছু করতে চাই না।আমাকে রাগালে কিন্তু এর ফল তোমাকেই ভোগ করতে হবে।আমার মাথা গরম হয়ে গেলে কখন কি করে ফেলবো তার ঠিক নেই।

হেমা তামিমের এ কথা শুনে ভয় পেয়ে গেলো।তাই আর কথা বাড়ালো না।চুপ করে এক কোনে বসে রইলো।
তামিম খেয়ে শুয়ে পরলো।
কখন যে হেমা ও ঘুমিয়ে পরেছে তা হেমা বুঝতে পারে নি।

ঘুম থেকে জেগে দেখে তামিম ঘুমাচ্ছে।
হেমার বাঁধনটা খোলাই ছিলো। হেমা সুযোগ বোঝে পালালো।কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর আবার তামিমের সামনে এসে পরলো।
তামিম হেমাকে ধরে নিয়ে আসলো।
তামিমঃতুমি কি ভেবেছিলে আমার থেকে পালাতে পারবে?তুমি পালানোর চেষ্টা করে অনেক বড় ভুল করেছো।
এ কথা বলে তামিম হেমার গালে একটা চড় বসিয়ে দিলো।
চড় খেয়ে হেমা পরে গেলো।
তামিম হেমাকে একটা গাছের সাথে বেঁধে দিলো। তারপর গাছ এর একটা মোটা ঢাল নিলো।
আর হেমার পায়ের তালুতে কয়েকটা আঘাত করলো।ঢালের আঘাতে পায়ের তালু কেটে রক্ত বের হয়ে গেলো।
তামিমঃ নেক্সট টাইম যাতে আর পালাতে না পারো সে ব্যবস্থা করলাম।
আর আজ থেকে তোমার হাত আর খোলা হবে না।হাত সবসময় বাঁধাই থাকবে।

দুপুরে তামিম খাবার কিনে এনে হেমা কে খাইয়ে দিতে গেলো।
কিন্তু হেমা খেলো না।
তামিম দেখলো হেমার গায়ে জ্বর।
তামিম কিছু বললো না।নিজেই খেয়ে নিলো।

রাতের বেলা হেমার জ্বরটা বেরে গেলো।
কিন্তু তামিমের সে দিকে খেয়াল নেই।তার মনে শুধু বোন এর মৃত্যুর প্রতিশোধ ছাড়া আর কিছুই কাজ করছে না।
হেমার পা ফোলে গেছে।ব্যাথায় হাটটে পারছে না।
এত কিছুর পর ও তামিমের মনে হেমার জন্য একটু ও মায়া জন্মায় নি।
হেমা ও তামিমকে আর বাড়ি যাওয়ার কথা বলেনি।
হেমা বুঝতে পেরে গেছে যে তন্নির মৃত্যুর পর ওর ভাই একটা অমানুষে পরিনত হয়েছে।
যার মনে কোন মায়া দয়া নেই।যে মানুষের কথা বুঝতে পারে না।আর যা করছে তা কতটা ঠিক তার ও কোন ভাবনা নেই।

 

৫ দিন পর একটা গাড়ি হেমাকে তার বাড়ির সামনে ফেলে দিয়ে আসলো।
হেমার পায়ে ব্যাথা এবং শরীর দূর্বল থাকায় অনেক কষ্টে বাড়ি পৌছালো।.

চলবে….

মধ্যবিত্তের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী

Now Reading
মধ্যবিত্তের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী

বাবা সরকারি চাকরি করেন।আমাদের পরিবার সুখি পরিবার ৯০ দশকের পয়সার মত। যেহেতু বাবা সরকারি চাকরি করেন তাই দাদার বাড়ি আর নানা বাড়ি থেকে অনেক দূরে প্রায় বাংলাদেশের এক প্রান্তে থাকতাম আমরা। তখন শুধু জানতাম ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। আমি যেখানে থাকতাম সেখান কার মানুষের চাহিদা ছিল ৫টি মানে হল মৌলিক চাহিদা আমিও বেতিক্রম না। মা বলে ছোট থেকেই নাকি আমি বন্ধু প্রিয় মানুষ সারাদিন নাকি বাসায় থাকতাম না। ক্ষুদ লাগলেও নাকি আমার কোন অসুবিধা হত না,আমার ভক্ত সমাজ আমকে ধরে নিয়ে তাদের বাসায় নিয়ে যেত। স্কুল আর খেলা এই নিয়ে সময় কেটে  যাচ্ছিল । কোন মতে পরীক্ষায় পাশ করে নতুন ক্লাসে উঠছি বুজতেই পারছেন নতুন বছর শুরু হইছে। সকলে বাবা ঘুম থেকে ওঠালেন ,ঘুমের চোখ ডোলে খুলে দেখি লাল র সবুজ রঙের  খেলোয়াড় দের পোশাক আনছে। আমি মহা খুশিতে লাফালাফি করলাম। পোশাক দেখলাম লালটা ছোট আর সবুজটা বড়,বুঝতে আর বাকি থাকল না।আমি আর বাবা পোশাক পরে সকাল ৬ টায় বেড় হতাম অনেক মজায় মজায়। হাটা হাটি করতাম ৪৫ মিনিট। পরে খাবার রেস্টুরেন্টে বসে সকালের নাস্তা করতাম দুইজন এবং আম্মুর জন্য খাবর নিয়ে বেড় হয়ে বসতাম একটা কেহেরমান এর দোকানে। দোকানের মালিকের সাথে কেহেরমান এর মিল ছিল নাকি কেহেরমান এর সাথে মালিকের তা আমি জানি না কিন্তু সে ছিল আমার কাছে কেহেরমান। যাই হোক আব্বু কেহেরমান কে বলত একটা চা দেও কিন্তু কেহেরমান চা এর সাথে সিগারেট ও দিত আব্বুকে। তাই দেখে আমিও কেহেরমান কে বলতাম একটা চা আর সিগারেট দেও কিন্তু কেহেরমান আমাকে দিতো একটা জুস আর সাদা গোলাপি রঙের পাইপ চকলেট। সেই মজায় মজায় থাকা বিষয়টা বেশি বছর ছিলনা ঘুম কাতুরে মানুষের যা হয়।
নতুন বছরের কিছু দিন যাইতেই শুনলাম ওই এলাকায় নাকি বিদেশী তত্ত্বাবধায়নে একটি নতুন  স্কুল খুলছে। আমার দলের মেম্বাররা অনেকেই ভর্তি হল কিন্তু দলের নেতা মানে আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না । কারন আমার ৫/১০ টাকার খেলনা আর কোমল পানীয় খাওয়ার আব্দার ছাড়া আর কোন কিছু ছিল না। স্কুলের গাড়ি প্রতিদিন বাসার সামনে  এসে ছাত্র দের নিয়ে যাবে, টিফিনে খাবার দিবে, ক্লাস শেষে প্রাইভেট পরাবে আর বিকেল হলে বাসায় আবার সেই গাড়িতে দিয়ে আসবে । আশা করি টাকার কথা কাও কে বলে বুঝাতে হবে না। মাসের অর্ধেক দিন না যাইতেই দেখা গেল দলের নেতা একা একা বিকাল বেলা জলপাই গছের পাতা চাবাইতেছে। কিছুক্ষণ চাবানো হলে বাসায় গিয়ে দরজা টোকা দিলাম কিন্তু দরজাটা আম্মু খুলছেনা। আমি জানি আম্মু ঘুমাচ্ছে, আমি যতক্ষণ বাসায় থাকি আম্মু ততোক্ষণ ঘুমাতে পারে না কারন আমি এই ছোট রাজ্যের দুষ্টু রাজা। অনেক টোকা দিতে দিতে যখন দরজার সাতে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম তখন আম্মু দরজা খুলে দিলো। আম্মুতো আমাকে দেখে পুরাই অবাক এই সময় আমি বাসায়। আম্মু একবার আমার দিকে তাকায় আর একবার ঘড়ির দিকে তাকায় । আমি  ভিতরে ঢুকতেই প্রথম কথা কোন সমস্যা,ঝগড়া করছ, মারামারি নাকি কেউ কিছু বলছে ? আমি কোন কিছু না বলে সোজা বারান্দায় প্রাইভেট সৈনিক দের নিয়ে খেলা শুরু করলাম। এই ভাবে ৪/৫ দিন বাসা থেকে বেড় হইনাই এই কথা শুনে তো আমার চাচা,মামা,খালা সবাই দূর থেকে আমাদের বাসায় এসে হাজির তাদের দেখে কিসের মন খারাপ সব যে কথায় চলে গেল বুজলাম না। কিন্তু দুই দিন পর যখন চলে গেলো ঈশ মনের ভিতর ধুক ধুক আর আড়াল করা চোখের পানি নিয়ে ঘুমায় গেলাম। আমি বাসায় থাকি তাই আব্বু ও বাসায় থাকা শুরু করলো আগের চাইতে বেশি। আমি আর  আব্বু সাজনা ডাঁটা দিয়া তলোয়ারই খেলতাম আর আম্মুর বোকা শুনতাম।
শুক্র বার আমি বাসায় নাই সন্ধ্যা হয়ে গেছে আমি বাসায় আসছি  না! আব্বু আর আম্মু  খুঁজতে বেড় হইছে । বাহির হইয়া দেখে আমার বন্ধুদের বাবা মা তাদের সন্তান দের খুঁজছে। তাদের মধ্যে কথা হতেই আমার আব্বু বুঝল  আমার ঘরে থাকার কারন । আমরা সবাই ক্লাস ৩ তে পরলে কি হবে “ডিপু নাম্বার টু” সিনেমা দেখে সবাই বড় হয়ে গেছিলাম তাই হয়তো পানির ট্যাংকইর উপরে উঠছিলাম কিন্তু কেঁউই নামতে পারি নাই । হয়তো ছোট ছিলাম বা তারেক এর মত কেউ ছিল না । ১৭ জন যখন বাসায় ফেরেনাই সবাই খোঁজ শুরু করলো এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা ট্যাংকইর নিচে নেমে আসতে পারলাম। রাতে খাবার টেবিলে আব্বু বলল তোমার বন্ধু দের স্কুলটা অনেক সুন্দর কাল সকলে ঘুরে আসবো । পরদিন সকলে গেলাম স্কুল দেখতে ।পুরো স্কুল ঘুরলাম আধা ঘণ্টা সময় নিয়ে একটু পর আব্বু জিজ্ঞাসা করলো কেমন লাগলো ভর্তি হবা ?
স্কুলে আমি  ক্লাস ৩/৪ শেষ করলাম আর এই দিক দিয়ে আব্বুর সকাল বেলা বাহিরে নাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে । কেন হয়েছি এখন বুজতে পারলেও তখন কার সময় আমি বুজতে পারি নাই । মধ্যবিত্ত পরিবার এর প্রতি জন সদস্য এক জন আর এক জনের চাহিদা পূরণ করে  নিজের ইচ্ছা কে নির্দ্বিধায় মুছে দিয়ে। সরকারি চাকরির বদলী হচ্ছে পেরাসিটামল তিন বেলা খাওয়ার মত । নতুন জায়গা,নতুন স্কুল, নতুন জীবনের শুরু …

মহাকাব্যিক “সেলফিনামা ”একাত্মতা ও সার্বজনীনতার প্রতীক

Now Reading
মহাকাব্যিক “সেলফিনামা ”একাত্মতা ও সার্বজনীনতার প্রতীক

আপনাকে একটা প্রশ্ন করি ? না… না… আমার সকল পাঠকের কাছে রইল এই খোলা প্রশ্ন আপনি কখনো আপনার নিজেকে আয়নায় দেখেছেন বা দেখতে চেয়েছেন ?অবশ্যই;

কোন না কোনসময় চেষ্টা করেছেন আসলে আপনি কতটুকু সফল তার জবাব আপনার কাছে আছে তাই না? আপনি যদি এখনো চেষ্টা না করেন তবে অবশ্যই একবার চেষ্টা করে দেখবেন ।এই ব্যস্ততার দৌড়ে আমরা নিজের জন্য সময় বরাদ্দ রাখি না বললেই চলে।

আমাদের দৌড়ের একটা আলটিমেট লক্ষ্য থাকে যা পূরণে সদা তৎপর বলা চলে। মানুষ নিজের স্বকীয় স্বত্তার সাথে স্বীয় জগতে কিছু সময় কাটায়। এখানে কেউ চরম মাত্রায় হিংসুক আবার কেউ পরম দয়ালু। এই যে চরিত্রের ভিন্নতা তা আপনি আমি বাইরে থেকে  অবলোকন করতে পারব না। মানুষ নিজের অবয়ব বা প্রতিবিম্ব দেখার জন্য আয়না বা দর্পণের আবিস্কার করেছে।আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন অনেক সময় আমরা দেখি একবারে আনমনে আয়নায় নিজেকে অবলোকন করে যায় কেউ কেউ তখন নিজের চোখের সাথে একটা দ্বন্ধ শুরু হয়, চোখের সাথে দ্বন্ধের কারণে নিজেকে তো ভাল করে দেখা হয় না ।কেবল রুপচর্চা বা পরিচর্যার জন্য আয়নার ব্যবহার হয় না।

নিজেই নিজেকে দেখার যে একটা সুপ্ত বাসনা তা মানুষের চারিত্রিক গুণ বলা যায়।মূলত এই ধরনের চেষ্টা হতে প্রথম সেলফি নেয়ার যে ধারা তা চালু হয়। এই যে সেলফির সুত্রপাত মূলত ৮০ দশকের দিককার ঘটনা। ক্যামেরায় নিজেই নিজের ছবি নেয়ার যে প্রচেষ্ঠা তা ভার্চুয়াল জগতে মূলত সেলফি তোলার প্রথা বলে সম্যক পরিচিতি লাভ করে।

একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে সেলফোনের বহুবিধ কল্যাণ আর স্থিরচিত্র নির্ধারণের নানান প্রযুক্তির প্রভূত কল্যাণ মানুষকে আরো আগ্রহী করে তোলেছে সেলফির প্রতি। এটা কেবল প্রচলিত একটা ট্রেন্ড বললে ভুল হবে কেননা এর মধ্যে দিয়ে নিজের প্রতি একটা ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ হয়।

প্রথমদিকে সেলফি তোলার যে প্রবণতা তা যখন বাড়তে থাকে তখন নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হয়, প্রথমত মানুষ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে ।এই সময়ে নিজেকে একাকী উপস্থাপনের একটা রীতি চালু হয়ে যায়। যেকোন অবস্থানে বা স্থান,কাল,পাত্রভেদে এই সেলফি জনপ্রিয় হতে থাকে। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন প্রথম দিককার অধিকাংশ সেলফিতে মানুষ নিজেকে একা উপস্থাপন করতে যেন বেশ স্বস্তি পেয়ে আসছিল। এই তো গেল মানুষের আত্মকেন্দ্রিক হওয়ার প্রবণতা তারপরে যেটা আরো বড় করে দেখা দিল তা খোদ তরুণীদের মধ্যে এই সমস্যা প্রবল আকারে দেখা দিল।

সেলফিতে নিজের সাবলীল উপস্থাপন বা সুন্দর ছবির জন্য তারা চিকিৎসকের কাঁচির নিচে যেতে কুন্ঠাবোধ করল না। একটা পরিসংখ্যানে দেখা যায় সেলফির প্রচলনের পর থেকে অধিকাংশ তরুণী যারা মুখে সার্জারি করেছে তাদের অধিকাংশের অভিযোগ ছিল তাদের মুখের অবয়ব সেলফিতে ভাল আসে না,তাই তারা এই পন্থা বেছে নিয়েছে। এটা মানুষের কৌতুহলী প্রচেষ্ঠা মিটাতে গিয়ে একটা ভিন্নমাত্রার প্রচেষ্ঠা বলা যেতে পারে।

এই সমস্যার বাইরে গিয়ে যে সমস্যা প্রকট রুপ ধারণ করল তা হল ভার্চুয়াল জগতে নিজের সেলফির মাধ্যমে একটা শো – অফ করার ট্রেন্ড চলে আসল। এই সময়ে আপনি কোন এ্যাঙ্গেল বা কোন ব্যাকগ্রাউন্ড পিছনে রেখে ছবি তুলছেন তার চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়ে আসছিল আসলে আপনি সেলফিটা ঠিকমতো তুলেছেন কিনা,নয়তো ষোলো আনাই বৃথা।

এইসব সেলফিতে আতিশয্যে যেমন ছিল তেমনি বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দেয়ার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ছিল বৈকি। এই যেমন কবরস্থানে শুয়ে কিংবা বসে,অসুস্থ দাদা-দাদীকে নিয়ে সাথে চটকদার ক্যাপশনের বাহার।এমনকি কোরবানির ঈদের সময় কোরবানি করা পশুর সাথে যে নানা অঙ্গভঙ্গিতে সেলফি আমরা দিয়ে এসেছি তা দ্বারা কোন না কোনভাবে নিজেকে প্রকাশের চেয়ে নিজের হীনমন্যতার বাড়তি বিজ্ঞাপন করে এসেছি বরাবর।এই যে অযাচিত কিছু সেলফি ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আমরা দেখেছি তার কিছু কিছু ভাইরাল হয়েছে। নানান মানুষের নানান মত যেমন সেলফির বাহারও তেমন কেননা ক্যাপশন দেখে যাই বোঝা বিফোর শাওয়ার্…. আফটার শাওয়ার্ ….এখানে গোসলের চেয়ে সেলফি মুখ্য। এট এক্সাম হল নতুবা আফটার এক্সাম ….পরীক্ষার চেয়ে সেলফির ক্যাপশনে মনযোগ বেশি ছিল। বাসে বা ট্রেনের সিটে কিংবা চলন্ত ট্রেনের ছাদে নয়তো লঞ্চের ডেকে বসে এমনকি চলন্ত রিকশায় বসে মানুষকে সেলফি নিতে দেখা যায়। একে তো ছিল বাহুল্যতা বা লোকদেখানোর প্রচলন যেটা কিনা একসময়  ট্রেন্ড বনে যায় তবে তা  ভয়ানক সুন্দর ছিল।

সেলফি নিতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে,ব্রীজ হতে পড়ে, গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে, চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় কিংবা বিদ্যুৎস্পৃস্ট হয়ে মারা গেছে প্রায়ই অনেকে।এটা আমাদের সাবধান হওয়ার জন্য যথেষ্ট বলা চলে। এটা নিছক ছেলেমানুষী বা জীবনের প্রতি উদাসীনতা বা অবহেলা ছাড়া আর কিছু না।

বর্তমানে আপনি দেখবেন সেলফিতে নিজেকে একা দেখানোর মানসিকতা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে। আমি বলব একাকীত্মকে ভুলে সার্বজনীন হচ্ছে। আপনি হারহামেশাই দেখবেন সেলফি নিতে গিয়ে সবাই দলবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এটা ভাল দিক, কি বলেন ? আপনি সেলফি তুলতে যাবেন কিন্তু ছবিতে ভাল এক্সপ্রেশন দিতে পারবেন না এখানে আপনার স্মার্টনেসের পারদ উঠানামা করবে। বিশেষত মেয়েদের মধ্যে এটা নিয়ে নিয়মিত স্নায়ুযুদ্ধ চলে,এই বিষয়ে বিশারদেরও কিন্তু দেখা মিলবে।

সেলফি এখন শুধু নিজেকে বা বন্ধুসঙ্গকে প্রকাশের মাধ্যম বলে ব্যবহার হয় না । এই ফ্রেমে স্থান পাই পরিবার,পরিজন,ভালবাসার সহ সকল শ্রেণীর মানুষ।

বর্তমান সময়ে প্রতিষ্ঠিত তারকা বা সর্বজনবিদিত ব্যক্তিত্ব যাই বলুন না কেন সবাই জনসম্পৃক্ততার জন্র মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয় এই সেলফিকে।সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে মিডিয়াগুলো নানান প্রচারণার কৌশল হিসেবে সেলফিকে অর্ন্তভুক্ত করে নেয়।

সমাজে বসবাসরত একজন হিসেবে নিজের স্বকীয় কোন ফ্রেমে অন্য কাউকে অংশীদারীত্ব দেয়াটা অবশ্য ইতিবাচক দিক।সমাজ বিজ্ঞানীদের ব্যাখায় সেলফি ও সেলফি যারা তোলে তাদের সম্পর্কে বিশদ ব্যাখা রয়েছে। তবে ভার্চুয়াল দুনিয়ার ভাইরাল কোন ট্রেন্ডের সাথে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে চান সেলফি তুলে যান। সেলফির যে প্রথা বা ধরণ তা কোনভাবেই যেন আত্মঘাতী  না হয়।

নিজের সকল প্রকার অনুভূতির প্রকাশের জন্য নিজের স্থির চিত্রের চেয়ে যখন হাস্যেজ্বল অবয়ব প্রাধান্য পাই তখন তা প্রকরান্তরে নিজের সুখী মানসিকতাকে বাহ্যিকতায় পরিস্ফুটিত করে তোলে।

প্রচলিত আছে ..ছবি নাকি কথা বলে ।অদূর ভবিষ্যতে হয়তো আমাদের কাটিয়ে আসা অতীত স্মৃতির করিডোরে পদাচারণায় আমাদের সঙ্গী হবে এই বহুামত্রিক সেলফিগুলো।

আমরা একাকীত্মের বেড়াজাল ভেঙ্গে সার্বজনীনতায় নিজের সুখ বা দুঃখকে ভাগাভাগি করি হোক না সেটা সেলফি দিয়ে শুরু……………..