3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

বন্ধুত্ব শুধু মানুষে মানুষেই হয় না

Now Reading
বন্ধুত্ব শুধু মানুষে মানুষেই হয় না

আর কি বলব।

কখনো কি ভাবে দেখেছেন ? আমরাও যদি এমন হতাম তাহলে কত ভালোই না হত। বন্ধুত্ব থাকত নিঃস্বার্থ ভাবে , ভাগল্পটা বন্ধুত্বের

ছবিটা দেখে মনে হতে পারে এখানে বন্ধুত্বটা কোথায়?
বন্ধুত্ব আছে এখানেই, সম্পর্ক, ভালোবাসা, বন্ধন। ছবিটা সেন্টমার্টিন এর পথে তোলা ,যখন আমরা জাহাজে ছিলাম। জাহাজটা ছাড়ার সময়টা সঠিক মনে নাই,তবে মিষ্টি রোদের অসাধারণ অনুভূতির কথাটা মনে আছে। আমরা গিয়েছিলাম সর্বমোট ৮জন বন্ধু । একসাথে কত মজা আরো কত কি । জাহাজটা ছেড়ে দিল সময় মত। আমরা জাহাজের ভিতরে জায়গা না পাওয়ায়,বাইরে দাড়াতে হয়েছিল। জাহাজটা ধীরে ধীরে সামনে যাচ্ছিল। অসাধারণ সেই সময়। সাগরের পানি ছিল মন কেড়ে নেবার মত। জাহাজটা কিছু দূর যেতেই খেয়াল করলাম এক ঝাঁক পাখি। এগুলো কোন জাতের পাখি জানা ছিল না । এখনও জানা নেই যদিও। তবে যে পাখিই হোক না কেন ,তারা খুবই সুন্দর ও অসাধারণ। আমরাও যাচ্ছি সামনের দিকে ওরাও আসছে আমাদের সাথে সাথে। আমরা তাদেরকে খাবার দিচ্ছি ,তারাও খাচ্ছে ,কাছে আসছে । আমরা ভেবেছিলাম যে ,ওরা সম্ভবত খাবারের লোভেই আমাদের সাথে আছে তথা জাহাজের সাথে আছে ,মাঝপথে আসলে ফিরে যাবে আবার । কিন্তু অবাক করা কথা হল ওরা পুরোটা পথ জাহাজের সাথে ছিল। আমাদের যেতে দেড় ঘন্টার বেশি লেগেছিল,ওরা আমাদের সাথেই ছিল । এবার আসি বন্ধুত্বের কথায়।

বন্ধুত্বটা হল এক নিঃস্বার্থ বন্ধন। যেটা ছিল ওই পাখিগুলো আর জাহাজের ভিতর। ভাবতে পারেন এটা আবার কেমন বন্ধুত্ব ।আমি বলবো এটাই বন্ধুত্ব। এরা একে অন্যের পরিপূরক। জাহাজ চলে সাগরের বুকে নিজ গতিতে আর পাখি চলে তারই সাথে তালে তাল মিলিয়ে। এখানে কেউ একা নয়। পাখি যেন জাহাজের শোভা হাজার হাজার গুণ বাড়িয়ে দেয় তাদের বিচরণের মাধ্যমে। এই বন্ধনকে বন্ধুত্ব ছাড়া লোবাসা থাকত ,থাকত সম্পর্কের টান। যেমনটা আমি দেখেছি এই পাখি আর জাহাজের মাঝে। বন্ধুত্ব শুধু মানুষে মানুষেই হয় না । এমন বন্ধুত্বও আছে যেগুলো হয়ত আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় অবিরত। কিন্তু একটু ভালোভাবে খেয়াল করলে হয়ত সবার চোখেই পড়বে এমন আরো অনেক দৃষ্টান্ত। এটাই হয়ত বন্ধুত্ব যেটা হয়ত চোখ এড়িয়ে যাবে,জানি না ।

এখানে বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত আছে আরো। দূরে দেখা যাচ্ছে দিগন্ত ,না ভালোভাবে দেখলে দেখবেন এখানে কোনো বিশেষ দিগন্ত নাই কারণ সাগরের দিগন্ত সাগর নিজেই । নীল রং এর এই সাগর, সাথে দেখা যাচ্ছে আকাশ। সেও নীল বর্ণেরই অধিকারী। কিন্তু কোথায় এখানে বন্ধুত্ব? আছে ,এখানেও বন্ধুত্ব বিরাজমান। সাগর যেন আকাশের সাথে মিশে গেছে, আলাদা করাটা কঠিন । একে অন্যের সাথে এমন মিশে একাকার হওয়াটা কি তাদের মাঝের বন্ধুত্বের পরিচয় বহন করে না? আমার মনে হয় করে ,এটা তাদের বন্ধুত্বেরই পরিচয় দেয়। তারা কোনো বাধা নিষেধ না মেনে একে অপরের সাথে মিশে গিয়েছে অকাতরে।

অবশ্যই এই বিষয় গুলোকে আমি বন্ধুত্বই বলব। মানুষ তাদের বন্ধু বানায় তাদের নিজেদের দরকারে তাই , এই মানুষই বন্ধুত্বের বিবরণটা নিজের মত করেই সাজিয়েছে। এর বাইরেও যে বন্ধুত্ব থাকতে পারে সেটা হয়ত আমাদের ধারণার বাইরে, তাই এই বন্ধুত্ব গুলো আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় অবিরত। প্রকৃতি আমাদেরকে শিক্ষা দেয় বিভিন্ন দিক থেকে , সেটা হোক না পরোক্ষ ভাবে ,তাতে দোষ কি?

সেন্টমার্টিনের ভ্রমণটা আমার জীবনের সেরা ছিল, যেখানে আমি শিক্ষা নিয়েছি প্রকৃতি থেকে। আমরা ছিলাম প্রায় ২ দিন ,কিন্তু মনে হয়েছিল ২ বছর ছিলাম । এই সেন্টমার্টিন আমাদের দেশের গর্ব, যেখানে আমাদের একবার হলেও যাওয়া দরকার ,যেটা আমাদের শিক্ষাকে হাজার হাজার গুণ বাড়িয়ে দিবে।

ফেরার বেলা চলে এলো। ফিরে তো যেতে হবেই , তবে যেতে মন চাইছিল না ,কারণ যায়গাটা এতটাই সুন্দর ছিল যে ছেড়ে যেতে কারোরই মন চাইবে না। আমরা তৈরী হলাম ফিরে যাবার জন্য। সময় মত পৌছে গেলাম সাগরের পাড়ে । বন্ধুরা সবাই অনেক মজা করলাম , সাথে অনেক সামুদ্রিক মাছ আর শামুকও কিনলাম। যথা সময়ে আমাদের জাহাজটাও চলে এল। জাহাজ সময় মত ছেড়ে দিল। আমরা এবারও আগের বারের মত ভিতরে যায়গা না পাওয়াতে বাইরে দাড়াতে হল। তবে এবার আর আবাক হলাম না । কারণ আমার জানা ছিল যে বন্ধুত্বের পরিচয় তারা দিবেই। আমি পাখির কথা বলছি। পাখিগুলো আবার আমাদের পিছু নিল। জাহাজকে কখন একা ফেলে গেলনা তারা। তারা সব একসাথে ছিল , কলতানে মুখরিত করে রেখেছিল । মনে হয়েছিল এক অনন্য পরিবেশে এসে পড়েছিলাম। ২ ঘন্টা কখন চলে গেল বুঝতেই পারলাম না। এখানে না আসলে বুঝতেই পারতাম না বন্ধুত্ব কাকে বলে। এক অনন্য বন্ধুত্বের উধাহরণ দিয়ে গেল তারা আর বলে গেল আমাকে যে তোমরা যাকে বন্ধুত্ব বলো আমরা তাকে বন্ধুত্ব বলি না আমরা তাকে স্বার্থপরতা বলি । যাকে অন্য কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।

ছবিও কথা বলে । তবে ছবি তখনই কথা বলে যখন জানা থাকে ছবির ঘটনাবলি। তবে বিভিন্ন ভাবে একটা ছবিকে কথা বলানো যায় তার জন্য জানা থাকা লাগবে প্রেক্ষাপট।

অবশেষে চলে এলাম টেকনাফ । এবার বাড়ি ফেরার পালা । বাড়ি যাব ঠিকই কিন্তু এই ভ্রমণ অর্থহীন নয় । নিয়ে যাচ্ছি অনেক কিছু নিজের সাথে । প্রাপ্তি ছিল অনেক বেশি । আফসোস ছিল এটাই ,হয়ত আর কয়টা দিন জীবন থেকে খরচ করে ,কর্মব্যস্ততাকে ভুলে , এখানে থাকলে আরো কিছু পেতাম। শিক্ষা নিয়ে যেতাম আরো কিছু প্রকৃতি থেকে যেটা কখনই পাওয়া সম্ভব না এই কর্মব্যস্ততার মাঝে। যেটা শুধু মাত্র পাওয়া সম্ভব প্রকৃতি থেকে। বন্ধুত্ব যে এমন একটা বিষয় যেটা অনেক বেশি পবিত্র কিন্তু আমাদের সমাজে অন্য ভাবে ব্যবহার করা হয় । প্রকৃতি আমাদেরকে প্রতিনিয়ত শিক্ষা দেয় বিভিন্ন ভাবে , বিভিন্ন উপায়ে। কিন্তু যখনই সেটা আমরা সেটাকে নিতে না পারি সেটা তার গুণ হারায় । আমাদের জীবনের চলার পথে এমন অনেক কিছু হয়ে থাকে যেগুলা সহসা আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় । যেগুলা আমাদের চোখ না এড়ালে আমরা জীবনের বিভিন্ন যায়গায় এগুলা প্রয়োগ করতে পারি আর জীবনকে আরো সুন্দর করতে পারি।

অবশেষে চলে এসেছি লেখার শেষ প্রান্তে। বন্ধুত্বের সাথে আরো অনেক কথাই বলে ফেললাম এখানে , আশা করি সকল কথা সবার মতামতের সাথে না মিলতে পারে তবুও কিছু শিক্ষার কথা সবার সাথে ভাগ করে নিলাম না হয়।

বন্ধুত্বের শুরুটা

Now Reading
বন্ধুত্বের শুরুটা

আমাদের প্রথম কথা হয়েছিল জানুয়ারীর ৮ কিংবা ৯ তারিখে। সেদিনই সম্ভবত আমাদের ইউনিভার্সিটির প্রথম ক্লাস ছিল।

হঠাৎ করে আমার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলি , এই তোমার নাম অন্তু?

আমি থতমত খেয়ে বলেছিলাম , হ্যাঁ। কিভাবে জানো ?

কিছু না বলে রহস্যময় হাসি দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে গিয়েছিলি ।

আমি মনে মনে অনেক খুশি হয়েছিলাম সেইদিন । এতো সুন্দর ছেলেটা আমার সাথে কথা বলল । তাও নিজে থেকে , ভাবতেই ভালো লাগছিল । আবার আমার নামও কোন ভাবে জানে ।

তারপর প্রতিদিন তোকে দেখতাম । মুখভর্তি দাড়ি , লম্বাটে মুখ ,  অহংকারী চেহারার মধ্যে মুখভর্তি হাসি এমন চমৎকার লাগতে পারে তোকে দেখেই প্রথম টের পেলাম । নাক উঁচু করে ক্লাস্রুমে  ঢুকতি । তারপর নাক গুজে এককোনায় বসে পড়তি ছবি আঁকতে । আমি আরচোখে তোকে দেখতাম । অসম্ভব ভাল লাগত দেখতে তোকে । মাঝে মাঝে ভাবতাম তোর সাথে যদি বন্ধুত্ব করা যেত । একদিন কথা বলে আর পরে কেন নিজে কথা বলতে আসিস না সেটাও ভাবতাম । নাকি নিজে গিয়েই কথা বলব । যদি বেহায়া ভাবে ? ভাবতে ভাবতে  পুরো এক সেমিস্টার পার হয়ে গেল । আমার আর সাহস হল না তোর সাথে নিজে থেকে কথা বলার । Friendship-Day-Drawing-Black-And-White2.jpg

পরের সেমিস্টার এ একদিন সুযোগ হয়েই গেল তোর সাথে কথা বলার । তোর এক বন্ধু জায়গা না পেয়ে আমার পাশে বসল । তুইও একটু পর এসে বসলি , এক কথায় দুই কথায় বন্ধুত্বের শুরু হল ।

তারপর থেকে আমাদের এক গ্রুপে চলাফেরা শুরু । আমার বাকী বন্ধুদের সাথেও তোর ভাব হয়ে গেল ।  আমি প্রথম থেকেই তোকে আর তিনাকে নিয়ে হাসাহাসি করতাম । তোরা দুইজনই খুব সুন্দর । মানাতো বেশ । যদিও আমার তোকে ভাল লাগত ।তখনও মুখ ফুটে বলার সাহস হয় নি । মজা করলেই  তিনা রেগে মেগে অস্থির হত । তবে আমি কখনই বুঝতে পারি নি যে , তিনা তোকে ভালবেসে ফেলবে । আর আমি, আমি দেখতে সুন্দর না বলে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে নিলাম । অবস্থাটা আগের মত থাকলে হয়ত এখনকার মত বেসামাল হতাম না ।  তোকে দেখে অবশ্য কোনদিনই বোঝার কোন উপায় ছিল না তুই কাউকে পছন্দ করিস কিনা ।

তিনা তোকে পছন্দ করে এ কথাটা ও কাকে প্রথম বলেছিল জানিস ?

ঠিক ধরেছিস । আমাকেই ।

 

আমি কক্সবাজারে যাচ্ছিলাম বাসে করে হঠাৎ টুং করে ম্যাসেঞ্জারে শব্দ করে উঠল । তাকিয়ে দেখি তিনা ম্যাসেজ পাঠিয়েছে ।

তিনা ঃ দোস্ত, আমি একজনকে পছন্দ করি । তুই তাকে অনেক কাছ থেকে চিনিস ।

বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল । খুব চাচ্ছিলাম তোর নাম যাতে না বলে । কিন্তু আমাকে ঠিক প্রমান করে দিয়ে তোর নামই বলল ।

আরো কি বলল জানিস ? বলল, আমি যাতে তোকে একটু বুঝিয়ে বলি । ও অনেক ভয় পাচ্ছে তোকে জানাতে । আমি বুঝতে পারছিলাম না কি বলব । বুকের ভেতর টা খালি হয়ে গিয়েছিল । নিজেকে অনেক অসহায় লেগেছিল । মনে হচ্ছিল আমার অনেক কিছু কেউ একবারে কেড়ে নিয়েছে ।

‘আচ্ছা’ । এতটুকুই লিখেছিলাম।

হাত কাঁপছিল , অনেক কষ্টে তোকে একটা ম্যাসেজ লিখলাম , ঘুমাচ্ছিস ? না ঘুমালে মিসকল দে , জরুরী কথা আছে । সেন্ড বাটন এ চাপার ৩০ সেকেন্ড এর মধ্যে তোর মিসকল ।

তোকে ফোন দিলাম।

বললাম , দোস্ত তিনা তোকে ভালবাসে । ও ভয় পাচ্ছে বলতে । আমাকে বলতে বলল ।

তুই প্রথমেই বিরক্ত হয়ে বললি , মানে ?

আমি আবার বললাম ,দোস্ত তিনা তোকে ভালবাসে । ও ভয় পাচ্ছে বলতে । আমাকে বলতে বলল ।

তুই খুব শান্ত কন্ঠে বললি , আচ্ছা , এ বিষয়ে পরে কথা বলব । আর কোন কথা আছে তোর ?

আমি বললাম , ‘না’ ।

তাহলে ফোন রাখ ,বলেই, নিজেই কেটে দিলি । আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না । অনেকক্ষন ফোনটা হাতে নিয়ে বসেছিলাম ।

একমন বলছিল , এটার মানে নিশ্চই না । যাক , বাঁচা গেল । আরেক মন বলছিল না হলে তিনা খুব  কষ্ট পাবে । আবার পরেই ভাবছিলাম , হয়ত ও সময় চাচ্ছে ভাবার । হয়ত কাল ও ‘ই’ তিনাকে ফোন করে ভালবাসার কথা বলবে । হাজার হাজার কথা মাথায় ঘুড়পাক খাচ্ছিল ।  কে জানে কি হবে ?

 

তখন রাত দু’টো বাজে । ভোরের আলো ফোটার আগ পর্যন্ত কান্না করলাম । আলো হতে হতেই চোখ মুখে ফেললাম । রাতের কষ্ট রাতের গভীরেই হারিয়ে যাক । সকালে সুদীপদা ডেকে বলল , তোর কি জ্বর ? মুখ ফুলে আছে কেন ?

আমি বললাম , না ঠিক আছি , খুব মাথা ধরেছে । আসল কথাটা বলতে পারি নি , যে বুকের ভেতরটাই ধরে গেছে ।

 

সেই রাতের আগ পর্যন্ত ভাবতাম তোকে আমার ভাললাগে । শুধুই ভাললাগা । হঠাৎ করে অনুভব করলাম এক অদ্ভুতুড়ে অনুভুতি , হয়ত সেই অনুভুতিটার নাম ভালবাসা।

ভালবাসা শব্দটা খুব অদ্ভুত । অজানা ভয় , কখনো বা অনিশ্চয়তা , পাওয়ার ইচ্ছা , হারাবার ভয় , শব্দ , গন্ধ , ছোয়া সকল অনুভুতির সমষ্টি এ ভালবাসা । এক রাতে অনেকটা বড় হয়ে গেলাম । গল্পের পাতায় যে শব্দের পরিচয় , তার আজ হাতে কলমে শিক্ষা পেলাম । সেদিন থেকেই পাবার তীব্র ইচ্ছা জেগে উঠল। আর সেই সাথে হারাবার প্রবল ভয় ।

আজ এ পর্যন্তই থাক , ভালবাসার গল্পটার বাকীটুকু  না হয় পরে হবে ।

 

বন্ধু

Now Reading
বন্ধু

Part – 1

মাঠের মধ্যে অনেখন ধরে বসে আছে পারভেয ও শামিম। হঠাৎ দুইজনের পিঠের ওপর একসাথে দুই হাত দিয়ে থাপ্পর দিল তুষার। পারভেয আস্তে আস্তে তুষার কে বলল যে তার মন ভালো নেই ফাইযলামি করিসনা। কেন? কি হইসে? জানতে চায় তুষার। পারভেয হটাত করেই তুষার কে জরিয়ে ধরে কেদে দেয়। কান্দস কেন?? কি হইসে খুইলা ক।পারভেয বলল যে রাহেলার বিয়ে ঠিক হয়ে গেসে। তুষার যেন আকাশ থেকে পরল। এরপর তুষার নিজেকে সাম্লে নিয়ে বলল যে এতো খুশির সংবাদ। মিষ্টি কই? ধুর বেটা কান্দস কেন? বিয়া ঠিক হইসে আর আকজনের সাথে বলে উঠল শামিম। ও আচ্ছা। এইডা কোন সমস্যা হইল। আমি তোর সমস্যার সমাধান করে দিতে পারি,কিন্তু এক সর্তে। কি শর্ত জিজ্ঞাসা করলো পারভেয। তুষার বলল গ্রিল আর নান খাউয়াতে হবে ।বিয়ে ঠিক হউয়া মানেইত বিয়ে হয়ে গেলনা। রাহেলার থেকে ছেলের নাম্বারটা আন এর পর জা করার আমি করে দিব। তবে না খাউয়ালে তোর খবর আসে কিন্তু।

তুষার এর এ কথা শুনে পারভেয এর কষ্ট যেন এক মুহূর্তেই হারিয়া গেলো। তুষার এর মধ্যে যে কি জাদু আছে ভেবেই পায়না পারভেয, যখন ই কোন বন্ধু কোন সমস্যায় পরে ও খুব সহজেই তার সমাধান করে দিতে পারে।তারা তিনজন ছোটবেলা থেকে একসাথে বড় হয়েছে। তাদের মধ্যে সবসময় জগ্রা,মারামারি,শইতানি চলতেই থাকে। এখন তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়ে। শামিম ও পারভেয দুজনেই প্রেমনিলাতে জরিয়ে আছে কিন্তু তুষার এখনও ঐ জায়গাতে পা পরেনি।পরবেইবা কেমন করে তুষার একটু লাজুক প্রকিতির ও কঞ্জুস টাইপের।তাই আজ পর্যন্ত তার কোন গার্লফ্রেন্ড জুটে নাই। এই নিয়ে তাকে কটুর কথাউ সুন্তে হয়। কিন্তু সে তা এক কান দিয়ে ঢুকায় আর অন্য কান দিয়ে বের করে দেয়। পারভেয এর গার্লফ্রেন্ড এর নাম রাহেলা আর শামিম এর গার্লফ্রেন্ড এর নাম নিতু। তারা একসাথে যত জায়গাতে জায় তুষার কে সঙ্গে নিয়ে যায়।

একবার ক্লাস শেষে তুষার ফ্রেন্ডদের জন্য অপেক্ষা করছে, এমন সময় রিক্সা করে কলেজ এ পড়ুয়া একটি মেয়েকে দেখে তার প্রেমে পড়ে জায়। মেয়েটি তাদের ক্যাম্পাস এর কলেজ সেকশন এর ছাত্রী। এ কথা যেদিন পারভের আর শামিমকে তুষার বলল তারা তখন খুব অবাক হল এবং বলল কি মামা তলে তলে এতদূর?? ডুবে ডুবে জল খাউয়া হচ্ছে আর আমারা টেরই পেলামনা!! মেয়েটাকে কবে দেখাবি বল?? দেখাতে পারি তবে এক শর্তে বলল তুশার।কি শর্ত জিজ্ঞাসা করলো অরা দুজন। তোরা মেয়েটাকে দেখটে পারবি কিন্তু কিছু বলতে পারবিনা। ওকে? পারভেয খানিকটা রেগে গিয়ে বলল আটা কেমন কথা! কথা না বললে প্রেম করবি কিভাবে?? কয়েকদিন যাক তারপর বল্ব,আগেত দেখ তোদের পছন্দ হয় কিনা। শামিম একটু মুচকি হেঁসে বলল প্রেম কি তুই করবি নাকি আমরা করমু কোনডা??…………।। পরের দিন তুষার, শামিম ও পারভেয কে নিয়ে ঠিক ওই জায়গাতাতে দাড়ায় যেখানে সে মেয়েটিকে দেখেছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই মেয়েটি কলেজ থেকে বাসায়র দিকে যাচ্ছিল। তার দুই বন্ধু প্লান করে রাখছিল যে মেয়েটিকে গিয়ে বলেদিবে তুষার তাকে ভালোবাসে। কিন্তু তুষার বুজতে পেরে তাদের দুই হাত দিয়ে টেনে ধরে থাকে। প্রায় এক বছর হতে চলল তবুও তুষার বলার সাহস পাইনি যে সে মেয়েটাকে ভালোবাসে………।।

রাহেলাকে দিয়ে কল করিয়ে ওই ছেলেটাকে একটি রেস্তরায় ডেকে আনে তুষার। তারপর ছেলেটাকে তারা সব কিছু বুজিয়ে বলে তারা সবাই। তারপর ছেলেটি সব শুনে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন পারভেয খুশীতে আত্মহারা হয়ে তুষারকে জরিয়ে ধরে কেদে দেয়। ওই তোর সমস্যা কিরে?? খুশিতেও কান্দস দুঃখেও কান্দস?? পাবনাতে কি বুকিং দিমু নাকি?? মুচকি হেঁসে বলে তুষার। চোখ মুছে পারভেয বলে ওই আমি পাগল……………।।

Part – 2

আজকে শামিম ও পারভেয খুব খুশি। এর কারন ও অবশ্য একটা আছে, আজ তাদের কঞ্জুস ফ্রেন্ড এর জন্মদিন। অনেকদিন পর তার থেকে কিছু খাউয়া যাবে। পার্টি দিতে হবে।সুধু সুধু আমার কত গুলো টাকা খরচ। ইস!!! আমার জন্মদিনটা যদি লিপ ইয়ার এ হত তাহলে ভালো হত,মনে মনে ভাবছে তুষার। ঐদিকে পারভেয ও শামিম প্লান করছে যে রাহেলা আর নিতু কে দিয়ে ঐ মেয়ের সাথে কথা বলাবে। প্লান অনুযায়ী তারা সবাই কলেজ ছুটি হউয়ার সময় দাঁড়াল। তারা একটু দুরেই ছিল কারন,প্রতিদিনের নেয় আজকেও তুষার মেয়েটাকে দেখার জন্য ওখানে দারিয়ে ছিল। শামিম বলল ঐযে মেয়েটা আসছে তোমরা যাও গিয়ে কথা বল। নিতু এতক্ষণে মেয়েটিকে দেখল, দেখেতো কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়া রইল। মেয়েটাতো চলে যাচ্ছে ।তুমি যাচ্ছ না কেন?? বলল পারভেয।আর এ এই মেয়েটো আমার ফুফাটো বোন মৌ। ৪ জনের নজর ছিল এতক্ষণ ঐ মেয়েটার দিকে এখন তাদের ৩ জনের নজর নিতুর দিকে। পারভেয আর শামিম তো পারে লাফালাফি শুরু করে। আবারে তুষার এর জন্মদিনে একটা স্পেশাল সারপ্রাইজ গিফট দেয়া যাবে বলল রাহেলা। ঠিক বলছ , বলল পারভেয। তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ গিফট আসে ফোন করে বলল পারভেয। কি গিফট জানতে চায় তুশার।উহু বলা জাবেনা তাহলেতো আর সারপ্রাইজ থাকলোনা। কালকে জন্মদিনের পার্টি তে দেখতে পাবি………।।

তুষার অনেখন ধরে বসে আছে জয় রেস্তরাঁয়। এখন পর্যন্ত একটা বন্ধুও আসেনি। তাদের সবাইকে কল দিয়েছে। সবাই আসছি বলে এক ঘণ্টা হয়ে গেলো এখন ও কেউ আসেনি। ঐদিকে দুই বন্ধু তাদের বন্ধুর জন্যে গিফট কিনতে গেছে। গিফট কেনা শেষ হতে না হতেই তুষার এর ফোন। ওরা বলল যে পাঁচ মিনিট এর মধ্যেই আসছে। ঐদিকে নিতু পৌঁছে যায় রাহেলার বাসায়। রাহেলাকে নিয়ে একসাথেই তারা জয়তে যাবার উদ্দেশে রউনা হয়।

হাঁসপাতালের চারদিকেই ভিড় করে আছে সবাই। কান্নার জন্যে কেউ ঠিক করে কথা বলতে পারছেনা। পারভেয এর বাঁচার আশংকা খুবই ক্ষীণ আর শামিম এর দুটো চোখ ই নষ্ট হয়ে গেছে। পারভেয এর জন্য প্রচুর রক্তের প্রয়োজন। পারভেয এর রক্তের গ্রুপ ও নেগেটিভ। যা কোন হাঁসপাতাল এ পাউয়া যাচ্ছে না আর শামিম এর জন্য রক্ত পাওয়া গেছে কিন্ত চোখ পাওয়া যাচে না। জয় রেস্তরাঁয় রিক্সা করে যাবার সময় পেছন থেকে একটা কার এর সাথে ধাক্কা লাগে। পাশে থাকা কিছু মানুষ তাদের ধরাধরি করে হাঁসপাতাল এ নিয়ে আসে। অবশেষে অনেখন পর রক্ত আর চোখ পাওয়া গেলো। তারপর ডাক্তারের প্রচেষ্টায় তারা দুজন ভালো হয়ে উঠল, চারপাশে প্রচুর বন্ধু, মা-বাবা, এবং আত্মীয়স্বজন । কিন্তু তাদের মাঝে শামিম আর তুষার নেই। তখন পারভেয জানতে চায় শামিম এর কি অবস্থা ? এখন একটু ভালো জানায় বন্ধুরা। তারপর পাসের রুম এ দেখতে যায় পারভেয, শামিমকে। আখানেও দেখতে পেলনা তুষারকে। কিরে তুষার কইরে?? অরেতো একবার ও দেখতে পেলামনা! পারভেয বলে যে আমার কাছে একবার ও আসলো না। তুষার কি কোন কাজে ব্যাস্ত নাকি? আমাদের কথা ভুলেগেল নাকি? এমন সময় নিতু ও রাহেলা আসে। তুষার কই জিজ্ঞাসা করে শামিম। নিতু ব্যাগ থেকে একটা চিঠি বেড় করে দেয় পারভেযকে।

চিঠিতে লেখা—

সুস্থ হওয়ার পর আমাকে না দেখে ভাবছিস যে আমি আনেক ব্যাস্ত হয়ে গেছি। এটা তোদের ভুল ধারণা । আমি তোদের মাঝে এখনও আছি। ভালো করে দেখ আমি পারভেয এর প্রতিটি রক্তকণার মাঝে আর শামিম এর চোখের মাঝে সুপ্ত অবস্থায় আছি। চিঠি পড়ে কি তোরা কান্না শুরু করছিস? একটা থাপ্পর দেমু ধইরা। কাদলে আমি খুব কষ্ট পাব। ভালো থাকিস দোস্তরা…………………।।

গল্পটা বন্ধুত্বের

Now Reading
গল্পটা বন্ধুত্বের

ছবিটা দেখে মনে হতে পারে এখানে বন্ধুত্বটা কোথায়?
বন্ধুত্ব আছে এখানেই, সম্পর্ক, ভালোবাসা, বন্ধন। ছবিটা সেন্টমার্টিন এর পথে তোলা ,যখন আমরা জাহাজে ছিলাম। জাহাজটা ছাড়ার সময়টা সঠিক মনে নাই,তবে মিষ্টি রোদের অসাধারণ অনুভূতির কথাটা মনে আছে। আমরা গিয়েছিলাম সর্বমোট ৮জন বন্ধু । একসাথে কত মজা আরো কত কি । জাহাজটা ছেড়ে দিল সময় মত। আমরা জাহাজের ভিতরে জায়গা না পাওয়ায়,বাইরে দাড়াতে হয়েছিল। জাহাজটা ধীরে ধীরে সামনে যাচ্ছিল। অসাধারণ সেই সময়। সাগরের পানি ছিল মন কেড়ে নেবার মত। জাহাজটা কিছু দূর যেতেই খেয়াল করলাম এক ঝাঁক পাখি। এগুলো কোন জাতের পাখি জানা ছিল না । এখনও জানা নেই যদিও। তবে যে পাখিই হোক না কেন ,তারা খুবই সুন্দর ও অসাধারণ। আমরাও যাচ্ছি সামনের দিকে ওরাও আসছে আমাদের সাথে সাথে। আমরা তাদেরকে খাবার দিচ্ছি ,তারাও খাচ্ছে ,কাছে আসছে । আমরা ভেবেছিলাম যে ,ওরা সম্ভবত খাবারের লোভেই আমাদের সাথে আছে তথা জাহাজের সাথে আছে ,মাঝপথে আসলে ফিরে যাবে আবার । কিন্তু অবাক করা কথা হল ওরা পুরোটা পথ জাহাজের সাথে ছিল। আমাদের যেতে দেড় ঘন্টার বেশি লেগেছিল,ওরা আমাদের সাথেই ছিল । এবার আসি বন্ধুত্বের কথায়।

বন্ধুত্বটা হল এক নিঃস্বার্থ বন্ধন। যেটা ছিল ওই পাখিগুলো আর জাহাজের ভিতর। ভাবতে পারেন এটা আবার কেমন বন্ধুত্ব । আমি বলবো এটাই বন্ধুত্ব। এরা একে অন্যের পরিপূরক। জাহাজ চলে সাগরের বুকে নিজ গতিতে আর পাখি চলে তারই সাথে তালে তাল মিলিয়ে। এখানে কেউ একা নয়। পাখি যেন জাহাজের শোভা হাজার হাজার গুণ বাড়িয়ে দেয় তাদের বিচরণের মাধ্যমে। এই বন্ধনকে বন্ধুত্ব ছাড়া লোবাসা থাকত ,থাকত সম্পর্কের টান। যেমনটা আমি দেখেছি এই পাখি আর জাহাজের মাঝে। বন্ধুত্ব শুধু মানুষে মানুষেই হয় না । এমন বন্ধুত্বও আছে যেগুলো হয়ত আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় অবিরত। কিন্তু একটু ভালোভাবে খেয়াল করলে হয়ত সবার চোখেই পড়বে এমন আরো অনেক দৃষ্টান্ত। এটাই হয়ত বন্ধুত্ব যেটা হয়ত চোখ এড়িয়ে যাবে,জানি না ।

এখানে বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত আছে আরো। দূরে দেখা যাচ্ছে দিগন্ত ,না ভালোভাবে দেখলে দেখবেন এখানে কোনো বিশেষ দিগন্ত নাই কারণ সাগরের দিগন্ত সাগর নিজেই । নীল রং এর এই সাগর, সাথে দেখা যাচ্ছে আকাশ। সেও নীল বর্ণেরই অধিকারী। কিন্তু কোথায় এখানে বন্ধুত্ব? আছে ,এখানেও বন্ধুত্ব বিরাজমান। সাগর যেন আকাশের সাথে মিশে গেছে, আলাদা করাটা কঠিন । একে অন্যের সাথে এমন মিশে একাকার হওয়াটা কি তাদের মাঝের বন্ধুত্বের পরিচয় বহন করে না? আমার মনে হয় করে ,এটা তাদের বন্ধুত্বেরই পরিচয় দেয়। তারা কোনো বাধা নিষেধ না মেনে একে অপরের সাথে মিশে গিয়েছে অকাতরে।

অবশ্যই এই বিষয় গুলোকে আমি বন্ধুত্বই বলব। মানুষ তাদের বন্ধু বানায় তাদের নিজেদের দরকারে তাই , এই মানুষই বন্ধুত্বের বিবরণটা নিজের মত করেই সাজিয়েছে। এর বাইরেও যে বন্ধুত্ব থাকতে পারে সেটা হয়ত আমাদের ধারণার বাইরে, তাই এই বন্ধুত্ব গুলো আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় অবিরত। প্রকৃতি আমাদেরকে শিক্ষা দেয় বিভিন্ন দিক থেকে , সেটা হোক না পরোক্ষ ভাবে ,তাতে দোষ কি?

সেন্টমার্টিনের ভ্রমণটা আমার জীবনের সেরা ছিল, যেখানে আমি শিক্ষা নিয়েছি প্রকৃতি থেকে। আমরা ছিলাম প্রায় ২ দিন ,কিন্তু মনে হয়েছিল ২ বছর ছিলাম । এই সেন্টমার্টিন আমাদের দেশের গর্ব, যেখানে আমাদের একবার হলেও যাওয়া দরকার ,যেটা আমাদের শিক্ষাকে হাজার হাজার গুণ বাড়িয়ে দিবে।

ফেরার বেলা চলে এলো। ফিরে তো যেতে হবেই , তবে যেতে মন চাইছিল না ,কারণ যায়গাটা এতটাই সুন্দর ছিল যে ছেড়ে যেতে কারোরই মন চাইবে না। আমরা তৈরী হলাম ফিরে যাবার জন্য। সময় মত পৌছে গেলাম সাগরের পাড়ে । বন্ধুরা সবাই অনেক মজা করলাম , সাথে অনেক সামুদ্রিক মাছ আর শামুকও কিনলাম। যথা সময়ে আমাদের জাহাজটাও চলে এল। জাহাজ সময় মত ছেড়ে দিল। আমরা এবারও আগের বারের মত ভিতরে যায়গা না পাওয়াতে বাইরে দাড়াতে হল। তবে এবার আর আবাক হলাম না । কারণ আমার জানা ছিল যে বন্ধুত্বের পরিচয় তারা দিবেই। আমি পাখির কথা বলছি। পাখিগুলো আবার আমাদের পিছু নিল। জাহাজকে কখন একা ফেলে গেলনা তারা। তারা সব একসাথে ছিল , কলতানে মুখরিত করে রেখেছিল । মনে হয়েছিল এক অনন্য পরিবেশে এসে পড়েছিলাম। ২ ঘন্টা কখন চলে গেল বুঝতেই পারলাম না। এখানে না আসলে বুঝতেই পারতাম না বন্ধুত্ব কাকে বলে। এক অনন্য বন্ধুত্বের উধাহরণ দিয়ে গেল তারা আর বলে গেল আমাকে যে তোমরা যাকে বন্ধুত্ব বলো আমরা তাকে বন্ধুত্ব বলি না আমরা তাকে স্বার্থপরতা বলি । যাকে অন্য কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।

ছবিও কথা বলে । তবে ছবি তখনই কথা বলে যখন জানা থাকে ছবির ঘটনাবলি। তবে বিভিন্ন ভাবে একটা ছবিকে কথা বলানো যায় তার জন্য জানা থাকা লাগবে প্রেক্ষাপট।

অবশেষে চলে এলাম টেকনাফ । এবার বাড়ি ফেরার পালা । বাড়ি যাব ঠিকই কিন্তু এই ভ্রমণ অর্থহীন নয় । নিয়ে যাচ্ছি অনেক কিছু নিজের সাথে । প্রাপ্তি ছিল অনেক বেশি । আফসোস ছিল এটাই ,হয়ত আর কয়টা দিন জীবন থেকে খরচ করে ,কর্মব্যস্ততাকে ভুলে , এখানে থাকলে আরো কিছু পেতাম। শিক্ষা নিয়ে যেতাম আরো কিছু প্রকৃতি থেকে যেটা কখনই পাওয়া সম্ভব না এই কর্মব্যস্ততার মাঝে। যেটা শুধু মাত্র পাওয়া সম্ভব প্রকৃতি থেকে। বন্ধুত্ব যে এমন একটা বিষয় যেটা অনেক বেশি পবিত্র কিন্তু আমাদের সমাজে অন্য ভাবে ব্যবহার করা হয় । প্রকৃতি আমাদেরকে প্রতিনিয়ত শিক্ষা দেয় বিভিন্ন ভাবে , বিভিন্ন উপায়ে। কিন্তু যখনই সেটা আমরা সেটাকে নিতে না পারি সেটা তার গুণ হারায় । আমাদের জীবনের চলার পথে এমন অনেক কিছু হয়ে থাকে যেগুলা সহসা আমাদের চোখ এড়িয়ে যায় । যেগুলা আমাদের চোখ না এড়ালে আমরা জীবনের বিভিন্ন যায়গায় এগুলা প্রয়োগ করতে পারি আর জীবনকে আরো সুন্দর করতে পারি।

অবশেষে চলে এসেছি লেখার শেষ প্রান্তে। বন্ধুত্বের সাথে আরো অনেক কথাই বলে ফেললাম এখানে , আশা করি সকল কথা সবার মতামতের সাথে না মিলতে পারে তবুও কিছু শিক্ষার কথা সবার সাথে ভাগ করে নিলাম না হয়

প্রতিশোধ

Now Reading
প্রতিশোধ

কলেজের সবার মন জয় করে আছে হেমা।হাসি খুশি এবং চঞ্চল।
সব সময় মুখে একটা হাসি লেগেই আছে।
তন্নি আর আকাশ হলো হেমার সব থেকে কাছের এবং ভালো বন্ধু।
হেমার সাথে কলেজের সবারই খুব ভালো সম্পর্ক। হেমার হাসিতে কি যেনো একটা আছে।হেমার সাথে কয়েক মিনিট কথা বললেই সবাই কেমন জানি হেমার আপন হয়ে যায়।

হাসি-ঠাট্টা,মজা করেই কাটছে ওদের জীবন। তাই বলে কেও পড়া লেখায় পিছিয়ে নেই। তিন জনই ভালো স্টুডেন্ট।
তন্নি আকাশ কে পাগলের মত ভালোবাসে।কিন্তু কখনো বলেনি।যদি আকাশকে হারিয়ে ফেলে তাই।
তন্নি আকাশকে পাবে কিনা জানে না।তবে এইটা জানে যে আকাশ কে না পেলে তন্নি বাঁচবে না।

এদিকে আকাশ হেমাকে পছন্দ করে কিন্তু আকাশ তা হেমাকে বলে নি।
তন্নি দেখতে হেমার থেকে ও সুন্দর।
কিন্তু আকাশ হেমার হাসিতে পাগল।
হেমার হাসিটা কেন জানি আকাশকে পাগলের মত করে দেয় যা তন্নির সৌন্দর্য কখনো পারে নি।
আর হেমা কখনো প্রেম ভালোবাসায় পাত্তা দেয়নি।

একদিন আকাশ,হেমা আর তন্নি কলেজের মাঠে বসে আড্ডা দিচ্ছে।

আকাশঃ হেমা তুই কি কাওকে ভালোবাসিস?
হেমা এ কথা শুনে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার মত অবস্থা।
তন্নি আকাশের কথা শুনে ভয় পেয়ে গেলো।তন্নি আকাশ কে জিজ্ঞেস করলো
তন্নিঃ তুই হেমা কে এ কথা জিজ্ঞেস করলি কেন?
আকাশঃ কেন তোর কি হিংসে হচ্ছে? ভয় পাওয়ার কিছু নেই।আমি তোকে ও সেম কথাই জিজ্ঞেস করতাম।
তন্নিঃ কি কথা?
আকাশঃতোর বয়ফ্রেন্ড আছে কিনা?
হেমাঃ আকাশ তোর মাথায় কি কিছুই নেই? আমরা প্রেম করলে কি তুই জানতি না?
আর আমরা প্রেম করলে তোরে তো পিয়ন বানিয়ে দিতাম।

এ কথা বলে হেমা হেসে দিলো।হেমার কথা শুনে তন্নি ও হেসে দিলো।
আকাশ রাগি চোখে ওদের দিকে তাকিয়ে রইলো।

তন্নিঃ আমার বয়ফ্রেন্ড নেই তবে একজন কে ভালোবাসি।কিন্তু কখনো বলা হয় নি।ভাবসি তাকে কিছুদিন পর প্রোপোস করবো।

হেমা চিৎকার করে বলে উঠল, সত্যি বলসিস?
তন্নিঃহুম সত্যি
আকাশঃ কিছুদিন পর কেন?শুভ কাজে দেরি করতে নেই।
তন্নিঃভয় হয়,যদি আমাকে ফিরিয়ে দেয়?
আকাশঃতুই হলো কলেজের সব থেকে সুন্দরী।তোকে ফিরিয়ে দিবে এমন কারো সাহস আছে নাকি?
হেমাঃহুম,আকাশ ঠিক বলেছে।
তন্নিঃ অনার্স প্রথম বর্ষের ফাইনালের পরই তাকে প্রোপোস করবো।
আকাশঃহুম কর।তর একটা গতি হলে তারপর আমি ট্রাই করবো।

আকাশের কথা শুনে তন্নি মনে মনে ভাবছে তারমানে আকাশ এখনো একা আছে।

হেমাঃহুম তোরা প্রেম করবি আর আমি কি করবো?

আকাশ হেমা কে বললো
আকাশঃআমার ব্যবস্থা হলে তোর ও একটা ব্যবস্থা হবে।

১ম বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো।
শেষ পরীক্ষার দিন তন্নি আকাশ কে বললো তার সাথে কথা আছে।

হেমা বললো তোরা কথা বল।আমার বাসায় একটু কাজ আছে আমি আসি।
হেমা চলে গেলো।
তন্নি আর আকাশ একটা কফি হাউজ এ বসে আছে।
আকাশঃকিরে কি বলবি? সেই কখন থেকে বসে আছি।
তন্নিঃ আসলে কিভাবে বলবো বুঝতে পারছি না।
আকাশঃ ঐ তোর কি হলো? তুই কথা বলার আগে এত চিন্তা ভাবনা করা শুরু করলি কবে থেকে?

তন্নিঃআকাশ আমি তোকে ভালোবাসি।
আকাশ তন্নির কথা শুনে হেসে উঠলো।
আকাশঃতুই কি তোর বয়ফ্রেন্ডকে প্রোপোজ করার আগে আমাকে বলে অভ্যাস করে নিচ্ছিস?
তন্নি নিচ দিকে তাকিয়ে আছে।
তন্নিঃআমি সত্যি তোকে ভালোবাসি।
আকাশ হাসি থামালো। তুই কি পাগল হয়ে গেলি?
তন্নিঃকেনো? আমি কি তোকে ভালোবাসতে পারি না?
আকাশঃতন্নি তোকে একটা কথা বলা হয় নি। আমি অন্য একজনকে ভালোবাসি।

তন্নিঃআকাশ আমি তোকে ছাড়া বাঁচবো না।
আকাশঃআমি ও তোকে আমার মনে জায়গা দিতে পারবো না।
তন্নিঃ তুই যাকে ভালোবাসিস সে কি আমার থেকে ও সুন্দরী?
আকাশঃনা সে তোর থেকে সুন্দর না। তাও আমি তাকে ভালোবাসি।
তন্নিঃআকাশ তুই তো বলেছিলি যে আমাকে ফিরিয়ে দেওয়ার সাহস কারো হবে না। তাহলে আজ আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছিস কেনো?

আকাশ চুপ করে আছে।
তন্নিঃমেয়েটা কে?
আকাশঃ হেমা….
তন্নি অবাক হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।
মেয়েটা যদি অন্য কেও হত তাহলে তন্নি কোন ভাবে আকাশ কে সরিয়ে আনার চেষ্টা করতো।
কিন্তু মেয়েটা হেমা। ওদের ক্লোজ ফ্রেন্ড।
তন্নিঃ তুই এতো দিন কেন বলিস নি যে তুই হেমাকে ভালোবাসিস।
আকাশঃ বলার মত সুযোগ হয়নি তাই।
তন্নিঃহেমা জানে?
আকাশঃনা হেমা কে এখনো বলি নি।
তন্নিঃ ওহঃ

তন্নির চোখ ছলছল করে উঠলো।
আকাশঃতন্নি আই এম সরি।
তন্নিঃইটস ওকে। তোরা ভালো থাকিস।
এ কথা বলে তন্নি চলে গেলো।
আকাশঃ ভালো থাকিস মানে? তুই কোথায় যাচ্ছিস?
তন্নি আকাশের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চলে গেলো

রাতে আকাশ তন্নিকে কল করলো কিন্তু তন্নি কল রিসিভ করলো না।কয়েকবার কল করার পর তন্নি ফোন অফ করে দিলো।
তন্নি রুমে বসে কান্না করছে।
তন্নির বড় ভাই তন্নির রুমে গিয়ে দেখে তন্নি কান্না করছে।
তন্নির ভাই তন্নিকে অনেক আদর করে।ছোট বেলা থেকেই তন্নির সব বায়না ওর ভাইয়ের কাছে।
আর ভাই ও বোন এর সব আবদার পূরণ করতো।

 

চলবে…….

Page Sidebar