একটি ইন্টারভিউ

Now Reading
একটি ইন্টারভিউ

– স্যার আপনার নামটা?
– জ্বি নাম প্রীতম, কিন্তু কেও এই নামে ডাকে না।
– স্যার সম্প্রতি নোয়াখালী বিভাগ চাই নামে অনেক আন্দোলন চলছে। এই ব্যাপারে আপনার কি মতামত?
– মতামতের তো কিছু নাই। নোয়াখালী যদি বিভাগ চায় তাহলে নিবে। আরো কোন জেলার বিভাগ দরকার? তাইলে বলেন, আজকেই সব স্বীকৃতি দিয়া দিবো।
– এটাও কি সম্ভব? এইভাবে কি দেশ চলবে?
– দেশ তো চলছেই। আর আজকে যদি নোয়াখালী রা আন্দোলনে জিতে যায় আর নোয়াখালী বিভাগ হয় তাহলে পরশু থেকেই দেখবেন বরিশাইল্লা রা আবার শুরু করবে বরিশাল আলাদা রাষ্ট চাই। আর তখন যুদ্ধ ঘোষনা করবে। তাদের মেইন টার্গেট হবে নোয়াখালী আর ঢাকা।
– আমাদের আইন কি করবে তাহলে?
– আইন দিয়া তো হবে না। অন্তঃদলীয় কোন্দল হবে। মিটিং মিছিল হবে। আমাদের রাষ্ট পক্ষ গৃহপালীত বিরোধী দল সবাই বৈঠক করবে। কিন্তু কোন সমাধান হবে না।
– কেনো হবে না? এত বড় বড় মাথার মানুষ গুলা আলোচনা করলেই তো সমাধান হয়ে যাবে।
– আপনি ব্যাপার টা বুঝেন নাই। সমাধান মানেই শান্তি। শান্তির দরকার নাই তো। শান্তি আসলেই চে গুয়েভারা বা ফিদেল_কাস্ট্রো এর মতন বিপ্লবী আসবে না। আমাদের তো বিপ্লবী দরকার।আপনি দেখেন নাই, জয়নুল আবেদিন ফারুক সাহেব কে ধুম ধারাক্কা মাইর দিয়ে এক পুলিশ অফিসার এর সে কি প্রমোশন।
– তা দেখেছি বটে কিন্তু?
– আপনি এত কিন্তু কিন্তু করেন কেন? আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী। তবে সেইটা নিজ বাসার। কার বাসায় কি হইলো আমার দেখার ব্যাপার না। শুধু ইকটু আকটু বুঝেন নাই, ঐ সুইচ টুইচ ব্যাংকে এই আর কি। আমরা কিন্তু শুধুই শান্তি চাই।
– আপনার সুইচ ব্যাংকে একাউন্ট আছে?
– নাউজুবিল্লাহ। কি বলেন এটি? দেয়ালের ও কান আছে।
– আপনি ই তো বললেন।
– আমি বলা আর আপনে বলায় তফাৎ আছে তো। আমরা আম পাবলিক, আমরা আম কে আম মনে করি। আপনারা আম কে জাম, কাঁঠাল করে দিবেন। বিশ্বাস নাই তো।
–  প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রে গেলেন। নিউজের টপে চলে এলেন। এই ব্যপার টা কিন্তু এত প্রচারের দরকার ছিলো না। কি বলেন?
– নুসরাত ফারিয়া শুটিং এ পাদ দিসে, সেইটা কে আপনারা পুরা দুনিয়াকে জানাইসেন। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রে গেলেই দোষ।
– আমাদের কাজ ই তো নিউজ করা। সবাইকে সত্যটা জানানো।
– শুনেন, বাথরোমের খবর কাওকে জানাইতে নাই। আপনারা কিছু পাইলেই হইলো- তনু, ফালানী, রামপাল, তিস্তা, বাহুবলী, ডুব, আলু, মূলা কিছু কি আর বাদ রাখেন নাকি।
– জনাব ট্রাম্প এর ব্যাপারে কিছু বলার আছে কি?
– সরি। আমি পাবনার লোকদের সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না। সুরায়েজ এর বংশধর সবগুলা। পুরাই ডেঞ্জারাস, কামড় দিয়া দিবো।
– স্যার, বর্তমানে মেয়েরা লাইভ এ কি রকম অশ্লিল কর্মকান্ড করে, বেহায়াপানা করে। এইসব আপনি কিভাবে দেখেন?
– আমি তো HD তেই দেখতে চাই, কিন্তু নেট ডিস্টার্ব করে বলে দেখা হয় না।
– স্যার কি কিছু বললেন?
– না মানে এইসব ঠিক না। মেয়েগুলা নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও আমি এইসব দেখি না। মানে শুনি আর কি, লোকে বলে।।
– স্যার, শোনা কথায় কান দিতে আছে?
– অবশ্যই আছে। আপনার বাসায় ৫ তলায় আগুন লাগছে। আপনে ৩ তলায় আছেন।সবাই আগুন বলে চিল্লাইতাসে আপনি কি করবেন? উপরে গিয়ে আগুন দেখে আসবেন নাকি নিচে নামবেন।
– স্যার, দুইটা তো দুই রকম।
– আপনি বেশী বুঝেন। শোনা কথায় ও কান দিতে হয়। তবে কানটা কার দিবেন সেইটা ভেবে দেখে নিবেন।
– স্যার, আপনার কত টাকা আছে টোটাল? মানে সম্পত্তি আর কি…
– জ্বি কি বললেন, বুঝলাম না।
– মানে স্যার আপনার সম্পত্তি…
– কথা শোনা যাচ্ছে না। কি বললেন?
– আমি তাহলে অন্য প্রশ্নে যাই…
– হ্যাঁ এইবার শুনতে পারছি… বলেন
– স্যার, আপনার দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে বলবেন?
– তোমার বিয়ে হইছে?
-না স্যার। মেয়ে দেখতেছে। শিগ্রই হবে আশা করি।
– কইরো না। বউ হইতাসে আগুনের মতন। কিছুক্ষন সামনে থাকা যায়, সব সময় না।
– তাহলে স্যার এত মানুষ বিয়ে করে কেন?
– সাপে কাটলে মানুষ মারা যায়, তাই বলে কি মানুষ সাপ ধরে না? এমনি ব্যাপার টা… ।

-স্যার, আপনার মেয়ের হাসবেন্ড সম্প্রতি “দিনে নারী উন্নয়ন” নামে একটা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। এই ব্যাপারে যদি স্যার আপনি কিছু বলেন।

– আসলে বলার মতন তো কিছু নাই। তার উদ্দেশ্য মহৎ। দিনের বেলা নারী উন্নয়ন। নামেই বুঝা যায়, কতটা সামাজিক প্রতিষ্ঠান।

-কিন্তু স্যার, দিনে নারী উন্নয়ন কেমন না নামটা?

– তাহলে আপনি কি বলেন, রাতে নারী উন্নয়ন করতে? এইসব সমাজ মেনে নিবে? আমাকে ভোট দিবে এইসব করলে? কেন যে আপনি সাংবাদিকতায় আসলেন। আফসোস।

-স্যার, দেখেছি আপনি অনেক যায়গায় সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত থাকেন। ব্যাপারটা খুবি আনন্দদায়ক। কিন্তু স্যার, জার্মানি’র নাইট ক্লাবে আপনার সাথে এক তরুণীর ছবি সম্প্রতি খুব আলোড়ন তৈরি করেছে। এই ব্যাপারে স্যার যদি কিছু বলেন।

– আসলে বলার মতন তো কিছু রাখেন নি আপনারা। একটা তরুণী আমার সাথে তো থাকতেই পারে তাই না। আমিতো আর সাধু সন্ন্যাসী কেও না যে একা জীবন যাপন করবো। মেয়েটা বাংলাদেশী। আমাদের বিরোধী দলের সমর্থক। আমি তাকে শুধু দ্বিনের পথে আনার জন্য ক্লাবে নিয়ে জ্ঞান দান করছিলাম।

-স্যার, নাইট ক্লাবে দ্বিনের আলো ছড়াচ্ছিলেন আপনি? কেমন জানি হয়ে গেলো না ব্যাপার টা?

– তাতে সমস্যাটা কি? নাইট ক্লাবে কি সমাজের কথা, জ্ঞানের কথা বলা নিষেধ নাকি?

– না স্যার। না নেই। কিন্তু তা বলে নাইট ক্লাবে? জনগন কিন্তু স্যার অন্য কথা বলছে?

– আরে রাখেন আপনার জনগন এর কথা। আমরা ক্ষমতায় আসি, নানা রকম টর্চার করি আবার ভোট চাই। তারা ভোট দেয়, অত্যাচার অনাচার সহ্য করে, মিটিং-মিছিল করে, আবার আমাদের ই ভোট দেয়। ভোটের আগে জনগন, আমার চিন্তায় ব্যাপার না।
– স্যার অনেক ধন্যবাদ। সময় দেয়ার জন্য আমাকে।
– আমরা সাধারন পাবলিক। এই জিনিসটা আর জীবনটাই পাইবেন। আর কিছুই নাই..
– তো স্যার আজকের মতন বিদায়.. ভালো থাকবেন।

(শুধুমাত্র বিনোদন এর জন্য এই ইন্টারভিউটি । কাওকে ছোট করা বা অপমান করা এই লিখার উদ্দেশ্য না। তাই শুধুমাত্র উপভোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।)