ভুতের সাথেই বসবাস!

Now Reading
ভুতের সাথেই বসবাস!

বাড়িটায় এসে আমি অনেকটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। চারিদিকে এখনো যদিও মালামাল অগোছালো হয়ে আছে তবুও সকালবেলার এই আলসেমিটা দারুন উপভোগ্য মনে হচ্ছে। কারন আর কিছুই না, অনেক ঝক্কি ঝামেলা শেষে হুটহাট হোস্টেল ছেড়ে মাঝ মাসে এমন একটা বাড়ি পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপারই বটে!

যদিও বাবু বাজারের এই বাড়িটা আমার কর্মক্ষেত্র থেকে একটু বেশিই দূরে, তবু দিনশেষে বাড়ি ফিরে একাকী নিজের মতো করে কজন থাকতে পারে?

ভালোই যাচ্ছে দিনকাল। রোজ সকালে ওঠে হুটুপুটি করে ব্রেকফাস্ট বানিয়ে টিস্যুতে মুড়ে, তালায় চাবি লাগিয়ে ছুটে বড় রাস্তার মুখে এসে সিএনজি নেয়া। সারাদিন অফিস-কাজ-আড্ডা শেষে বাজার করে বাড়ি ফেরা। এই তো জীবন!

বিপত্তিটা ঘটলো হটাৎ ই।
যেদিন সাত সকালে কলিং বেলের শব্দ শুনে দরজা খুলে জটাধারী বুড়িটাকে দেখলাম।

এ বাড়িতে এসেছি প্রায় তিন মাস হতে চললো। কেওই আসেনি। যাওবা এলো একজন এ এই বুড়ি! দরজা খুলতেই দু পাঁটির চারটে করে দাত দেখিয়ে হাতের থালাটা এগিয়ে ধরলো। আমি তখন অফিসে যাবো বলে তৈরী হয়েছি। যারপরনাই বিরক্ত হলাম,

-কি আজব এই এলাকায় কি ভিক্ষে করার টাইম টেবল নেই নাকি? এত সকালে এখন আপনাকে কি খেতে দেবো! এখন যান তো,অন্যদিন আসুন

বিরক্ত হয়ে ওর মুখের সামনে দরজাটা লাগিয়ে দিলাম। এসবকে বেশি প্রস্রয় দিলেই মাথায় চড়ে বসবে।
মিনিট পাঁচেক পরে বেরিয়ে এসে দরজায় তালা দিলাম। বুড়িটাকে কোথাও দেখলাম। এক্ষনের মাঝেই উধাও! এরা এত দ্রুত হাটে কি করে!

সারাদিন অফিস শেষে সন্ধ্যা নাগাদ বাড়ি ফিরে রান্না বান্না করে খেয়ে শুতে যেতে যেতে রাত এগারোটা বেজে গেলো। ঘুম আসতে আসতে আরে দু ঘন্টা। ফোন হাতে নিয়েই কখন ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম জানিনা, হঠাৎ মাঝ রাতে ঘুমটা ভেঙে গেলো। কেনো ভাঙলো বুঝতে পারছিনা। কিছু একটা শব্দ শুনেছি।

“ঠক ঠক ঠক…!”

বাইরের দরজায় শব্দ হলো!
এত রাতে!

ঝট করে ওঠে সিড়ি বেয়ে নেমে এলাম একদম দরজার সামনে। চুপচাপ দাড়িয়ে আছি। টানা ছয় মিনিট পর আবারো, “ঠক ঠক ঠক!”

এক টানে ছিটকিনিটা খুলে দরজাটা খুললাম। সামনেটা একেবারে ফাঁকা! বাইরে হু হু করা দক্ষিনা মৃদু হাওয়া। আমি দাড়িয়ে আছি আহাম্মকের মতো। ভয়ডর পাইনি, নিজেকে কেমন বোকা বোকা লাগছে। দু দুবার ভুল শুনলাম নাকি হ্যালুসিনেশন বুঝতে পারছিনা!

প্রায় বিশ মিনিট পর হুশ হলো। আস্তে করে পিছিয়ে দরজাটা লাগিয়ে দিলাম। রুমে এসেই বসে বসে ভাবছি ব্যাপারটা কি হলো!
একা থাকতে থাকতে পাগল হয়ে গেলাম নাকি!

কখন ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই। ঠিক সময়ে এলার্ম না বাজলে আজ অফিসে ঠিকই লেইটে পৌঁছুতাম।

অফিস শেষে আজ বাইরে থেকেই খেয়ে নিলাম। রান্নার ঝামেলাটা গেলো। ফ্রেশ হয়ে জলদিই শুয়ে পড়েছি, একটুক্ষন বাদে ঘুমিয়ে গেলাম…

ঘুম ভেঙেই টেবিল ঘরিটায় চোখ গেলো। তিনটা দশ!
বিরক্ত লাগলো নিজের উপরই। “কি দরকার ছিলো জলদি শুয়ে পড়ার? এখন বাকি রাতটুকু কি করবো?”

শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করছেনা। ওঠে নিচে এসে বসতেই দরজায় খুট করে শব্দ হলো! তারপরই…..

“ঠক ঠক ঠক!”

আবারো!

-কে!
-ঠক ঠক ঠক!
-কে বাইরে!
-ঠক ঠক ঠক…!

হাত পা সমানতালে কাঁপছে আমার! এক লাফে চেয়ার ছেড়ে দৌড়ে দরজার কাছে এসে ছিটকিনি খুলে ছিটকে বেরুলাম….

-কে কে এখানে!

কেও নেই!
চাঁদের আলোয় ফকফকা চারদিক। মৃদু বাতাসে গাছের পাতা দুলছে।
দুতলার জানলাটার পর্দাটা বাতাসে দুলে দুলে বাইরে আসছে আর ছায়া ফেলছে উঠোনে………..
……………………………।

 

 

আজ তিনদিন হলো নতুন ফ্ল্যাটে ওঠেছি। দিনে ব্যাস্ত থাকি রাতে জেগে বসে থাকি।
মাঝে মাঝে দরজায় শব্দ হয়, “ঠক ঠক ঠক!”

-“কে?” কখনো চিৎকার করে জিজ্ঞেস করি আবার কখনো ঘুমে জড়ানো নিস্তেজ কন্ঠে।

বিনিময়ে জবাব একটাই পাই, “ঠক ঠক ঠক!”