মাধ্যমিকের দিন গুলোতে প্রেম… ( ১ম পর্ব )

Now Reading
মাধ্যমিকের দিন গুলোতে প্রেম… ( ১ম পর্ব )

নবম শ্রেণিতে পরীক্ষা দিয়ে দশম শ্রেণিতে উঠলাম। সাল ২০০৭। তারপরের দিন গুলোর কথা মনে করলে আমি আর আমার মন কোনটাই আর বিষণ্ণ নামক শব্দের ধারে কাছে যায় না।

ঘটনার রোমান্টিকতার শুরু সেই বছরেরই ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। ২১ শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আমাদের স্কুলে খুব বড়সড় অনুষ্ঠানই হচ্ছিল।আমি আর আমার বন্ধুরা মিলে পেছনের সারিতে গিয়ে বসলাম।আর বসার জায়গাটা পাকাপোক্ত করার পরই শুরু করে দিলাম নানা আজগুবি আলাপ।হঠাৎ উপস্থাপকের দায়িত্ব পালন করা আমাদের রশিদ স্যার বললেন ‘’ এখন ২১শে ফ্রেব্রুয়ারি নিয়ে স্বরচিত কবিতা আবৃতি করবে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী লাবিবা আক্তার। যদিও মেয়েদের প্রতি আমার তেমন আগ্রহ ছিলো না তখন। শুধু আমার বন্ধুদের প্রেমিকাদের ‘’ ভাবি ‘’ বলে ডাকা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলো। তবে আমার এই সীমার বর্ডার পার করে মেয়েটার দিকে দেখাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটার জন্ম দিলো।সব নিয়ম নীতি ভেঙে ‘’ হা ‘’ করে তাকিয়ে রইলাম মেয়েটার দিকে। স্তম্ভিত হয়ে গেলাম আমি। আমার স্তম্ভিত মনোভাব ভেঙে সাধারন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলাম সবার হাততালির শব্দে। বুঝলাম কবিতা আবৃতি শেষ।তবে কবিতা আবৃতি ভালো হয়েছিলো নাকি খারাপ তা আমার জানা নেই। কারণ আমি তার অবাক চাহনি,কপালে লেগে থাকা লাল টিপ আর নিষ্পাপ অবয়বে আটকা পরে ছিলাম। সবার হাত তালি দেয়া শেষ হয়ে গেলেও আমি আমার হাতকে আটকাতে পারলাম না। মেয়েটার দিকে হা করে তাকিয়ে হাততালি দিতে লাগলাম। আমার খেয়াল ছিলো না যে সবাই আমার কাণ্ডে কিছুটা বিরক্তবোধ করছে।আমি শুধু চাইছিলাম মেয়েটা একটা বার আমার দিকে তাকাক। হঠাৎ মেয়েটি মঞ্চ থেকে নেমে যাবার সময় আমার হাত তালির শব্দ শুনে আর চোখে আমার দিকে তাকালো আর ঠোটের কোনে জমে থাকা হাসিটার আমার জন্য প্লাবন ঘটলো। মনের ভেতরটা কেমন যেন কোন পোকার আক্রমন চলতে লাগলো। পরে অবশ্য আমি বুঝতে পেরেছিলাম এটা প্রেম পোকার কাজ। আর তারপরই শুরু হলো আমার অনুসন্ধানের পর্ব। মেয়েটাকে এর আগে আমাদের স্কুলে দেখেছি বলে মনে হচ্ছে না। মনে হলো এই বছরই নতুন ভর্তি হয়েছে। তাই নাম ছাড়া আর কিছুই অবশ্য জানা ছিলো না আমার।এসব কিছু আমি আমার বন্ধুদের বললাম। আর ওরা অনুসন্ধানের দায়িত্বটা নিজেদের উপর নিয়ে নিলো।তবুও আমি নিশ্চিন্ত হতে পারছিলাম না। আমার সব সময় মনে হতে লাগলো মেয়েটির সেই অবাক চাহনি,কপালে লেগে থাকা লাল টিপ আর নিষ্পাপ অবয়বের কথা। পড়াশোনাও মন বসতে ছিলো না।টিভিতে অনেক বার দেখেছি । নায়ক পড়তে বসার পর বই এর ভেতরে নায়িকাকে দেখে। এসব দেখে তখন আমার হাসি পেতো।মনে হতো এগুলো সব অবাস্তব। কিন্তু সেদিন রাতে পড়তে বসে আমিও বই এর পাতায় মেয়েটিকেই দেখলাম। যাই হোক, অনেক কষ্টে রাতটা পার করলাম।সকালে ঘুম থেকে উঠেই বন্ধুদেরকে এসব বিষয় বললাম। আর সাথে সাথেই বোনাস হিসেবে আমার জ্ঞানদাতা বন্ধু গুলো আমাকে নানা ভাবে জ্ঞান দিতে লাগলো।তাদের পূর্ব প্রেমের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে যদিও আমি জানতাম তবুও তারা পুনরায় আমায় সেই সব অভিজ্ঞতার কথা শুনাতে লাগলো। আমি চুপ করে শুনতে লাগলাম। কারন এসব শোনা ছাড়া আমার কোন আর কাজ নেই।এই সমস্যা শেষ করতে না পারলে আমি থাকতে পারবো না।আমি নীরব , নির্বাক শিশুর মতো উপদেশ গুলো আমার মনে গেথে নিলাম। এরই মধ্যে আমার প্রেম ডিটেকটিভ বন্ধু গুলো এসে হাজির। ২ দিনের শ্বাসরুদ্ধকর অনুসন্ধানের প্রতিবেদন জানার জন্য আমার পকেট থেকে ১০০টাকা খরচ করতে হলো। তাদের দুর্ধর্ষ অনুসন্ধানের প্রতিদান স্বরূপ মুখরোচক খাবারের আবদার আমার মেটাতে হলো।

অনুসন্ধানের ফলাফল থেকে মেয়েটির বাড়ির ঠিকানা,ভাই বোন সংখ্যা, বড় ভাই আছে কিনা, কোথায় কোচিং করে ইত্যাদি তথ্য বেড়িয়ে এলো।

এবার সময় এলো বন্ধুদের দেয়া উপদেশ মতো কাজ করা। বলে রাখা ভালো, আমাদের স্কুলে দুই শিফটে ক্লাস হতো। মর্নিং শিফট ছিলো মেয়েদের। মেয়েদের ছুটি হবার পর আমাদের ক্লাস শুরু হতো। সেদিন মেয়েদের ছুটি হবার ৪০ মিনিট আগেই আমি আর আমার বন্ধুরা স্কুল এর সমানে গিয়ে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। আমার বন্ধুরা অবশ্য ওদের নিজ নিজ প্রেমিকার সাথে দেখা করার জন্যই এসেছিলো তারপরো আমাকে ওরা না ভাবে কথা বলার স্টাইল শেখাতে লাগলো।মেয়েদের সাথে কথা বলার আমার পূর্ব প্রস্তুতি ছিলো না। আমি জানতাম না কিভাবে মেয়েদেরকে পোটাতে হয়। তবে এই কয়েকদিনে বন্ধুদের কাছ থেকে অনেকটা শিখে নিয়েছিলাম।আমার বন্ধুরা প্রতিদিনই এরকম দাড়িয়ে থাকতো কিন্তু এর আগে আমি ওদের সাথে দাড়িয়ে থাকতাম না। এখন আমিও ওদের দলেরিই একজন।তবে ওদের প্রেম দুই দিক দিয়েই পরিপূর্ণ ছিলো কিন্তু আমার প্রেম শুধু মাত্র এক সাইড।অনেক সময় দাড়িয়ে থাকার পর স্কুল ছুটির সময় হলো।একে একে সবাই বেড়িয়ে আসছে কিন্তু আমি আমার জনকে দেখতে পাচ্ছিলাম না। একে একে যখন সবাই বেড়িয়ে আসছিলো তখন আমার হৃদস্পন্দন বাড়তে লাগলো। হঠাৎ চোখে পড়লো একটি মেয়ে আমাদের রশিদ স্যার এর সাথে কথা বলছে। আমার আর চিনতে কোন দেরি হলো না যে এই মেয়েটিই হলো লাবিবা। চেহারা ভুলে যাওয়ার কোন প্রশ্নই ছিলো না কারণ প্রথম দেখাতেই মেয়েটির মুখ আমার মনে গেঁথে গিয়েছিলো।কথা শেষ হবার পর আসতে লাগলো মেয়েটি। যত কাছে আসছিলো ততই আমার হৃদস্পন্দন আরো কয়েক গুন বাড়তে লাগলো… ( চলবে… )

 

 

 

ঢাকা শহরে ইভটিজিং এক বিভীষিকার নাম (এক ঘন্টার পথে ৫-৬ বার টিজিংয়ের শিকার)

Now Reading
ঢাকা শহরে ইভটিজিং এক বিভীষিকার নাম (এক ঘন্টার পথে ৫-৬ বার টিজিংয়ের শিকার)

অনেক কষ্টে এরকম একটা বিষয় নিয়ে লিখতে বাধ্য হচ্ছি। কয়েকমাস আগে বিকেলে ফুফাতো বোনকে নিয়ে ওদের বাসায় যাওয়ার পথে প্রায় ৫-৬ বার ইভটিজিং এর শিকার হয়েছি। ফার্মগেট হতে মগবাজার যাওয়ার জন্য বাস পাচ্ছিলাম না বলেই হেটেই রওয়ানা হই।
# প্রথম টিজিংটা করে দুইজন লোক আমাদের বিপরীত দিক হতে ক্রস করার আগ হতেই বোনের দিকে তাকিয়ে ছিলো এবং ক্রস করে এক হাত পিছনে যাওয়ার পরেই বললো মাইয়াটার দুধ নাই! কথাটা আমাদের দুজনের কানেই এসেছে।

# এরপর আরেকটু সামনে এগোলাম দ্রুতগতিতে রিক্সা দিয়ে যাওয়া দুজন ছেলে ‘মালরে মাল’! বলে হাসতে লাগলো।

# আমরা সামনের দিকে এগোচ্ছি। আমাদের পিছন হতে সামনের দিকে যাওয়া পথচারী আমাদের ক্রস করার সময় বোনের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। যেন বোনের ব্যাকসাইড দেখার পর ফেসটা না দেখলে উনি বাঁচবেন না।

# ফুটপাত ধরে হাটছি। একটা গ্যারেজ ক্রস করতেছিলাম সেই গ্যারেজের ছেলেরা আমাদের দেখে ‘চিকনী চামিলি’ গান গাওয়া শুরু করলো। আর আমরা গ্যারেজ ক্রস করে দশ হাত যাওয়ার পর “ঐ চিকনী চামিলি” বলে জোরে জোরে ডাকা শুরু করলো।

# আরেকটু সামনে যাওয়ার পরে বাইক দ্রুত গতিতে যাচ্ছে বলে উঠলো ‘মাম্মা! কত্ত বড় দুধরে’!

অবশেষে ওদের বাসায় আসলাম। ফুফুকে সালাম জানিয়ে, বোনকে বাসায় দিয়েই লজ্জায় আর মুখোমুখি হতে পারলাম না। দ্রুত চলে এলাম। আমি এমন ভাই আমার বোনকে এরকম অসম্মানে পড়তে হলো আমি থাকাকালীন সময়ে, আমি কিছুই করতে পারলাম না। আমার পুরো শরীর ব্যথায় নীল হয়ে যাচ্ছিলো এই কথাগুলো মনে পড়তেই..লজ্জা আর অপমানে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করছিলো। এটা ভাবতে শিউরে উঠলাম আমি থাকাকালীন সময়ে যদি এগুলো হয়, আমার অনুপস্থিতিতে না জানি আরও কতকিছুই সহ্য করতে হয় তাকে। কিছুদিন আগে ও নাকি সন্ধার পরে বাসায় ফিরছিলো রিক্সায় করে হুট করে এক ছেলে রিক্সার সামনে এসে “ভাউ”! শব্দ করে অন্ধকারে পালিয়ে যায়…

ফেরার পথে মগবাজার বাসস্টান্ডে দাঁড়িয়ে আছি। স্টান্ডে আরও দুইটি মেয়ে দাঁড়িয়ে। তাদের দিকে তাকিয়ে বাসের হেলপার দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় কিছু বেফাঁস একটা বললো আর হাসলো।

বাসায় ফিরলাম। গতকালের ঘটনাগুলোই বারবার মনে পড়ছিলো। হঠাৎ ফেসবুকে এক আপুর একটা ভিডিও দেখলাম। উনি নাকি সি.এন.জিতে করে ফেরার পথে সি.এন.জি ড্রাইভার লুকিং গ্লাস দিয়ে উনার দিকে তাকাচ্ছিলো বারবার। এক পর্যায়ে মাস্টারবেশন করা শুরু করে। ভাবুন একবার কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে এই সমাজ?

এই যদি সমাজের বাস্তব নোংরা চিত্র যেখানে বাস হেলপার, রিক্সাওয়ালা, দোকানদান, ছাত্র, শিক্ষক সব শ্রেনীর পুরুষের দ্বারাই যদি নারীরা এরকম নোংরা কথাবার্তার শিকার হয় তাহলে সেই সমাজে আমি বাঁচতে চাইনা। হয় আমি সুইসাইড করব নইলে আইন নিজের হাতে তুলে নিবো।

এখন অনেকেই বলতে পারেন আমি কেন প্রতিবাদ করিনি। চলন্ত কিংবা দ্রুত গতিতে যাওয়া কারো সাথে আমি কি প্রতিবাদ করব? কিংবা সংখ্যায় বেশি ওদের সাথে? নিজের এলাকায় এমন ঘটতো! চিনে রাখতাম পরে ধোলাই দিতাম। কিন্তু নিজের এলাকায় এগুলো ঘটেনা। কিন্তু যেখানে ওরা আপনাকে শুধু চোখ দিয়েই নোংরা তাকানি তাকাবে… নোংরা ইশারা করবে চোখ দিয়ে… মুখে কিংবা শরীরে হাত দিয়ে কিছু করবে না সেক্ষেত্রে কি করতেই পারেন আপনি? কিচ্ছুই করার নেই। আইন তো নেই…আপনার যদি পাওয়ার থাকে আপনি ধোলাই দিতে পারবেন, অনেকে মানসম্মানের ভয়ে জড়ায় না। কিন্তু তাদেরকে আইনী সহায়তা দিলে তারাও প্রতিবাদ করতে পারতো।

আমাদের দেশে প্রতিদিন রাস্তায় বের হওয়া একটি মেয়ে ইভটিজিং এর স্বীকার হয়…হতে পারে নোংরা কথার আওয়াজে কিংবা কুদৃষ্টিতে।

কিছুদিন আগে এক বন্ধু সহ ফিরছি। চিড়িয়াখানা রোডেই দুইটা রিক্সা পাশাপাশি যাচ্ছে অনেক স্পিডে… একটাতে দুইটা মেয়ে আরেকটাতে দুইটা ছেলে। ছেলে দুইটা মেয়ে দুইটাকে ডিস্টার্ব করছিলো কিভাবে শুনবেন? কনডমের প্যাকেট দেখিয়ে। ভাবুন একবার!

আমার বন্ধু প্রায়ই একটা কথা বলে…সামনে একটা জেনারেশন আসবে একটা জারজ জেনারেশন। যারা এমন কোন পাপ নেই যে করবে না। কষ্ট হলেও সত্য সেগুলো আমাদেরই সন্তান হবে… কারন আমাদের জেনারেশনই হবে তাদের অনুপ্রেরণা।

এই সমাজে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে বড় জোর এইডস হতে বাঁচতে সেক্স করার পূর্বে কনডম পড়ানো কিংবা তিন সপ্তাহের বেশি কাশি হলে কফ পরীক্ষায় অভ্যস্ত করানো যায় কিন্তু ইভটিজিং কিংবা নারী নির্যাতনে প্রয়োজন কঠোর হতে কঠোরতম শাস্তি। এটার জন্য যাবজ্জীবন কিংবা মৃত্যুদণ্ড দিলে খুশি হই। কিন্তু তা কখনই হবে না। তা যদি নাই করতে পারেন অন্তত ৫ বছরের জামিন অযোগত জেল? তাও যদি না পারেন অন্তত একটা হেল্প লাইন নাম্বার: যাতে কল করলে ত্রিশ মিনিটের ভিতরে সেই স্পেশাল বাহিনী সেই স্থানে গিয়ে উপযুক্ত প্রমানের ভিত্তিতে প্রকাশ্যে শাস্তিপ্রদান! অন্তত তাদের জন্য এই আইন বানান যাদের কোন রাজনীতি করে এমন ভাই নেই, যাদের কোন পুলিশ রিলেটিভ নেই, যারা নিতান্তই ছাপোষা। যারা বছরের পর বছর রিক্সাওয়ালা, সিএনজি ড্রাইভার, হেলপার, পথচারী, বখাটে, ছাত্র শিক্ষক এদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে আসছে পথে ঘাটে, বাসে মার্কেটে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

জাস্ট এই জারজদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে অন্য জারজদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিন। সুশীলদের পায়ে ধরি অন্তত এই দিকটার একটা হ্যস্তন্যস্ত করুন। আমার মা বোন স্ত্রী কন্যা এদের নিয়ে যেন একটা বেফাঁস কথা বলার সাহস যেন কেউ না পায়।

ছবি কার্তেসীঃ গুগল ইমেজ