গুগল এবং ফেসবুক দিয়ে নতুন কি কি করা যায়

Now Reading
গুগল এবং ফেসবুক দিয়ে নতুন কি কি করা যায়

ইন্টারনেট জগতে গুগল এবং ফেসবুক হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয়, মজার কিছু জিনিস শেয়ার করা হলো যা খুবই গুরুত্বপূর্ন এবং মজাদার একটি ব্যাপার। প্রথমে আসি গুগলের কথায়। সার্চ এর দিক দিয়ে গুগল বিখ্যাত। গুগল.কম এ যেয়ে আপনি

যেকোন বিষয়ে সার্চ দিলেই সঙ্গে সঙ্গে আপনি যেকোন বিষয় সম্পর্কে তথ্যাদী পেয়ে যাবেন।

google vs facebook.jpg

ইচ্ছাকরলে যেটা সার্চ দিয়েছেন সেটার ছবি অথবা ভিডিও আপনি খুব সহজে সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে দেখতে পারবেন।

গুগলের ইমেইল সার্ভিস ও অনেক জনপ্রিয় এবং বাংলাদেশের ৯০% মানুষ গুগলের ইমেইল ব্যাবহার করে এবং ইমেইল এর বাম দিকে যে গুগল টেক্স থাকে সেটা ব্যাবহার করে আবার এই টেক্স ম্যাসেজ সম্পর্কে অনেকে এখনও হয়তবা জানেই না। আপনার যদি কয়েকটি মোবাইল ফোন থাকে তাহলে আপনি আপনি কয়েকটি ইমেইল এড্রেস খুলে রাখতে পারেন কিন্তু পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হবে বা ডায়েরীতে লিখে রাখতে পারেন। অনেকের আবার ৩০ বা ৪০ টা ইমেইল ঠিকানাও আছে যা শুনলে আশ্চর্য লাগে। কোন কারন ছাড়াই অনেকগুলো ইমেইল ঠিকানা করে রাখে।

গুগল ড্রাইভ একটি খুব জনপ্রিয় গুগলের সার্ভিস কিন্তু এই ব্যাপারটা এখনও অনেকে জানে না। এটা একটা পেন ড্রাইভের মত কাজ করে। বর্তমানে গুগল ১৫ জিবি পর্যন্ত ফ্রি স্পেস দিচ্ছে যা অনেক কার্যকরী একটি ব্যাপার। গুগল ড্রাইভে যেকোন ফাইল, ফটো, ভিডিও রাখা যায়। যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল গুলো এখন আপনি আপনার ড্রাইভে পাবেন। এটা অনেকটা কপি পেষ্টের মত ব্যাপার।

ওকে গুগল দিয়ে খুব সহজে মোবাইল দিয়ে আপনি যেকোন নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন। সেটা হতে পারে যেকোন বিখ্যাত ব্যাক্তির নাম, কোন অজানা বিষয় সম্পর্কে তথ্য ইত্যাদী সম্পর্কে আপনি জানতে পারবেন। সেক্ষেত্রে গুগলের এসিটেন্ট আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। তবে আপনার বলা যদি ভুল হয় তাহলে গুগল  এসিষ্টেন্ট ভুল উত্তর দিয়ে থাকে।

https://www.google.com/photos/about/   এ গেলে আপনি গুগলের খুব সুন্দর গ্যালারী পাবেন আবার যারা এন্ড্রয়েড ফোন ব্যাবহার করেন তারা মোবাইলে কোন ছবি তুললে স্বয়ংক্রিয় ভাবে তা ফটো গ্যালারীতে সেভ হয়।  তবে ইচ্ছা করলে বাছাই করা ছবিও গুগলের  একাউন্টে ফটো গ্যালারী করা যায়। সেক্ষেত্রে শুধু ভাল ছবি গুলোই আসে।

গুগলে আপনি আপনার কাঙ্খিত লোকেশন দেখতে পারবেন এমনকি রাস্তাঘাটসহ দেখা সম্ভব হয়। গুগল ম্যাপে আপনি আপনার বাসা, যেকোন গন্তব্য যেখানে আপনি যেতে চান সেই জায়গার ঠিকানা ছবিসহ দেখা যায়। গুগলের ম্যাপ দিয়ে লোকেশন ট্রাক করা যায়।

 

গুগলের ক্যালেন্ডার ও অনেক সুন্দর এবং সেখানে অনেক ফিচার আছে। ক্যালেন্ডার থেকে আপনি আপনার প্রতিদিন এর কাজের তালিকাও লিখতে পারেন এই ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে।

আগে মোবাইল হারিয়ে গেলে কোন নম্বর খুজে পাওয়া যেত না কিন্তু এখন ব্যাপারটি অনেক সহজ হয়ে গেছে।  গুগলে আপনার সব নম্বর সেভ থাকবে এবং তার জন্য আপনাকে গুগলে সাইন ইন করে নিতে হবে।

গুগল যেকোন ভাষাকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় পরিবর্তন করার জন্য  ট্রান্সলেট করে থাকে। এ জন্য আপনাকে যেতে হবে গুগল ট্রান্সলেটরে যা গুগলে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন। যেমন বাংলা থেকে ইংরেজী এবং ইংরেজী থেকে বাংলা ইত্যাদী।

গুগল অনেককে ডলারে পেমেন্ট করে শুধুমাত্র এড এর মাধ্যমে। আপনার যদি একটি সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট থাকে তাহলেও আপনি গুগলের সাহায্য নিয়ে আপনি টাকা ইনকাম ও করতে পারেন। তার জন্য বেশী কষ্টও করার দরকার হয় না। তাছাড়াও ইউটিউব ভিডিও গুগলের এডসেন্স এর সাথে এড করে অনেকে ভাল টাকা ইনকাম করছে।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনে গুগলের ভুমিকা অপরিসীম। গুগল দিয়ে কোন একটি প্রোডাক্ট বা জিনিস কতবার দেখা হয়েছে সেটা দেখা যায়।

বর্তমান বাজারে গুগলের মোবাইলও আছে। তবে দাম একটু বেশি কিন্তু জিনিস ভাল মানের।

ফেসবুক দিয়ে অনেককিছু করা যায় যা অনেকে জানেন না। ফেসবুক ওপেন করে আপনি যদি আপনার আঙ্গুলের ছোঁয়া বাম থেকে ডান দিকে নেন অথবা ক্যামেরায় ক্লিক করেন, তাহলে আপনি দেখতে পাবে একটি ক্যামেরা এবং এই ক্যামেরা একটি খুব মজার একটি ক্যামেরা।

বর্তমানে অনেক ছেলে মেয়েকেই দেখতে পাবেন মোবাইলের দিকে তাকিয়ে মুখ হা করে আছে। অথবা হাসছে এবং সেই দৃশ্য আসলেই খুব ইন্টারেষ্টিং। ধরেন আপনার দাড়ি নাই কিন্তু ক্যামেরায় আপনি দেখতে পাবেন আপনার মুখে দাড়ি বা মোছ। এর জন্য আপনি ক্যামেরার বামদিকে একটি জাদুর কাঠির মত দেখতে পারবেন যাকে বলে ইফেক্ট এবং এই জাদুর কাঠি বা ইফেক্ট থেকে বিভিন্ন ফিচার ডাউনলোড হয়ে গেলে আপনি দেখতে পাবেন অদ্ভুত ধরনের ছবি।

প্রথমে যখন আপনি ফেসবুকে ক্যামেরা অপেন করবেন এবং ইফেক্ট এ ক্লিক করবেন তখন প্রাথমিক অবস্থায় ইফেক্ট এ ক্লিক করলেই ইফেক্টগুলো আসবে না কারন প্রথমে ইফেক্টগুলো ইনষ্টল হবে এবং এটা আপনি স্কিনে দেখতে পারবেন কিছু একটা ঘুরছে।

ফেসবুক দিয়ে যে কোন কোম্পানীর প্রোডাক্টের এড দেওয়া যায় এবং সেখান থেকে ইনকাম ও করার একটি সুযোগ থাকে। ফেসবুক শুধু যে লাইক, কমেন্টস, ছবি বা ভিডিও এর জন্য ব্যাবহ্রত হয় তা কিন্তু না ফেসবুক দিয়ে আপনি কিন্তু আপনি আপনার রিসার্চ এর কাজও করতে পারবেন। অনেক প্রোগ্রামাররা বর্তমানে ফেসবুকে বিগ ডাটা টেকনোলজীর ব্যাবহার করে বড় রিসার্সের কাজগুলো করে থাকে।

 

গুগল আই/ও ২০১৭

Now Reading
গুগল আই/ও ২০১৭

গুগল কেবল তার আই / ও ২০১৭ এর অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে, যেখানে সিইও পরিচালিত নির্বাহী পরিচালকরা অ্যান্ড্রয়েড, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, গুগল হোম, ভার্চুয়াল রিয়ালিটি, এবং আরো অনেক তথ্য সহ কম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলেন।

গুগল গ্লাস-ওয়্যারার্স এবং প্রধান হার্ডওয়্যার ঘোষণা দেয়। গুগল এর বৃহত্তম বার্ষিক কনফারেন্সের নিয়ম অনুসারে তারা বিবিধ ঘোষণা প্রদান করে। এই আর্টিকেল এ কিছু অন্যতম ঘোষণার কথা তুলে ধরা হল।

গুগল সহকারী বা এসিস্টান্ট এখন আপনার স্মার্টফোন ক্যামেরার সাহায্যে আপনার চারপাশের বিশ্ব বিশ্লেষণ করতে পারে। প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে গুগল লেন্সকে কল করা হয়, সহকারী আপনার আশেপাশের বিশ্লেষণ করে আপনার পর্দায় প্রাসঙ্গিক সামগ্রী প্রদর্শন করবে। আপনি দোকানের ফোনে আপনার ফোনটি নির্দেশ করার সময় একটি রেস্তোরাঁর রেটিং দেখতে পাবেন, আপনি এটি একটি ফুলের দিকে লক্ষ্য রাখতে পারেন এবং এটি প্রজাতিগুলি চিহ্নিত করবে, এবং আপনি একটি কনসার্টের পোস্টারে লেন্স নির্দেশ করে একটি ব্যান্ডের সঙ্গীত বা ভিডিওগুলিও তুলতে পারেন। কিন্তু সবচেয়ে দরকারী উদাহরণ এটি হতে পারে: আপনি যদি ওয়াই-ফাই লগইন এর তথ্য লিখিত কিছু ইনফো লেন্সের মধ্যে তুলে ধরেন, তাহলে আপনার ফোন সেই তথ্যটি বিশ্লেষণ করে এবং সেই নেটওয়ার্কে লগ ইন করতে সক্ষম ।

গুগল সহকারী বা এসিস্টান্ট অ্যান্ড্রয়েডের বাইরে আইওএস এর বাইরে প্রসারিত হচ্ছে। গুগল এসিস্টান্ট এখন আইফোন এবং আইপ্যাডে একটি স্বতন্ত্র অ্যাপ্লিকেশন হবে, যা একই ফাংশন গুলো প্রদান করে যা আমরা Google এর নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমে দেখেছি। আপনি এটি ব্যবহার করার জন্য আর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না কারণ এটি স্টোর এ এখন থেকেই পাওয়া যাচ্ছে।
গুগল আরও বলেন তাদের নতুন সিস্টেম গুগল হোম এর কথা। এটি আপনার বাড়ির সকল স্মার্ট ডিভাইসের সাথে কানেক্ট হয়ে সেগুলিকে আপনার নির্দেশ অনুসারে নিয়ন্ত্রন করে।
যা অনেক সহজ এবং সময় বাঁচাবে।

গুগল ফটোস একটি চমৎকার সংযোজন হচ্ছে অ্যাপটি এখন সুপারিশ করবে যে আপনি যে ফটোগুলিটি লোকেদের সাথে নিয়েছেন সেগুলি সে নিজে থেকেই বিশ্লেষণ করবে।
এটিতে শেয়ার্ড লাইব্রেরিগুলিও চালু করেছে, যা পরিবারগুলিকে একসঙ্গে কেন্দ্রীয় সংগ্রহে চিত্রগুলি সমষ্টিগতভাবে আলাদা আলাদা করে রাখবে এবং আপনি আপনার সম্পূর্ণ ফটো লাইব্রেরি ভাগ করতে পারেন, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট তারিখ থেকে ভাগ করে নিতে পারেন।

গুগল বলছে যে ভবিষ্যতে ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার শটগুলিতে অবাঞ্ছিত আইটেমগুলি সরাতে সক্ষম হবে। যার জন্য আপনার বাড়তি কোন অ্যাপ দরকার হবে না।

বাঙ্গালীর হুজুগেপনাঃ ফেইসবুক হোক্স

Now Reading
বাঙ্গালীর হুজুগেপনাঃ ফেইসবুক হোক্স

হুজুগে বাঙ্গালিয়ানার একটা বড় খাত হলো আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি।  আমরা অনেক সহজেই ম্যানুপুলেট হতে পারি।  ডেমো হিসেবে ধরে নেন, রেডিও**** ডট কম ধরনের ফেইসবুক পেইজ গুলো।  এখানে পোস্ট করা “আমিন না বলে যাবেন না”, “একটি শেয়ার হলে ফেইসবুক এক টাকা দান করবে”, “লাইক দিলে নাম্বার দিব” ইত্যাদি পোস্ট গুলোতে লাইক কমেন্ট আর শেয়ারের ঝড় দেখছেন? এই মুহুর্তে এই পোস্টটি পড়ছেন, এমন অনেকেই উপরে উল্লেখিত ক্যাটাগরির পোস্ট গুলোতে নিজের মুল্যবান সময় দিয়েছেন বা দিচ্ছেন এমন আছেন।

কখনো ভেবে দেখেছেন যে আসলে সত্যটা কি? ফেইসবুকের একটা পেইজে একটা ছবিতে দেখলেন টমেটোর বিচিগুলা এমন ভাবে বিন্যাস করে যাতে দেখলে মনে হয় তাতে “আল্লাহু” লেখা বা আকাশে মেঘের দল এমন ভাবে উড়ে যাচ্ছে যার আকৃতি দেখতে “আল্লাহু” নামের মতন দেখায়।  সকল ধর্মের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, নশ্বর এই দুনিয়াতে কোন কিছুই অবিনশ্বর নয়।  একমাত্র সৃষ্টিকর্তা অবিনশ্বর হিসেবে ছিলেন , আছেন এবং থাকবেন সবসময়।  আপনি “আমিন” বলে “আল্লাহু” লেখা টমেটো খেয়ে ফেললেন? “আমিন” তো এখন আপনার পেটের ভিতরে, তাইনা?

শুনতে হাস্যকর লাগলেও যা হচ্ছে , সেটা এমনই।  মেঘের মাঝে “মহান আল্লাহ” এর নাম কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলিয়ে যাবে, ভাবেন তো আল্লাহর নাম মিলিয়ে গিয়েছে (ওয়াস্তাগফিরুল্লাহ) – শুনেই তো আমার টুঁটি  চেপে ধরতে ইচ্ছা করছে আপনার।  ভাবছেন – “নাফরমান, ব্যাটা বলে কি”? শুনুন , প্রযুক্তি যে কতদুর এগিয়ে গিয়েছে আর সেটার অন্যতম উদাহারণ হিসেবে “ফটোশপ” এর ফটো এডিটিং লেভেল যে কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে তা “আমিন” সাহেবদের ধারণার বাইরে।  আমির খান অভিনীত “পিকে” ছবির একটা ডায়লগ মনে পড়ে গেল কথা প্রসঙ্গে যেখানে তিনি বলেন – “এত বড় মহাবিশ্বের এত এত গ্রহের মাঝে ক্ষুদ্র একটা গ্রহ এই পৃথিবী। সেখানের অনেক রাষ্ট্রের মাঝে ছোট একটা রাষ্ট্রের ছোট একটা শহরের ছোট একটার এলাকার অনেকের মাঝে একজন আপনি, আপনি হবেন সৃষ্টিকর্তার রক্ষণাবেক্ষণকারী”? উনার নাম হেলা ফেলার কিছু না যে আমিন বলে টমেটো গিলে ফেললেন, বাতাস এসে মেঘ সরিয়ে নাম মুছে দিবে।

অনেকেই বলবেন – “ভাই এইগুলা ঈমান নষ্ট করার জন্য হিন্দু-ইহুদীদের কাজ”। ভাই থামেন, মানলাম ধর্ম রক্ষা করা বেশ কঠিন কাজ এখন, কিন্তু এত খারাপ সময়ও আসেনাই আমাদের যে অন্য ধর্মের লোকের কথায় ঈমান হালকা করে ফেলব। আর তাদের ও খেয়ে দেয়ে কাজ নাই, কাজ ফেলে আমাদের ঈমান নষ্ট করার জন্য বসে আছে! এত সস্তা ঈমান নিয়ে চলেন কিভাবে? মানুষকে দোষ দেয়ার আগে সারাদিন গীবৎ করা বাদ দেন, পজেটিভ ভাবতে শিখেন, খারাপ জিনিস দূরে ঠেলে ভাল জিনিস আয়ত্ব করতে শিখেন।

বিখ্যাত একটা ভুয়া নিউজ – “আল্লাহর এই নামগুলো আজকে ২০ জন ব্যাক্তিকে পাঠাও, ৭ দিনের মাঝে ভাল খবর পাবে। একজন অবজ্ঞা করেছিল, সে মারা গেছে”। কোরআন এর কোন অংশে বলা আছে ফেইসবুকের মেসেজে আল্লাহর নাম পাঠালে উনি আমাদের মঙ্গল করবেন? হাদিসের কোথাও আমার নবী করীম হযরত মোহাম্মাদ (সঃ) এমন কিছু বলেছেন?

 

আরেক প্রসঙ্গে আসি, “একটি শেয়ার হলে ফেইসবুক একটাকা দান করবে”।  ফেইসবুকের তো টাকা ব্যাংকে পচে গলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে যার কারনে আপনার শেয়ার করা পোস্টের জন্য অসুস্থ মানুষকে টাকা দিবে। ফেসবুক চালাতে শিখে গেছেন, গুগল সার্ফিং বা ব্রাউজিং শিখেন নি? ছবিটা একবার গুগল ইমেজ সার্চ নামের অপশনে দিয়ে সার্চ করে দেখেন, আপনি যার অসুস্থতার ছবি শেয়ার করে ফেসবুকের বদৌলতে তাকে টাকা এনে দিবেন, সে বান্দা আরো ৩-৪ বছর আগে মারা গেছে বা সুস্থ হয়ে গেছে। হুজুগে পড়ে যা ইচ্ছা তা শেয়ার করে নিজের এবং অন্যের মুল্যবান সময় নষ্ট না করে প্রোডাক্টিভ কোন চিন্তা করুন, এতে আপনার ও দেশের মঙ্গল হবে। আর ফেসবুক যে কাউকে হেল্প করেনা ব্যাপারটা তেমন না, ফেসবুক ও অনেক সময় অনেক গরীব মেধাবী শিক্ষার্থী বা অসুস্থ রোগীকে সাহায্য করেছে, তবে সেটা একটা অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট দিয়েই করেছে।  আপনার শেয়ার এর কারনে না।

হুজুগেপনার আরেক উদাহারণ  – “আজ রাতে ১২ টায় দুনিয়ার পাশ দিয়ে একটা কিছু যাবে, মোবাইল অফ করে রাখেন, নাইলে মোবাইল ফেটে যাবে আর আপনি মারা যাবেন।” আমি  এই বছর ৩-৪ বার ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এমন মেসেজ পেয়েছি।  আপনিও হয়ত পেয়েছেন, শেয়ারও করেছেন।  এক বছরে কয়বার হয় ভাই? আমার এক ফ্রেন্ড এই নিউজ শুনে মোবাইল ল্যাপটপ টিভি ফ্রিজ লাইট ফ্যান সব বন্ধ করে রাতে শুয়ে ছিল। আরেক বন্ধুর সেদিন রাতে রক্তের দরকার ছিল এবং যে বন্ধু সব বন্ধ করে শুয়েছিল তার গ্রুপের রক্তই দরকার ছিল। সারারাত আমি এবং হাসপাতালে থাকা বন্ধু তাকে ফোন করেছি, কিন্তু ফোন বন্ধ। সকালে ভোরে ওর বাসায় গিয়ে দেখি সব অফ, রুমে গুমোট গরম, আর সে ঘামে ভিজে আধমরা। ব্যাপার কি জিজ্ঞেস করতেই মোবাইল খুলে এই মেসেজ দেখলো। আমরা ওকে হাসবো নাকি কাঁদবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না।  হুজুগেপনার লিমিট চিন্তা করেন একবার, কোন দুনিয়ায় আছি।?

এমন আরো হাজারখানেক হোক্স বা ভুয়া নিউজ আমাদের দেশীয় অনলাইনে ঘুরে বেড়ায় যেগুলোকে আমরা সত্য ভেবে শেয়ার করে আরেকজনকে দোটানায় ফেলে দেই।  আমরা একবারও ভাবিনা যে এই খবরের সত্যতা কতখানি, এমনকি আমরা যাচাই করে দেখার চেষ্টাও করিনা।  কেন? আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখলাম।