স্মার্ট ফেসবুকের ব্যবহার

Now Reading
স্মার্ট ফেসবুকের ব্যবহার

ফেসবুক ব্যবহার করে না এখন এমন কোন মানুষ পাওয়া যাবে না। ফেসবুক বযবহারকারীর সংখ্যা কয়েক বিলিয়নের মত। কাজেই ফেসবুক হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট বলাই যায়। এর এই মহান জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে অনেকে তাদের ন্যক্কারজনক পণ্য বা প্রকল্প আপনার টাকা খরচ করে ব্যবহার করা ফেসবুক এর বাজারে ছড়িয়ে দেয় যা আপনার হোম পেইজ ভরিয়ে দেয়া সহ আরও কত কি করছে !!

ফেসবুকের অপব্যবহার করা মোটেও উচিত নয়। কারণ এগুলোর মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারের ইচ্ছেটাই নষ্ট হয়ে যায়। ফেসবুকে কিছু জিনিস মেনে চললে ফেসবুক অনেক শান্তির জায়গা হবে অন্যথায় এটা ব্যবহারে অনিচ্ছা প্রকাশ করবেন। কারণ কোন জিনিস একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় হওয়া ভাল। এই মাত্রা অতিক্রম করলে তা অসহ্যকর করে ফেলে। এরকম কিছু বিষয় হচ্ছেঃ

১। এটা হচ্ছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের একটি কমন অসুখ। তারা কোন গ্রূপ খুলে ফেললেই চিন্তা করে কিভাবে তাদের সদস্য বাড়াতে পারবে। কাজেই শুরু করে যুক্ত করা। কারো ইচ্ছা জানারো দরকার পড়ে না। এটা বেশির ভাগ মানুষ এর ক্ষেত্রে ঘটে। যাদের ফ্রেন্ড লিস্টে অপরিচিত বন্ধু আছে তারা বেশি ভুগেন এই সমস্যায়। প্রায় প্রতিদিনই একটা গ্রূপে যুক্ত হয়ে যান আপনার ইচ্ছা অনিচ্ছার গুরুত্ব না দিয়েই। আপনিও নিশ্চয় চান না যে আপনি ফেসবুক ব্যবহার করার সময় আপনার নোটিফিকেশন বারে কিছুক্ষন পর পর লাল বাতি জ্বলুক তাও আবার ওই গ্রূপের এর আপডেট এর কারণে।

২।যারা নতুন ফেসবুক ব্যবহার করে তারা যখন ছবি আপলোড করে দেখা যায় তখন সাথে নজরে পরে সাথে ২০-৩০-৫০-১০০ জনকে ট্যাগ করা। শুধু নতুন রাই তো না পুরাতন ব্যবহারকারীরাও কাজটি করছে। বিষয়টি খুবই কষ্ট জনক। আপনি আপনার ফ্রেন্ডলিস্ট এ যাদেরকে একেবারেই চিনেন না তাদেরকে আপনার ফটোতে ট্যাগিং করা বন্ধ করুন। যখন আপনার বন্ধুকে আপনি একটি ফটো ট্যাগ করেন তখন এমন একটি ফটো হওয়া আবশ্যক যেখানে ওই বন্ধুর ছবি আছে। অনেকে দেখা যায় মানুষকে দেখানো বা হাসানোর জন্য মজার বা এমনি কোন ফটো লিস্টের সব ফ্রেন্ড কে উদ্ধার করে ফটো তে ট্যাগ দেন। এটা অস্বাভাবিক! আপনি এই কাজ করতে গিয়ে কিছু মানুষ কে বিরক্ত করছেন নিজের অজান্তেই।

৩। অনেক মানুষ কে এমনটা করতে দেখা যায়ঃ ধরুন,সে নিজে নতুন কেনা কাপড় এর ছবি তুললেন আর তা এফবি তে শেয়ার করলেন, কিছুক্ষন পর সে নিজেই তার ছবিতে লাইক দিল। অনেকে তার নিজের ছবিতে লাইক দেয় নিউজ ফিডে  তার ছবি সবার সামনে আস্তে অথবা মানুষকে দেখাতে যে এই ছবি বেশি লাইক পেয়েছে। আপ্নি যখন নিজের ছবি শেয়ার করেন তখন স্পষ্টই আপনার কাছে তা পছন্দনীয় বলেই আপনি তা শেয়ার করলেন আর যখন আপনি নিজেই ওই ছবিতে লাইক দেন তখন আপনি লাইক পেতে ব্যাকুল যা আপনার হিনমন্নতার বহিপ্রকাশ। এমন কাজ কেও করবেন না যা অন্যদের কাছে অস্বাভাবিক।

৪। ফেসবুকে মেসেজ পাঠানো যায় যাকে অনেকে বলে থাকেন চ্যাটিং। অনেকে বার্তা প্রেরন করার সময় অনেক মানুষকে ওই বার্তাই যুক্ত করে।বার্তা প্রেরণে অনেক মানুষকে যুক্ত করা বন্ধ করুন যদি তারা আপনার ঘনিষ্ঠ না হয়। এটা করলে গ্রাহক ওই প্রেরক এর প্রতি বিরক্ত হয় এবং বার্তাকে গুরুত্ব দেয় না। যদি এমন কিছু বলার থাকে যা সবাইকে বলা প্রয়োজন তাহলে আলাদা আলাদা ভাবে সবাইকে তা প্রেরন করুন।

৫। ফেসবুক পেজ খুলেছেন তো গ্রূপের মত আবার ইনভাইটেশন পাঠানো শুরু। এভাবে মানুষকে বিরক্ত করা ছাড়া কোন কিছুই না। ফেসবুকের পেজ খোলা ভালো। তবে সেটাকে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে হবে। তবেই না এটার সঠিক ব্যবহার হবে। তবে কেনো এটা দিয়ে অন্য মানুষের চোখে বিরক্তির পাত্র হওয়া!

৭। আজকাল অ্যাপের ছড়াছড়ি ফেসবুকে। সেই সাথে নানা ধরনের গেমও দেখা যায় সেখানে। এগুলোর মাধ্যমে বাড়তি কিছু সার্ভিস পাওয়া যায় বা বোনাস পাওয়া যায়। এগুলো বিজ্ঞাপন ছাড়া আর কিছুই না। স্লো নেট এর যা অবস্থা তাতে ৮০% নেট ব্যবহারকারীর পক্ষে এইসব গেম খেলা অসম্ভব। এছাড়া এই দেশে অধিকাংশ ফেসবুক ব্যবহারকারী মোবাইল দিয়ে তা ব্যবহার করেন,সেখানে অ্যাপ রিকুয়েস্ট পাঠানোর আগে চিন্তা করা উচিৎ যাকে রিকুয়েস্ট পাঠালেন সে আসলে ওই অ্যাপ বা গেম খেলার মত স্পীড নেট ব্যবহার করে কিনা,তা না হলে আপনার পাঠানোটা পুরাই বৃথা।

৮। মূলত এই সাজেস্ট করার সেবা ত্খন ব্যবহার করা উচিৎ যখন আপনি এমন দুজন বন্ধুকে চেনেন যারা ফেসবুকে একে অপরের বন্ধু লিস্ট এ নাই(যদিও তারা একে অপরের বন্ধু) সেই খেত্রে। কিন্তু বর্তমানে অনেকে অপরিচিত অনেককে সাজেস্ট করে থাকেন যা অনেক  স্পামাররা করেন। এতে করে তারা ওই ভিক্টিম এর একাউন্ট এ প্রবেশের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করে। যাকে সাজেস্ট করলেন সে মনে করতে পারে আপনি অন্য কোন উদ্দেশে এই কাজটি করছেন যদি সে আপনাকে না চিনে। অনেকেই তাই এই কাজ অন্যদের করতে বারণ করেন এবং নিজেও অপছন্দ করেন।

 ফেসবুক চালাতে কারো কোন বাঁধা নেই তবে এই জিনিসগুলো যদি এড়ানো যায় তাহলে ফেসবুকের প্রতি অতৃপ্তি চলে আসবেনা। অনেকে এভাবে অনেক সমস্যায় পড়ে যান। বিশেষ করে মেয়েরা। কাজেই অল্প কিছু জিনিস মেনে চলা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।