5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

কোল্ড ড্রিংক, এনার্জি ড্রিংক খাচ্ছেন? জানেন কি ভয়ংকর জিনিস মেশান হয় এগুলোতে?!

Now Reading
কোল্ড ড্রিংক, এনার্জি ড্রিংক খাচ্ছেন? জানেন কি ভয়ংকর জিনিস মেশান হয় এগুলোতে?!

কোল্ড ড্রিংক কে না পছন্দ করে? আড্ডা, পার্টি, বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ঘরের দাওয়াত গুলো কোল্ড ড্রিংক ছাড়া মনে হয় জমেই না। গরমে ক্লান্ত? দোকান থেকে তুলে নিলেন একটা এনার্জি ড্রিংক। স্কুলে বাচ্চা খুব জিদ করছে? তাকে শান্ত করার জন্য কিনে দিলেন একটা সফট ড্রিংক। কিন্তু আপনি কি জানেন কি দিয়ে তৈরি হয় এই এনার্জি ড্রিংক , বা কোল্ড ড্রিংক? এসব প্রস্তুত কারক প্রতিষ্ঠান গুলো এগুলো বানানর ফর্মুলা যত্ন করে গোপন রেখেছে। আবার অনেক উপাদানের কথা চেপে রেখেছে।
তবে গবেষণায় উঠে এসেছে এক ভয়ংকর চিত্র। এসব ড্রিংক এর স্বাদ বাড়ানর জন্য মেশান হয় প্রচুর ক্ষতিকর ও বিষাক্ত উপাদান ও মশলা ।
আসুন জেনে নেই সেই উপাদান গুলো-

১.ইথিলিন গ্লাইকোল: এক আর্সেনিক ধরনের বিষ
সাধারণত শিল্প ও কলকারখানায় ব্যবহৃত হয় এই উপাদান। এটি হচ্ছে আর্সেনিক এর মতই এক ধরনের বিষ, যা মানব দেহে নীরবে বিষক্রিয়া ঘটায়। কিডনির অসুখ হওয়ায় এর কোন জুড়ি নেই। এছাড়া স্নায়ুতন্ত্র, হৃৎপিণ্ড , লিভার এর ও প্রচুর ক্ষতি করে এই উপাদানটি ।

২. ক্যান্সার সৃষ্টকারী কৃত্রিম রঙ
টারট্রাজিন, কারমোসিন, ব্রিলিয়েন্ট ব্লু, সালফেট ইয়েলো নামের কৃত্রিম রঙ দিয়ে এই ড্রিংকগুলিতে রঙিন করা হয়। যা দেখতে অনেক সুন্দর, কিন্তু সরাসরি ক্যান্সার তৈরি করতে এগুলো খুবই সিদ্ধহস্ত।

৩.দাঁত ও হাড়ের ক্ষতিকারক এসিড:
কোন দ্রব্য কতটুকু এসিটিক তা বোঝা যার এর pH এর উপর। অর্থাৎ, pH যত কম হবে, এর এসিডের মাত্রা তত বেশি হবে। সাধারণত ৫.৫ এর কম হলে, তা ক্ষতিকর হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়ংকর তথ্য। আর তা হচ্ছে, বাজারের কোন কোমল পানীয়র pH ৩.৩ এর উপরে নয়। আর, সবচেয়ে জনপ্রিয় ড্রিংক টির PH ২.৪- ২.৮ এর নিচে!!

এসব পানীয়র ঝাঁঝালো স্বাদের জন্য মেশান হয় ফস-ফরিক এসিড। যা দাঁত ও হাড়ের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
আর, আপনি যদি জাদু দেখতে চান তবে এক গ্লাস কোল্ড ড্রিংকে একটি দাঁত এক সপ্তাহ ডুবিয়ে রাখুন। এবার ১ সপ্তাহ পর দেখতে পাবেন তা পুরপুরি গলে গিয়েছে।

৩.আসক্তি তৈরি করা ক্যাফেইন
একবার খেলে যেন বার বার খেতে ইচ্ছে করে, এজন্য এসকল পানীয়তে মেশান হয় উচ্চমাত্রা র ক্যাফেইন।এটার আসক্তি অনেকটা মাদকের মতই। এটি সাময়িক ভাবে মানুষের মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে তুলে, কিন্তু একটা লম্বা সময় পর তা মানুষকে অবসন্ন ও ডিপ্রেশন এর রোগী করে তুলে।
এছাড়া গর্ভপাত, গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ক্রুটি, মূত্রাশয় ও পাকস্থলী র ক্যান্সার এর অন্যতম কারণ হচ্ছে এই ক্যাফেইন।

৪. কার্বন-ডাই- অক্সাইড
ঠিক ধরেছেন,যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড আমরা বর্জ্য হিসেবে শ্বাস প্রশ্বাস এর মাধ্যম এ শরীর থেকে বের করে দেই, তাই আবার কোমল পানিয়ের মাধ্যমে আমাদের শরীরে ঢুকান হয়!

৫.অতিরিক্ত চিনি
চিনি এমনিতেই মানুষের শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। আর, এসকল কোমল পানিতে মেশান হয় অতিরিক্ত পরিমাণ চিনি। এক ক্যান কোমল পানীয়তেই থাকে প্রায় ১০ চামচ পরিমাণ চিনি অর্থাৎ প্রায় ১৬০ পরিমাণ ক্যালরি। যা কমাতে সপ্তাহে প্রায় ৪ ঘণ্টা পরিমাণ ভারী ব্যায়াম করতে হয়। অথচ, আমরা সপ্তাহে প্রচুর পরিমাণ কোমল পানিয় খাই কিন্তু ব্যায়াম করা হয় না বললেই চলে।
যার ফলে বাড়ছে মাত্রাতিরিক্ত মেদ- স্থূলতা । এছাড়া অতিরিক্ত ড্রিংক এর ফলে কিডনিতে পাথর হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় প্রায় ৩৩ শতাংশ।

৬।কীটনাশক-
কি অবাক হলেন? হ্যাঁ আপনি ঠিকই শুনছেন! কোমল পানীয়তে মেশান হয় মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক। এটা অবশ্য অনেক পুরানো তথ্য ।
২০০৪ সালে ভারতে কিছু কৃষক তাদের জমিতে কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করে পেপসি এবং কোকা কোলা। এবং চমৎকার সুফল ও পেয়েছে। পোকা-মাকড় সব মরে সাফ। সে বছরই নয়াদিল্লী ও হায়দ্রাবাদ ল্যাবরেটরি তে পরীক্ষায় ধরা পড়ে পেপসি এবং কোকা কোলা তে ব্যবহৃত হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক।
সুতরাং , ভেবে দেখুন জেনে শুনে কি আপনি কখন এক বোতল কীটনাশক খাবেন ? কিন্তু কোমল পানীয়র নামে আপনাকে আসলে কীট নাশক খাওয়ান হচ্ছে!!

৭। এলকোহল:
গবেষণায় দেখা গিয়েছে কোকা কোলায় মেশান আছে এলকোহল। যা থিতান হয় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত । ১৯০৯ সালের আগ পর্যন্ত এতে কোকেন মেশান হত। ধারনা করা হয় এজন্য কোকা কোলা কোম্পানি এক শতাব্দী ধরে তাদের ফর্মুলা গোপন রেখেছে। যেসব দেশের আদালত তাদের ফর্মুলা দেখানোর জন্য আদেশ দিয়েছে , কোকা কোলা কোম্পানি সেসকল দেশ থেকে তাদের পণ্য উঠিয়ে নিয়েছে। তারপরও ফর্মুলা প্রকাশ করে নি।

আমেরিকার বিখ্যাত গবেষক মার্ক পেন্ডারগ্রাস্ট ২০০০ সালে একটি বই লিখেন । নাম ‘ ফর গড কান্ট্রি এন্ড কোকা কোলা’। খুবই জনপ্রিয় এই বই টিতে তিনি বিভিন্ন কোমল পানীয়র গোপন দিক উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি প্রমাণ করে দেখিয়ে দেন বাজারের বিক্রিত কোল্ড ড্রিংক গুলো তে মেশান হয় এলকোহল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বর্তমানে শিশুরাও মদ খাচ্ছে, কারণ বাবা মা রা তাদের হাতে কোকের গ্লাস তুলে দিচ্ছেন’।
এলকোহল এক ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য যা মুসলমান জনগোষ্ঠীর জন্য নিষিদ্ধ।

৮। গ্লিসারিন-
গ্লিসারিন হচ্ছে এক ধরনের তেল এবং চর্বি জাতীয় উপাদান। যাতে থাকে প্রাণীজ চর্বি। কোকা কোলা কোম্পানি অবশ্য গ্লিসারিন মেশানর কথা স্বীকার করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে তারা গ্লিসারিনে কোন ধরনের চর্বি মেশান? সেটা হতে পারে যে কোন নিষিদ্ধ পশুর। যা মুসলমান বা হিন্দু দুই ধর্ম পালনকারীদের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারে।

এসকল ভয়ংকর উপাদানে তৈরি কোমল পানীয়টি যদি আপনি নিয়মিত খান, তবে আপনার শরীরে হবে অবর্ণনীয় ক্ষতি। যেমন-

১। নিয়মিত পানে পুরুষের যৌন শক্তি হ্রাস পায়, এবং সন্তান জন্মদান ক্ষমতা কমে যায়, এবং অনেক ক্ষেত্র চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়,

২। নারীর গর্ভপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায় ,
৪। গবেষণায় উঠে এসেছে বিশ্ব জুড়ে আশংকা জনক হাড়ে ডায়াবেটিকস বেড়ে যাবার প্রধান কারণ হচ্ছে মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত মাত্রায় এই কোমল পানিয় খাওয়ার কারণে,
৫। বাড়িয়ে দিচ্ছে ডিপ্রেশন ও মানসিক রোগ সমূহ,

৬। এছাড়া ক্যান্সার তো এখন মহামারি আঁকার ধারণ করেছে।

সুতরাং, এখনি কোল্ড ড্রিঙ্ক বা সফট ড্রিঙ্ক বা এনার্জি ড্রিঙ্ক এর নামে বিষ খাওয়া বন্ধ করুন। সন্তানদের এই বিষ থেকে দূরে রাখুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

টেস্টিং সল্ট : এক ভয়ঙ্কর বিষ!!

Now Reading
টেস্টিং সল্ট : এক ভয়ঙ্কর বিষ!!

 

টেস্টিং সল্ট এর বৈজ্ঞানিক নাম Monosodium glutamate , সংক্ষেপে এমএসজি। “টেস্টিং সল্ট ‘ নামেই এটি আমাদের কাছে বেশি পরিচিত। আজকাল প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন -নুডলস ,চিপস,ফাস্টফুড এবং প্রধানত চাইনিজ খাবারে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হচ্ছে এই টেস্টিং সল্ট। যা খাবারে স্বাদ বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ এবং খাবার হয় মজাদার।
কিন্তু কৃত্রিম স্বাদ বর্ধক এই টেস্টিং সল্ট নিয়ে বিশ্ব ব্যাপী গবেষণার পর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ এক ভয়ানক নীরব ঘাতক। পশ্চাতের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , টেস্টিং সল্টের আগ্রাসন বিশ্বজুড়ে এলকোহল ও নিকোটিনের চেয়েও বড় বিপদ ঘটাতে পারে।

এক সুস্বাদু স্নায়ু বিষ!!

বিশ শতকের শুরুর দিকে ১৯০৮ সালে জাপানি রসায়নবিদ ও টোকিয় ইমপেরিয়াল ইউনিভার্সিটির গবেষক কিকুনেই ইকেদা এটি উদ্ভাবন করেন। তখন এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে খাবার সুগন্ধিকারক হিসেবে ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরবর্তীতে অনেকগুলো গবেষণায় এর ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর দিক ক্রমেই বিজ্ঞানীদের সামনে উঠে আসে।
গবেষকদের মতে, টেস্টিং সল্ট নানা ভাবে মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। এ জন্য বর্তমানে সচেতন বিজ্ঞানীরা একে অভিহিত করেছেন “স্নায়ু বিষ” হিসেবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের আশংকা, টেস্টিং সল্টের প্রতিক্রিয়ায় তীব্র মাথা ব্যথা ,হজমের গোলযোগ,উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, খিচুনি সহ হতে পারে দীর্ঘ মেয়াদী বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা । এছাড়াও এটি বাড়িয়ে দেয় মস্তিষ্কের ক্যান্সারের ঝুঁকি।
পুষ্টি বিজ্ঞানী জুডিথ রিচার্ড বলেন , চাইনিজ রেস্টুরেন্ট এ খাওয়ার পর যদি কারো মাথা ব্যথা, বমি ভাব, খিঁচুনি, চামড়ায় ফুসকুড়ি, হাতে পায়ে দুর্বলতা, কাঁপুনি , বুকে চাপ,অবসাদ, ঝিমুনি ভাব ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে এটি টেস্টিং সল্ট এর প্রভাব। এ সবগুলো লক্ষণ কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নাম দিয়েছে “Chinese Restaurant Syndrome ”। আর এর প্রধান তম কারণ টেস্টিং সল্ট।
“আপনার স্বাস্থ্যে এমএসজি প্রতিক্রিয়া” শীর্ষক একটি নিবন্ধে ভারতের বিশিষ্ট স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ উমা শংকরী বলেন, টেস্টিং সল্ট স্নায়ু কোষ কে হত্যা করে। যেসব খাদ্যে অধিক পরিমাণ টেস্টিং সল্ট রয়েছে সেগুলি ভোক্তাদের মাঝে মাদকের মত নেশা ও আসক্তি সৃষ্টি করে। তাই মানুষ এগুলো বার বার খেতে চায়। কম চর্বি যুক্ত খাবার তেমন সুস্বাদু নয় বলে মানুষ তেমন আকৃষ্ট হয় না, কিন্তু তাতে টেস্টিং সল্ট মেশান হলে খাবারে স্বাদ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। যা তৃপ্তি মেটায়, কিন্তু ক্ষতিকর। টেস্টিং সল্ট যুক্ত সস, সয়া সস জাতীয় খাদ্য গুলোতে মানুষ দ্রুত আসক্ত হয়ে পরে।গবেষণার সময় কিছু ইঁদুরের বাচ্চাদের খাবারে টেস্টিং সল্ট প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে তাদের স্নায়ু কোষ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।

চাইনিজ, ফাস্টফুড থেকে শুরু করে ঘরের খাবারেও ঢুকে গিয়েছে টেস্টিং সল্ট

hamburger-2618767_1920.jpg

ভোজন রসিকদের কাছে থাই,চাইনিজ, ইন্ডিয়ান খাবার পছন্দের শীর্ষে। জানা গেছে,এসব রেস্তোরায় পরিবেশিত স্যুপ,  ফ্রাইড রাইস,ফ্রাইড চিকেন সহ প্রায় সব খাবারে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার হচ্ছে ব্যাপকভাবে। সে কারণেই চাইনিজ খাবার এত সুস্বাদু। এখন তো অলিতে গলিতে রয়েছে ছোট-বড় প্রচুর ফাস্টফুডের দোকান। এসব ফাস্টফুডেও টেস্টিং সল্টের ব্যবহার মাত্রা ছাড়া। টেস্টিং সল্ট এর আগ্রাসন থেকে বাদ যাচ্ছে না কাবাব হাউস এবং সাধারণ হোটেল গুলো।
তবে, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার ঘরের খাবারেও কিন্তু ঢুকে গিয়েছে এই টেস্টিং সল্ট। টিভি, ইন্টারনেটের সুবাদে এখন গৃহিণীরা ঘরেই তৈরি করে দেশি-বিদেশি খাবার। আবার, দাওয়াতে অতিথিদের মন যোগানর জন্য বাড়তি স্বাদ বাড়াতেও ব্যবহার করছেন এই টেস্টিং সল্ট।
কিন্তু ঘুণাক্ষরেও কেও টের পাচ্ছে না নিজের অজান্তেই নিজের এবং প্রিয়জনদের শরীরে কি বিষ ঢুকচ্ছে!

সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে শিশুরা:

শিশু দের জন্য এটি আরও মারাত্মক! স্কুল-কলেজের ক্যান্টিনগুলোতেও দেদারে বিক্রি হচ্ছে ফাস্ট ফুড। এমন কি শুধু স্কুল-কলেজ কে কেন্দ্র করে এর চারদিকে গড়ে উঠে ফাস্ট ফুড,চটপটি ইত্যাদি বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকান। এই খাবারের দোকান গুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট। প্যাকেট জাত স্যুপ,নুডলস,সসেজ, বোতল জাত মাংস,সবজি এমন কি চিপস, চানাচুর,বিস্কুট, বেকারি খাবারের মত শুখনো খাবারেও টেস্টিং সল্ট ব্যবহার হচ্ছে প্রচুর। অভিভাবকরা নানা ব্র্যান্ডের চিপসের নামে আসলে শিশুদের বিষ কিনে দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন পরিণত মানুষের চাইতে শিশুর মস্তিষ্কের কোষকে টেস্টিং সল্ট দ্রুত নিষ্ক্রিয় ও অবসন্ন করে দিতে পারে।এতে পড়ালেখায় মনোযোগের অভাব দেখা দেয়। এর ক্ষতির পরিমাণ প্রাপ্তবয়স্কদের চাইতে শিশুর শরীরে চারগুণ বেশি।

একমাত্র সমাধান হচ্ছে সচেতনতা

বিশ্বে টেস্টিং সল্ট এর ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে সচেতনতা দিন দিন বাড়ছে। তারা এখন রেস্তোরাঁর বাইরে খদ্দের দের আশ্বস্ত করার জন্য “এমএসজি ফ্রি ফুড ” লিখে রাখে। নিজেদের এবং পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে আমাদের ও চাই এ ধরনের সচেতনতা। সরকারি ভাবেও কঠোর আইন প্রণয়ন এবং প্রয়োগের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
পৃথিবীর অনেক দেশেই টেস্টিং সল্ট এর ব্যবহার সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ এবং নিয়ন্ত্রিত। এজন্য বহু বহুজাতিক কোম্পানি ঐ সকল দেশে তাদের পণ্যে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার না করলেও আমাদের দেশে শক্ত আইন না থাকার সুবাদে ইচ্ছামত ব্যবহার করছে টেস্টিং সল্ট। এরকম একটি বহুজাতিক কোম্পানি আমাদের দেশে তাদের বাজারজাত কৃত স্যুপ এবং নুডলসে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করলেও, পাশের দেশ ভারতে তারা তা পারছে না। সেখানে তাদের পণ্যে লেখা থাকে ‘No Added MSG’।
এজন্য খাদ্য পণ্য কেনার আগে প্যাকেটের গায়ে ভালো করে এর উপাদান গুলো দেখে নিন। অনেকে আবার সরাসরি “টেস্টিং সল্ট” লিখে না। তার পরিবর্তে লেখা থাকে Monosodium glutamate বা এমএসজি। আসলে জিনিস একই। অতএব সচেতনতাই একমাত্র সমাধান।

মোশন সিকনেস এবং তার বৈজ্ঞানিক ব্যবচ্ছেদ

Now Reading
মোশন সিকনেস এবং তার বৈজ্ঞানিক ব্যবচ্ছেদ

আমরা যারা বাসে বা ট্রেনে করে কোথাও ঘুরতে যাই তখন লক্ষ্য করলেই দেখি কিছু মানুষ কেন জানি শুধু শুধু জানালা দিয়ে বমি করছে ! বমি করার কোনো দৃশ্য মোটেও ভালো লাগার কথা নয় কারণ, এর মধ্যে কোনো সৌন্দর্য্য নেই | তবে, এর মধ্যে যে কোনো বৈজ্ঞানিক সৌন্দর্য্য থাকবেনা তা নিশ্চয় হতে পারেনা |

কাজেই, আজকে আমরা এই বমি করার পিছনের কারণ কিংবা এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা করব | তবে, তার আগেই জানিয়ে রাখি এই ঘটনার জন্য দায়ী যেই জিনিস তার নাম হলো– “মোশন সিকনেস”|

 

মোশন সিকনেস কি ?

নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে গতি সংক্রান্ত যেই অসুস্থতা তাই মূলত এই মোশন সিকনেস | আমরা যখন গতিশীল কোনো কিছু করে যাই তখন এইটা হতে পারে | এছাড়া, গতিশীল কোনো ঘটনাও যদি ভিডিও হিসেবে দেখি তাহলেও এই ঘটনা ঘটতে পারে | এর সিম্পটম হিসেবে যা দেখা যায় তাহলো- বমিবমি ভাব, মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, ফ্যাকাশে ত্বক, অত্যাধিক লালা নিঃসৃত হওয়া, ক্লান্তি এবং সর্বশেষ বমি |

 

মোশন সিকনেস কিভাবে হয় ?

এখন প্রশ্ন আসতে পারে মোশন সিকনেস কিভাবে হয় ? বা মূলত কিভাবে কাজ করে থাকে ?

এইটা নিয়ে আসলে এখনো অনেক গবেষণা হচ্ছে | বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয় তবে, তাই ২টা জনপ্রিয় হাইপোথিসিস রয়েছে | এর মধ্যে একটি হলো “Senses out of Harmony” এবং অন্যটার নাম হলো “Sway theory” | এখানে উল্লেখ্য যদিও এইখানে থিওরি শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে তবে, বিজ্ঞানে থিওরি শব্দটা আরো ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয় | (*What’s Theory ?)

এইখানে, ২টা হাইপোথিসিস নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে | প্রথমেই আসি “Senses out of Harmony” নিয়ে |

 

Senses out of Harmony

আমাদের শরীরে ৩টা ভিন্ন অংশ রয়েছে যারা মোশন ডিটেক্ট করতে পারে এবং সেই তথ্য মস্তিষ্কে নিয়ে যায় | যা নিম্নরূপ:-

  • চোখ (যেইটা মূলত মোশন দেখতে পারে |)
  • অন্তঃকর্ণ (এইটা মূলত মোশন সেন্স, গ্র্যাভিটি এবং এক্সেলেরেশন সেন্স করতে পারে |)
  • ত্বকের সেনসরি রিসেপ্টর (যারা মাসল মুভমেন্ট ছাড়াও স্পর্শ সেন্স করে থাকে |)

 

এখন যখনই এই ৩ সেন্সরের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় তখনই মূলত, এই মোশন সিকনেস দেখা দেয় |¹

এখন প্রশ্ন আসতে পারে অসামঞ্জস্যতা বলতে এখানে কি বোঝানো হচ্ছে ? এর মানে হলো আমাদের এক সেন্সর এই মুহুর্তে যা অনুভব করবে তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে যদি অন্যান্য সেন্সরগুলো তা অনুভব করতে না পারে তাহলেই হবে | উদাহরণ হিসেবে বলা যায় – আমরা যখন বাসে বসে যাই তখন আমাদের অন্তঃকর্ণ অনুভব করে আমরা গতিশীল কিন্তু, আমাদের চোখ বলে আমরা স্থিতিশীল |(ধরে নিচ্ছি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে নেই বাসের ভিতরেই তাকিয়ে রয়েছি !) কাজেই, তখনই অসামঞ্জস্যতা তৈরী হয় আর তার ফলেই শুরু হয় মোশন সিকনেস | আবার, আমরা যখন কোনো মুভিতে গতিশীল কিছু দেখতে দেখি তখন আমাদের চোখ বলে আমরা গতিশীল কিন্তু, অপরপক্ষে অন্তঃকর্ণ বলে স্থির কাজেই, আবারও অসামঞ্জস্যতা এবং আবারও সেই মোশন সিকনেস ! এভাবে আমরা নিজেরাই চাইলে মোশন সিকনেস সংক্রান্ত অনেক কিছু আবিষ্কার করতে পারি | তবে,বিজ্ঞানীরা মোটামুটি নিশ্চিত এই ৩ সেন্সরের অসামঞ্জস্যতার কারণেই মূলত মোশন সিকনেস হতে পারে কিন্তু, ঠিক কেন এইটা হয় সেই বিষয় তারা এখনো নিশ্চিত নয় |

কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে  জেনেটিক্যাল কারণে মোশন সিকনেস দ্বারা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে | আরেকটা, উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো চোখ দিয়ে কোনো কিছু দেখা বা না দেখাটা মোশন সিকনেস এর জন্য অবশ্যকীয় কোনো বৈশিষ্ট নয় কারণ, অন্ধ মানুষদেরও মোশন সিকনেস হতে পারে ! ²

এবার আসি ২য় হাইপোথিসিস নিয়ে যার নাম হলো “Sway theory”

 

Sway theory

এর প্রবক্তা হলো “Thomas Stoffregen” তার দাবি অনুসারে এর সাথে অনঃকর্ণের কোনো যোগসূত্র নেই | তার মতে, এর সাথে মূলত শরীরের ন্যাচারাল মুভমেন্ট এবং ভারসাম্য রক্ষার কাজ জড়িত | প্রতিটা ব্যক্তিই সবসময়ই সবক্ষেত্রে সামন্যতম হলেও গতিশীল থাকে | একেবারে গতিহীন অবস্থায় থাকা কোনো ব্যক্তির পক্ষে একেবারেই অসম্ভব একটা ব্যাপার | আমরা যদিও জানিনা কিন্তু এইটা মূলত আমরা শরীরের ভারসাম্য রক্ষার জন্যই অবচেতনভাবে করে থাকি | যেমন– যখন সামনে আগাই তখন পায়ের আঙ্গুল দ্বারা মেঝেতে চাপ দেই | মূলত, এভাবেই ভারসাম্য রক্ষার কাজটি হয়ে থাকে |

এখন, কল্পনা করি আমরা একটা গতিশীল কোনো যানবাহনের মধ্যে রয়েছি এবং ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের ভারসাম্য রক্ষার কাজটি ক্রমাগত চেষ্টা করে যাচ্ছি | যেহেতু তখন, কাজটা করা খুব একটা সহজ নয় তার ফলে দেখা দেয় অসামঞ্জস্য আর সবশেষে আবারও সেই মোশন সিকনেস | মূলত এই দাবিই Thomas Stoffregen নামক ভদ্রলোকটি করেছেন |

 

মোশন সিকনেস কাদের বেশি হয় ?

প্রশ্ন আসতে পারে মোশন সিকনেস কি সবার ক্ষেত্রেই একইরকম হয় ? নাকি মানুষ ভেদে ভিন্ন হতে পারে ? একটু আগেই জেনেটিক ফ্যাক্টরের কথা উল্লেখ করেছিলাম তার মানে অবশ্যই মানুষ ভেদে ভিন্ন হতে পারে |

এখন আমরা দেখি কাদের ক্ষেত্রে বা কিসব ক্ষেত্রে মোশন সিকনেস বেশি হতে পারে |

  • বয়স : মোশন সিকনেস ছোট বাচ্চাদের হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে | বিশেষ করে যাদের বয়স ২ থেকে ১২ বছরের মধ্যে | যখন তারা বড় হতে থাকে অনেকেই এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারে কিন্তু, সবাই নয় |
  • জেন্ডার  : গবেষণায় দেখা গিয়েছে মহিলাদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা পুরুষদের থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি |
  • জাতি :  এশিয়ানদের মধ্যে অন্য জাতি অপেক্ষা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি |
  • লোকেশন : যারা গাড়ির পিছনে বসে তাদের ক্ষেত্রে মোশন সিকনেস দ্বারা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি | এছাড়াও, যারা ড্রাইভিং করে কিংবা সামনের সিটে বসে তাদের ক্ষেত্রে মোশন সিকনেস এ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কম কারণ, তারা গাড়ির গতি স্বচক্ষে দেখতে পাবার ফলে তাদের সেন্সরগুলোর মধ্যে একটা সিনক্রনায়জেশন হয়ে থাকে |

 

মোশন সিকনেস থেকে বাচার উপায়

এত কিছু হয়ত জানলাম কিন্তু, মোশন সিকনেস থেকেই যদি বাচতে না পারি তাহলে হবে কিভাবে ? কাজেই, এখন জানব কিভাবে মোশন সিকনেস থেকে বাচা যেতে পারে |

 

  • নিজে ড্রাইভার হিসেবে গাড়ি চালানো কারণ, এতে গাড়ির গতি সম্পর্কে আগে থেকেই জানা যায় ফলে সিনক্রনায়জেশন সম্ভব হয় |
  • Avomine ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে | এইটা ট্রাভেল সিকনেস এর জন্য খাওয়া হয় |
  • বই-পড়া কিংবা মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ না করা |
  • ট্রিপের আগে হালকা কিছু খাওয়া তবে, ভারী কিছু খাওয়া যাবেনা এতে উল্টো ব্যাকফায়ার হবে |
  • ঝাল জাতীয় খাবার ,ফ্যাটি ফুড কিংবা এলকোহল আছে এরকম কিছু খাওয়া যাবেনা |
  • আরেকটা চমত্কার উপায় হলো চুইংগাম চাবানো | এখানে চুইংগামটা সরাসরি মোশন সিকনেসের বিরুদ্ধে কাজ করছে না যেইটা করছে তাহলো, শুধু চাবানোটা !

এছাড়াও, কিছু রিলাক্সেশন থেরাপি রয়েছে যা দিয়ে এই মোশন সিকনেস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায় |

আজকে, এই পর্যন্তই | কেউ যদি কোনো ভুল-ক্রুটি পেয়ে থাকেন তাহলে, অনুগ্রহ করে জানাবেন | এছাড়া লেখাটা কেমন লাগলো তাও কষ্ট করে জানালো খুশি | সবাইকে ধন্যবাদ আজকে, এখানেই বিদায় নিচ্ছি |

 


 

References :

  1. http://www.webmd.com/cold-and-flu/ear-infection/tc/motion-sickness-topic-overview#1
  2. http://www.medicalnewstoday.com/articles/176198.php

 

Sources:

  1. http://health.howstuffworks.com/mental-health/neurological-conditions/motion-sickness.htm
  2. https://umm.edu/Health/Medical-Reference-Guide/Complementary-and-Alternative-Medicine-Guide/Condition/Motion-sickness

 

মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া !

Now Reading
মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া !

প্রায় প্রতিটা সময়েই কোনো না কোনো খুব জনপ্রিয় রোগশোক আমাদের সামনে ঘুরঘুর করতে দেখা যায় | এর মধ্যে ছিল ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ,জিকা কিংবা ফাইলেরিয়া | এই সবগুলোর জন্যই কোনো না কোনো মশা দায়ী থাকত | ঠিক সেরকম বর্তমান সময়েও আমাদের সামনে এরকম একটা জনপ্রিয় অসুখ রয়েছে যার নাম হলো “চিকুনগুনিয়া” | বলাই বাহুল্য ,এই রোগটার জন্যও মশা দায়ী !

চিকুনগুনিয়া কি ?

চিকুনগুনিয়া শব্দটা এসেছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী কিমাকন্দ ভাষা থেকে | যার আক্ষরিক অর্থ হলো বাকা হয়ে যাওয়া | আর বাংলাদেশে একে বলে “ল্যাংড়া জ্বর” ! এতসব ভয়ংকর নাম হবার একটা যৌক্তিক কারণ ও রয়েছে | কারণ এই রোগ হলে আক্ষরিক অর্থেই সারা শরীরে এত বেশি ব্যথা করে যার ফলে মনে হতে পারে কেউ যেন হার বাকিয়ে দিয়েছে ! তবে, যাইহোক আমরা চিকুনগুনিয়া শব্দটি দ্বারা একটা রোগ হিসেবেই জানব | যা মূলত, মশার মাধ্যমে ভাইরাস হিসেবে আমাদের শরীরে আক্রমন করে | এর জন্য সাধারণত ২ টা মশা দায়ী | প্রথমটা হলো Aedes aegypti  আর দ্বিতীয়টার নাম  Aedes albopictus. এছাড়াও পাখি কিংবা রোডেন্ট এর মাধ্যমে এর ভাইরাস সার্কুলেট করতে পারে | তবে, মানুষের ক্ষেত্রে এই মশার কামড়ের মাধ্যমেই হয়ে থাকে |

চিকুনগুনিয়ার অঞ্চল

ভৌগলিক অঞ্চল বলতে আফ্রিকা ,এশিয়ার মধ্যে এর প্রকোপ বেশি | এছাড়াও , সেন্ট্রাল এবং সাউথ আমেরিকা, ইন্ডিয়ান ওশান, প্যাসিফিক ওশান এবং ক্যারিবিয়ান ও এর ঝুকিযুক্ত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত |

তবে, আঞ্চলিক অঞ্চল বলতে চিকুন্গুনিয়ার মশা আমাদের বাড়ির আশেপাশেই ডোবা ,নালা-নর্দমা, জমে থাকা পানি ,ইত্যাদির মধ্যেই বিস্তার করে থাকে | এছাড়া বাইরে  ভোর কিংবা সন্ধার দিকে এই মশা সবচেয়ে বেশি কামরায় | এজন্য বাড়ির আশেপাশের অঞ্চল পরিষ্কার রাখাটা খুব জরুরি !

চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ

প্রশ্ন আস্তে পারে চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলো কি কি ? কি কি বৈশিষ্ট হলে আমরা বলতে পারি এইটা একটা চিকুনগুনিয়া ? এর সহজ উত্তর হলো -অসুখটার  ট্রেন্ড থাকা অবস্থায় কারো কোনো জ্বর হলেই মনে করতে হবে এইটা চিকুনগুনিয়া !!

সত্যিকার অর্থে চিকুনগুনিয়া আর ডেঙ্গু দুটোর ক্ষেত্রেই বৈশিষ্ঠ প্রায় একইরকম থাকে | যার ফলে দুটোর মধ্যে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার কাজটা কঠিন | তবে, পার্থক্য হলো ডেঙ্গু জ্বরে চোখ ,মাথা, মাংসপেশী ,হাড়ে প্রচন্ড ব্যথা হয় | চিকুন্গুনিয়ার এইসব বৈশিষ্ট কম বেশি থাকলেও এর উল্লেখযোগ্য লক্ষণ জ্বরের সাথে জয়েন্টে প্রচন্ড ব্যথা, বমি ,ডায়রিয়া আর ত্বকে লাল রঙের র‍্যাশ | ব্যথাটাও এতই মারাত্বক যে অনেকের ভাষ্যমতে এর বর্ণনা হলো “কেউ পিডায়লেও মনেও হয় এত ব্যথা করেনা !!” কাজেই, বোঝায় যাচ্ছে এই অসুখে খুব ব্যথা আর জ্বর হয় !

ডায়াগনস করার উপায়

ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়া ডায়াগনস প্রায় একই পদ্ধতিতে করে থাকে | আরটি-পিসিআর , কালচার বা এন্টিবডি পরীক্ষা করে এই রোগ নির্ণয় করা হয় |

 

চিকুনগুনিয়া থেকে বাচার উপায়

চিকুনগুনিয়া থেকে বাচার অর্থ হলো মশাকে প্রিভেন্ট করা | সাধারণত নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে এই কাজটা করা হয়ে থাকে |

  •  পুরো শরীর কে যতখানি সম্ভব ঢেকে রাখা |
  •  মশার ঔষুধ ব্যবহার করা |
  •  সবসময় রিপেলেন্ট কেনার ক্ষেত্রে ইনগ্রেডিয়েন্ট চেক করে নিতে হবে | যাদের মধ্যে – DEET, Picaridin, PMD, IR3535 উক্ত আইটেমগুলো বিদ্যমান |
  •  যদি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা হয় তাহলে, প্রথমে সানস্ক্রিন এবং এর উপর রিপেলেন্ট প্রয়োগ করতে হবে |
  •  পার্মিথরিন ট্রিটেড জামা পড়তে হবে | (পার্মিথরিন সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করা যাবেনা )
  •  এসি রুমে ঘুমালে ভালো হয় !
  •  এছাড়াও ঘরে নেট ব্যবহার করা যেতে পারে |

 

রোগ মুক্তির উপায় 

প্রথমেই বলি হতাশ হতে হবে কারণ, চিকুনগুনিয়া থেকে আক্ষরিক অর্থে মুক্তি লাভ করা যায়না ! কারণ, এখন পর্যন্ত এর কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি | এইটা এমনিতেই ৭-১০ দিনের মধ্যে সেরে যায় | যদি সত্যিই কিছু করতে হয় তাহলে প্রিভেনশনই সবচেয়ে ভালো | তবে, তাও বেশ কিছু পদ্ধতি যা অনুসরণ করে এই অসুখের সময় নিজেকে কিছুটা ভালো রাখা যায় | এর মধ্যে হলো –

  • জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ গ্রহণ|
  • প্রচুর পরিমানে পানি পান |
  • আর বেড রেস্টে থাকা |

 

কখন হাসপাতালে যাবেন ?

চিকুনগুনিয়া সাধারণত ষাটর্ধ ব্যক্তি ,অন্তসত্ব নারী ,ছোট শিশু এদের ক্ষেত্রে ঝুকি তুলনামূলক বেশি থাকে | এছাড়াও, যাদের কিডনি, যকৃত বা হৃদযন্ত্রে অসুখ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এর ঝুকি বেশি থাকে | যদি রক্ত চাপ কমে যায় কিংবা প্রসবের পরিমান ৫০০ মিলিলিটারের কম হয় ,তিন দিনের অধিক সময় জ্বর থাকে তাহলে বুঝতে হবে এখন হাসপাতালে যাবার সময় হয়েছে |

 

চিকুনগুনিয়া বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত

এই বিষয়ে বাংলাদেশের ঢাকা মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় অধাপক মো: শহিদুল বাশার বলেন  -“প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবেনা | এছাড়াও প্রচুর পরিমান পানি পান করতে হবে | আর চিকুনগুনিয়ার মৃত্যুঝুকি প্রায় নেই বললেই চলে |” এছাড়াও তিনি দুর্বলতা কাটাতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার প্রতিও জোরদান করেন |

প্রফেসর আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য মতে -“এই রোগের উপসর্গ দেখা দিলে এক সপ্তাহের মধ্যেই সেরলোজি এবং আরসি-পিসিআর টেস্ট করে শনাক্ত করা যায় |”

মোট কথা, বিশেষজ্ঞদের আলাপ থেকে একটা বিষয় বোঝা যায় চিকুনগুনিয়া নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হবার কোনো প্রয়োজন আসলে নেই |

 

আজকে এই পর্যন্তই | পরবর্তিতে হয়ত নতুন কোনো টপিক নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব | সবাইকে ধন্যবাদ |

 


 

References :

  1. http://www.who.int/mediacentre/factsheets/fs327/en/
  2. https://wwwnc.cdc.gov/travel/diseases/chikungunya
  3. http://www.webmd.com/a-to-z-guides/tc/chikungunya-fever-topic-overview
  4. https://en.wikipedia.org/wiki/Chikungunya
  5. http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1190166/%E0%A6%8F%E0%A6%A4-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A5%E0%A6%BE

ভিডিও গেম খেলার কিছু স্বাস্থ্য-উপকারিতা!

Now Reading
ভিডিও গেম খেলার কিছু স্বাস্থ্য-উপকারিতা!


আমরা সব সময় শুনতে পাই কিভাবে ভিডিও গেম শিশুদের স্বাস্থ্যর উপর কিরূপ প্রভাব ফেলছে। অতিরিক্ত ভিডিও গেম খেলার ফলে শিশুরা শারীরিক এবং মানুষিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের উচিত তাদের এ ভিডিও গেম খেলা থেকে নিরুৎসাহিত করা এবং তারা ভিডিও গেম খেললেও এটা খেলার নিদিষ্ট সময় সীমা বেধে দেওয়া।

ভিডিও গেমের অনেক নেগেটিভ ইফেক্ট থাকা স্বতেও আমরা এটা খেলা থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনা। ভিডিও গেম খেলার যতই নেগেটিভ ইফেক্টের কথা বলি না কেন এর অপকারীতার সাথে কিছু উপকারীতাও রয়েছে।  ভিডিও গেম খেলা আমাদের শারীরিক, মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

বি দ্র : আমরা বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারীতা জানার আগে বলে  রাখা ভাল যে আমার এই পোষ্ট পরে ভিডিও গেমস খেলে সময় ব্যয় করার কোনো অজুহাত হিসেবে বেছে নিবেন না। আর যদি অজুহাত হিসেবে বেছে নেন তাহলে আমি পোষ্টদাতা কোনভাবেই দ্বায়ী নয়।

ডিসলেক্সিয়া (উচ্চারণগত সমস্যা) থেকে মুক্তি পেতে পারেন:

আপনি যদি ডিসলেক্সিয়া (উচ্চারণগত সমস্যা) ভোগেন তবে এটি আপনার জন্য কিছু চমৎকার খবর আছে, ভিডিও গেমিং এ আপনাকে মানসিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে সাহায্য করতে পারে। যদিও গবেষকরা ডিসলেক্সিয়া নিয়ে সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারেনি কেন এটি কেবল কিছু লোককেই প্রভাবিত করে, কিন্তু এ বিষয় নিয়ে কিছু বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব রয়েছে এবং এ গবেষণায় ফলাফলগুলি অস্বীকার করা যায় না।

এর গবেষণায় একটি তত্ত্ব এমন যে, কোন শব্দ পড়তে অমনোযোগীতার কারনে ডিসল্যক্সিয়া সমস্যা হতে পারে। কম্পিউটার গেমগুলির সুবিধা হল যে কম্পিউটার গেমিং আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য মনোনিবেশ করতে বাধ্য করে। এর ফলে আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন না আপনি এই দীর্ঘ সময় আপনার কাছে কঠিন শব্দটি মনোযোগ সহকারে পড়েছেন।

এখনকার গেমগুলো সিনারিওপূর্ণ। গেম খেলার সময় আপনার প্রতিটি নির্দেশগুলি পড়তে হয়, সে নির্দেশ গুলোর মাঝে প্রায়ই আপনার সে পাঠ্য শব্দটি দেখা যায় যা আপনার উচ্চারণে সমস্যা হয়, কিন্তু সে শব্দটি গেমসে আপনি একের অধিকবার পড়েন। প্রয়োজনীয় যে নির্দেশাবলী আছে তা আপনি অনুসরণ করে আপনাকে মিশন সম্পূর্ণ করতে হয়, এতে করে গেমের নির্দেশাবলীর শব্দ গুলী মনোযোগ সহকারে পড়েন।

আপনার চোখের দৃষ্টি শক্তির উন্নতি হতে পারে:

পুরানো বিশ্বাস মতে আপনি যদি কম্পিউটার বা টিভিতে খুব কাছাকাছি বসে ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আপনার দৃষ্টি সমস্যার সৃষ্টি হবে।ওকে ঠিক আছে, আমরা আসলে বেশিরভাগ সময় টিভি দেখা বা কম্পিউটারে গেম খেলার সময় মনিটরের খুব একটা কাছেও বসি না। এখন গেম খেলার জন্য আর টিভির সাওমে বসে থাকতে হয় না।  গেমিং কন্ট্রোলারের ক্যাবল এতো বড় যে চাইলে আমরা এখন রুমের যেকোন প্রান্ত থেকে গেমস খেলতে পারি।

অন্যান্য গবেষণা দেখায় যে, কম্পিউটার গেমিং আপনার চোখের দৃষ্টিকে উন্নত করতে পারে। কারণ আপনি কম্পিউটার গেমিং এর সময় কম্পিউটার স্ক্রিনে গেমের মিশনের সব কিছু সন্ধান করতে হয় এবং একই রঙের বিভিন্ন ধাপ গুলির মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন। এই ক্ষমতাটি আপনার বাস্তব জীবনে কাজে লাগে। আপনি যখন হাঁটাচলার মধ্যে তখনো সহজে যেকোনো রঙের মধ্যে পার্থক্যটি খুঁজে পাবেন। এবং রংটির মাঝে কোন খুঁত আছে কিনা তাও আপনারা বের করতে পারবেন।

গেমিং আপনাকে দৈহিক ভাবে আরো বেশী একটিভ করতে পারে

প্রথম কম্পিউটার গেম আবিষ্কারের পর দীর্ঘদিন পার হয়ে গেছে। এক সময় ছিল, যখন শিশু এবং প্রাপ্ত বয়স্করা গেমের মিশন সম্পন্ন করার জন্য ঘন্টার পর ঘণ্টা গেম খেলে যেত। আমি এখনো মনে করতে পারি, যখন আমি ঘন্টার পর ঘণ্টা বসে গেমের লেভেল পার করার জন্য খেলে গেছি তার কারণ ছিল তখন কোন গেম সেভ করার ফাংশন ছিল না।

এখন গেমিং এর সাথে শারীরিক দিকও অন্তর্ভুক্ত। ”জাস্ট ডান্স”, ”উই ফিট”, ”গিটার হিরো” এবং আরও অনেক গেম আছে যেসব গেম আপনাকে রুমে দাঁড়িয়ে দাঁড়াতে ও ঘুরে এবং হেটে খেলতে হচ্ছে। এতে করে আপনি আপনাকে ফিজিক্যালি একটিভ রাখতে পারেন, আপনি আপনার ফোকাসে আরও বেশি মনোযোগী হতে পারবেন এবং আপনি চাইলে ওজন কমাতে পারেন গেম খেলার মাধ্যমে।

আপনি এই ধরনের গেম না খেলেও আরও বেশি শারীরিকভাবে নিজেকে এবং আপনার বাচ্চাদের সক্রিয় রাখতে পারেন। বাচ্চারা যারা বেশি স্পোটসি গেম খেলতে পছন্দ করে তাদের বাড়ির বাইরে গিয়ে খেলাতে আপনি আগ্রহী করে তুলতে পারেন।

গেমিং আপনার সৃজনশীলতা বৃদ্বিতে সাহায্য করে

সৃজনশীলতা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারীতা নিয়ে আসে, এবং ভিডিও গেমিং অবশ্যই সৃজনশীলতার বিকাশ করে। এটি সব ধরনের গেমিং এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

চলুন শুরু করা যাক যেকোনো ম্যালেটারী মিশন বা শুটিং গেম দিয়ে, গেমে প্রথমে আপনি আপনার মিশন সম্পর্কে বুঝতে হবে, এবং আপনাকে ম্যাপে কোথায় যেতে বলেছে, এবং বিভিন্ন অস্ত্র সম্পর্কে সবকিছু জানার প্রয়োজন পড়ে। এসব গেমে বিশেষ করে যখন কঠিন লেভেলে আছেন তখন আপনি কখনও কখনও শত্রুকে মেরে ফেলা বা হারানোর জন্য সৃজনশীল উপায়গুলি খুঁজে বের করেন।

আপনাকে সৃজনশীল করে তোলার জন্য আরও কিছু গেম রয়েছে যেমন Mine craft এবং Sims। এসব গেমে আপনাকে আপনার পরিবার, বাড়ি, এবং আপনার পৃথিবীকেনিজের মত তৈরি করে নিতে হয়। এবং আপনার তৈরি ক্যারেকটার গুলোকে আপনার ডেভেলপ করতে হয় যেসব জিনিস গুলোর আগে কখনও অস্তিত্ব ছিল না। এসব গেম খেলা শুরু করার আগে আপনাকে গেম থেকে অল্প কিছু ধরনা দেওয়া হয়, যা কিনা আপনার সৃজনশীলতা বিকাশে সহয়তা করে।

গেমিং আপনার স্মৃতিশক্তি এবং অন্যান্য প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করে

আমরা সর্বদাই শুনতে পাই কিভাবে আমরা আমাদের ব্রেইনের কার্যক্ষমতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি। সেজন্য অনেকেই ক্রসওয়াডস এবং সুডকো পাজল দিকে মনোনিবেশ করে থাকেন,এটা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না যে কম্পিউটার গেমসও সেই দিক থেকে কোন অংশে কম নয়। শুধু এটা চিন্তা করতে হবে যে যখন আমরা গেমস খেলছি তখন আমরা আমাদের ব্রেইনের কতটা ব্যবহার করছি।

গেমস খেলতে খেলতে আপনাকে গেমের প্যাটার্ন সম্পর্কে বুঝতে হবে,এবং আপনাকে মিশন, চরিত্র,এবং যা যা করতে হবে সব মনে রাখতে হয়। গেমের প্রতিটা ষ্টেজ যখন আপনার creative আইডিয়া দ্বারা অতিক্রম করতে চাইবেন তখন আপনার ব্রেইন কাজ করবে। এবং আপনার ব্রেইনে সে আইডিয়া গেঁথে থাকবে।

গেমিং আপনাকে মানসিক যন্ত্রনা থেকে দূরে রাখতে পারে

একাকীত্ব থেকে আপনার ভিতর অশান্তি তৈরি হতে পারে, আপনার এ একাকীত্ব এক নিমিষেই দূর করে দিতে গেমিং এর জুড়ি নেই। ভিডিও গেমিং আপনার মানসিক অশান্তির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

আপনি যখন ভিডিও গেম খেলেন আপনার পুরো মনোযোগ তখন গেমের ভিতর থাকে, আর গেমের ভিতর তখন এমন কিছু ঘটছে যা আপনি উপভোগ করছেন, আর আপনার এ উপভোগের সময়ই আপনি আপনার দুঃখ ব্যথা ভুলে যান।

আমি ১০০% গেরান্টি দিয়ে বলতে পারি যে এটা কাজ করে। আমার এখনো মনে আছে যে, ছোট বেলায় একদিন আমার বন্ধু তার বাড়িতে গেম খেলতে নিয়ে যায় সেখানে যাওয়ার পথেই আমার পেট ব্যথা শুরু হয়। কিন্তু আমরা সেখানে পৌঁছে কেবল আমরা কিছুক্ষণ ভিডিও গেম খেলেছিলাম, কিন্তু ফিরে আসার পর বুঝতে পারছিলাম যে গেম খেলতে খেলতে আমি আমার পেট ব্যথার কথা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েছিলাম!!!

আপনার সামাজিক দক্ষতাকে উন্নত করে এবং নতুন সম্পর্ক গড়তে সাহায্য করে

আপনি এখনকার সময় গেম খেলতে খেলতে আপনার সামাজিক দক্ষতার উন্নতি করতে পারবেন। তার কারণ এখন বেশিরভাগ গেম এখন আপনার অনলাইনে খেলার সুযোগ রয়েছে, সেখানে আপনি অন্য প্লেয়ারদের সাথে চ্যাটের মাধ্যমে কথা বলতে পারবেন। কিছু গেমে এখন আপনি লাইভে চ্যাটের মাধ্যমে কথা  বলতে পারবেন।

আপনি গেমিং এর  মাধ্যমে অন্য মানুষের সম্পর্কে জানতে পারবেন, এবং তাদের সাথে রিলেশন ক্রিয়েট করতে পারবেন। এবং আপনার ফিলিংস তাদের সাথে শেয়ার করতে পারবেন। ও আপনারা আপনাদের আনন্দ,ভালোবাসা, সবকিছু একই সাথে সেলিব্রেট করতে পারবেন।

গেমিং আপনাকে মানসিক চাপে থেকে সামাজিক দক্ষতা উন্নত করতে শিখাবে। ধরুন আপনি টিম মেম্বারদের সাথে নিয়ে  কোন শুটিং গেম খেলছেন, যখন কিনা আপনার গেমে আপনার শত্রুরা আপনার টিমকে এটাক করছে তখন আপনার টিমকে সহায়তা করার জন্য আপনাকে কোন কিছু অর্ডার করতে হতে পারে আপনার টিম মেম্বারকে। গেম আপনাকে এ চাপে সময় আপনার টিমকে কি করতে হবে সে জন্য আপনাকে খুব তাড়াতাড়ি ডিসিশন নিতে শিখায় এবং টিমের এ পরস্পর তড়িৎ যোগাযোগ আপনার সামাজিক দক্ষতা উন্নত করতে সাহায্য করে

গেমিং আপনাকে দ্রুত সিদ্বান্ত নিতে শিখায়

কিছু কিছু গেম খেলার সময় আপনাকে দ্রুত ভাবতে হয়। আপনি গেমে মিশন কমপ্লিট করার জন্য কি কি করবেন, কোন পথ বেছে নিবেন, শত্রুর বিপরীতে কি একশন নিবেন এগুলো আপনাকে খুব দ্রুত চিন্তা ভাবনা করতে হয়। এ সব গেম আপনাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শিখায়।

গেমে আপনার সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরী নয়। গেমে আপনাকে শিখানো হয় আপনি কিভাবে সিদ্ধান্ত নিবেন বিষয়ে। আপনার সিদ্ধান্তহীনতা আপনাকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তাই গেম আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নয় বরং আপনাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শিক্ষা দিয়ে থাকে। আমাদের জীবনে মাঝে মাঝে সুযোগ গ্রহণে কিছু দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়, আমরা গেম খেলার মাধ্যমে এ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে শিখতে পারি।

বেশি ভিডিও গেম খেলুন নিজেকে সুস্থ ও একটিভ রাখুন

এখন আপনার কাছে প্রতিদিন ভিডিও গেম খেলার সব কারণ আছে। কারণ গুলো আপনার জন্য আশ্চর্যজনক ভাল কিন্তু তা শুধুমাত্র লিমিটেশনের ভিতর থাকা পর্যন্ত। প্রতিদিন আপনি গেম খেলে ২০-৩০ মিনিট ব্যয় করছেন সব গেম গুলো নিয়ে চিন্তা করুন আপনি কি ধরনের গেমস খেলছেন এবং গেম থেকে আপনি কি কি শিখতে পেরেছেন।

শিশুরা সামাজিকভাবে সামঞ্জস্য বজায় রাখে, এবং তারা এখনও বাইরে গিয়ে খেলতে পছন্দ করে। মাতাপিতা হিসাবে, আপনি আপনার বাচ্চাদের বাইরে গিয়ে খেলতে উৎসাহিত করতে পারেন।একমাত্র আপনি আপনার শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারেন।

তো আর দেরি কিসের মেতে যান গেমসের দুনিয়ায় আর নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি সাধিত করুন

মরনব্যাধি ডায়াবেটিস এর কারণ ও সহজ সমাধান!! (পর্ব: ০২)

Now Reading
মরনব্যাধি ডায়াবেটিস এর কারণ ও সহজ সমাধান!! (পর্ব: ০২)

আমি পূর্বের অংশে ডায়াবেটিসের দুইটা কারনের কথা উল্লেখ করেছি, আসলে দুইটা সমস্যা  কি কারনে হইতেছে,

একটা উদাহরণ দিয়ে একটু সহজ করে দিই,

মনে করেন, আপনি ভাতের সাথে কিছু পরিমান কাকর মিশ্রিত করলেন।  ভাতের চাউল  গুলো দেখতে সাদা, কাকরগুলো দেখতে সাদা তো আপনি মিশ্রিত করে সেগুলো রান্না করলেন এবং কাউকে বললেন, ভাই তুমি এগুলো খাও।  তো সে এক চামচ মুখে দিয়ে বলবে এগুলোর মধ্যে কাকর আছে, দুখিঃত আমি এগুলো খেতে পারবোনা।  তো আপনি যদি তাকে জোর করে জিনিসটা (কাকর মিশ্রিত ভাত) খাওয়ান তাহলে একপর্যায়ে তার দাতগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।

তো বিষয়টি ঠিক এরকম, আমাদের যে ডাইজেস্টিক সিস্টেম বা আমাদের যে পরিপাক তন্ত্র এর মধ্যে ভাত হতে শুরু করে সকল প্রাকৃতিক খাদ্য হজম করার জন্য যা যা এনজাইম দরকার তা সৃষ্টিকর্তা দিয়ে দিছে।  প্রোটিন, কার্বহাইড্রেট, ফ্যাট সকল কিছু হজম করার উপাদান আমাদের শরীরে আছে।  কিন্তু চিনির সাথে যোগ করা কেমিকেলকে হজম করার জন্য কোন এনজাইম নাই, রিফাইন তেলের সাথে যোগ করা কেমিকেলকে হজম করার জন্য কোন এনজাইম নাই। সুতরা এগুলো যখন আপনার ডাইজেস্টিক সিস্টেমে প্রবেশ করতেছে তখন আমাদের ব্রেইন সংকেত দিচ্ছে যে এগুলো হজম করার জন্য আমার কাছে কোন এনজাইম নাই, তখন আমাদের ডাইজেস্টিক সিস্টেমকে অধিক পরিশ্রম করতে হচ্ছে।  এভাবে অনবরত কাজ করতে করতে আমাদের প্যানক্রিয়েস দুর্বল হয়ে যায়।  অতএব আমরা এভাবে বিভিন্ন খাবার গ্রহনের মাধ্যমে অনবরত আমাদের প্যানক্রিয়েস সিস্টেমের উপর অধিক প্রেসার প্রয়োগ করছি।  আর এভাবে আমরা আমাদের ডাইজেস্টিক সিস্টেমের ক্ষমতাকে কমিয়ে ফেলছি।

যারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন তারা আজকেই জিনিসটা পরিবর্তন করুন।

লবনের কথা না বললেই নয়: লবনের মধ্যে সাধারণত পটাশিয়াম আয়োডাইট এবং অ্যালোমিনিয়াম সিলিকেট  এই দুইটা কেমিকেল মিশ্রিত থাকে।  এগুলো মেশানো হয় এই কারনে যেন লবন বাতাস থেকে জলীয়বাস্প না টানতে পারো।  তাহলে বুঝতেই পারছেন কি খাচ্ছি।

তো সহজ কথা এগুলো অর্থাৎ পয়জনাল বা কেমিকেল যুক্ত খাবারগুলো বাদ দিন তাহলে ডায়াবেটিস হবেনা।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, ডাক্তার সাহেব মাত্র এই সামান্য বিষয় বাদ দিলে ডায়াবেটিস হবে না।  আমি আপনাকে বলতে পারি, আমরা সাধারণত পূর্বে শুনেছি কেহ মারা গেলে শুনতাম বার্ধক্য জনিত কারনে অনেকে মারা গেছে, অনেক হায়াত প্রাপ্ত হয়েছেন অনেকে। কিন্তু আজকাল আমরা কারো মৃত্যুর খবর শুনলে বলি কোন রোগে বা কি কারনে মারা গেছে।  আমাদের ধারনা হয়ে গেছে যে কোন না কোন রোগে মানুষ মারা যায়। এখন আর আমরা বার্ধক্য জনিত কারন শুনিনা। আমরা শুনি হয় ব্রেইন  স্ট্রোক এ মারা গেছে, না হয় ক্যানসারে মারা  গেছে, না হয় হার্ট এটাকে মারা গেছে বিভিন্ন ধরনের টনিক ডিজিসের মাধ্যমে আমাদের মৃত্যু হচ্ছে। আর আমরা এটাকে মেনে নিচ্ছি যে, মানুষ মারা যায় কোন না কোন রোগে। আপনি আমি চাইলে এটা থেকে বাঁচা সম্ভব।  কিন্তু আমার একার দ্বারা তো সব পরিবর্তন সম্ভব না, আমার কাছে যতটুকু জানা ছিল আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম মানা না মানা আপনাদের বিষয়।  আমরা যদি সম্মিলিত ভাবে চেষ্টা করি এবিষয় গুলো থেকে বের হয়ে আসতে তাহলে সম্ভব।

সাধারণত আমি বিষয়গুলো খুব সাধারণ ভাবে আপনাদের বোঝানোর চেষ্টা করে থাকি।

আপনি একটু চিন্তা করে দেখেন,

আপনি যদি চিনি খাওয়া বন্ধ করেন এটাতে আমার লাভ কি?

আপনি যদি সাদা লবন খাওয়া বন্ধ করেন এটাতে আমার লাভ কি?

আপনাদের সামনে এতক্ষন এবিষয় গুলো আলোচনা করলাম এটাতে আমার লাভটা কি?

সকলকে উদ্দেশ্য বলছি, আমার এই বিষয় গুলো যদি আপনি মানেন তাহলে আপনার হারানোর কিছু নাই, আমি আপনাকে দুই টাকা খরচ করাইতেছিনা, আমি আপনাকে কোন খারাপ রাস্তায় যেতে বলছিনা, আমি আপনাকে কেমিকেল কিছু খাইতে বলছিনা, আমি আপনাকে কোনপ্রকার ঔষধ খেতে বলছিনা। আমি শুধু আপনাকে বালছি পরিবর্তন করেন।  আপনার যদি সন্দেহ থাকে আপনি বিষয়টি নিয়ে রিসার্স করে দেখতে পারেন। নিজের জীবনের জন্য করেন।

ডাক্তার হিসেবে এতটুকু আমাদের দ্বায়িত্ব, আমরা মানুষের জন্য কি করে যাচ্ছি। মানব সভ্যতার জন্য কি করে যাচ্ছি।  ডায়াবেটিস হলে তো ট্রিটমেন্ট আছে যেটাতে ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে থাকবে। এমন কি কিছু আছে যেটা খেলে ডায়াবেটিস হবে না।

যুবকদের উদ্দেশ্যে করে বলছি, আমাকে বিশ্বাস না করে আপনারা স্ট্যাডি করেন।  নিজেকে অনাকাঙ্খিত মৃত্যু থেকে বাঁচান।  আপনাদের একটু সচেতনতা, একটু পরিবর্তন, একটু কিছু খাবার এড়িয়ে চলা এগুলো করার মাধ্যমে নিজেদেরকে ডায়াবেটিস নামক মরনব্যাধি থেকে বাচাঁতে পারেন।  অন্যকে সচেতন করুন।

আমি অনেকগুলো বিষয় বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করলাম, যদি খারাপ লাগে তাহলে দয়া করে মাফ করবেন।  আমি সবসময় চেষ্টা করি কিছু ইউনিক বিষয় আপনাদের সামনে সহজ সরল ও স্বাভাবিক ভাবে তুলে ধরার জন্য।

সুতরাং ডায়াবেটিস এখন মহামারী আকারে ছড়াইতেছে, ডায়াবেটিস থেকে যদি বাচতে চাই আমরা তাহলে এখনই যদি সচেতন না হই তাহলে আমরা জেনারেশন বাচাইতে পারবনা।

একজন ডাক্তারের নৈতিকতা বা মানুষের সেবক হিসেবে আপনাদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরলাম। দয়াকরে একটু মেনে চলুন এতে আপনারই উপকার হবো। সবাই ভালো থাকবেনা। ধন্যবাদ……..

তথ্য সূত্র:

আলোচনা করে,

ডা: সৈয়দ গোলাম গাউস আশরাফী,

বি. এইচ. এম. এস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

মরনব্যাধি ডায়াবেটিস এর কারণ ও সহজ সমাধান!! (পর্ব: ০১)

Now Reading
মরনব্যাধি ডায়াবেটিস এর কারণ ও সহজ সমাধান!! (পর্ব: ০১)

সাধারণত কোন ডাক্তার এর কাছে গেলে আপনি যদি প্রশ্ন করেন, কি করলে  বা কি খেলে এই রোগটা হবে না? অনেকক্ষেত্রে ডাক্তার সাহেব এর কোন সদুত্তর দিতে পারে না।  তবে আমি আজ যে তথ্য গুলো আপনাদেরকে দিব তা যেমন আপনার ডায়াবেটিস নিরাময়ে সমাধান দিবে, তেমনি এটা থেকে দূরে থাকার বিষয়েও সমাধান দিবে।

তাহলে মূল বিষয় বস্তুতে ফিরে যাওয়া যাক।

ডায়াবেটিস বর্তমানে মহামারী আকারে ছড়ানো একটি রোগ, আমরা বলে থাকি ডায়াবেটিস সকল প্রকার রোগের মা-বাবা। যদি ডায়াবেটিস কারো শরীরে হয়, তবে সে ক্ষেত্রে আপনার আর অন্য কোন রোগের দরকার পড়বে না। একবার ডায়াবেটিস হলে বাকি সবকিছু সয়ংক্রিয় ভাবে হতে থাকবে। 

ডায়াবেটিস যদি হয়- হার্ট ডিজিস হবে

ডায়াবেটিস যদি হয়- ব্রেইন স্ট্রোক হবে,

ডায়াবেটিস যদি হয়- কিডনি ডিজিস হবে,

ডায়াবেটিস যদি হয়- আপনার ব্রেইনের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হবে,

ডায়াবেটিস যদি হয় তাহলে সকল প্রকার অনাকাঙ্খিত রোগ আপনার হতে থাকবে। তাহলে কি করলে ডায়াবেটিস হবে বা কি করলে ডায়াবেটিস থেকে বাচা যাবে সে বিষয়ের দিক যাওয়া যাক।

কি করলে ডায়াবেটিস হবে না:- এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের প্রথমে জানতে হবে কি করলে ডায়াবেটিস হয়। আসলে যা যা করলে ডায়াবেটিস হয় তা না করলে ডায়াবেটিস হবেনা। সহজ হিসাব!!

কি কারণে সাধারণত ডায়াবেটিস মানুষের হয়ে থাকে:- এখন থেকে যদি ১০০ বছর আগের কথা যদি চিন্তা করি তখন কিন্তু মানুষের ডায়াবেটিস ছিলনা।  ২০০ বছর আগে হয়তবা এই নামগন্ধ পর্যন্ত ছিলনা। কিন্তু বর্তমানে ৩০- ৪০ বছরের মধ্যে কি এমন  দুনিয়ার মধ্যে পরিবর্তন হয়েছে যে তা থেকে মানুষের ডায়াবেটিস হচ্ছে, আজ ঘরে ঘরে ডায়াবেটিস এর রোগী, আর এই মরণব্যাধী মহামারী আকারে ছড়াচ্ছে। আসুন কয়েকটি বিষয় বিশেষাভাবে লক্ষ করিা।

প্রথমত:- যদি কারো শরীরে রক্তের ক্লোরেস্টেরেল লেভেল বেড়ে যায় তখন ডায়াবেটিস হতে পারে।  কারণ যখন ব্লাডের মধ্যে ক্লোরেস্টেরেল লেভেল বেশি হয়ে যায় তখন, ইনস্যুলিন রেজিস্ট্যান্সি তৈরি হয়।  তার মানে ইনস্যুলিন পুরোপুরি কাজ করে না। সুতরাং যখন ইনস্যুলিন সঠিকভাবে কাজ করবে না তখন আপনার হাইপারগ্লাসিনিয়া হয়ে যাবে, আপনার গ্লুকোজ লেভেল বেড়ে যাবে এটা গেল একটা কারণ।

দ্বিতীয়ত:- বিশেষ করে চিনির কারণে। যে দুইটা কারনে আমাদের ডায়াবেটিস হয়, দুটিই হলো চিনি খাওয়ার জন্য।

যাদের এই পর্যন্ত ডায়াবেটিস হই নাই তারা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনে রাখেন, আপনারা শুধু চিনি খাওয়া বন্ধ করে দেন। যদি আপনি চিনি খাওয়া বন্ধ করে দেন তাহলে আপনি ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন আল্লার রহমতে।  আসলে আমি বিষয়টি আপনাদের সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করলাম বিষয়টি। বাদবাকি বিষয় আপনাদের  কাছে।

অনেকে বলে ডাক্তার সাহেব আমি তো চিনি খাইনা বা অতো পরিমানে চিনি খাই না অথবা অনেক আগেই চিনি ছেড়ে দিছি, তাদের উদ্দেশ্যে, আপনি জানেন কী? বাজারে যত প্রকার খাবার পাওয়া যায় তার ৮০% এর মধ্যে চিনি থাকে।

আপনি কোক খাবেন- চিনি মিশ্রিত

পেপসি খাবেন- চিনি মিশ্রিত

বিভিন্ন ধরনের কোল্ড ড্রিংস খাবেন-চিনি মিশ্রিত

রুটি খাবেন – চিনি মিশ্রিত

বিস্কিট খাবেন- চিনি মিশ্রিত

বেকারী পন্য খাবেন- চিনি মিশ্রিত

এছাড়া অনেক রেস্টুরেন্ট আইটেমেও চিনি মিশ্রিত

জুস তাও চিনি মিশ্রিত, এমন অনেক খাবারের মধ্যে চিনি মিশ্রত থাকে, ধারনা করা হয় বাজারের ৮০% খাবারের মধ্যে চিনি মিশ্রিত। 

তাহলে,

আপনি হয়তো চিনি খাবেন না কিন্তু বিস্কুট তো খান। আর বিস্কুট খেলে ওই  চিনিটা আপনার শরীরে প্রবেশ করছে।

আপনি হয়তো চিনি খাবেন না কিন্তু কোল্ডড্রিংস তো খান, তাহলে চিনিটা আপনার শরীরে প্রবেশ করছে।

এমন কি সমগ্র দুনিয়ার মানুষ বলছে, শুধু আমি না!! “চিনি একটি সাদা বিষ”, এ বিষয়ে অনলাইনে অনেক তথ্য আছে আপনারা একটু ঘাটা ঘাটি করলেই দেখতে পারবেন আসলে কথাটা কতটুকু সত্য।

এখানে আমি শুধু চিনিকে দায়ী করছিনা, আমি সাধারণ তিনটি জিনিসের কথা বলে থাকি।  আপনার ঘর থেকে যদি কোন কিছুকে ঘৃণা করতে হয় তাহলে এই তিনটা জিনিসকে করুন।

১. সয়াবিন তৈল

২. সাদা লবন

৩. চিনি

এই তিনটি জিনিস কে যদি আপনি ঘর থেকে, আপনার শরীর থেকে দূর করতে না পারেন, তাহলে ডায়াবেটিস এর রোগ এর মতো রোগকে সঙ্গী করতে আপনি প্রস্তুত থাকেন।

আরো ছোট একটা উদাহরণ দিয়ে আপনাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি ডায়াবেটিস টা কী কারনে হয়।

আমাদের ডাইজেস্টিক সিস্টেমের মধ্যে একটা অর্গানের নাম হলো প্যানক্রিয়েস, প্যানক্রিয়েস এর আইলাট্স অব ল্যাঙ্গারেন্স এর বিটাসেল থেকে তৈরি হয় ইনস্যুলিন। আর যদি কোন কারনে ইনস্যুলিন প্রোডাকশন বা তৈরি কমে যায় তখন দেখা যায় রক্তের মধ্যে স্যুগার লেভেল বেড়ে যায় । এটাকে বলে ডায়াবেটিক কন্ডিশন (এটা একটা কারণ হতে পারে)। 

অন্যক্ষেত্রে, অনেকের ইনস্যুলিন তৈরি হচ্ছে ঠিকই কিন্তু এটা মাস্যুল সেল এর মধ্যে যেয়ে সঠিকভাবে কাজ করছে না। যখন মাস্যুল সেল এর মধ্যে যেয়ে সঠিকভাবে কাজ করবে না, তখন যে কন্ডিশন তৈরি হবে সেটাকেও ডায়াবেটিক কন্ডিশন বলা হয়ে থাকে।  তাহলে আমরা জানলাম দুইটা কারনে ডায়াবেটিস টা তৈরি হইতেছে।

সমাধান পর্ব- ০২ (পরবর্তীতে)

 

তথ্য সূত্র:

আলোচনা করে,

ডা: সৈয়দ গোলাম গাউস আশরাফী,

বি. এইচ. এম. এস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

 

 

 

 

Page Sidebar