মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রা

Now Reading
মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রা

রাণী সপ্তম ক্লিওপেট্রা ছিলেন মিশরের সর্বশেষ রাণী এবং ফারাওদের শেষ সদস্য। তিনি ছিলেন রূপেগুনে অনন্যা । তাঁর রূপের আলোচনা শুধু যে মিশরেই সীমাবদ্ধ ছিলো তা কিন্তু না।  তাঁর সৌন্দর্যের আলোচনা ছিলপুরো আফ্রিকা আর ইউরোপ জুড়ে। ক্লিওপেট্রা’র পুরো নাম “সপ্তম ক্লিওপেট্রা ফিলোপাটর”। মিশরীয় হলেও  তিনি ছিলেন গ্রীক বংশভূত প্রাচীন মিশরের টলেমি বংশের সদস্য। গ্রেট আলেক্সান্ড্রিয়া’র মৃত্যুর পরে তারেক সেনাপতি রাজ্যের দায়ীত্বভারগ্রহণ করেন এবং টলেমি বংশ স্থাপন করেন। তিনি খ্রীষ্টপূর্বাব্দ ৬৯-৭০ সালে মিশরের আলেক্সান্ড্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।তার মাতার নাম “পঞ্চম ক্লিওপেট্রা” এবং তার পিতা ছিলেন “দ্বাদশ টলেমি অলেটেস”। খ্রীষ্টপূর্বাব্দ ৫১ সালে তার পিতা দ্বাদশ টলেমি অলেটেস’র স্বাভাবিক মৃত্যুর পরে মাত্র ১৮ বছর বয়সী সুন্দরী ও সুশিক্ষিত ক্লিওপেট্রা  এবং তার ১১বছর বয়সী ভাই  “১৩তম টলেমি” রাজ্য পরিচালোনার দায়ীত্ব পান। তার রাজ্য চলাকালীন সময়ে মিসরেপ্রাচীন মিশরীয় ভাষার পাশাপাশি  গ্রীক ভাষারও প্রচলন লক্ষ করা যায়। তিনি নিজেও বেশ কয়েকটি ভাষায় কতাহ বলতে পারতেন। পরে তিনি রোমের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করে তার রাজ্যের প্রভআব বিস্তার করেন। এবং তখনকার রোম সেনাপতি “জুলিয়াস সীজার” এর সাথে মিলে  তার ভাইকে হটিয়ে তার একার রাজত্ব কায়েম করেন। এর মাধ্যমে রোম এবং মিসর মিলে এক বিশাল শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই দুই সম্রাজ্যের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে জুলিয়াস সীজার বেশ কয়েকবারই মিসরে যাতায়াত করেন এবং জুলিয়াস সীজার এবং ক্লিওপেট্রা’র মধ্যে একটা প্রেমের সম্পর্ক তৈরী হয়। কিছুকাল অতিবাহিত হওয়ার পরে তা আরো ঘনিষ্ট হতে থাকে । কিন্তু তাদের এই সম্পর্কের কথা যখন পুরো রোম এবং মিশরে ছড়িয়ে পরে তখন রোমান সিনেট সদস্যদের কাছে এটা মোটেও ভালো মনে হচ্ছিল না। সিনেট সদস্যরা তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর জন্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সফল হন নি। একসময় জুলিয়াস সীজার আনুষ্ঠানিক ভাবে মিশরের রাণী ক্লিওপেট্রা কে বিয়ে করার ঘোষণা দেন।আর এতে পুরো ইউরোপ এবং আফ্রিকা জুড়ে আলোড়ন ছড়িয়ে পরে। জুলিয়াস সীজার তার কথামত মিসরের আলেক্সান্ড্রিয়ায় রাণী ক্লিওপেট্রা’র রাজমহলে রাণী ক্লিওপেট্রাকে বিয়ে করেন।এতে রোমান সিনেট সদস্যরা ব্যাপক সমালোচনায় লিপ্ত হন। রাণী ল্কিওপেটড়া যখন অন্তঃসত্ত্বা তখন সম্রাটজুলিয়াস সীজার আবার রোমে ফিরে আসেন। এবং তার শাসন কার্যক্রম যথাযথ পরিচালনা করতে থাকেন। কিছুদিন পরেই  জুলিয়াস সীজার আর রাণী ক্লিওপেট্রা’র ঘরে একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেন। জুলিয়াস সীজারের নাম অনুসারেতার সন্তানের নাম রাখা হয় ”সীজারিওন”। পুত্রসন্তানের সংবাদে খুশিতে আত্মহারা হরেন পরেন  জুলিয়াস সীজার। এভাবেই কেটে যায় বেশ কয়েকটি বছর। সীজারিওন এখন ৮ বছরের বালক।ভবিষ্যৎ মিশরের সম্রাট।  জুলিয়াস সীজার তার স্ত্রী রাণী ক্লিওপেট্রা এবং তাদের একমাত্র পুত্র সীজারিওনকে  রোমে আসার আমন্ত্রণ জানান। রাণী ক্লিওপেট্রাও তার নিমন্ত্রনকে স্বাদরে গ্রহণ করেন। এবং তার প্রমোদতরী নিয়ে রোমের দিকে যাত্রা শুরু করেন।  সে এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে রাণী ক্লিওপেট্রা এবং রাজপুত্র সীজারিওনকে বরণ করা হয়। বলা হয় এমন জমকালো আয়োজন আগে কখনো রোমানরা দেখেনি। আর এটাই সিনেট সদস্য আর আবাকি রাণীদের চোখের কাল হয়ে যায়। জুলিয়াস সীজার এখন শুধুই তার প্রিয়তমা স্ত্রী আর পুত্রকে নিয়ে ব্যস্ত। আর তার পিঠপিছে চলছে  জুলিয়াস সীজার কে হত্যার পরিকল্পনা। জুলিয়াস সীজারকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী তারই ভাতিজা এবং সিনেট সদস্যরা। জুলিয়াস সীজারের খুব কাছের লোক ছিলেন সেনাপতি মার্ক এন্টোনি। যিনি সবসময়ই  জুলিয়াস সীজারের সাথেই থাকতেন এবং সম্রাটের অনুপস্থিতিতে রাজ্য পরিচালনা করতেন। কিছুদিন পরেই খবর আসে সিনেট সদস্যরা সম্রাট জুলিয়াস সীজারকে বিশেষভাবে সম্মানী দিতে চান এবং তাকে সিনেটে আসার আমন্ত্রণ জানান।জুলিয়াস সীজার এতে বেশ খুশী হন এবং তার প্রিয়তমা স্ত্রী রাণী ক্লিওপেট্রা কে বলতে থাকেন যে, কাল সিনেট সদস্যরা আমাকে বিশেষ সমান প্রদান করবেন। এদিকে সিনেট সদস্যরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী যখন জুলিয়াস সীজার সিনেটে উপস্থিত হন তখনই  কোন একজন মার্ক এন্টোনিকে সরিয়ে নেন। আর সিনেট হলের ভেতরেই সিনেট সদস্যরা মিলে নির্মম ভাবে  হত্যা করে জুলিয়াস সীজারকে। এবং তারা তাদের আনন্দ উৎসব পালন করেন। ঐ রাতেই মার্ক এন্টোনির বিশেষ সহযোগীতায় রাণী ক্লিওপেট্রা আর তার সন্তান সীজারিওন রোম ত্যাগ করে তাদের জন্মভূমি মিশরে চলে যান।   এবং জুলিয়াস সীজারের ভালোবাসার অবসান হয়। বিদায়কালে মার্ক এন্টোনি রাণী ক্লিওপেট্রার প্রেমে পরে যান।

জুলিয়াস সীজারের ভাতিজার মৃত্যুর পরে মার্ক এন্টোনি সেনাপতির দায়িত্ব পান। দায়ীত্ব পাওয়ার সাথে সাথেই মার্ক এন্টোনি আবার রাণী ক্লিওপেট্রা কে রোমে আসার আমন্ত্রণ জানান এবং রাণী ক্লিওপেট্রা তার নিমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেন। রোমান দূতকে আরো বলেন যে তিনি আর কখনোই রোমের মাটিতে পা রাখবেন না। তিনিও মনে মনে মার্ক এন্টোনিকে পছন্দ করতেন। পরে রাণী ক্লিওপেট্রা তার কথামত প্রমোদতরী নিয়ে রোমে যান ঠিকই কিন্তু তিনি তার প্রমোদতরী থেকে নামেন নি। ভূমধ্যসাগরে তার নৌকাতেই তিনি অবস্থান করেছেন এবং মার্ক এন্টোনিকে ডেকে পাঠিয়েছেন।এবং ভালোবাসার টানে মার্ক এন্টোনি সব ভুলে গিয়ে রাণী ক্লিওপেট্রার প্রমোদতরীতে যান রানীর সাথে দেখা করতে।নাচগান, ফুল-ফল আর নানান রকমের খাবারের মাধ্যমে রাণী ক্লিওপেট্রা তার নৌকায় মার্ক এন্টোনি কে স্বাগত জানান। “অবশেষে আপনি রোমে আসলেন” এমন কথার জবাবে রাণী ক্লিওপেট্রা মার্ক এন্টোনিকে আবার মনে করিয়ে দেন যে তিনি বলেছিলেন তিনি আর রোমের মাটীতে পা রাখবেন না। এবং নানা রকমের আলাপচারীতার মাধ্যমে তাদের মাঝে সম্পর্ক আরো গভীর হয়। মার্ক এন্টোনিও জুলিয়াস সীজারের মতন  মিশরে বেশকিছুদিন অবস্থান করেন। এবং তার মিশরে যাতায়াত বেড়ে যায়।এতে আবার সে সিনেট সদস্যরা ভ্রুকুন্ঠিত করে। এবং সিনেত দুটি দলে বভক্ত হয়। একদল মার্ক এন্টোনির পক্ষে আরেকদল বিপক্ষে। কিন্তু এসব  নিয়ে মোটেও মাথা ঘামান নি মার্ক এন্টোনি। তিনি এখন শুধু তার প্রিয়তমা রাণী ক্লিওপেট্রা কে নিয়েই ব্যস্ত।এদিকে মার্ক এন্টোনি যখন রোমে অবস্থান করেন তখন তাকে সরাসরি কেউ কিছু না বললেও তার পিঠপিছে কমবেশি সবাই আলোচনা করত। একসময় মার্ক এন্টোনি বেশকিছু সময়ই মিশরে অবস্থান করেছিলেন। এসময় সিনেটে তার বিপক্ষের একজন একটি হুইল প্রকাশ করেন যাতে লেখা ছিলো ” আমার মৃত্যুর পরে আমাকে মিশরের আলেক্সান্ড্রিয়ায় কবর দিও –মার্ক এন্টোনি” এমন খবর প্রকাশ পাওয়ায় আম্ররক এন্টোনির পক্ষের সিনেট সদস্যরাও তার বিপক্ষে অবস্থান করেন এবং মিশরের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিন্ন করে যুদ্ধ ঘোষণা করে। দু পক্ষেরই এই যুদ্ধে সম্মতী ছিলো এবং পানিপথে রোম আর মিশরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উক্ত যুদ্ধে মিশেরর হয়ে নিজ রাজ্যে রোমের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন মার্ক এন্টোনি। এবং এই যুদ্ধে তাদের বেশিরভাগ রণতরী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মার্ক এন্টোনিও আহত হন। এতে করে ভীষণ ভাবে ভেঙ্গে পরেন মার্ক এন্টোনি এবং রাণী ক্লিওপেট্রা। তার কিছুদিন পরেই আবার রোমানরা স্থলপথে মিশর আক্রমণ করে। তখন পুরো ইউরোপে রোমানদের দাপট থাকায় তুলনামূলকভাবে মিশর কম শক্তিশালী ছিলো। সেই স্থলপথের আক্রমণেই মিশর রোমানদের কাছে তাদের পরাজয় স্বীকার করে। কিন্তু রাণী ক্লিওপেট্রা আর মার্ক এন্টোনি এখনো পরাজয় মেনে নেন নি। যদিও তারা পরাজয় নিশ্চিত জানত। তারা তাদের রাজমহলের সব সদস্যদের মুক্ত করে দেন এবং রাণী ক্লিওপেট্রার পুত্র সীজারিওনকে এক বিশ্বস্ত দাসীর সাথে দূরে কোথাও পাঠিয়ে দেন। কিন্তু শেষ রেহাই হয়নাই তার পুত্রের। রোমানদের কাছে প্রাণ হারায় মাত্র ১১ বছর বয়াসী সীজারিওন। যদিও তার মা রাণী ক্লিওপেট্রা আদৌ জানতে পারেন নি যে তার পুত্র আর জীবিত নেই।(বিশেজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী) হারের ক্ষোভে রাণী ক্লিওপেট্রার মহলেই আত্নহত্যা করেন মার্ক এন্টোনি।এবং তার ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে আর পরাজয়ের দুঃখে রাণী ক্লিওপেট্রা এবং তার দুই ঘনিষ্ঠ দাসী/সহযোগী মিশরীয় গোখরা সাপের দংশনে ১২ই আগস্ট ৩০ খৃষ্টপূর্বাব্দ একই মহলে পৃথক স্থানে আত্মহত্যা করেন কিংবদন্তী রূপসী নারী মহারাণী “ক্লিওপেট্রা”।আর এরই মাধ্যমে শেষ হয় ফারাওদের বংশ। কিন্তু তাদের সমাধি আজ পর্যন্ত কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রোহিঙ্গা আসলে কারা?

Now Reading
রোহিঙ্গা আসলে কারা?

রোহিঙ্গা একটি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী যারা নিজ দেশেও পরবাসী। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়। আরাকানী মুসলিমরা সেখানে হাজার বছর ধরে বসবাস করলেও বাংলাভাষী ও মুসলিম হওয়ার কারনে তারা মিয়ানমারের সরকার ও নাগরিকদের কাছে বিদেশী,বাঙ্গালি বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে পরিচিত। জাতি সংঘ রোহিঙ্গাদের “বিশ্বের সবচেয়ে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কারও কারও মতে রোসাঙ্গ থেকে রোহিঙ্গা শব্দটির উদ্ভব।
নবম-দশম শতকে আরাকান রাজ্য রোহান কিংবা রোহাঙ নামে পরিচিত ছিল।
রোহিঙ্গা শব্দটি রোসাঙ্গ শব্দটি থেকে এসেছে। সেই অঞ্চলের অধিবাসী হিসেবেই রোহিঙ্গা শব্দের উদ্ভব।
কারও কারও মতে, রোহিঙ্গা শব্দটি রেঙ্গুন শব্দের পরিবর্তিত রুপ।সেই মতে রেঙ্গুনে বসবাসকারী বার্মিজ সম্প্রদায় রোহিঙ্গা নামে পরিচিত।
কারও কারও মতে আফগানিস্তানের রোহিঙ্গা জেলা থেকে আগত হওয়ার কারনে এই নামকরন।তাদের মতে, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বীন বখতিয়ার খলজীসহ বাংলার মুসলমান বিজেতা ও শাসকগোষ্ঠী ইসলাম প্রচার ও প্রসারের জন্য আফগানিস্তানের রোহিঙ্গা জেলা থেকে কিছু লোককে ধর্ম প্রচারের জন্য আরাকানে পাঠিয়েছিলেন। সেই মতে তাদের নামানুসারে নাম হয় রোহিঙ্গা।
১৩ তম শতকে বাংলার সম্রাট নাসিরুদ্দিন শাহ রোহিঙ্গাদের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেন এবং আরাকানে একটি মুসলিম রাজ্য গঠনের উদ্যোগ গ্রহন করেন।
উনিশ শতক পর্যন্ত মিয়ানমার ভারতবর্ষীয় সাম্রাজ্যের অন্তভুক্ত ছিল।তখন ভারত উপমহাদেশের প্রধান ধর্ম ছিল হিন্দু। সময়ের পরিবর্তনে এখানে মুসলিম শাসন আসে।যার প্রভাব পুরো ভারতব্যাপী পড়ে।মুসলিমদের শাসনামলে অন্য রেলিজিয়নের লোক দলে দলে মুসলিম ধর্ম গ্রহন করে।আবার গৌতম বুদ্ধের বৌদ্ধ ধর্মের প্রচারের ফলে এই ধর্মের অনুসারী সংখ্যাও উপমহাদেশে বাড়তে থাকে। অন্যদিকে ব্রিটিশ ছত্রছায়ায় মিশনারীদের প্রভাবে এই এলাকায় খ্রিস্টান ধর্মাবলাম্বিদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। কাল পরিক্রমায় ভারতবর্ষীয় হিন্দুরা ক্ষমতায় এলে বৌদ্ধ নিধন শুরু করে।নিরুপায় বৌদ্ধরা আরাকান রাজ্যে আশ্র‍য় গ্রহণ করে। বৌদ্ধরা আরাকানে মগ বা রাখাইন নামে আর মুসলিমরা রোহিঙ্গা নামে পরিচি।
মধ্যযুগে বাংলায় মোগল-পাথানদের সংঘর্ষ এর ফলে বাংলার অভিজাত মুসলমান সম্প্রদায় আরাকানে আশ্রয় নেয়য়। ১৬ শতকে আরাকানে রাজসভায় বাংলা সাহিত্য ও সাহিত্যিকদের বেশ প্রভাব ছিল। মহাকবি আলাওল, দৌলত কাজী তাদের অন্যতম।বলাবাহুল্য যে অভিজাত মুসলিম সম্প্রদায় এবং তাদের চাকর-চাকরানীরাও সেখানেই বসবাস করেছেন।জেনে রাখা দরকার চট্রগ্রাম ও কক্সবাজারের লাগোয়া সীমান্তবর্তী অপর পাশের এলাকাই হচ্ছে আরাকান। এখানে যাওয়ার জন্য একটি ডিঙ্গি নৌকার ৩০ মিনিটই যথেষ্ট।
প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত বণিকেরা ব্যবসা-বানিজ্য করেছেন।ব্যবসায় মুনাফা ভাল হওয়ায় অনেকেই বিয়ে-সাদী করে স্থায়ী হয়েছেন।
এবার আসুন মুল ঘটনায় । মুঘল সম্রাট শাহজাহানের ছিল চার সন্তান। তাদের নাম ছিল ১.দারা ২.সুজা ৩.আওরঙ্গজেব ৪.মুরাদ।
সম্রাট শাহজাহানের এই চার সন্তানের মাঝে সিংহাসন নিয়ে দ্বন্ধে যুবরাজ আওরঙ্গজেব এবং যুবরাজ সুজার মাঝে যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে এই দুই ভাইয়ের অন্যান্য ভাই- বোনেরা দুই জনের পক্ষেই অবস্থান নেন।তো যুদ্ধে আওরঙ্গজেব জয়ী হলে প্রথাগতভাবেই সুজা নির্বাসিত জীবন বেছে নিয়ে আরাকানের উদ্দেশ্য রওয়ানা হন তার অনুসারীদের নিয়ে। সাথে ছিল একমাত্র কন্যা আমিনা।কথিত সোনা-রুপা বোঝাই ১৮ টি নৌকা ও অন্যান্য রশদ নিয়ে চট্রগ্রাম থেকে তিনি আরাকানে নির্বাসনে যান।পথিমধ্যে সামুদ্রিক ডাকতাদের কবলে পরার পর ৭ নৌকা বোজাই সোনা-রুপা তিনি নিতে পেরেছিলেন। সেখানে গেলে আরাকানের স্থানীয় রাজা তাদেরকে পাহাড়ের তীর ঘেষা এক সুরম্য অট্রালিকা দেন বসবাস করার। কথিত যে, শাহ সুজার কন্যা ছিল অনিন্দ সুন্দরের অধিকারী। স্থানীয় রাজা প্রিন্সেস আমিনাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলে শাহ সুজা সেই প্রস্তাব ঘৃনাভরে ফিরিয়ে দেন।এতে স্থানীয় রাজা অপমানিত হন। ঘুমন্ত অবস্থায় ভোর রাতে শাহসুজার অট্রালিকায় আগুন দেয়া হয় চারদিক থেকে দরজা বন্ধ করে।জীবন্ত পুড়ে মারা যান পুরো পরিবার। কয়েকদিন পর এই খবর দিল্লীত সম্রাট ছোট ভাই আওরঙ্গজেব এর কাছে গেলে দিল্লীবাসী খবই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।তাদের যুক্তি ভাই ভাই যুদ্ধ হয়েছে।একজন নির্বাসন গেছে।মেরে তো ফেলেন নি।কী এতবড় সাহস যে মুঘল যুবরাজ হত্যা করা হয়।দিল্লী থেকে দলে দলে লোক চট্রগ্রাম দিয়ে আরাকানে প্রবেশ করেন। মুসলিমরা আরাকানে গিয়ে তুমুল নৈরাজ্য সৃষ্টি করেন।সুজা হত্যার প্রতিশোধ নেন। বলা হয়, আজ ওমুককে ক্ষমতায় বসিয়েছেন তো কাল অমুককে ক্ষমতায় বসিয়েছেন কিন্তু কোন মুসলিম নিজেরা ক্ষমতা নেন নি।দীর্ঘ দিন এভাবেই চলেছিল।আরাকানরা স্থানীয় ভাবে মগ নামে পরিচিত। মুঘল অনুসারীদের আরাকান বা মগ সাম্রাজ্যে এই প্রতিশোধপরায়ন কর্মকাণ্ড থেকেই প্রবাদ আসে ” মগের মুল্লুক”।
.
রোহিঙ্গা সমস্যা উদ্ভবের কারণসমুহ:-
========================
বারমা রাজার আরাকান দখল:-
======================
এরপর ১৭৮৪ সালে মিয়ানমার আরাকান দখল করে নেন।রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ করেন।তাদের পরিচালিত মসজিদ-মাদ্রাসা গুড়িয়ে দিয়ে সেখানে প্যাগোডা নির্মিত হয়।
.
বারমার স্বায়ত্তশাসন :-
===================
১৮২৩ সালে ব্রিটেন মিয়ানমার দখল করে।১৯৩৭ সালে মিয়ানমারকে স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়। ১৯৩৮-৪২ পর্যন্ত বেশ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়।প্রতিটিতেই রোহিঙ্গারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।বাঁচার আসায় চলে আসেন বাংলাদেশে।
.
১৯৪২ সালের রোহিঙ্গা হত্যা:-
==================
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান ব্রিটিশদের কাছ থেকে মিয়ানমার দখল করে নিলে রাখাইনরা জাপানীদের পক্ষাবলম্বন করেরে রোহিঙ্গাদের উপর হামলা করে ১৯৪২ সালের March মাসে ৫ হাজার রোহিঙ্গা হত্যা করা হয়।
.
রোহিঙ্গাদের পালটা প্রতিশোধ :-
=====================
প্রতিশোধ হিসেবে রোহিঙ্গারা উত্তর রাখাইনে ২০ হাজার মগ হত্যা করে। কিন্তু জাপানীদের সহায়তায় মগরা রোহিঙ্গাদের কোনঠাসা করতে সম্মত হয়।
ইস্ট পাকিস্তান ও আরাকানরাজ্য সংযোগ প্রচেষ্টা ;
.
একটি আত্মঘাতী স্বিদ্ধান্ত:-
===================
১৯৪৭ সালে পাক-ভারত স্বাধীন হলে আরাকানের নেতারা জিন্নাহর সাথে যোগাযোগ করে আরাকানকে ইস্ট পাকিস্তানের সাথে সংযুক্ত করতে চায়।এইই উদ্যোগকে রাখাইনিরা বিশ্বাসঘাতকতার সাথে তুলনা করেন।
১৯৪৮ সালে মিয়ানমার স্বাধীন হয়। মিয়ানমার সরকারের সাথে একসময় রোহিঙ্গাদের সমঝোতা হয়।সমঝোতায় পার্লামেন্ট পদ,চাকুরি, ভাষার স্বীকৃতির নিশ্চয়তা দেন।কিন্তু পরে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
.
জাতি-উপজাতি বিচ্ছিন্নতার দাবী:-
=======================
স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৫৮ সালের দিকে বৌদ্ধরা ক্ষমতা সংহত করতে রোহিঙ্গা নির্মুল অভিযান পরিচালনা করেন।
১৯৬২ সালে মিয়ানমারে সামরিক শাসন জারি হয়।বলা বাহুল্য সুচির বাবাও একজন সামরিক জেনারেল। সামরিক শাসক ক্ষমতায় এসে মুসলিমদের উপর দমনপীড়ন শুরু করে।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন বেশ কিছু বাংলাদেশী আরাকানে আশ্রয় নেন।যুদ্ধপরবর্তীতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আশানুরূপ হবে না ভেবে সবাই বাংলাদেশে ফেরেন নি।এই সংখ্যা কত তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
১৯৭৮ সালে কুখ্যাত জেনারেল নে উইন #নাগমিন ড্রাগন নামে এককটি অভিযানের মাধ্যমে হাজার হাজার রোহিঙ্গা হত্যা করেন।প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয়য় নেয়।পরবর্তীকালে UNHCR ও অন্যান্য International organization এর চাপে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
.
১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনপাস:-
============================
এই আইনের মাধ্যমে মিয়ানমারে তিনধরনের নাগরিকত্বের বিধান করা হয়।১.পূর্ণাঙ্গ ২. সহযোগী ৩.অভিবাসী। ১৮২৩ সালের আগে মিয়ানমারে বসবাসকারী ১৩৫ টি গোত্রভুক্ত নাগরিকগনই ফুল নাগরিকত্ব পাবেন।আইনে রোহিঙ্গাদের সহযোগী নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়। (জেনে রাখা দরকার বিদেশী বিয়ে, বিদেশি নাগরিকত্বের কারনে সূচি প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি)।
.
নির্দিষ্ট গ্রামে বন্ধী:-
================
রোহিঙ্গারা আরাকানের অভ্যন্তরীণ অন্য অঞ্চলে যেতে চাইলে মিয়ানমার BGP (Border Guard Police)এর কাছ থেকে Travel pass নিতে হয় শুধু তাই নয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসতে না পারলে নিজ গ্রামে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়।
.
নাগরিক কাড থেকে বঞ্চিত:-
===================
১৯৮২ সালের আইনানুযায়ী ১৯৮৯ সালে মিয়ানমারে তিনধরনের নাগরিকত্ব কাড (Card) দেয়া হয় :- গোলাপী,নীল,সবুজ কিন্তু রোহিংগাদের কোন কাডই দেয়া হয় নাই।
.
বিয়েতে বাধা:-
===========
১৯৯০ সালের পর থেকে রোহিঙ্গা দেরকে বিয়ের জন্য সরকারের অনুমোতি নিতে হয়।
জন্মনিয়ন্ত্রণ :- ২০০৫ সালের পর থেকে BGP পক্ষ থেকে দম্পত্তিদের জানিয়ে দেয়া হয় দুইয়ের অধিক সন্তান নয়।
.
চিকিৎসা ও শিক্ষায় সীমিত অধিকার:-
=======================
রোহিঙ্গা মহিহিলাদের ধাত্রী বিদ্যা শেখানোর ক্ষেত্রেও International organization কে সরকারের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
১৯৯১ সালে Oepration Pezza নামে অভিযানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ করে সেখানে বোদ্ধদের পুনর্বাসন করা হয়।
২০১২ সালে এক বৌদ্ধ নারীকে ধর্ষণ এর অভিযোগে ৮ জন রোহিঙাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। হাজার হাজার রোহিঙ্গা উদ্ধাস্তু হন।
মিয়ানমার-থাই সীমান্তে ১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়।
.
সূচি সরকারের সাম্প্রতিক অভিযোগ :
===========================
সুচির অভিযোগ রোহিঙ্গারা বাঙ্গালী।তারা এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা নয়।এবং তারা পুলিশের উপর হামলা করেছে। ( ধারনা করা হচ্ছে রাতজনৈতিক অবস্থানের কারনে সুচি রোহিঙ্গা দের প্রতি নরম হতে পারবেন না,পাছে উর্দির ভয়।সেনা শাসকেরা যে কোন অযুহাতে সূচির সরকারকে বরখাস্ত করতে চাইবেন।)
রোহিঙ্গাদের সাম্প্রতিক অভিযোগ :- BBC থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে Arakan Rohingha International এর চেয়ারম্যান জনাব নুরুল ইসলাম দাবী করেছেন সাম্প্রতিক সংঘর্ষতে তাদের ২৬৯ জন্য নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে তারা ৬৯ জনকে হত্যা করেছে।
.
#রোহিঙ্গাদের কী কোন দোষ নাই?
==========================
রোহিঙ্গারাও মাঝে মাঝে ভুল জায়গায় আক্রমন করেন।আসলে সরকারের নির্যাতন এর মাত্রা যখন চরম মাত্রায় পৌছায় তখন রোহিঙ্গারা এই পদক্ষেপ নেন।তাছাড়া নাইপিদো প্রশাসনের পেছনের লোকেরা পরিকল্পিত ভাবে বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যা করে সেই দায় রোহিঙ্গাদের উপর চাপিয়ে দেন।
.
#মিয়ানমারের ভয়:
===============
রোহিঙ্গাদের ভেতর জন্মহার বেশি, যে হারে রোহিঙ্গা বাড়ছে তাতে মিয়ানমার প্রশাসন শংকায় ছিল। তারা রোহিঙ্গাদের এই সম্প্রসারণকে আন্তজাতিক সম্প্রদায়ের অবস্থান নেয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।২০০৯ সালের জাতিসংঘ হিসেব অনুয়ায়ী আরাকানে মুসলিম সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ২৩ হাজার। বাংলাদেশে অবস্থান করছেন প্রায় ১১ লাখ।মোট ২০ লাখ প্রায়। বিশ্বের ৩০-৩৫ স্বাধীন দেশের চেয়ে আরাকানের রোহিঙ্গা সংখ্যায় বেশি।
বর্তমানে পার্বত্য এলাকা ও চট্রগ্রামে ১১ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান বা বসবাস করছেন।
.
#রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে কেন আসে?
=========================
বাংলাদেশে আসার কারন হল রোহিঙ্গাদের নাম- চেহারা-রেলিজিয়ান সবই বাংলাদেশের সাথে মিলে। তাছাড়া বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ব্যাপারে মৌন সম্মতি দিয়েছেন ( কুটনৈতিক কারনে সরাসরি দিচ্ছেন না, )। মিয়ানমারের মুদ্রার চেয়ে বাংলাদেশের মুদ্রার মান বেশি। দেখা গেছে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি মাছের ট্রলারে কাজ করে ১ দিনে যা আয় করে সেই টাকা মিয়ানমারের প্রায় ২০০০ টাকার সমান।।সহজেই অনুমেয়।ফলে বাংলাদেশ তাদের সেকেন্ড হোম হয়ে দাড়িয়েছে।
.
#সরকার রোহিঙ্গাদের কেন সরাসরি সমর্থন দিচ্ছেন না?
.
সরকার যদি রোহিঙ্গাদের স্বাধীনতা বা চলমান আন্দোলনে সমর্থন দেন তাহলে মিয়ানমার পার্বত্যচট্টগ্রাম আন্দোলনে সমর্থন দিতে পারেন।এমনকি পার্বত্যচট্টগ্রাম অঞ্চলের যেসব বিচ্ছিন্নতাবাদী আছেন তাদের কে নাইপিদো সশস্ত্র সমর্থন করতে পারেন।
.
#সরকারের কৌশলগত বক্তব্য:
=========================
সরকার আজ (২৩ নভেম্বর ২০১৬) মিয়ানমারের রাষ্ট্রদুতের কাছে জবাব দিহি চেয়েছেন। আমাদের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ অনুয়ায়ী সরকার মানবাধিকারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা প্রশ্নে বর্তমান নীতির কড়া সমালোচনা করেন।
.
বাংলাদেশ -মিয়ানমার সম্পর্ক :-
=========================
মিয়ানমার হচ্ছে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী ৭মম দেশ।১৯৭২ সালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ মিয়ানমার সফর করে দুই দেশের মধ্যে একটি আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। নিন্মে বাংলাদেশ মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গুলোর লিডিং পয়েন্ট তুলে ধরা হলো:-
১. ২০০২ সালে দুই দেশের মধ্যে Account Trade, Coastal shhipping, Jonit Trade Commission গঠনের ব্যাপারে চুক্তি সাক্ষরিত হয়।
২. মিয়ানমার বাংলাদেশকে ASEAN (Association of South East Asian Nation) এর সদস্য পদ দিতে একজন সমর্থক।
৩. BIMSTEC ও BCIM এ আঞ্চলিক সহযোগিতায় একই সাথে কাজ করছে।
৪. Asian Highway and Trans Asian Railway দ্বারা দেশদুটি কানেক্টেড হওয়ার চেষ্টা করছে।৫.২০০৩ সালে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির চুক্তি করে।
এছাড়াও রয়েছে জ্বালানী, বানিজ্য,বিনিয়োগ,স্থল-সীমান্ত, নৌট্রানজিট, ব্যাংকিং বানিজ্য। বিনিয়োগ বাড়াতে গঠন করা হয়েছে দুটি working committee. যদি উপরোল্লিখিত চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে দুই দেশের বানিজ্যের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ বিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মিয়ানমারে সবচেয়ে বেশি মেডিসিন রপ্তানি করে।
(এবার ভাবুন ঢাকা কেন রোহিঙ্গা প্রশ্নে নাইপিদোর সাথে ঝামেলায় যেতে চাচ্ছেন না। উপরোল্লিখিত অগ্রগতিগুলো ১৬ কোটি মানুষের জন্য।)
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলে বাংলাদেশের কী সমস্যা:-
১.কক্সবাজার অপরাধপরাধ প্রবণ এলাকা হবে।
২. রোহিঙ্গা -উপজাতি সংঘর্ষ
৩.মাদক-চোরাচালান বেড়ে যাবে।
৪. অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা চলে আসবেন।
৫. মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার দখল হবে।
৬.আইনশৃঙ্গলা খারাপ হবে।
৭.শ্রম বাজারে অপরাধের দায় বাংলাদেশকে নিতে হবে।
৮.মিয়ানমার -বাংলাদেশ সম্পর্ক খারাপ হবে।
৯.রাজস্ব হ্রাস পাবে।
১০. পরিবেশগত ক্ষতি।
মিয়ানমার প্রশ্নে চীন নিরব কেন?
ইঙ্গ- মার্কিন বলয় কী খুজছে?
.
জাতিসংঘ কী বলে?
=================
জাতিসংঘ যেহেতু সব সময় ইঙ্গ- মার্কিনী স্বার্থ দেখে, রাখাইনেও তাই হয়েছে।ফলে জাতিসংঘ মিয়ানমারের সাম্প্রতিক নির্যাতন কে ন্যাক্কারজনক বলে বিবৃতির মাঝেই সীমাবদ্ধ। আমরা দেখেছি জাতি সংঘ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নিপীড়িত জনগণের পাশে থেকে শান্তিরক্ষী মিশন পাঠিয়েছে। ফিলিস্তিন,ইস্টতিমুর,কঙ্গো, কসোভো সহ বিশ্বের ৬৫ টিরও অধিক দেশে শান্তিরক্ষী মিশন পাঠিয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গা অধ্যুষিত আরাকানে নয় কেন? অন্যদিকে মিয়ানমারের সেনা সমর্থিত সরকার ছিল চীন-রাশিয়া পন্থী আর বর্তমান সরকার নোবেল পন্থী মানে পশ্চিমাপন্থী=সরাসরি বললে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রপন্থী। ইঙ্গ-মারকিন জোট চাচ্ছেন না সুচী ক্ষমতা হারানোর ভয়ে সেনাশাসকদের সাথে মিশে চীনের দিকে ঝুকে পড়ুক।সুতরাং মিয়ানমারকে জোটের হাতে রাখতে রোহিঙ্গা ইস্যু গায়ে লাগানোর কোন পরিকল্পনা নেই।। পরিস্কার ভাবে বললে পশ্চিমা মিত্ররা (বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র) চায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ চিন সাগরীয় দেশগুলোকে কাছে টেনে চিনের প্রভাবকে খাটো করা। সেই যন্ত্রে মিয়ানমার এতদিন আমেরিকার নাগালের বাহিরে ছিল, সরকার পরিবর্তন বিশেষত সূচি আসায় যুক্ররাষ্ট্রের জন্য সুবিধে।।
আরো জানা দরকার ২০১৪ সালে ASEAN পরস্পরের মধ্যে ২৫২ বিলিয়ন মার্কিনী ডলার লেনদেন হয়েছে (এক বিলিয়ন=বাংলাদেশি ৮ হাজার কোটি টাকা মাত্র) তাছাড়া মিয়ানমারের ভৌগোলিক গুরুত্ব এবং খনিজসম্পদও অন্যতম কারন এই দেশটিকে কাছে টানার জন্য।ফলে মিত্র শক্তিগুলো রোহিঙ্গা প্রশ্নে তততা সক্রিয় নয় যতটা মিয়ানমারকে কাছে টানার ক্ষেত্রে সক্রিয়।।
.
এই সমস্যার সমাধান কী?
==================
এই সমস্যা মিয়ানমারের অভ্যন্তরিন সমস্যা হলেও ইন্টারন্যাশনাল মানবাধিকার সংস্থা চুপ থাকতে পারে না।এজন্য
১. জাতিসংঘ মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে।
২. কুটনৈতিক ততপরতা জোরদার করতে পারে
৩.বহুপাক্ষিক আলোচনা করতে পারে
৪. অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে পারে।
মন্তব্য: অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে রোহিঙ্গারা হচ্ছে অভিভাবকহীন জাতি,আর বুঝতেই পারছেন কমলাপুরের অভিভাবক টোকাই জীবনের কি নিদারুণ বাস্তবতা।
. সংগৃহীত: https://en.wikipedia.org (edited in bangla)

আবেগের আরেক নাম রিয়াল মাদ্রিদ

Now Reading
আবেগের আরেক নাম রিয়াল মাদ্রিদ

রিয়াল মাদ্রিদ!
নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সাদা জার্সি পরিহিত দূর্বার কয়েকজন ফুটবল খেলোয়াড়ের ছবি।যারা কিনা প্রতিপক্ষকে তছনছ করে দিচ্ছে নিজেদের ফুটবল জাদুতে!শেষ মিনিট অব্ধি যারা ঠোঁট কামড়ে লড়ে যাচ্ছে নিজেদের দূর্গ রক্ষার জন্যে।আয়তাকার ফুটবল মাঠটাতে যারা একচ্ছত্র অধিপত্য বিস্তার করে পুরো বিশ্বকে মোহিত করে রেখেছে সাদা জাদুতে।ছোট্ট একটা দেশ বাংলাদেশে বসে সেই সুদূর স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের ক্লাবটির সুখে আমরা হাসি,কষ্টে কাঁদি!আনন্দ বেদনার এক অদ্ভূত শিহরণ বইয়ে যায় আমাদের ভেতর দিয়ে।
এর কোনো কিছুই কিন্তু একদিনে আসেনি।সব গল্পের যেমন একটা শুরুর গল্প থাকে তেমনি রিয়াল মাদ্রিদ সিএফ এরও একটা শুরুর গল্প রয়েছে।হাসি-কান্না,আবেগ-অনুভূতির মিশেলে গড়া ক্লাবটির শুরুর গল্পটা কেমন ছিলো?
সময়টা উনিশ শতকের শেষের দিকে।ইস্টিটিউশন লিবরে দে এনসেনাঞ্জা’র(The Free Educational Institution)ছাত্ররা তখন প্রথম পরিচিত হয়েছিলো চর্মগোলকের খেলাটির সাথে।তারা চিন্তা করলো একটা ফুটবল ক্লাব খুললে কেমন হয়? যেই ভাবা সেই কাজ।১৮৯৭ সালে তারা খুলে ফেললো তাদের ফুটবল ক্লাব।নাম দিলো ‘Football Club Sky’.
তারা প্রতি রবিবার সকালে মঙ্কলাতে খেলতে যেতো।১৯০০ সালে এসে ফুটবল ক্লাব স্কাই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।একটার নাম ছিলো ‘New Foot-Ball De Madrid’ এবং অপরটি ‘Madrid Football Club’.
জুলিয়ান পালাসিওসকে করা হয় মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাবের প্রথম প্রেসিডেন্ট।
৬ই মার্চ,১৯০২।মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাবকে অফিসিয়ালি প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।নতুন বোর্ড গঠন করে রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম অফিসিয়াল প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বার্সেলোনায় জন্মগ্রহণ করা কাতালান ব্যবসায়ী জুয়ান পাদ্রোস।পরবর্তীতে ১৯০৪ সালে জুয়ান পাদ্রোসের ভাই কার্লোস পাদ্রোস মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।১৯০৫ সালে তার অধীনেই মাদ্রিদের ট্রফি কেসে প্রথম ট্রফি যুক্ত হয়।প্রথম ট্রফিটা ছিলো কোপা দেল এয়নটামিয়েন্টো দে মাদ্রিদ যা বর্তমানে কোপা দেল রে নামে পরিচিত।১৯০৯ সালে মাদ্রিদের প্রতিষ্ঠাকালীন চারজন ফাউন্ডারের একজন অ্যাডোল্ফো মেলেন্ডেজ প্রেসিডেন্ট হয়ে আসলে মাদ্রিদ তার প্রথম অফিসিয়াল হোমগ্রাউন্ড পায়।১৯১০ সালে মাদ্রিদ শহরের ক্যালে ও’দোননেলের পাশে প্রতিষ্ঠিত “ক্যাম্পো দে ও’দোনলেল” ছিলো মাদ্রিদের প্রথম হোমগ্রাউন্ড। ১৯২৩ সাল পর্যন্ত এ মাঠটিই মাদ্রিদ তাদের হোমগ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করে।১৯১২ সালে এর সংস্কার করা হলে এ মাঠে গ্যালারিতে বসতে পারতো মাত্র ২০৬ জন।বাকিরা সাইডলাইনের পাশে,গোলবারের পেছনে দাঁড়িয়ে খেলা দেখতো।এ স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজে সান্টিয়াগো বার্নাব্যু নিজে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করেছিলেন।১৯২০ সালে স্পেনের রাজা ত্রয়োদশ আল্ফোন্সো মাদ্রিদকে রয়াল তথা রাজকীয় টাইটেল ব্যবহারের অনুমতি দিলে মাদ্রিদের নামের সাথে যুক্ত হয় “রিয়াল।”যারই পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রিদ হয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।১৯২৩ সালে ২২,৫০০ লোক ধারণক্ষমতার “এস্তাদিও চামার্টিন” হয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদের হোমগ্রাউন্ড।১৯২৯ সালে স্পেনে “স্প্যানিশ ফুটবল লীগ” তথা লা-লীগা শুরু হলে প্রথম সিজনে রিয়াল মাদ্রিদ বার্সেলোনার চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্টের ব্যাবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় হয়ে শেষ করে।১৯৩২ সালেই রিয়াল মাদ্রিদ জিতে নেয় তাদের ইতিহাসের প্রথম লা-লীগা টাইটেল।
এর পর স্পেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে মাদ্রিদের স্টেডিয়ামের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়।পুরনো খেলোয়াড় ও সদস্যরাও দলচ্যুত হয়ে যায়।মাদ্রিদের জেতা সব ট্রফি চুরি হয়ে যায়।মোটামুটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় রিয়াল মাদ্রিদ।এই অবস্থায় মাদ্রিদের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান মাদ্রিদেরই সাবেক খেলোয়াড় সান্টিয়াগো বার্নাব্যু ইয়েস্তে।১৯৪৩ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর প্রথম কাজই ছিলো স্টেডিয়াম সংস্কার।১৯৪৩ সালে সে প্রকল্প হাতে নিয়ে ১৯৪৭ সালের মাঝে শেষ করেন মাদ্রিদের নতুন স্টেডিয়াম ‘নুয়েভো এস্তাদিও চামার্টিন’ এর কাজ।তৎকালীন সময়ে এর ধারণক্ষমতা ছিলো ৭৫,১৫৪।পুরাতন প্লেয়ারদের ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দলে সাইন করান তৎকালীন সময়ের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় আলফ্রেডো ডি স্টেফানোকে।এছাড়া ফেরেঙ্ক পুসকাস,মিগুয়েল ম্যুনোজ,ভিসন্তে দেল বস্ক,মলায়োনি,সান্তা মারিয়া,অ্যামানসিও,পিরি,নেটজার,সান্তিলানা,জেন্
তো,জুয়ানিতোদের নিয়ে তৈরি করেন প্রথম লস গ্যালাক্টিকোজ।অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদেরই সাবেক অ্যামেচার খেলোয়াড় মিগুয়েল মালবো ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন রিয়াল মাদ্রিদের ইউথ অ্যাকাডেমি ‘লা ফেব্রিকা’।
বিধ্বস্ত রিয়াল মাদ্রিদের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়ানোর গল্প শুরু হলো এখান থেকেই।শুরু হলো পুরো বিশ্ব শাসন করার গল্প।রিয়াল মাদ্রিদের সত্যিকারের ‘রিয়াল মাদ্রিদ’ হয়ে ওঠার গল্প।
১৯৫৫ সাল।নুয়েভো এস্তাদিও চামার্টিনের সংস্কার কাজ সবে মাত্র শেষ হয়েছে।নতুন করে আবার ঢেলে সাজানোর পর এ স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা হলো ১,২৫,০০০।মাদ্রিদের বোর্ড ডিরেক্টররা চিন্তা করলেন সান্টিয়াগো বার্নাব্যু ইয়েস্তের সম্মানার্থে স্টেডিয়ামের নামটাই বদলে ফেলবেন।তাদের কথামতো নুয়েভো এস্তাদিও চামার্টিনের নাম বদলে রাখা হলো ‘এস্তাদিও সান্টিয়াগো বার্নাব্যু’।
(পরবর্তীতে অবশ্য সান্টিয়াগো বার্নাব্যুর ধারণক্ষমতা কমানো হয় স্টেডিয়ামের অন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে।বর্তমানে এর ধারণক্ষমতা ৮৫,৪৫৪।)
অন্যদিকে ১৯৫৫ সালে ফ্রেঞ্চ ক্রীড়া সাংবাদিক ল’ইকুইপ ইউরোপ জুড়ে একটি টুর্ণামেন্ট শুরু করার প্রস্তাব রাখলে গ্যাব্রিয়েল হ্যানোট,সান্টিয়াগো বার্নাব্যু,বেড্রিগন্যান এবং গুস্তাভ সেবেসরা মিলে একটি প্রদর্শনীমূলক টুর্ণামেন্ট ইউরোপে তৈরি করেন।যেখানে পুরো ইউরোপের প্রথম সারির দলগুলো অংশ নেবে।এর নাম দেয়া হয় ইউরোপিয়ান কাপ।এই ইউরোপিয়ান কাপই আজকের চ্যাম্পিয়নস লীগ।এ টুর্ণামেন্ট শুরু হওয়ার পরই প্রথম পাঁচটি শিরোপাই জিতে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ।১৯৫৬-৬০ পর্যন্ত পাঁচটি ইউরোপিয়ান কাপই যোগ হয়েছিলো রিয়াল মাদ্রিদের ট্রফি কেসে।সে দলে ছিলেন জেন্তোর মতো দুর্ধর্ষ উইঙ্গার।মিগুয়েল মুনোজের মতো সৃজনশীল মিডফিল্ডার।জুয়ানিতো,দেল বস্কের মতো প্লেয়ার।অালফ্রে
ডো ডি স্টেফানোর মতো গোল স্কোরার! মোটামুটি পুরো ইউরোপ বিশ্বে তখন চলছিলো সাদার রাজত্ব।রিয়াল মাদ্রিদের সামনে পড়লে তখন বুক কাঁপতো না এমন দল খুব কমই ছিলো।সেই পাঁচটি ফাইনালের প্রত্যেকটিতে গোল করার অনন্য রেকর্ড ছিলো ডি স্টেফানোর।১৯৬০ সালে ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে তো স্টেফানো হ্যাট্রিকই করে বসেছিলেন।দলও জিতেছিলো ৭-৩ গোলের বিশাল ব্যাবধানে!
তবে ইতিমধ্যেই সদ্য অবসর নেয়া মাত্র ৩৬ বছর বয়সী মিগুয়েল মুনোজের হাতে তুলে দেয়া হয় লস ব্লাঙ্কোসদের দায়িত্ব।টানা চারটি চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতা দলকে এমন আনকোরার হাতে দায়িত্ব তুলে দেয়া হলো!অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন এই দল তিনি কীভাবে সামলাবেন!সান্টিয়াগো বার্নাব্যু যে একজন পাকা জহুরী সেটার প্রমাণ দিতে মিগুয়েল ম্যুনোজ সময় নিলেন মাত্র ১ সিজন।প্রথম সিজনে এসেই এই ৩৬ বছর বয়সী কোচ মাদ্রিদকে জেতালেন ইউরোপিয়ান কাপ!টানা পাঁচবারের ইউরোপিয়ান কাপের দলে আগের চারটিতে ম্যুনোজ ছিলেন প্লেয়ার হিসেবে আর এর পরেরটিতে কোচ!বিশ শতকের ষাটের দশক।পুরো বিশ্ব তখন মাতোয়ারা ইংলিশ রক ব্যান্ড ‘The Beatles’ এর জাদুকরী সুরের মূর্ছনায়।বিটলসের ফ্যান্টাসটিক ফোর জন লেনন,জর্জ হ্যারিসন,পল ম্যাকার্টনি,রিঙ্গো স্টাররা তখন পুরো বিশ্বকে তাদের সুরের ঝংকারে বেঁধে রেখেছেন।তাঁদের ‘She loves you’ গানটি তখন পুরো বিশ্বে রাজত্ব করছিলো।এই গানের কোরাস ছিলো ‘Yeah Yeah Yeah!’
৬৬ সালে মাদ্রিদ যখন ষষ্ঠ চ্যাম্টিয়নস লীগ জিতেছিলো তখন চারজন স্প্যানিশ খেলোয়াড় স্প্যানিশ পত্রিকা মার্কায় দেয়া এক ছবির পোজে অবিকল বিটলসের ফ্যান্টাসটিক ফোরের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলো।সেই থেকে মাদ্রিদের সেই জেনারেশনের অদম্য সেই দলটিকে ডাকা হতো ‘Ye Ye Madrid.’
এই ইয়ে ইয়ে মাদ্রিদ টানা পাঁচবার ইউরোপিয়ান কাপজয়ী দলের মতো ভয়ংকর না হলেও অত্যন্ত সমীহ জাগানো দল ছিলো।তারা ১৯৬০ থেকে ১৯৬৮ পর্যন্ত টানা আটটি লা-লীগা ও একটি ইউরোপিয়ান কাপ জেতে।সেই দলের কোচ ছিলেন মিগুয়েল ম্যুনোজ।ম্যুনোজ ষাটের দশকেই রিয়াল মাদ্রিদকে নতুনভাবে সাজানোর দায়িত্ব নেন।কারণ আগের সর্বজয়ী দলের সদস্যরা ইতিমধ্যেই অনেকেই অবসর গ্রহণ করেছে।আবার কেউ দল ছেড়েছে।তাই ম্যুনোজ নজর দিলেন কম বয়সী প্লেয়ারদের দিয়ে দল সাজাবেন যারা অনেকদিন সার্ভিস দিতে পারবে।এই দল মুনোজকে এনে দিয়েছিলো আটটি লা-লীগা,দুইটি কোপা দেল রে আর একটি ইউরোপিয়ান কাপ।এই দলের ব্যাপ্তিকাল ধরা হয় ১৯৬১ থেকে মতান্তরে ১৯৬৪ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত।১৯৭৪ সালে মিগুয়েল ম্যুনোজের বিদায়ের মাধ্যমে মাদ্রিদের একটি স্বর্ণালী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে।মিগুয়েল ম্যুনোজকে এখনো মাদ্রিদের ইতিহাসের সেরা কোচ হিসেবে গণ্য করা হয়।১৯৫৯ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত ১৫ বছর ছিলেন মাদ্রিদ বস।এর মাঝে জেনারেশনের পরিবর্তন হলেও জিতেছিলেন সর্বমোট ১৫ টি ট্রফি।যার মাঝে ছিলো ৯ টি লা-লীগা,১ টি ইউরোপিয়ান কাপ,৪ টি কোপা দেল রে এবং ১ টি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ।ইতিমধ্যেই ১৯৭৮ সালে সান্টিয়াগো বার্নাব্যু ইয়েস্তের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অভিভাবক হারায় রিয়াল মাদ্রিদ উপর্যপুরি পুরো স্প্যানিশ ফুটবল।১৯৪৩ থেকে ১৯৭৮ শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৫ বছর ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট।ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে এনেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদকে।বানিয়েছিলেন ফুটবল বিশ্বের রাজা।তাঁর মৃত্যুতে পুরো ফুটবল বিশ্বে শোকের মাতম পড়ে যায়।১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনায় বিশ্বকাপে তিন দিনের শোকও পালিত হয়।
আশির দশকের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদের আরেকটি নতুন জেনারেশনের আবির্ভাব ঘটে।স্প্যানিশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট জুলিও সিজার ইগলেসিয়াস এ জেনারেশনের নাম দেন ‘লা কুইন্টা দেল বুয়েত্রে’।
এই নামটি নেয়া হয়েছিলো রিয়াল মাদ্রিদের তৎকালীন খেলোয়াড়দের ডাকনাম থেকে।তাঁরা হলেন এমিলো বুত্রাগুয়েনো,মার্টিন ভাজকেজ,মিগুয়েল পার্ডেজা,ম্যানুয়েল সানচেজ এবং মাইকেল।তাঁরা পাচজনই রিয়াল মাদ্রিদের ইউথ অ্যাকাডেমীর গ্রাজুয়েট ছিলেন।এদের পাশাপাশি ছিলেন মেক্সিকান স্ট্রাইকার হুগো সানচেজ,গোলকিপার ফ্রান্সিসকো বুয়ো,রাইট ব্যাক মিগুয়েল পোর্লানের মতো খেলোয়াড়েরা।এই জেনারেশন আশির দশক জুড়ে পুরো ইউরোপে ছড়ি ঘুরিয়েছিলো।জিতেছিলো দুইটি উয়েফা কাপ,টানা পাঁচটি লা লীগা।একটি কোপা দেল রে এবং তিনটি স্প্যানিশ সুপার কাপ!
১৯৯৬ সালে প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো সাঞ্জ ফ্যাবিও ক্যাপেলোকে কোচ হিসেবে নিয়ে আসেন।তখন দলে ছিলো রাউল গঞ্জালেস,ফার্না
ন্দো হিয়েরো,ইভান জামোরানো,ফার্নান্দো রেদোন্দোর মতো খেলোয়াড়েরা।তার উপর নিয়ে আসা হয় ডেভর সুকার,রবার্তো কার্লোস,ক্ল্যারেন্স সিডর্ফ,প্রিড্যার্গ মিজাটোভিচদের মতো প্লেয়ারদের।এর ফলে রিয়াল মাদ্রিদ ৩২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সপ্তম চ্যাম্পিয়নস লীগ টাইটেল অর্জন করলো।ইয়ুপ হেইঙ্কসের অধীনে তারা ফাইনালে জুভেন্টাসকে ১-০ গোলে হারিয়েছিলো।
জুলাই,২০০০।রিয়াল মাদ্রিদ সদ্যই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ক্লাব নির্বাচিত হয়েছে।প্রেসিডেন্ট হয়ে এলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।এসেই ঘোষণা দিলেন প্রতি সামারে একজন করে সুপারস্টার নিয়ে এসে গড়বেন লস গ্যালাক্টিকোজ।একে একে নিয়ে আসলেন লুইস ফিগো,জিনেদিন জিদান,রোনালদো নাজারিও ডি লিমা,রুড ভ্যান নিস্টলরয়,ডেভিড বেকহাম,ফ্যাবিও ক্যানাভারোর মতো সুপারস্টারদের।আর আগেই দলে রবার্তো কার্লোস,রাউল গঞ্জালেস,গুতি,ইকার ক্যাসিয়াসরা ছিলেন।ফুটবল বিশ্ব দেখলো আরেকটি লস গ্যালাক্টিকোজ।তবে এই দল প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায় নি।একটি চ্যাম্পিয়নস লীগ,একটি লা-লীগা জিতেছিলো।তখনই ঘটলো এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।পেরেজ উচল জয়ী কোচ দেল বস্ককে স্যাক করলেন।ক্লাব ছাড়লেন ম্যাকেলেলে,ফার্নান্দো হিয়েরোসহ আরো বেশ কিছু খেলোয়াড়।এটিই মূলত মাদ্রিদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য না পাওয়ার কারণ ছিলো।
তারপর ২০০৫-০৬ সিজনে কিছু প্রমিজিং সাইন করান পেরেজ।যাদের মধ্যে ছিলেন রবিনহো,জুলিও ব্যাপিস্টা,সার্জিও রামোস।কিন্তু তারপরও প্রত্যাশানুযায়ী সাফল্য না পাওয়ায় পদত্যাগ করেন পেরেজ।পেরেজের পদত্যাগের পর নতুন প্রেসিডেন্ট হন রামোন ক্যালদেরন।তিনি এসেই ফ্যাবিও ক্যাপেলোকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেন।রিয়াল মাদ্রিদও চার বছর পর প্রথম লা-লীগা জিতে।কিন্তু এ সিজন শেষে ক্যাপেলোকেও স্যাক করা হয়।আবার শুরু হয় রিয়াল মাদ্রিদের দুঃসময়।
২০০৯ সালে পেরেজ আবারো প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাদ্রিদে ফিরে আসেন।ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রেকর্ড ৯৪ মিলিয়ন দিয়ে নিয়ে আসেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে।সেই সাথে এসি মিলান থেকে কাকাকে।কোচ হিসেবে নিয়োগ দেন ইন্টারের ট্রেবল জয়ী কোচ জোসে মরিনহোকে।প্রথম সিজন ভালো না কাটলেও পরের সিজনেই রিয়াল মাদ্রিদকে রেকর্ড ১০০ পয়েন্ট নিয়ে লা-লীগা জেতান মরিনহো।সেই সিজনে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো লা-লীগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ডও করেন।রিয়াল মাদ্রিদ সেই সিজনে মোট গোল দিয়েছিলো ১২১ টি।গোল ডিফারেন্স ছিলো +৮৯।মোট ৩২ টি ম্যাচও জিতেছিলো রিয়াল মাদ্রিদ।কিন্তু মরিনহোকে মূলত নিয়ে আসা হয়েছিলো চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতানোর জন্যে।কিন্তু তিন সিজনে সেটি করতে ব্যর্থ হওয়ায় আর দলীয় কোন্দলের কারণে তার পরের সিজনেই রিয়াল মাদ্রিদ ত্যাগ করতে হয় মরিনহোর।
২০১৩-১৪ সিজনে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় কার্লো অ্যাঞ্চেলোত্তিকে।তাঁকে মেইন অবজেক্ট দেয়া হয়েছিলো ইউসিএল জেতানো।এসেই তিনি টটেনহ্যাম থেকে রেকর্ড ১০০ মিলিয়ন ফি দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে আসেন গ্যারেথ বেলকে।সেই সিজনে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে পেয়েছিলেন জিদানকে।রোনালদো,বেল,রামোস,মদ্রিচ,মারিয়াদের নিয়ে মাদ্রিদকে জেতান স্বপ্নের লা দেসিমা তথা দশম চ্যাম্পিয়নস লীগ।টানা ১২ বছর মাদ্রিদিস্তাদের এ ট্রফির জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিলো।এর সাথে এসেছিলো কোপা দেল রে।২০১৪-১৫ সিজন আবারো ট্রফিলেস কাটায় রিয়াল মাদ্রিদ।তাই ডন কার্লোকেও মাদ্রিদ ছাড়তে হয়।তারপর কোচ হিসেবে আসেন রাফা বেনিতেজ।বাজে পারফর্ম্যান্সের কারণে তাকেও বরখাস্ত করে দায়িত্ব দেয়া হয় মাদ্রিদেরই সাবেক খেলোয়াড় জিনেদিন জিদানকে।এসেই তিনি মাদ্রিদকে লা উনদেসিমা তথা এগারোতম চ্যাম্পিয়নস লীগ এবং উয়েফা সুপার কাপ জেতান।১৯০২ থেকে ২০১৭!সময়ের হিসেবে ১১৫ বছর।পৃথীবির অনেক কিছুই বদলেছে শুধু ‘মাদ্রিদিজম’ টাই বদলায়নি।যুগে যুগে সান্টিয়াগো বার্নাব্যুর মাঠ কাঁপিয়ে গেছেন রথী মহারথীরা।রিয়াল মাদ্রিদের ট্রফিকেসে যুক্ত হয়েছে ১২টি চ্যাম্পিয়নস লীগ,৩২টি লা-লীগা,১৯টি কোপা দেল রে,৯টি সুপারকোপা দে ইস্পানা,১টি কোপা দে লা লীগা,১টি কোপা ইভা ডুয়ার্তে,৩টি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ,২টি উয়েফা কাপ,৩টি উয়েফা সুপার কাপ এবং ২টি ক্লাব বিশ্বকাপ।
তবে রিয়াল মাদ্রিদ মানে আমার কাছে ১২ টা চ্যাম্পিয়নস লীগ না কিংবা ৩২ টা লা-লীগা,শতাব্দীর সেরা ক্লাবও না।রিয়াল মাদ্রিদ মানে আমার কাছে আলফ্রেডো ডি স্টেফানো,সান্টিয়াগো বার্নাব্যু,মিগুয়েল ম্যুনোজদের গ্রেটনেস।রিয়াল মাদ্রিদ মানে আমার কাছে ইয়ে ইয়ে মাদ্রিদ।রিয়াল মাদ্রিদ মানে রবার্তো কার্লোস,রোনালদো
,রাউল,জিদান,বেকহাম,ফিগো,নিস্টলরয়দের একসাথে খেলতে দেখা।রিয়াল মাদ্রিদ মানে জিদানের সেই দুর্দান্ত ভলি,ইকার ক্যাসিয়াসের সুপারম্যানের মতো করে করা ফ্লাইং সব সেভ,রোনালদো লিমার অলস ভঙ্গিতে করা গোল,বেকহামের করা ফ্রি-কিক,গ্যারেথ বেলের উইং ধরে দেয়া সেই দৌড় কিংবা বারবার ত্রাণকর্তা হয়ে আসা উড়ন্ত সার্জিও রামোসের হেড!রিয়াল মাদ্রিদ মানে রাউলের ‘রাউল মাদ্রিদ’ হয়ে এক সত্ত্বায় পরিণত হওয়া।রক্তাক্ত চোখে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর খেলে যাওয়া কিংবা মাদ্রিদের হয়ে খেলার জন্য মার্সেলোর ব্রাজিল থেকে স্পেনে হেঁটে আসার ইচ্ছা।রিয়াল মাদ্রিদ মানে সবার একসাথে সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে ‘আলা মাদ্রিদ’ কোরাস তোলা কিংবা রাত্রি ২ টার দিকে পাড়া জাগিয়ে তোলা কারো চিৎকার।রিয়াল মাদ্রিদ মানে কখনো হাল না ছেড়ে দেয়া।শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত নিশ্চিত পরাজয় জেনেও দাঁতে দাঁত চেপে সাদা জার্সিটার জন্যে খেলে যাওয়া।
“Madridism is a feelings.”
–আলফ্রেডো ডি স্টেফানো।
আসলেই তাই।রিয়াল মাদ্রিদ একটি অনুভূতির নাম।রিয়াল মাদ্রিদ একটি সত্তা।কিন্তু তা বুঝবেন কিভাবে? আজ থেকে অনেক বছর পর যখন দেখবেন সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে কোন স্ট্রাইকার দুর্দান্ত এক গোল দিয়েছে তখন বুঝবেন ডি স্টোফানো,রাউল,রোনালদোরা আবার ফিরে এসেছে।যখন দেখবেন কোন উইঙ্গার দুর্দান্ত এক সলো রান দিয়েছে তখন বুঝবেন জেন্তো,বেলরা আবার ফিরে এসেছে।কিংবা মাঝমাঠে কারো বল কন্ট্রোলিং দেখে চোখ জুড়িয়ে গেলে ধরে নেবেন মুনোজ,জিদান,মদ্রিচরা ফিরে এসেছে।যখন কেউ নিশ্চিত সব গোল সুপারম্যানের মতো বাঁচিয়ে দেবে তখন ভাববেন ইকার ফিরে এসেছে।আবার যখন কেউ দুর্দান্ত হেডে বিপক্ষ দলের অস্তরাত্মা কাঁপিয়ে দেবে তখন ভাববেন সার্জিও রামোস,ফার্নান্দো হিয়েরোরা আবার সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরে এসেছে।রিয়াল মাদ্রিদ একটি সত্তা।এ সত্তার কোনো বিনাশ নেই।মাদ্রিদিজমের এই ট্রেন ছুটতে থাকবে যুগ যুগ ধরে।
ডি স্টেফানোর এই উক্তিটাই সম্ভবত মাদ্রিদিজিম কি তা ব্যাখ্যা করার জন্যে যথেষ্ট!
” ঐ সাদা জার্সিটা রক্তে লাল হবে,ঘামে ভিজে যাবে,কাদায় কর্দমাক্ত হবে কিন্তু কখনো পরাজয়ের গ্লানি বহন করবে না। “

অশ্রুত, অপরিচিত রথসচাইল্ড পরিবার

Now Reading
অশ্রুত, অপরিচিত রথসচাইল্ড পরিবার

কিভাবে এই রথসচাইলড পরিবারের উত্থান ?যাদের এ পৃথিবীতে ৫০০ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ রয়েছে;হাতেগোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া সবগুলো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক;পর্দার আড়ালে থেকেই সম্রাট নেপোলিয়নের সময় থেকেই অনেক যুদ্ধের অর্থ-অস্ত্রের যোগানদাতা;তাবৎ দুনিয়ার খনিজ সম্পদ দখল করে নিতে মরিয়া আর মূলধারার গনমাধ্যম তাদের হাতের পুতুল।একসাথে কতকিছুই না নিয়ন্ত্রণ করছে, অবাক করার মত ব্যাপার। কিন্তু, এমন আমরা অনেকেই আছি যারা হয়তো রথসচাইলড শব্দটির সাথেই পরিচিত নই।
এই ধরণীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ও ধনী পরিবার হিসেবে পরিচিত রথচাইল্ড পরিবারের কারো নাম কখনো কোন ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় পাওয়া যাবে না।এত প্রভাবশালী মানুষগুলো নিয়ে মিডিয়াতে তেমন একটা প্রচার-প্রচারণা নেই,নেই বিশদ আকারের প্রতিবেদন-প্রামান্যচিত্র ;সেলিব্রেটিদের স্ক্যানডাল সম্বলিত খবর হয়তো তার বিপরীতে অনেক।
বর্তমান এ পৃথিবী প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে নিঃসন্দেহে।কিন্তু লক্ষ করলে এটা স্পষ্টত যে ,ধনী আর গরিবের মধ্যেকার ব্যবধান দিন দিন বেড়েই চলছে।একটা নির্দিষ্ট অংশ যারা পৃথিবীর সিংহভাগ প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্তা;নানান দেশে যুদ্ধের পরোক্ষ কিন্তু মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। “বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক (নিম্নতর আয়ের) সমপরিমাণ লোকের সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী ৮ জন লোকের  সম্পদের পরিমাণের সমান “ অক্সফ্যাম এর একটি রিপোর্টে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
“বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কিং সিস্টেম “ নামক ধারণাটিকে সর্বপ্রথম বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে রথসচাইলড পরিবার। আর এখান থেকেই অর্থনৈতিক বৈষম্যের অনানুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।রথসচাইলড পরিবারের বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের শুরু হয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে জার্মানীতে।ইহুদী স্বর্ণকার পিতার ব্যবসায়ী ছেলে মায়ের আমসেল বঊয়ার তার পাঁচ পুত্রকে পাঁচটি দেশে পাঠিয়ে তাদের ব্যাংক কে প্রথম আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।নেপলস,প্যারিস,ফ্রাঙ্কফুর্ট,ভিয়েনা এবং লন্ডনে তাদের ব্যাংক/ঋণ ব্যবসার একচ্ছত্র আধিপত্যের শুরু হয়।১৭৬০ সালেই এই আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার শুরু হয়।“ রথসচাইলড ফ্যামিলি” ট্যাগে ইউরোপের এই শহরগুলোতেই প্রথম ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রচলন হয়।ইউরোপের ধনী পরিবারগুলোকে তাদের ব্যবসার সাথে ধীরে ধীরে সংযুক্ত করতে থাকে রথসচাইলড পরিবার। আর এভাবেই বৈশ্বিক একটা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করে রথসচাইল্ডরা।আর্থিক অবস্থান পাকাপোক্ত করার পাশাপাশি ক্রমেই প্রভাবশালীদের তালিকায় চলে আসতে থাকে।
ইউরোপের এই পাঁচটি  শহরকে কেন্দ্র করেই ওদের ফুলে ফেঁপে বেড়ে ওঠার গল্পের শুরু। বৃটিশ ও ফ্রেঞ্চ সাম্রাজ্যের মধ্যে যে যুদ্ধ হয় তাতে দুইপক্ষকেই অর্থ সমর্থন করে রথসচাইলড পরিবার, ইতিহাস তাই বলছে।বৃটিশ ও ফ্রেঞ্চ অর্থনীতি বধের মাধ্যমেই ইউরোপের অর্থনীতি নিজেদের কব্জায় নিয়ে আসে রথসচাইল্ডরা।ইউরোপের রণক্ষেত্র ওয়াটারলুতে ফ্রেঞ্চদের পরাজয় হয়।প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যারন রথসচাইল্ড ব্রিটিশ সরকারকে লোন দেন এই শর্তে, যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনে ইহুদীদের জন্য নিজস্ব দেশ তৈরি করতে হবে।স্মরণকালের ভয়াবহ যুদ্ধ “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের” কয়েক বছর পরেই ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয়।
তদকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড বেলফোর রাজি হয়ে যে ঘোষণা দেন এই ইস্যুতে তা “বেলফোর ঘোষণা” নামে পরিচিত।
আর ফলাফল হিসেবে আমরা জানি যে, ইসরাইল নামক একটি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয় ; দিনকে দিন তাদের বিস্তৃতির কারণে মানচিত্র থেকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আয়তন ছোট থেকে আরো ছোট হয়ে যাছে।জায়নবাদী ইসরাইলীদের আগ্রাসী মনোভাবে প্রাণ যাচ্ছে অসংখ্য ফিলিস্তিনিদের;পরিবার-গৃহহারা হয়ে হাজারো ফিলিস্তিনিদের পরিচয় হল, তারা আজ নিজ ভূমিতেই উদ্বাস্তু।
আর আজকের এ সময়ে রথসচাইল্ডরা খুবই শক্তিশালী অবস্থানে আছে।ইউরোপ নিয়ন্ত্রনের পরেই তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ছিলঃ আমেরিকা ও বিশ্বনিয়ন্ত্রণ। অন্য অর্থে,মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার পিছনেও তাদের স্বরচিত নীল নকশা।তাদের সম্পদ বেশিরভাগই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা। তেল, কয়লা, ব্যাংক প্রভৃতি নানা ধরণের কোম্পানীতে তাদের বিনিয়োগ আছে। ধারণা করা হয় আমেরিকান কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা বড় ব্যাংকেই তাদের শেয়ার আছে।
আজকের বিশ্বে রথসচাইল্ডরা এবং তাদের মিত্ররাই রাজনীতি,যুদ্ধ,অর্থনীতি সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে। কমার্শিয়াল কোম্পানি, মাইনিং কোম্পানি,খনিজ তেল-গ্যাস উত্তোলনকারি কোম্পানিগুলো রথসচাইল্নামটা ব্যবহার করছে না, তবে নিয়ন্ত্রণে সেই রথসচাইল্ডরাই।পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তি গুলোর নিন্দা হয় বেশি ;কিন্তু প্রভাবক হিসেবে পর্দার আড়াল থেকে কাজ করা রথসচাইল্ডদের সম্পর্কে হয়তো প্রতি ১০ জনের ৯ জন মানুষও ঠিকভাবে দুইটা লাইনও বলতে পারবে না।পৃথিবীর কারো ক্ষমতা নেই বের করবে এই পরিবার তাদের প্রাইভেট পার্টনারশীপের মাধ্যমে এই পৃথিবীর অর্থ সম্পদের ঠিক কত অংশের মালিক এবং আরো কত অংশ নিয়ন্ত্রন করে ।সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে রথসচাইল্ডদের অপতৎপরতা। আজ আবধি কোন মানবিক কাজে তাদের অংশগ্রহণের কোনরকমের রেকর্ড নাই। একবার চিন্তা করে দেখেন,এই পরিবারটি শুরু থেকেই এত প্রভাবশালী আর ক্ষমতাবান ছিল যে, ষড়যন্ত্র করে দুই দেশের রাজার মধ্যে (ওয়াটারলুর যুদ্ধ) যুদ্ধ লাগিয়ে দিতে পারত তারা । এরপর দুই রাজাকেই উচ্চ সুদে ঋণ দিত যুদ্ধের খরচ মেটানোর জন্য । যে দেশই জিততো না কেন, লাভের ভাগ ঘুরেফিরে ওই রথচাইল্ডের হাতেই যেত।
সর্বশেষ,উত্তর কোরিয়া আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান নিয়ে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে তার পিছনেও রথসচাইল্ডদের যোগসাজশ রয়েছে।কেননা, এই দুটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপরে এখন পর্যন্ত অন্য কোন দেশ বা তাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। দেশ দুটির উপর অনেক আগে থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি আছে; অনেকটা একঘরে করেই রাখা হয়েছে দেশ দুটিকে।
রথচাইল্ড পরিবারের প্রকৃত অর্থসম্পদের পরিমান কোন বাইরের লোক জানতে পারবে না , পরিবারের কেউ জানাতে পারবে না । রথচাইল্ড পরিবারের কথা উঠলে জায়নবাদিদের সম্পর্কেও বলতে হয়; সেসব কথা আপাতত তোলা থাক।

“ বাংলাদেশের ” বিদায়ে রঙ হারালো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি!!

Now Reading
“ বাংলাদেশের ” বিদায়ে রঙ হারালো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি!!

লাল সবুজের পতাকা ইংল্যান্ডের আকাশে আর মাঠে বাংলার ছেলেরা বীরদর্পে লড়েছে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। ১লা জুনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে চ্যাম্পিয়ন ট্রফির যাত্রা তা শেষ হয় ভারতের সাথে সেমিফাইনাল ম্যাচে হেরে  কাঙ্খিত ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ দিয়ে।

এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বা খেলা দুটোই ছিল সমালোচকদের জন্য বিশেষ কিছু।কেননা ক্রিকেটে বাঘা বাঘা সব দলের ভীড়ে কয়জনই ভেবেছিল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো আসরে সেমিফাইনাল খেলবে।বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠার পর থেকে দেশ বিদেশের ক্রিকেট বোদ্ধারা প্রশংসাই করে গেলেন।এদের মধ্যে খোদ ছিলেন  ভারতের রবি শাস্ত্রী ও পাকিস্তানের রমিজ রাজা।গত সপ্তাহের  “টক অব দ্যা উইক” বলেন অর “টক অব দ্যা ডে বা টপিক” যাই বলেন না কেন সবখানে ছিল বাংলাদেশের সেমিফাইনাল যাত্রা।

দেশের হয়ে ক্রিকেটারদের এমন পারফরম্যান্সে দর্শক সমর্থকদের মনে প্রত্যাশার পারদ যেন কয়েকগুণ উঁচু হয়ে গিয়েছিল।এমনটাই হওয়া স্বাভাবিক প্রথমবারের মতো কোন মর্যাদার আসরে ফাইনাল খেলার অমিত সম্ভাবনার হাতছানি যে দিচ্ছিল বাংলাদেশকে সাথে ছিল র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভালো খেলার সুবাদে বাছাই পর্বের ম্যাচ না খেলে সরাসারি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ সব মিলিয়ে একটা বর্ণিল সপ্তাহ কাটিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে যখন সেমিফাইনালে উঠে তখন একটা নতুন সম্ভাবনা সামনে চলে এসেছিল কেননা সেমিফাইনালিস্ট চার দলের দুটিই কোন সময় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির কাপ জিততে পারে নি।তাই নতুন একটা দল যারা কিনা শিরোপা উঁচিয়ে ধরবে এমন সুযোগ তৈরি হয়েছিল।সবচেয়ে বড় কথা সেমিফাইনালে ছিল পুরোটাই এশিয়ার আধিপত্য কেননা স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশ,ভারত ও পাকিস্তান জায়গা করে নিয়েছিল। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অসাধারণ কামব্যাক হিসেবে ধরলেও আনপ্রেডিক্টবল পাকিস্তান তাদের তকমাটা আরো জোরদার করল।নিজেদের জেতা ম্যাচ হেরে যাওয়া আর অপ্রত্যাশিত ম্যাচে জয়ে দর্শককে অবাক করা যেন তাদের অভ্যাস।স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে দর্শক বানিয়ে পাকিস্তান ফাইনালে তাদের সামনে আবারো শিরোপা জয়ের সুযোগ তা ও আবার ৯২ বিশ্বকাপের পর কোন ওয়ানডে টুর্নামেন্টে।

বাংলাদেশ আর পাকিস্তান যদি ফাইনাল হতো তবে নিশ্চিত আমরা একদল নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতাম যেটা কিনা বাংলাদেশও হতে পারতো।বাংলাদেশী সমর্থকরা ভবিষৎের জন্য আবারো আশায় বুক বেঁধে আছে। বাংলাদেশের এই অগ্রগতিকে ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখতে পারে, তবে সেই দিন বেশি দূরে নয় যেদিন আমরা বিশ্বমঞ্চে উঁচিয়ে ধরব শিরোপা।ইতিমধ্যে ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ নতুন পরাশক্তি হিসেবে জানান দিয়েছে যার কারণে ভারত-পাকিস্তানের মতো উত্তেজনা পূর্ণ দ্বৈরথ যে ম্লান হতে চলছে এমনটাই ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতামত।

সেমিফাইনাল ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের জন্য রোমাঞ্চকার ম্যাচ কেননা কোন আসরের সেমিফাইনাল ম্যাচ যেখানটায় জিতলে থাকে ফাইনাল খেলার সুযোগ আর ফাইনাল মানে শিরোপা নয়তো রানার্স আপ। এই চাপ নিয়ে খেলতে নেমে আমরা হয়তো চাপকে উপেক্ষা করতে পারি নি।পাকিস্তান উল্টাপাল্টা ক্রিকেট খেললেও ইংল্যান্ডের সাথে তাদের ম্যাচ ছিল বেশ গুছানো যেখানটায় প্রতি পদে ছিল সাবধানতা।

এবার আসি বাংলাদেশ ভারত দ্বৈরথ উত্তেজনা ।২০০৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশ যেন ভারতের জন্য গলার কাঁটা হয়ে আছে। এই দুই দলের ম্যাচ যেন হাইভোল্টেজ ম্যাচের মর্যাদা পায় তার সাথে ভক্ত সমর্থকের বাড়তি উত্তেজনা তো আছে। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ; আর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ; আর বাংলাদেশ –পাকিস্তান ম্যাচ এই তিন ম্যাচের মাঝে আপনি ক্রিকেট মাঠের উত্তেজনার বাইরে আরো বাড়তি কিছু আঁছ করতে পারবেন। এই দেশের সমর্থকরা ক্রিকেট মাঠের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে সরগরম করে তোলে গ্যালারি।সামাজিক যোগাযোগ সাইট আর মাধ্যমগুলোতে ট্রল আর মীম করে খেলোয়াড়দের নাস্তানুবাদ বা উৎসাহ দেয়ার নানা ফিরিস্তি দেখা যায়।এই ক্ষ্যাপাটে সমর্থকদের সাথে সাবেক ক্রিকেটাররা যোগ দিলে তা বাড়তি মাত্রা পায়।এই তিন দেশে ক্রিকেট এমন বাড়তি সমাদর পায় যা কিনা কোন কোন অংশে রাজনৈতিক ইস্যুকে ম্লান করে  দেয়। এইসব কারণে আর্ন্তজাতিক আসরে বাংলাদেশ,ভারত আর পাকিস্তানের অংশগ্রহণ মানে বিশ্বগণমাধ্যমগুলো সরব হয়ে উঠার একটা সুযোগই বলা যায়। এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত,পাকিস্তান আর বাংলাদেশের প্রবাসীদের কারণে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে খোদ ইংল্যান্ডের সমর্থকরা।

সেমিফাইনাল ম্যাচে ভারতীয় সমর্থকদের টিকেট নিয়ে আধিপত্য বাংলাদেশী সমর্থকদের খেলা দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা যেন তৈরি হয়েছিল।

একটা দলে সিনিয়র খেলোয়াড়ের কতটা ভূমিকা তা যেন তামিম,মাশরাফি,সাকিব,মুশফিক,মাহমুদল্লাহ দেখিয়ে দিয়েছে। আমাদের উচিত বাংলাদেশের এই সফলতাকে এপ্রিশিয়েট করা যাতে তারা ভবিষ্যৎে আরো ভাল খেলার উৎসাহ পায়।বাংলাদেশ ভারতের সেমিফাইনাল ম্যাচে বলতে গেলে বাংলাদেশ কেবল অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে পিছিয়ে ছিল।বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতে উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তামিমের ধীরস্থির ব্যাটিং ভালো একটা ভীত গড়ে দিয়েছে।মির্ডল অর্ডারে মুশফিকের ব্যাটিং দৃঢ়তা আবারো প্রমাণ করল বাংলাদেশের জন্য কেন তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান।সাকিব আর মাহমুদল্লাহ আগের ম্যাচের মতো উজ্জ্বল না হলেও তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন এমন কিছু আশা করাটা নিছক এক দর্শক হিসেবে বোকামি ছাড়া কিছু না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে কতটা চাপ নিয়ে ব্যাটিং বা বোলিং করতে হয় কেবল তারাই জানে।বাংলাদেশের ইনিংসের শেষের দিকে ক্যাপ্টেন মাশরাফি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা স্বার্থেও নিজের স্বভাবসুলভ আগ্রাসী ব্যাটিং করে ছোট খাট একটা ক্যামিও ইনিংস প্রমাণ করে তিনি ক্রিকেটের প্রতি কতটা অর্ন্তপ্রাণ।

বাংলাদেশের বোলিংয়ের ক্ষেত্রে একমাত্র মাশরাফি ছাড়া সবাই নিষ্প্রভ ছিল তা মোটের উপর অভিজ্ঞতার কমতি।কালকের ম্যাচে নিছক একটা বড় ম্যাচ এমন ম্যাচে কিভাবে চাপ সামলিয়ে বল করে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানকে ব্যাকফুটে ফেলতে হয় তেমন অভিজ্ঞতা আমাদের ঝুলিতে কম আছে।তাসকিন মোস্তাফিজকে দোষারোপ করার কোন মানে হয় না।এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেললাম সামনের বার ফাইনাল খেলব।আমরা তো দক্ষিণ আফ্রিকার মতো চোকার না যারা কিনা এখনো সেমিফাইনালের ভুত তাড়াতে পারে নি। গতকাল ভারত ম্যাচ জেতার কারণ তাদের অভিজ্ঞতা কেননা এমন বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিছক কম না।

বাংলাদেশের ভক্তকূলের হৃদয় আশাহত হলেও ১৮ই জুন ফাইনালে ঐতিহ্যবাহী এক দ্বৈরথ হবে।ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে ক্রিকেট ছাড়াও জাতিস্বত্তা আর রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকবে না তা কি হয় ? গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত এবার চিরপ্রতিদ্বন্ধী পাকিস্তানের সামনে।এই ম্যাচটা যেন পাকিস্তানের জন্য বেশ অস্বস্তির কেননা তারা এখনো যে ভারতকে আর্ন্তজাতিক কোন টুর্নামেন্টে হারাতে পারে নি।এবার যদি এই গ্যাঁড়াকল ভাঙ্গতে পারে পাকিস্তানের ঝিমিয়ে পড়া ক্রিকেট চমক জাগানিয়া কিছু করবে যা কিনা পারে নি ওয়াকার ইউনুস, ওয়াসিম আকরাম,ইমরান খান ,ইনজামামের মতো গ্রেট ক্রিকেটাররা। এমন কিছু কি করবে সরফরাজ বাহিনি ? সরফরাজ কি আবার ধোঁকা দেবে পাকিস্তানের সমর্থকদের ? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে ১৮ই জুনের ফাইনালের জন্য।

বর্তমানে ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে কারো সন্দেহ হওয়ার কথা নয় কেননা ভারত বরাবরই একটা ঈর্ষণীয় ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে তাদের দল গড়ে।এটাই তাদের মূল শক্তির জায়গা। ডিপেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন তকমা নিয়ে ভারত যদিও চাপে থাকবে শিরোপা পুনরুদ্ধারের ব্যাপার থেকে যায়। পাকিস্তানের সেই অর্থে নির্ভার থাকা চলে। কৌশলী পাকিস্তান মোহাম্মদ আমেরকে বসিয়ে রেখে ফাইনালের জন্য বরাদ্দ রেখেছে এটা যেমন সন্দেহাতীত তেমনি ভারতের ফিনিশার মাহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাট কিন্তু এখনো জ্বলে উঠে নি।ভারতের প্রতিটা জয়ে এই মারকুটে ফিনিশারের ছোঁয়া না লাগলে যেন তা পূর্ণতা পাই না।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে বৃষ্টির হানা না হলে ক্রিকেট সমর্থকরা শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপে রোহিত শর্মা,বিরাট কোহলি,যুবরাজ সিং আর মাহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটিংয়ের সাথে  মোহাম্মদ আমের,হাসান আলী,জুনায়েদের বোলিং তোপ দেখবে। সব মিলিয়ে একটা রোমাঞ্চকর ফাইনাল হতে যাচ্ছে ১৮ই জুন।।

বাংলাদেশের এবারের সফলতার জন্য নিরন্তর ভালবাসা আর শুভকামনা থাকবে।

বিধবা বিবাহ আন্দলোনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

Now Reading
বিধবা বিবাহ আন্দলোনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

উনবিংশ শতাব্দীতে সমাজসংস্কারের জন্য যে কয়েটি আন্দলনের  ইতিহাস আমরা দেখতে পাই তার মধ্যে  হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আন্দোলন অন্যতম। বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহরে  ব্যাপক প্রচলনের কারনে সমাজে বিধবার সংখ্যা মারাত্নক ভাবে বেড়ে যায়। কিন্ত তখন বিধবা বিবাহের প্রচলন ছিল না। তাই তখন বিধবা পুনর্বিবাহের জন্য সমাজসংস্কার আন্দোলন সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। উনবিংশ শতাব্দীর এই নবজাগরনের অন্যতম পথিকৃত ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। অক্লান্ত পরিশ্যম ও নানা বাধাবিপওি পেরিয়ে তিনি এই নবজাগরন ঘটাতে সক্ষম হন। অর্থাৎ ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই ‘বিধবা বিবাহ পুনর্বিবাহ আইন’ পাশ হয়। এই আইন পাশের মাধ্যমে বিধবা বিবাহের সকল বাধা দুর হয়। এই বিধবা বিবাহ আইন পাশ করাটা মোটেও সহজ ছিলনা। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরেরও একশত বছর পূর্বে বিধবা বিবাহের পক্ষে লেখালেখি শুরু হয়। কিন্ত কট্টর হিন্দুদের কারনে তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।রাজা রাজবল্লভ তার নিজ বাল্যবিধবার বিয়ে দেবার জন্য পন্ডিতদের প্রচুর ভেট দিয়ে শাস্ত্রসম্মত অনুমতি লাভ করেছিলেন। কিন্ত তা অন্য আরেক প্রভাবশালী রাজা কৃষ্ণচন্দের কারনে ব্যার্থ হয়। এই ঘটনা ঘটেছিল বিদ্যাসাগরের ও একশত বছর পূর্বে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগেও রাজা রামমোহন রায়ের ‘আত্নীয় সভা মাধ্যমে এবং পরে ১৮২৮-২৯’ সালে ডিরোজিওর অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েসন একে ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলন ও বলা হয়, বিধবা বিবাহের পক্ষে লেখালেখি করা হয়েছিল। জাতীয় আইন কমিশনও তখন বাল্যবিধবাদের পুনর্বিবাহেনর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন। কিন্ত কট্টর হিন্দুত্ববাদের বিপক্ষে যেতে তারা শেষ পর্যন্ত সাহস করেন নি। হিন্দুদের ধর্মীয় গোড়ামী, কুসংস্কার ও কুপ্রথার বিরুদ্ধে যে কয়জন মনীষী অন্দোলন,প্রতিবাদ করে সফলকাম হয়েছেন বিদ্যাসাগর তাদের মধ্যে অন্যতম। বিদ্যাসাগর প্রথম অবস্খায় জনমত তৈরিতে ব্যার্থ হয়ে ছিলেন এবং প্রাচীনপন্থীদের চরম বিরোধীতার সম্মুখীন হন। এমনকি তাকে প্রান নাশের হুমকিও দেওয়া হয়। কিন্ত এতে অসীম সাহসী বিদ্যাসাগর থেমে থাকেননি । বিদ্যাসাগর তার নিজ কাজ চালিয়ে গেছেন নির্ভিকভাবে। ১৮৫৫ সালে বিধবা বিবাহ প্রচলন হৗয়া উচিত কিনা িএই বিষয়ে  প্রস্তাব ( প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রস্তাব ) রচনা করেন। তারানাথ বাচস্পতি তার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে বিদ্যাসাগর বেনামে ‘ কস্যাচিত উপযুক্ত ভাইপোষ্য’ এবং ‘ অল্প হইল’ রচনা করেন। বিধবা পুনর্বিবাহ আন্দোলনের জন্য ঈশ্বরচন্দ্রকে শাস্ত্রীয় যুক্তি এবং মানবমুখী যুক্তিবাদের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা করতে হয়েছে। এজন্য তিনি শাস্ত্রীয় অস্ত্র হিসাবে বিধবাদের আর্থ-সামাজিক সমস্যার বিবরন দিয়েছেন। যে সকল হিন্দু পন্ডিতগন বিদ্যাসাগরের চরম বিরোধিতা করেছিলেন তাদের মধ্যে ব্রজনাথ বিদ্যারত্ন, কাশীনাথ তর্কালঙ্কার, রমাতনু তর্কসিন্ধান্ত, গঙ্গাধর কবিরাজ, মহেশচন্দ্র চূড়ামনি, দীনবন্ধ ন্যায়রত্ন, ইষানচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ এদের মদ্যে অন্যতম। শুধুমাএ এ সকল পন্ডিতগনই যে তার বিরোধিতা করেছেন এমন নয়, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পন্ডিত ব্যক্তিত্ব বঙ্কিমচন্দ্রও রীতিমতো তার বিরোধিতা করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র তার ‘বিষবৃক্ষে’ সূর্যমুখীকে দিয়ে উক্তি করান যে, “ যে বিধবা বিবাহের ব্যাবস্থা দেয়, সে যদি পন্ডিত হয় তবে মূর্খ কে?” এসকল পন্ডিত ব্যক্তিদের প্রচ্ন্ড বিরোধিতার পরও তিনি ( বিদ্যাসাগর ) একটুকুও পিছপা হননি। বিদ্যাসাগর তখন বলেছিলেন, “ বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার জীবনের সর্ববৃহৎ সৎকর্ম” । এ জম্নে ইহার চাইতে সৎকর্ম করতে পারব তাহার সম্ভাবনা নাই। এ বিষয়ের  জন্য সর্বশান্ত হইয়াছি এবং আবশ্যক হইলে প্রান দিতেও দ্বিধাবোদ  করব না। তিনি আরও বলেছেন, “ অামি দেশাচরের নিতান্ত দাস নহি, নিজের বা সমাজের মঙ্গলেরজন্য যা করা উচিৎ আবশ্যক বোধ হইবে তাই করিব । লোকের বা কুটুম্বদের ভয়ে কদাচ সঙ্কচিত হইব না । বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ আন্দোলনের সপক্ষে ব্যাপক জনমততৈরি হয়ছিল । ঈশ্বরচন্দ্র তার কবিতায় লিখেছিলেন যে-

সুখের দিন কবে হবে বল , দিদী কবে হবে বল লো,
কবে হবে বল।
শান্তিপুরের তাতিরা তো ‘বিদ্যাসাগর পেড়ে ’ শাড়িও বেড় করেছিল ।  শাড়ির পাড়ে লেখা ছিল
বেচে থাক বিদ্যাসাগর চিরজীবি হয়ে
সদরে করেছ রিপোর্ট বিধবাদের হবে বিয়ে  ।
অবশেষে  পর্বতসম বাধাবিপওি উপেক্ষাকরে সমাজ সংস্কারের বিদ্রহী নায়ক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৫৫ সালের ১৭ই নভেম্বর বঙ্গীয় ব্যপস্থাপক সভায় বিধবা বিবাহ আইনের খসড়া পেশ করলে ভারতে এ পক্ষে বিপক্ষে তুমূল আন্দোলন শুরু হয়। ভারত সরকারের কাছে রাজা রাধবকান্ত এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৮,০০০ হাজার লোকের সাক্ষরিত এক আবেদনপএ পাঠান। বিভিন্ন পন্ডিতগনও এর বিরুদ্ধে আবেদনপএ পাঠান । অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে বিধবা বিবাহের পক্ষে বহু আবেদন পাঠানো হয়। অবশেষে ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাস হয়। বন্ধ হয় প্রথার নামে পরোক্ষ ভাবে নারী হত্যা। বিধবাদের পুনর্বিবাহ চালু হওয়ায় হিন্দু নারীগন তাদের বিবাহের অধিকার ফিরে পায় এবং সতীদাহ কুপ্রথার হাত থেকে রক্ষা পান।

যে গান শুনে আত্মহত্যা করেছে শতাধিক মানুষ

Now Reading
যে গান শুনে আত্মহত্যা করেছে শতাধিক মানুষ

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় বন্ধুরা। আমরা সবাই কম-বেশি গান শুনতে ভালোবাসি। বাচ্চা থেকে শুরু করে সবাই গান শুনে সময় কাটাতে পছন্দ করে থাকেন। তবে ভেবে দেখেনতো এই গান যদি হয়ে উঠে কারো মৃত্যুর কারণ!???বিশ্বাস হচ্ছে নাহ???তবে বিশ্বের ইতিহাসে এমনই এক গান রয়েছে যার পিছে লুকিয়ে আছে এমন  অনেক বিস্মকর অন্ধকার সব ঘটনা। যে গানটির কথা বলছি সেটির নাম হলো গ্লোমি সানডে“। ইংরেজিতে “Gloomy Sunday“।

“গ্লোমি সানডে” এই গান এর আরেক নাম “হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং”। নাম শুনেই বুজতে পারছেন এটি একটি হাঙ্গেরিয়ান গান তবে যার সাথে সম্পর্ক রয়েছে আত্মহত্যার। বিশ্বের ইতিহাসে এই “গ্লোমি সানডে” গানটিকে অনেক সুইসাইড ক্যাসের জন্য দায়ী করা হয়। দাবি করা হয় যে এই গানটি শোনার পরে এই পর্যন্ত্য আত্মহত্যা করা মানুষের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। এমনকি এই গানটির সুরকার “সেরেস” গানটি সুর করার ৩৫ বছর পর তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেছিলেন ।

গানটি ১৯৩৩ সালে “রেজো সেরেস” নামক পিয়ানোবাদক দ্বারা সুর করা হয়েছিল যা “ইন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড” শিরোণামে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৩২ সালে প্যারিসে বসবাসরত অবস্থায় সেরেস প্রথম গানটি কম্পোজ করেন। প্রথমে সেরেস গানটির জন্য প্রকাশক খুঁজতে সমস্যায় পড়েন গানটির হতাশাব্যাঞ্জক কথার জন্য। যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গানটির কথা লেখা হয়েছিলো এবং এর শেষে বলা হয়েছে মানুষদের পাপ এর কথা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে গানটি লেখা হয়েছিল।  “ইন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড” গানটির কথায় মানুষের প্রতি মানুষের অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত তাদের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। তবে অসফল প্রেম এর গল্পও লুকিয়ে আছে “গ্লোমি সানডে” নামক এই গানটির মধ্যে।

প্রথম দিকের ভার্সনগুলোতে যে লাইন ছিল তা অনেকটা আত্মহত্যাকে অনুপ্রানিত করে বলে মনে করা হয়। এর একটি লাইন হল,,

“গ্লোমি ইজ সানডে, উইদ স্যাডো আই স্পেন্ড ইট অ্যল,,মাই হার্ট এন্ড আই হ্যাভ ডিসাইডেড টু ইন্ড ইট অ্যল”

গানটির কথা লিখেছিলেন “লাজলো জাভোর”। ভালোবাসার মানুষের মৃত্যু ও মৃত্যুর পরবর্তী জীবণে তার সাথে মিলিত হওয়ার আবেগ নিয়ে লাজলো জাভোর গানটি লিখেছিলেন যা পরবর্তীতে হারানো প্রেমের কষ্ট বহন করে গেছে।

জাভোরের কথা ব্যবহার করে প্রথম হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় গানটি রেকর্ড করেন পাল কামার ১৯৩৫ সালে। হাঙ্গেরিতে তার ভার্সনটি জনপ্রিয় হয়ে উঠে সেই সাথে উল্লেখযোগ্যভাবে আত্মহত্যার হার বেরে যায়। জাভোরের সাবেক স্ত্রীও আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করে ছিলেন। ১৯৩৫ সালে প্রথম পাল কামার হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় গানটি রেকর্ড করার পরবর্তীতে কিছু লোক ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে সুইসাইড করলে এই গানটির দোষ দেয়া হয় কারণ তখন তাদের হাতে গানটির একটি শীট মিউজিক ভার্সন ধরা ছিল। অনেক রেডিও নেটওয়ার্ক গানটি প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল যদিও এ দাবিগুলো প্রমানিত নয়। এছাড়াও এই গানটি নিয়ে অনেক ঘটনা শোনা যাই,,যেমন শোনা যাই যে একজন হাঙ্গেরিয়ান মুচি যেখানে আত্মহত্যা করেছিলেন সেখানে একটি নোট পাওয়া গিয়েছিলো যেখানে “গ্লোমি সানডে” এর  কিছু লাইন লেখা ছিল। দুজন লোক তাদের নিজেদের গুলি করে সুইসাইড করেছিলেন যে সময় একটি ব্যান্ড “হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং” গানটি করতে ছিলেন। কোন গবেষণাতেই অবশ্য স্পষ্ট করে গান ও আত্মহত্যা সম্পর্ক বোঝানো সম্ভব হয়নি।

এই গানটিতে এমন কি আছে যার জন্যে মানুষ আত্মহত্যা করতে এগিয়ে যাই???আপনাদের বোঝার সুবিধার জন্য গানটির কথা বাংলায় অনুবাদ করে  দিলাম,,এটি পড়লেই আপনার বোঝা হয়ে যাবে কি এমন আছে এই বিস্ময়কর গানটিতে। 

“”শত শত সাদা ফুলের সাথে অদ্ভুত রবিবার
আমি আপনার জন্য আমার প্রার্থনাশৈলীতে প্রার্থনা করার অপেক্ষা করছিলাম। । 
একটি রবিবার সকালে, ছুটছিলাম আমি আমার স্বপ্নের পিছে 
আমার দুঃখের বহিঃপ্রকাশ তোমার কাছে ফিরিয়ে নিল
এরপর থেকে  আমার রবিবার চিরকাল দুঃখজনক
কান্না  আমার একমাত্র পানীয়, দুঃখ আমার রুটি । । 

মেঘাচ্ছন্ন রবিবার

এই রবিবার, আমার প্রিয় আমার কাছে আসো দয়া করে
সেখানে একটি যাজক, একটি কফিন, এবং একটি ঘূর্ণন শীট হবে
আপনার জন্য ফুল থাকবে, ফুল এবং একটি কফিন 
ফুল গাছের নীচে এটি আমার শেষ যাত্রা হবে। । 
আমার চোখ খোলা হবে, যাতে আমি আপনাকে শেষবারের মত দেখতে পাই
আমার চোখে ভয় পেও না, আমি তোমাকে আমার মৃত্যুর পরেও আশীর্বাদ করছি । । 

রবিবার হতাশাজনক,
আমার ঘন্টা নিদ্রালু হয়।
প্রিয়তম ছায়া
আমি বেঁচে থাকা সঙ্গে বেঁচে থাকা

ছোট সাদা ফুল
কখনো তোমাকে জাগিয়ে তুলবে না
যেখানে কালো  স্মৃতি   
তোমাকে নিয়ে গেছে।

এঞ্জেলস এর কি কোন চিন্তা আছে
কখনও আপনাকে ফিরিয়ে দেবার ??
তারা কি রাগ হবে?
যদি আমি তোমার সাথে ওখানে যোগ দেয়ার কথা ভাবতাম??

মেঘাচ্ছন্ন রবিবার

অদ্ভুত রবিবার,
ছায়ার  সাথে সব সময় হয় পার 
আমার হৃদয় এবং আমি, 
সব শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি 

শীঘ্রই সেখানে  মোমবাতি জ্বলবে
এবং প্রার্থনা করা হবে
তাদের কাঁদতে দিয়োনা ,
তাদের জানাতে হবে যে আমি যেতে পেরে আনন্দিত।। 

মৃত্যু কোন স্বপ্ন নয়,
মৃত্যুর জন্য আমি তোমাকে দমিয়ে রেখেছি
আমার আত্মার শেষ শ্বাস হলেও ,
আমি তোমার উপর আশীর্বাদ করবো।

মেঘাচ্ছন্ন রবিবার

স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখছিলাম
জেগে উঠি এবং আমি আপনাকে ঘুমিয়ে  থাকতে দেখেছি 
আমার হৃদয় গভীরে 

ডার্লিং, আমি আশা করি
আমার স্বপ্ন কখনো তোমাকে ঘৃণা করলো না
আমার হৃদয় আপনাকে বলছে,
কতটা আমি আপনাকে চেয়েছিলাম । । “

১৯৩৫ সালে রাশিয়ায় রাশিয়ান ভাষায় এবং ১৯৩৬ সালে ফ্রান্স এবং জাপানেও তাদের ভাষায় গানটি রেকর্ড করা হয়েছিল। বিবিসি প্রায় ৬৬ বছরের জন্য এই গানের  প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল যদিও ২০০২ সালে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল। ইংরেজি ভাষায় গানটির কয়েকটি ভার্সন বের হয়। “হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং” তথা “গ্লোমি সানডে” গানটি আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

পোশাক শিল্প

Now Reading
পোশাক শিল্প

টেক্সটাইল এবং পোশাক খাত বাংলাদেশের বৃহত্তম উৎপাদন কাজ করে। এটি 5 মিলিয়ন মানুষকে সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়, যা দেশের সকল শিল্পকর্মের ৪৫ শতাংশ । Textile and clothing (টি ও সি) শিল্প বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশ হয় এবং ব্যাপক ভাবে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে এর কারনে আমাদের অর্থনীতি আর ভাল হয় আমাদের দেশ আরো এক ধাপ সামনের দিকে অগ্রসর হয় । আমাদের দেশের বস্ত্র বিদেশে রপ্তানির করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে আর এই গার্মেন্টস শিল্পই আমাদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি প্রদান উৎস । এই সেক্টরটি একদিনে বড় হয়নি, আজ আমরা যেই পর্যায় আছি তার পিচনে আছে একটি দীর্ঘ ইতিহাস যা আমি কিচুটা বলার চেষ্টা করব ।

 

সাল ১৯৭১

১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে বেশীরভাগ শিল্প কারখানাই ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের মালিকানাধীন । সেই সময়ের মধ্যে, ১৯৬০-এর দশকে স্থানীয় বাংলার (পূর্ব পাকিস্তানে)উদ্যোক্তারা তাদের নিজস্ব অর্থায়নে একটি টেক্সটাইল ও পাট কারখানা স্থাপন করেছিল । পূর্ব পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্নতার পর নবগঠিত বাংলাদেশর অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উভয়ই হারিয়েছে । সেই সময় বাংলাদেশের কাছে না ছিল কোন অর্থ না ছিল কোন প্রকার প্রযুক্তি কারন স্বাধীনতার যুদ্বের সময় পাকিস্তানিরা আমাদের সকল শিল্প কারখানা ধংস করে দেয় ।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পর্যন্ত, টেক্সটাইল সেক্টর মূলত আমদানির পরিবর্তে প্রতিস্থাপন শিল্পায়ন প্রক্রিয়ার দরকার হয়েছিল । স্বাধীনতার পর, বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের উপর বিশেষ করে রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) সেক্টরের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে বাংলাদেশ রপ্তানি ও রপ্তানিকারক শিল্পায়ন (ইওআই) উদ্দ্যগ গ্রহণ করে। বালাদেশের প্রতিষ্ঠার পরপরই, চা ও পাট ছিল সবচেয়ে রপ্তানি ভিত্তিক একটি সেক্টর যাআমাদের সেই সময় প্রচুর পরিমাণে লাব জনক অব্যস্থায় ছিল । কিন্তু পরে বিভিন্ন ধরনের  হুমকির মুখে পরে, পাটের মূল্য হ্রাস এবং বিশ্বের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অবনতির কারণে, দেশের অর্থনীতিতে পাটের অবদান কমেছে ।

factory_bangladesh_wide-3201b09292609984d2c7296835db67ab4aea8dc7-s900-c85.jpg

সাল ১৯৭২

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা (জাতীয়করণ) আদেশ প্রণয়ন, বেসরকারি মালিকানাধীন টেক্সটাইল কারখানা এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশন (বিটিএমসি) নামে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থার (এসওই) তৈরি করে নতুন সরকার । রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান গণতন্ত্র ও পুঁজিবাদের একটি সমাজতান্ত্রিক ফর্ম এর উন্নীতি করেন। বি.টি.এম.সি কখনও ১৯৭১ সালের প্রাক-পূর্বাভাসের সাথে মিল রেখে পরিচালিত হয়নি এবং ১৯৭৫-১৯৭৬ অর্থবছরের পর অর্থ হারায়। ১৯৮০ এর দশকের প্রথম দিকে, বাংলাদেশে প্রায় সব স্পিনিং মিল এবং প্রায় ৮৫ শতাংশ টেক্সটাইল শিল্পে এবং সম্পদের মালিকানা ছিল (ছোট ব্যবসার ছাড়া) ।  ১৯৮২ সালের নতুন শিল্পকৌশল নীতি (এনপিআই) -এর অধীনে জুট মিলস এবং টেক্সটাইল মিলসহ এই বিপুলসংখ্যক সম্পদের মালিকানা তাদের মূল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ।

সাল ১৯৭৪

১৯৭৪ সালে ধ্বংসাত্মক দুর্ভিক্ষে এই সালে ব্রহ্মপুত্র নদী বন্যা এবং চালের দাম বৃদ্ধিতে এবং ভূমিকম্পের কারণে দশ লক্ষ মানুষ মারা যায়। দুর্ভিক্ষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিবিপ্লবের প্রতিক্রিয়ায় আংশিকভাবে, বাংলাদেশ সরকার সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিতে সরকারী নীতি পরিবর্তন করে এবং বেসরকারী খাতকে উৎসাহিত করার ফলে বস্ত্র শিল্পে সরকারী খাতকে ভূমিকা রাখে । ১৯৭৪ সালের নতুন বিনিয়োগ নীতিটি ব্যক্তিগত ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উভয়ের অধিকার পুনরুদ্ধার করে। বেসরকারি খাতের নেতৃত্বাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে প্রধানত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগ (এসওই) দিয়ে শিল্প উন্নয়নের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাবিষয়ক পদ্ধতি থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নের মডেলটি চালু করা হয়েছে।বেসরকারি খাতের নেতৃত্বাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গুলো কে প্রধানত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগ (এসওই) দিয়ে শিল্প উন্নয়নের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাবিষয়ক পদ্ধতি থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নের মডেলটি চালু করা হয়েছে।

উত্তর আমেরিকার বাজারে ও ইউরোপীয় বাজারের পক্ষপাতমূলক বাজার অ্যাক্সেস মাল্টি ফাইবার ব্যবস্থা (এমএফএ) (১৯৭৪-২০০৫) অধীনে কোটা দুটি অ-বাজার(non-market) কারণের গ্লোবাল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া(Global restructuring processes), একটি রপ্তানিমুখী এর “উত্থানের নেতৃত্বে প্রদান করে ১৯৭০ এর দশকে বাংলাদেশে গার্মেন্টস ক্রমান্বয়ে সাফল্য নিশ্চিত করে। বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্প প্রধান রপ্তানী খাত হয়ে ওঠে এবং ১৯৮০ সালে বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় উৎস হয়ে ওঠে এবং ২00২ সালে $৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি করে। ১৯৮০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।স ১৯৮১ সাল ৩০০ টি টেক্সটাইল কোম্পানি তাদের মূল মালিকদের কাছে ফিরে আসে ।

১৯৮২ সালে রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসার অল্পক্ষণ পরেই রাষ্ট্রপতি হুসেন মুহম্মদ এরশাদ নিউ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি (এনপিআই) প্রবর্তন করেন এবং ব্যক্তিগতকরণ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ, যা বেশিরভাগ টেক্সটাইল শিল্পকে ন্যায্যতা দেয় ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) তৈরি করে এবং সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগকারি দের উৎসাহতা প্রদান করে । নতুন শিল্প নীতি (এনপিআই) এর অধীনে ৩৩ টি পাটকল এবং ২৭টি টেক্সটাইল মিল তাদের মূল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্পটি ১৯৮১ সালে ৩.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১০.৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয় ২০০৭ সালে মাঝে । পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, বেড়েছে আয় উন্নত হয়েছে আমাদের দেশ উন্নত হয়েছি আমরা । ১৯৯৫ থেকে ২00৫ সাল পর্যন্ত বস্ত্র ও পোশাক (এ টিসি) সংক্রান্ত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা চুক্তি কার্যকর ছিল এই চুক্তির কারনে বাংলাদেশের অনেক উপকার হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডিয়ান বাজারের জন্য কোটা-ফ্রি অ্যাক্সেস থেকে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি উপকৃত হয়।

পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, বেড়েছে আয় উন্নত হয়েছে আমাদের দেশ উন্নত হয়েছি আমরা । কিন্তু আজও আমরা এই পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের দিলাম না কোন মর্যাদা,দিলাম না তাদের কাজের প্ররিশ্রমিক,দিলাম না তাদের জীবনের নিরাপত্তা ।

ap625351757099_wide-58db5446ac6a742a5b3a730bda638bfd7ca22367-s900-c85.jpg

ফলের মুকুটহীন সম্রাট “আম” এর অজানা কিছু তথ্য

Now Reading
ফলের মুকুটহীন সম্রাট “আম” এর অজানা কিছু তথ্য

বাংলাদেশ,ফুলে ফলে সমৃদ্ধ এই দেশ। ষড়ঋতুর এই দেশে প্রতিটি মৌসুম পরিপূর্ণ হয় বিভিন্ন সুস্বাদু ফলে। গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ হেমন্ত প্রতিটি ঋতুর আছে নিজেস্ব কিছু ফল। তবে বাঙালির কাছে গ্রীষ্ম কালটা যেন ফলের সমাহার নিয়ে আসে। আম জাম লিচু তরমুজ কতই না বাহারি ফল। তাই আমিও ভাবলাম এমন কিছু লিখি যা এই গ্রীষ্ম কালকে আরো ফলময় করে তুলবে। তাই আমি ভাবলাম ফলের রাজা ”আম” নিয়ে কিছু লিখবো।

আম একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। যা গ্রীষ্মপ্রধান দেশ গুলোতে চাষ হয়ে থাকে।আমের উৎপত্তি “Mangifera indica” যা Anacardiaceae পরিবারের একটি ফল (বৈজ্ঞানিক তথ্যমতে)। কিছু সূত্রমতে এইধরণের ফল বাংলাদেশ ,ভারত ,মায়ানমারে বেশি ফলে থাকে। তবে গর্বের বেপার এইযে এর মধ্যে বাংলাদেশ এর আম বিশ্ব বিখ্যাত। বলা হয়ে থাকে ৬৩২ এবং ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে ভারত ভ্রমণকালে সুপরিচিত চীনা পর্যটক “হুইন টিসং” আমকে প্রথম বহির্বিশ্বের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ১৫৫৬-১৬০৫ সালে মুঘল সম্রাট আকবার তৎকালীন ভারতের দ্বারভাঙা নগরে ১০০০০০ আমগাছের বাগান করেন। যা ভারত উপমহাদেশের প্রথম আমবাগান হিসেবে পরিচিত।
আমের ইংরেজি নাম “ম্যাংগো”,তামিল শব্দ  “ম্যান-গায়” থেকে এসেছে। পর্তুগিজ শাসনামলে যাকে “মাঙ্গা” বলা হতো। ১৭০০ সালের দিকে ব্রাজিল এ আমগাছ রোপন করা হয় যা ভারত উপমহাদেশের বাহিরে রোপন করা প্রথম আমগাছ।পরবর্তীতে বিভিন্ন বন্য পশুপাখি দ্বারা এটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে।

বাংলাদেশে প্রচুর প্রজাতির আম উৎপাদন হয়ে থাকে। যার বেশির ভাগ রাজশাহী ,নাটোর,চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং দিনাজপুরে হয়ে থাকে। এবং এইখানে ফলা আমের চাহিদা বাজারে বেশি। বিশিষ্ট কিছু বৈচিত্রের মধ্যে ফজলি ,ল্যাংড়া ,গোপাল ভোগ ,লক্ষণ ভোগ ,মোহনভোগ ,রাজভোগ,হিমসাগর ,কালুয়া ,খিরসাপাত ইত্যাদি বেশি জনপ্রিয়। চলুন জাতভেদে আমের কিছু বৈশিষ্ট জেনে নেই।

ফজলি :এই জাতের আম সাধারণত মৌসুমের শেষের দিকে পাওয়ায়।ফজলি সাধারণত আচার এবং জেলি তৈরিতে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি আকারে অনেক বোরো হয়ে থাকে। সাধারণত একটি আম ১-১.৫ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এই জাতের ফলন হয়ে থাকে।

ল্যাংড়া :এইটা হয়তো অনেকেরই অজানা যে কেন এই জাতের আমকে ল্যাংড়া বলা হয়। এর পেছনে আছে একটি গল্প। যে ব্যেক্তি প্রথম এই জাতের আমগাছ রোপন করেছিলেন তার একটি পা ছিল না যার জন্য তাই এলাকাবাসী তাকে ল্যাংড়া বলে ডাকতো। পরবর্তীতে তার নাম অনুসারে এই জাতের নাম দেয়া হয় ল্যাংড়া। বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত একটি আমের জাত এইটা। আকারে উপবৃত্তাকার হয় এই ধরণের আম।

খিরসাপাত:এই জাতের আমের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট আছে। আর তা হলো এই আমি খোসা না ছাড়িয়ে খাওয়া যায়। আর তার জন্য আপনাকে বেশি কিছু করতে হবে না। আপনাকে শুধু আমটাকে ভালো মতো ভর্তা করতে হবে ( খোসা সহ ) এরপর ছোট্ট একটি ফুটো করে ভেতরে থাকা ম্যাংগো জুস এর মজা নিন। মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এই জাতের আম পাওয়ায়। বাংলাদেশের বাজারের জনপ্রিয় আমগুলোর মধ্যে এটা অন্যতম।

কালুয়া :এই জাতের আম সাধারণত ডিম্বাকার হয়ে থাকে। পাকা অবস্থায় খোসা সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে এবং ভেতরে অনেকটা লালটে হলুদ বর্ণের হয়। কাঁচা অবস্থায় প্রচুর অম্লীয় হলেও পাকার পর তা অনেক সুস্বাদু এবং মিষ্টি হয়। এই জাতের আমি গাছেই পাকাতে হয় কারণ কাঁচা অবস্থায় পারলে এর অম্লীয়ভাব তা থেকেই যায়।

হিমসাগর : হিমসাগর জাতের আম খুব অল্পসময়ে ফলন হয়। এই জাতের আম খুব মিষ্টি হয়ে থাকে। বলা হয় হিমসাগর আম যখন পাকে ,এর মিষ্টি গন্ধ ঘরে বসে পাওয়ায়। অনেকেই এই জাতের আমকে “আমের রাজা” বলে থাকে। এই জাতের আম পাকা অবস্থায় বাহির থেকে সবুজ এবং ভেতরটা হলুদাভ হয়ে থাকে। এই জাতের আমের কোনো আঁশ থাকে না। মাঝারি আকারের এই আমের ওজন  ২৫০-৩৫০ গ্রাম হয়ে থাকে। বলা হয় অনেক কবি সাহিত্যিক তাদের কবিতায় ,গানে এই আমের কথা লিখে থাকে।

বাংলাদেশে এক সময় প্রায় ৬৩৯৮২০ মে.টন আম উৎপাদন হত।তবে বিগত বছর গুলোতে এর মাত্রা কমেছে।উৎপাদনের হার কোমর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে আর তা হল
১.পুরোনো গাছ গুলো আর আগের মতো ফলন দিতে পারছে না।
২.বাগান মালিকদের মৌসুমী ফল চাষের প্রতি আগ্রহ কমেছে।
৩.পর্যাপ্ত পরিচর্যার অভাব।
৪.ফলন সহায়ক কীটপতঙ্গের অভাব।
৫.ফলন যোগ্য জমিতে আবাসিক ভবন ,মার্কেট ইত্যাদি তৈরী।
প্রতিবছর কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী বেশি লাভের আশায় বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করে আমের দ্রুত ফলন করে থাকে। যার জন্য আম হারাচ্ছে তার স্বাদ। এবং এই ধরণের আম খেয়ে প্রচুর মানুষ হচ্ছে অসুস্থ। সেই সকল অসাধু ব্যাবসায়ীদের উদ্দশ্যে বলতে চাই আপনারা হয়তো জানেন না আপনাদের এই নোংরামির জন্য আমের রাজ্য বলে খ্যাত বাংলাদেশ তার সিংহাসন হারাতে বসেছে। সরকারের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ এই সব অসাধু ব্যাবসায়ীদের কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি প্রদানের আইন করুন। কারণ তাদের এই কাজ তা কি দেশদ্রোহিতার সমতুল্য না ?

যাই হোক। আমের মৌসুম আর হয়তো ১০-১২ দিন বাদে শুরু হচ্ছে।তাই বেশি করে আম খান চালের( চালের দাম এবার মাথার ওপরে ) ওপরে চাপ কমান। আর যেহেতু এবার পুরো মৌসুম রমজানের মধ্যে পড়ছে। তাই টাকা দিয়ে বিদেশী ফল না খেয়ে আম/কাঁঠাল খান। আপনার শরীরের শর্করার চাহিদাই পূরণ করবে ইনশাআল্লাহ।

বাংলার কৃতি সন্তান স্যার ড. এম. আজিজুল হক

Now Reading
বাংলার কৃতি সন্তান স্যার ড. এম. আজিজুল হক

স্যার আজিজুল হক ১৮৯২ সালের ২৭ নভেম্বর নদীয়া জেলার শান্তিপুর গ্রামের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবার জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতা মুন্সি মনিরুদ্দিন আহমেদ এবং পিতামহ নাসিম উদ্দিন আহমেদ ।তিনি পিতা মাতার এক মাত্র সন্তান ।

শান্তিপুরে পিতামহের প্রতিষ্ঠিত পারিবারিক বিদ্যালয় আরবি ও বাংলা শেখার মাধ্যমে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় । শান্তিপুর মুসলিম হাইস্কুলে তিনি লেখাপড়া করেন এবং ১৯০৭ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাস করেন । কলকাতা প্রেসিডেন্সি  কলেজে এম.এ ও বি. এ অধ্যয়ন করেন । ১৯০৯ সালে এফ. এ ও ১৯১১ সালে Distingshon সহ বি.এ পাস করেন । কলকাতা ইউনিভার্সিটি Law College থেকে ১৯১৪ সালে তিনি বি.এল ডিগ্রি  লাভ করেন ।

১৯১৫ সালে কৃষ্ণ নগর জেলা আদালতে ওকালতি শুরুর মধ্য দিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন । বেটণা Union Board এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হন। ১৯২৬ সালে নদীয়া জেলার সরকারি উকিল ও পাবলিক PP পদ লাভ করেন । ১৯৩৪ সালের ১৫ই জুন বঙ্গীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত হন । ১৯৩৭ সালে বঙ্গীয় সভার সদস্য নির্বাচিত হন ।১৯৪২ সালে ভারতের হাইকমিশনার পদে নিযুক্ত হয়ে লন্ডন গমন করেন ।

তিনি  ১৯২৬ সালে খান বাহাদুর , ১৯৩৭ সালে সি .আ .ই  ,১৯৩৯ সালে নাইট উপাধি পান । তিনি ইউ . টি . সি অরানারি Lieutenant কর্নেল ছিল । বগুড়ায় তাঁর নামে ১৯৩৯ সালের ৯ জুলাই আজিজুল হক কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ।

Histoy and Problems of Moslem Education in Bengal (1917) ,Education & Retrenchment (1924) ,The Sword of the Cresent Moon (1984),Cultural Contributions of Islam to Indian Hisory : A Plea for Searate Electorate in Bengal (1931) ,The Man Behind the Plough (1939) etc….হল তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ।

স্যার ড. এম. আজিজুল হক কলকাতার ১৯৪৭ সালের ১৯ মার্চ তারিখে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।