নকিয়ার নবউত্থান!

Now Reading
নকিয়ার নবউত্থান!

নকিয়া নাম শুনেনি এমন কাউকে হয়ত খুজে পাওয়া যাবেনা।এমনকি নকিয়ার মোবাইল কখনই ব্যাবহার করেনি এমন মানুষ খুজে পাওয়াও দুষ্কর।আমরা সবাই কখনো না কখনো নকিয়ার মোবাইল ব্যাবহার করেছি।একসময় পৃথিবীর মোবাইল বাজারে একক আধিপত্য বিস্তার করেছিল নকিয়া নামক ফিনল্যান্ডের এই কোম্পানিটি।তবে এক সময়ের বিশ্ব কাঁপানো এই কোম্পানিটি হারিয়ে যায় মোবাইল বাজার থেকে।চলুন জেনে নেয়া যাক নকিয়া বিষয়ক কিছু তথ্যঃ

১.নকিয়ার সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ নকিয়া কর্পোরেশন ফিনল্যান্ড ভিত্তিক বহুজাতিক টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত কোম্পানি।২০০০ সালের প্রথম দিকে পৃথিবীতে সেলফোন সরবরাহের ৪০ শতাংশ করত নকিয়া। দেশেও চাহিদা ছিল বেশ। রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব দ্য ফিনিশ ইকোনমির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ফিনল্যান্ডের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক-চতুর্থাংশ হয় নকিয়ার কল্যাণে।বহুদিন সেলফোনের বৈশ্বিক বাজারে আধিপত্য ছিল নকিয়ার। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও বাড়তে থাকে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ব্যবসার পরিসর বাড়াতে সরবরাহ করতে থাকে অতি আধুনিক স্মার্টফোন। প্রতিযোগিতার বাজারে পিছিয়ে পড়ে ফোনশিল্পের এক সময়ের উজ্জ্বল নক্ষত্র নকিয়া। ২০১২ সাল পর্যন্ত নোকিয়া বিশ্বের সর্ববৃহৎ মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানি ছিল। তবে বাজারে টাচস্ক্রিন প্রযুক্তির আবির্ভাবের ফলে নকিয়া ধীরে ধীরে পিছিয়ে যায়। গুগলের তৈরী এনড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার না করার ঘোষনায় নোকিয়ার শেয়ারের দাম ৪০ মার্কিন ডলার থেকে পরে মাত্র ২ মার্কিন ডলারে নেমে আসে।

২.নকিয়ার উত্থানঃ ১৯৮২ সালে নকিয়া তাদের প্রথম মোবাইল ফোন বাজারে ছাড়ে।নভেম্বর, ১৯৯২ সালে নকিয়া বাজারে নিয়ে আসে ‘নকিয়া ১০১১’। মূলত এই মোবাইলের মাধ্যমে ফিনল্যান্ড সহ বিশ্ববাজারে ব্যাপক পরিচিতি পায় নকিয়া।নকিয়ার জনপ্রিয়তা একসময় ছিল আকাশচুম্বী।তখন প্রায় প্রতিটি ঘরেই নকিয়ার মোবাইল পাওয়া যেত। ২০০০ সালের পর নকিয়া একের পর এক বাজারে আনে ৩৩১০, ১১১০ এর মতো বেস্ট সেলিং মোবাইল সেটগুলো। ২০০২ সালে নকিয়া বাজারে আনে তাদের প্রথম ক্যামেরাসংযুক্ত মোবাইল ফোন। ০.৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাবিশিষ্ট এই মোবাইল ফোন বাজারে বেশ সাড়া ফেলে।তারপর নকিয়ার নিত্যনতুন মোবাইল বাজারে আসতে থাকে এবং নকিয়ার জনপ্রিয়তাও বাড়তে থাকে। 95b0794abaaa98136ba8523266e8e732.jpg

২.নকিয়ার পতনঃ২০০৭-০৮ মৌসুমে বাজারে আসতে শুরু করে এন্ড্রয়েডচালিত স্মার্টফোন, অন্যদিকে আইফোনও তার নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমচালিত স্মার্টফোন।  প্রতিযোগিতায় তাল মিলাতে হিমশিম খেয়ে যায় নকিয়া। প্রথমে নকিয়ার নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘সিম্বিয়ান আসে কিন্তু তা খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি।

nokia-microsoft1.jpg২০১৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর মাইক্রোসফট ৭.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিময়ে নোকিয়ার ব্যবসায়িক শাখা কিনে নেওয়ার ইচ্ছা পোষন করে। এই চুক্তি অনুযায়ী নোকিয়ার প্রধান নির্বাহী সহ আরও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা মাইক্রোসফটে যোগদান করবে।মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেমে নির্মিত প্রথম স্মার্টফোন ‘লুমিয়া ৮০০’ বাজারে তেমন সাড়া ফেলেনি।তারপর থেকে মাইক্রোসফট নকিয়ার নামে মোবাইল বানানো শুরু করে কিন্তু তা খুব একটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি।এন্ড্রয়েডচালিত ফোন এবং আইফোনের ভিড়ে হারিয়ে যেতে শুরু করে নকিয়ার মোবাইল।২০১৪ সালের দিকে মাইক্রোসফট আর নকিয়ার চুক্তি শেষ হয়ে যায়।

৩.নকিয়ার পুনরুত্থানঃ   ২০১৬ সালে নকিয়া HMD GLOBAL নামে ফিনল্যান্ডের এক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। HMD Global মূলত এখন থেকে নকিয়ার স্মার্টফোন আর ফিচার ফোন বানানোর কাজটি করবে। তবে এই প্রতিষ্ঠানটি নকিয়া ৩৩১০-কে আবারে বাজারে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়ে বেশ সাড়া ফেলে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বার্সেলোনাতে ওয়ার্ল্ড মোবাইল কংগ্রেসে নতুন এই নকিয়া ৩৩১০ ফোন বাজারে আনে এই প্রতিষ্ঠানটি.মোবাইলটি বাজারে আসার পর আশানুরুপ জনপ্রিয়তা পায়।এরপর নকিয়া রিলিজ করে তাদের নকিয়া ৬ নামক এন্ড্রয়েডচালিত স্মার্টফোন।যদিও এটি একটি মধ্যম বাজেটের ফোন তারপরও এই ফোনটিও যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পায়।কিছুদিনের মধ্যে  নকিয়া তাদের ফ্লাগশিপ ফোন নকিয়া৮ বের করবে।আশা করা যায় এই ফোনটিও আগের ফোনগুলোর মতো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করবে।

nokia-6-white1.jpg

একসময়ের বিশ্ব কাঁপানো মোবাইল কোম্পানি নকিয়া মাঝখানে কিছুদিন হারিয়ে গেলেও আবার পুনরুদ্দমে ফিরে আসার চেষ্টা করছে।আশা করি আমাদের সবার প্রিয় নকিয়া আবার এক নাম্বার মোবাইল কোম্পানি হতে পারবে।