একটি বেল গাছের কাহিনী

Now Reading
একটি বেল গাছের কাহিনী

বেলতলা নামে এক গ্রামের ঘটনা।সেই গ্রামের একবারে পূর্ব পাশে একটা ঘর নিয়ে থাকতো রহিমা বিবি। তার স্বামী মারা গেছে। সারাদিন মানুষের বাড়িতে কাজ করে যেই টাকা পেতো তা দিয়েই দিন কেটে যেতো। ছোট একটা মেয়ে ছিল রহিমার। বয়স ১১ বছর।

সেই মেয়েকে নিয়েই গ্রামের একদম শেষ মাথার একটি ঘরে থাকতো রহিমা। কষ্ট করে মা-মেয়ে দুইজনের দিন কেটে যেত।যাই হোক, ঠিক তাদের বাড়ির পাশেই একটা বিরাট আকারের বেল গাছ ছিল। সেই বেল গাছ নিয়ে গ্রামে নানাধরণের কথা প্রচলিত ছিল। মাঝে মাঝেই নাকি সেই গাছের নিচে একটা লোককে বসে থাকতে দেখা যেতো। লোকটিকে যখনই দেখা যেতো তখনই নাকি দূরে কোথাও কুকুরের কান্নার আওয়াজ পাওয়া যেতো। তবে রহিমা আর তার মেয়ের কাছে এটা কোন নতুন ঘটনা নয়।রহিমার মেয়ে প্রায়ই বেল গাছের নিচে বসে থাকা লোকটিকে দেখতো আর রহিমাকে প্রশ্ন করতো “এই লোকটি কে”? রহিমা তখন বলতো জানালা বন্ধ করে দেও।মার্চ মাসের কোনও এক রবিবারে শহর থেকে নিজেদের দোকানের জন্য কেনাকাটা করে ফিরছিল একদল গ্রাম্য দোকানদার। সংখ্যায় তারা ১২-১৫ জনের মতো ছিলেন। রাত তখন ১১ টার মতো হবে। রহিমাদের বাসার সন্নিকটে আসতেই তারা দেখতে পেলেন,সেই গাছের নিচে লোকটি বসে আছে এবং লোকটিকে ঘিরে আছে একদল মানুষ আকৃতির ছায়ামূর্তি। প্রতিটা ছায়ামূর্তি আঁকারে যেকোনো

মানুষের প্রায় দ্বিগুণ। তারা সবাই দেখে দম বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকেন। মিনিট খানেক পরে একসময় ছায়ামূর্তিগুলো ভাসতে ভাসতে সেই গাছের উপরে
উঠে মিলিয়ে যায় এবং এর খানিকপর গাছের নিচে বসে থাকা লোকটিকে আর দেখা যায় না। ঠিক সে সময় তাদের চমকে দিয়ে রহিমার ঘর থেকে ভয়ঙ্কর আর্তনাদের আওয়াজ ভেসে আসে। তারা প্রত্যেকেই ভয় পেয়ে যায় এবং দ্রুত সেই স্থান ত্যাগ করে। পরের দিন সকালে স্থানীয় কিছু মানুষ হাতে লাঠি নিয়ে সেই ঘরের দিকে গেলে ঘরের মেঝেতে রহিমা এবং তার মেয়ের মাথাবিহীন লাশ খুঁজে পায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাদের মাথাগুলো পাওয়া যায় সেই গাছের মগডালে। ঠিক যেখানে গ্রাম্য দোকানদাররা আগের রাতে ঐসব ছায়ামূর্তিগুলোকে কে হারিয়ে যেতে দেখেছিল।আর তার চেয়েও ভূতুরে ব্যাপার হলো গাছটির শিকড়ের নিচে মাটি খুরে অনেকগুলো মাথার খুলি পাওয়া যায়।যা গ্রামবাসীদের ভয় আরো বাড়িয়ে দেয়। পুলিশ বাবু এসে সবার কাছে রহিমার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে।সেই গ্রাম্য দোকানদারদের কথায় তিনি কোন কান ই দিলেন না।তিনি এটাকে কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিলেন।তিনি সকল তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশস্টেশনের দিকে রওনা হন। সেই ঘরটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং সবাইকে জানিয়ে দেন যে বেল গাছটির আশেপাশে কাউকে দেখা গেলেই যাতে পুলিশস্টেশনে জানায়।এইদিকে গ্রামেরবাসীদের মাঝে নানাধরনের কথা শুরু হয়।কেউ বলে “আমি আগে থেকেই জানতাম এমন কিছুই হবে,ভূতের সাথে কি আর মানুষ থাকতে পারে!”আবার কেউ বলে এই বেল গাছটার কারণেই সব হচ্ছে,এবার এটা কেটে ফেলতে হবে”।যাইহোক,পুলিশবাবু এইসব কথায় বিশ্বাস করেন না।তিনি তার ইনভেস্টিগেশনে ব্যস্ত।তার কাছে এটা নিতান্তই একটা হত্যা মাত্র।পরের দিন সকালে যখন তিনি আবার গ্রামে যান তখন শুনতে পান যে কাল রাতেও নাকি বেল গাছের নিচে লোকটিকে দেখা গেছে।কিন্তু গ্রামবাসীরা ভয়ে ঘর থেকে বের হয়নি।একজন বৃদ্ধা মহিলা পুলিশবাবুর কাছে এসে বলে যে সে নাকি জানে কে এই হত্যা করেছে।পুলিশবাবু বৃদ্ধার সাথে তার ঘরে গেলেন।বৃদ্ধার একটি ছোট্ট ঘর সেইখানেই তার দুঃসম্পর্কের এক মেয়েকে নিয়ে থাকেন তিনি।তার এক ছেলে আছে।সে গঞ্জে থাকে।প্রতিমাসে সে এসে টাকা আর নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য দিয়ে যায়।বৃদ্ধা বললো যে সে তার ছোটবেলায় তার মায়ের কাছে শুনেছে যে ইংরেজরা যখন এই ভারত উপমহাদেশে শাসন করতো তখন একজন লোক তাদের সাথে থাকতো তাদের পথ দেখানোর জন্য।তাদের বলা হতো ইংরেজদের দালাল।তেমনি এই গ্রামেও একজন লোক ছিলেন।তাকে গ্রামের সবাই ঘৃণা করতো।তার কারনে অনেক মানুষের প্রাণ গেছে।যখন ইংরেজরাজত্ব শেষ হয় এবং দেশ ভাগ হয়,তখন গ্রামের লোকজনরা তাকে এবং কিছু ইংরেজ সৈনিকদের এই বেল গাছের নিচে নিয়ে এসে হত্যা করে।তারপর থেকেই নাকি তাদের ভূত এই বেল গাছে আছে।বৃদ্ধা আরো জানান যে,শুধু রহিমা নয় এর আগেও অনেক মানুষ এইভাবে প্রাণ দিয়েছে।পুলিশবাবু বৃদ্ধার কথা শুনে এই কথা বুঝতে পারলেন যে এটা শুধু একটা হত্যাকান্ড নয় বরং অনেকগুলো হত্যাকান্ড এখানে হয়েছে।তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে তদন্ত আরো গভীরভাবে করবেন।কিন্তু তার কাছে কোন প্রমাণও যে নেই।কাউকে দোষারোপও করা যাচ্ছে না।কে এই হত্যা করতে পারে এই নিয়েই তিনি অনেক চিন্তিত হয়ে পড়লেন।আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো তিনি জানেন যে এটি একটি হত্যাকান্ড কিন্তু কে এই হত্যাকান্ড করেছে তাকে তিনি সনাক্ত করতে পারছেন না।তার ১০ বছরে এটিই একটু জটিল তদন্ত।যাইহোক,ঘরে ঘরে গিয়ে তিনি তথ্য নিয়ে আবার রওনা হলেন পুলিশস্টেশনের দিকে।পরেরদিন সকালে গ্রামের এক কৃষক পুলিশস্টেশনে এসে পুলিশবাবুকে বললেন যে গতকাল যে বৃদ্ধা তার সাথে কথা বলেছিল সে বৃদ্ধার লাশ বেল গাছের নিচে পাওয়া গেছে।পুলিশবাবু এই কথা শুনে দ্রুত গ্রামের দিকে রওনা হলেন।তিনি গিয়ে দেখেন বেল গাছের নিচে বৃদ্ধার গলাকাটা লাশ।সেই লাশের পাশে বসে বৃদ্ধার সেই দুঃসম্পর্কের মেয়ে কান্নাকাটি করছে।গ্রামের মধ্যে একটা অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে।এই খবর পেয়ে গ্রামের লোকজন ছুটে আসছে বেল গাছ তলায়।

ভূতুড়ে গ্রাম

Now Reading
ভূতুড়ে গ্রাম

আজব এক গ্রাম ! চারিদিকে শুধু গাঢ় সবুজের ঘন বন ! গা ছমছমে শুনশান পরিবেশ। মনে হয় এ গ্রামে কোন মানুষ নেই, আবার কদাচিৎ দু চারজনকে চোখেও পড়ে যায় ! তবে দিনের আলো থাকতেই যে যার ঘরে ফিরে আসে এবং ভুল করেও আর কেউ দরজা খুলে বাইরে বের হয়না। কেমন যেন আতঙ্কে বসবাস করে এখানকার মানুষজন। তাদের সেই অজানা আতঙ্ক ভেদ করে আদিখ্যেতার সম্পর্ক গড়ে তোলা অসম্ভব। তবুও নিজেদের প্রয়োজনেই আগ বাড়িয়ে সম্পর্ক তৈরী করার চেষ্টা !

পাহাড়ের গা ঘেঁষে ছোট্ট গ্রামটি। লোকসংখ্যাও কম এবং শান্ত পরিবেশ। সন্ধ্যার পরে যেন আরো ভয়ঙ্কর‌ শান্ত থাকে গ্রামটি। কখনও থেকে থেকে শেয়ালের ডাক আর বন্য কুকুরের কখনও ডাকাডাকি আবার কখনও একদমই নীরবতাকে ভেদ করে কুকুরের অস্বাভাবিক কান্না !

আর মাঝে মাঝে দূর জঙ্গল থেকে কেমন এক অচেনা কোন পশুর ডাকের আওয়াজ ভেসে আসে। কিন্তু খেয়াল করতে গেলেই থেমে যায় ডাকটি ! সত্যিই কেমন যেন অস্বাভাবিক লাগে পরিবেশ। তবে খুব একটা গুরুত্ব না দেয়ার চেষ্টা করে নতুন আসা দম্পতি। মানুষগুলোও তেমন আগ্রহী নয় কেউ কারো সাথে আলাপচারিতায়। সব যেন নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। সন্ধ্যাটা জানালা খুলে দেখছিলো নীলা আর স্বামী ফেরার অপেক্ষা করছিলো।খেয়াল করল একঝাক মানুষ এলো এবং নিজেদের ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিলো কিন্তু মুখে কোন কথা নেই। আশ্চর্যের কথা হল, এত তাড়া কিসের সবার ঘরে ফেরার !

নীলার স্বামী ফিরলে নীলাও যেন নিশ্চিন্ত হল ! নীলার স্বামী রাজু জানায়, বাড়ি ফিরতে যেদিন ভরা সন্ধ্যা হয়ে যায় সেদিন জঙ্গলের পাশ থেকে যে রাস্তা ধরেই আসতে হয়, ঐ পথ দিয়ে হাঁটার সময় মনে হয় কিছু একটা পেছনে ফিরতে বাধ্য করে আর পেছনে ফিরলেই একটা অদ্ভূত মায়ার সৃষ্টি হয় ! যেন জঙ্গলটি কাছে ডাকছে !

একদিন নিকটবর্তী প্রতিবেশীর কাছ থেকে অদ্ভূতুড়ে রহস্যের জাল ভেদ করার চেষ্টা করে নীলা ও তার স্বামী ! কুশল বিনিময় শেষে জানতে চাইলে অপ্রস্তুত হয়ে গেলেও আরো কিছু রহস্যে ঘেরা ঘটনা শুনে হতবাক হয়ে যায় ওরা !

ঘটনাগুলো এমন যে,

– সন্ধ্যার পরে যারাই একাকী বের হয় তারা আর জীবিত ফেরেনা। অদ্ভূত অঙ্গভঙ্গী এবং রক্তশূণ্য মৃতদেহ পাওয়া যায় বনের ভেতরে অথবা পাহাড়ের চূড়ায় ! আবার কাউকে আর খুঁজেই পাওয়া যায়না কোনদিন। অনেকে অন্ধকারে দূর জঙ্গলে এক প্রকারের অশরীরি পশুর মতন কিছু দেখতে পেয়েছে কিন্তু দিনের বেলায় হাজার চষেও এমন কিছু দেখা যায়নি। এগুলো কি এবং কোথায় থাকে কেউ জানেনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছে ওরাও দলবদ্ধ থাকে। এমনকি পোষা প্রাণীও যদি বাইরে বের হয় তবে পরদিন মৃত পাওয়া যায়। আর প্রায়ই অদ্ভূত অচেনা কোন প্রাণীর ডাক শোনা যায়। ডাকটি খেয়াল করে শুনলে কেমন যেন ঝিম ধরে যায় ! আর নিজের অজান্তেই অনেকে ভুল করে বাইরে বের হলে সে আর ফেরেনা ! আবার কখনও হঠাৎ করে থেমে যায় ডাকটি !

বনবিভাগকে জানানো হয়েছিলো। তারপর তারা একটি টিম এবং সাহসী কিছু গ্রামবাসী সারাদিন, রাত এক করে খুঁজেছে কিন্তু কোন পশু, প্রাণী কোন কিছুরই অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তারপর সবাই বেশ নিশ্চিন্তে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও আমোদফূর্তিতে দিন যাপন করতে লাগলো। সব ভয় যেন মিলিয়ে গেছে এবং হঠাৎ একদিন আবার রহস্যজনকভাবে একের পর এক হারিয়ে যেতে লাগলো, অনেকের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেলেও অনেকের মৃতদেহ আর খুঁজেও পাওয়া গেলনা। তখন সবাই নিশ্চিত হল যে কোন রাক্ষস অথবা অশরীরি কিছইু হবে। ওরা রাতের অন্ধকারে শিকারে বের হয় !

তারপরে অনেকেই গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে কিন্তু নিতান্ত নিরুপায় যারা বা পৈতৃক সম্পত্তির টান যারা উপেক্ষা করতে পারেনি তারাই থেকে গেছে এ গ্রামে। কিন্তু কেউ জীবনের ভয়ে সন্ধ্যার পরে একা বের হয়না।

আজকাল দলবদ্ধভাবেও তেমন কেউ বের হয়না। সবাই বিকেলেই কাজ শেষ করে ঘরে ফিরে দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। হাজার কান্না বা শব্দেও বের হয়না কেউ। ভয় কাটানোর জন্য সন্ধ্যা রাতেই ঘুমিয়ে পড়ে আবার কেউ কেই ধর্ম কর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকে আবার কেউ কেউ বিনোদনের ব্যবস্থা করে নিজের ঘরে। যেন ঐ ঝিম ধরা আওয়াজ বা ডাক শুনতে কেউ না পায় !

একদিন সকালে প্রতিবেশীর থেকে বিদায় নিয়ে নতুন আসা দম্পতি চলে যায় ভূতুরে গ্রাম ছেড়ে! তবে যাবার আগে আরেকটি ঘটনা বলে যায় আর সাবধান করে দিয়ে যায় !

ঘটনাটি হল, আগের রাতে সেই ঝিম ধরা ডাক শুনে তাদের পোষা কুকুরটি জানালা দিয়ে বাইরে চলে যায় ! কুকুরটির খোঁজে নীলাও দরজা খুলে বাইরে এক পাঁ রাখতেই স্বামী তাকে আটকায় ! সেই মুহূর্তে তারা দুজনেই তাদের বাড়ির আশে পাশে কোন কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে। তারপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে ভয় সংশয় নিয়ে সারারাত পোষা কুকুরটির ভাবনায় বসে থাকে। কিন্তু খুব সকালে তারা কুকুরটির খোঁজে বের হলে কুকুরটির অর্ধেক অংশ খুঁজে পায় পেছনের দিকটায় ! এই ঘটনার পরে তারা গ্রাম ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় এবং চলেও যায় চিরদিনের জন্য…।

রহস্য গল্প: কেওক্রাডংয়ের দেশে। ভুতের আবার খুন!

Now Reading
রহস্য গল্প: কেওক্রাডংয়ের দেশে। ভুতের আবার খুন!

ছোটখাটো ছিমছাম হোটেল কাম কুঁড়ে ঘরটায় ঢুকেই অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করলো মনে। এয়ারকুলারের মৃদু শব্দটা ছাড়া চারপাশ চুপচুপে নিরব! ঠিক এমনটাই চেয়েছিলাম আমি।
সকালটা হবে নিরব আলোয় আলোকিত, সন্ধ্যেটা নামবে ঝিঁঝিঁর ডাকের সাথে তাল মিলিয়ে ঝুপ করে,টুপ করে ওঠে পড়বে মস্ত থালার মতো একটা চাঁদ!
একজন লেখকের জীবনে আর কি চাই?
ওহো! একটু ভুল হলো।
 সাগরিকা পাশে থাকলে মন্দ হতোনা অবশ্য। মৃদু বাতাসে ওর আঁচল উড়ে যেতো পতপত করে, আমি সেই শব্দে গল্পের লাইন খুজে বেড়াতাম নিরবে!
অফিসের চাপ সামলাতে সামলাতে মনটা আকুপাকু করছিলো গত কয়টা মাস। তিনদিনের ছুটি পেতেই তাই দৌড়ে পালালাম ঢাকা থেকে। পুরোটা রাত বাসে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে সাত সকালে এসে পৌছুলাম বান্দরবান শহরে।
 তারপর সারাটা দিন চাঁন্দের গাড়ির লক্কর ঢক্কর সেরে বগা লেকের এই কুঁড়েতে এসে ঠাই নিয়ে তবেই শান্তি!
     দুদিন দুরাতের জন্য গুনতে হয়েছে হাজার খানেক টাকা! তাতে কি?
এমন প্রাকৃতিক শান্তির জন্য লাখ খানেক ঢালতেও আমার হাতে আটকাতো না।
ভরপেট খেয়ে অনেক দিন পর এমন নরম ঘুম দিলাম। বয়স কম তারপরও এই বয়সেই গ্যাস্ট্রিক বাঁধিয়ে বসেছি আমি, প্রতি রাতেই ব্যাথা ওঠে।
  তাইতো আমার বালিশের তলায় একপাতা করে সারজেল, রেনিটেড থাকাটা বিচিত্র কিছু নয় আজকাল। অথচ আজ রাতে ঘুমই ভাঙলোনা একবারের জন্যও!
এজন্যই বোধহয় ডাক্তাররা পথ্যের সাথে সাথে মানসিক ব্যাপারটায়ও জোর দেন!
খুব ভোরে গাইড নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম বগা লেকের পথে। ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা সাতটা। আজ একটু লেখালেখি করবো ভেবে জলদি শুয়ে পড়লাম।
মাঝ রাতে ঘুমটা ভেঙে গেলো!
বাইরে ক্রমাগত ঠুন ঠুন করে বিশ্রী একটা শব্দ হচ্ছে! এত রাতে এ কেমন বিরক্ত বাপু!!
ছিটকিনি খুলে বেরিয়ে এসেই থমকে গেলাম আমি।
আকাশে মস্ত একটা রূপালি থালা, চারদিকে যেনো স্বর্গীয় সোনালি আভা ছড়িয়ে আছে!
ঠুন ঠুন ঠুন..!
একটু থেমেছিলো,এখন বিরক্তিকর শব্দটা আবার শুরু হলো।
    “এমন সৌন্দর্য্য ফেলে কোন বেরসিক করছে এই কাজ?” চোখ কুঁচকে সামনে তাকালাম। সবই আলোকিত কিন্তু পরিষ্কার নয়। মোলায়েম চাঁদের আলোয় সবটুকু ঢাকা।
কুঁড়ে থেকে চাদরটা এনে গায়ে জড়িয়ে সামনে এগুলাম। শব্দটার কোন বিরামই নেই। হচ্ছেটা কি এত রাতে!
সামনে এগুলাম। আস্তে আস্তে তীব্রতর হচ্ছে শব্দটা।
   “ওইতো, একটা বড় জারুল গাছ দেখা যাচ্ছে।
ঠুন ঠুন ঠুন…..
শব্দের তালে তালে নড়ছে গাছটাও!”
“এত রাতে গাছ কাটছে! চোরাকারবারি নয়তো?”
      ভাবনাটা মাথায় আসতেই দমে গেলাম একটু। পাহাড়ি এলাকার এসব চোরাকারবারিরা খুব ডেঞ্জারাস হয় শুনেছি!
     “দেখে ফেললে আবার প্রমান লুকোবার জন্য খুনখারাবি করে ফেলবেনা তো!”
সাহস সঞ্চয় করে আর একটু এগুলাম। গাছের গোড়ায় মানুষের অবয়বটা এখন স্পষ্ট প্রায়। চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলাম,
– “এই কে ওখানে অত রাতে? কি হচ্ছেটা কি এখানে!”
শব্দটা থেমে গেলো। ছায়া টা হাতের কুঠার চালানো থামিয়ে আমার দিক পেছন ফিরে এক হাত কোমরে রেখে সোজা হয়ে দাড়িয়েছে!
 আবারো চিৎকার দেবো কিনা ভাবছি, পেছনে পায়ের শব্দ পেয়ে সাই করে ঘুরলাম। আমার কুঁড়ের ম্যানেজার ঘুসং চাকমা হেটে আসছে দ্রুত।
-“ছ্যার! কি করছিন কি আপনি? এত রাতে বাইরি আসিছেন কেনো?”
জবাব দিতে যাবো এমন সময় পেছনে উত্তপ্ত ধমক শুনতে পেলাম! জারুল তলায় এখন দুজনের মানুষের আবছা ছায়া! “পাশের লোকটা কোথা দিয়ে এলো দেখলামনা তো!”
“এ্য গনশা, তুলি লে যা এরে এহানথুন। সূয্যি আওয়ার আগি ফিনিশ করি দে। বড় বেশি বারিছে।”
      আমার পাশ থেকে ঘুসং জোর গলায় বলে ওঠলো ওদের লক্ষ্য করে। বিড়বিড় করে ওদের নিজস্ব ভাষায় কিছু বললো,গালি দিলো সম্ভবত।
আমার দিকে তাকালো ম্যানেজার। দুহাত কঁচলাচ্ছে, মুখে তেলতেলে শীতল হাসি একটা!
– “ছ্যার এই শীতে বেশিক্ষন থাকতি নেইকো, যান ঘুমানগে, আর অন্ধকারে কি দিখতে কি দিখিলেন কারোক বলিয়েননা।”
         লোকটার চোখের দিকে তাকিয়ে কি যেনো ঝিলিক মেরে ওঠতে দেখলাম আমি। অজানা একটা ভয় ঢুকি ঢুকি করছে ভেতরে। লোকটা কি কিছু ইঙ্গিত করতে চাইলো? খারাপ কিছু কি ঘটতে চলেছে…..!
পেছনে চিৎকার শুনতে পেলাম তখনই। একজন অন্যজনকে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছে!
      চাঁদের আলোয় স্পষ্ট ঝিলিক মারতে দেখলাম ওপর দিকে তোলা দুহাত লম্বা চাপাতি টা! এক হাতে দুহাত চেপে ধরে রেখে,চাপাতি সহ হাতটা ঝপ করে নিচে নামিয়ে আনলো লোকটা!!
    মুখ ফসকে চিৎকারটা বেরিয়ে এলো আমার। ছুটতে শুরু করলাম…
চিৎকার করতে করতে কোনদিকে যাচ্ছিলাম জানিনা, একটা কুঁড়ের দরজায় সজোরে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়েই কুঁকড়ে গেলাম আমি। তারপর আর কিছুই মনে নেই।
সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি মস্তবড় একটা জাদরেল চেহারা ঝুকে আছে আমার উপর! গায়ে পুলিশের পোশাক!
বুকের একপাশে লিখা, ক্যাপ্টেন ইয়ান চাকমা!
আমাকে চোখ খুলতে দেখেই লোকটা কথা বলে ওঠলো,
– মশায় তো তাজ্জব করে দিলেন! তিন বছর আগের খুনিকে ধরিয়ে দিলেন,তাও সজ্ঞানে না অজ্ঞানে! কি করে করলেন বলুনতো?
সিআইডির কোন ডিপার্টমেন্টে আছেন?”
অবাক আমি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছি। কি বলছে কিছুই বুঝতে পারছিনা!
আশপাশের অনেকজনের কথা থেকে যা বুঝলাম,
   “প্রায় তিন বছর আগে ঘুরতে এসে এক পর্যটক আততায়ীর হাতে খুন হয়। অনেক খুজেও পুলিশ কোনো হদিস করতে পারেনি। গত রাতে চিৎকার করতে করতে আমি পাশের পুলিশ ক্যাম্পে ঢুকে পড়েছিলাম।
বার বার করে খুন, ঘুসং, গনশা আরো কি কি নাকি বলছিলাম!
তা থেকেই ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করতে গিয়ে নতুন করে পুলিশের সন্দেহ হয়।
খানিক জেরা করতেই ঘুসং হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে! গত তিন বছর ধরে অজানা এক ঠুন ঠুন শব্দে লোকটার নার্ভ নাকি এমনিতেই শেষ! সে এসব থেকে মুক্তি চায়!
কিন্তু রহস্যের ব্যাপার হলো, ওর হাট ভাড়া নেয়া বাদে আমাদের আর কথাই হয়নি,তাছাড়া ঘুসং হলফ করে বলেছে গত রাতে সে বাইরে বের ই নাকি হয়নি! আমি তবে এত কিছু কি করে বললাম?
পরদিনই তল্পতল্পা গুটিয়ে প্রায় ভুতে তাড়া খাওয়া মানুষের মতো ঢাকায় পালিয়ে এলাম।
রহস্যটা রহস্যই রয়ে গেলো আমার কাছে!
থাকুক, ওটা নিয়ে আর ভাবতেও চাইনা আমি।
প্রকৃতি রহস্যময়।
সে তার চারপাশে ঘটনা ঘটায়,
 আবার অদৃশ্য একটা চাদরে তা জড়িয়ে রাখে!
 আমরা তো নগন্য সন্তান তার। প্রকৃতি নিজে না চাইলে প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন যে নগন্য মানুষের সাধ্যের বাইরে!

দ্যা রিং

Now Reading
দ্যা রিং

আপনার বাসার টেলিফোনটি বেজে উঠল। আপনি কল রিসিভ করলেন। একটা অচেনা কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন। তার কথা শুনে আপনার আত্মা কেঁপে উঠল। কেননা আপনি শুনলেন যে আর মাত্র সাত দিন পরে আপনি মারা যাবেন। কি করবেন তখন? নিজের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করবেন নাকি এই ফোন কলের রহস্য বের করবেন?এ রকম একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাপানি উপন্যাসিক কোজি সুজুকি রিঙ্গু নামে এক উপন্যাস লিখেন। এর উপর ভিত্তি করে ১৯৯৮ সালে নির্মিত হয় রিঙ্গু মুভিটি। ২০০২ সালে দ্যা রিং নামে হলিউডে এই মুভির রিমেইক তৈরি হয়। এটি একটি অতিপ্রাকৃত সাইকোলজিক্যাল হরর মুভি। এটি পরিচালনা করেন গোর ভারবিন্সকি।

কাহিনী  

কেটি আর বেকা দুইজন অল্প বয়সী মেয়ে। একদিন তারা বাসায় বসে গল্প করছিল। এক পর্যায়ে তারা একটি ভিডিও টেপ নিয়ে আলোচনা করে। সেই ভিডিও যে দেখে সে নাকি সাতদিন পরে মারা যায়। কেটি যখন এই কথা শুনেছিল তখন সে কৌতূহলী হয়ে পরেছিল। সে তার বন্ধুদের সাথে এক সপ্তাহ আগে ভিডিওটি দেখে। বেকাকে যেই রাতে কেটি এই কথা জানায় সেই রাতে কেটি মারা যায়। কেটির বিকৃত মৃতদেহ দেখে বেকা নিশ্চুপ হয়ে যায়। কেটির মা তার খালা র‍্যাচেলকে এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে বলে। র‍্যাচেল একজন সাংবাদিক। তিনি সিয়াটলে থাকেন। অনুসন্ধান  করতে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন যে কেটির সব বন্ধুরা কেটি যেই রাতে মারা যায় সেই রাতে মারা গেছে। র‍্যাচেল শেলটার মাউনটেন নামে এক জায়গায় যান যেখানকার একটি হোটেলে কেটি তার বন্ধুদের সাথে ভিডিওটি দেখেছিল। র‍্যাচেল ভিডিওটি দেখেন। ভিডিওটিতে অস্পষ্ট কিছু ছবি দেখা যায়। এরপর তিনি একটি ফোনকল পান। একজন অপরিচিত মহিলার কণ্ঠস্বর শুনতে পান। সে ফিসফিস করে বলে ‘সাত দিন’। র‍্যাচেল তার এক্স বয়ফ্রেন্ড নোয়ার সাহায্য চায়। সে একজন ভিডিও বিশ্লেষক। তারা এই ভিডিওর একটি কপি তৈরি করে। এতে তাদের কাজ করতে সুবিধা হবে। র‍্যাচেল একসময় বুঝতে পারে যে ভিডিওতে যে ছবিগুলো দেখানো হয়েছে সেগুলোর অস্তিত্ব আছে। তিনি ভিডিওতে একটি লাইট হাউস এবং একজন মহিলাকে  আবিষ্কার করেন। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে এই মহিলার নাম অ্যানা মর্গান। তার কয়েকটি ঘোড়া মোসেকো দ্বীপে পানিতে ডুবে মারা যায়। এরপর তিনিও আত্মহত্যা করেন। র‍্যাচেলের আইদান নামে একটি ছেলে ছিল। একদিন র‍্যাচেল  দেখতে পান যে তার ছেলে এই ভিডিওটি দেখছে। আইদানকে রুথ নামের এক ব্যক্তির কাছে রেখে র‍্যাচেল মোসেকো দ্বীপে যায়। সেখানে অ্যানা মর্গানের স্বামী রিচারড মর্গান বাস করেন। উদ্দ্যেশ্য তার সাথে কথা বলে এর পেছনের কারণ জানা। এদিকে নোয়া ইয়োলা মানসিক হাসপাতালে যায়। এখানে অ্যানা মর্গান কিছুদিন চিকিৎসা নিয়েছেন। তার মেডিক্যাল ফাইলগুলো নোয়া দেখে। দ্বীপে যাওয়ার সময় র‍্যাচেল একটি ফেরিতে উঠে। হটাত একটা ঘোড়া তার দিকে ছুটে আসতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ঘোড়াটি পানি পড়ে মারা যায়। দ্বীপে পৌঁছে র‍্যাচেল জানতে পারে যে  অ্যানা মর্গান একটি মেয়েকে দত্তক নিয়েছিলেন। তার নাম সামারা। র‍্যাচেল রিচারড মর্গানের সাথে দেখা করেন। সামারা সম্পর্কে জানতে চান। কিন্তু তিনি মেয়ে দত্তক নেওয়ার ঘটনাকে অস্বীকার করেন। এরপর র‍্যাচেল সেই দ্বীপের একজন ডাক্তারের সাথে দেখা করেন। তিনি বলেন যে অ্যানা মর্গান সন্তান ধারণ করতে অক্ষম ছিলেন। তাই তিনি সামারাকে দত্তক নেন। সামারার একটি অতিমানবীয় মানসিক ক্ষমতা ছিল। সে তার মানসিক শক্তি ব্যবহার করে কোনো ছবি পুড়িয়ে ফেলতে পারত। এই কাজ করে সে তার বাবা, মা আর তাদের ঘোড়াগুলোকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। এদিকে নোয়া হাসপাতালে সামারার মেডিক্যাল ফাইল পড়ে একটি হারিয়ে যাওয়া ভিডিও টেপ এর কথা জানতে পারে যেটি কিনা সর্বশেষ রিচারড মর্গান দেখেছিলেন। র‍্যাচেল আবার রিচারড মর্গানের বাসায় যান।সেখানে তিনি সামারার হারিয়ে যাওয়া ভিডিওটি খুঁজে পান। সেই ভিডিওতে দেখা যায় যে  সামারার মানসিক চিকিৎসার সময় সে তার ক্ষমতার কথা প্রকাশ করছে। রিচারড এসে র‍্যাচেলকে ভিডিওটি দেখতে দেখেন। তিনি বুঝতে পারেন যে সামারার অপসত্বার প্রভাব শেষ হয়নি। তিনি বাথট্যাবের ভেতর নিজেকে তড়িতাহিত করে আত্মহত্যা করেন। এর কিছুক্ষণ পরে নোয়া সেখানে পৌঁছায়। তারা দুইজনে মিলে বার্নে প্রবেশ করে। বার্নের উপরে তারা একটা ঘর দেখতে পায় যেখানে সামারাকে তার মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হত। দেয়ালের ওয়ালপেপারের পিছনে তারা একটি গাছের ছবি দেখতে পায়। র‍্যাচেল বুঝতে পারে এই গাছটি শেলটার মাউনটেন হোটেলের গাছ।মেঝের নিচে তারা একটি কুয়া আবিষ্কার করে। ঢাকনা সরাতেই কেউ একজন র‍্যাচেলকে ভেতরে টেনে নিয়ে যায়। একটা হা্ত তাকে ধরে রাখে। সে দেখত পায় সামারার কর্মকাণ্ডে অ্যানা মর্গান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি সামারাকে সেই কুয়ায় ফেলে দেন। কুয়ার নিচে সামারা সাতদিন বেঁচে ছিল। সামারার মৃতদেহ তুলে এনে তাকে নিয়ম মেনে সমাহিত করা হয়। নোয়া  র‍্যাচেলকে বলে যে যেহেতু সাতদিন পার হয়ে গেছে এবং র‍্যাচেলের কিছু হয়নি তাই সে এখন নিরাপদ। কিন্তু বিপদ তখনও রয়ে গেছে। কেননা নোয়ার সাতদিন তখনও শেষ হয়নি। আইদান র‍্যাচেলকে বলে যে  সামারাকে সাহায্য করা উচিত হয়নি। র‍্যাচেল তখনই নোয়ার বাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করে। এদিকে নোয়া টিভি দেখছিল। হটাত করে সামারার ভুত টিভির ভেতর থেকে বের হয়ে আসে এবং তাকে মেরে ফেলে। র‍্যাচেল নোয়ার বিকৃত মৃতদেহ পায়। র‍্যাচেল বুঝতে পারে যে সে একটা কপি করে একজনকে দেখিয়েছিল তাই তাকে মেরে ফেলা হয়নি। তাই সে আইদানকে দিয়ে আরেকটি কপি বানায় অন্য কাউকে দেখানোর জন্য। এতে সে বেঁচে যাবে।

কাস্টিং

র‍্যাচেল কেলার – নওমি ওয়াটস

নোয়া ক্লে    – মারটিন হ্যান্ডারসন

আইদান কেলার- দেভিদ দরফম্যান

সামারা      -দেভি চেইস

রিচারড মর্গান –ব্রায়ান কক্স

অ্যানা মর্গান  -শ্যানন ক্রচনান

রুথ এম্ব্রি    – লিন্ডসি ফ্রসট

কেটি এম্ব্রি   – অ্যাম্বার টাম্বলিন

বেকা কোটলার – র‍্যাচেল বেলা

পুরষ্কার

শ্রেষ্ঠ হরর মুভি ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে স্যাটার্ন পুরষ্কার পায়। এমটিভি মুভি অ্যাওয়ার্ড এ পায় শ্রেষ্ঠ খলনায়িকার পুরষ্কার। টিন চয়েস অ্যাওয়ার্ড এ শ্রেষ্ঠ হরর মুভি হিসেবে পুরষ্কার পায় ।

রেটিং

আইএমডিবিঃ     ৭.১/১০

রোটেন টম্যাটোসঃ  ৭১% পজিটিভ রিভিউ

 

 

 

 

 

 

 

যে গান শুনে আত্মহত্যা করেছে শতাধিক মানুষ

Now Reading
যে গান শুনে আত্মহত্যা করেছে শতাধিক মানুষ

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় বন্ধুরা। আমরা সবাই কম-বেশি গান শুনতে ভালোবাসি। বাচ্চা থেকে শুরু করে সবাই গান শুনে সময় কাটাতে পছন্দ করে থাকেন। তবে ভেবে দেখেনতো এই গান যদি হয়ে উঠে কারো মৃত্যুর কারণ!???বিশ্বাস হচ্ছে নাহ???তবে বিশ্বের ইতিহাসে এমনই এক গান রয়েছে যার পিছে লুকিয়ে আছে এমন  অনেক বিস্মকর অন্ধকার সব ঘটনা। যে গানটির কথা বলছি সেটির নাম হলো গ্লোমি সানডে“। ইংরেজিতে “Gloomy Sunday“।

“গ্লোমি সানডে” এই গান এর আরেক নাম “হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং”। নাম শুনেই বুজতে পারছেন এটি একটি হাঙ্গেরিয়ান গান তবে যার সাথে সম্পর্ক রয়েছে আত্মহত্যার। বিশ্বের ইতিহাসে এই “গ্লোমি সানডে” গানটিকে অনেক সুইসাইড ক্যাসের জন্য দায়ী করা হয়। দাবি করা হয় যে এই গানটি শোনার পরে এই পর্যন্ত্য আত্মহত্যা করা মানুষের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। এমনকি এই গানটির সুরকার “সেরেস” গানটি সুর করার ৩৫ বছর পর তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেছিলেন ।

গানটি ১৯৩৩ সালে “রেজো সেরেস” নামক পিয়ানোবাদক দ্বারা সুর করা হয়েছিল যা “ইন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড” শিরোণামে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৩২ সালে প্যারিসে বসবাসরত অবস্থায় সেরেস প্রথম গানটি কম্পোজ করেন। প্রথমে সেরেস গানটির জন্য প্রকাশক খুঁজতে সমস্যায় পড়েন গানটির হতাশাব্যাঞ্জক কথার জন্য। যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গানটির কথা লেখা হয়েছিলো এবং এর শেষে বলা হয়েছে মানুষদের পাপ এর কথা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে গানটি লেখা হয়েছিল।  “ইন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড” গানটির কথায় মানুষের প্রতি মানুষের অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত তাদের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। তবে অসফল প্রেম এর গল্পও লুকিয়ে আছে “গ্লোমি সানডে” নামক এই গানটির মধ্যে।

প্রথম দিকের ভার্সনগুলোতে যে লাইন ছিল তা অনেকটা আত্মহত্যাকে অনুপ্রানিত করে বলে মনে করা হয়। এর একটি লাইন হল,,

“গ্লোমি ইজ সানডে, উইদ স্যাডো আই স্পেন্ড ইট অ্যল,,মাই হার্ট এন্ড আই হ্যাভ ডিসাইডেড টু ইন্ড ইট অ্যল”

গানটির কথা লিখেছিলেন “লাজলো জাভোর”। ভালোবাসার মানুষের মৃত্যু ও মৃত্যুর পরবর্তী জীবণে তার সাথে মিলিত হওয়ার আবেগ নিয়ে লাজলো জাভোর গানটি লিখেছিলেন যা পরবর্তীতে হারানো প্রেমের কষ্ট বহন করে গেছে।

জাভোরের কথা ব্যবহার করে প্রথম হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় গানটি রেকর্ড করেন পাল কামার ১৯৩৫ সালে। হাঙ্গেরিতে তার ভার্সনটি জনপ্রিয় হয়ে উঠে সেই সাথে উল্লেখযোগ্যভাবে আত্মহত্যার হার বেরে যায়। জাভোরের সাবেক স্ত্রীও আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করে ছিলেন। ১৯৩৫ সালে প্রথম পাল কামার হাঙ্গেরিয়ান ভাষায় গানটি রেকর্ড করার পরবর্তীতে কিছু লোক ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে সুইসাইড করলে এই গানটির দোষ দেয়া হয় কারণ তখন তাদের হাতে গানটির একটি শীট মিউজিক ভার্সন ধরা ছিল। অনেক রেডিও নেটওয়ার্ক গানটি প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল যদিও এ দাবিগুলো প্রমানিত নয়। এছাড়াও এই গানটি নিয়ে অনেক ঘটনা শোনা যাই,,যেমন শোনা যাই যে একজন হাঙ্গেরিয়ান মুচি যেখানে আত্মহত্যা করেছিলেন সেখানে একটি নোট পাওয়া গিয়েছিলো যেখানে “গ্লোমি সানডে” এর  কিছু লাইন লেখা ছিল। দুজন লোক তাদের নিজেদের গুলি করে সুইসাইড করেছিলেন যে সময় একটি ব্যান্ড “হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং” গানটি করতে ছিলেন। কোন গবেষণাতেই অবশ্য স্পষ্ট করে গান ও আত্মহত্যা সম্পর্ক বোঝানো সম্ভব হয়নি।

এই গানটিতে এমন কি আছে যার জন্যে মানুষ আত্মহত্যা করতে এগিয়ে যাই???আপনাদের বোঝার সুবিধার জন্য গানটির কথা বাংলায় অনুবাদ করে  দিলাম,,এটি পড়লেই আপনার বোঝা হয়ে যাবে কি এমন আছে এই বিস্ময়কর গানটিতে। 

“”শত শত সাদা ফুলের সাথে অদ্ভুত রবিবার
আমি আপনার জন্য আমার প্রার্থনাশৈলীতে প্রার্থনা করার অপেক্ষা করছিলাম। । 
একটি রবিবার সকালে, ছুটছিলাম আমি আমার স্বপ্নের পিছে 
আমার দুঃখের বহিঃপ্রকাশ তোমার কাছে ফিরিয়ে নিল
এরপর থেকে  আমার রবিবার চিরকাল দুঃখজনক
কান্না  আমার একমাত্র পানীয়, দুঃখ আমার রুটি । । 

মেঘাচ্ছন্ন রবিবার

এই রবিবার, আমার প্রিয় আমার কাছে আসো দয়া করে
সেখানে একটি যাজক, একটি কফিন, এবং একটি ঘূর্ণন শীট হবে
আপনার জন্য ফুল থাকবে, ফুল এবং একটি কফিন 
ফুল গাছের নীচে এটি আমার শেষ যাত্রা হবে। । 
আমার চোখ খোলা হবে, যাতে আমি আপনাকে শেষবারের মত দেখতে পাই
আমার চোখে ভয় পেও না, আমি তোমাকে আমার মৃত্যুর পরেও আশীর্বাদ করছি । । 

রবিবার হতাশাজনক,
আমার ঘন্টা নিদ্রালু হয়।
প্রিয়তম ছায়া
আমি বেঁচে থাকা সঙ্গে বেঁচে থাকা

ছোট সাদা ফুল
কখনো তোমাকে জাগিয়ে তুলবে না
যেখানে কালো  স্মৃতি   
তোমাকে নিয়ে গেছে।

এঞ্জেলস এর কি কোন চিন্তা আছে
কখনও আপনাকে ফিরিয়ে দেবার ??
তারা কি রাগ হবে?
যদি আমি তোমার সাথে ওখানে যোগ দেয়ার কথা ভাবতাম??

মেঘাচ্ছন্ন রবিবার

অদ্ভুত রবিবার,
ছায়ার  সাথে সব সময় হয় পার 
আমার হৃদয় এবং আমি, 
সব শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি 

শীঘ্রই সেখানে  মোমবাতি জ্বলবে
এবং প্রার্থনা করা হবে
তাদের কাঁদতে দিয়োনা ,
তাদের জানাতে হবে যে আমি যেতে পেরে আনন্দিত।। 

মৃত্যু কোন স্বপ্ন নয়,
মৃত্যুর জন্য আমি তোমাকে দমিয়ে রেখেছি
আমার আত্মার শেষ শ্বাস হলেও ,
আমি তোমার উপর আশীর্বাদ করবো।

মেঘাচ্ছন্ন রবিবার

স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখছিলাম
জেগে উঠি এবং আমি আপনাকে ঘুমিয়ে  থাকতে দেখেছি 
আমার হৃদয় গভীরে 

ডার্লিং, আমি আশা করি
আমার স্বপ্ন কখনো তোমাকে ঘৃণা করলো না
আমার হৃদয় আপনাকে বলছে,
কতটা আমি আপনাকে চেয়েছিলাম । । “

১৯৩৫ সালে রাশিয়ায় রাশিয়ান ভাষায় এবং ১৯৩৬ সালে ফ্রান্স এবং জাপানেও তাদের ভাষায় গানটি রেকর্ড করা হয়েছিল। বিবিসি প্রায় ৬৬ বছরের জন্য এই গানের  প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল যদিও ২০০২ সালে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল। ইংরেজি ভাষায় গানটির কয়েকটি ভার্সন বের হয়। “হাঙ্গেরিয়ান সুইসাইড সং” তথা “গ্লোমি সানডে” গানটি আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

Slender Man সম্পর্কে জানুন

Now Reading
Slender Man সম্পর্কে জানুন

Slender Man

আমরা অনেকেই হয়ত এই Slender Man নামটা কোথাও না কোথাও দেখেছি | হয়ত সেইটা হতে পারে কোনো মুভিতে, কেউবা গল্পের বইয়ে, কিংবা কোনো কার্টুনে, কেউ হয়তবা কম্পিউটার গেমস এ ,আবার কেউবা এন্ড্রয়েড এপস হিসেবে | আসলে এসবগুলোই “Slender Man” এর উত্সস্থল | তবে, যারা আরো একধাপ এগিয়ে তারা হয়ত এই মানুষটাকে বাস্তবেই স্বচক্ষে দেখতে পেয়েছে !

Slender Man কে ?

Slender Man হলো একটা প্যারানরমাল ক্যারেক্টার | এই ক্যারেক্টারটা কয়েক সেঞ্চুরি ধরে বিভিন্ন ভৌগলিক অঞ্চলের মধ্যে বিদ্যমান | Creepypasta যাকে প্যারানরমাল উইকিপেডিয়া বলা হয় তাদের তথ্য অনুসারে এই ক্যারেক্টারটা ৫০০০ হাজার বছর আগের ইজিপশিয়ান হায়ারোগ্লাফিক কিংবা ১৯ শতকের জার্মান উডকাট গুলোতে এই ক্যারেক্টারটার উত্স সম্পর্কে জানা যায় | তবে, বিশ্বাসীদের মতে বিভিন্ন লিজেন্ডের মাধ্যমে এই ক্যারেক্টারটা নিজের এপিয়ারেন্স বজায় রেখেছে | এর মধ্যে- Fear Dubh (The Dark Man) , Takkenmann (Branch Man) অথবা Der Grosse Mann (The Tall Man) উল্লেখযোগ্য |

Slender Man বর্ণনা

প্রশ্ন আসতে পারে Slender Man নামক এই ক্যারেক্টারটা দেখতে কেমন ? এইটা মূলত, পুরুষ হিসেবে আবির্ভাব হয় যার হাত এবং পা অস্বাভাবিক রকমের বিশাল | আর শরীরের পিছন (পিঠ) থেকে ৪-৮ টা বিশাল বিশাল কালো টেনট্যাকেল রয়েছে | আর তার পরিধেয় বস্ত্র হলো একটা কালো স্যুট এবং মাথায় হ্যাট | আর মুখমন্ডল বলতে আসলে তার কিছু নেই কারণ, তার পুরোটাই সাদা ব্যান্ডেজ বা কাপড় দিয়ে মোড়ানো থাকে |

আর তার শরীরের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হলো সে তার শরীরের যেকোনো অংশকে যত ইচ্ছা স্ট্রেচ করে বড় করতে পারে | যার ফলে সে তার শিকারীকে ভয় দেখিয়ে থাকে | এছাড়া তার ভিকটিম ও এমনভাবে হিপনোটাইজ হয়ে পরে যে তা থেকে আর বের হয়ে আসতে পারেনা |

Slenderman-the-slender-man-39241853-500-303.jpg

Slender Man মানুষকে ২ ভাবে প্রভাবিত করতে | যার একটা হলো “Slender Sickness” এইটা হলে বমিবমি ভাব আসতে পারে এবং অনেকসময় রক্ত বমিও হয়ে থাকে | তার আরেকটা বৈশিষ্ট হলো “Scribbling in” এইটা হলে ভিকটিম মূলত দেয়ালে উল্টাপাল্টা লিখতে শুরু করে |

Slender Man আরো কিছু বৈশিষ্ঠের মধ্যে প্রচলিত একটা হলো সে যারা তাদের অস্তিত্ব নিয়ে অতিমাত্রায় আশংকায় থাকে তাদের সে ভয় দেখাতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে | এছাড়াও মাঝেমধ্যে সে না হেটে অনেক শুন্যে ভোর করে ভেসে ভেসে সামনে এগিয়ে থাকে !

মূলত, Slender Man এই ক্যারেক্টারটা এতটাই জনপ্রিয় যে এইটা নিয়ে রীতিমত ডকুমেন্টারী পর্যন্ত করা হয়েছে | যাকে বলা হয় faux-documentary.

 

বাস্তবজগতে Slender Man এর ঘটনা

অনেক মানুষেরই ভাষ্যমতে তারা বাস্তব জীবনেই এই Slender Man কে দেখেছে| একটা ঘটনা যেইটা ঘটেছে শনিবার, মে ৩১, ২০১৪ সাল | যেইটা হয়েছে Milwaukee suburb of Waukesha, Wisconsin নামক জায়গায় | ৩ জন মেয়ে Bella ,Morgan এবং Anissa ঘুম থেকে উঠে সকালের নাস্তায় ডোনাট আর স্ট্রবেরি খেয়ে তাদের পাশের একটা পার্কে হাটতে বের হয় | এদের মধ্যে সবচেয়ে সোশ্যাল মেয়েটি হলো Bella যেকিনা সবার সামনে হাটছিল | আর Morgan এবং Anissa পিছনে একসাথে হাটছিল | তাদের হাতার ভঙ্গি ছিল খুবই সাধারণ ,যেন দেখে মনে হচ্ছিল তারা খুবই রিলাক্সড | এর মধ্যেই হলো কি Morgan নামের মেয়েটা Anissa কে একটা ছুরি দেখালো যেইটা কিনা সে তার জ্যাকেট এর পিছনে লুকিয়ে রেখেছিল | তাদের পরস্পরের মুখের চাহনি দেখে মনে হচ্ছিল তারা যেন একটা পরিকল্পনা করে রেখেছে ! যাইহোক, যখন তারা অবশেষে পাবলিক রেস্টরুম এ এসে পৌছালো তখনই তাদের পরিকল্পনার যেন পরিসমাপ্তি ঘটল কারণ, Anissa এবং Morgan উভয়ই Bella কে হটাত আক্রমন করে বসলো | এর মধ্যে Morgan মত ১৯ জায়গায় ছুরি দিয়ে Bella কে আক্রমন করে | তার হাত, পা, আর্টারি, প্যানক্রিয়াস, লিভার, স্টমাক সবকিছুই ক্ষতবিক্ষত হয় | এর মধ্যে তাদের জন্য চেতনা ফিরে আসলো তারা তখন Bella কে ধরে শুয়ে দিল এরপর তার রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করলো | কিন্তু, ইতিমধ্যেই যা ক্ষতি হবার ক্ষতিতো হয়েই গেছে | এরপরে তারা Bella কে সেই জায়গাতেই রেখে ওয়াশরুমে গেল রক্ত ধুয়ে আসতে | ঠিক সেইমুহুর্তে একজন সাইক্লিস্ট সেইখান দিয়ে যাচ্ছিল আর তার ফলেই Bella জীবন সে যাত্রা বেছে যায় |

Slender man -2.jpg

কিন্তু, ঘটনা এখানেই শেষ নয় পরবর্তিতে Anissa  এবং Morgan পুলিশের হাতে ধরা খায় এবং তাদের তখন জিজ্ঞেস করা হয় তারা কেন এই কাজটা করলো ? তাদের খুব সোজাসাপ্টা উত্তর– তারা Bella কে মারতে চেয়েছিল কারণ এর ফলে তারা Slender Man এর আনুগত্য অর্জন করে তার সার্কেল এ আসতে পারবে | Bella র যেই রক্ত তারা উত্সর্গ করছে এর ফলে তারা সেই Slender Man এর মিনীয়ন হয়ে তার সাথে তার গভীর জঙ্গলের সেই প্রাসাদে থাকতে পারবে | নিঃসন্দেহে সেই ঘটনার পর পুলিশ খুবই হতবম্ব হয়েছিল | কিন্তু, এরপর থেকেই Slender Man পুরো ইন্টারন্যাশনাল নিউস হিসেবে ব্রডকাস্ট হতে থাকলো | আর সেই ঘটনার পর থেকেই সেই পুলিশরা বুঝতে পারল এই Slender Man এর মিথটা কতখানি ভয়ংকর হতে পারে |

কিন্তু, এরকম ঘটনার জন্য যে শুধু এই এক Slender Man কেই দায়ী করা যায় বিষয়টা কিন্তু সেরকম না কারণ, ১৯৮১ সালে ঠিক এরকম একটা ঘটনা ঘটে যেখানে John Hinckley Jr. নামক একজন ব্যক্তি “Taxi Driver” নামক মুভিটা দেখে এতই উদ্বুদ্ধ হয় যে সে সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট Ronald Regan কে পর্যন্ত হত্যার চেষ্টা করে |

এছাড়াও, James Holmes নামক আরেক ব্যক্তি মত ১২ জন মানুষকে হত্যা করে এবং প্রায় ৭০ জনকে আহত করে ! তার দাবি অনুসারে সে নাকি ব্যাটম্যান এর সেই নেমেসিস জোকার ক্যারেক্টার থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই কাজটা করেছিল |

এছাড়াও, ২০০৯ এর দিকে Anthony Conley নামক আরেক ব্যক্তি Dexter টিভি সিরিয়াল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে তার আপন ভাই কে পর্যন্ত শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে !

যাইহোক, আবার সেই মূল ঘটনায় ফিরে যাই, এই হত্যাকান্ডের পরে Anissa কে যখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তখন সে Slender Man এর উপর তার অগাধ বিশ্বাসের কথা জানায় ! যদিও হত্যাকান্ডটি Anissa করেনি, করেছিল Morgan ,পরবর্তিতে তাকে ডায়াগনোস করে দেখা যায় তার রেয়ার টাইপ এর একটা স্কীতজোফেনিয়া রয়েছে |

কাজেই, এসব ঘটনা দেখে একটা বিষয় ভালই বোঝা যাচ্ছে যে এসব টিভি সিরিয়াল কিংবা বিভিন্ন ক্যারেক্টারগুলো আমাদের লাইফের জন্য একটা বিশাল ইনফ্লুয়েন্স হিসেবে কাজ করে থাকে | সেইটা ভালো হয়ত আছে তবে, খারাপগুলো নিঃসন্দেহে বেশি ভয়ংকর |

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই আশা করি সবার ভালো লেগেছে | ধন্যবাদ |

 

Sources:

  1. http://creepypasta.wikia.com/wiki/The_Slender_Man
  2. http://people.howstuffworks.com/slender-man2.htm

কৃষ্ণ-কারু

Now Reading
কৃষ্ণ-কারু

পয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছর আগের ঘটনা। তখন ঢাকা শহরের রূপটা একটু আলাদা ছিল,বর্তমানের মতো  না। গাছপালা অনেক ছিল।আর তখনকার বাড়িগুলোও একটু বড়সড় জায়গাজুড়ে  করা হতো  আর দশটা Horror Story এর মতো এই ঘটনা না।  এরকম একটা ঘটনাই বলছি। বাড়িটা বেশ বড় আশেপাশে অনেক গাছ, ঘনবসতিও ছিল  না। খোলামেলা পরিবেশ। যার সম্পর্কে লিখছি তার নাম ভেনাস। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রীবাবা-মায়ের আদরের মেয়ে।

ভেনাসের বিয়ে ঠিক হয়েছে। বিয়ে দূরের কারো সাথে ঠিক হয়নি। যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে সে ভেনাসের চাচাতো ভাই। সবাই যথেষ্ট আনন্দিত ছিল। কারণ  দুজনই যোগ্য এবং পরিচিত।

ভেনাসের হবু বরের নাম সাজ্জাদ। সে পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। ভেনাস এবং সাজ্জাদের পরিবার একটি নির্ধারিত দিনে তাদের engagement এর অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন ।

গণ্ডগোল-টা বাধার আগে স্বাভাবিক ভাবেই চলছিলো সবকিছু। বাড়ির কাজের মেয়ের কিছু অস্বাভাবিক নজরদারি ভেনাস এর মনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যেমন, ভেনাস বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে;

 

“কাজের মেয়েঃ আপা কই যান?

          ভেনাসঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কাজের মেয়েঃ কখন আইবেন?”

 

 আবার, টেলিফোনে কোন কল আসলে ;

 

“কাজের মেয়েঃ আপা, কে ফোন করছে?

          ভেনাসঃ আমার বন্ধু।

কাজের মেয়েঃ মাইয়া না পোলা?”

 

engagement এর পর আনুমানিক দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ভেনাস তাদের কাজের মেয়ের এইসব নজরদারি পর্যবেক্ষণ করে এবং সন্দেহ করতে থাকে, বিনুকে ( কাজের মেয়েকে ) কেউ পরিচালিত করছে। এর কদিনের মাথায় ভেনাস বিনুকে বলে,”বিনু, তুই কিন্তু ধরা পরে গেছিস।“ বিনু বলে,”কি হইছে আপা?কি করছি?” ভেনাস বলে,” আমার খবর নিয়ে কাকে দিস?”ঠিকঠাক জবাব দে, নাহলে বাবাকে বলে তোকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেব।

এবার বিনুর মুখ ফ্যাঁকাসে হয়ে যায়। কিছুক্ষন চুপ থেকে হড়বড় করে বলতে থাকে সব।

           “ সাজ্জাদ ভাই কইছে, আপনে কখন বাড়ি থাইক্যা বাইর হন, কখন বাড়িতে আসেন, কে ফোন করে আপনার কাছে, এগুলি হ্যারে জানাইতে। এগুলি করলে হ্যায় আমারে দুইশো ট্যাকা দিব। আপা, আপনে খালুরে এগুলি কইয়েন না। আমি আর এগুলি করমু না।“  

  ঐ দিন ভেনাস কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে নি। তার কি করা উচিৎ! বিয়ের দিন ঠিক হয়ে গেছে, কি করে ভেঙ্গে দেবে এই বিয়ে? আবার, এতো সন্দেহ প্রবন ছেলের সাথে জীবন কাটানো তার সম্ভব না । মনে মনে অপমান বোধ হচ্ছিলো। রাতে না ঘুমিয়ে শুধু পরিকল্পনা করেছে কিভাবে সব ম্যানেজ করা যায়।

 

সকালে উঠে প্রথমে ভেনাস বিনুকে দুশো টাকা দেয়। বিনু যদিও লজ্জায় নিতে চায়নি। তবু তখন দুশো টাকার মূল্য অনেক থাকাতে খুব বেশি সাধতে হয়নি।

 

এরপর ভেনাস তার বাবা-মা  কে সব জানায়। বাবা-মা রেগে গেলেও বিয়ে ভাঙার পক্ষপাতি তারা ছিল না। মেয়ের জোরাজোরিতে তারা সিদ্ধান্ত-টিতে সম্মতি জানায় এবং সেইদিন বিকালে সাজ্জাদের পরিবারকে ডেকে সব জানানো হয়। সেই সাথে ভেনাসের বিয়ের প্রতি অসম্মতির কথাও যুক্তি দিয়ে বোঝানো হয়।

 

সাজ্জাদের মা-বাবা ছেলের দোষটা বুঝলেও ভেনাসের সিদ্ধান্তকে তারা মোটেও স্বাভাবিক ভাবে নেয়নি।

 

যাইহোক, ভেনাস-সাজ্জাদের বিয়েটা বন্ধ হলো। বিয়েটা ভেঙে জাওয়াতে ভেনাসের মনে কোন প্রকার আফসোস ছিলোনা। কিন্তু সাজ্জাদের মনোভাব কেউ জানতো না।

 

একসময় সাজ্জাদের বাবা-মা ছেলের বিয়ে ঠিক করে। বিয়ের দাওয়াত দিতে ভেনাসদের বাড়ি আসে। ভেনাসের পরিবারও অতীতের  যাবতীয় ঘটনা ভুলে গিয়ে সাজ্জাদের বিয়ের দাওয়াত গ্রহন করে।

 

ভেনাস বিয়েতে অংশগ্রহন করতে চায়নি। কিন্তু বাবা-মার জোরে রাজি হয়। যেদিন সাজ্জাদের বিয়ে, সেদিন দু’জনের মুখোমুখি দেখা ও কথা হলো। ভেনাস যথেষ্ট স্বাভাবিক আচরণ করলো সাজ্জাদের সাথে। কিন্তু সাজ্জাদের আচরণে ভেনাস খুব ভাল ভাবেই বুঝতে পারে যে সাজ্জাদের জেদটা বিন্দুমাত্র কমেনি।

 

সেদিন বিয়ের খাবার খেয়ে ভেনাস হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বমি হয় খুব । ভেনাসের বাবা-মা ভাবে হয়তো একটু অসুস্থ হয়ে পরেছে মেয়ে।

 

কিন্তু ঐদিনের পর থেকে ভেনাস ক্রমাগত অসুস্থ হতেই থাকে। মাঝে মাঝে বলে ,”মা, আমার মনে হয় আমার পেটে  কেউ অনবরত সুঁই দিয়ে খোঁচাচ্ছে”। চিৎকার করে কেঁদে  ওঠে ভেনাস বার বার। ভালো ডাক্তার দেখান হয়। ডাক্তার জানায় ভেনাসের পেটে টিউমার হয়েছে

 

অপারেশন করা হয় । সবাই ধরে নেয় এবার ভেনাস ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু পেটের যন্ত্রণা আগের মতই হতে থাকে। তার সাথে বরং আরও কিছু সমস্যা যুক্ত হতে থাকে। সূর্য ওঠার সময় থেকে ভেনাসের যন্ত্রণা বাড়তে থাকে। দুপুরের কড়া রোদে ভেনাসের আচরণ দেখে মনে হতো তার শরীর জ্বলে যাচ্ছে, মাথা ব্যাথায় নিজের চুল নিজেই টানাটানি করতো।

 

আবার তাকে ডাক্তার দেখানো হয়। এবার ডাক্তার তার কোন সমস্যাই ধরতে পারলেন না। এভাবে বেশ কয়টি ডাক্তারও পরিবর্তন করা হয়। কেউ কিছু ধরতে পারলো না।

 

দিন দিন ভেনাস শুকিয়ে যেতে থাকলো। ওকে দেখতে বদ্ধ পাগল ছাড়া আর কিছুই মনে হতো না। মানসিক ভাবেও ধীরে ধীরে সে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যেতে থাকে।

 

ভোর হতে না হতেই চিৎকার শুরু হয় ভেনাসের । আবল তাবল বকতে বকতে বলে,”মা, আমার ভিতরের কলকব্জা ওলট পালট করছে কেউ।“ ভেনাসকে দেখে মনে হতো যেন ও ধীরে ধীরে মৃত্যু মুখে পতিত হচ্ছে।

 

কিছু আত্মীয় স্বজন ভেনাসের বাবাকে কোন ফকির-কবিরাজের স্মরণাপন্ন হয়ে কোন একটি ব্যাবস্থা করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু ভেনাসের বাবা আধুনিকমনা মানুষ সে কবিরাজ বা ফকিরের পরামর্শকে ভেলকিবাজি ছাড়া আর কিছুই মনে করেন না।

ভেনাসের শারীরিক ও মানসিক  অবস্থা করুণ থেকে করুণতর হতে থাকে। কোন ডাক্তার সমাধান দিতে না পারায় ভেনাসের বাবা-মা যখন হতাশ, তখন ভেনাসের মা নিজের স্বামীকে অনুরোধ করে চিকিৎসার মোড়টা একটু অন্যদিকে ঘোরাবার জন্য।

 

কিন্তু তিনি কিছুতেই মানতে রাজি ছিলেন না। সত্যি কথা বলতে ভেলকিবাজি বা ধর্ম এবং মন্ত্রের নামে প্রতারণা বহুকাল হতেই প্রচলিত। তাই কারো ওপর বিশ্বাস করাটা সত্যিই জটিল বিষয়।

কোন অভিভাবক যদি ফকির বাবার কাছে গিয়ে বলে,” বাবা, আমার ছেলের লেখাপড়ায় মনোযোগ নাই। ওর মাথা নাকি ভারি ভারি লাগে।“

তখন ফকির বাবাদের উত্তর থাকে,” হবেই তো। আপনাদের ছেলের দুই কাধে দুইটা জিন বসে  থাকে। তাই এই অবস্থা। আপনাদের ঘনিষ্ঠ কেউই এমন আছে যে চায়না আপনাদের ছেলের উন্নতি হোক। তাই জিন-চালান দিয়েছে।“ এইসব বলে তাদের পড়া পানির course complete করতে বলে। সন্তানের ভালোর জন্য চড়া course fee দিয়ে ফকির বাবাদের ফুঁ দেয়া অস্বাস্থ্যকর পানি সন্তানদের পান করান।

 

বাচ্চারা লেখাপড়ায় ফাঁকিবাজির জন্য হাজারো ছল করতে অভ্যস্ত। আর হায়রে ফকির বাবারা, জিনের বসার যায়গার কি এতই অভাব যে চাপাচাপি করে বাচ্চার কাঁধে বসতে যাবে?

 

যাইহোক, শেষমেশ ভেনাসের বাবা তার স্ত্রীর কথায় সম্মতি দেন। একজন আত্মীয়ের পরামর্শে কোনএক বুজুর্গ বেক্তির কাছে তিনি যান। সব সমস্যা খুলে বলেন। সব শুনে তিনি ভেনাসের বাবাকে বলেন, “ আপনি এখন বাড়ি যান, আমি কাল ভোঁরে আপনার বাড়িতে আসব। “ ভেনাসের বাবা বলেন,” আপনিতো আমার বাড়ি চেনেন না, বরং আমি কাল ভোঁরে আপনাকে নিতে আসবো। “ উত্তরে সেই বুজুর্গ (সাধক) বলেন, “তার দরকার নেই, আমি একাই যাবো।“

 

ভেনাসের বাবার কাছে ওনার কথা স্বাভাবিক মনে হয়নি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সত্যি পরের দিন ভোঁরে বয়স্ক সাধকটিকে ভেনাসের বাবা বাড়ির বাগানের সামনে দেখতে পেয়ে ছুটে এগিয়ে যান। ততক্ষনে ভেনাসের বাবার মনের কোন এক কোণ থেকে আশার আলো জেগে ওঠে। কিন্তু বয়স্ক সাধক কিছুই না বলে বাড়ির সামনের পুরো বাগানটা ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকেন। দেখে মনে হচ্ছিলো উনি কিছু খুঁজছেন। বাগানের প্রতিটা কোণের  বড় গাছ -ছোট গাছ খুঁটে খুঁটে দেখছিলেন। হঠাৎ এক গাছের সামনে উনি থমকে দাঁড়ালেন। ভেনাসের বাবা তার পাশে দাড়িয়ে   ছিলেন। সাধক এবার ভেনাসের বাবাকে গাছের গায়ের একটি অঙ্কিত চিত্রকে আঙ্গুল দিয়ে দেখান। গাছটির গায়ে একটি নারী চিত্র আঁকা ছিল। নারী চিত্রটির নাভি বরাবর একটি পেরেক বিঁধে রাখা ছিল।এই চিত্রটি ভেনাসের বাবা এর আগে কখনই দেখেনি। সাধকটি এবার বললেন,” আপনারা অনেক দেরি করে ফেলেছেন।মনে হয়না আমি কিছু করতে পারব।তবু দেখি কতটা করা সম্ভব?”

গাছটি মৃতপ্রায় ছিল। সাধক গাছটি কাটার নির্দেশ দেন। ভেনাসের বাবা তার নির্দেশ অনুযায়ী গাছটি কাটার বন্দোবস্ত করেন। কিন্তু কুড়াল দিয়ে সামান্য কয়েকটি কোপেই গাছটি উপড়ে পড়ে। অবাক ব্যাপার গাছটির বাহিরের অংশ শক্ত হলেও  গোঁড়া থেকে গাছটির ভিতরের অনেকটা অংশ গদগদে পচা। এবার এক কথায়  সাধক  বললেন,” আমি আপনার মেয়েকে বাঁচাতে পারবো না। ও এখন অন্তিম পর্যায়ে আছে। খুব দ্রুতই মারা যাবে। আর এক সপ্তাহ আগেও আমাকে জানালে হয়তো কিছু করা সম্ভব হতো। আপনার মেয়ের ওপর জাদুটোনা করা হয়েছে। শুধু বলতে পারি যে এই কাজ করেছে সে আপনাদের পরিচিত। তার নাম আমি যদিও  আপনাকে বলবো না, কিন্তু  আপনি তার পরিচয় পেয়ে যাবেন। শীঘ্রই সে পাগলের মতো আচরণ করবে। তার অপ্রকৃতস্থ  আচরণ আপনাকে তার পরিচয়ের জানান দেবে। “

শয়তানের সহায়তা নিলে শয়তান সহজেই সাড়া দেয়,কিন্তু সবশেষে একটি অশুভ প্রতিক্রিয়া সাহায্য গ্রহণকারীর ওপরও প্রভাব ফেলে।

সেদিনই ভেনাস মারা যায়। ভেনাস মারা যাবার পর থেকে  তার বাবা অনেক কিছুই  বিশ্বাস করতে শুরু করে যার বা যেসবের পদার্পণ সে আগে  মানতেন না। ভেনাসের বাবা বুঝতে পেরেছিল  কে এই কাজ করেছে। মেয়ের মৃত্যুর প্রায় সপ্তাহ খানেক পর ভেনাসের  বাবার কাছে একটি ফোন কল আসে। ফোন কলটা ছিল তার ভাইয়ের অর্থাৎ ভেনাসের চাচার। ফোন কল করে তিনি বলেন,” সাজ্জাদ পাগলের মতো বাড়ির সবকিছু ছুড়ে ছুড়ে ফেলছে। কোন কথা না বলে হাতের কাছের সবকিছু নষ্ট করছে। সে কোন কথাই বলতে পারছে না।“

সব ভেনাসের বাবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে কার কারনে ভেনাসকে এই অস্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করতে হয়েছেকোন সে অদৃশ্য হাত, কোন অদৃশ্য কারন,কিভাবে মারা গেল ভেনাসএটাই তাহলে সেই black  magic বা কাল জাদু অথবা কৃষ্ণ- কারু।