5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

SEO কিভাবে কাজ করে ? (পর্ব -১)

Now Reading
SEO কিভাবে কাজ করে ? (পর্ব -১)

আমরা সবাই SEO বা “Search Engine Optimization” শব্দটার সাথে পরিচিত । মোটামুটি সবাই জানি এইটা করলে কোন ওয়েবপেজ এর র‍্যাংকিং বৃদ্ধি পায় যার ফলে সেইটা কোন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করলে খুব সহজেই পাওয়া যায় । শুধু এইটুকু জানলে অসুবিধা নেই বরং কিছুটা সুবিধাই হবে কারণ, আজকের পোস্টটা এই নিয়ে নয় বরং কিভাবে এই SEO কাজ করে তা নিয়ে হবে !

কাজেই, আমরা SEO কিভাবে কাজ করে ? এইটাকে বৈধ কিংবা অবৈধ উপায়ে কিভাবে অপটিমাইজ করা হয় কিংবা SEO এর সীমাবদ্ধতা কি ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব । লেখাটা মূলত বেশি বড় হয়ে যাবার কারণে, উপরোক্ত টপিকগুলো নিয়ে দুই পর্বে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ।

উপরের, এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার আগে কিছু বেসিক সংজ্ঞা নিয়ে কথা বলব । এরপরে ধারাবাহিকভাবে বিস্তারিততে যাবো ।

 

SEO কি ?  

এইটা নিয়ে প্রথমেই বলেছি তাহলো এইটা এমন এক প্রসিড্যিউর যার ফলে কোন ওয়েবসাইটের ভিজিটর পাওয়ার জন্য এর ওয়েবপেজের র‍্যাংক বাড়ানো হয় । এইটা কোন সার্চ ইঞ্জিনের (যেমন- Google, Yahoo, Bing) সাথে কাজ করে এর ফলাফল নিয়ন্ত্রন করে ।

 

SERP কি ?

এবার তাহলে, SERP কি ? এর পূর্ণরূপ হল- “Search Engine Return Pages” এর দ্বারা মূলত, একটা সার্চ ইঞ্জিন কোন কিওয়ার্ড কিংবা বাক্যের বিপরীতে যেই ফলাফল সমুহ প্রদর্শন করে তাকেই বোঝানো হয় । মূলত, ৩ ভাবে এই SERP এর ফলাফল নিয়ন্ত্রিত হয় । যেমন-

  • যেসকল পেজগুলোকে সার্চ ইঞ্জিন স্পাইডার ইনডেক্স করে ।
  • যেসকল পেজগুলোকে সার্চ ইঞ্জিন ডিরেক্টরিতে ম্যানুয়ালি যোগ করা হয় ।
  • কিংবা, সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানিকে পেমেন্ট এর মাধ্যমে করা হয় যার এক গালভরা নাম আছে তাহলো “Payment inclusion”

 

SEO  নিয়ে কিছু কথা

মনে করি, আমাদের একটা নতুন সাইট আছে যার নাম “Footprint”। এর ভিজিটর খুব কম । এই সাইট এ মূলত, football নিয়ে লিখা হয় । ধরে নেই, এই সাইটে পৃথিবীর সবচেয়ে চমৎকার আর্টিকেলগুলোই লেখা হয় কিন্তু, দেখা যায় কোন সার্চ ইঞ্জিনে যদি football লিখে সার্চ করা হয় তাহলে এই সাইট এর কোন কন্টেন্ট আসছেনা । এর জন্য প্রথমেই যা করতে হয় তাহলো, সেই সাইট কে আগে সার্চ ইঞ্জিনের অন্তর্ভুক্ত করতে হয় । আর এরপরেই, SERP এর একেবারে টপ লিস্টে আনার জন্য যা করা লাগে তাহলো সেই SEO !

তবে, একটা সাইট কে SEO করে বুস্ট করার আগে যেই বিষয়টা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাহলো ভালো কন্টেন্ট বানানো । এইটা না হলে সেই সাইট কে হয়ত সাময়িকভাবে বুস্ট করা সম্ভব হচ্ছে কিন্তু তা আসলে বেশিদিন স্থায়ী হবেনা । শুধু মাত্র ভালো কন্টেন্ট এর জোরেই একটা সাইট SERP এর টপ লিস্টে চলে আসতে পারে । তবে, সেইক্ষেত্রে অনেক সময় লাগতে পারে ।

 

SEO কিভাবে কাজ করে

সাধারণত, প্রায় প্রতিটা সার্চ ইঞ্জিনেই একটা কম্পিউটার প্রোগ্রাম থাকে যাদের বলা হয় “Crawler” অথবা “Spider” এদের কাজই হল কিওয়ার্ড অনুসারে প্রতিটা পেজকে অ্যানালাইজ করা এবং ইনডেক্স করা । এখানে, কিওয়ার্ড এর বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ কারণ, এইটা না হলে ঠিকমত ওয়েবপেজ কে খুঁজে পাওয়া সম্ভব না ।

সাধারণত একটা সাইট SEO করার ২ টা টেকনিক রয়েছে । যথা- “White Hat Technique” এবং “Black Hat Technique

 

White Hat Technique SEO

 

Keyword এর ব্যবহার

প্রথমেই যেই বিষয়টার প্রতি নজর দিতে হবে তাহলো টাইটেলে কিওয়ার্ড এর ব্যবহার । কারণ, একটা ভালো কিওয়ার্ডই পারে সেই ওয়েবপেজকে খুঁজে বের করতে । এই যেমন উপরের উদাহরণে টাইটেল হিসেবে লেখা যেতে পারে “football 101”

এরপরে, হেডার সেকশনের জন্য কিওয়ার্ডের ব্যবহার । যদি, সেই পেজের অনেকগুলো ভাগ থাকে তাহলে, সেখানে হেডার ট্যাগের সাথে কিওয়ার্ড ব্যবহার করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ । এই যেমন উপরের উদাহরণে হেডার হিসেবে লেখা যেতে পারে “Football players” কিংবা “Football penalty” কিংবা “Football team”

একটা ওয়েবপেজে গুরুত্বপূর্ণ কিওয়ার্ডের অনেক বেশি ব্যবহার করার বিষয়টা ঠিক আছে কারণ, এর ফলে সহজেই সেই পেজটিকে সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে পাওয়া যায় । কিন্তু, কিওয়ার্ডের অতিরিক্ত ব্যবহার বরং হিতে বিপরীত হতে পারে কারণ, “Keyword Stuffing” বলে একটা বিষয় আছে যেইটা কিওয়ার্ডের অতিরিক্ত ব্যবহার ফলে হয় । এর কারণে, সার্চ ইঞ্জিন সেই ওয়েবপেজটাকে একটা স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে ।

 

Link Analysis

শুধুমাত্র কিওয়ার্ডই একটা ওয়েবপেজ কে SERP এর টপ লিস্টে আনার জন্য যথেষ্ট না । ভালো কিওয়ার্ড ব্যাবহার করার সাথে সাথে আরেকটা বিষয়ের উপরও গুরুত্ব দিতে হয় আর তাহলো “link analysis” । একটা পেজের কোয়ালিটি নির্ণয় করার জন্য বেশিরভাগ সার্চ ইঞ্জিন এই link analysis ব্যবহার করে থাকে । এর দ্বারা মূলত, সেই পেজটি আর কতগুলো ওয়েবপেজের সাথে লিঙ্কড তা নির্ণয় করা হয় । এই যেমন উপরের উদাহরণে উক্ত পেজের সাথে Football রিলেটেড যদি অন্য পেজগুলো লিঙ্কিং থাকে তাহলে, সেইক্ষেত্রে অবশ্যই পেজের র‍্যাংক অনেক বেশি হবে । এইক্ষেত্রে যেইসব পেজ লিঙ্কিং রয়েছে তাদের নিজেদের র‍্যাংকিং যদি আবার অনেক বেশি হয় তাহলে, সেইক্ষেত্রে তা বহুগুণে বুস্ট করবে ।

 

Link Exchange

এছাড়া, “link exchange” বলে আরেকটা বিষয় আছে যেইটা বুস্ট করতে সাহায্য করে । তবে, এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন খুব বেশি অপ্রাসঙ্গিক লিঙ্ক ব্যাবহার করা না হয় । কারণ, এর ফলে সার্চ ইঞ্জিন বিষয়টা খুব সহজেই ধরে ফেলে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে ।

এছাড়াও, “meta tags” এর ব্যাবহারও করা যেতে পারে । এর জন্য প্রয়োজনীয় কিওয়ার্ড গুলো নিয়ে এই একটা লিস্ট তৈরি করা হয় । তবে, বর্তমানে অনেক সার্চ ইঞ্জিন এই মেটা ট্যাগ কে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে । কাজেই, সেইক্ষেত্রে এর ব্যাবহার হয়ত খুব একটা কাজে আসেনা ।

 

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই । এর পরের পর্বে আমরা SEO এর Black hat technique সহ আরো কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করব । তবে, আজকের পর্ব আশা করি সবার ভালো লেগেছে । সবাইকে ধন্যবাদ ।

 


 

References:

  1. http://whatis.techtarget.com/definition/search-engine-results-page-SERP
  2. http://searchmicroservices.techtarget.com/definition/paid-inclusion
  3. http://computer.howstuffworks.com/search-engine-optimization.htm
  4. http://computer.howstuffworks.com/search-engine-optimization1.htm
  5. http://computer.howstuffworks.com/search-engine-optimization2.htm
  6. http://www.webopedia.com/TERM/S/SEO.html

3D গ্লাস দিয়ে আমরা কিভাবে থ্রিডি দেখি ?

Now Reading
3D গ্লাস দিয়ে আমরা কিভাবে থ্রিডি দেখি ?

আমরা সবাই 3D এর সাথে পরিচিত । যেহেতু, 3D এর সাথে পরিচিত তাহলে নিশ্চয় কম বেশি আমরা 3D গ্লাসের সাথেও পরিচিত ? কারণ, এই 3D গ্লাস দিয়েইতো সেই 3D দেখা হয় ! 3D গ্লাস বললেই কল্পনায় চলে আসে লাল নীল রঙের উদ্ভট একধরনের সানগ্লাস ! আর, যারা আরো একটু এগিয়ে গিয়েছে তারা হয়ত সেই 3D গ্লাস কে বিভিন্ন সিনেমা হলে সাধারণ সাদা চশমার মতই দেখে অভ্যস্ত ।

তবে, আজকের পর্বে আমরা 3D কিংবা 3D গ্লাসের গুণকীর্তন করতে আসেনি । 3D চশমা দিয়ে 3D দেখার সৌন্দর্য নিয়েও আলোচনা করতে আসেনি । বরং আজকের পর্বে এর বৈজ্ঞানিক সৌন্দর্য নিয়েই আলোচনা করা হবে ।

3D কি ? কিংবা আমরা 3D গ্লাস ব্যাবহার করে কিভাবে 3D দেখি ইত্যাদি বিষয় নিয়েই আজকের পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ।

 

3D  কি ?

3D এর পূর্ণরুপ হল 3 Dimension অর্থাৎ, যার ৩টা ডিমেনশন থাকে তাই হল 3D (চিত্র দ্রষ্টব্য) । এখানে, ৩টা ডিমেনশন হল দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা । যাদের এই ৩টা জিনিস থাকবে তাদেরকে নির্দ্বিধায় 3D বলা যায় ! যেমন- আমরা বাস্তবে চোখ দিয়ে যা দেখছি তাই কিন্তু একধরনের 3D !

 

300px-Coord_planes_color.svg.png

 

3D কিভাবে কাজ করে ?

একটু আগেই বলেছি আমরা বাস্তবে যা দেখছি এর সবকিছুই থ্রিডির অন্তর্ভুক্ত । কাজেই, এইটাকেই উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে থ্রিডিকে ব্যাখা করা যেতে পারে । যার ৩টা মাত্রা দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা থাকে তাকে থ্রিডি বলা হয় । সেই হিসেবে আমাদের চোখের সামনে যা কিছু আছে তার সবকিছুই থ্রিডি বিষয়টা ঠিক আছে । কিন্তু, আমরা নিজেরা চোখ দিয়ে যা দেখছি তাই থ্রিডি এই কথা বলাটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত ? কারণ, সাধারণত টেলিভিশনে আমরা যা দেখি তার প্রতিটা উপাদানও তো থ্রিডি তাই বলে কি আমরা দাবি বসি যে এখন থ্রিডি দেখছি ? হ্যা টেলিভিশনে যা দেখা হচ্ছে তা থ্রিডি নয় যদিও এর উপাদানগুলো থ্রিডি । আসলে, থ্রিডি দেখা আর কোনো কিছু থ্রিডি হওয়া সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার ! তবে, আমরা চোখ দিয়ে যে থ্রিডি দেখি বিষয়টা ঠিক আছে । বিষয়টা ব্যাখা করি – আমাদের দুই চোখ দুটি ভিন্ন ভিন্ন ইমেজকে দেখে । হয়ত একটা জিনিসই দেখছি কিন্তু, দুই চোখের দেখার মাঝে খুব সুক্ষ হলেও একটা কৌণিক পার্থক্য থাকে । আর দুই ধরনের ইমেজ যখন আমাদের মস্তিষ্ক প্রসেস করে তখন আমরা একটা থ্রিডি দেখার স্বাদ পাই (চিত্র দ্রষ্টব্য) । বিষয়টা যে সত্যি তা আমরা চাইলে নিজেরাই এক চোখ বন্ধ করে পরীক্ষা করে দেখতে পারে । আর ঠিক এই কারণেই, আমরা এক চোখ বন্ধ করে সুচের মধ্যে সুতা ভরতে পারিনা । আবার ঠিক একই কারণেই, কেউ বল ছুড়ে দিলে এক চোখ বন্ধ করে ধরতে পারিনা । কারণ, এসব করতে হলে দূরত্ব জিনিসটা বোঝা দরকার যেইটা এক চোখ বন্ধ করে করা সম্ভব নয় !

 

pc-3-d-brain.jpg

 

3D গ্লাস দিয়ে কিভাবে 3D দেখে থাকি ?

এবার আমাদের মূল টপিকে আসি যে কিভাবে থ্রিডি চশমা ব্যবহার করে থ্রিডি দেখা হয় । যেহেতু থ্রিডি বিষয়টা কিভাবে কাজ করে তা আমরা জানি কাজেই, এইক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম কিছু হবেনা । তবে, গ্লাস এবং স্ক্রিনের ধরনভেদে এই থ্রিডি দেখার পদ্ধতি ভিন্ন হয়ে থাকে যদিও মূল বিষয়টা অর্থাৎ, ভিন্ন ভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি তোলার বিষয়টা একই ।

 

নিচে ২টা ভিন্ন ভিন্ন গ্লাসের ক্ষেত্রে কিভাবে কাজ করে তা বর্ণনা করা হয়েছে ।

Anaglyph 3D গ্লাস

এই থ্রিডি গ্লাস সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে সস্তা থ্রিডি গ্লাসগুলোর মধ্যে একটি । এর একপাশের রং হয় Red  এবং অন্যপাশেরটা হয় Cyan । আর ডিসপ্লে স্ক্রিনে যা প্রদর্শন করা হয় তা মূলত একই ছবির দুইটা ভিন্ন ভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে তোলা ছবি যাদের মধ্যে একটা হয় লাল রঙের আরেকটা অনেকটা নীল (Cyan) রঙের । যখন, আমরা সেই থ্রিডি গ্লাস পরে সেই বিশেষ ছবি বা ভিডিও দেখি তখন গ্লাসের লাল রঙের অংশটুকু স্ক্রিনের নীল রং কে ফিল্টার করে কেবল লাল রঙের ছবির অংশটুকুই প্রবেশ করতে সাহায্য করে । আবার ঠিক একই কাজ গ্লাসের নীল রঙের অংশে ঘটে থাকে যেখানে লাল রং গুলো ফিল্টার হয়ে নীল রং ভিতরে প্রবেশ করে | এভাবে একই ছবির দুটো ভিন্ন ভিন্ন ইমেজ আমরা পাই । আর আমাদের মস্তিস্ক তা প্রসেসে করার পরই আমরা সেই কাঙ্খিত থ্রিডির স্বাদ পাই । (চিত্র দ্রষ্টব্য)

 

red-blue.jpeg

 

তবে, এই থ্রিডির সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো এর ফলে থ্রিডির রঙিন স্বাদটুকু পাওয়া যায়না । কারণ, এই Red আর Cyan এই দুই ভিন্ন রং মিলে থ্রিডির মজাটুকুই মাটি করে দেয় ! এছাড়াও, আরেকটা সমস্যা হলো বেশিক্ষণ ব্যবহার করলে মাথা ব্যথা করতে পারে ।

 

Polarized 3D গ্লাস

এই থ্রিডি গ্লাসটাই আমরা বিভিন্ন মুভি থিয়েটারে থ্রিডিমুভি দেখার সময় ব্যবহার করি । এই গ্লাস দেখতে খুব সাধারণ একটা সাদা চশমার মত মনে হলেও এর দুই গ্লাসের ম্যাকানিজম ভিন্ন থাকে | আর এই গ্লাসের মাধ্যমে থ্রিডি দেখতে হলে আলাদা স্পেশাল স্ক্রিন ও দরকার । এখানে স্ক্রিনে মূলত দুইটা আলাদা আলাদা ছবি ব্যবহার করা হয় যাদের, পোলারাইজেশন ভিন্ন হয় । যখন, সেই গ্লাস ব্যবহার করে থ্রিডি দেখার কাজ করা হয় তখন গ্লাসের এক অংশ কেবল স্ক্রিনের একটা ছবির অংশকে প্রবেশ করতে দেয় আর অন্য ছবির অংশকে ফিল্টার করে । আর ঠিক একইভাবে গ্লাসের ওপর অংশে যেই ছবির অংশটুকু অন্য অংশে ফিল্টার করা হয়েছিল তাই কেবল প্রবেশ করতে পারে | অর্থাৎ, চশমার দুইটা ভিন্ন গ্লাস দিয়ে দুইটা ভিন্ন পোলারাইজেশনের ছবি প্রবেশ করে | যেহেতু, দুইটা ছবির মধ্যে সামান্য কিছু কৌণিক পার্থক্য আছে আর দুইটা ছবি আলাদাভাবে দুই চোখে প্রবেশ করছে কাজেই, এই দুই ছবি প্রসেস করে আমরা যা দেখতে পাই তাহলো সেই থ্রিডি ! (চিত্র দ্রষ্টব্য)

 

3-d-glasses-polarization-new.gif

 

এই থ্রিডির কোয়ালিটি Anaglyph থ্রিডির চেয়ে বহুগুনে ভালো । এছাড়াও, আগেরটাতে যেমন রঙিন ছবি দেখা যেত না এখানে সেই সমস্যা আবার নেই, রঙিন ছবি বেশ ভালই দেখা যায় !

 

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই । আশা করি সবাই বিষয়টা বুঝতে পেরেছে । তারপরেও কারো কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারে উত্তর দেবার চেষ্টা করব । সবাইকে ধন্যবাদ ।

 


 

Sources:

  1. http://computer.howstuffworks.com/3d-pc-glasses1.htm
  2. http://computer.howstuffworks.com/3d-pc-glasses3.htm
  3. http://science.howstuffworks.com/3-d-glasses2.htm
  4. https://en.wikipedia.org/wiki/Polarized_3D_system
  5. https://en.wikipedia.org/wiki/Anaglyph_3D

“Magnetic Hill” এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় “Optical Illusion” !

Now Reading
“Magnetic Hill” এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় “Optical Illusion” !

একটা ঢালু জায়গা থেকে একটা বল ছেড়ে দিলে কি হতে পারে ? বড়জোর তা গড়িয়ে নিচে পরতে পারে । এর চেয়ে বেশি কিছু কিন্তু না ! কখনই এরকম হয়না যে বলটা ঢালু জায়গার উল্টো দিকে গড়িয়ে পড়ছে । সেইটা হওয়া আসলে সম্ভবও নয় কারণ, গ্র্যাভিটি বলে একটা জিনিসের সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত । এর কারনেই, আমরা পৃথিবী থেকে ছিটকে পড়ে যাইনা; এই কারনেই, পৃথিবী সুর্যের চারপাশে ঘুরে আবার, ঠিক এই কারনেই, চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে । কাজেই, এই গ্র্যাভিটিকে অস্বীকার করা মানে অনেকটা আমরা পৃথিবীতে আছি এই সত্যকে অস্বীকার করা । তাই আমরা গ্র্যাভিটি অস্বীকার করতে ভয় পাই ! কিন্তু, আমরা কি জানি এরকম বেশ কিছু পাহাড়ি অঞ্চল আছে যেগুলো অহরহই এই গ্র্যাভিটিকে পুরোপুরি অস্বীকার করছে ? বাস্তবে, তো দেখতে অনেকটা সেরকমই মনে হয় এখন দেখা যাক বিজ্ঞান এই বিষয়ে ঠিক কি বলে !

কাজেই, আজকের পর্বে আমরা এই ম্যাগনেটিক হিল কি এবং কেন তা গ্র্যাভিটির স্বাভাবিক বৈশিষ্ঠ্য অস্বীকার করছে কিংবা কিভাবে তা কাজ করে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানব ।

 

ম্যাগনেটিক হিল কি ?

ম্যাগনেটিক হিল কে অনেকসময় গ্র্যাভিটি হিল ও বলা হয় । এইটা হল এমন একধরনের পাহাড় যা কিনা গ্র্যাভিটির সাধারন বৈশিষ্ঠ্যকে অস্বীকার করে উল্টো দিকে ক্রিয়া করে । অর্থাৎ, যেইটাকে অপেক্ষাকৃত ঢালু মনে হয় তা এর স্বাভাবিক বৈশিষ্ঠ্যর পুরোপুরি উল্টো বৈশিষ্ঠ্য প্রদর্শন করে । অর্থাৎ, ঢালু জায়গায় যেমন আমরা জানি ওজন বেশি অনুভব করব ওইখানে ঠিক তার উল্টো হয় । কোন কিছু গড়িয়ে দিলে তা ঢালু জায়গায় না গিয়ে তার বিপরীত দিকে বরং যাওয়া শুরু করে ।

 

ef3e32f3-c9fd-4725-9596-46928a7faf74.png.jpg

 

ম্যাগনেটিক হিলের এই অস্বাভাবিক আচরণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কি ?

এখন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল কেন এরকম হয় ? অনেকে একে, গ্র্যাভিটির ফ্ল্যাকচুয়েশন কিংবা ম্যাগনেটিক ফিল্ড জনিত বিষয়কে বৈজ্ঞানিক কারণ, হিসেবে চালিয়ে দেয় । যারা, স্প্রিচুয়াল লেভেলের মানুষ তারা আবার আরেক সুপারন্যাচারাল ব্যাখ্যা হাজির করে । তবে, পুরো বিষয়টা আসলে, খুব সহজ জাস্ট “Optical Illusion” !

 

Optical Illusion কি ?

অপটিক্যাল ইল্যুশন হলো লাইট, প্যাটার্ন, রং ইত্যাদি দ্বারা সৃষ্ট একধরনের ছবি যা আমাদের মস্তিষ্কে বিভ্রম তৈরী করে | আপাতদৃষ্টিতে সেইটা সত্যি মনে হলেও বাস্তবে তা থাকেনা | যেমন- নিচের ছবিগুলোর দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নেই ।

 

Screenshot_9.jpg          840px-Café_wall.svg.png

 

 

(1)                                                                                                                                (2)

 

উপরের, সবগুলো ছবিই একেকটি ইল্যুশন | যেমন- প্রথম ছবি দেখে মনে হতে পারে এখানে ২ ধরনের লাল রং এবং ভিন্ন শেডের ২টি সবুজ রং রয়েছে | কিন্তু, বাস্তবতা হলো এখানে মোট ২টি রং রয়েছে !

এরপরের দ্বিতীয় ছবিটা হলো  “Café wall illusion” যেইটা দেখে মনে হচ্ছে প্রতিটা লাইন একটা আরেকটার উপর বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল এ রয়েছে কিন্তু, বাস্তবতা হলো এইখানে সবগুলোই প্যারালালভাবে অবস্থান করছে |

এইসবগুলোই আসলে একেকটা অপটিক্যাল ইল্যুশন |

 

২০০৩ সালের “Psychological Science” এর একটা স্টাডিতে জানা যায়  গ্র্যাভিটি হিলে অপটিক্যাল ইল্যুশন ঘটার পিছনে মূলত ২টা জিনিস দায়ী | এর মধ্যে একটা হলো “Horizon” | আমরা মূলত কোনো কিছুর উচ্চতা বা অবস্থান এই Horizon দিয়েই চিহ্নিত করি | কাজেই, যখন সেই Horizon আমরা দেখতে পাইনা তখন, আমাদের মস্তিস্ক বিভ্রান্ত হয়ে পরে !

আরেকটা হলো “Contextual Slope” যেখানে আমরা কোনো কিছুর ঢাল (Slope), এর আশেপাশের ঢাল দেখে নির্ণয় করি | অর্থাৎ, আশেপাশের অবস্থার ঢাল দেখে যখন আমরা কিছু জাজমেন্ট করি তখন আমাদের মস্তিষ্ক তার উপর ভিত্তি করেই সেই পার্টিকুলার অবস্থান (যেমন- এখানে রাস্তা) সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করে থাকে ।

মুলত, এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় যখন ঘটে তখন আমাদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে পরে ।

গ্র্যাভিটি হিল নির্ণয় করার জন্য বেশ কিছু টুল রয়েছে । যেমন- “Carpenter’s Level” হল এরকম একটি যন্ত্র । এখানে মাঝের বুদবুদটা যদি কেন্দ্রে থাকে তাহলে বুঝতে হবে সমান, যদি একটু ডানে হেলে থাকে তাহলে বুঝতে হবে ডানের জায়গাটা একটু উঁচু । মুলত, এইটা দিয়ে আসলেই, বাস্তবের কোন জায়গাটা ঢালু কিংবা খাড়া তা নির্ণয় করা সম্ভব ।

 

carpenters level.jpg

                                  fig : Carpenter’s Level 

 

কিছু জনপ্রিয় “Gravity Hill”

প্রথমেই, যার কথা বলতে হয় তাহলো আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত । এদের বেশ কিছু গ্র্যাভিটি হিল রয়েছে । এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল “Ladakh : Magnetic Hill” যেখানে রাস্তার আশেপাশের স্লোপগুলো একধরনের দৃষ্টিভ্রম তৈরি করে যার ফলে যেইটাকে Downhill রোড মনে হয় মুলত তা আসলে একটা Uphill রোড । এছাড়াও, ভারতে আরো দুটি জনপ্রিয় গ্র্যাভিটি হিল রয়েছে যার যার প্রতিটিই গুজরাটে অবস্থিত । এর মধ্যে একটা “Bhuj” এর পাশে আরেকটা “Tulsi Shyam” এর পাশে অবস্থিত । 2

 

এছাড়াও, আরেকটা জনপ্রিয় গ্র্যাভিটি হিলের কথা বলতে হয় যার সাথে হয়ত আমরা ইতিমধ্যে পরিচিত । তাহলো- সৌদি আরবের “Wadi-Al-Jinn (Valley of Jinns)” যেইটা মদিনায় অবস্থিত । এর বিভিন্ন ভিডিও আমরা ইউটিউবে হয়ত দেখে থাকব । যেখানে, দেখা যাবে বোতল উল্টো দিকে গড়িয়ে পড়ছে কিংবা গাড়ি স্টার্ট ছাড়াই উল্টো দিকে যাচ্ছে ,এরকম ধরনের । যদিও, এইক্ষেত্রেও ঠিক ওই একই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা । 3

 

এসকল ছাড়াও সারা পৃথিবীতে আরো অসংখ্য এরকম গ্র্যাভিটি হিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে । এর মধ্যে রয়েছে- অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চাইনা সহ বহু দেশে । আর এরকম প্রতিটি দেশেই যে কেবল একটাই আছে তা কিন্তু নয় বরং, অসংখ্য ! 4

 

শেষের দিকে, কেউ যদি আরো ভাল করে বিষয়টা উপলব্ধি করতে চান তাহলে, ইউটিউব থেকে নেয়া একটা ভিডিও নিচে দেয়া হল । ওইটা দেখলেও অনেকখানি কনসেপ্ট ক্লিয়ার হয়ে যাবার কথা ।

 

 

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই, আশা করি সবার ভালো লেগেছে । সবাইকে ধন্যবাদ ।

 


 

References:

https://curiosity.com/topics/gravity-hills-slope-in-one-direction-but-roll-your-car-in-another-curiosity/

https://en.wikipedia.org/wiki/Magnetic_Hill_%28India%29

https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_gravity_hills

মোশন সিকনেস এবং তার বৈজ্ঞানিক ব্যবচ্ছেদ

Now Reading
মোশন সিকনেস এবং তার বৈজ্ঞানিক ব্যবচ্ছেদ

আমরা যারা বাসে বা ট্রেনে করে কোথাও ঘুরতে যাই তখন লক্ষ্য করলেই দেখি কিছু মানুষ কেন জানি শুধু শুধু জানালা দিয়ে বমি করছে ! বমি করার কোনো দৃশ্য মোটেও ভালো লাগার কথা নয় কারণ, এর মধ্যে কোনো সৌন্দর্য্য নেই | তবে, এর মধ্যে যে কোনো বৈজ্ঞানিক সৌন্দর্য্য থাকবেনা তা নিশ্চয় হতে পারেনা |

কাজেই, আজকে আমরা এই বমি করার পিছনের কারণ কিংবা এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা করব | তবে, তার আগেই জানিয়ে রাখি এই ঘটনার জন্য দায়ী যেই জিনিস তার নাম হলো– “মোশন সিকনেস”|

 

মোশন সিকনেস কি ?

নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে গতি সংক্রান্ত যেই অসুস্থতা তাই মূলত এই মোশন সিকনেস | আমরা যখন গতিশীল কোনো কিছু করে যাই তখন এইটা হতে পারে | এছাড়া, গতিশীল কোনো ঘটনাও যদি ভিডিও হিসেবে দেখি তাহলেও এই ঘটনা ঘটতে পারে | এর সিম্পটম হিসেবে যা দেখা যায় তাহলো- বমিবমি ভাব, মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, ফ্যাকাশে ত্বক, অত্যাধিক লালা নিঃসৃত হওয়া, ক্লান্তি এবং সর্বশেষ বমি |

 

মোশন সিকনেস কিভাবে হয় ?

এখন প্রশ্ন আসতে পারে মোশন সিকনেস কিভাবে হয় ? বা মূলত কিভাবে কাজ করে থাকে ?

এইটা নিয়ে আসলে এখনো অনেক গবেষণা হচ্ছে | বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয় তবে, তাই ২টা জনপ্রিয় হাইপোথিসিস রয়েছে | এর মধ্যে একটি হলো “Senses out of Harmony” এবং অন্যটার নাম হলো “Sway theory” | এখানে উল্লেখ্য যদিও এইখানে থিওরি শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে তবে, বিজ্ঞানে থিওরি শব্দটা আরো ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয় | (*What’s Theory ?)

এইখানে, ২টা হাইপোথিসিস নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে | প্রথমেই আসি “Senses out of Harmony” নিয়ে |

 

Senses out of Harmony

আমাদের শরীরে ৩টা ভিন্ন অংশ রয়েছে যারা মোশন ডিটেক্ট করতে পারে এবং সেই তথ্য মস্তিষ্কে নিয়ে যায় | যা নিম্নরূপ:-

  • চোখ (যেইটা মূলত মোশন দেখতে পারে |)
  • অন্তঃকর্ণ (এইটা মূলত মোশন সেন্স, গ্র্যাভিটি এবং এক্সেলেরেশন সেন্স করতে পারে |)
  • ত্বকের সেনসরি রিসেপ্টর (যারা মাসল মুভমেন্ট ছাড়াও স্পর্শ সেন্স করে থাকে |)

 

এখন যখনই এই ৩ সেন্সরের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় তখনই মূলত, এই মোশন সিকনেস দেখা দেয় |¹

এখন প্রশ্ন আসতে পারে অসামঞ্জস্যতা বলতে এখানে কি বোঝানো হচ্ছে ? এর মানে হলো আমাদের এক সেন্সর এই মুহুর্তে যা অনুভব করবে তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে যদি অন্যান্য সেন্সরগুলো তা অনুভব করতে না পারে তাহলেই হবে | উদাহরণ হিসেবে বলা যায় – আমরা যখন বাসে বসে যাই তখন আমাদের অন্তঃকর্ণ অনুভব করে আমরা গতিশীল কিন্তু, আমাদের চোখ বলে আমরা স্থিতিশীল |(ধরে নিচ্ছি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে নেই বাসের ভিতরেই তাকিয়ে রয়েছি !) কাজেই, তখনই অসামঞ্জস্যতা তৈরী হয় আর তার ফলেই শুরু হয় মোশন সিকনেস | আবার, আমরা যখন কোনো মুভিতে গতিশীল কিছু দেখতে দেখি তখন আমাদের চোখ বলে আমরা গতিশীল কিন্তু, অপরপক্ষে অন্তঃকর্ণ বলে স্থির কাজেই, আবারও অসামঞ্জস্যতা এবং আবারও সেই মোশন সিকনেস ! এভাবে আমরা নিজেরাই চাইলে মোশন সিকনেস সংক্রান্ত অনেক কিছু আবিষ্কার করতে পারি | তবে,বিজ্ঞানীরা মোটামুটি নিশ্চিত এই ৩ সেন্সরের অসামঞ্জস্যতার কারণেই মূলত মোশন সিকনেস হতে পারে কিন্তু, ঠিক কেন এইটা হয় সেই বিষয় তারা এখনো নিশ্চিত নয় |

কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে  জেনেটিক্যাল কারণে মোশন সিকনেস দ্বারা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে | আরেকটা, উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো চোখ দিয়ে কোনো কিছু দেখা বা না দেখাটা মোশন সিকনেস এর জন্য অবশ্যকীয় কোনো বৈশিষ্ট নয় কারণ, অন্ধ মানুষদেরও মোশন সিকনেস হতে পারে ! ²

এবার আসি ২য় হাইপোথিসিস নিয়ে যার নাম হলো “Sway theory”

 

Sway theory

এর প্রবক্তা হলো “Thomas Stoffregen” তার দাবি অনুসারে এর সাথে অনঃকর্ণের কোনো যোগসূত্র নেই | তার মতে, এর সাথে মূলত শরীরের ন্যাচারাল মুভমেন্ট এবং ভারসাম্য রক্ষার কাজ জড়িত | প্রতিটা ব্যক্তিই সবসময়ই সবক্ষেত্রে সামন্যতম হলেও গতিশীল থাকে | একেবারে গতিহীন অবস্থায় থাকা কোনো ব্যক্তির পক্ষে একেবারেই অসম্ভব একটা ব্যাপার | আমরা যদিও জানিনা কিন্তু এইটা মূলত আমরা শরীরের ভারসাম্য রক্ষার জন্যই অবচেতনভাবে করে থাকি | যেমন– যখন সামনে আগাই তখন পায়ের আঙ্গুল দ্বারা মেঝেতে চাপ দেই | মূলত, এভাবেই ভারসাম্য রক্ষার কাজটি হয়ে থাকে |

এখন, কল্পনা করি আমরা একটা গতিশীল কোনো যানবাহনের মধ্যে রয়েছি এবং ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের ভারসাম্য রক্ষার কাজটি ক্রমাগত চেষ্টা করে যাচ্ছি | যেহেতু তখন, কাজটা করা খুব একটা সহজ নয় তার ফলে দেখা দেয় অসামঞ্জস্য আর সবশেষে আবারও সেই মোশন সিকনেস | মূলত এই দাবিই Thomas Stoffregen নামক ভদ্রলোকটি করেছেন |

 

মোশন সিকনেস কাদের বেশি হয় ?

প্রশ্ন আসতে পারে মোশন সিকনেস কি সবার ক্ষেত্রেই একইরকম হয় ? নাকি মানুষ ভেদে ভিন্ন হতে পারে ? একটু আগেই জেনেটিক ফ্যাক্টরের কথা উল্লেখ করেছিলাম তার মানে অবশ্যই মানুষ ভেদে ভিন্ন হতে পারে |

এখন আমরা দেখি কাদের ক্ষেত্রে বা কিসব ক্ষেত্রে মোশন সিকনেস বেশি হতে পারে |

  • বয়স : মোশন সিকনেস ছোট বাচ্চাদের হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে | বিশেষ করে যাদের বয়স ২ থেকে ১২ বছরের মধ্যে | যখন তারা বড় হতে থাকে অনেকেই এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারে কিন্তু, সবাই নয় |
  • জেন্ডার  : গবেষণায় দেখা গিয়েছে মহিলাদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা পুরুষদের থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি |
  • জাতি :  এশিয়ানদের মধ্যে অন্য জাতি অপেক্ষা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি |
  • লোকেশন : যারা গাড়ির পিছনে বসে তাদের ক্ষেত্রে মোশন সিকনেস দ্বারা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি | এছাড়াও, যারা ড্রাইভিং করে কিংবা সামনের সিটে বসে তাদের ক্ষেত্রে মোশন সিকনেস এ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কম কারণ, তারা গাড়ির গতি স্বচক্ষে দেখতে পাবার ফলে তাদের সেন্সরগুলোর মধ্যে একটা সিনক্রনায়জেশন হয়ে থাকে |

 

মোশন সিকনেস থেকে বাচার উপায়

এত কিছু হয়ত জানলাম কিন্তু, মোশন সিকনেস থেকেই যদি বাচতে না পারি তাহলে হবে কিভাবে ? কাজেই, এখন জানব কিভাবে মোশন সিকনেস থেকে বাচা যেতে পারে |

 

  • নিজে ড্রাইভার হিসেবে গাড়ি চালানো কারণ, এতে গাড়ির গতি সম্পর্কে আগে থেকেই জানা যায় ফলে সিনক্রনায়জেশন সম্ভব হয় |
  • Avomine ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে | এইটা ট্রাভেল সিকনেস এর জন্য খাওয়া হয় |
  • বই-পড়া কিংবা মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ না করা |
  • ট্রিপের আগে হালকা কিছু খাওয়া তবে, ভারী কিছু খাওয়া যাবেনা এতে উল্টো ব্যাকফায়ার হবে |
  • ঝাল জাতীয় খাবার ,ফ্যাটি ফুড কিংবা এলকোহল আছে এরকম কিছু খাওয়া যাবেনা |
  • আরেকটা চমত্কার উপায় হলো চুইংগাম চাবানো | এখানে চুইংগামটা সরাসরি মোশন সিকনেসের বিরুদ্ধে কাজ করছে না যেইটা করছে তাহলো, শুধু চাবানোটা !

এছাড়াও, কিছু রিলাক্সেশন থেরাপি রয়েছে যা দিয়ে এই মোশন সিকনেস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায় |

আজকে, এই পর্যন্তই | কেউ যদি কোনো ভুল-ক্রুটি পেয়ে থাকেন তাহলে, অনুগ্রহ করে জানাবেন | এছাড়া লেখাটা কেমন লাগলো তাও কষ্ট করে জানালো খুশি | সবাইকে ধন্যবাদ আজকে, এখানেই বিদায় নিচ্ছি |

 


 

References :

  1. http://www.webmd.com/cold-and-flu/ear-infection/tc/motion-sickness-topic-overview#1
  2. http://www.medicalnewstoday.com/articles/176198.php

 

Sources:

  1. http://health.howstuffworks.com/mental-health/neurological-conditions/motion-sickness.htm
  2. https://umm.edu/Health/Medical-Reference-Guide/Complementary-and-Alternative-Medicine-Guide/Condition/Motion-sickness

 

মেটাল ডিটেক্টর কিভাবে কাজ করে (পর্ব -২)

Now Reading
মেটাল ডিটেক্টর কিভাবে কাজ করে (পর্ব -২)

এর আগের পর্বে আমরা মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা করেছিলাম | যারা আগের পর্ব পড়েননি তারা নিচের লিংক থেকে পড়ে নিতে পারেন |

মেটাল ডিটেক্টর কিভাবে কাজ করে (পর্ব-১)

আজকে আমরা দেখব  কিভাবে VLF টেকনোলজিতে মেটাল ক্লাসিফাই করে | এছাড়াও PI এবং BFO টেকনোলজির মেটাল ডিটেক্টর কিভাবে কাজ করে তা নিয়েও আলোচনা করব |


VLF টেকনোলজিতে মেটাল ক্লাসিফাই :-

আমরা যখন কোনো শপিং মল কিংবা,রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে মেটাল ডিটেক্টরের সামনে দাড়াই তখন কিন্তু, আমাদের কাছে অনেকসময় বিভিন্ন মেটাল থাকা সত্বেও তা ধরতে পারেনা | কেন ? যারা বিজ্ঞান নিয়ে একটু চিন্তা-ভাবনা করে তারা হয়ত বলবে এমন কিছু প্রোগ্রাম করে থাকে যার ফলে সাধারণ ধরনের মেটালগুলোকে বাতিল করে যেন শুধু প্রয়োজনীয় মেটালগুলোই ডিটেক্ট হতে পারে | আসলে, বিষয়টা অনেকটা এরকমই !

মূলত এই কাজ করার আগে আমাদের আগে জানতে হবে একটা টার্ম সম্পর্কে তাহলো “Phase shifting” ,এইটা হলো এমন একটা বিষয় যেখানে, সময়ের সাথে Transmitter coil এর ফ্রিকোয়েন্সি আর অবজেক্টের ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে পার্থক্য বোঝানো হয় |

কোনো অবজেক্টে যদি খুব সহজেই কারেন্ট প্রবাহিত হয় (highly inductive) তাহলে, তা কারেন্টের সাথে খুব স্লো পরিবর্তন হবে |

আবার কোনো অবজেক্টে যদি খুব সহজে কারেন্ট প্রবাহিত না হয় (highly resistive) তাহলে ,তা কারেন্টের সাথে খুব দ্রুত পরিবর্তিত হবে |

মোদ্দা কথা, অবজেক্টের যদি Inductance বেশি থাকে তাহলে, তার একটা বড় Phase shift থাকবে | অপরপক্ষে, যার resistance বেশি থাকবে তার ক্ষেত্রে Phase shift কম থাকবে |

এখন প্রশ্ন হতে পারে এত কিছু জেনে লাভ কি হলো ? মেটাল ডিটেক্ট করব কিভাবে ?

আসলে, Phase shift এর বিষয়টা যদি আমরা বুঝে থাকি তাহলে ,বাকিটা বোঝা আরো সহজ কারণ, একেক পদার্থের ক্ষেত্রে এই Phase shift একেকরকম থাকে | আর মেটাল ডিটেক্টর মূলত সেই Phase shift ডিটেক্ট করেই বলে দিতে পারে পদার্থটা কি! মূলত এইটা করার জন্য ডিটেক্টর এর একটা আলাদা অংশই রয়েছে যার নাম হলো “Phase demodulator” এই অংশটুকুই মূলত প্রাপ্ত Phase shift এর সাথে অ্যাকচুয়াল Phase shift এর তুলনা করে বলে দিতে পারে কোন মেটাল রয়েছে !

এছাড়াও, আমরা যদি বিশেষ বিশেষ মেটাল ডিটেক্ট করতে না চাই তাহলে “Notching” বলে একটা ব্যবস্থাও রয়েছে যার ফলে, পার্টিকুলার Phase shift কে খুব সহজেই বাদ দেয়া যায় | এর ফলে সেই বাদ দেয়া অংশ বাদে বাকি অংশের মধ্যে Phase shift হলে তা সহজেই ডিটেক্ট করতে পারে | এছাড়াও Multiple notching করার ব্যবস্থাও রয়েছে যার ফলে Phase shift এর বেশ কিছু জায়গায় আলাদা আলাদাভাবে দেয়া হয় | আর সেই বাদ দেয়া অংশ বাদে বাকিগুলোতেই মেটাল ডিটেক্টরটি কাজ করে থাকে |


এবার আমরা আলোচনা করব কিভাবে Pulse Induction বা PI টেকনোলজি কাজ করে |

Pulse Induction বা PI এর কার্যপ্রক্রিয়া :-

এর সাথে VLF টেকনোলজির মূল পার্থক্য হলো আগেরটাতে ট্রান্সমিটিং এবং রিসিভিং এর জন্য ২ টা আলাদা কয়েল ব্যবহার করা হত | কিন্তু, এখানে, দুটো কাজের জন্য একই কয়েল (ক্ষেত্র বিশেষে একাধিক !) ব্যবহার করা হয় | এখানে, মূলত কতগুলো শক্তিশালী কারেন্টের পালস তারের মাধ্যমে পাঠানো হয়  এবং প্রতিটা পালস ম্যাগনেটিক ফিল্ড উত্পন্ন করে | যখন পালস শেষ হয় তখন তা একটা Electrical spike উত্পন্ন করে | এই spike টা খুব অল্প সময় থাকে এবং এর ফলে একটা কারেন্ট সেই কয়েল দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে যাকে, reflected pulse বলা হয় | এখানে, একটা বিষয় লক্ষনীয় এই প্রবাহিত কারেন্ট খুবই অল্প সময় থাকে মোটামুটি ৩০ মাইক্রো-সেকেন্ড | (চিত্র দ্রষ্টব্য)

PI

যখন, কোনো মেটাল অবজেক্টের উপর এই ডিটেক্টর টি আনা হয় তখন এই পালস সেই অবজেক্টের উপর একটা বিপরীত ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরী করে যার ফলে, সেই reflected pulse টা আগে যত দ্রুত মিলিয়ে যেত এখন মিলিয়ে যেতে তার চেয়ে আরো বেশি সময় লাগবে | বিষয়টাকে এভাবে ব্যাখা করা যেতে পারে ,আমরা অনেকসময় নাটক-সিনেমাতে বড় বড় পাহাড়ের মাঝে প্রতিধ্বনি শুনতে পাই ,ওখানে লক্ষ্য করলেই খেয়াল করব প্রতিধ্বনি টা বেশ কিছু সময় ধরে থাকে | আবার , কোনো বড় হলরুমে যদি একই ভাবে চিত্কার করি তাহলে তার সময়সীমা কিন্তু বেশিক্ষণ থাকেনা কারণ, প্রথমক্ষেত্রে অনেকগুলো কঠিন অবজেক্ট (এখানে পাহাড়!) শব্দকে প্রতিধ্বনি করে তার ডিউরেশন বাড়িয়ে দেয় দ্বিতীয় ক্ষেত্রে হয়ত অনেকগুলা কঠিন অবজেক্ট থাকেনা বিধায় ডিউরেশন অল্প হয় | ঠিক এই প্রথম বিষয়টাই PI টেকনোলজির ক্ষেত্রে ঘটে থাকে !


এবার আসা যাক সর্বশেষ টেকনোলজি নিয়ে যার নাম Base-frequency Oscillator বা BFO

Beat-frequency Oscillator বা BFO এর কার্যপ্রক্রিয়া :-

এখানেও ২ টা কয়েল থাকে যার একটা Control box এবং আরেকটা Search head এর মধ্যে; এবং তারা উভয়ই একটি Oscillator এর সাথে যুক্ত থাকে | এই ২টি কয়েলই প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার পালস উত্পন্ন করে | তবে, এই দুই কয়েলের পালসের ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকে | আর এই পালসের ফলে কয়েল থেকে ক্রমাগত  Radio wave উত্পন্ন হতে থাকে | আর তখন Control box এই Radio wave ডিটেক্ট করে শব্দ উত্পন্ন করতে থাকে যা নির্ভর করে মূলত ফ্রিকোয়েন্সির পার্থক্যর উপর | (চিত্র দ্রষ্টব্য)

BFO

যখন কোনো মেটাল অবজেক্ট Search head এর সামনে আনা হয় তখন তার মধ্যেও ম্যাগনেটিক ফিল্ড উত্পন্ন হয় যা Search head কয়েলের ফ্রিকোয়েন্সির সাথে interfere করে | যার ফলে কয়েল দ্বয়ের ফ্রিকোয়েন্সির পার্থক্য পরিবর্তন হয় | আর এই পরিবর্তনের ফলেই মূলত Control box তখন ভিন্ন ধরনের কোনো শব্দ উত্পন্ন করে থাকে | যার ফলে, খুব সহজেই বোঝা যায় সামনে কোনো মেটাল আছে |

যাইহোক, মূলত এইভাবেই বিভিন্ন ধরনের মেটাল ডিটেক্টর তাদের কাজ করে থাকে | আজ এ পর্যন্তই আর এখানেই পুরো পর্ব শেষ হলো | তবে,কেউ যদি কোনো ভুল-ক্রুটি পেয়ে থাকেন অনুগ্রহ করে জানাবেন একই সাথে কারো যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলেও তা নিঃসংকোচে জানাতে পারেন ,উত্তর দেবার চেষ্টা করব | সবাইকে ধন্যবাদ |

মেটাল ডিটেক্টর কিভাবে কাজ করে (পর্ব -১)

Now Reading
মেটাল ডিটেক্টর কিভাবে কাজ করে (পর্ব -১)

“মেটাল ডিটেক্টর” এইটা আমাদের অতি  পরিচিত একটি নাম | যারা একেবারেই কিছু জানেনা তারা হয়ত নাম দেখেই বলতে পারবে এইটা এমন এক ডিটেক্টর যা মেটাল ডিটেক্ট করতে পারে ! যারা আরো একটু বেশি জানে তারা হয়ত বলবে এইটা এমন এক জিনিস যা বিভিন্ন শপিংমল,সিনেমা হল ,এয়ারপোর্ট, হোটেল কিংবা বিশেষ জায়গাগুলোতে “মেটাল” খোজার কাজে ব্যবহার করা হয় !! যারা এই দুই ক্যাটাগরির মধ্যে পরে তাদের জন্য আমার এই পোস্টটি কারণ, আমি চাই তৃতীয় আরো একটি ক্যাটাগরি তৈরী হোক |

সাধারণত , একটি টিপিক্যাল মেটাল ডিটেক্টর এর ৪ টি অংশ থাকে | যথা –

Stabilizer

নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এইটা মূলত স্ট্যাবিলাইজ করার জন্য ব্যবহার হয় |

Control box

এখানে, বিভিন্ন সার্কিট কম্পোনেন্ট ,মাইক্রোপ্রসেসর ইত্যাদি বিদ্যমান থাকে |

Shaft

এইটা সার্চ কয়েল আর কন্ট্রোল বক্সের সংযোগক্ষেত্র হিসেবে থাকে | মূলত, উচ্চতা নিয়ন্ত্রনের কাজটা করে থাকে |

• Search coil

এইটা সর্ব নিচের অংশ যার মাধ্যমে মূলত সার্চ করার অংশটুকু হয় |

মূলত, এই ৪টি অংশ নিয়ে কাজ করার বিষয়টা খুব সিম্পল | প্রথমে কন্ট্রোল বক্সের মাধ্যমে এর Threshold পয়েন্ট ঠিক করা হয় ,এরপর সেই সার্চ কয়েলকে যখন কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর উপর কাছে আনা হয় তখন তার ম্যাগনেটিক ফিল্ড আর মেটালের মধ্যে উত্পন্ন হওয়া ম্যাগনেটিক ফিল্ড পরস্পরের মধ্যে রিয়াক্ট করে যার ফলে একটা সিগন্যাল উত্পন্ন হয় যা কন্ট্রোল সেকশন প্রসেস করে দেখে  মেটাল এর পরিমান  Threshold পয়েন্ট ক্রস করেছে কিনা ! যদি করে তাহলেই, এলার্ম বেজে উঠবে  (চিত্র দ্রষ্টব্য) |

How metal detector works

 

যদিও বিষয়টা খুব সহজে ব্যাখা করা হলো, কিন্তু এর মধ্যে আরো কিছু কম্প্লিক্যাসী রয়েছে | তাছাড়া, কিধরনের মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হবে তার উপরও মোটামুটি নির্ভর করে এর কাজ করার পরিধি কত |

সাধারণত মেটাল ডিটেক্টর হিসেবে ৩ ধরনের টেকনোলজি ব্যবহার করা হয় | যথা –

      • Very low frequency বা সংক্ষেপে VLF
      •  Pulse Induction বা সংক্ষেপে PI
      • Beat-frequency Oscillation বা সংক্ষেপে BFO

      টেকনোলজির ধরনভেদে কাজের প্রক্রিয়া এবং প্রয়োগক্ষেত্রের মধ্যেও যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায় | যেমন, কিছু ডিটেক্টর হয়ত অনেক গভীর থেকে মেটাল ডিটেক্ট করতে পারে (যেমন – PI টেকনোলজি) কিছু হয়ত তা পারেনা | আবার, কিছু ডিটেক্টরের মেটাল ডিটেক্ট করার পরিধি অন্যগুলোর চেয়ে বেশি | মূলত, এসবের উপর নির্ভর করেই একেক ক্ষেত্রে একেক ধরনের ডিটেক্টর ব্যবহার হয়.

      এখন, আমরা জানব কোন ডিটেক্টর কিভাবে তার কাজ করে থাকে | প্রথমেই শুরু করি VLF দিয়ে যা মোটামুটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় |

      VLF metal detector

      মূলত, এর দুইটা কয়েল রয়েছে যার একটি হলো – • Transmitter Coil  আর অন্যটি হল  • Receiver Coil

      • Transmitter Coil মূলত সার্চ কয়েলের সর্ব বহিস্থ অংশ যার মধ্যে ইলেকট্রিসিটি ক্রমাগত পাস হতে থাকে এবং প্রতি সেকেন্ডে এর দিক পরিবর্তন হতে থাকে | মূলত এই দিক পরিবর্তন হতেই এর ফ্রিকোয়েন্সি জানা যায় |

      • Receiver Coil মূলত সার্চ কয়েলের মধ্যে বা Inner এ অবস্থান করে | যা, এন্টেনার ন্যায় কাজ করে টার্গেটেড অবজেক্ট (এখানে মেটাল) এর ফ্রিকোয়েন্সি এমপ্লিফাই করার কাজে ব্যবহার হয় |

      কার্জপ্রক্রিয়া : –

      যখন , কারেন্ট Transmitter Coil দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে তখন তা একটি ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরী করে | আর এই ফিল্ড এর পোলারিটি কয়েল এর সাথে লম্বভাবে থাকে | যখনই, কারেন্ট এর দিক পরিবর্তন হয় তখনই এর পোলারিটির ও পরিবর্তন ঘটে | অর্থাত, এইখানে ম্যাগনেটিক ফিল্ড “back and forth” অবস্থায় পালস করতে থাকে | আর যখনই তা কোনো মেটাল অবজেক্ট এর সম্মুখীন হয় তখন তার মধ্যেও Induced প্রক্রিয়ায় (Faraday law দ্রষ্টব্য ) ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরী করে থাকে | এখন যদি Transmitter Coil ডাউনওয়ার্ড পালসেট করে তাহলে, অবজেক্ট করবে আপওয়ার্ড এ ,অর্থাত বিপরীতমুখী !

      এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় এতক্ষণ যা কাজ হলো তা মূলত, Transmitter coil আর অবজেক্ট এর মধ্যে, কিন্তু, এর মাঝেত Receiver Coil ও রয়েছে তার কি হবে ? তার মধ্যে কি Magnetic interference হবেনা ? আসলে, সত্যি হলো  হবেনা এবং হবে ! মানে, Transmitter Coil এর সাথে হবেনা কিন্তু অবজেক্ট এর সাথে হবে !! Transmitter Coil এর সাথে হবেনা তার কারণ, Receiver Coil শিল্ডেড অবস্থায় থাকে যার ফলে, Transmitter Coil এর সাথে না হলেও অবজেক্ট এর সাথে ঠিকই হবে, কারণ, তার জন্য কোনো শিল্ডের ব্যবস্থা নেই ! যার ফলে, একটি অল্প পরিমান কারেন্ট Receiver Coil দিয়ে প্রবাহিত হয় যার ফ্রিকোয়েন্সি অবজেক্ট এর ম্যাগনেটিক ফিল্ড এর ফ্রিকোয়েন্সির সমান থাকে | এরপর Receiver Coil তাকে এমপ্লিফাই করে মেটাল ডিটেক্টর Control Box এ পাঠায় | Control Box তখন সেই সিগনাল কে প্রসেস করে নির্ণয় করে অবজেক্ট টি কত গভীরে থাকতে পারে | যত শক্তিশালী ম্যাগনেটিক ফিল্ড তত কাছে অবজেক্ট টি , আর যত দুর্বল তত গভীরে ! এছাড়াও এই Control Box আরো একটি কাজ করে থাকে তাহলো ,বিভিন্ন ধরনের মেটাল ডিটেক্ট করার ক্ষমতা | যার ফলে অবজেক্টটি কোন মেটাল দিয়ে তৈরী তাও নির্ণয় করা অনেকক্ষেত্রে সম্ভব হয় !

      যাইহোক, আজ এই পর্যন্তই থাকুক | এর পরের পর্বে হয়ত আমরা দেখব কিভাবে কি ধরনের মেটাল ডিটেক্ট করা সম্ভব কিংবা অন্য ডিটেক্টরগুলো কিভাবে কাজ করে তাও দেখব |

      এইটা আমার বাংলা ব্লগের প্রথম পোস্ট ! কেউ কোনো ভুল-ক্রুটি পেলে জানাবেন কিংবা প্রশ্ন থাকলেও জানাতে পারেন চেষ্টা করব উত্তর দেবার | সবাইকে ধন্যবাদ |

       

      Sources :

      http://electronics.howstuffworks.com/gadgets/other-gadgets/metal-detector2.htm

      http://www.explainthatstuff.com/metaldetectors.html

      http://www.school-for-champions.com/science/magnetic_field_moving_charges.htm#.WRqozdwlHDc

       

       

Page Sidebar