3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

মানুষের জন্য সম্ভাব্য Head Transplantation এবং কিভাবে তা সম্ভব ?

Now Reading
মানুষের জন্য সম্ভাব্য Head Transplantation এবং কিভাবে তা সম্ভব ?

আমরা আমাদের চারপাশের মানুষকে অসুস্থ হতে দেখেছি | মোটামুটি অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে ওষুধ খেয়ে চিকিত্সা নিতে দেখি আর খুব বেশি হলে হয়ত বিভিন্ন অর্গান চেঞ্জ করার মত ঝুকিটুকুই নিতে হয় | আর সেই অর্গান বললে কল্পনায় আসে Heart, lung কিংবা kidney transplant এর মত বিষয়গুলো | কিন্তু, ক্ষেত্র বিশেষে যদি পুরো শরীরটাই পুড়ে যায় তাহলে হয়তবা Skin transplant  পর্যন্তই থাকে | এর বেশি হয়ত কারো লাগেনি কিংবা সম্ভব হয়নি কিংবা হয়তবা কল্পনাতেও আসেনি | তবে, এখন সম্ভব কিংবা কারো লাগে কিনা এই সম্ভাবনা বাদ দিয়ে অন্ততপক্ষে কল্পনার অংশটুকু মনে হয় করা যেতে পারে ! কারণ, খুব শীঘ্রই মানে এই বছরেই ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসেই Dr. Sergio Canavero নামক একজন বিজ্ঞানী রাশিয়ার Valery Spiridonov নামের একজন মানুষের উপর এরকম একটা সার্জারী করতে যাচ্ছে যেইটা আগে মানুষ কখনই করেনি, কারো ক্ষেত্রে লাগেও নি এবং খুব বেশি মানুষ হয়তবা কল্পনাও করেনি ! আর তাহলো, একটা “Head Transplantation” !

 

head-transplant-1.jpg

  Dr. Sergio Canavero with Valery Spiridonov at a meeting of the American Academy of Neurological and Orthopaedic Surgeons in Annapolis, Maryland, on June 12, 2015. 

Head Transplantation কি ?   

এইটা নাম শুনেই বুঝে ফেলা যায় যে একজনের মাথা আরেকজনের মাথার অংশে লাগানোর মত হয়ত একটা বিষয় হবে ! কিন্তু, বাস্তবতা হলো একজন মানুষ তার মাথা মারা না গিয়ে ডোনেট করতে পারেনা আবার আরেক মানুষ নিজে মারা না গিয়ে সেই ডোনেট প্রাপ্ত মাথাটা তার জায়গায় লাগাতেও পারেনা ! কাজেই, এইটা আসলে যৌক্তিক হবে যদি এইটাকে “Body transplant” বলা হয় কারণ, এইখানে আসলে একজন অসুস্থ মানুষের পুরো বডির অংশটুকুই পরিবর্তন করা হয় | যদিও, যখন সার্জারী করা হবে তখন কেবল মাথাটাই এক বেড থেকে আরেক বেড়ে নিয়ে যাওয়া হবে | আর এর পিছনে যুক্তি হলো ভারী শরীর বহন করার চেয়ে মাথা বহন করার কাজটা বরং এর চেয়ে সহজ !

 

Head Transplantation কি সম্ভব ? আগে হয়েছিল ?

আগেই বলেছি মানুষের ক্ষেত্রে আগে কখনো হয়নি কাজেই, সম্ভব কিনা তা হয়ত বলা সম্ভব না ! কিন্তু, অন্য পশুপ্রাণীর ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা কিন্তু ঠিকই এক্সপেরিমেন্ট করে দেখেছেন এবং তাতে সফলতাও এসেছে | যেমন এরকম একটা ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫৪ সালে । যেখানে রাশিয়ান ডাক্তার  “Vladimir Demikhov” যিনি “two-headed dogs” সৃষ্টির জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন | তিনি একটা কুকুরের মাথা আর সামনের পা আরেকটা কুকুরের ঘাড়ের সাথে যোগ করেন | বেশ সফলভাবেই তিনি তার কার্য সম্পাদন করেন | আর এর ফলে যেই দুই মাথার কুকুর তৈরী হয় তা অন্য স্বাভাবিক প্রাণীর মতই খাওয়া-দাওয়া, চোখ দিয়ে দেখা কিংবা গন্ধ শোঁকার কাজগুলো করতে পারত | যদিও, এই দুই মাথা কুকুর ৪ দিনের মাথাতেই মৃত্যু বরণ করে (নিচের চিত্র দ্রষ্টব্য) | তবে, এই বিখ্যাত ডাক্তারের এরকম অন্যান্য এক্সপেরিমেন্ট প্রানীগুলো কম বেশি ২৯ দিন পর্যন্ত জীবিত ছিল |

 

dog_head_transplant.jpg

 

এরপরে, এরকম আরেকটা ঘটনা হয় ১৯৭০ সালে | “Dr. Robert white” নামের আমেরিকান একজন নিউরো-সার্জন বানরের উপর এই এক্সপেরিমেন্ট টা করেন | বানরের “Head transplantation” এর পর বানরটা প্রায় ৩৬ ঘন্টা নিউরলোজিক্যালি ইন্ট্যাক্ট ছিল যদিও, সে সেই মূহুর্তে কোন মুভমেন্ট করতে পারতনা । এর ঠিক ৯ দিনের মধ্যে বানরটার মাথা ইমিউন সিস্টেম কর্তৃক রিজেক্ট হয় আর এরপরেই তা মারা যায় ।

তবে, এসব বাস্তব ঘটনা বাদেও যারা ফ্রাঙ্কেন্সটাইন এর নাম শুনেছে তারা নিশ্চয় জানে এই বিজ্ঞানীটা বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জোড়া লাগিয়ে একটা মন্সটার তৈরি করেছে যেইটা শেষমেষ কিনা তাকেই মেরে ফেলে !

কাজেই, এসব ঘটনা দেখে এতটুকু বোঝা যায় “Head transplant” মানুষের ক্ষেত্রে আগে না হলেও এর হয়ত একটা সম্ভাবনা আছে ।

 

Head Transplantation কিভাবে কাজ করে ?

এই ক্ষেত্রে প্রথমেই ডোনার কে চিহ্নিত করতে হবে | কারণ, ডোনার এমন কাউকে হতে হবে যার ইমিউন সিস্টেম, উচ্চতা রিসিপিয়েন্ট এর সাথে সামঞ্জস্য | যখন প্রয়োজনীয় সকল বৈশিষ্ট্য মিলে যাবে তখন তাকে সিলেক্ট করা যেতে পারে | এরপরে, দুইটা সার্জারী সাইমালটেনিয়াস হবার জন্য বড় একটা অপারেশন রুম দরকার |

প্রথমেই, ডোনার এবং রিসিপিয়েন্ট উভয়েরই পুরো শরীর অত্যন্ত ঠান্ডা করা হয় প্রায় ১২-১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস | এর ফলে ব্লাড ফ্লো কম হয় যার ফলে বাড়তি কিছু সময় পাওয়া যায় | এরপরে, ঘাড়ের কাছে একটা গভীর ছিদ্র করা হয় | এরপরে, artery, jugular vein, spine ইত্যাদি বের করা হয় | এরপর সর্বশেষ স্পাইনাল কর্ড থেকে কাটা হয় এবং খুব দ্রুত রিসিপিয়েন্ট এর সেই মাথাকে ডোনার এর সেই সুস্থ শরীরে লাগানো হয় | এই অংশটুকুর জন্য প্রায় ১-২ মিনিট সময় রাখা হয় | কারণ, মস্তিষ্কের জন্য অক্সিজেন আর গ্লুকোস অত্যাধিক প্রয়োজনীয় উপাদান | কাজেই, সময়টা এইখানে অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর | এরপরে মাথা জোড়া লাগানোর জন্য “polyethylene glycol (PEG)” নামক একধরনের আঠা ব্যবহার করা হয় | PEG একটা বহুল ব্যবহৃত প্লাস্টিক যেইটা টুথপেস্ট, স্ক্রিন ক্রিমার সহ বিবিধ জায়গায় ব্যবহার করা হয় | আর এইটা ব্যবহার করার কারণ হলো এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ঠ্য যা হলো ডেমেজ সেল মেমব্রেন গুলোকে দ্রুত সরিয়ে তুলতে পারার ক্ষমতা | মোটামুটি এইভাবেই জোড়া লাগানর কাজটুকু করা হয় ।

 

head transplant demo.jpg

 

এই পুরো প্রক্রিয়াটা সহজে বোঝার জন্য চাইলে উপরের ছবিটা কেউ মনোযোগ দিয়ে দেখতে পারে | যেখানে, দেখা যাচ্ছে দুইজন মানুষের মাথা কাটা হচ্ছে । তারপর রিসিপিয়েন্ট এর মাথা ডোনার এর সুস্থ শরীরে PEG নামক আঠা দিয়ে লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে ! আসলে, পুরো বিষয়টার বর্ণনা হয়ত এরকমই সহজ; যদিও পুরো প্রসিড্যিউর টা যথেষ্ট দুর্বোধ্য । এমন কি অনেক বিজ্ঞানী এই সার্জারী নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহও প্রকাশ করেছেন । এখন, পুরো বিষয়টার ফলাফল জানার জন্য হয়ত বছরের শেষ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে । দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি হয় !

 

যাইহোক, আজকে এই পর্যন্তই, আশা করি সবার ভাল লেগেছে । সবাইকে ধন্যবাদ ।

 


 

References:

  1. http://www.alphr.com/science/1001145/human-head-transplant-what-is-dr-canaveros-controversial-2017-surgery-and-can-it
  2. http://health.howstuffworks.com/medicine/modern-treatments/human-head-transplant1.htm
  3. http://health.howstuffworks.com/medicine/modern-treatments/human-head-transplant2.htm
  4. http://health.howstuffworks.com/medicine/modern-treatments/human-head-transplant3.htm
  5. http://www.todayifoundout.com/index.php/2016/04/time-soviet-scientist-created-two-headed-dog/

মানব মস্তিষ্ক

Now Reading
মানব মস্তিষ্ক

মানুষের মস্তিষ্ক মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের জন্য কমান্ড সেন্টার। এটি সেন্সরীয় অঙ্গগুলি থেকে ইনপুট পায় এবং পেশীগুলি থেকে আউটপুট প্রেরণ করে। মানুষের মস্তিষ্ক অন্য স্তন্যপায়ী মস্তিস্কে একই মৌলিক কাঠামো আছে, কিন্তু অন্য কোন মস্তিস্কে দেহের আকারের তুলনায় এটি বৃহত্তর।

মানুষের মস্তিষ্ক সম্পর্কে তথ্য:

 

  • মানুষের মস্তিষ্ক শরীরের আকারের সাথে সম্পর্কযুক্ত সমস্ত vertebrates বৃহত্তম মস্তিষ্ক হয়
  • এটি প্রায় ৩.৩ পাউন্ড। (১.৫ কেজি)
  • মস্তিষ্ক মানুষের শরীরের ওজন প্রায় ২ শতাংশ বেশি করে তোলে
  • মস্তিষ্ক এর ওজন ৮৫ শতাংশ সেরিব্রাম তোলে
  • এটি ৮৬ বিলিয়ন স্নায়ু কোষ (নিউরোন) – “ধূসর ব্যাপার”
  • এটাতোলেনার্ভতন্তু (অ্যাক্সনেরসূক্ষ্মতন্তুএবং dendrites) বিলিয়ানরয়েছে – “সাদাব্যাপার”
  • এই নিউরোনগুলি ট্রিলিয়ানের সংযোগ বা সংক্রমণের দ্বারা সংযুক্ত

 

মানুষের মস্তিষ্কের দৈহিক গঠনতন্ত্র :

মানুষের মস্তিষ্কের বৃহত্তম অংশ সেরিব্রাম, যা দুটি গোলার্ধে ভাগ করা হয়। মস্তিস্ক নিম্নে brainstem এই ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ, এবং যে পিছনে লঘুমস্তিষ্ক cerebellum বসা । সেরিব্রামের বাইরের সর্বাধিক স্তরটি সেরিব্রাল কর্টেক্স, যা চারটি লেব গঠিত: সম্মুখ লৌহ, প্যারিটাল লোব, আঞ্চলিক লব এবং ওসিপিসিটাল লোব।

সব কৃশকায় মস্তিষ্কের মতই, মানুষের মস্তিষ্কের তিনটি অংশ থেকে শুরু হয় যা অগ্রাহ্য, মধ্যবয়স এবং হিন্নব্রেইন নামে পরিচিত। এদের প্রতিটিতে তরল-ভরা কভার রয়েছে যার নাম ভেন্ট্রিক্স। মস্তিষ্কে সেরিব্রাম এবং অন্তর্নিহিত কাঠামোর মধ্যে বিকাশ যা মস্তিষ্কে মস্তিষ্কের অংশ হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কে মস্তিষ্ফের অঞ্চল এবং মস্তিষ্কে অঞ্চলে বৃদ্ধি পায়।

সেরিব্রাল কর্টেক্স মানুষের মস্তিষ্কের মধ্যে ব্যাপকভাবে বিস্তত হয়, এবং জটিল চিন্তার আসন হিসাবে গণ্য করা হয়। ভিসুয়াল প্রক্রিয়াকরণ মস্তক কাছাকাছি occipital লোব মধ্যে সঞ্চালিত হয়। টেম্পোরাল লোব শব্দ এবং ভাষা প্রক্রিয়া করে, এবং হিপোক্যাম্পাস এবং এমেগডালা অন্তর্ভুক্ত করে, যা যথাক্রমে মেমরি এবং আবেগের ভূমিকা পালন করে।প্যারিটাল লোব বিভিন্ন অর্থে থেকে ইনপুট সংহত এবং স্থানিয় অভিযোজন এবং নেভিগেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

Brainstem সংযোগ সুষুম্না প্রয়োজন এবং সুষুম্নাশীর্ষক, Pons এবং মিডব্রেন নিয়ে গঠিত। মস্তিষ্কের প্রাথমিক কার্যগুলির মধ্যে রয়েছে:

১.মস্তিষ্ক এবং শরীরের মধ্যে তথ্য পুনর্লিখন

২.মুখ এবং মাথা ক্রানিয়াল স্নায়ু কিছু সরবরাহ এবং

৩.পারফর্মিং হৃদয়, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং চেতনা নিয়ন্ত্রণ সমালোচনামূলক ফাংশন।

সেরিব্রাম এবং মস্তিষ্কের মধ্যে থ্যালামাস এবং হাইপোথ্যালামাস রয়েছে। থ্যালামাস কর্টেক্সে সংবেদী এবং পেশী সঞ্চালনের সংক্রান্ত সংকেতগুলি সঞ্চার করে এবং চেতনা, ঘুম এবং সতর্কতা নিয়ন্ত্রণে জড়িত। হাইপোথালামাস স্নায়ুতন্ত্রের সংযোগ অন্তঃস্রাবী পদ্ধতি যেখানে হরমোন উৎপাদিত হয় – – পিটুইটারি গ্রন্থি মাধ্যমে।

মস্তিষ্কে সেরিব্রামের নীচে অবস্থিত এবং পেশী সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ ফাংশন রয়েছে। এটি সমন্বয় এবং ভারসাম্য একটি ভূমিকা পালন করে, এবং কিছু জ্ঞানীয় ফাংশন থাকতে পারে।

 

মানুষ বনাম অন্যান্য প্রাণী

সিয়াটেলের ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার এবং ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার জীববিজ্ঞানী এরিক হোল্যান্ড বলেন, মানুষের এবং পশুর মস্তিষের মধ্যে প্রধান পার্থক্য তাদের আকার। মানুষের অন্যান্য প্রাণীগুলির তুলনায় অনেক নিউরন বেশি পরিমাণে থাকে, এবং মস্তিষ্কের স্তরযুক্ত কাঠামোর সাথে এটি করার একমাত্র উপায় হল বাইরের স্তর, বা কর্টেক্সের ভাঁজ । আরো জটিল একটি মস্তিষ্কের পায়, আরো gyri এবং sulci, অথবা wiggly পর্বত এবং উপত্যকা, এটা হয়েছে, ” বলেছেন হল্যান্ড। বানর এবং ডলফিনের মতো অন্যান্য বুদ্ধিমান প্রাণী যেমন তাদের কর্টেক্সে রয়েছে, তেমনি ইঁদুরের মসৃণ মস্তিষ্কও রয়েছে ।

মাণুষদের কাছে কোনও পশুর সর্বাধিক অগ্রগামী লোব রয়েছে, বলে জানান হল্যান্ড । ফ্রন্টাল লোবগুলি স্ব-নিয়ন্ত্রণ, পরিকল্পনা, যুক্তিবিজ্ঞান এবং বিমূর্ত চিন্তাধারা যেমন উচ্চতর স্তরের ফাংশনগুলির সাথে যুক্ত – মূলত, “এমন বিষয় যা আমাদের বিশেষ করে মানুষ করে তোলে ।

বাম মস্তিষ্ক বনাম ডান মস্তিষ্ক

মানুষের মস্তিষ্ককে দুটি গোলার্ধে বিভক্ত করা হয়, বাম ও ডানদিকে, কৃশ কলোসাম নামক স্নায়ু ফাইবারগুলির একটি বুন্ডল দ্বারা সংযুক্ত। গোলার্ধের দৃঢ়ভাবে হয়, যদিও সম্পূর্ণভাবে, প্রতিসম । বামের মস্তিষ্ক শরীরের ডান দিকে সমস্ত পেশী নিয়ন্ত্রণ করে; এবং ডান মস্তিষ্ক বাম দিকে নিয়ন্ত্রণ। একটি গোলার্ধ সামান্য প্রভাবশালী হতে পারে, বাম হিসাবে সঙ্গে- অথবা ডান হাতি।

“বাম মস্তিষ্ক” এবং “ডান মস্তিষ্ক” গুণ সম্পর্কে জনপ্রিয় ধারণাগুলি সাধারণীকরণ যা প্রমাণের দ্বারা সমর্থিত নয়। এখনও, এই এলাকায় মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। বাম মস্তিষ্ক বক্তৃতা এবং ভাষা (Broca এর এলাকা এবং Wernicke এর অঞ্চল) জড়িত অঞ্চলে রয়েছে, এবং এছাড়াও গাণিতিক হিসাব এবং সত্য আহরণ সঙ্গেও যুক্ত করা হয়। ডান মস্তিষ্ক চাক্ষুষ এবং শ্রুতি প্রক্রিয়াকরণ, স্থানিক দক্ষতা এবং শিল্পসম্মত দক্ষতার একটি ভূমিকা পালন করে – এবং সহানুভূতিশীল বা সৃজনশীল জিনিসগুলি, হল্যান্ড বলেন – যদিও এই ফাংশনগুলি হিমিস্কে উভয়ই অন্তর্ভুক্ত করে।

বিকাশমান মস্তিষ্ক

জন্মের সময়, আপনার মস্তিষ্ক একটি পূর্ণবয়স্ক মস্তিষ্কের প্রায় একই আকার ছিল এবং আপনার সমগ্র জীবনের জন্য বেশিরভাগ মস্তিষ্কের কোষ রয়েছে ।

একটি নবজাতক শিশুর মস্তিষ্ক প্রথম বছরে তিন বার তার আকার বৃদ্ধি করে।

মানসিক কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায় মানুষ সারা জীবন নতুন নিউরন তৈরি করে।

Utero মধ্যে বিকাশ প্রথম অর্থে স্পর্শ অনুভূতি হয়। ঠোঁট এবং গাল প্রায় ৮ সপ্তাহ এবং বাকি ১২ সপ্তাহের মধ্যে স্পর্শ অনুভব করতে পারে।

বিয়ে না করলে ট্যাক্স!!

Now Reading
বিয়ে না করলে ট্যাক্স!!

মঙ্গোলিয়াতে আঠারো বছর বয়সে বিয়ে করা বাধ্যতামূলক। না করলে ট্যাক্স দিতে হয়।

এই মঙ্গোলিয়া থেকেই কুখ্যাত তাতার গোষ্ঠীর উৎপত্তি।ইতিহাসের কুখ্যাত চেঙ্গিস খান ছিল তাতারদের রাজা। যদিও চেঙ্গিস খানের আসল নাম তিমুজিন।চেঙ্গিস খান ছিল তার পদবী।

পরাক্রমশালী মঙ্গোলিয়ানরা সময়ের প্রেক্ষিতে দুর্বল হয়ে গেলেও জাতিগত চেতনা তাদের এখনো প্রকট। এই কারণে তারা নিজেদের মাঝে ছাড়া বাহিরে বিয়ে করে না।

এই গোঁড়ামির কারণে মঙ্গোলীয়দের সংখ্যা দিনে দিনে কমছে। এই অবস্থান থেকে বের হয়ে আসতে তারা আটারো বছর বয়সেই বিয়ে বাধ্যতামূলক করেছে।

সন্তান ধারণের সক্ষমতার হিসাব করা হয় সাধারণত টিএফআর (Total fertility rate) দিয়ে।

যদি কোন দেশের টিএফআর ২.১ হয়, অর্থাৎ প্রত্যেক সক্ষম মহিলা গড়ে ২.১ করে বাচ্চা নেয়, তাহলে সেদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি স্থিতিশীল থাকে। অর্থাৎ জনসংখ্যা বাড়েও না, কমেও না। এর অর্থ হল, কোন দেশে সন্তানদানে সক্ষম (১৫ থেকে ৪৯ বছর) নারীর মোট সংখ্যা যদি ১০০০ হয়, তবে তাদের বাচ্চার সংখ্যা হতে হবে ২১০০।

২.১ এর বেশি হলে জনসংখ্যা বাড়ে, আর ২.১ এর কম হলে জনসংখ্যা কমতে থাকে।

জাপানের টিএফআর ১.৪। এর ফলে একদিকে জাপানে জনসংখ্যা যেমন কমছে, তেমনি গড়আয়ু বাড়ার কারণে সেখানে বৃদ্ধদের সংখ্যাও বাড়ছে… এভাবে চলতে থাকলে একসময় জাপানে বেশিরভাগ জনগণই হবে বৃদ্ধ… এসব অক্ষম লোক তখন জাপানের উন্নয়নের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের অর্থনীতি ধ্বসে পড়বে।

শুধু জাপানেই নয়, রাশিয়াতেও একই অবস্থা… এমনকি রাশিয়াতে বাচ্চা নিলে বাড়ী পর্যন্ত দেওয়া হয়।

ইউরোপ, আমেরিকার অবস্থাও একই… ইউরোপে টিএফআর ১.৫, কানাডায় ১.৬, আমেরিকা ১.৮।

কানাডার যে অবস্থা, তাতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় পাঁচ লক্ষ করে লোক কমছে নিম্নজন্মহারের কারণে।এই ঘাটতি মেটানোর একমাত্র উপায় অভিবাসী নেওয়া।এই কারণে প্রতি বছর কানাডা অভিবাসী নিচ্ছে জনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য।

এমনকি বাচ্চা হলে আলাদা করে তার জন্য মাসিক ভাতাও প্রদান করছে। তবে এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে উদ্দেশ্যে অভিবাসী নেওয়া, সে উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। অভিবাসীরা সেখানে গিয়ে বেশি সংখ্যক বাচ্চা নিচ্ছে না।

এই তো গেল বিশ্ব।এবার আসি বাংলাদেশের প্রেক্ষিত।বর্তমানে আমাদের দেশে টিএফআর ২.৩ অর্থাৎ একজন মেয়ে গড়ে বাচ্চা নিচ্ছে ২.৩। অথচ ১৯৭৩ সালে এটি ছিল ৬.৫।

উন্নত দেশ যখন তাদের জনসংখ্যার কমতি নিয়ে চিন্তিত, এই সময় আমাদের রয়েছে পর্যাপ্ত জনশক্তি।

বর্তমান সময় হল বাংলাদেশের জন্য গোল্ডেন পিরিয়ড।পপুলেশন পিরামিড বানালে দেখা যায়, দেশের মোট জনগনের মাঝে এই সময়ে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যাই বেশি। দেশের ৬০ ভাগের বেশি লোক ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী।

প্রত্যেক দেশের ক্ষেত্রেই এই সময় আসে, যাকে সে দেশের গোল্ডেন পিরিয়ড বলে।এই সময় যারা তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগাতে পারে, তারাই সফল দেশ হিসেবে খাতায় নাম লেখায়। এটাকে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট’ বলে।

আমাদের দেশের লোকের মেধা আছে, কিন্তু আমরা তাদের মেধার সঠিক প্রয়োগ করাতে পারিনা।

এদেশের লোকদের আমরা অলস, অকর্মা বলি।অথচ আমাদের দেশ থেকে যাওয়া শ্রমিকদের কারনেই মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক উন্নত দেশের অর্থনৈতিক চাকা ঘুরছে ।

অধিক জনসংখ্যা আমাদের জন্য সমস্যা নয়, সমস্যা হল ইকোনোমিক্যালি নন প্রোডাকটিভ জনসংখ্যা। আমরা এদের কাজে লাগাতে পারছি না, কিংবা তাদের কাজে লাগানোর কোন চেষ্টাও করছি না।

আমাদের যে পরিমাণ লোকবল রয়েছে, এদের অর্ধেককেও যদি কাজে লাগাতে যায়, পৃথিবীর এক নম্বর জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে খুব বেশি সময় লাগবেনা।